📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 মৃত্যুর চিন্তা জাগিয়ে রাখা

📄 মৃত্যুর চিন্তা জাগিয়ে রাখা


সপ্তম অনুচ্ছেদ
মৃত্যুর চিন্তা জাগিয়ে রাখা

দুটি গুণ না থাকলে প্রশংসনীয় নয়
২৫৩. মালিক ইবনু মিগওয়াল রহিমাহুল্লাহ বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এক ব্যক্তির প্রশংসা করা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন- كَيْفَ ذِكْرُهُ لِلْمَوْتِ؟ “সে মৃত্যুকে কতটা স্মরণ করে?” সাহাবিরা বললেন, "খুব একটা বলতে শুনিনি।" রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন- كَيْفَ تَرْكُهُ لِمَا يَشْتَهِي؟ "তার প্রবৃত্তি যা কামনা করে তা কি সে পরিত্যাগ করে?” তারা বললেন, না, সে দুনিয়া কামনা করে। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, لَيْسَ صَاحِبُكُمْ هُنَاكَ “তা হলে তোমাদের ওই সঙ্গী প্রশংসনীয় নয়।”[২৮৮]

মৃত্যুচিন্তা দূর হয়ে গেলে অন্তর নষ্ট হয়ে যায়
২৫৪. মালিক ইবনু মিগওয়াল রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, রবী' ইবনু আবী রাশিদকে বলা হলো, "কিছুক্ষণ বসে আলোচনা করলে কী হয়?” তিনি বললেন, “যদি কিছুক্ষণের জন্য মৃত্যুচিন্তা আমার মন থেকে দূর হয়ে যায়, তবে আমার অন্তর বিনষ্ট হয়ে পড়ে।” মালিক ইবনু মিগওয়াল বলেন, “তাঁর মতো দুঃখ প্রকাশকারী ব্যক্তি আমি আর কাউকে দেখিনি।”[২৮৯]

রাতের বেলায় ইলমি আলোচনা
২৫৫. সাহম ইবনু শাকীক রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি আমির ইবনু আবদিল্লাহর কাছে এলাম। তিনি সদ্য গোসল সেরে বেরিয়ে এলেন। বললাম, 'আপনি মনে হয় গোসল করে খুব আনন্দ পান।' তিনি বললেন, 'প্রায়ই গোসল করি।' তারপর বললেন, 'তা তুমি কী মনে করে এলে?' বললাম, 'আলোচনা করার জন্য।' তিনি বললেন, 'তোমার সাথে আমার কথা এটাই যে, আমি আলোচনা পছন্দ করি। কিন্তু রাতের বেলা শুধুই (ইলমি) আলোচনাই হবে।”[২৯০]

যিকরের দ্বারা অন্তরকে সজীব রাখা
২৫৬. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহর যিকর দিয়ে অন্তরকে সজীব রেখো; কারণ অন্তর খুব দ্রুত ময়লা হয়। প্রবৃত্তিকেও নিয়ন্ত্রণে রেখো, কারণ প্রবৃত্তি নিষিদ্ধ বিষয়ে অত্যন্ত উদ্‌গ্রীব। প্রবৃত্তি নিকৃষ্ট পরিণতির দিকে টেনে নিয়ে যায়। সে যেদিকে টেনে নিয়ে যায়, তোমরা যদি সেদিকেই যাও, তা হলে সে তোমাদের (ভালো) কিছু বাকি রাখবে না।”[২৯১]

বেশি খেলে অন্তর কঠিন হয়ে যায়
২৫৭. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, বলা হতো যে, "তোমরা বেশি খাওয়া থেকে বিরত থাকবে। কারণ এতে অন্তর কঠিন হয়ে যায়। বুকে ইলম ধারণ করবে। আর বেশি হাসাহাসি কোরো না। কারণ তাতে অন্তর মলিন হয়ে যায়।”[২৯২]

সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ
২৫৮. যুবাইদ ইয়ামী রহিমাহুল্লাহ বলেন, আবদুর রহমান এর সাথে আমাদের দেখা হলেই তিনি বলতেন, “তোমাদের রবের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তুতি নাও।”[২৯৩]

মুসলমানের মৃত্যুপ্রস্তুতি
২৫৯. জাফর ইবনু হাইয়ান থেকে বর্ণিত, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “মুসলমান কখনও পেটপুরে খায় না এবং সে সব সময় তার অসিয়তনামা লিখে পাশে রেখে দেয়।"[২৯৪]

উত্তম ও বুদ্ধিমান মুমিন বান্দা
২৬০. সা'দ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُبِلَ أَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَفْضَلُ؟ قَالَ: أَحْسَنُكُمْ خُلُقًا، قِيلَ: أَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْيَسُ؟ قَالَ : أَكْثَرُهُمْ لِلْمَوْتِ ذِكْرًا، وَأَحْسَنُهُمْ لَهَا اسْتِعْدَادًا
“রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন মুমিন বান্দা সবচেয়ে উত্তম। তিনি বললেন, 'তোমাদের মধ্যে যার চরিত্র সবচেয়ে ভালো।' জিজ্ঞেস করা হলো, কোন মুমিন বান্দা সবচেয়ে বুদ্ধিমান? তিনি বললেন, 'যে বান্দা মৃত্যুকে বেশি করে স্মরণ করে এবং মৃত্যুর জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেয়।”[২৯৫]

মৃত্যু মুমিনের কাছে উত্তম
২৬১. রবী' ইবনু খুসাইম রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “মুমিন বান্দা যে- সকল অদৃশ্য বিষয়ের অপেক্ষায় থাকে তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম বিষয় হলো মৃত্যু।”[২৯৬]

যার প্রতি ঈর্ষা করা যায়
২৬২. মাসরুক রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যে মুমিন বান্দা কবরে আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপদ আছে এবং দুনিয়ার (ফিতনা) থেকে (বেঁচে গিয়ে) প্রশান্তিতে আছে, তার চেয়ে বেশি ঈর্ষা আমার আর কারও প্রতিই হয়নি।”[২৯৭]

সৌভাগ্যবান কারা?
২৬৩. হাইছাম ইবনু মালিক রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমরা আইফা ইবনু আবদ-এর কাছে বসে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করতাম। তাঁর কাছে আবূ আতিয়্যা মাযবুহ রহিমাহুল্লাহ-ও থাকতেন। একবার সৌভাগ্যবান মানুষদের নিয়ে আলোচনা উঠল। শ্রোতারা জিজ্ঞেস করলে, সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষ কে? তাঁরা বললেন, অমুক ও অমুক। আইফা জিজ্ঞেস করলেন, আবূ আতিয়্যা, আপনি কী বলেন? তিনি বললেন, তাঁদের থেকেও কে বেশি সৌভাগ্যবান তা বলছি : তা হলো ওই দেহ যা কবরের আযাব থেকে মুক্তি পেয়েছে।”[২৯৮]

কিয়ামাতের দিন মুমিনদের যা বলা হবে
২৬৪. মুআয ইবনু জাবাল রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنْ شِئْتُمْ أَنْبَأْتُكُمْ مَا أَوَّلُ مَا يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى لِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَا أَوَّلُ مَا تَقُولُونَ لَهُ؟
“কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম মুমিনদেরকে কী বলবেন এবং মুমিনরা আল্লাহকে সবার আগে কী বলবে, জানতে চাও? তা হলে আমি তোমাদের জানাব।” আমরা বললাম, জি, ইয়া রাসূলাল্লাহ, জানতে চাই। তিনি তখন বললেন,
فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ : هَلْ أَحْبَبْتُمْ لِقَابِي؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ يَا رَبَّنَا، فَيَقُولُ: لِمَ؟ فَيَقُولُونَ: رَجَوْنَا عَفْوَكَ وَمَغْفِرَتَكَ، فَيَقُولُ: قَدْ وَجَبَتْ لَكُمْ مَغْفِرَتِي
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বলবেন, তোমরা কি আমার সাক্ষাৎ পছন্দ করেছ? মুমিনরা বলবে, হ্যাঁ, হে আমাদের প্রতিপালক। আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন, কেন? তারা বলবে, আমরা আপনার ক্ষমা ও মার্জনার আশা পোষণ করেছি। তখন আল্লাহ বলবেন, তোমাদের জন্য আমার ক্ষমা আবশ্যক হয়ে গেল।”[২৯৯]

টিকাঃ
[২৮৮] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৩৯৫, দঈফ।
[২৮৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৩৭১, মাওকুফ।
[২৯০] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৪৭২, মাওকুফ।
[২৯১] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[২৯২] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[২৯৩] হাদীসটির সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[২৯৪] হাদীসটির সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[২৯৫] হাদীসটির সনদ দুর্বল।
[২৯৬] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৩৩৮, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[২৯৭] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৪০২, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[২৯৮] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[২৯৯] হাদীসটির সনদ দুর্বল।

📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 নফল ইবাদাত : জীবনের চেয়েও প্রিয়

📄 নফল ইবাদাত : জীবনের চেয়েও প্রিয়


অষ্টম অনুচ্ছেদ
নফল ইবাদাত : জীবনের চেয়েও প্রিয়

তিনটি বিষয় ছাড়া জীবন অপছন্দনীয়
২৬৫. সা'দ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে আবুদ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "যদি তিনটি বিষয় না থাকত তা হলে একদিনও বেঁচে থাকতে চাইতাম না: ১. দুপুরে পিপাসার্ত থাকা (রোজা রাখা); ২. গভীর রাতের (আল্লাহর সামনে) সাজদাবনত হওয়া; ৩. এমন মানুষদের সঙ্গে ওঠাবসা করা—যাঁরা বেছে বেছে উত্তম কথা বলেন, ঠিক যেভাবে ভালো খেজুর বাছাই করে আলাদা করা হয়।”[৩০০]

পতঙ্গের জীবনেও আপত্তি নেই
২৬৬. মি'দাদ (আবূ যাইদ আজালি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যদি দুপুরের পিপাসা[৩০১] না থাকত, শীতকালের দীর্ঘ রজনী না থাকত এবং আল্লাহ তাআলার কিতাব তিলাওয়াতের মাধ্যমে তাহাজ্জুদ সালাত পড়ার স্বাদ না থাকত, তবে আমি মৌমাছি হতেও কোনো পরোয়া করতাম না।”[৩০২]

সাজদায় আল্লাহর নৈকট্য লাভ
২৬৭. আবদুল্লাহ ইবনু লাহিআ বলেন, আমি উকবা ইবনু মুসলিম রহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, “বান্দার যে স্বভাব আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় তা হলো বান্দার অন্তরে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ। আর যে সময়টাতে বান্দা আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে নৈকট্যে পৌঁছে যায় তা হলো তাঁর সামনে সাজদায় লুটিয়ে পড়ার সময়।”[৩০৩]

রোজা রাখতে পারবেন না বলে কান্না
২৬৮. কাতাদা বলেন, আমির ইবনু আবদি কাইস রহিমাহুল্লাহ মৃত্যুশয্যায় কাঁদতে শুরু করলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, “মৃত্যুর ভয়ে কাঁদছি না, দুনিয়ার প্রতি লোভের কারণেও না; আমি কাঁদছি দুপুরের পিপাসা আর শীতের রাতের সালাত পড়ার কথা ভেবে।”[৩০৪]

টিকাঃ
[৩০০] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ১৩৫, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩০১] তীব্র গরমের দিনে রোজা রাখা।
[৩০২] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৪/১৫৯, মাওকুফ।
[৩০৩] সনদ হাসান, মাওকুফ।
[৩০৪] সনদ হাসান, মাওকুফ।

📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 আমল নিয়ে চিন্তা-ফিকির

📄 আমল নিয়ে চিন্তা-ফিকির


নবম অনুচ্ছেদ
আমল নিয়ে চিন্তা-ফিকির

ফিতনার পূর্বেই মৃত্যুবরণকারীদের সৌভাগ্য
২৬৯. তারিক ইবনু শিহাব রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে আবূ বকর সিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "যাঁরা ফিতনার প্রাদুর্ভাব ঘটার আগেই মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের কী সৌভাগ্য!” বর্ণনাকারী বলেন, আমি তারিককে জিজ্ঞেস করলাম, শব্দের অর্থ কী? তিনি বললেন, "আমার মনে হয় আবূ বকর সিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু এটা দিয়ে নতুন ইসলাম গ্রহণ অথবা ইসলামের সূচনা বুঝিয়েছেন।”[৩০৫]

তিনটি গুণ কল্যাণের লক্ষণ
২৭০. মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব কুরাযি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান তাকে তিনি তিনটি বৈশিষ্ট্য দান করেন : দ্বীনের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা, দুনিয়ার প্রতি বিমুখতা এবং নিজের দোষ- ত্রুটির প্রতি সচেতনতা।”[৩০৬]

মানুষের দুটি মূর্খতামূলক স্বভাব
২৭১. ইমরান কুফি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম তাঁর সঙ্গীদের বলেছেন, “তোমরা যাদেরকে জ্ঞান শিক্ষা দেবে তাদের থেকে পারিশ্রমিক নিতে পারবে না, তবে তোমরা আমাকে যতটুকু দাও ততটুকুই নিতে পারবে। আর জমিনের লবণকে নষ্ট করো না; কোনো বস্তু পচে গেলে লবণ দিয়ে তার পচন রোধ করা যায়। কিন্তু লবণ নষ্ট হয়ে গেলে তার কোনো ঔষুধ নেই। জেনে রাখো, তোমাদের মধ্যে দুটি মূর্খতাসুলভ স্বভাব রয়েছে—কোনো কারণ ছাড়াই হাসা এবং রাত্রি না জাগা সত্ত্বেও সকালে ঘুমিয়ে থাকা।”[৩০৭]

জ্ঞানের বিনিময়ে ধন-সম্পদ ছেড়ে দেওয়া
২৭২. খালাফ ইবনু হাওশাব রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম হাওয়ারিদের বলেছেন, “দুনিয়ার রাজা-বাদশাগণ যেমন তোমাদের জন্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞা ছেড়ে দিয়েছেন, তেমনি তোমরাও তাদের জন্য দুনিয়া ছেড়ে দাও।”[৩০৮]

উত্তম আমল
২৭৩. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “সবচেয়ে উত্তম আমল হলো আল্লাহভীতি ও চিন্তা-ফিকির।”[৩০৯]

আবুদ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহু-এর উত্তম আমল
২৭৪. আউন ইবনু আবদিল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, উন্মুদ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহা-কে জিজ্ঞেস করলাম, আবুদ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহু-এর সবচেয়ে উত্তম আমল কী ছিল? তিনি বললেন, “চিন্তা-ফিকির ও উপদেশ গ্রহণ।”[৩১০]

দুটি সূরার তিলাওয়াত ও চিন্তা
২৭৫. আবদুর রহমান ইবনু মাওহাব বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব রহিমাহুল্লাহ- কে বলতে শুনেছি, "রাতের বেলা দ্রুতবেগে কুরআন পড়ার চেয়ে শুধু সূরা যিলযাল ও সূরা কারিআ সারা রাত পুনরাবৃত্তি করে তিলাওয়াত করা ও তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা আমার কাছে বেশি প্রিয়।"[৩১১]

উদাসীন মন নিয়ে সালাতে ফায়দা নেই
২৭৬. আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "উদাসীন মন নিয়ে সারা রাত সালাতে দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে মনোযোগ ও চিন্তার সঙ্গে পরিমিত দুই রাকআত সালাত উত্তম।”[৩১২]

সত্যপন্থী দানশীলের বৈশিষ্ট্য
২৭৭. আবূ আবদুল করিম রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস রদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন, “যে ব্যক্তি তিনটি কাজ করেন তিনি পরিমিত দানশীল: ১. আল্লাহ তাআলার ফরয সালাতগুলো যথাযথভাবে আদায় করা; ২. খারাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকা; ৩. এবং খুব কমই উদাসীন থাকা। তিনটি বিষয়কে তুচ্ছ ভেবো না: ১. যে কল্যাণ তুমি খুঁজে বেড়াচ্ছ; ২. যে মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকতে চাও; ৩. এতবেশি পাপ না করা, যাতে ক্ষমা প্রার্থনা করা সম্ভব হয় না। অহেতুক কাজকর্ম ও খেলতামাশা থেকে অবশ্যই দূরে থাকবে। কারণ, এটা দিয়ে না দুনিয়া অর্জন করা যায়, না আখিরাত; আর না আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টির কারণে জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহর অসন্তুষ্টির ব্যাপারে কিন্তু খুবই সাবধান!”[৩১৩]

সত্য ও মিথ্যার তুলনা
২৭৮. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “সত্য হলো ভারী ও আনন্দদায়ক। আর মিথ্যা হলো হালকা ও রোগের কারণ। কত ক্ষণের কুপ্রবৃত্তি দীর্ঘতম দুঃখের জন্ম দিয়ে থাকে।”[৩১৪]

ওজুহীন অবস্থায় না থাকা
২৭৯. উসামা ইবনু যাইদ থেকে বর্ণিত, নাফি' রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “আমি আবদুল্লাহ ইবনু উমর রদিয়াল্লাহু আনহুমা-কে কখনও ওজুহীন অবস্থায় বসে থাকতে দেখিনি।”[৩১৫]

কখনও অপবিত্র অবস্থায় না থাকা
২৮০. হানাশ থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পবিত্র হওয়ার জন্য) পানির খোঁজে বের হতেন, এরপর মাটি দিয়েই মাসাহ (তায়াম্মুম) করে নিতেন। আমি বলতাম, আল্লাহর রাসূল, পানি তো আপনার কাছেই ছিল। তিনি বলতেন-
وَمَا يُدْرِينِي؟ لَعَلَّى لَا أَبْلُغُهُ
“(মৃত্যুর আগে যে) ওই পানি পর্যন্ত পৌঁছতে পারব, তার নিশ্চয়তা কী?”[৩১৬]

সব সময় ওজু অবস্থায় থাকা
২৮১. ইবরাহীম নাখঈ রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমার কাছে এই হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে যে, “নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ইসতিঞ্জাখানার বাইরে কখনও ওজুহীন অবস্থায় দেখা যায়নি।”[৩১৭]

নিজেকে উটের চেয়েও তুচ্ছ মনে করা
২৮২. সাওর ইবনু ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত আছে, খালিদ ইবনু মা'দান রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রজ্ঞাবান হতে পারবে না যতক্ষণ সে মানুষকে আল্লাহ তাআলার হকের ব্যাপারে উটের মতো মনে করবে। আর যখন নিজের কথা চিন্তা করবে, তখন নিজেকে উটের চেয়েও তুচ্ছ মনে হবে।”[৩১৮]

নিজেকে নির্বোধ মনে করা
২৮৩. আবদুল্লাহ ইবনু উমর রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারবে না যতক্ষণ না সে মানুষকে দ্বীনের ক্ষেত্রে নির্বোধ মনে করবে (তারপর নিজের দিকে তাকিয়ে নিজেকে আরও বেশি নির্বোধ মনে করবে।)”[৩১৯]

নিজের প্রতি অসন্তুষ্টি
২৮৪. গাইলান ইবনু জারীর বলেন, মুতাররিফ ইবনু আবদিল্লাহ রহিমাহুল্লাহ একদিন আমাদের কাছে এসে বললেন, “যদি আমি নিজের ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকতাম, তা হলে তোমাদেরকে অপছন্দ করতাম। কিন্তু আমি নিজের ব্যাপারে সন্তুষ্ট নই।”[৩২০]

বান্দা তার প্রতিপালক ও শয়তানের মধ্যে নিক্ষিপ্ত থাকে
২৮৫. মুতাররিফ ইবনু আবদিল্লাহ বলেন, "আমি বান্দাকে তার প্রতিপালক ও শয়তানের মাঝখানে পড়ে থাকতে দেখি। যদি তার প্রতিপালক তাকে উদ্ধার করেন তবে সে মুক্তি পেয়ে যাবে, আর যদি শয়তানের জন্য তাকে ছেড়ে দেন তবে শয়তান তাকে নিয়ে যাবে।”[৩২১]

টিকাঃ
[৩০৫] সনদ হাসান, মাওকুফ।
[৩০৬] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১১/২৩৭, ১৩/৫১৫, দঈফ।
[৩০৭] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৫/৭৩; ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/১৯৮।
[৩০৮] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৫/৭৪।
[৩০৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ২৬৫, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩১০] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৩০৭, সনদ হাসান, মাওকুফ।
[৩১১] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৩/২১৪, ২১৫, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩১২] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩১৩] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩১৪] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ১/১৩৪, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩১৫] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩১৬] হাদীসটির সনদ সহীহ।
[৩১৭] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত এবং এর সনদ দুর্বল।
[৩১৮] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৫/২১২, সনদ সহীহ, মাওকুফ। অর্থাৎ মানুষকে আল্লাহ তাআলার হক আদায়ের ক্ষেত্রে অবহেলা করতে দেখলে তাদের প্রতি তার ক্রোধ ও ঘৃণা জন্ম নেবে। তারপর ভেবে দেখবে যে সে নিজে অন্যদের চেয়েও বেশি অবহেলা করছে, তখন তার নিজের প্রতিই প্রচণ্ড ক্রোধ ও ঘৃণা তৈরি হবে। (অনুবাদক)
[৩১৯] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৩২৪, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩২০] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ২/২১০, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩২১] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ২/২০১, সনদ সহীহ, মাওকুফ।

📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 নিজের হিসাব নিজে রাখা

📄 নিজের হিসাব নিজে রাখা


দশম অনুচ্ছেদ
নিজের হিসাব নিজে রাখা

আদম-সন্তান পাপাচারী
২৮৬. আবদুল্লাহ ইবনু উমর রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “বনি আদমকে পাপকারী হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে আল্লাহ তাআলা যার প্রতি রহম করেন (পাপ ও অন্যায় থেকে বাঁচিয়ে রাখেন) তাঁর কথা ভিন্ন।”[৩২২]

সাজদায় পঠিত দুআ
২৮৭. আসিম ইবনু আবীন নুজুদ বলেন, আমি শাকিক ইবনু সালামা রহিমাহুল্লাহ-কে সাজদারত অবস্থায় এই দুআ পড়তে শুনেছি-
رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي، إِنْ تَعْفُ عَنِّي فَطَوْلُ مِنْ قِبَلِكَ، وَإِنْ تُعَذِّبْنِي تُعَذِّبْنِي غَيْرَ ظَالِمٍ، وَلَا مَسْبُوقٍ
“হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন, হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন। আপনি যদি আমাকে ক্ষমা করেন তা হলে তা আপনার পক্ষ থেকে বিরাট অনুগ্রহ আর যদি শাস্তি দেন তা হলে আপনি জুলুমকারী নন এবং আপনার শাস্তি প্রতিহত করাও যায় না।” বর্ণনাকারী বলেন, “তারপর তিনি কাঁদতে শুরু করতেন, এমনকি মাসজিদের পেছন থেকে তাঁর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেতাম।"[৩২৩]

পাপকাজ চোখের সামনে রাখা
২৮৮. সাঈদ ইবনু আবী সাঈদ মাকবুরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম বলতেন, “হে আদম-সন্তান, কোনো ভালো কাজ করলে তার ব্যাপারে আশ্বস্ত থেকো (অস্থিরতা কোরো না)। কারণ তা এমন-এক সত্তার কাছে সংরক্ষিত থাকে যিনি কখনও তা বিনষ্ট করেন না। তারপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন- لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنُ عَمَلًا (যে ব্যক্তি সৎকাজ করে নিশ্চয় আমি তার প্রতিদান বিনষ্ট করি না।) [৩২৪] আর যখন কোনো অন্যায় বা পাপকাজ করবে, তখন তা চোখের সামনে রাখবে (তার কথা মনে রাখবে, যেন তা থেকে তাওবা করতে পারো এবং তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে)।"

সকাল-সন্ধ্যায় তাওবা
২৮৯. তালক ইবনু হাবীব রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলার হক এত বড়ো যে, বান্দাগণ তা যথাযথভাবে আদায় করতে সক্ষম নয়। আর আল্লাহ তাআলার নিয়ামাত এত বেশি যে, কখনও তা গুণে শেষ করা যাবে না। তাই ভোরে তাওবা করো, সন্ধ্যায়ও তাওবা করো।”[৩২৫]

ভীতি-প্রদর্শনকারীদের সাহচর্যই উত্তম
২৯০. মুআল্লা ইবনু যিয়াদ বলেন, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ-কে একবার মুগীরা ইবনু মুখাদিশ জিজ্ঞেস করলেন, “হে আবু সাঈদ, এমন মানুষদের সাহচর্যে কীভাবে থাকা যায়, যাদের কথা শুনলে অন্তর (ভয়ে) উড়ে যাবে?” জবাবে তিনি বললেন, “যাঁরা তোমাকে ভয় দেখিয়ে নিরাপদ রাখে, তাঁদের সাহচর্যে থেকো। যাঁরা আশ্বস্ত করতে করতে ভীতিকর বিষয়ের মাঝে ফেলে দেয়, তাঁদের সাহচর্যের চেয়ে ওটা উত্তম।”[৩২৬]

মুমিন বান্দা দুটি আশঙ্কার মাঝখানে রয়েছে
২৯১. আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আমি জেনেছি যে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
الْمُؤْمِنُ عَبْدُ بَيْنَ مَخَافَتَيْنِ، مِنْ ذَنْبٍ قَدْ مَضَى لَا يَدْرِي مَا يَصْنَعُ اللَّهُ فِيهِ، وَمِنْ عُمْرٍ قَدْ بَقِيَ لَا يَدْرِي مَاذَا يُصِيبُ فِيهِ مِنَ الْهَلَكَاتِ
"বান্দা হিসেবে মুমিন দুটি আশঙ্কার মাঝখানে রয়েছে: একটি হলো তার আগের করা পাপের কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁর সঙ্গে কী আচরণ করবেন, সে আশঙ্কা। আরেকটি হলো ভবিষ্যতে কী কী বিপদ চেপে বসবে, তার আশঙ্কা।”[৩২৭]

দীর্ঘ সাজদার ফলে দাঁত পড়ে যাওয়া
২৯২. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, মুসলিম ইবনু ইয়াসার রহিমাহুল্লাহ এক দীর্ঘ সাজদা দিলেন, ফলে তাঁর সামনের দাঁত দুটি পড়ে গেল। আবূ ইয়াস তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বিষয়টি হালকা করে তুলতে চাইলেন। তখন মুসলিম ইবনু ইয়াসার রহিমাহুল্লাহ বড়োত্ব ও মহিমা প্রকাশ করে বললেন, “মানুষ যা চায়, তা খুঁজে বেড়ায়। আর যা ভয় পায়, তা থেকে দূরে থাকে। চাওয়া পূরণের পথে আসা বিপদে যে ধৈর্য ধরতে পারে না, তার চাওয়া আবার কেমন চাওয়া! আর ভয় থেকে বাঁচার জন্য যে প্রবৃত্তির দাবিকে দূরে ঠেলে দিতে পারে না, সেটা আবার কেমন ভয়!”[৩২৮]

নিজেই নিজের হিসাব গ্রহণ
২৯৩. মালিক ইবনু মিগওয়াল রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত উমর ইবনুল খাত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “হিসাব-নিকাশের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেরাই নিজেদের হিসাব নিয়ে নাও। তা হলে কিয়ামাতের দিন তোমাদের হিসাব দেওয়া সহজ হবে। তোমাদের পরিমাপ করার আগে নিজেরাই নিজেদের পরিমাপ করে নাও। আর মহাবিচারের জন্য প্রস্তুতি নাও। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ
“সেইদিন উপস্থিত করা হবে তোমাদেরকে এবং তোমাদের কিছুই গোপন থাকবে না।”[৩২৯]-[৩৩০]

মুমিন বান্দার গুণাবলি
২৯৪. ইয়াহইয়া ইবনু মুখতার থেকে বর্ণিত হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “মুমিন বান্দা নিজের ওপর কর্তৃত্বশীল। সে আল্লাহ তাআলার জন্য নিজের হিসাব-নিকাশ নিয়ে থাকে (কী ভালো কাজ করল আর কী মন্দ কাজ করল)। যারা দুনিয়াতে নিজেদের হিসাব নেয়, কিয়ামাতের দিন তাদের হিসাব সহজ হবে। আর যারা দুনিয়ায় নিজেদের কর্মকাণ্ডের কোনো হিসাব রাখে না, কিয়ামাতের দিন তাদের হিসাব হবে খুব কঠিন। মুমিন বান্দার সাথে হঠাৎ ভালো কিছু হলে সে বিস্মিত হয়ে বলে, আল্লাহর কসম, আমি তোমাকেই চাইছিলাম। তুমি আমার প্রয়োজনও ছিলে। কিন্তু, আল্লাহর কসম, তোমার কাছে পৌঁছার কোনো পথ ছিল না। কতই না দূরে ছিলে, কতই না দূরে ছিলে। আমার ও তোমার মধ্যে প্রতিবন্ধক ছিল। আর যখন মুমিন বান্দা থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো মন্দ কাজ প্রকাশ পায়, সে তার দায় নিজের ওপরই চাপিয়ে বলে, আমি এটা করতে চাইনি, এটার আমার কোনো প্রয়োজনই নেই। আল্লাহর কসম, এই কাজ আমি আর কখনোই করব না, ইন শা আল্লাহ। মুমিনরা এমন-এক জাতি কুরআন যাদের বন্ধন দৃঢ় রেখেছে; তাদের ও ধ্বংসের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে রয়েছে। মুমিন বান্দা এই দুনিয়ায় বন্দি, সে তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সাক্ষাতের আগে সে কোনো-কিছুকে নিরাপদ মনে করে না। সে জানে যে তাকে তার কান, মুখ ও অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।”[৩৩১]

শয়তানকে কখনও নিরাপদ মনে করা যাবে না
২৯৫. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, আতা ইবনু ইয়াসার বলেছেন, “একজন ব্যক্তির মৃত্যুর সময় শয়তান এসে উপস্থিত হলো। মরণাপন্ন ব্যক্তিকে বলল, “তুমি আমার থেকে রেহাই পেলে।” মরণাপন্ন ব্যক্তি বলল, "আমি কখনোই তোমাকে নিরাপদ মনে করিনি।”[৩৩২]

টিকাঃ
[৩২২] সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৩২৩] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৪/১০২, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩২৪] সূরা কাহফ: ৩০।
[৩২৫] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৪৮, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩২৬] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ২৫৯, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩২৭] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ২/১৫৮।
[৩২৮] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩২৯] সূরা আল-হাক্কা: ১৮।
[৩৩০] তিরমিযি, সুনান, হাদীস নং ২৪৫৯, মাওকুফ।
[৩৩১] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ২/১৫৭, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩৩২] সনদ সহীহ, মাওকুফ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00