📄 ফেরেশতারা মু‘মিনকে তার কবরে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার বর্ণনা
১। হযরত আবূ সায়ীদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন পড়ল অতঃপর মারা গেল অথচ কুরআন সে পূর্ণ আয়ত্বে আনতে পারেনি তার কাছে একজন ফেরেশতা আসবেন তিনি তাকে তার কবরে কুরআন শিক্ষা দেবেন। আল্লাহ তাকে সাক্ষাৎ দেবেন। আর তার কুরআন সম্পূর্ণ আয়ত্ত্বে আসবে।
২। হযরত আতিআল আওফী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস পৌঁছল যে, নিশ্চয় মু'মিন বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার সাক্ষাৎ করবেন অথচ তিনি তার কিতাব শিক্ষা করেন নি, আল্লাহ তাআলা তাঁকে তা কবরে শিক্ষা দেবেন। অবশেষে তাঁকে তাতে সাওয়াব দান করবেন।
৩। হযরত হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস পৌঁছল যে, মু'মিন বান্দা যখন মারা যাবেন অথচ তিনি কুরআন মুখস্ত করেন নি। কুরআন সংরক্ষণকারী ফেরেশতাদের নির্দেশ দেয়া হবে তাঁরা যেন তাঁকে কবরে কুরআন শিক্ষা দেন। অবশেষে আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন কুরআনের সাথে উঠাবেন।
৪। হযরত ইয়াজিদ রুকাশি রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় মু'মিন যদি মৃত্যুবরণ করে অথচ কুরআনের কিছু অংশ শিক্ষা করা থেকে তার বাকী রয়ে গেল, আল্লাহ তার জন্য কিছু ফেরেশতা প্রেরণ করবেন তার যা বাকী ছিল তারা (ফেরেশতারা) তা হেফয করাবেন। অবশেষে তাকে তার কবর থেকে উঠানো হবে।
টিকাঃ
১. আবুল হাসান ইবনে শিবরান: ফাওয়ায়িদ;
২. ইবনে আবুদ দুনিয়া: ইবনে মুন্দাহ:;
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া:;
২. ইবনে আবুদ দুনিয়া:;
📄 মু‘মিন তার কবরে কাপড় পরিধানের বর্ণনা
১। হযরত ওবাদা বিন বশর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর ওফাত উপস্থি হলো, তিনি আয়শা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা কে বললেন, আমার এ দু'কাপড় ধৌত কর এবং এ দুটি দিয়ে আমার কাফন দিও। কেননা আবূ বকর ওই দুজনের একজন হবে, হয়ত তাকে উত্তম কাপড় পরিধান করা হবে অথবা অপমানজনকভাবে তার থেকে কাপড় ছিনিয়ে নেয়া হবে।
২। হযরত ইহইয়া বিন রাশিদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় ওমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তার অছিয়তে বলেন, তোমরা আমার কাফনে মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে। কেননা তা যদি আমার জন্য আল্লাহর কাছে মঙ্গলজনক হয় তাহলে তিনি তার চাইতে উত্তম কাফন আমাকে পরিবর্তন করে দেবেন আর তা যদি ঐরূপ না হয় তাহলে তিনি আমার থেকে ছিনিয়ে নেবেন এবং তড়িঘড়ি করে ছিনিয়ে নেবেন। আমার কবর খনন বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন কর। কেননা তা যদি আমার জন্য আল্লাহর কাছে উত্তম হয় তাহলে তিনি আমার জন্য আমার কবরে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেবেন। যদি আমি তার বিপরীত হই তিনি আমার উপর সংকীর্ণ করে দেবেন, অবশেষে আমার পার্শ্বসমূহ স্থানচ্যুত হয়ে যাবে।
৩। হযরত হুজায়ফা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় তিনি তাঁর মৃত্যুর সময় বলেছেন, তোমরা আমার জন্য দুটি কাপড় খরিদ কর, এর চাইতে বেশী নয়। তোমাদের বন্ধু যদি কল্যাণ অর্জন করে তিনি আমাকে তার চাইতে উত্তম কাপড় পরাবেন, নতুবা তিনি উভয়টি খুবদ্রুত ছিনিয়ে নেবেন।
৪। হযরত হুজায়ফা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় তিনি তাঁর মৃত্যুর সময় বলেছেন, তোমরা আমার জন্য দুটি সাদা কাপড় খরিদ কর। কেননা উভয়টি আমার জন্য খুব অল্প সময়ের জন্য রাখা হবে। অবশেষে হয়ত তার চাইতে উত্তম দুটি পরিবর্তন করে দেবেন অথবা তার চাইতে নিকৃষ্ট দুটি পরিবর্তন করে দেবেন।
৫। হযরত আলীয়া বিনতে আব্বান বিন সায়ফী আলগিফারী থেকে বর্ণিত। হযরত আব্বান বিন সায়ফী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ছিলেন। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে অছিয়ত করেছেন আমরা যেন তাঁকে কামীস (কোর্তা) দ্বারা কাফন না দিই। অতঃপর যেদিন আমরা তাঁকে দাফন করেছি তার পরের দিন সকালে যে কোর্তায় আমরা তাঁর কাফন দিয়েছি উক্ত কোর্তাটি আমরা (ঘরের) হ্যাংকারে পেলাম।
টিকাঃ
১. আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল যাওয়াইদ-ই যুহদ;
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া:;
২. সাঈদ ইবনে মনসুর: আস্ সুনান; ইবনে আবু শাইব মুসান্নাফ; ইবনে আবুদ দুনিয়া; হাকীম আল মুসতাদরাক;
৩. ইবনে সা'দ তাবকাত; বায়হাকী শু'আবুল ঈমান;
📄 মু‘মিনের জন্য তার কবরে বিছানার আলোচনা
১। হযরত মুজাহিদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে আল্লাহর বাণী فَلِأَنفুসِهِمْ يَمْهَدُوْنَ (তারা তাদের নিজেদেরকে বিছানা করেন।) এর তাফসীর সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, (তা) কবরের মধ্যে।
২। হযরত মুজাহিদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে উক্ত আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারা বিছানা সজ্জিত করবেন।
৩। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনকে তার কবরে বলা হবে- তুমি নব বর-বধূর মত ঘুমিয়ে যাও।
টিকাঃ
১. সাঈদ বিন মনসুর:;
১. ইবনে জারীর: তাফসীর-ই জারীর; ইবনে আবু হাতিম: তাফসীর ইবনে আবু হাতিম; ইবনুল মুনযির: আল আওসাতু লি ইবনে মুনযির; আবূ নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া ২/২৯; আবু জাফর তাবারী: তাফসীর-ই তাবারী, ২০/১১২: শামসুদ্দীন কুরতুবী: তাফসীর-ই কুরতুবী, ১৪/৪২;
২. ইবনে মুনযির:;
৩. ইবনে আবুদ দুনিয়া; বায়াহাকী: শু'আবুল ঈমান;
📄 মৃতগণ তাদের কবরে পরস্পর সাক্ষাৎ করার বর্ণনা
১। হযরত আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যদি তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের অভিভাবক হও তাহলে সে যেন তার মৃত- ভাইয়ের কাফন উত্তমভাবে দেয়। কেননা তাঁরা তাঁদের কবরে পরস্পর সাক্ষাত করেন। এ হাদিসটি বর্ণনার পর ইমাম বায়হাকী বলেন, ইহা কাফন সম্পর্কে আবূ বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর বর্ণিত উক্তির বিরোধী নয়। তিনি বলেছেন, কাফন মৃত-ব্যক্তির রক্তমিশ্রিত পুঁজের জন্য। কেননা তা আমাদের বাহ্যদৃষ্টিতে তাঁর কথার অনুরূপ। তবে বাস্তবিক তা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী হবে। যেমন- তিনি শহীদদের সম্পর্কে বলেন, 'বরং তাঁরা তাঁদের রবের কাছে জীবিত, রিজিকপ্রাপ্ত।' অথচ রক্তাক্ত অবস্থায় আমরা তাঁদের দেখে থাকি। আর তা নিছক আমাদের দৃষ্টিতে। অদৃশ্যে তাঁরা আল্লাহ যেরূপ বলেছেন অবিকল সেরূপই। আমাদের দৃষ্টিতে যদি আল্লাহ যে রূপ বলেছেন সেরূপ হতো তা হলে অদৃশ্যের উপরে ঈমান আনা উঠে যেত।
২। হযরত জাবের রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, তোমরা তোমাদের মৃতদের সুন্দরভাবে কাফন দাও। কেননা তাঁরা গর্ববোধ করবেন এবং কবরে পরস্পর সাক্ষাত করবেন।
৩। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে মারফু হাদিসে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪। খতিব আত্ তারিখ (التاريخ) এ হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে মারফু হাদিসে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৫। হযরত ইবনে সিরীন রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি উত্তম কাফন পছন্দ করতেন এবং বলা হবে, নিশ্চয় তারা তাদের কাফনে পরস্পর সাক্ষাত করবেন।
৬। হযরত মুহাম্মদ বিন সিরীন রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারা কাফন পেছানো ও দর্শনীয় হওয়া সে পছন্দ করেন আর তিনি বলেন, নিশ্চয় তাঁরা তাঁদের কবরে পরস্পর সাক্ষাত করবেন।
৭। হযরত রাশেদ বিন সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় জনৈক ব্যক্তির স্ত্রী ওফাত লাভ করে। অতঃপর সে স্বপ্নে কতগুলো মহিলা দেখতে পায়। তবে তাদের সাথে তার স্ত্রীকে দেখে নাই। তাই সে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বলেন, অবশ্যই তোমরা তাঁর কাফন দেয়ার মধ্যে ত্রুটি করেছ। তাই তিনি আমাদের সঙ্গে বের হতে লজ্জা করছেন। অতঃপর লোকটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং তাঁকে উক্ত বিষয়টি অবহিত করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নির্ভরযোগ্য কোন মাধ্যমে বের কর। অতঃপর সে একজন মুমূর্ষু আনসারীর কাছে আসে, সে তাকে উক্ত বিষয়টি অবহিত করে। আনসারী বলেন, কেউ যদি মৃতদের কাছে পৌছাতে পারে আমি পৌছাব। অতঃপর আনসারী ওফাত লাভ করেন। ওই ব্যক্তিটি জাফরান রঙে রাঙ্গানো দুটি কাপড় নিয়ে আসলো, উভয়টি আনসারীর কাফনে রেখে দিল। অতঃপর রাতে সে ওই মহিলাদের স্বপ্নে দেখল তাদের সাথে তার স্ত্রীও আছে, তার দেহে হলুদ বর্ণের দুটি কাপড় আছে।
৮। হযরত কায়স বিন কুবাইসা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে ঈমান আনে নাই তাকে মৃতদের সাথে কথা বলার অনুমতি দেয়া হবে না। আরজ করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! মৃতরা কি কথা বলে? তিনি বলেন, হ্যাঁ এবং তারা পরস্পর সাক্ষাতও করে।
৯। হযরত সাঈদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় মৃতকে যখন তার কবরে রাখা হয় তার কাছে তার পরিবার-পরিজন, ছেলে-মেয়ে আসবে এবং তারা তাকে জিজ্ঞাসা করবে, সে যাদের রেখে এসেছে তাদের সম্পর্কে, অমুক কেমন আছে, অমুক কী করেছ?
১০। হযরত মুজাহিদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় মানুষ কবরে তার ছেলে-মেয়েদের পুণ্য কর্মের দরুণ খুশি হয়। ইবনে কাইয়ূম বলেন, রূহসমূহ দু'প্রকার যথা- (১) নিয়ামতপ্রাপ্ত রূহ এবং (২) আযাব তথা শাস্তি যোগ্য রূহ। অতঃপর শাস্তিযোগ্য রূহসমূহকে পরস্পর সাক্ষাত থেকে বিরত রাখা হবে। আর নিয়ামতপ্রাপ্ত রূহসমূহ স্বাধীন, তাদের বন্দি করে রাখা যাবে না। তারা পরস্পর সাক্ষাত করবে। দুনিয়াতে যা ছিলো তার আলোচনা করবে। দুনিয়াবাসীদের সম্পর্কে যা হবে তার আলোচনা করবে। অতঃপর প্রত্যেক রূহ তার বন্ধুর সাথে হবে, বন্ধু তার কর্ম অনুযায়ী হবে। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র রূহ মহান বন্ধুর সাথে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, "যে আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করবে তারা ঐ সব লোকের সাথে হবেন যাদের উপর আল্লাহ নিয়ামত দিয়েছেন। (তারা হচ্ছেন) নবীগণ, ছিদ্দিকগণ, শহিদগণ, সৎলোকগণ। এবং তারা বন্ধু হিসেবে কতই না উত্তম।" এই সঙ্গে বা সাহচর্য দুনিয়া, কবর ও পরকালে প্রযোজ্য হবে। ত্রিজগতে মানুষ তার প্রিয়জনের সঙ্গে থাকবে। সালাফী বলেন, কবরে সফল মৃতের রূহ তাদের স্ব স্ব দেহে প্রত্যাবর্তন করা বিশুদ্ধ মতানুসারে প্রমাণিত। এতে কোন মতভেদ নেই। তবে রূহ দেহে স্থায়িত্বের বিষয়ে মতানৈক্য আছে। আর তা হচ্ছে- দেহ রূহের দ্বারা জীবিত হয়ে যাবে দুনিয়ার মত অথবা রূহ ব্যতীত জীবিত, যেভাবে আল্লাহ চান। জীবনের জন্য রূহের আবশ্যকীয়তা একটি স্বাভাবিক বিষয়, যৌক্তিক নয়। দেহ রূহের দ্বারা জীবিত, দুনিয়ার অবস্থার মত যা বিবেক সম্মত ও যৌক্তিক। যদি তা হয় তাহলে দেহ শুনতে পারে ও আনুগত্য করে। এটা একদল আলেম উল্লেখ করেছেন। তার দলিল হচ্ছে, মূসা আলাইহিস্ সালাম নিজ কবরে নামাজ পড়া। নামাজ জীবিত দেহ দাবী করেনা। অনুরূপ মিরাজ রজনীতে নবীদের যে গুণাবলীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে সবগুলোর গুণ দেহ নয়। তা দ্বারা তাঁদের জন্য প্রকৃত হায়াত আবশ্যক করেনা, যা দেহের সাথে থাকবে যেভাবে দুনিয়াতে ছিল, যা খাদ্য ও পানীয় ইত্যাদি দৈহিক উপকরণের প্রয়োজন অনুভব করে, যা আমরা প্রত্যক্ষ করছি। বরং তাঁদের জন্য ভিন্ন বিধান আছে। অতঃপর প্রথম অবস্থা যেমন জানা ও শ্রবণ করা তা প্রত্যেক মৃতের জন্য প্রমাণিত। এটি সুবকীর অভিমত। ইয়াফেয়ী বলেন, আহলে সুন্নাতের অভিমত হচ্ছে, কবরে মৃতদের রূহ কোন কোন সময় আনা হবে ইল্লি্যুয়ীন (علین) বা সিজ্জীন (سجين) থেকে; যখন আল্লাহ ইচ্ছা করেন। বিশেষত জুমার রাত তারা একত্রে বসে পারস্পরিক আলাপ করে। জান্নাতবাসীদের নিয়ামত দেয়া হবে। জাহান্নামবাসীদের আযাব দেয়া হবে। যতক্ষণ ইল্ল্যিয়ীন (عليين) অথবা সিজ্জীন (سجين) এ থাকবে। কবরে রূহ ও দেহ উভয়ই থাকে।
টিকাঃ
১. তিরমিযী: আস সুনান, ৪/১১২; ইবনে মাজাহ: আস্ সুনান, ৪/৪১২; ইবনে আবুদ দুনিয়া: আল মুনামাত, ১/২২৯: বায়াহাকী: শু'আবুল ঈমান, ১৯/২৬৫: হারেস বিন আবু সালমা:;
* ইবনে আদি: আল কামেল, ৩/২৫৪;
*. আল খতিব: আত তারিখ;
*. ইবনে আবু শায়বা: আল মুসান্নাফ;
১. সালাফী: আল মাসিখাতুল বাগদাদীয়া;
২. ইবনে আবুদ দুনিয়া: কিতাবুল মানামাত, ১/২২৭;
*. শায়খ ইবনে হাব্বান: কিতাবুল ওসায়া;
*. ইবনে আবুদ দুনিয়া:;
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া:;