📄 মৃতগণ নিজেদের কবরে নামাজ পড়ার বর্ণনা
১। হযরত জুবায়র রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আমি সাবিত আল বুনানীকে তাঁর কবরে প্রবেশ করালাম আমার সাথে হামিদ আততাভীলও ছিলেন। আমরা যখন তাঁর কবরের উপর ইট বিন্যস্ত ও সমান করে দিলাম একটি ইট পড়ে গেল। তাঁকে দেখতে পেলাম তিনি কবরে নামায পড়ছেন। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি যদি আপনার কোন সৃষ্টিকে কবরে নামাজ পড়ার সুযোগ দেন তা আমাকে দিন। অতঃপর আল্লাহর শান এ নয় যে, তিনি তাঁর দোয়া প্রত্যাখ্যান করবেন।
টিকাঃ
১. আবু নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া..., ১/৩৫৫
📄 মৃতগণ নিজেদের কবরে কুরআন তিলাওয়াত করার বর্ণনা
১। হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী যে-কোন একটি কবরের উপর বসলেন, তিনি জানেন না যে তা কবর। সেখানে একজন লোক সূরা মুল্ক পড়ছেন। অবশেষে তা শেষ করেছেন। অতঃপর তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং তাঁকে এ ব্যাপারে খবর দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তা প্রতিহতকারী এবং তা মুক্তিদাতা, যা তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবে। আবুল কাসেম সাদী کتاب الافصاح এর মধ্যে বর্ণিত। এটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে সত্যায়ন যে মৃত নিজ কবরে কুরআন তিলাওয়াত করেন। কেননা আবদুল্লাহ হুযূরকে উক্ত বিষয়ে অবহিত করেছেন। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সত্যায়ন করেছেন।
২। হযরত তালহা বিন ওবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জঙ্গলে আমার সম্পদের উদ্দেশ্যে বের হলাম। পথিমধ্যে আমার রাত হয়ে গেল। আমি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন হিরাম-এর কবরের (পার্শ্বে) আশ্রয় নিলাম। উহার চেয়ে কবর থেকে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করি। তার থেকে সুন্দর তিলাওয়াত আমি ইতোপূর্বে শুনি নাই। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গমন করি, আর এ ঘটনা আমি তাঁর কাছে উল্লেখ করি। অতঃপর তিনি বলেন, হে আবদুল্লাহ! তুমি কি জান না, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাদের রূহ কবজ করেন। তারপর তিনি তা জবরজদ ও মুক্তার প্রদীপে রাখেন এবং তা বেহেশতের মধ্যে ঝুলিয়ে রাখেন। যখন রাত আসে তাঁদের দেহে রূহ ফিরিয়ে দেয়া হয়। ফজর হওয়া অবধি রূহসমূহ দেহে বিদ্যমান থাকে। অতঃপর প্রভাত হলে তাঁদের রূহসমূহ যেখানে ছিলো সেখানে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
৩। হযরত ইব্রাহীম বিন আবদুল সামাদ মাহদী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ভোর রাতে যারা দুর্গ অতিক্রম করছিলেন তাঁরা আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, আমরা যখন সাবিত বুনানীর কবর অতিক্রম করছিলাম আমরা কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পেলাম।
৪। হযরত ইকরামা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনকে (কবরে) কুরআন দেয়া হবে, তিনি তা পাঠ করবেন।
৫। হযরত আসেম সাকতী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বলখ শহরে একটি কবর খনন করেছি, তার কবরে আমরা একটা ছিদ্র পেলাম। উক্ত কবরে কেবলামুখী একজন বৃদ্ধ বিদ্যমান, তাঁর দেহে সবুজ চাদর, তাঁর চতুষ্পার্শ্বে সবুজের সমারোহ, তাঁর কাছে একটি কুরআন আছে, তিনি তা পাঠ করছেন।
৬। কবর খননকারী হযরত আবূ নদর নিশাপুরী থেকে বর্ণিত। তিনি একজন সৎ খোদাভীরু ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বলেন, আমি একটি কবর খনন করেছি। উক্ত কবরে আর একটি কবর বেরিয়ে এলো। অতঃপর আমি দেখলাম সেখানে সুন্দর পোশাক পরিহিত, সুন্দর চেহরার ও সুগন্ধময় এক যুবক চার জানু হয়ে বসে আছেন। তার কাছে সুন্দর অক্ষরে লিপিবদ্ধ একটি গ্রন্থ আছে। ঐ রূপ সুন্দর অক্ষরে লিখিত গ্রন্থ আমি দেখি নাই। তিনি কুরআন পড়ছেন। যুবকটি আমার দিকে তাকালেন ও বললেন, কেয়ামত কী হয়ে গেল? আমি বললাম, না; তিনি বললেন, ইটটি যথা স্থানে রেখে দাও। আমি তা যথাস্থানে রেখে দিলাম।
৭। সুহায়লী দালায়েলুন নবুয়ত এ জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় তিনি এক স্থানে কবর খনন করলে একটি তাক বেরিয়ে আসলো, সেখানে চৌকির উপর একজন লোক, তাঁর সম্মুখে কুরআন, তিনি তা পড়ছেন। তাঁর সম্মুখে আছে সবুজ উদ্যান। এটা ছিলো ওহুদ প্রান্তর। তিনি জানতে পারেন নিশ্চয় তিনি শহীদ। কেননা তিনি তাঁর চেহরায় ক্ষত স্থান দেখতে পান। এ ঘটনাটি ইবনে হাব্বান তার তাফসীর উল্লেখ করেছেন।
৮। ইয়াফেয়ী روض الرياحين এ জনৈক বুজুর্গ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একজন লোকের কবর খনন করলাম এবং তাঁকে কবর দিলাম এবং তাঁর ইট আমি কবরে সমান করে দিলাম। হঠাৎ পার্শ্বের একটি ইট কবরের অভ্যন্তরে পড়ে গেল। অতঃপর আমি দেখলাম যে একজন বৃদ্ধ কবরে উপবিষ্ট, তাঁর দেহে সাদা পোশাক, তাঁর কোলে আছে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত একটি গ্রন্থ। তিনি তা পড়ছেন। তিনি আমার দিকে মাথা তুলে দেখলেন আর বললেন, কিয়ামত কি হয়ে গেছে? আমি বললাম, না। তিনি বলেন, ইটটি যথাস্থানে রেখে দাও। আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুক। অতঃপর আমি তা যথাস্থানে রাখলাম।
৯। ইয়াফেয়ী আরো বলেন, আমরা নির্ভরযোগ্য কবর-খননকারীদের থেকে বর্ণনা করেছি, নিশ্চয় জনৈক ব্যক্তি একটি কবর খনন করে, তিনি সেখানে চৌকির উপর উপবষ্টি লোক দেখতে পায়। তাঁর হাতে আছে কুরআন, তিনি তা পড়ছেন। তার নিচে একটি নদী প্রবাহিত। এতে কবর-খননকারী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাকে কবর থেকে বের করা হলো। তিনি বেহুশ ছিলেন। অবশেষে তিনি তৃতীয় দিন জ্ঞান ফিরে পান।
টিকাঃ
১. তিরমিযী: আস্ সুনান; বায়হাকী শু'আবুল ঈমান;
১. ইবনে মুন্দাহ:;
২. আবু নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া....১/৩৫৬;
১. ইবনে মুন্দাহ:;
১. ইবনে মুন্দাহ:;
২. সুহাইল: দালায়েলুন নবুয়ত;
১. ইযাফী: বাওযুব বায়্যাহীন: পূর্বোক্ত;
📄 ফেরেশতারা মু‘মিনকে তার কবরে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার বর্ণনা
১। হযরত আবূ সায়ীদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন পড়ল অতঃপর মারা গেল অথচ কুরআন সে পূর্ণ আয়ত্বে আনতে পারেনি তার কাছে একজন ফেরেশতা আসবেন তিনি তাকে তার কবরে কুরআন শিক্ষা দেবেন। আল্লাহ তাকে সাক্ষাৎ দেবেন। আর তার কুরআন সম্পূর্ণ আয়ত্ত্বে আসবে।
২। হযরত আতিআল আওফী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস পৌঁছল যে, নিশ্চয় মু'মিন বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার সাক্ষাৎ করবেন অথচ তিনি তার কিতাব শিক্ষা করেন নি, আল্লাহ তাআলা তাঁকে তা কবরে শিক্ষা দেবেন। অবশেষে তাঁকে তাতে সাওয়াব দান করবেন।
৩। হযরত হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস পৌঁছল যে, মু'মিন বান্দা যখন মারা যাবেন অথচ তিনি কুরআন মুখস্ত করেন নি। কুরআন সংরক্ষণকারী ফেরেশতাদের নির্দেশ দেয়া হবে তাঁরা যেন তাঁকে কবরে কুরআন শিক্ষা দেন। অবশেষে আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন কুরআনের সাথে উঠাবেন।
৪। হযরত ইয়াজিদ রুকাশি রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় মু'মিন যদি মৃত্যুবরণ করে অথচ কুরআনের কিছু অংশ শিক্ষা করা থেকে তার বাকী রয়ে গেল, আল্লাহ তার জন্য কিছু ফেরেশতা প্রেরণ করবেন তার যা বাকী ছিল তারা (ফেরেশতারা) তা হেফয করাবেন। অবশেষে তাকে তার কবর থেকে উঠানো হবে।
টিকাঃ
১. আবুল হাসান ইবনে শিবরান: ফাওয়ায়িদ;
২. ইবনে আবুদ দুনিয়া: ইবনে মুন্দাহ:;
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া:;
২. ইবনে আবুদ দুনিয়া:;
📄 মু‘মিন তার কবরে কাপড় পরিধানের বর্ণনা
১। হযরত ওবাদা বিন বশর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর ওফাত উপস্থি হলো, তিনি আয়শা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা কে বললেন, আমার এ দু'কাপড় ধৌত কর এবং এ দুটি দিয়ে আমার কাফন দিও। কেননা আবূ বকর ওই দুজনের একজন হবে, হয়ত তাকে উত্তম কাপড় পরিধান করা হবে অথবা অপমানজনকভাবে তার থেকে কাপড় ছিনিয়ে নেয়া হবে।
২। হযরত ইহইয়া বিন রাশিদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় ওমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তার অছিয়তে বলেন, তোমরা আমার কাফনে মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে। কেননা তা যদি আমার জন্য আল্লাহর কাছে মঙ্গলজনক হয় তাহলে তিনি তার চাইতে উত্তম কাফন আমাকে পরিবর্তন করে দেবেন আর তা যদি ঐরূপ না হয় তাহলে তিনি আমার থেকে ছিনিয়ে নেবেন এবং তড়িঘড়ি করে ছিনিয়ে নেবেন। আমার কবর খনন বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন কর। কেননা তা যদি আমার জন্য আল্লাহর কাছে উত্তম হয় তাহলে তিনি আমার জন্য আমার কবরে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেবেন। যদি আমি তার বিপরীত হই তিনি আমার উপর সংকীর্ণ করে দেবেন, অবশেষে আমার পার্শ্বসমূহ স্থানচ্যুত হয়ে যাবে।
৩। হযরত হুজায়ফা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় তিনি তাঁর মৃত্যুর সময় বলেছেন, তোমরা আমার জন্য দুটি কাপড় খরিদ কর, এর চাইতে বেশী নয়। তোমাদের বন্ধু যদি কল্যাণ অর্জন করে তিনি আমাকে তার চাইতে উত্তম কাপড় পরাবেন, নতুবা তিনি উভয়টি খুবদ্রুত ছিনিয়ে নেবেন।
৪। হযরত হুজায়ফা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় তিনি তাঁর মৃত্যুর সময় বলেছেন, তোমরা আমার জন্য দুটি সাদা কাপড় খরিদ কর। কেননা উভয়টি আমার জন্য খুব অল্প সময়ের জন্য রাখা হবে। অবশেষে হয়ত তার চাইতে উত্তম দুটি পরিবর্তন করে দেবেন অথবা তার চাইতে নিকৃষ্ট দুটি পরিবর্তন করে দেবেন।
৫। হযরত আলীয়া বিনতে আব্বান বিন সায়ফী আলগিফারী থেকে বর্ণিত। হযরত আব্বান বিন সায়ফী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ছিলেন। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে অছিয়ত করেছেন আমরা যেন তাঁকে কামীস (কোর্তা) দ্বারা কাফন না দিই। অতঃপর যেদিন আমরা তাঁকে দাফন করেছি তার পরের দিন সকালে যে কোর্তায় আমরা তাঁর কাফন দিয়েছি উক্ত কোর্তাটি আমরা (ঘরের) হ্যাংকারে পেলাম।
টিকাঃ
১. আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল যাওয়াইদ-ই যুহদ;
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া:;
২. সাঈদ ইবনে মনসুর: আস্ সুনান; ইবনে আবু শাইব মুসান্নাফ; ইবনে আবুদ দুনিয়া; হাকীম আল মুসতাদরাক;
৩. ইবনে সা'দ তাবকাত; বায়হাকী শু'আবুল ঈমান;