📄 জানায়া দেখে উপদেশ গ্রহণ
পঞ্চম অনুচ্ছেদ
জানাযা দেখে উপদেশ গ্রহণ
তিনটি অবস্থায় থাকার আকাঙ্ক্ষা
২৩১. আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসাইদ ইবনু হুদাইর খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি বলতেন, "ইশ, আমি তিন অবস্থায় যেমন থাকি যদি সব সময় তেমন থাকতে পারতাম! কুরআন পাঠরত অবস্থায় অথবা কুরআন তিলাওয়াত শোনা অবস্থায় যেমন থাকি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খুতবা শোনার সময় যেমন থাকি এবং জানাযায় অংশগ্রহণ করার সময় যেমন থাকি। জানাযায় অংশগ্রহণের সময় আমি মনে মনে এ কথাই ভাবি-এই মৃতব্যক্তির সাথে কী আচরণ করা হবে এবং তার পরিণতি কী হবে।”[২৬৩]
নবিজি যেভাবে জানাযার সঙ্গে যেতেন
২৩২. আবদুল আযীয ইবনু আবী রাওয়াদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন জানাযার সঙ্গে যেতেন, অধিকাংশ সময়ই চুপ করে থাকতেন। নিজে নিজে কথা বলতেন। সবাই দেখতে পেত যে, তিনি আপন-মনেই মৃত্যু নিয়ে ও মৃত্যু-পরবর্তী বিষয় নিয়ে এবং মৃত ব্যক্তি কী কী প্রশ্নের সম্মুখীন হবে তা নিয়ে মগ্ন আছেন।”[২৬৪]
জানাযা নিজের মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেয়
২৩৩. বুদাইল উকায়লি রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মুতাররিফ রহিমাহুল্লাহ তাঁর এক বিশেষ বন্ধুর জানাযায় অংশ নিলেন। তিনি ওই জানাযায় যেতে চাননি; কিন্তু যতই দূরে সরে যেতে চাইছিলেন ততই নিজেকে সমর্পিত করছিলেন। অবশেষে তিনি যে কাজে ব্যস্ত ছিলেন ওই কাজেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন।”[২৬৫]
জানাযায় অংশগ্রহণ করে দুঃখভারাক্রান্ত থাকা
২৩৪. ইবরাহীম নাখঈ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “(সাহাবিরা) কোনো জানাযায় অংশগ্রহণ করলে সারাদিন দুঃখভারাক্রান্ত থাকতেন। চেহারায় দুঃখভাব ফুটে উঠত।”[২৬৬]
তিনটি সময় কণ্ঠস্বর নিচু রাখা
২৩৫. কাইস ইবনু উবাদা রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবিগণ তিনটি সময় কণ্ঠস্বর নিচু রাখতেন : যুদ্ধের সময়, কুরআন তিলাওয়াতের সময় এবং জানাযায় অংশগ্রহণের সময়।”[২৬৭]
অসুস্থদের দেখতে যাওয়া ও জানাযায় অংশগ্রহণের নির্দেশ
২৩৬. আবূ সাঈদ খুদরি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
عُودُوا الْمَرْضَى، وَاتَّبِعُوا الْجَنَابِزَ يُذَكِّرْكُمُ الْآخِرَةَ
“তোমরা অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখতে যাও এবং জানাযায় অংশগ্রহণ করো। এ দুটি বিষয় তোমাদেরকে আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।”[২৬৮]
তিনটি বিষয় হাসায় ও তিনটি বিষয় কাঁদায়
২৩৭. মুআবিয়া ইবনু কুররা থেকে বর্ণিত আছে আবুদ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “তিনটি বিষয় দেখে হাসি পায়। ওই দুনিয়া-প্রত্যাশী ব্যক্তি, মৃত্যু যাকে খুঁজছে; ওই গাফেল যার থেকে মৃত্যু গাফেল নয়; আর যে ব্যক্তি কোনো-কিছুর পূর্ণতা পেয়ে হাসছে, অথচ সে জানে না আল্লাহকে কি সে সন্তুষ্ট করেছে নাকি অসন্তুষ্ট করেছে। আর তিনটি বিষয় আমাকে আমাকে কাঁদায়। প্রিয়ভাজনদের-মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সঙ্গীদের-বিচ্ছেদ; মৃত্যু-যন্ত্রণার সময়কার ভীতি; আর যেদিন প্রকাশ্য ও গোপনীয় সকল বিষয় প্রকাশিত হয়ে পড়বে, সেইদিন আল্লাহ তাআলার সামনে দণ্ডায়মান হওয়া। জানি না তখন আমার কী পরিণতি হবে: জান্নাত নাকি জাহান্নাম।”[২৬৯]
ধারণাতীত ভয়াবহতা
২৩৮. আবদুর রহমান ইবনু নাওফাল থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহধর্মিণী সাওদা রদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি মারা গেলে উসমান ইবনু মাযউন আমার জানাযার সালাত পড়াবেন। পরে আপনি আমার সঙ্গে মিলিত হবেন।” রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
لَوْ تَعْلَمِينَ عِلْمَ الْمَوْتِ يَا بِنْتَ زَمْعَةَ ، لَعَلِمْتِ أَنَّهُ أَشَدُّ مِمَّا تَقْدِرِينَ عَلَيْهِ
“হে বিনতু যামআ, মৃত্যু কখন ঘটবে তা যদি তুমি জানতে, তবে বুঝতে পারতে মৃত্যু তোমার ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ।”[২৭০]
কেবল সে-ই মুক্তি পাবে
২৩৯. মুহাম্মাদ ইবনু উরওয়া রহিমাহুল্লাহ বলেন, “নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক নারী সাহাবি মৃত্যুবরণ করল। লোকে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করত। বিলাল রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, যাক, সে মুক্তি পেয়েছে। তাঁর কথা শুনে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, إِنَّمَا يَسْتَرِيحُ مَنْ غُفِرَ لَهُ আল্লাহ যাকে ক্ষমা করবেন, কেবল সে-ই মুক্তি পাবে।”[২৭১]
টিকাঃ
[২৬৩] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৯/৩১০, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[২৬৪] হাদীসটি মু'দালরূপে বর্ণিত।
[২৬৫] হাদীসটির সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[২৬৬] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৩৬৫, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[২৬৭] হাকিম, আল-মুসতাদরাক, ১২/১১৬, মাওকুফ।
[২৬৮] ইবনু হিব্বান, হাদীস নং ২৯৫৫, সনদ হাসান।
[২৬৯] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ১/২০৭, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[২৭০] হাদীসটির সনদ দুর্বল।
[২৭১] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত এবং অন্যান্য সনদে বর্ণিত হওয়ার কারণে সহীহ।
📄 উচ্চাকাঙ্ক্ষার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ
উচ্চাকাঙ্ক্ষার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা
মানুষের জীবন-সীমার চেয়ে তার আকাঙ্ক্ষা বড়ো।
২৪০. আনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
هَذَا ابْنُ آدَمَ، وَهَذَا أَجَلُهُ - وَوَضَعَ يَدَهُ عِنْدَ قَفَاهُ، ثُمَّ بَسَطَ يَدَهُ، فَقَالَ: - ثَمَّ أَجَلُهُ، وَثَمَّ أَمَلُهُ
“এটা হলো মানুষ আর এটা হলো তার জীবন-সীমা (মৃত্যু)।” এ কথা বলে তিনি পেছনে হাত রাখলেন। তারপর হাত প্রসারিত করে বললেন, “এটা হলো মানুষের জীবন-সীমা আর এটা হলো মানুষের আকাঙ্ক্ষা।”[২৭২]
যার জীবন অন্যের হাতে সে কী আকাঙ্ক্ষা করবে?
২৪১. মুবারাক ইবনু ফুযালা থেকে বর্ণিত, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “তিনজন একত্র হয়ে একজন আরেকজনের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। একজন বলল, 'প্রতি মাসেই ভাবি এ মাসে মারা যাব।' জিজ্ঞাসাকারী বলল, 'বড়ো বেশি আশা করে ফেলেছেন।' দ্বিতীয়জন বলল, 'আমার প্রতিদিনই মনে হয় আজ মারা যাব।' জিজ্ঞাসাকারী বলল, 'এটাও কম না।' তৃতীয়জনকে জিজ্ঞেস করা হলে বলল, 'যার জীবন অন্যের হাতে, সে আবার কীসের আকাঙ্ক্ষা করবে?”[২৭৩]
মানুষের আকাঙ্ক্ষা তার জীবনের চেয়েও বড়ো
২৪২. আবুল মুতাওয়াক্কিল নাজী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনটি কাঠি নিলেন। একটি কাঠি তাঁর সামনে পুঁতলেন, একটি পাশে পুতলেন এবং অপর কাঠিটি পুঁতলেন দূরত্ব রেখে। সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন-
أَتَدْرُونَ مَا هَذَا؟ قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: فَإِنَّ هَذَا الْإِنْسَانُ، وَذَاكَ الْأَجَلُ، وَذَلِكَ الْأَمَلُ يَتَعَاطَاهُ ابْنُ آدَمَ، وَيَخْتَلِجُهُ الْأَجَلُ دُونَ ذَلِكَ
“এটা কী, জানো? তাঁরা বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, এটা হলো মানুষ আর ওটা হলো তার জীবন এবং ওই দূরেরটা হলো তার আকাঙ্ক্ষা। মানুষ ওই আকাঙ্ক্ষায় আসক্ত হয়। অথচ মৃত্যু তার ভিন্ন পরিণতি ঘটায়।”[২৭৪]
দীর্ঘ জীবনের আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ
২৪৩. যুবাইদ ইয়াম্মী বনু আমির গোত্রের একজন লোক থেকে বর্ণনা করেন, আলি ইবনু আবী তালিব রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “তোমাদের নিয়ে দুটি বিষয়ের খুব দুশ্চিন্তা হয়: দীর্ঘ জীবনের আকাঙ্ক্ষা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ। দীর্ঘ জীবনের আকাঙ্ক্ষা আখিরাতকে ভুলিয়ে দেয় এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ ন্যায়নীতি থেকে নিবৃত্ত রাখে। এই দুনিয়া চলমান এবং ওই আখিরাত আসন্ন। আর দুনিয়া ও আখিরাত উভয়েরই সন্তানাদি রয়েছে। তাই তোমরা আখিরাতের সন্তান হও, দুনিয়ার না। কেননা, আজ আমল আছে; কিন্তু হিসাব-কিতাব নেই। আর আগামীকাল (আখিরাতে) আমল থাকবে না; কিন্তু হিসাব-কিতাব থাকবে।”[২৭৫]
লোক ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে যায়
২৪৪. আনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
يَهْلَكُ ابْنُ آدَمَ - أَوْ قَالَ: يَهْرَمُ ابْنُ آدَمَ - وَيَبْقَى مِنْهُ اثْنَتَانِ: الْحِرْصُ وَالْأَمَلُ
"বনি আদম মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেলেও তার দুটি অভ্যাস থেকে যায় : লোভ ও উচ্চাশা।”[২৭৬]
অর্থ-সম্পদের ভালোবাসায় মানুষের অন্তর চিরতরুণ
২৪৫. আবুদ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “বয়সের ভারে গলার হাড় দুটি লেগে গেলেও সম্পদের ভালোবাসায় তোমাদের অন্তর চিরতরুণই থেকে যায়। তবে আল্লাহ তাআলা যাদের অন্তরকে আখিরাতের জন্য পরীক্ষা করে (মনোনীত করেছেন) তাদের কথা ভিন্ন। তবে তাদের সংখ্যা খুব অল্প।”[২৭৭]
সবকিছুর ধ্বংস অনিবার্য
২৪৬. মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ বা অন্য-এক মুহাদ্দিস বলেছেন, আদম আলাইহিস সালাম যখন পৃথিবীতে নেমে এলেন তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বললেন, “তুমি ধ্বংস হওয়ার জন্য নির্মাণ করো এবং নিঃশেষ হওয়ার জন্য জন্ম দাও।”[২৭৮]
একটি আয়াতের পটভূমি
২৪৭. আবূ সিনান শাইবানি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা জুমুআর দিনের তিন ঘণ্টা অবশিষ্ট থাকতে আকাশমণ্ডলী ও ফেরেশতাদের সৃষ্টি করলেন। এক ঘণ্টায় বিপদ-আপদ সৃষ্টি করলেন এবং এক ঘণ্টায় মৃত্যু সৃষ্টি করলেন। কিন্তু এ দুটির কোনটি আগে সৃষ্টি করেছেন, তা আমি জানি না। শেষের ঘণ্টায় আদমকে সৃষ্টি করলেন। কিন্তু ইয়াহুদিরা বলে থাকে যে, আল্লাহ তাআলা জুমুআর দিন সৃষ্টির কাজ সম্পন্ন করে শনিবারে বিশ্রাম নিয়েছেন। এই কথার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন:
وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ
“আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং তাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত-কিছু সৃষ্টি করেছি ছয় দিনে; আমাকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।”[২৭৯]-[২৮০]
মৃত্যুচিন্তা থেকে বিরত হলে অন্তর বিনষ্ট হয়ে পড়ে
২৪৮. সালিহ মুররী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “কিছুক্ষণের জন্য মৃত্যুচিন্তা থেকে বিরত থাকলেই আমার অন্তর বিনষ্ট হয়ে পড়ে।” মালিক ইবনু মিগওয়াল বলেন, “সালিহ মুররীর মতো দুঃখ প্রকাশকারী ব্যক্তি আমি দ্বিতীয়জন দেখিনি।”[২৮১]
অন্তরের কঠিনতার ব্যাপারে সতর্কতা
২৪৯. সালিহ মুররী রহিমাহুল্লাহ এই আয়াত পাঠ করলেন-
اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
“জেনে রাখো, আল্লাহ তাআলাই পৃথিবীকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। আমি নিদর্শনগুলো তোমাদের জন্য বিশদভাবে ব্যক্ত করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো।”[২৮২]
তারপর বললেন, “অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তর কঠিন হয়ে যাওয়ার পর নরম করে দেন।”[২৮৩]
তিনটি জিনিস অপছন্দনীয়
২৫০. হিব্বান ইবনু আবী জাবালা থেকে বর্ণিত, আবু যর গিফারি অথবা আবুদ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন, “জন্মেছ মরার জন্য এবং বাড়ি বানাচ্ছ ধ্বংসের জন্য। তোমরা যা কিছুর প্রতি লালায়িত তা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং যা কিছু ত্যাগ করছ তা অবশিষ্ট থাকবে। আহ, তিনটি জিনিস (মানুষের কাছে) বড়োই অপছন্দনীয় : অসুস্থতা, মৃত্যু এবং দরিদ্রতা।”[২৮৪]
আনন্দের পরেই বিপদ আসে
২৫১. ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، مَا امْتَلَأَتُ دَارُ حَبْرَةً إِلَّا امْتَلَأَتُ عَبْرَةً، وَمَا كَانَتْ فَرْحَةٌ إِلَّا تَبِعَتُهَا تَرْحَةٌ
“যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তার কসম, কোনো ঘর যদি আনন্দ ও সুখে পরিপূর্ণ হয়, তবে অবশ্যই তা বেদনা ও অশ্রুতে পরিপূর্ণ হবে। প্রতিটি আনন্দের ঘটনার পরেই বিপদ আসে।”[২৮৫]
একটি আয়াতের শানে-নুযূল
২৫২. আ'মাশ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবিগণ মদীনায় সফর করার কারণে খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। এ কারণে কিছু আমলের ক্ষেত্রে শিথিলতা দেখা দিয়েছিল। তখন এ আয়াত নাযিল হয়-
أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ
"আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে ঈমানদারদের হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় কি আসেনি?”[২৮৬]-[২৮৭]
টিকাঃ
[২৭২] তিরমিযি, সুনান, হাদীস নং ২৩৪৯, সহীহ।
[২৭৩] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৪/১৪।
[২৭৪] মুরসাল বা মু'দালরূপে বর্ণিত এবং মুতাওয়াক্কিল পর্যন্ত হাদীসটির সনদ সহীহ। আহমাদ, ৩/১৮।
[২৭৫] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/২৮১, মাওকুফ, এবং মুত্তাসিল সনদে মারফুরূপেও বর্ণিত।
[২৭৬] তিরমিযি, সুনান, হাদীস নং ২৩৩৯, সহীহ।
[২৭৭] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ১/২৩৩, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[২৭৮] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৩/২৮৬, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[২৭৯] সূরা কাফ: ৩৮।
[২৮০] তাফসির ইবনু কাসীর, ৪/২২৯, মাওকুফ।
[২৮১] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[২৮২] সূরা হাদীদ: ১৭।
[২৮৩] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[২৮৪] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ১/১৬৩, ২১৮, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[২৮৫] কাদায়ি, মুসনাদুস শিহাব, হাদীস নং ৭০৩, সনদ দঈফ, মুরসালরূপে বর্ণিত।
[২৮৬] সূরা হাদীদ: ১৬।
[২৮৭] তাফসির আবুস সাউদ, ৮/২০৮, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
📄 মৃত্যুর চিন্তা জাগিয়ে রাখা
সপ্তম অনুচ্ছেদ
মৃত্যুর চিন্তা জাগিয়ে রাখা
দুটি গুণ না থাকলে প্রশংসনীয় নয়
২৫৩. মালিক ইবনু মিগওয়াল রহিমাহুল্লাহ বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এক ব্যক্তির প্রশংসা করা হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন- كَيْفَ ذِكْرُهُ لِلْمَوْتِ؟ “সে মৃত্যুকে কতটা স্মরণ করে?” সাহাবিরা বললেন, "খুব একটা বলতে শুনিনি।" রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন- كَيْفَ تَرْكُهُ لِمَا يَشْتَهِي؟ "তার প্রবৃত্তি যা কামনা করে তা কি সে পরিত্যাগ করে?” তারা বললেন, না, সে দুনিয়া কামনা করে। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, لَيْسَ صَاحِبُكُمْ هُنَاكَ “তা হলে তোমাদের ওই সঙ্গী প্রশংসনীয় নয়।”[২৮৮]
মৃত্যুচিন্তা দূর হয়ে গেলে অন্তর নষ্ট হয়ে যায়
২৫৪. মালিক ইবনু মিগওয়াল রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, রবী' ইবনু আবী রাশিদকে বলা হলো, "কিছুক্ষণ বসে আলোচনা করলে কী হয়?” তিনি বললেন, “যদি কিছুক্ষণের জন্য মৃত্যুচিন্তা আমার মন থেকে দূর হয়ে যায়, তবে আমার অন্তর বিনষ্ট হয়ে পড়ে।” মালিক ইবনু মিগওয়াল বলেন, “তাঁর মতো দুঃখ প্রকাশকারী ব্যক্তি আমি আর কাউকে দেখিনি।”[২৮৯]
রাতের বেলায় ইলমি আলোচনা
২৫৫. সাহম ইবনু শাকীক রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি আমির ইবনু আবদিল্লাহর কাছে এলাম। তিনি সদ্য গোসল সেরে বেরিয়ে এলেন। বললাম, 'আপনি মনে হয় গোসল করে খুব আনন্দ পান।' তিনি বললেন, 'প্রায়ই গোসল করি।' তারপর বললেন, 'তা তুমি কী মনে করে এলে?' বললাম, 'আলোচনা করার জন্য।' তিনি বললেন, 'তোমার সাথে আমার কথা এটাই যে, আমি আলোচনা পছন্দ করি। কিন্তু রাতের বেলা শুধুই (ইলমি) আলোচনাই হবে।”[২৯০]
যিকরের দ্বারা অন্তরকে সজীব রাখা
২৫৬. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহর যিকর দিয়ে অন্তরকে সজীব রেখো; কারণ অন্তর খুব দ্রুত ময়লা হয়। প্রবৃত্তিকেও নিয়ন্ত্রণে রেখো, কারণ প্রবৃত্তি নিষিদ্ধ বিষয়ে অত্যন্ত উদ্গ্রীব। প্রবৃত্তি নিকৃষ্ট পরিণতির দিকে টেনে নিয়ে যায়। সে যেদিকে টেনে নিয়ে যায়, তোমরা যদি সেদিকেই যাও, তা হলে সে তোমাদের (ভালো) কিছু বাকি রাখবে না।”[২৯১]
বেশি খেলে অন্তর কঠিন হয়ে যায়
২৫৭. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, বলা হতো যে, "তোমরা বেশি খাওয়া থেকে বিরত থাকবে। কারণ এতে অন্তর কঠিন হয়ে যায়। বুকে ইলম ধারণ করবে। আর বেশি হাসাহাসি কোরো না। কারণ তাতে অন্তর মলিন হয়ে যায়।”[২৯২]
সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ
২৫৮. যুবাইদ ইয়ামী রহিমাহুল্লাহ বলেন, আবদুর রহমান এর সাথে আমাদের দেখা হলেই তিনি বলতেন, “তোমাদের রবের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তুতি নাও।”[২৯৩]
মুসলমানের মৃত্যুপ্রস্তুতি
২৫৯. জাফর ইবনু হাইয়ান থেকে বর্ণিত, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “মুসলমান কখনও পেটপুরে খায় না এবং সে সব সময় তার অসিয়তনামা লিখে পাশে রেখে দেয়।"[২৯৪]
উত্তম ও বুদ্ধিমান মুমিন বান্দা
২৬০. সা'দ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-
إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُبِلَ أَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَفْضَلُ؟ قَالَ: أَحْسَنُكُمْ خُلُقًا، قِيلَ: أَيُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْيَسُ؟ قَالَ : أَكْثَرُهُمْ لِلْمَوْتِ ذِكْرًا، وَأَحْسَنُهُمْ لَهَا اسْتِعْدَادًا
“রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন মুমিন বান্দা সবচেয়ে উত্তম। তিনি বললেন, 'তোমাদের মধ্যে যার চরিত্র সবচেয়ে ভালো।' জিজ্ঞেস করা হলো, কোন মুমিন বান্দা সবচেয়ে বুদ্ধিমান? তিনি বললেন, 'যে বান্দা মৃত্যুকে বেশি করে স্মরণ করে এবং মৃত্যুর জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নেয়।”[২৯৫]
মৃত্যু মুমিনের কাছে উত্তম
২৬১. রবী' ইবনু খুসাইম রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “মুমিন বান্দা যে- সকল অদৃশ্য বিষয়ের অপেক্ষায় থাকে তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম বিষয় হলো মৃত্যু।”[২৯৬]
যার প্রতি ঈর্ষা করা যায়
২৬২. মাসরুক রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যে মুমিন বান্দা কবরে আল্লাহর আযাব থেকে নিরাপদ আছে এবং দুনিয়ার (ফিতনা) থেকে (বেঁচে গিয়ে) প্রশান্তিতে আছে, তার চেয়ে বেশি ঈর্ষা আমার আর কারও প্রতিই হয়নি।”[২৯৭]
সৌভাগ্যবান কারা?
২৬৩. হাইছাম ইবনু মালিক রহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমরা আইফা ইবনু আবদ-এর কাছে বসে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করতাম। তাঁর কাছে আবূ আতিয়্যা মাযবুহ রহিমাহুল্লাহ-ও থাকতেন। একবার সৌভাগ্যবান মানুষদের নিয়ে আলোচনা উঠল। শ্রোতারা জিজ্ঞেস করলে, সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষ কে? তাঁরা বললেন, অমুক ও অমুক। আইফা জিজ্ঞেস করলেন, আবূ আতিয়্যা, আপনি কী বলেন? তিনি বললেন, তাঁদের থেকেও কে বেশি সৌভাগ্যবান তা বলছি : তা হলো ওই দেহ যা কবরের আযাব থেকে মুক্তি পেয়েছে।”[২৯৮]
কিয়ামাতের দিন মুমিনদের যা বলা হবে
২৬৪. মুআয ইবনু জাবাল রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنْ شِئْتُمْ أَنْبَأْتُكُمْ مَا أَوَّلُ مَا يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى لِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَا أَوَّلُ مَا تَقُولُونَ لَهُ؟
“কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম মুমিনদেরকে কী বলবেন এবং মুমিনরা আল্লাহকে সবার আগে কী বলবে, জানতে চাও? তা হলে আমি তোমাদের জানাব।” আমরা বললাম, জি, ইয়া রাসূলাল্লাহ, জানতে চাই। তিনি তখন বললেন,
فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ : هَلْ أَحْبَبْتُمْ لِقَابِي؟ فَيَقُولُونَ: نَعَمْ يَا رَبَّنَا، فَيَقُولُ: لِمَ؟ فَيَقُولُونَ: رَجَوْنَا عَفْوَكَ وَمَغْفِرَتَكَ، فَيَقُولُ: قَدْ وَجَبَتْ لَكُمْ مَغْفِرَتِي
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বলবেন, তোমরা কি আমার সাক্ষাৎ পছন্দ করেছ? মুমিনরা বলবে, হ্যাঁ, হে আমাদের প্রতিপালক। আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন, কেন? তারা বলবে, আমরা আপনার ক্ষমা ও মার্জনার আশা পোষণ করেছি। তখন আল্লাহ বলবেন, তোমাদের জন্য আমার ক্ষমা আবশ্যক হয়ে গেল।”[২৯৯]
টিকাঃ
[২৮৮] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৩৯৫, দঈফ।
[২৮৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৩৭১, মাওকুফ।
[২৯০] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৪৭২, মাওকুফ।
[২৯১] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[২৯২] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[২৯৩] হাদীসটির সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[২৯৪] হাদীসটির সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[২৯৫] হাদীসটির সনদ দুর্বল।
[২৯৬] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ৩৩৮, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[২৯৭] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৪০২, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[২৯৮] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[২৯৯] হাদীসটির সনদ দুর্বল।
📄 নফল ইবাদাত : জীবনের চেয়েও প্রিয়
অষ্টম অনুচ্ছেদ
নফল ইবাদাত : জীবনের চেয়েও প্রিয়
তিনটি বিষয় ছাড়া জীবন অপছন্দনীয়
২৬৫. সা'দ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে আবুদ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "যদি তিনটি বিষয় না থাকত তা হলে একদিনও বেঁচে থাকতে চাইতাম না: ১. দুপুরে পিপাসার্ত থাকা (রোজা রাখা); ২. গভীর রাতের (আল্লাহর সামনে) সাজদাবনত হওয়া; ৩. এমন মানুষদের সঙ্গে ওঠাবসা করা—যাঁরা বেছে বেছে উত্তম কথা বলেন, ঠিক যেভাবে ভালো খেজুর বাছাই করে আলাদা করা হয়।”[৩০০]
পতঙ্গের জীবনেও আপত্তি নেই
২৬৬. মি'দাদ (আবূ যাইদ আজালি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যদি দুপুরের পিপাসা[৩০১] না থাকত, শীতকালের দীর্ঘ রজনী না থাকত এবং আল্লাহ তাআলার কিতাব তিলাওয়াতের মাধ্যমে তাহাজ্জুদ সালাত পড়ার স্বাদ না থাকত, তবে আমি মৌমাছি হতেও কোনো পরোয়া করতাম না।”[৩০২]
সাজদায় আল্লাহর নৈকট্য লাভ
২৬৭. আবদুল্লাহ ইবনু লাহিআ বলেন, আমি উকবা ইবনু মুসলিম রহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, “বান্দার যে স্বভাব আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় তা হলো বান্দার অন্তরে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ। আর যে সময়টাতে বান্দা আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে নৈকট্যে পৌঁছে যায় তা হলো তাঁর সামনে সাজদায় লুটিয়ে পড়ার সময়।”[৩০৩]
রোজা রাখতে পারবেন না বলে কান্না
২৬৮. কাতাদা বলেন, আমির ইবনু আবদি কাইস রহিমাহুল্লাহ মৃত্যুশয্যায় কাঁদতে শুরু করলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, “মৃত্যুর ভয়ে কাঁদছি না, দুনিয়ার প্রতি লোভের কারণেও না; আমি কাঁদছি দুপুরের পিপাসা আর শীতের রাতের সালাত পড়ার কথা ভেবে।”[৩০৪]
টিকাঃ
[৩০০] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ১৩৫, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[৩০১] তীব্র গরমের দিনে রোজা রাখা।
[৩০২] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৪/১৫৯, মাওকুফ।
[৩০৩] সনদ হাসান, মাওকুফ।
[৩০৪] সনদ হাসান, মাওকুফ।