📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 সাহাবি ও তাবিয়িদের সালাত

📄 সাহাবি ও তাবিয়িদের সালাত


চতুর্থ অনুচ্ছেদ
সাহাবি ও তাবিয়িদের সালাত

রহমতের দুআ
৮৪. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
رَحِمَ اللَّهُ قَوْمًا يَحْسَبُهُمُ النَّاسُ مَرْضَى، وَمَا هُمْ بِمَرْضَى
“আল্লাহ তাআলা ওই কওমকে রহম করুন, যাদেরকে মানুষ অসুস্থ ভাবে, অথচ তারা অসুস্থ নয়।”[১৬]
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, “তারা (অত্যধিক) ইবাদাতে মশগুল থাকে (যার ফলে মানুষ তাদের অসুস্থ মনে করে)।”

মুনাফিক রাত জেগে ইবাদাত করতে পারে না
৮৫. কাতাদা রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “(আমাদের সময়) একটি কথা বলা হতো, “মুনাফিক কখনও (ইবাদাতের মাধ্যমে) রাত্রি জাগরণ করতে পারে না।”[১৭]

তামীম দারী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর সালাত
৮৬. মাসরুক রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কার এক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন, “এটা ছিল তোমার ভাই তামীম দারী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর (সালাত পড়ার) জায়গা। এক রাতে তিনি ভোর বা ভোর হয়ে যায় যায় এমন সময় পর্যন্ত রুকু, সাজদা আর আল্লাহর কিতাব থেকে এই আয়াত পড়ে পড়ে কাঁদছিলেন :
أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ أَنْ نَجْعَلَهُمْ كَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَوَاءٌ مَحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ
“যেসব লোক অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে তারা কি মনে করে নিয়েছে যে, আমি তাদেরকে এবং মুমিন ও সৎকর্মশীলদেরকে সমপর্যায়ভুক্ত করে দেব যে তাদের জীবন ও মৃত্যু সমান হয়ে যাবে? তারা যে ফয়সালা করে তা অত্যন্ত জঘন্য।”[৯৮]-[৯৯]

মাসরুক রহিমাহুল্লাহ-এর সালাত
৮৭. মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাসরুক রহিমাহুল্লাহ-এর স্ত্রী বলেছেন, “মাসরুককে কখনও কখনও এমন অবস্থায় পাওয়া যেত যে, দীর্ঘ সালাত পড়ার কারণে তাঁর পা দুটি ফুলে গেছে। আল্লাহর শপথ! তার পেছনে বসলে আমার এত মায়া লাগত যে, আমি কেঁদেই ফেলতাম।”[১০০]

যারা নিজেদের জন্য কাঁদে
৮৮. ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর বলেন, কা'ব আহবার রহিমাহুল্লাহ একজন লোকের কুরআন তিলাওয়াত অথবা দুআ-যিকর শুনছিলেন, (তখন লোকটি কাঁদছিল)। তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। তারপর যেতে যেতে বললেন, “কিয়ামাত হওয়ার আগেই যারা নিজেদের জন্য কাঁদে, তাদের কল্যাণ হোক।”[১০১]

সালাত পড়ে রাত কাটানো
৮৯. উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “সবার চোখ ঘুমে অবশ হয়ে এলে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু সালাতে দাঁড়াতেন। আমি মৌমাছির গুনগুনের মতো তাঁর (কুরআন তিলাওয়াতের) আওয়াজ শুনতাম। এভাবে ভোর হয়ে যেত।”[১০২]

আখিরাতের ব্যাপারে সাহাবিদের ভয়
৯০. আবুল আহওয়াস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “কেউ যখন (সাহাবিদের) তাঁবুর দরজায় গিয়ে দাঁড়াত, ওখানে মৌমাছির গুনগুনের মতো (যিকর-আযকারের) আওয়াজ শুনতে পেত। (এখনকার) লোকদের কী হলো যে এরা (আখিরাতের বিষয়ে) নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে, যে বিষয়ে পূর্ববর্তীরা ছিলেন ভীতসন্ত্রস্ত?”[১০৩]

মর্যাদায় তারতম্য
৯১. আউন ইবনু আবদিল্লাহ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আল্লাহ তাআলা একটি দলকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; তাদেরকে নিয়ামাত দান করবেন এবং তারা ভোগ করবে। আরেক-দল লোক মর্যাদায় তাদের ওপরের স্তরে থাকবে। এরা তাদেরকে দেখে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক, ওরা আমাদের চেয়ে বেশি মর্যাদা পেল যে? এরা তো আমাদের ভাই, আমরা তো তাদের সাথেই ছিলাম। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, অসম্ভব! তোমরা যখন পরিতৃপ্ত হতে তখন তারা ক্ষুধার্ত থাকত, যখন তোমরা তৃষ্ণা নিবারণ করতে তখন তারা পিপাসার্ত থাকত, যখন তোমরা ঘুমিয়ে থাকতে তখন তারা সালাতে দাঁড়াত, যখন তারা (আমলের কারণে) ওপরের দিকে উঠত তখন তোমরা (গোনাহের কারণে) নিচের দিকে নামতে।"[১০৪]

জান্নাতে মর্যাদার তারতম্য
৯২. আবুল মুতাওয়াক্কিল রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ الدَّرَجَةَ فِي الْجَنَّةِ فَوْقَ الدَّرَجَةِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، وَإِنَّ الْعَبْدَ لَيُرْفَعُ بَصَرَهُ فَيَلْمَعُ لَهُ بَرْقُ يَكَادُ يَخْطَفُ بَصَرَهُ، فَيُفَزَعُ لِذَلِكَ فَيَقُولُ: مَا هَذَا؟ فَيُقَالُ لَهُ: هَذَا نُورُ أَخِيكَ فُلَانٍ، فَيَقُولُ: أَخِي فُلَانٌ، كُنَّا نَعْمَلُ فِي الدُّنْيَا جَمِيعًا، وَقَدْ فُضْلَ عَلَى هَكَذَا؟ قَالَ: فَيُقَالُ لَهُ: إِنَّهُ كَانَ أَفْضَلَ مِنْكَ عَمَلًا، ثُمَّ يُجْعَلُ فِي قَلْبِهِ الرِّضَا حَتَّى يَرْضَى
"জান্নাতে মর্যাদার (বিভিন্ন) স্তর থাকবে, যেমন আসমান ও জমিনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। জান্নাতে কেউ ওপরের দিকে তাকাবে, তার সামনে এমন বিজলি চমকে উঠবে যে তার চোখ ধাঁধিয়ে দেবে। সে ভয় পেয়ে যাবে এবং বলবে, এটা কী? তাকে বলা হবে, এটা তোমার অমুক ভাইয়ের আলো। সে বলবে, আমার অমুক ভাই, দুনিয়াতে তো আমরা একসঙ্গে আমল করতাম। আজ তাকে আমার চেয়ে এতবেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে? তাকে বলা হবে, আমলের ক্ষেত্রে সে তোমার চেয়ে উত্তম ছিল। এরপর তার অন্তরে সন্তুষ্টি সৃষ্টি করে দেওয়া হবে, ফলে সে সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।”[১০৫]

টিকাঃ
[১৬] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত।
[১৭] সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[৯৮] সূরা জাসিয়া, ৪৫: ২১।
[৯৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ১৮২, মাসরুক পর্যন্ত হাদীসটির সনদ সহীহ।
[১০০] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৩৫, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১০১] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ২৫৩, মাওকুফ এবং এর রাবীগণ সিকাহ।
[১০২] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ১৫৬, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১০৩] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৩৪৭, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১০৪] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৪/২৪৭, সনদ দুর্বল, মাওকুফ।
[১০৫] হাদীসটির সবগুলো সনদ সহীহ, মুরসাল।

📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 নবিজির ইবাদাত

📄 নবিজির ইবাদাত


পঞ্চম অনুচ্ছেদ
নবিজির ইবাদাত

নবিজির সালাত
৯৩. হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাতের বেলা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে সালাত পড়লেন। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত শুরু করার পর বললেন,
اللَّهُ أَكْبَرُ ذُو الْمَلَكُوتِ، وَالْجَبَرُوتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ
‘আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, যিনি সকল রাজত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী, যিনি বড়োত্ব ও মহত্ত্বের অধিকারী।’
এরপর সূরা বাকারা পাঠ করলেন। তারপর রুকূ করলেন, রুকূ ছিল তাঁর প্রায় কুরআন পাঠের সমান। রুকূতে তিনি বললেন, سُبْحَانَ رَبِّ الْعَظِيمِ ‘আমার মহান রবের মহিমা প্রকাশ করছি।’ তারপর দাঁড়ালেন এবং রুকূর সমান দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর সাজদায় গিয়ে বললেন, سُبْحَانَ رَبِّ الْأَعْلَى ‘আমার সমুন্নত রবের মহিমা প্রকাশ করছি।’ সাজদা থেকে মাথা তুললেন এবং দুই সাজদার মাঝখানে সাজদার সমান (সময়) অবস্থান করলেন এবং বললেন, رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي ‘রব আমার, আমাকে ক্ষমা করে দাও! রব আমার, আমাকে ক্ষমা করে দাও!’ এভাবে তিনি সূরা বাকারা, সূরা আল ইমরান, সূরা নিসা, সূরা মাইদা ও সূরা আনআম পাঠ করলেন।”[১০৬]
শু'বা বলেন, বর্ণনাকারী সূরা মাইদা নাকি সূরা আনআম বলেছিলেন, তা ঠিক মনে নেই।

ভোরে যেমন থাকতেন নবিজি
৯৪. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলতেন, “ভোরবেলায় রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারা কখনও থাকত উৎফুল্ল, উজ্জ্বল এবং মন থাকত প্রশান্ত; আবার কোনো কোনো দিন ভোরে তাঁর চেহারায় থাকত ঘুমঘুম ভাব। আল্লাহ তাআলাই এ ব্যাপারে ভালো জানেন।"[১০৭]

ভারসাম্যপূর্ণ সালাত
৯৫. ইয়াযীদ রাকাশি রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাত ছিল সমান সমান, ভারসাম্যপূর্ণ।"[১০৮]

সালাতে একটি আয়াতের পুনরাবৃত্তি
৯৬. আবুল মুতাওয়াক্কিল রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক রাতে সালাতে দাঁড়ালেন এবং কুরআনের একটি আয়াতই পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন।[১০৯]

নবিজির সালাত পর্যবেক্ষণ
৯৭. ইসহাক ইবনু আবদিল্লাহ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলেছেন, “এক রাতে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সালাত দেখতে আমার ইচ্ছে হলো। সে রাতে তিনি ইশার সালাত পড়ার পর অল্প কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলেন। এরপর উঠে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারলেন। তারপর হাওদার পেছন দিকে গিয়ে ওখান থেকে তাঁর মিসওয়াক নিলেন। দাঁত মেজে ওজু করে (সালাতে দাঁড়ালেন)। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, তিনি রুকূ দিলেন না, দাঁড়িয়েই থাকলেন, এ অবস্থায় রাতের কত অংশ যে কেটে গেল, টেরই পেলাম না। একসময় ঘুম আমার চোখে পাহাড়ের মতো চেপে বসল।”[১১০]

নবিজির রাত্রিকালীন যিকর
৯৮. রবীআ ইবনু কা'ব আসলামি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আমি নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হুজরার পাশে রাত্রিযাপন করলাম। শুনতে পেলাম যে, তিনি রাতে উঠে (সালাতের মধ্যে) দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে বললেন سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ 'আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত, তিনি মহাবিশ্বের শাসক'; তারপর দীর্ঘক্ষণ বললেন سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ 'আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত, আর প্রশংসা কেবল তাঁরই'।"[১১১]

পায়ের পাতা ফেটে রক্ত বেরোল
৯৯. মুগীরা ইবনু শু'বা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একবার তাহাজ্জুদের সালাতে) এতক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন যে তাঁর দুই পায়ের পাতা ফেটে গিয়ে রক্ত বের হলো। তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তো আপনার আগের ও পরের সব গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। (তবুও কেন এমনটা করেন?) জবাবে তিনি বললেন, أَفَلَا أَكُونُ عَبْدًا شَكُورًا 'আমি কি আল্লাহর একজন কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?'”[১১২]

সালাতে দাঁড়িয়ে ক্রন্দন
১০০. মুতাররিফ ইবনু আবদিল্লাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, "আমি একবার নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে গেলাম, তখন তিনি সালাত পড়ছিলেন আর পাত্রে (গরম পানি) ফোটার মতো শব্দ হচ্ছিল তাঁর বুকে। (অর্থাৎ, তিনি কাঁদছিলেন)।"[১১৩]

কুরআন তিলাওয়াত শুনে কান্না
১০১. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, اقْرَأْ عَلَيَّ 'আমাকে কুরআন পড়ে শোনাও।' আমি বললাম, আপনার সামনে আমি কুরআন পড়ব, অথচ তা আপনার ওপরই নাযিল হয়েছে। তিনি বললেন, إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي 'আমি তা অন্যের মুখে শুনতে ভালোবাসি।' তারপর আমি সূরা নিসা পাঠ করতে শুরু করলাম। যখন আমি এই আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলাম :
فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلَاءِ شَهِيدًا
“তবে কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং আপনাকে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব এদের বিরুদ্ধে।”[১১৪]
তখন দেখলাম, তাঁর দুই চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে। তিনি বললেন, ‘হাসবুক’ ‘এবার থামো।”[১১৫]

কাঁদতে কাঁদতে ঘরে চলে যাওয়া
১০২. খালিদ ইবনু ইয়াসার রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একবার আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনালেন, তিনি তখন কাঁদলেন এবং তাঁর কান্না তীব্র হলো। এরপর তিনি মাথা ঢেকে দাঁড়ালেন এবং তাঁর ঘরে চলে গেলেন।"[১১৬]

সালাতে হাই তুলতে দেখা যায়নি
১০৩. ইয়াযীদ ইবনুল আসাম্ম রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে কখনও সালাতে হাই তুলতে দেখা যায়নি।"[১১৭]

মুত্তাকিদের থেকে তিলাওয়াত শোনা
১০৪. তাউস রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لَا يُسْمَعُ الْقُرْآنُ مِنْ رَجُلٍ أَشْهَى مِنْهُ مِمَّنْ يَخْشَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ
“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তার কাছ থেকে কুরআন তিলাওয়াত শোনা সবচেয়ে বেশি কাঙ্ক্ষিত।”[১১৮]

যার তিলাওয়াত সুমধুর
১০৫. ইমাম ইবনু শিহাব যুহরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কাছে এই হাদীস পৌঁছেছে যে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ صَوْتًا بِالْقُرْآنِ، الَّذِي إِذَا سَمِعْتَهُ يَقْرَأُ، أُرِيتَ أَنَّهُ يَخْشَى اللَّهَ
"কারও তিলাওয়াত শুনলে দেখবে-আল্লাহকে যে যথাযথ ভয় করে-তার তিলাওয়াতই সুমধুর হয়ে থাকে।"[১১৯]

স্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত
১০৬. মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব কুরাযি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হরফে হরফে কুরআন তিলাওয়াত করতেন।” (অর্থাৎ, প্রতিটি হরফ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতেন)[১২০]

প্রতি হরফ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ
১০৭. উম্মু সালামা রদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কুরআন তিলাওয়াতের প্রশংসায় বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিটি হরফ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতেন।”[১২১]

সুযোগের সদ্ব্যবহার
১০৮. হাকীম ইবনু উমাইর রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَنْ فُتِحَ لَهُ بَابٌ مِنَ الْخَيْرِ فَلْيَنْتَهِزْهُ، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي مَتَى يُغْلَقُ عَنْهُ
"যার জন্য কল্যাণের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে সে যেন (কল্যাণকে) ভালোভাবে ব্যবহার করে। কারণ সে জানে না কখন তার জন্য তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।"[১২২]

রাত কাটে ঘুমিয়ে, দিন কাটে খেয়ে
১০৯. খাইসামাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “কেউ কেউ রাতের বেলায় মৃতদেহ এবং দিনের বেলায় কুকুরের মতো (আচরণ করে)।”[১২৩]

একাগ্রতার সঙ্গে সালাত আদায়
১১০. সুলাইমান রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু যখন সালাতে দাঁড়াতেন, তখন তাকে ফেলে দেওয়া কাপড়ের মতো মনে হতো।” (তিনি এতটাই একাগ্র হয়ে সালাত আদায় করতেন।)[১২৪]

বিনম্রভাবে সালাত আদায়
১১১. আবু উবাইদা রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু যখন সালাতে দাঁড়াতেন, দৃষ্টি, কণ্ঠস্বর ও হাত সংযত রাখতেন।”[১২৫] (অত্যন্ত খুশু-খুযুর সঙ্গে সালাত আদায় করতেন।)

আল্লাহ যার কথা শোনেন এবং যার কথা শোনেন না
১১২. দাউদ ইবনু আবী সালিহ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি সালাতের মধ্যে মনোযোগ-সহকারে (তিলাওয়াত) শোনে, তার কথাও শোনা হয়; এবং যে তা উপেক্ষা করে, তার কথাও উপেক্ষা করা হয়।”[১২৬]

আল্লাহ যার প্রতি মনোযোগ দেন
১১৩. কা'ব আহবার রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “বান্দা যখন সালাতে দাঁড়ায় এবং তাতে খুব মনোযোগ দেয়, আল্লাহ তাআলাও তার প্রতি মনোযোগ দেন। আর সালাতে অমনোযোগী হলে আল্লাহ তাআলাও তার প্রতি অমনোযোগী হন।”[১২৭]

টিকাঃ
[১০৬] তায়ালিসি, মুসনাদ, ৪১৬, এই হাদীসের রাবীগণ সিকাহ।
[১০৭] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত।
[১০৮] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত।
[১০৯] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত হয়েছে। আলবানি বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ।
[১১০] সনদ সহীহ, মুরসাল।
[১১১] মুসলিম, ৪৮৯।
[১১২] হাদীসটি সহীহ। বুখারি ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
[১১৩] আবূ দাউদ, ৮৯০, সনদ সহীহ।
[১১৪] সূরা নিসা: ৪১।
[১১৫] হাদীসটি সহীহ।
[১১৬] সনদ দঈফ, মুরসাল।
[১১৭] সনদ সহীহ, মুরসাল।
[১১৮] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৭/১৭০, মুরসাল।
[১১৯] হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণিত।
[১২০] সনদ দঈফ, মুরসাল।
[১২১] আবূ দাউদ, ১৪৫৩, হাসান।
[১২২] সনদ দঈফ, মুরসাল।
[১২৩] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ১/১৩০, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১২৪] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ২/১৩৬, মাওকুফ।
[১২৫] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ২/১৩৬, মাওকুফ।
[১২৬] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[১২৭] সনদ সহীহ, মাওকুফ。

📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 নাজাতের উপায়

📄 নাজাতের উপায়


ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ
নাজাতের উপায়

মুমিনের জন্য কারাগার
১১৪. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ
"দুনিয়া মুমিনের জন্য কারাগার এবং কাফিরের জন্য জান্নাত।”
হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ এই হাদীস বর্ণনা করার পর বলেন, “দুনিয়াতে প্রত্যেক মুমিন বিষণ্ণ ও ভারাক্রান্ত থাকে। কারণ, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মুমিন বান্দাকে জাহান্নামের ওপর দিয়ে পার হতে হবে। জাহান্নাম পার হওয়ার সময় সে তা থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে, এরকম সংবাদ তো তার কাছে আসেনি। আল্লাহর কসম, মুমিন বান্দার যত অসুখ হয়, বিপদে পড়ে, কঠিন বিষয়ের মুখোমুখি হয়, জুলমের শিকার হয় কিন্তু কোনো প্রতিকার করতে পারে না, এসবের জন্য সে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান আশা করে। এভাবেই সে দুনিয়াতে দুঃখভারাক্রান্ত হয়ে দিনযাপন করে এবং একসময় দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে প্রশান্তি ও সম্মান প্রদান করা হয়।"[১২৮]

কল্যাণ লাভের একটি উপায়
১১৫. সালিম ইবনু আবিল জা'দ থেকে বর্ণিত আছে, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম বলেছেন,
طُوبَى لِمَنْ خَزَنَ لِسَانَهُ، وَوَسِعَهُ بَيْتُهُ، وَبَكَى عَلَى خَطِيئَتِهِ
“ওই ব্যক্তির কল্যাণ হোক যে তার জিহ্বাকে সংযত রেখেছে, যার গৃহ তার (ইবাদাতের) জন্য প্রশস্ত এবং যে তার পাপকাজের জন্য (অনুতপ্ত হয়ে) কান্না করেছে।"[১২৯]

সে আলিম হওয়ার উপযুক্ত নয়
১১৬. আবদুল আ'লা তাইমি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাকে ইলম দান করা হয়েছে, অথচ ওই ইলম তাকে কাঁদায় না, তা হলে সে উপকারী ইলম পাওয়ার উপযুক্তই নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা আলিমগণের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন এভাবে-
إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِن قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ سُجَّدًا وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِن كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولًا وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا
"যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তাদেরকে যখন এটা শুনানো হয় তখন তারা সাজদায় লুটিয়ে পড়ে। এবং বলে ওঠে—পবিত্র আমাদের রব, আমাদের রবের প্রতিশ্রুতি তো পূর্ণ হয়েই থাকে। আর তারা কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং তা শুনে তাদের বিনয় আরও বেড়ে যায়।"[১৩০]-[১৩১]

দুঃখ-যাতনাও ইবাদাত
১১৭. মালিক ইবনু মিগওয়াল এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মনের দীর্ঘ দুঃখ-যাতনাও আল্লাহর ইবাদাত।”[১৩২]

একটি আয়াতের ব্যাখ্যা
১১৮. মুবারাক ইবনু ফুদালা থেকে বর্ণিত আছে, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
أَفَمِنْ هَذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ
“তোমরা কি এই কথায় বিস্ময়বোধ করছ! এবং হাসি-ঠাট্টা করছ! কান্না করছ না?”[১৩৩]
তারপর বললেন, "আল্লাহর কসম, এই ব্যাপারে সে ব্যক্তিই সবচেয়ে বুদ্ধিমান যে কেঁদেছে। তাই তোমরা (তোমাদের) হৃদয়গুলোকে কাঁদাও। (নিজেদের) কর্মের জন্য কেঁদে দুঃখপ্রকাশ করো। কাঁদলে দুই চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। (না কাঁদলে) তার হৃদয় পাষাণ।”[১৩৪]

প্রতিদান হবে ধৈর্যের সমপরিমাণ
১১৯. সুফইয়ান সাওরি রহিমাহুল্লাহ বলেন, “মনের কষ্ট নির্ভর করে অন্তর্দৃষ্টির ওপর।"[১৩৫]

কান্নার ব্যাপারে পাপীর অভিনয়
১২০. শুআইব জুবায়ি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যখন মানুষের পাপ পূর্ণতা পায়, তখন চোখ তার আয়ত্তে চলে আসে। যখনই সে কাঁদতে চায় কাঁদতে পারে।"[১৩৬]

তিনটি উপদেশ
১২১. আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক লোক আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলল, “হে আবূ আবদুর রহমান, আমাকে উপদেশ দিন।” আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “তোমার বাড়ি যেন কঠোর সাধনার (জায়গা) হয়, তোমার পাপকাজের কথা মনে করে কান্না করো এবং জিহ্বাকে সংযত রাখো।”[১৩৭]

কাঁদতে না পারলে কান্নার ভান করা
১২২. আরফাজাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর সিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “কেউ কাঁদতে পারলে সে যেন কাঁদে; আর যে কাঁদতে পারে না, সে যেন কান্নার ভান করে।”[১৩৮]

তাওবাকারীদের মন সবচেয়ে নরম
১২৩. আউন ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, উমর ইবনুল খাত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “তোমরা তাওবাকারীদের সান্নিধ্যে বসো, কারণ তাদের মন সবচেয়ে নরম।”[১৩৯]

আল্লাহর নিয়ামাতের বর্ণনা
১২৪. মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াযীদ ইবনু শাযারাহ রহিমাহুল্লাহ আমাদের উপদেশ দিতেন এবং কাঁদতেন। তাঁর কান্না ছিল তাঁর আমলের অনুরূপ। তিনি বলতেন, হে লোকসকল, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে যেসব নিয়ামাত দান করেছেন তা স্মরণ করো। তোমাদের ওপর আল্লাহর নিয়ামাতের কতই না চমৎকার প্রভাব রয়েছে! হায়! (জিহাদের) লাল, হলুদ, সাদা ও কালো বাহনগুলোর মধ্যে আমি যা দেখতে পাই, তোমরা যদি তা দেখতে পেতে! যখন সালাত কায়েম করা হয় তখন আসমান, জান্নাত এবং জাহান্নামের সব দরজা খুলে দেওয়া হয়। আবার (জিহাদে) যখন দুটি দল মুখোমুখি হয় তখনও আসমানের দরজা এবং জান্নাত ও জাহান্নামের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আয়তলোচনা হুরদেরকে সাজানো হয়। তারা তাকিয়ে দেখতে থাকে। যখন কোনো ব্যক্তি এগিয়ে যায়, তারা বলতে থাকে, হে আল্লাহ, তুমি তাকে সাহায্য করো, তাকে দৃঢ়পদ রাখো। যখন কেউ পিছু হটে তারা মুখ ঢেকে ফেলে এবং বলে, হে আল্লাহ, তুমি তাকে ক্ষমা করো। হে জাতির বিশিষ্ট লোকেরা, তোমরা ঝাঁপিয়ে পড়ো। তোমাদের প্রতি আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক! তোমরা আয়তলোচনা হুরদেরকে লাঞ্ছিত কোরো না। শহীদের দেহ থেকে নির্গত প্রথম রক্তফোঁটাটি এমনভাবে তার পাপ মুছতে থাকে, যেভাবে গাছের ডাল থেকে পাতা ঝরতে থাকে। দুইজন আয়তলোচনা হুর তার কাছে নেমে আসে এবং তার চেহারা থেকে ধুলোবালি মুছে দেয়। তারা বলে, এখন তোমার সময় হয়েছে। সেও তাদেরকে বলে, এখন তোমাদের সময় হয়েছে। তারপর তাকে এক শ সেট কাপড় পরানো হয়, যেগুলোকে দুই আঙুলের মাঝে গুঁজে রাখা সম্ভব। এই কাপড় কোনো মানুষের বোনা নয়; বরং তা জান্নাতে উৎপাদিত।[১৪০]

নাজাত পাওয়ার উপায়
১২৫. উকবা ইবনু আমির জুহানি রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, নাজাত কী? (কীভাবে নাজাত পাওয়া সম্ভব?) তিনি বললেন,
أَمْلِكُ عَلَيْكَ لِسَانَكَ، وَلْيَسَعْكَ بَيْتُكَ، وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ
“তোমার জিহ্বাকে সংযত রাখো। তোমার ঘর যেন কঠোর সাধনার (জায়গা) হয়, আর তোমার পাপকাজের কথা মনে করে কান্নাকাটি করো।”[১৪১]

জাতির উদ্দেশে ঈসা আলাইহিস সালাম-এর উপদেশ
১২৬. মালিক ইবনু আনাস রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমার কাছে এই বাণী পৌঁছেছে যে, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম তাঁর জাতিকে বলেছেন, "আল্লাহর যিকর ছাড়া অন্য কথা বেশি বোলো না। কারণ এতে তোমাদের হৃদয় পাষাণ হয়ে যাবে। আর পাষাণ হৃদয় আল্লাহ তাআলা থেকে অনেক দূরে কিন্তু তোমরা তা জানো না। আর মানুষের পাপের দিকে ধর্মগুরুদের দৃষ্টিতে তাকিয়ো না; বরং একজন বান্দার মতো তাদের পাপকাজগুলো দেখো। মানুষ তো দুই পর্যায়ে রয়েছে: একদল সমস্যায় আক্রান্ত, আর আরেক দলকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। যারা সমস্যায় আক্রান্ত তাদের প্রতি মমতা দেখাও এবং ক্ষমাপ্রাপ্তির জন্য আল্লাহর প্রশংসা করো।"[১৪২]

কথা অনুযায়ী কাজের হিসেব
১২৭. ইমাম শা'বী রহিমাহুল্লাহ বলেন, “বক্তা (দুনিয়াতে) যে বক্তৃতা দেবে, কিয়ামাতের দিন তার কাছে তা পেশ করা হবে।"[১৪৩]

অধিক কথা বলায় অহংকার প্রকাশ পায়
১২৮. উমর ইবনু আবদিল আযীয রহিমাহুল্লাহ-এর অনুলেখক নুআইম ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত, উমর ইবনু আবদিল আযীয রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, "অহংকার ও গৌরবের ভয় আমাকে বেশি কথা বলা থেকে বিরত রাখে।"[১৪৪]

খ্যাতি ও প্রসিদ্ধির ভয়
১২৯. আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি বসরার এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, "আমি একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। তাদের কারও কাছে প্রজ্ঞা ও হিকমতের কথা বলা হলে খ্যাতির ভয়ে সেগুলো প্রচার করা থেকে বিরত থাকতেন। অথচ তা প্রচার করলে তাদের সঙ্গীদের উপকার হতো। রাস্তার ওপর কোনো কষ্টদায়ক বস্তু দেখলে খ্যাতির ভয়ে তারা সেটা সরাতেন না।"[১৪৫]

টিকাঃ
[১২৮] মুসলিম, ২৯৫৬, প্রথম অংশ মুরসাল, দ্বিতীয় অংশ মাওকুফ।
[১২৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৫৫, সনদ সালিম পর্যন্ত সহীহ।
[১৩০] সূরা বনী ইসরাইল: ১০৭-১০৯।
[১৩১] আবু জাফর তাবারি, জামিউল বায়ান, ১৫/১২১, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১৩২] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, হাদীস নং ২৮৪, মাকতু।
[১৩৩] সূরা নাজম: ৫৯-৬০।
[১৩৪] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/৫০৫, মাকতু।
[১৩৫] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[১৩৬] ওয়াকিহ ইবনুল জাররাহ, কিতাবুয যুহদ, ৪৭৪, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[১৩৭] তাবারানি, আল-মু'জামুল কাবীর, ৯/১০৫, মাওকুফ।
[১৩৮] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ১০৮, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১৩৯] ইবনু আবী শাইবাহ, মুসান্নাফ, ১৩/২৭২, সনদ মুনকাতি, মাওকুফ।
[১৪০] আবদুর রাজ্জাক, মুসান্নাফ, ৯৫৩৮, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১৪১] তিরমিযি, ২৪০৬, হাসান। সনদটি দঈফ। কিন্তু অন্যান্য সনদে বর্ণিত হওয়ায় হাদীসটি হাসান।
[১৪২] মালিক, মুআত্তা, ২/৯৮৬, প্রথম অংশটি মারফুরূপে বর্ণিত।
[১৪৩] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৪/৩১২, সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[১৪৪] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৩০১, সনদ হাসান, মাওকুফ।
[১৪৫] হাদীসটি মাকতু'রূপে বর্ণিত। এই আসার ও তার আগেরাটির অর্থে আপত্তি রয়েছে। বান্দাকে অবশ্যই আত্মগরিমা, খ্যাতি-কামনা ও লৌকিকতা থেকে দূরে থাকতে হবে। কিন্তু এর অর্থ এই নয়, তা তাকে সৎকাজ থেকে বিরত রাখবে। বরং বান্দার কর্তব্য হলো কল্যাণের উদ্দেশ্যে সৎকাজ করা এবং খ্যাতির বাসনা ও লোক-দেখানোর মনোভাব থেকে সংযত থাকা। (অনুবাদক)।

📘 মুমিনের পাথেয় > 📄 গোপনীয় আমল ও যিকর

📄 গোপনীয় আমল ও যিকর


সপ্তম অনুচ্ছেদ
গোপনীয় আমল ও যিকর

আত্মপ্রশংসার নিন্দা
১৩০. ইবরাহীম নাখঈ রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “হায়, (লোকেরা) একত্রে সমবেত হওয়ার সময় যদি তারা নিজেদের ব্যাপারে ভালো আলোচনা করা বা আত্মপ্রশংসার বিষয়টা অপছন্দ করত![১৪৬]

আমলের গোপনীয়তার প্রতি গুরুত্বারোপ
১৩১. হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যদি এমন হতো যে, কেউ কুরআনের জ্ঞান অর্জন করলে তার প্রতিবেশী জানতে না পারত; কেউ অনেক বেশি ফিকহী ইলম অর্জন করলেও লোকেরা তা টের না পেত; কেউ নিজ বাড়িতে দীর্ঘ সালাত পড়লেও ওখানে উপস্থিত লোকেরা তা বুঝতে না পারত।
আমি একদল মানুষের কথা জানি, তারা দুনিয়ার বুকে প্রতিটা আমল গোপনীয়তার সাথে করত, কখনও তা প্রকাশ হতো না। মুসলমানগণ প্রাণপণে দুআ করতেন; কিন্তু কোনো আওয়াজ শোনা যেত না। কেবল তাদের ও তাদের রবের মধ্যে এক ধরনের গুঞ্জরণ সৃষ্টি হতো। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
'তোমরা বিনয়ের সঙ্গে ও গোপনে তোমাদের রবকে ডাকো।[১৪৭]
আর আল্লাহ তাআলা তাঁর এক সৎ বান্দার কথা উল্লেখ করেছেন এবং তার কথায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন,
إِذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاءً خَفِيًّا
'যখন (যাকারিয়্যা) তার প্রতিপালককে ডেকেছিল গোপনে।'”[১৪৮]-[১৪৯]

আমলের কথা লোকদের বলে বেড়ানোর পরিণাম
১৩২. আবদুল্লাহ ইবনু উমর রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন-
مَنْ سَمَّعَ النَّاسَ بعلمه، سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ سَامِعَ خَلْقِهِ، وَحَقَّرَهُ وَصَغَرَهُ
"কেউ যদি তার জ্ঞানের কথা লোকদের কাছে বলে বেড়ায়, আল্লাহও তার (গোপন) কথা মানুষকে শুনিয়ে দেন; তাকে অপমানিত ও অপদস্থ করেন।”[১৫০]
আবদুল্লাহ ইবনু আমর বলেন, এই হাদীস বর্ণনা করার পর ইবনু উমরের চোখ-দুটি ভিজে গেল।

আমলের আগে নিয়ত ঠিক করে নেওয়া
১৩৩. আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ-এর কাছে কিছু লোকের আলোচনা করে বলা হলো যে, তাঁরা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ বললেন, “তোমরা যা বলছ ও ভাবছ, বিষয়টি তেমন নয়। যখন দুটি দল মুখোমুখি হয় তখন ফেরেশতাগণ নেমে এসে প্রত্যেক মানুষকে তাদের নিজ নিজ স্তরে লিপিবদ্ধ করেন: অমুক দুনিয়া লাভের জন্য জিহাদ করেছে; অমুক রাজত্ব লাভের জন্য জিহাদ করেছে; অমুক যশখ্যাতির জন্য জিহাদ করেছে, ইত্যাদি; আর অমুক আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য জিহাদ করেছে। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের আশায় জিহাদ করে, সে জান্নাতে যাবে।"[১৫১]

লোক-দেখানো বিনয় ও নম্রতা
১৩৪. আবূ ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত, আবুদ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহু অথবা আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "লোক-দেখানো বিনয় ও নম্রতা থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে পানাহ চাও।” তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, সেটা কী জিনিস? তিনি বললেন, "দেহ বিনয়ী দেখালেও অন্তরে বিনয় নেই।"[১৫২]

আমলে কঠোরতা সত্ত্বেও পারস্পরিক সৌজন্য
১৩৫. আওযাঈ থেকে বর্ণিত, বিলাল ইবনু সা'দ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, “আমি তাঁদেরকে দেখেছি যে, তাঁরা নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনে (ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে) কঠোর ছিলেন। তবে তাঁরা পরস্পরকে দেখে (মুচকি) হাসতেন। রাত শুরু হলেই মগ্ন হয়ে যেতেন আল্লাহর ইবাদাতে।”[১৫৩]

মুচকি হাসি
১৩৬. উবাইদুল্লাহ ইবনুল মুগীরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস রদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলতে শুনেছি : “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে বেশি মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি।"[১৫৪]

পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে তাকানো
১৩৭. আউন ইবনু আবদিল্লাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল মুচকি হাসি হাসতেন (অট্টহাসি দিতেন না) এবং কারও দিকে তাকালে পরিপূর্ণভাবে তাকাতেন।”[১৫৫]

ধীরস্থিরভাবে কথা বলা
১৩৮. মিসআর বলেন, একজন শাইখ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জাবির ইবনু আবদিল্লাহ রদিয়াল্লাহু আনহু অথবা আবদুল্লাহ ইবনু উমর রদিয়াল্লাহু আনহুমা- কে বলতে শুনেছেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথাবার্তায় ধীরতা ও স্থিরতা ছিল।”[১৫৬]

দাঁত বের করে না হাসা
১৩৯. আয়িশা রদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনও এমনভাবে হাসতেন না যে, তাঁর সামনের দাঁতগুলো বেরিয়ে যেত; বরং তিনি কেবল মুচকি হাসতেন।"[১৫৭]

রোজা রাখা অবস্থায় পরিপাটি থাকা
১৪০. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “যেদিন তোমাদের কেউ সাওম রাখবে, সে যেন দিনের বেলা চুল পরিপাটি রাখে।"[১৫৮] (যাতে কেউ বুঝতে না পারে সে রোজাদার।)

মানুষকে জানতে না-দেওয়া
১৪১. হিলাল ইবনু ইয়াসাফ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিমাস সালাম বলেছেন, “রোজা রাখা অবস্থায়ও মাথার চুল ও দাড়িতে তেল লাগিয়ো, ঠোঁট মুছে রেখো। যাতে মানুষ বুঝতে না পারে, তুমি রোজাদার। ডান হাত দিয়ে দান করলে নিজের বাম হাত থেকেও তা লুকিয়ে রেখো। আর সালাত পড়ার সময় ঘরের দরজায় পর্দা টানিয়ে রেখো। কারণ, আল্লাহ তাআলা যেভাবে রিযক বণ্টন করেন, ঠিক সেভাবে প্রশংসাও বণ্টন করেন।"[১৫৯]

গোপনে পড়ায় বেশি সাওয়াব
১৪২. খালিদ ইবনু মুহাজির থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ রহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি : “যেমনিভাবে ফরজ সালাত একাকী পড়ার চেয়ে জামাআতে পড়া উত্তম, তেমনিভাবে নফল সালাত প্রকাশ্যে পড়ার চেয়ে গোপনে পড়া উত্তম।”[১৬০]

প্রতিদানের প্রত্যাশা
১৪৩. কাসিম আবূ আবদুর রহমান রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لَا أَجْرَ لِمَنْ لَا حِسْبَةً لَهُ
“যে ব্যক্তি (আল্লাহ তাআলার কাছে) প্রতিদান প্রত্যাশা করে না, সে কোনো প্রতিদান পায় না।”[১৬১]

বলে বেড়ালে ইবাদাত নষ্ট হয়ে যায়
১৪৪. আবূ সালামা ইবনু আবদির রহমান রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলল, “আমি চার বছর ধরে একটানা রোজা রেখেছি।” রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
لَا صُمْتَ، وَلَا أَفْطَرْتَ
“তুমি রোজা রাখোনি, রোজা ভাঙোওনি।”[১৬২] কারণ, তুমি তা বলে বেড়াচ্ছ।

আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়
১৪৫. হাবীব ইবনু সুহাইব রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
مَا تَقَرَّبَ الْعَبْدُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى بِشَيْءٍ أَفْضَلَ مِنْ سُجُودٍ خَفِي
"বান্দা যে-সকল (আমলের) মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করে, তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো গোপন সাজদা।"[১৬৩]

গোপনীয়তার সঙ্গে যিকর
১৪৬. দামরাতা ইবনু হাবীব রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
اذْكُرُوا اللَّهَ تَعَالَى ذِكْرًا خَامِلًا قَالَ: فَقِيلَ: وَمَا الذِّكْرُ الْخَامِلُ؟ قَالَ: الذِّكْرُ الْخَفِيُّ
"যিকরুন খামিলের মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরণ করো।” জিজ্ঞেস করা হলো, যিকরুন খামিল কী? তিনি বললেন, “গোপনীয় যিকর।”[১৬৪]

ঘরে কান্নাকাটি করা
১৪৭. মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ রহিমাহুল্লাহ বলেন, আবূ উমামা বাহিলি রদিয়াল্লাহু আনহু একবার মাসজিদে এসে দেখলেন, এক ব্যক্তি সাজদায় পড়ে কান্নাকাটি করছে এবং আল্লাহকে ডাকছে। তিনি তাকে বললেন, "আহ, এটা যদি তোমার ঘরে করতে!"[১৬৫]

টিকাঃ
[১৪৬] আবূ খাইসামাহ, কিতাবুল ইলম, ৩৬, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১৪৭] সূরা আরাফ: ৫৫।
[১৪৮] সূরা মারইয়াম: ০৩।
[১৪৯] ওয়াকিহ ইবনুল জাররাহ, কিতাবুয যুহদ, ৩৩৮, মাকতু।
[১৫০] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৪৪, সনদ দঈফ; তবে এর সমার্থবোধক হাদীস সহীহ সনদে মারফুরূপে বর্ণিত হয়েছে।
[১৫১] হাদীসটি মাওকুফরূপে বর্ণিত।
[১৫২] সনদ দঈফ, মাওকুফ।
[১৫৩] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৫/২২৪, সনদ সহীহ, মাওকুফ।
[১৫৪] তিরমিযি, ৩৬৪১, হাদীসটি হাসান। আলবানি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
[১৫৫] তিরমিযি, ৩৬৪২, মু'দাল এবং অন্য কিতাবে হাসান সনদে মাওসুলরূপেও বর্ণিত হয়েছে। আলবানি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
[১৫৬] আহমাদ ইবনু হাম্বল, কিতাবুয যুহদ, ৪৪, হাদীসটি দঈফ, তবে এর সমার্থবোধক হাদীস হাসান সনদেও বর্ণিত হয়েছে।
[১৫৭] সনদ দঈফ। তবে হাদীসটি অন্যান্য সনদে বর্ণিত হওয়ায় সহীহ। বুখারি, ৫৭৪১।
[১৫৮] সনদ সহীহ, মাওকুফ। ইমাম বুখারি 'সাওম' অধ্যায়ে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
[১৫৯] হিলাল ইবনু ইয়াসাফ পর্যন্ত হাদীসটির সনদ সহীহ। হাদীসটির বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।
[১৬০] এখানে হাদীসটি মাকতু, তবে এর সমার্থবোধক হাদীস মারফুরূপে বর্ণিত হয়েছে।
[১৬১] সনদ হাসান, মুরসাল।
[১৬২] সনদ দঈফ, মুরসাল।
[১৬৩] সনদ দঈফ, মুরসাল।
[১৬৪] আবূ নুআইম, হিলইয়া, ৫/১৪০, সনদ দঈফ, মুরসাল।
[১৬৫] সনদ সহীহ, মাওকুফ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00