📘 মুমিনের কবর জীবন 📄 মৃতরা তাদের সাক্ষাৎকারীদের চেনা এবং তাদের সাথে সম্পর্ক তোলার বর্ণনা

📄 মৃতরা তাদের সাক্ষাৎকারীদের চেনা এবং তাদের সাথে সম্পর্ক তোলার বর্ণনা


১। হযরত আয়শা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে সব লোক তার ভাইয়ের কবর যিয়ারত করে এবং তার কবরের পাশে বসে এতে তার সাথে সম্পর্ক ও ভালবাসা তৈরী হয় তার সালামের উত্তর দেয় সে চলে যাওয়া পর্যন্ত।

২। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কোন মানুষ পরিচিত কোন মানুষের কবর অতিক্রম করে এবং তাকে সালাম দেয় তাকে সে তার সালামের উত্তর দেয়।

৩। হযরত জুরারা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। যে পার্থিব জগতে তাকে চিনত ও ভালবাসতো (সে পরকালেও তাকে চিনবে ও ভালবাসবে)।

৪। হযরত মুহাম্মদ বিন ওয়াসি রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস পৌছলো যে, নিশ্চয় মৃতরা শুক্রবার দিন, তার আগের ও পরের দিন তাদের সাক্ষাৎকারীদের সম্পর্কে অবগত থাকেন।

৫। হযরত দাহহাক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শনিবার সূর্যোদয়ের পূর্বে কোন কবর যিয়ারত করে মৃত ব্যক্তি তার যিয়ারত সম্পর্কে অবগত হয়। তাকে বলা হলো, আর তা কীভাবে? তিনি বলেন, জুমার দিনের মর্যাদার কারণে। ইবনে আব্বাস বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন- যে কোন ব্যক্তি তার মু'মিন ভাইয়ের কবর অতিক্রম করে তাকে সে দুনিয়াতে চিনত অতঃপর তাকে সালাম দিল (কবরস্থ লোকটি) তাকে সালামের উত্তর দেবে।

৬। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে 'মারফু' হিসেবে বর্ণিত আছে যে, যে-কোন ব্যক্তি তার মু'মিন ভাইয়ের কবর অতিক্রম করে সে তাকে দুনিয়াতে চিনত। অতঃপর তাকে সালাম দিল (কবরস্থ) লোকটি তাকে সালামের উত্তর দেবে। الاربعين الطائية তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় তিনি বলেন, মৃত যতক্ষণ কবরে থাকে তাকে ভালবাস দিন। ইবনে কাইয়ূম বলেন, হাদীস ও আসার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, জিয়ারতকারী যখন আসে মৃত তার সম্পর্কে অবগত হয়। তার সালাম শ্রবণ করে। তার প্রতি প্রীত হয় এবং তার সালামের উত্তর দেয়। এটি শহীদ ও অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এটি স্মরণে নির্দিষ্ট নয়। বর্ণনাকারী বলেন, এটি দাহহাক-এর বর্ণিত হাদিস থেকে অধিক শুদ্ধ যা নির্দিষ্টের উপর ইঙ্গিত করে। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ উম্মতের জন্য শরীয়ত প্রবর্তন করেছেন যে, তারা কবরবাসীদেরকে জীবিতদের মত সালাম দেবে, যেন তারা শুনে ও উপলব্ধি করে।

টিকাঃ
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া: কিতাবুল মফতুন; বায়হাকী: শু'আবুল ঈমান, ১৯/২৯০;
২. ইবনে আবদুর রব: আল ইসতিয়কার ওয়াত তামহীদ;
৩. ইবনে আবুদ দুনিয়া; বায়হাকী শু'আবুল ঈমান, ১৯/২৯৫;
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া; বায়হাকী শু'আবুল ঈমান, ১৯/২৯৬।;
১. সাবুনী: আল মাতীন; আল আরবাঈনাত তা'ইয়া;

📘 মুমিনের কবর জীবন 📄 রূহের অবস্থান স্থলের বর্ণনা

📄 রূহের অবস্থান স্থলের বর্ণনা


১। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মসউদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, শহিদদের রূহ সবুজ পাখির উদরে থাকে, বেহেশতের যেখানে ইচ্ছা বিচরণ করে। অতঃপর আরশের নিচে রক্ষিত প্রদীপের কাছে আশ্রয় নেয়।

২। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমাদের বন্ধুরা ওহুদ প্রান্তরে শহীদ হন, আল্লাহ তাদের রূহসমূহ সবুজ পাখির উদরে রাখেন। তারা বেহেশতের নদীসমূহে অবতরণ করেন এবং বেহেশতের ফলমূলসমূহ ভক্ষণ করেন এবং আশ্রয় নেয় এমন প্রদীপে যেগুলো স্বর্ণের তৈরী, ঝুলানো আছে আরশের ছায়ায়।

৩। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, শহীদগণ বেহেশতের দরজায় নদীর কুলে সবুজ গম্বুজের মধ্যে থাকেন। সকাল-সন্ধ্যা তাঁদের কাছে রিজিক সরবরাহ করা হয়।

৪। হযরত উবাই বিন কা'ব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শহীদগণ বেহেশতের উদ্যানের সবুজ গম্বুজে থাকবেন। তাঁদের কাছে একটি ষাড় ও একটি মাছ পাঠানো হবে। অতঃপর উভয়টা জবেহ করা হবে। তাঁরা (শহীদরা) যখন খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন ওই দু'টির একটি জবেহ করবেন। তাঁরা (শহীদরা) তা থেকে আহার করবেন। বেহেশতের সবকিছুর স্বাদ তাঁরা সেখানে পাবেন।

৫। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। যখন হারেসা শহিদ হন তাঁর মা বলেন, এয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অবশ্যই হারেসার অবস্থান জানেন। সে যদি বেহেশতে হয় তাহলে আমি ধৈর্য্য ধরব। যদি অন্যস্থানে হয় তাহলে আপনি দেখবেন আমি কী করব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বেহেশত অনেক আছে। তবে সে ফেরদাউসে আ'লায় আছে।

৬। হযরত কা'ব বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মু'মিনের রূহ উড়বে, বেহেশতের বৃক্ষে সম্পৃক্ত হবে। অবশেষে আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তাকে তার দেহে ফিরিয়ে দেবেন।

৭। হযরত উম্মে হানি রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যিয়ারত সম্পর্কে প্রশ্ন করেছেন, যখন আমরা মারা যাব এবং আমাদের প্রতি কারো সদাচরণ সম্পর্কে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তা হবে স্বাচ্ছন্দময় পাখির দেহে যা বৃক্ষে সংশ্লিষ্ট হবে। অবশেষে যখন কিয়ামতের দিন হবে প্রত্যেক আত্মা নিজেদের দেহে প্রবেশ করবে।

৮। হযরত উম্মুল বশর ইবনে বারা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, তোমার দু'হাত ধূলিময় হোক! মৃতরা পরস্পর পরস্পরকে কিরূপে চিনবে? তিনি বলেন, বেহেশতে উক্ত পবিত্র আত্মা সবুজ পাখির মত থাকবে। পাখিরা যদি বৃক্ষের উপর পরস্পরকে চেনে তা হলে অবশ্যই তারা (মৃতরা) পরস্পরকে চিনবে।

৯। হযরত আবদুর রহমান বিন কা'ব বিন মালেক বিন হাসান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কা'ব-এর ওফাত সন্নিকট হলো উম্মু বশর ইবনুল বারা তার কাছে আসেন ও বলেন, হে আবূ আবদুর রহমান! আপনি যদি অমুকের সাক্ষাত পান তাকে আমার পক্ষ থেকে সালাম দেবেন। তিনি তাঁকে বললেন, হে উম্মু বশর! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুক, আমরা তা থেকে বিরত থাকব। তিনি বলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেন নি? মু'মিনের আত্মা বেহেশতের যেখানে ইচ্ছা বিচরণ করবেন আর কাফেরের আত্মা সিজ্জীন (سجين) এ বন্দি থাকবে। তিনি কা'ব বলেন, কেন শুনব না? তিনি (উম্মু বশর) বলেন, তিনিও এ রূপ হবেন।

১০। 'মারাসেলে 'আমর বিন হাবীব'-এ বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মু'মিনদের রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। অতঃপর তিনি বলেন, তা সবুজ পাখির উদরে বেহেশতে যেখানে ইচ্ছা পরিভ্রমণ করতে থাকবে। তারা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কাফেরদের আত্মা? তিনি বলেন, সিজ্জীনে বন্ধি থাকবে।

১১। হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় সালমান ফারসী এবং আবদুল্লাহ বিন সালাম পরস্পর সাক্ষাতকালে তাদের এক বন্ধু অপর বন্ধুকে বলেছেন, আপনি যদি আমার পূর্বে আপনার রবের সাথে মিলিত হন তাহলে আমাকে জানাবেন, যা আপনি লাভ করেছেন। তিনি বলেন, জীবিত কী পরস্পর মিলিত হতে পারে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। অতঃপর মু'মিনের রূহ বেহেশতে থাকবে যেখানে ইচ্ছা তাঁরা বিচরণ করবেন।

১২। হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনদের রূহ ময়না পাখির মত। সে বেহেশতের ফল খাবে। ইবনে মুন্দাও ঐ হাদিস মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

১৩। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর সূত্রে কা'ব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, জান্নাতুল মাওয়ায় অনেক সবুজ পাখি আছে। শহীদ মু'মিনদের রূহ সেখানে খুবই স্বাচ্ছন্দে থাকবেন, বেহেশতে বিচরণ করবেন। ফেরাউনদের রূহ কালো পাখির উদরে থাকবে। জাহান্নামে তারা সকাল ও সন্ধ্যায় আসবে এবং মু'মিন শিশুদের রূহ বেহেশতের চড়ুই পাখিদের দেহে অবস্থান করবে।

১৪। হযরত হুজায়ল রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফেরাউনদের রূহ কালো পাখির উদরে থাকবে, তারা সকাল ও সন্ধ্যায় জাহান্নামে যাবে এবং শহীদদের রূহ সবুজ পাখির উদরে থাকবে আর অপ্রাপ্ত বয়স্ক মুসলমানদের সন্তানদের রূহ বেহেশতের চড়ই পাখিদের দেহে থাকবে, তারা জান্নাতে বিচরণ ও পরিভ্রমন করবে।

১৫। হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনদের রূহ সাদা পাখির আকৃতিতে আরশের ছায়ায় থাকবে, আর কাফেরদের আত্মা থাকবে সপ্তম জমিনে।

১৬। হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমার কাছে ঐ সিঁড়ি আনা হলো যার উপর আদম সন্তানের রূহ আরোহণ করে। অতঃপর সৃষ্টিজগত উক্ত সিঁড়ি থেকে সুন্দর দেখে নাই যা মৃত ব্যক্তি দেখে। যখন তার অপলক দৃষ্টি আসমানের দিকে অবলোকন করে এটা তার অত্যাচার্য জিনিস। আমি ও জিব্রাইল উর্ধ্ব গমন করলাম। তিনি আসমানের দরজা খোলার জন্য অনুরোধ করেন। আমি আদম আলাইহিস সালামের কাছে গমন করলাম। তাঁর কাছে মু'মিনের সন্তানদের রূহ পেশ করা হচ্ছে। অতঃপর তিনি বলছেন, পবিত্র আত্মা, পবিত্র নফস। একে ইল্লীনে রেখে দাও। অতঃপর তাঁর কাছে কাফের সন্তানদের রূহসমূহ উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলছেন, দুষ্ট আত্মা, অপবিত্র নফস, এগুলো সিজ্জীনে রেখে দাও।

১৭। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয় মু'মিনদের রূহ সপ্তম আসমানে থাকে। তারা বেহেশতে তাদের স্থান অবলোকন করে।

১৮। হযরত ওয়াহাব বিন মুনাব্বাহ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সপ্তম আসমানে আল্লাহর একটি ঘর আছে তাকে 'আল বায়দা' (البيضاء) বলা হয়। যেখানে মু'মিনদের রূহসমূহ একত্রিত হবে। দুনিয়াবাসীর কেউ মারা গেলে রূহসমূহ তার সাথে সাক্ষাত করে। তারা তার কাছে দুনিয়ার সংবাদ জানতে চায়, যেভাবে অনুপস্থিত ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে নিজ পরিবার সম্পর্কে যখন সে তাদের কাছে আসে।

১৯। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় তিনি আসমা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহাকে তার ছেলে আবদুল্লাহ বিন জুবাইর বিষয়ে শান্তনা দিচ্ছেন অথচ তার মরদেহ ফাসিতে ঝুলানো ছিল। তিনি বলেন, আপনি চিন্তা করবেন না। রূহ আসমানে আল্লাহর কাছে থাকে আর এটা তো মরাদেহ মাত্র।

২০। হযরত আবদুল্লাহ বিন জুবায়র রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনদের আত্মাসমূহ জিব্রাইল আলাইহিস সালাম-এর কাছে উপস্থাপন করা হয় এবং বলা হয়, আপনি কেয়ামত পর্যন্ত এগুলোর অভিভাবক।

২১। হযরত মুগিরা বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালমান ফারসী আবদুল্লাহ বিন সালামের সাথে সাক্ষাত করেন। তিনি তাকে বলেন, আপনি যদি আমার পূর্বে মারা যান তা হলে আমাকে জানাবেন যার সম্মুখীন আপনি হবেন। আমি যদি আপনার পূর্বে মারা যাই আপনাকে অবহিত করব। তিনি বলেন এবং কীভাবে অথচ আমি মরে গেলাম? তিনি বলেন, নিশ্চয় রূহ যখন দেহ থেকে বের হয়ে যায় তা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করবে, অবশেষে তা তার দেহে প্রত্যাবর্তন করবে।

২২। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে আল্লাহ তাআলার বাণী- “আল্লাহ প্রাণগুলোকে ওফাত প্রদান করে তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মৃতুবরণ করেনা তাদেরকে তাদের নিদ্রার সময়; অতঃপর তার মৃত্যুর নির্দেশ দিয়েছেন সেটাকে রুখে রাখেন এবং অপরটাকে এক নির্দিষ্ট মেয়াদকাল পর্যন্ত ছেড়ে দেন।” এ আয়াত সম্পর্কে বলেন, পূর্ব ও পশ্চিমে প্রসারিত একটি রশি, আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী একটি রশি। মৃতদের রূহসমূহ এবং জীবিত রূহসমূহ উক্ত রশির সাথে সম্পৃক্ত। মৃত আত্মা জীবিত আত্মার সাথে সম্পৃক্ত হবে। যখন অনুমতি দেয়া হবে এ জীবিত নফস্কে নিজ দেহে ফিরে আসার, সে তার রিজিক পূর্ণ গ্রহণ করতে পারে। মৃত আত্মাকে বাধা দেয়া হবে, অপরটিকে ফেরদাউসে প্রেরণ করা হয়। আবূ দারদার হাদিসে তার ছেলে সনদ বর্ণিত নাই। তা হচ্ছে, মৃতকে এক মাস তার ঘরের চতুর্দিকে ঘুরানো হবে আর তার কবরের চতুর্দিকে এক বছর। অতঃপর তাকে এমন স্থানে তুলে নেয়া হবে যেখানে জীবিতদের এবং মৃতদের রূহ একত্রিত হবে।

২৩। হযরত সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি সালমান ফারসী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনদের আত্মাসমূহ জমিনে অবস্থিত বরযাখে থাকে, যেখানে ইচ্ছে গমন করে। কাফেরদের আত্মাসমূহ সিজ্জীনে থাকে। ইবনুল কায়্যিয়ূম বলেন, বরযখ হলো দুটি জিনিসের মধ্যকার প্রতিবন্ধক। মনে হয় তিনি দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যবর্তী জমিন উদ্দেশ্য করেছেন।

২৪। হযরত মালেক বিন আনস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস পৌঁছল মু'মিনদের আত্মাসমূহ স্বাধীন যেখানে ইচ্ছে গমন করেন।

২৫। হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কাফেরদের আত্মাসমূহ হাদরা মাউতের বরহুতে সবখাতে একত্রিত করা হবে। মু'মিনদের আত্মাসমূহ জাবিয়াতে একত্রিত করা হবে।

২৬। হযরত উরওয়া বিন রভীম রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাবিয়া যেখানে প্রত্যেক পবিত্র আত্মা সেখানে আসে।

২৭। হযরত আলী বিন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনদের আত্মাসমূহ যমযম কূপে থাকে আর কাফেরদের আত্মাসমূহ বরহুত উপত্যাকায় থাকে।

২৮। হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনদের আত্মাসমূহ আরিহায় একত্রিত হয় এবং মুশরিকদের আত্মাসমূহ হাদরা মাউতের জাফিরে একত্রিত হয়।

২৯। হযরত ওয়াহাব বিন মুনিব্বাহ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় মু'মিনদের আত্মাসমূহকে যখন কবজ করা হয় ঐগুলো একজন ফেরেশতার কাছে পেশ করা হয়, তাকে রমায়ীল বলা হয়। তিনি মু'মিনদের আত্মাসমূহের প্রহরী।

৩০। হযরত আব্বান ইবনে সা'লাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ননা করেন। তিনি একজন কিতাবী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কাফেরদের আত্মাসমূহের দায়িত্বে যে ফেরেশতা থাকবেন তাকে দাওহা বলা হয়।

৩১। হযরত কা'ব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খিজির (আলাইহিস সালাম) উপরের সমুদ্র ও নিজের সমুদ্রের মধ্যবর্তী নূরের একটি মিম্বরে থাকেন। চতুষ্পদ জন্তুদের তাঁর কথা শ্রবণ ও তাঁর আনুগত্যের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাঁর কাছে সকাল-সন্ধ্যা রূহসমূহকে পেশ করা হয়। রূহসমূহের অবস্থান স্থল সম্পর্কে যে সব হাদিস আমরা অবগত হয়েছি এগুলো তারই সমষ্টি। এ বিষয়ে জ্ঞানীদের বিভিন্ন মত পরিলক্ষিত হয়েছে। এ হাদিসগুলোর এ বিভিন্নতার কারণে ইবনে কাইয়ুম বলেন, নির্ভরযোগ্য অভিমত হচ্ছে, রূহসমূহের ভিন্ন ভিন্ন মর্যাদা সম্পর্কে কোন মতানৈক্য নেই। বরযখে তার স্থানে অবস্থানের কারণে বড় ধরনের মর্যাদাগত পার্থক্য রয়েছে। দলিলসমূহ পরস্পর সাংঘর্ষিক নয়। কেননা প্রত্যেকটি মানুষের মর্যাদাগত পার্থক্যের কারণে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বাবস্থায় শরীরের সাথে রূহে যোগাযোগ আছে। তাই রূহকে সম্বোধন করা ও সালাম দেয়া বিশুদ্ধ। তার কাছে বেহেশত ও দোজখে তার স্থান উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া অন্যান্যগুলোও রূহ কেন্দ্রিক হবে। কেননা রূহের বিশেষ একটি মর্যাদা আছে। রূহ 'রফিক আলার' কাছে থাকলেও তা দেহের সাথে সম্পর্ক রাখে। এভাবে যে-কোন মুসলমান তার বন্ধুকে সালাম দিলে তার সালামের জওয়াব দেবে অথচ সে তার স্থানে। এখানে যে বিভ্রান্তি হচ্ছে তা অনুপস্থিত ব্যক্তিকে উপস্থিতের উপর অনুমানের কারণে। তাই এ বিশ্বাস করা যে, রূহ একস্থানে থাকলে অন্যস্থানে অনুপস্থিত এটা নিছক ভুল ধারণা। নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মি'রাজ রজনীতে মুসা আলাইহিস সালামকে নিজ কবরে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে দেখেছেন। আবার তাঁকে ষষ্ঠ আসমানেও দেখেছেন। রূহ সেখানে দৈহিক আকৃতি তুল্য ছিল, তার সাথে দেহের সংযোগ আছে। এভাবে তিনি তার কবরে নামাজ পড়ছেন এবং সালামের উত্তর দেন। রূহ দেহে প্রত্যাবর্তন করে, অথচ সে 'রফিক-আলা' বা পরমবন্ধুর সাথে। উভয় বিষয়ের মধ্যে কোন দ্বন্ধ বা বৈপরিত্য নেই। কেননা আত্মাসমূহের অবস্থা দেহসমূহের অবস্থার মত নয়। কেউ সূর্য দিয়ে তার উপমা দিয়েছে। সূর্য আকাশে আর তার আলো জমিনে পড়ে। অন্য দিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে আমার রওজা শরীফের কাছে আমার উপর দরূদ পড়বে আমি তা শ্রবণ করি। যে দূর থেকে আমার উপর দরূদ পড়বে তা আমার কাছে পৌছিয়ে দেয়া হবে। এটা নিশ্চিত যে তার রূহ নবীদের রূহের সাথে ইল্লিয়ীনে। অথচ তিনি পরম বন্ধু! সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, কোন বিরোধ নেই। রূহ 'ইল্লিয়ীনে' হওয়া অথবা বরযাখে অথবা সিজ্জীনে হওয়া। তবে তার সাথে দেহের সংযোগ আছে এভাবে যে, সে উপলব্ধি করে, শ্রবণ করে, নামাজ পড়ে, কেরাত পড়ে। এটি দূর্বোধ্য হওয়ার কারণ হচ্ছে, পার্থিব জগতের বাস্তবতা এটির তুলনীয় নয়। পরকালীন বিষয় বরযখের বিষয়। পার্থিব বিষয়ের সাথে সাদৃশ্য নয়। এমনকি তিনি বলেন, রূহসমূহ সৌভাগ্যবান হোক কিংবা হতভাগ্য তাদের অবস্থানস্থল এক নয়। তাঁদের মর্যাদাগত ভিন্নতা রয়েছে। অবস্থানগত ভিন্নতা সত্ত্বেও কবরস্থিত দেহের সাথে তাদের যোগাযোগ আছে। তাদের জন্য নির্ধারিত নিয়ামত অথবা আযাব আছেই। হাফেয ইবনে হাজর বলেন, মু'মিনদের আত্মাসমূহ 'ইল্লিয়ীন' (علین) এ, আর কাফেরদের আত্মাসমূহ সিজ্জীন (سجين) এ প্রত্যেকের রূহের রয়েছে তাদের দেহের সাথে সংযোগ, যা পার্থিব জীবনের সংযোগের সাথে সাদৃশ্য রাখেনা। বরং তা ঘুমন্ত ব্যক্তির অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। যদিও তা ঘুমন্ত ব্যক্তির চাইতে অধিক সাদৃশ্য। তিনি বলেন, এর দ্বারা সমন্বয় করা হবে, যা বর্ণিত আছে, নিশ্চয় তার অবস্থানস্থল 'ইল্লিয়ীন' (علین) অথবা সিজ্জীন (سجين) অথবা কূপ ইত্যাদি বর্ণনাগুলোর মধ্যে। ইবনে আবদুল বার জমহুর থেকে যা বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয় তা তাদের কবরের পাশে, এ বর্ণনাটিও সমন্বয় করা যাবে। তিনি বলেন, এতদসত্ত্বেও তাকে ক্ষমতা প্রয়োগের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সে তার স্থান 'ইল্লিয়ীন' (علن) বা সিজ্জীন (سجين) এ আশ্রয় নেয়। তিনি বলেন, যখন স্থানান্তর করা হবে মৃতকে এক করর থেকে অন্য কবরে- বর্ণিত সংযোগটি বিদ্যমান থাকবে। অনুরূপ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গেলেও। লাফসাচ। গ্রন্থকার বলেন, নিয়ামতপ্রাপ্ত বিভিন্নভাবে হতে পারে। তন্মধ্যে কেউ বেহেশতে বিভিন্ন বৃক্ষে উড়বে, কেউ সবুজ পাখির উদরে থাকবে। কেউ ময়না সদৃশ পাখির উদরে থাকবে। কেউ বেহেশতের বৃক্ষে থাকবে। কেউ নিজেদের আমলের পুণ্য দিয়ে তৈরী আকৃতিতে থাকবে, কেউ বিচরণ করবে, নিজেদের দেহে ফিরে আসবে, দেহের সাক্ষাত করবে। কেউ মৃত ব্যক্তির আত্মাসমূহের সাক্ষাত করবে, কেউ মীকাঈল এর তত্ত্বাবধানে থাকবে। কেউ আদম আলাইহিস সালাম-এর দায়িত্বে, কেউ ইব্রাহীমের তত্ত্বাবধানে। কুরতুবী বলেন, এটি উত্তম অভিমত, যা সব বর্ণনাকে সমন্বয় করে, যাতে পরস্পর সংঘর্ষ না হয়। বায়হাকী 'কিতাবু আযাবিল কবর' (كتاب عذاب القبر) এ অনুরূপ বর্ণনা করেন। কেননা শহীদদের আত্মাসমূহ সম্পর্কে ইবনে মাসউদের হাদিস ও ইবনে আব্বাসের হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে। অতঃপর বারা থেকে বর্ণিত বুখারীর হাদিসে পেশ করেছেন। তিনি বলেন, যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছেলে ইব্রাহীম ওফাত লাভ করেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয় তাঁর জন্য বেহেশতে ধাত্রী আছে। অতঃপর তিনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত; তাঁর ছেলে ইব্রক্রীহম আলাইহিস্ সালামকে বেহেশতে দুধ পান করানো হয় অথচ তাঁকে মদিনার কবরস্থান জান্নাতুল বকীতে দাফন করা হয়েছে। শা'বী 'বাহারুল কালাম' (بحر الكلام) এ বলেন, রূহসমূহ চার শ্রেণীতে বিভক্ত। নবীদের পবিত্র রূহ তাঁদের দেহ থেকে বের হবেন, তাঁদের আকৃতি মাছ ও কর্কুরের মত, তাঁরা বেহেশতে থাকেন, পানাহার করেন, স্বাচ্ছন্দ ভোগ করেন, রাত্রে আরশের প্রদীপে আশ্রয় নেন। আনুগত্যশীল শহীদদের রূহ তাদের দেহ থেকে বের হয়ে বেহেশতে সবুজ পাখিদের উদরে হবেন। পানাহার করবেন, আনন্দ উপভোগ করবেন, আরশের নিচে ঝুলন্ত প্রদীপে আশ্রয় নেবেন। অনুগামীদের আত্মা বেহেশতে আশ্রয় নেবেন, আহার করবেন না, আনন্দ উপভোগ করবেন না তবে বেহেশতে চলাফেরা করবেন। পাপী-মু'মিনদের আত্মা যা আসমান ও জমিনের মধ্যেখানে শূন্যে থাকবে। কাফেরদের আত্মা সপ্তম জমিনে সিজ্জীনে কালো পাখিদের উদরে থাকবে। ঐগুলো তাদের দেহের সাথে সংযুক্ত থাকবে। রূহসমূহকে আযাব দেয়া হবে। দেহসমূহ ব্যথা পাবে, যেমন সূর্য আসমানে থাকে অথচ তার জ্যোতি জমিনে পড়ে।

টিকাঃ
১. মুসলিম: আস্ সহীহ, ৯/৪৭২; ** আহমদ: মসনদ-ই আহমদ, ৫/২৯৯; আবূ দাউস: আস্ সুনান, ৭/৪৩; হাকেম বায়হাকী: শু'আবুল ঈমান, ৯/২৬৮:;
১. আহমদ: মসনদ-ই আহমদ; আবদ বিন হামিদ; ইবনে আবু শায়বা: আল মুসান্নাফ; তাবরানী: মু'জামুল কবীর;
*. হানাদ বিন সুরী: আয় যুহদ, ১/১৮২; আবু শায়বা: আল মুসান্নাফ;
৩. বোখারী: আস্ সহীহ, ১২/৩৭৭; আবু শায়বা আল মুসান্নাফ, ৪/৫৬৩;
১. মালেক: মুয়াত্তা, ২/২৩৩; নাসায়ী আস্ সুনান, ৭/২১৩; আহমদ মসনদ-ই আহমদ: ৩১/৪১৩;
*. আহমদ: মসনদ-ই আহমদ, ৫৫/৩৯৮; তাবরানী: মু'জামুল কবীর, ১৮/১৭৬; ইবনে সা'দ: আত তবকাত: ৮/৩১৩;
১. ইবনে মাজাহ: আস্ সুনান, ৪/৩৮১; তাবরানী মু'জামুল কবীর, ১৩/৪০৮; বায়হাকী শু'আবুল ঈমান; আবদু বিন হুমাই: মসনদ, ৪/২১৬; আবু শায়বা: মসনদ, ২/১১;
২. তাবরানী: মু'জামুল কবীর, ৮/১০১;
১. ইবনু আবুদ দুনিয়া: আল মুনামাত, ১/৩১; বায়হাকী শু'আবুল ঈমান, ৩/৩৯৪;
২. তাবরানী: মু'জামুল কবীর; বায়হাকী: শু'আবুল ঈমান;
৩. ইবনে আবূ শায়বা: আল মুসান্নাফ; বায়হাকী শু'আবুল ঈমান;
১. হান্নাদ বিন সূরী আয যুহদ, ১/১৭২;
২. ইবনে মোবারক:;
১. ইবনে আবু হাতিম; ইবনে মবদুয়া; বায়হাকী দালায়িলুন নবুয়ত; 3. আবু নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া.... ৩. আবু নাঈম হিলইয়াতুল আউলিয়া.... ২/৯৮;
১. সাঈদ ইবনে মনসুর: মিরওয়াজি: আয় যানায়িযাহ; সাঈদ বিন মনসুর:;
১. জুয়াইবর:;
১. ইবনুল মোবারক: আয যুহদ ওয়ার রাকায়িব, ১/৪৪৭;
২. ইবনে আবুদ দুনিয়া: আল মুনামাত;
৩. মিরওয়াজি: আজ জানায়েয; ইবনে আসাকীর; ইবনে কাসীর: তাফসীর-ই ইবনে কাসীর, ৪/৪৯৯;
*. ইবনে আসাকীর:;
১. ইবনে আবদু দুনিয়া:;
২. হাকেম: আল মুসতাদরাক;
৩. ইবনে আবুদ দুনিয়া:;
*. পূর্বোক্ত;
১. ওকাইল:;

📘 মুমিনের কবর জীবন 📄 মু‘মিনদের শিশুদের দুধ খাওয়ানো ও তাঁদের লালন-পালন করার বর্ণনা

📄 মু‘মিনদের শিশুদের দুধ খাওয়ানো ও তাঁদের লালন-পালন করার বর্ণনা


১। হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, প্রত্যেক নবজাতক ইসলামে জন্মগ্রহণ করে। যে বেহেশতে পরিতৃপ্ত সে বলবে, হে রব! আমার নিকট আমার মাতা-পিতাকে নিয়ে আসুন।

২। হযরত খালেদ বিন মা'দান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বেহেশতে একটি বৃক্ষ আছে যাকে তুবা বৃক্ষ বলা হয়। উক্ত বৃক্ষ স্তনে পরিপূর্ণ। কোন শিশু দুগ্ধপোষ্য অবস্থায় মারা গেলে তাকে উক্ত বৃক্ষ থেকে দুধ পান করানো হবে। তাদেরকে ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) লাল-পালন করবেন।

৩। হযরত খালেদ বিন মা'দান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি খালেদ ইবনে মালাকান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বেহেশতে একটি বৃক্ষ আছে যাকে তুবা বলা হয়। তার সম্পূর্ণটাই স্তন। বেহেশতাবাসী শিশুদের তা থেকে দুধ পান করা হবে। গর্ভপাত সন্তান বেহেশতের একটি নদীতে থাকবে। তাতে সে সাতরাবে। অবশেষে কেয়ামত হয়ে যাবে, তাকে চল্লিশ বছর বয়স্ক করে উঠানো হবে।

৪। হযরত ওবাইদুল্লাহ বিন 'উমার রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বেহেশতে একটি বৃক্ষ আছে তাতে অনেক স্তন আছে গাভীর স্তনের মত। তা থেকে বেহেশতবাসীদর সন্তানরা দুধ পান করবে।

৫। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন- মু'মিনের সন্তানগণ বেহেশতে থাকবে, ইব্রাহীম ও সারা তাদের প্রতিপালন করবেন, অবশেষে তাদেরকে কেয়ামতের দিন তাদের মাতা পিতার কাছে ফেরত দেবেন।

টিকাঃ
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া: কিতাবুল আ'রা;
* ইবনে আবুদ দুনিয়া:;
১. ইবনে আবি হাতিম; ইবনে কাসীর: তাফসীর-ই ইবনে কাসীর, ৪/৪৫৯; জালাল উদ্দীন সুয়ূতী: দুররুল মনসুর, ৬/৮;
২. ইবনে আবুদ দুনিয়া: আল আ'রা; ইবনে কাসীর: তাফসীর-ই ইবনে কাসীর, ৪/৪৫৯;
৩. আহমদ: মসনদ, ১৭/১৬; হাকেম: আল মুসতাদরাক, ৩/৪৪৭;

ফন্ট সাইজ
15px
17px