📄 মু‘মিন তার কবরে কষ্ট পাওয়ার বর্ণনা
১। হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, কবর বেহেশতের উদ্যানসমূহের একটি উদ্যান অথবা নরকের কূপসমূহের একটি কূপ।
২। হযরত তিরমিযী হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত।
৩। তাবারানী আওসাত (الأوسط) এর মধ্যে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত।
৪। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয় মানুষ যখন তার জন্মস্থান ছাড়া অন্য কোথাও মারা যায় তার জন্য তার জন্মস্থান থেকে deathস্থান পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেয়া হয়।
৫। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি অধিক দয়াবান হবেন যখন তাকে তার কবরে রাখা হবে।
৬। দায়লামী বর্ণনা করেন, মানুষের জন্য তার কবরে প্রশস্ত করা হবে যেরূপ সে তার পরিবার থেকে দুরবর্তীতে কবরস্থ হয়েছে।
৭। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিন তার কবরে সবুজ বাগানের মধ্যে হবে। তার জন্য কবরে ৭০ (সত্তর) গজ প্রশস্ত করা হবে। তার জন্য তার কবরে পূর্ণিমার রাতের মত আলোকিত করা হবে।
৮। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, আশা করা হচ্ছে আল্লাহ তাআলা বান্দার সাথে হবেন যখন তাকে তার কবরে রাখা হবে।
৯। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যখন আলেম মৃত্যুবরণ করেন আল্লাহ তাআলা তার জন্য তার জ্ঞানকে কবরে আকৃতি সম্পন্ন করবেন। তারপর তিনি তা কেয়ামত অবধি বন্ধুরূপে পরিণত করবেন। অতঃপর তিনি কেয়ামত পর্যন্ত তার বন্ধু হবেন। তার থেকে কীটপতঙ্গ প্রতিহত করবেন।
১০। ইমাম আহমদ 'আয যুহদ' (الرهد) এর মধ্যে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা মূসা আলাইহিস সালামকে ওহী করলেন, তুমি জ্ঞান অর্জন কর এবং তা মানুষকে শিক্ষা দাও। কেননা আমি শিক্ষক ও শিক্ষর্থীদের কবর আলোকিত করব। অবশেষে তারা তাদের কবরে ভয় পাবে না।
১১। হযরত ইবনে কাহিল রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মানুষকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকে আল্লাহ তাআলার উপর হক হচ্ছে তাকে কবরে আযাব দেয়া থেকে বিরত থাকা।
১২। ইয়াফেয়ী 'রওযাতুর রায়্যাহীন' (روض الرياحين) এ জনৈক বুজুর্গ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর কাছে আবেদন করেছি তিনি যেন আমাকে কবরবাসীদের অবস্থান দেখান। অতঃপর আমি এক রাত কবরসমূহ প্রত্যক্ষ করলাম যেগুলো ফেটে গেছে। দেখলাম সেখানে কতগুলো লোক চৌকিতে ঘুমন্ত। তাদের মধ্যে কেউ ক্রন্দনরত, আর কেউ হাস্যরত। আমি বললাম, হে আমার রব! আপনি যদি চান মর্যাদাগতভাবে তাঁদের সমান করতে পারেন। তখন কবর থেকে একজন আহবানকারী আহবান করলেন, হে অমুক! এগুলো আমলের স্তর বা মর্যাদা। অতঃপর পাতলা রেশমী কাপড় পরিহিতরা হচ্ছেন সচ্চরিত্রবান। অতঃপর রেশমী কাপড় পরিহিতরা হচ্ছেন শহিদগণ। ফুল শয্যায় শায়িতরা হচ্ছেন রোজাদারগণ। আনন্দ উৎফুল্লগণ হচ্ছেন আল্লাহর জন্য যারা পরস্পর ভালবাসতেন। ক্রন্দনরতরা হচ্ছেন পাপীগণ। ইয়াফেয়ী বলেন, মৃতদেরকে ভাল বা মন্দ অবস্থায় দেখা এক প্রকার কাশফ- যা আল্লাহ প্রকাশ করেন সুসংবাদ প্রদানের জন্য অথবা উপদেশ দেয়ার জন্য অথবা মৃতের কল্যাণের জন্য অথবা তার কোন মঙ্গল করার জন্য অথবা কর্জপরিশোধ করার জন্য অথবা অন্যান্য কারণে। অতঃপর এ দেখাটি কখনো নিদ্রার মধ্যে হয় আর তা প্রায়ই হয়ে থাকে, আবার কখনো চেতন বা জাগ্রত অবস্থায় হয়ে থাকে। আর তা হচ্ছে আউলিয়াদের কারামতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি 'কিফায়াতুল মু'তাকাদ' (كفاية المعتقد) এ বলেন, আমাদেরকে একজন বুজুর্গ আর একজন বুজুর্গের সূত্রে বলেছেন, তিনি কোন কোন সময় তাঁর পিতার কবরে আসতেন এবং তাঁর সাথে আলাপ করতেন।
১৩। হযরত ইয়াহইয়া বিন মু'ঈন থেকে বর্ণিত। আমাকে একজন কবর- খননকারী বলেন, এ কবরস্থানে আশ্চর্য আমি যা দেখেছি তা হলো একটি কবর থেকে আমি রোদন বা বিলাপ শুনেছি রোগগ্রস্তের বিলাপের মত এবং একটি কবর থেকে শুনেছি মুয়াজ্জিন আজান দিচ্ছেন কবরবাসী কবর থেকে তার উত্তর দিচ্ছেন।
টিকাঃ
১. তিরমিযী: আস্ সুনান, ১১/৪০০; বায়হাকী: শু'আবুল ঈমান;
*. বায়হাকী: শুয়াবুল ঈমান; ইবনে আবুদ দুনিয়া: আল মানামাত;
*. তিরমিযী: আস্ সুনান, ৮/৫০০;
*. তাবরানী: মু'জামুল আওসাত, ১৮/৪৩৪;
১. আহমদ: মসনদ-ই আহমদ, ১৩/৪০৭; নাসায়ী: আস্ সুনান, ৬/৩৬৭; ইবনে মাজাহ: আস্ সুনান, ৫/১০২:;
১. ইবনে মুন্দাহ: দায়লামী: আল ফেরদাউস;
*. ইবনে মুন্দাহ: ৩/২০১;
*. দায়লামী: আল ফেরদাউস;
১. দায়লামী: আল ফেরদাউস;
*. আহমদ: আয যুহদ, ১/১৮৩;
৩. ইবনে মুন্দাহ:;
১. ইয়াফী: রওযাতুর রায়্যাহীন; লালকামী: আস্ সুন্নাহ:
📄 মৃতগণ নিজেদের কবরে নামাজ পড়ার বর্ণনা
১। হযরত জুবায়র রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আমি সাবিত আল বুনানীকে তাঁর কবরে প্রবেশ করালাম আমার সাথে হামিদ আততাভীলও ছিলেন। আমরা যখন তাঁর কবরের উপর ইট বিন্যস্ত ও সমান করে দিলাম একটি ইট পড়ে গেল। তাঁকে দেখতে পেলাম তিনি কবরে নামায পড়ছেন। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি যদি আপনার কোন সৃষ্টিকে কবরে নামাজ পড়ার সুযোগ দেন তা আমাকে দিন। অতঃপর আল্লাহর শান এ নয় যে, তিনি তাঁর দোয়া প্রত্যাখ্যান করবেন।
টিকাঃ
১. আবু নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া..., ১/৩৫৫
📄 মৃতগণ নিজেদের কবরে কুরআন তিলাওয়াত করার বর্ণনা
১। হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী যে-কোন একটি কবরের উপর বসলেন, তিনি জানেন না যে তা কবর। সেখানে একজন লোক সূরা মুল্ক পড়ছেন। অবশেষে তা শেষ করেছেন। অতঃপর তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং তাঁকে এ ব্যাপারে খবর দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তা প্রতিহতকারী এবং তা মুক্তিদাতা, যা তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবে। আবুল কাসেম সাদী کتاب الافصاح এর মধ্যে বর্ণিত। এটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে সত্যায়ন যে মৃত নিজ কবরে কুরআন তিলাওয়াত করেন। কেননা আবদুল্লাহ হুযূরকে উক্ত বিষয়ে অবহিত করেছেন। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সত্যায়ন করেছেন।
২। হযরত তালহা বিন ওবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জঙ্গলে আমার সম্পদের উদ্দেশ্যে বের হলাম। পথিমধ্যে আমার রাত হয়ে গেল। আমি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন হিরাম-এর কবরের (পার্শ্বে) আশ্রয় নিলাম। উহার চেয়ে কবর থেকে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করি। তার থেকে সুন্দর তিলাওয়াত আমি ইতোপূর্বে শুনি নাই। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গমন করি, আর এ ঘটনা আমি তাঁর কাছে উল্লেখ করি। অতঃপর তিনি বলেন, হে আবদুল্লাহ! তুমি কি জান না, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাদের রূহ কবজ করেন। তারপর তিনি তা জবরজদ ও মুক্তার প্রদীপে রাখেন এবং তা বেহেশতের মধ্যে ঝুলিয়ে রাখেন। যখন রাত আসে তাঁদের দেহে রূহ ফিরিয়ে দেয়া হয়। ফজর হওয়া অবধি রূহসমূহ দেহে বিদ্যমান থাকে। অতঃপর প্রভাত হলে তাঁদের রূহসমূহ যেখানে ছিলো সেখানে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
৩। হযরত ইব্রাহীম বিন আবদুল সামাদ মাহদী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ভোর রাতে যারা দুর্গ অতিক্রম করছিলেন তাঁরা আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, আমরা যখন সাবিত বুনানীর কবর অতিক্রম করছিলাম আমরা কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পেলাম।
৪। হযরত ইকরামা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনকে (কবরে) কুরআন দেয়া হবে, তিনি তা পাঠ করবেন।
৫। হযরত আসেম সাকতী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বলখ শহরে একটি কবর খনন করেছি, তার কবরে আমরা একটা ছিদ্র পেলাম। উক্ত কবরে কেবলামুখী একজন বৃদ্ধ বিদ্যমান, তাঁর দেহে সবুজ চাদর, তাঁর চতুষ্পার্শ্বে সবুজের সমারোহ, তাঁর কাছে একটি কুরআন আছে, তিনি তা পাঠ করছেন।
৬। কবর খননকারী হযরত আবূ নদর নিশাপুরী থেকে বর্ণিত। তিনি একজন সৎ খোদাভীরু ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বলেন, আমি একটি কবর খনন করেছি। উক্ত কবরে আর একটি কবর বেরিয়ে এলো। অতঃপর আমি দেখলাম সেখানে সুন্দর পোশাক পরিহিত, সুন্দর চেহরার ও সুগন্ধময় এক যুবক চার জানু হয়ে বসে আছেন। তার কাছে সুন্দর অক্ষরে লিপিবদ্ধ একটি গ্রন্থ আছে। ঐ রূপ সুন্দর অক্ষরে লিখিত গ্রন্থ আমি দেখি নাই। তিনি কুরআন পড়ছেন। যুবকটি আমার দিকে তাকালেন ও বললেন, কেয়ামত কী হয়ে গেল? আমি বললাম, না; তিনি বললেন, ইটটি যথা স্থানে রেখে দাও। আমি তা যথাস্থানে রেখে দিলাম।
৭। সুহায়লী দালায়েলুন নবুয়ত এ জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় তিনি এক স্থানে কবর খনন করলে একটি তাক বেরিয়ে আসলো, সেখানে চৌকির উপর একজন লোক, তাঁর সম্মুখে কুরআন, তিনি তা পড়ছেন। তাঁর সম্মুখে আছে সবুজ উদ্যান। এটা ছিলো ওহুদ প্রান্তর। তিনি জানতে পারেন নিশ্চয় তিনি শহীদ। কেননা তিনি তাঁর চেহরায় ক্ষত স্থান দেখতে পান। এ ঘটনাটি ইবনে হাব্বান তার তাফসীর উল্লেখ করেছেন।
৮। ইয়াফেয়ী روض الرياحين এ জনৈক বুজুর্গ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একজন লোকের কবর খনন করলাম এবং তাঁকে কবর দিলাম এবং তাঁর ইট আমি কবরে সমান করে দিলাম। হঠাৎ পার্শ্বের একটি ইট কবরের অভ্যন্তরে পড়ে গেল। অতঃপর আমি দেখলাম যে একজন বৃদ্ধ কবরে উপবিষ্ট, তাঁর দেহে সাদা পোশাক, তাঁর কোলে আছে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত একটি গ্রন্থ। তিনি তা পড়ছেন। তিনি আমার দিকে মাথা তুলে দেখলেন আর বললেন, কিয়ামত কি হয়ে গেছে? আমি বললাম, না। তিনি বলেন, ইটটি যথাস্থানে রেখে দাও। আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুক। অতঃপর আমি তা যথাস্থানে রাখলাম।
৯। ইয়াফেয়ী আরো বলেন, আমরা নির্ভরযোগ্য কবর-খননকারীদের থেকে বর্ণনা করেছি, নিশ্চয় জনৈক ব্যক্তি একটি কবর খনন করে, তিনি সেখানে চৌকির উপর উপবষ্টি লোক দেখতে পায়। তাঁর হাতে আছে কুরআন, তিনি তা পড়ছেন। তার নিচে একটি নদী প্রবাহিত। এতে কবর-খননকারী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাকে কবর থেকে বের করা হলো। তিনি বেহুশ ছিলেন। অবশেষে তিনি তৃতীয় দিন জ্ঞান ফিরে পান।
টিকাঃ
১. তিরমিযী: আস্ সুনান; বায়হাকী শু'আবুল ঈমান;
১. ইবনে মুন্দাহ:;
২. আবু নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া....১/৩৫৬;
১. ইবনে মুন্দাহ:;
১. ইবনে মুন্দাহ:;
২. সুহাইল: দালায়েলুন নবুয়ত;
১. ইযাফী: বাওযুব বায়্যাহীন: পূর্বোক্ত;
📄 ফেরেশতারা মু‘মিনকে তার কবরে কুরআন শিক্ষা দেওয়ার বর্ণনা
১। হযরত আবূ সায়ীদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন পড়ল অতঃপর মারা গেল অথচ কুরআন সে পূর্ণ আয়ত্বে আনতে পারেনি তার কাছে একজন ফেরেশতা আসবেন তিনি তাকে তার কবরে কুরআন শিক্ষা দেবেন। আল্লাহ তাকে সাক্ষাৎ দেবেন। আর তার কুরআন সম্পূর্ণ আয়ত্ত্বে আসবে।
২। হযরত আতিআল আওফী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস পৌঁছল যে, নিশ্চয় মু'মিন বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার সাক্ষাৎ করবেন অথচ তিনি তার কিতাব শিক্ষা করেন নি, আল্লাহ তাআলা তাঁকে তা কবরে শিক্ষা দেবেন। অবশেষে তাঁকে তাতে সাওয়াব দান করবেন।
৩। হযরত হুসায়ন রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে হাদীস পৌঁছল যে, মু'মিন বান্দা যখন মারা যাবেন অথচ তিনি কুরআন মুখস্ত করেন নি। কুরআন সংরক্ষণকারী ফেরেশতাদের নির্দেশ দেয়া হবে তাঁরা যেন তাঁকে কবরে কুরআন শিক্ষা দেন। অবশেষে আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন কুরআনের সাথে উঠাবেন।
৪। হযরত ইয়াজিদ রুকাশি রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় মু'মিন যদি মৃত্যুবরণ করে অথচ কুরআনের কিছু অংশ শিক্ষা করা থেকে তার বাকী রয়ে গেল, আল্লাহ তার জন্য কিছু ফেরেশতা প্রেরণ করবেন তার যা বাকী ছিল তারা (ফেরেশতারা) তা হেফয করাবেন। অবশেষে তাকে তার কবর থেকে উঠানো হবে।
টিকাঃ
১. আবুল হাসান ইবনে শিবরান: ফাওয়ায়িদ;
২. ইবনে আবুদ দুনিয়া: ইবনে মুন্দাহ:;
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া:;
২. ইবনে আবুদ দুনিয়া:;