📄 মুনকার নকিরের প্রশ্নের সময় মু‘মিনকে যে সুসংবাদ দেয়া হয় তার বর্ণনা
১। হযরত কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, নিশ্চয় বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হবে, তার বন্ধু মহল প্রস্থান করবে এবং সে তাদের জুতোর আওয়াজ শুনবে। তিনি বলেন, তার কাছে দু'জন ফেরেশতা আসবেন। তাঁরা তাকে বসাবেন ও বলবেন, তুমি এ ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলবে? জবাবে মু'মিন বলবেন- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর সম্মানিত বান্দা ও তাঁর রাসূল। তারা বলবেন, জাহান্নামে তোমার ঠিকানা দেখ অথচ আল্লাহ তাআলা উহার বিনিময়ে তোমার জন্য বেহেশতের ঠিকান পরিবর্তন করেছেন। সে উভয়টা দেখবে। কাতাদাহ বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য উল্লেখ করেছেন, নিশ্চয় তার জন্য কবরে সত্তর গজ প্রশস্ত করা হবে এবং তা সবুজে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।
২। হযরত আনস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর হাদীস থেকে অনুরূপ বর্ণিত। তিনি তার শেষে বৃদ্ধি করেন, অতঃপর সে বলবে, তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি আমার পরিবারে গিয়ে এ সুসংবাদ দিই, তাকে বলা হবে তুমি থাম।
৩। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন মৃতকে কবর দেয়া হবে, তার কাছে দুজন কালো ও নীল বর্ণের ফেরেশতা আসবেন। তাঁদের একজনকে মুনকার, অপরজনকে নকির বলা হয়। তাঁরা তাকে বলবেন, তুমি এ ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলতে? সে বলবে, তিনি আল্লাহর সম্মানিত বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর প্রিয় বান্দা ও রাসূল। তাঁরা উভয় বলবেন, আমরা জানতাম যে তুমি এরূপ বলবে। অতঃপর তার কবর ৭০ বর্গগজ প্রশস্ত করা হবে। অতঃপর তার জন্য তেলাওয়াত করবে। সে বলবে, তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও। আমি আমার পরিবারের কাছে প্রত্যাবর্তন করব এবং তাদেরকে অবহিত করব। তাঁরা বলবেন, ঘুমিয়ে পড় বরের মত, তাকে তার প্রিয়জন ব্যতীত কেউ জাগ্রত করবেনা। অবশেষে ঐ শয়নস্থল থেকে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে উঠাবেন।
৪। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ঐ সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন, নিশ্চয় মৃতকে যখন তার কবরে রাখা হবে সে তাদের জুতার ধ্বনি শুনতে পাবে যখন তারা তার থেকে প্রস্থান করবে। যদি সে মু'মিন হয় নামাজ তারা মাথার কাছে আসবে। যাকাত তার ডানে আসবে, রোজা তার বামে আসবে। ভালকর্মসমূহ সদাচরণ, মানুষের প্রতি সদ্ব্যবহার তার পদযুগলের দিকে আসবে। তাকে (ফেরেশতা) তার মাথার দিকে আনা হবে। অতঃপর নামায বলবে, আমার পথে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাকে তার ডান দিকে আনা হবে তখন যাকাত বলবে, আমার দিকে যাওয়ার কোন পথ নেই। অতঃপর তার বাম দিকে আনা হবে তখন রোজা বলবে, আমর দিকে যাওয়ার কোন পথ নেই। তার পদযুগলের দিকে আনা হবে ভালকর্মসমূহ তার সমজাতীয় সদাচরণ ও মানুষের প্রতি সদ্ব্যবহার বলবে, আমার দিকে যাওয়ার কোন পথ নেই। অতঃপর তাকে বলা হবে, তুমি বস, সে বসবে যে অবস্থায় তার কাছে সূর্যকে ডুবন্ত অবস্থায় উপস্থাপন করা হবে। তাকে বলা হবে, আমাদেরকে অবহিত কর যে সম্পর্কে যা আমরা আপনাকে প্রশ্ন করব। সে বলবে, তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি নামাজ পড়ব। তারা বলবেন, তুমি ব্যস্ত, আমরা তোমাকে যে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি তার উত্তর দাও। সে বলবে, কী সম্পর্কে আপনারা আমাকে প্রশ্ন করবেন? তাকে বলা হবে, এ ব্যক্তি সম্পর্কে কি বলছ যিনি তোমাদের মধ্যে ছিলেন? অতঃপর সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর রাসূল, যিনি আমাদের কাছে আমাদের রবের পক্ষ থেকে মু'জিযাসমূহ নিয়ে এসেছেন। আমরা বিশ্বাস করেছি এবং অনুসরণ করেছি। তাকে বলা হবে, তুমি সত্য বলেছ। এর উপর তুমি জীবন-যাপন করেছ, এর উপর তুমি মৃতবরণ করেছ। আল্লাহ তাআলার মর্জি হলে এ বিশ্বাসের উপর তোমাকে উঠানো হবে বিশ্ববাসীদের দলভুক্ত করে। তার জন্য তার কবরে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত উন্মুক্ত করা হবে এবং বলা হবে, তার জন্য দোযখের দরজা খুলে দাও। অতঃপর খুলে দেওয়া হবে এবং তাকে বলা হবে, এটি তোমার স্থান যদি তুমি আল্লাহ তাআলার অবাধ্য করতে, এতে তার ঈর্ষা ও আনন্দ বৃদ্ধি পাবে এবং বলা হবে তার জন্য বেহেশতের দিকে দরজা খুলে দাও। অতঃপর তা খুলে দেয়া হবে এবং তাকে বলা হবে, এটি তোমার স্থান। আল্লাহ তাআলা যা ব্যবস্থা করেছেন সবগুলো তোমার জন্য; এতে তার ঈর্ষা ও আনন্দ বৃদ্ধি পাবে। অতঃপর দেহকে তার মূল মাটির দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে এবং তার রূহকে মৃদু পবিত্র সতেজ বাতাসে রাখা হবে আর তা হলো এমন সবুজ পাখি যাকে বেহেশতের বৃক্ষে ঝুলিয়ে রাখা হবে।
৫। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মৃতকে তার কবরে রাখা হবে তার বিশুদ্ধ কর্মসমূহ আসবে এবং তাকে ঘিরে ফেলবে। যদি তার কাছে ফেরেশতা মাথার দিক থেকে আসে কুরআন তিলাওয়াত আসবে। আর যদি তা তার পদযুগলের দিক থেকে আসে, তবে রাত জাগা ইবাদত আসবে। যদি তা তার উভয় হাতের দিকে থেকে আসে তবে উভয় হাত বলবে, আল্লাহর শপথ! সে দোয়ার জন্য আমাদেরকে প্রসারিত করতো। ছদকা বলবে, তার কাছে তোমাদের কোন পথ নেই। যদি তা তার মুখের দিক দিয়ে আসে তবে তার জিকির ও রোজা আসবে। অনুরূপ নামাজ। বর্ণনাকারী বলেন, ধৈর্য্য একদিকে থাকবে। অতঃপর সে বলবে, আমি যদি কোন ফাক-ফোকর দেখি তা হলে তার সঙ্গী হয়ে যাব। তার পক্ষে তার সৎকর্মসমূহ যুদ্ধ করবে যেভাবে মানুষ তার ভাই, বন্ধু, পরিবার, ছেলেমেয়েদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ করে। ঐ সময় তাকে বলা হবে, তুমি নিদ্রা যাও। আল্লাহ তাআলা যেন তোমার জন্য তোমার শয়নস্থলে বরকত দেন। তোমার অবস্থা কতইনা উত্তম। তোমার বন্ধুরা কতইনা উত্তম বন্ধু।
৬। হযরত আসমা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মানুষ নিজ কবরে প্রবেশ করবে যদি সে মু'মিন হয় তখন তার আমল নামাজ ও রোজা তাকে পরিবেষ্টন করে রাখবে। অতঃপর ফেরেশতা তার কাছে নামাজের দিকে আসবেন নামাজ তাকে প্রতিহত করবে। রোজার দিকে আসলে তা তাকে বিতাড়িত করবে। অতঃপর তার কাছে আসবেন এবং তাকে আহবান করবেন, বস, সে বসবে। তিনি বলবেন, এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কি বলতে? সে বলবে, কোন ব্যক্তি? তিনি মুহাম্মদ। সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তিনি আল্লাহর সম্মানিত রাসূল। তিনি বলবেন, তুমি কিভাবে অবগত হলে? সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় তিনি আল্লাহর রাসূল। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (ফেরেশতা) বলবেন, এ বিশ্বাসের উপর তুমি জীবন যাপন করেছ। এর উপর তুমি মৃতুবরণ করেছ। এর উপর তোমাকে কেয়ামতের দিন উঠানো হবে।
৭। হযরত বাহার বিন নসর আস্-সায়িগ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা জানাযার নামাজের প্রতি অত্যধিক উৎসাহি ছিলেন। তিনি বলেন, হে বৎস! আমি একদিন একটি জানাযায় উপস্থিত হলাম। যখন তারা জানাযা নিয়ে গেলে ও তা দাফন করল দু'জন লোক কবরে অবতরণ করল, অতঃপর একজন বেরিয়ে আসলো অপরজন রয়ে গেল। মানুষেরা মাটি ভরাট করতে লাগল। আমি বললাম, হে সম্প্রদায়! জীবিতকে মৃতের সাথে দাফন করা হচ্ছে। তারা বলল, সেখানে কেউ নেই। আমি বসলাম, সম্ভবত তা আমার জন্য সাদৃশ্যময় হলো। আমি পুনরায় গেলাম ও বললাম, আমি দু'জনই দেখলাম। একজন বেরিয়ে এলো অপরজন রয়ে গেল। আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, আমি স্থান ত্যাগ করব না, যতক্ষণ না আল্লাহ আমি যা দেখিছি তার জট খুলে দেবেন। অতঃপর আমি উক্ত কবরের নিকটে গেলাম এবং দশবার সুরা ইয়াসিন ও তাবারাকাল মুলক পড়লাম ও ক্রন্দন করলাম, অতঃপর বললাম, হে রব! আমি যা দেখেছি তার রহস্য খুলে দিন। আমি আমার বিবেক ও ধর্মের উপর আশংকা করছি। এরপর কবর ফেটে গেল এবং তার থেকে একজন লোক বের হলেন এবং দ্রুত প্রস্থান করতে লাগলেন। আমি বললাম, হে অমুক! তোমার মা'বুদের শপথ, আপনি আমার জন্য অপেক্ষা করবেন আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করব। তিনি আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করল না। তাকে দ্বিতীয়বার ও তৃতীয়বার বললাম। অতঃপর দৃষ্টিপাত করল এবং বললেন, আপনি কি নসর আস্-সায়িগ? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বললেন, আপনি কি আমাকে চেনেন না? আমি বললাম, না। তিনি বললেন! রহমতের ফেরেশতাদের থেকে আমরা দু'জন ফেরেশতা, আমরা আহলে সুন্নাত (সুন্নীদের)'র জন্য নিয়োজিত। যখন তাদের কবরে রাখা হবে আমরা অবতরণ করি। অবশেষে আমরা তাদের তালকীন করি। এই বলে তিনি আমার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।
৮। হযরত শাকীক বলখী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কবরের আলো চাইলাম আর তা রাতের নামাজে পেলাম। মুনকার ও নকিরের উত্তর অন্বেষণ করলাম তা কুরআন তিলাওয়াত পেলাম। পুলসিরাত অতিক্রম তালাশ করলাম তা রোজা ও সদকার মধ্যে পেলাম। কিয়ামতের দিনে ছায়া চাইলাম তা নির্জনতায় পেলাম।
৯। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে সব মুসলমান নর-নারী জুমাবার রাত অথবা দিনে মারা যাবে সে কবর আযাব ও কবরের পরীক্ষা থেকে বাঁচতে পারবে। কোন হিসাব ছাড়াই আল্লাহর সাক্ষ্য লাভ করবে। কেয়ামতের দিন উপস্থিত হবে তার সাথে থাকবে কতগুলো সাক্ষী, যারা তার সাক্ষী দেবেন। অনেক হাদিসে বর্ণিত আছে এবং জ্ঞানীদের অভিমত আছে যে, কতগুলো লোক প্রশ্ন থেকে রক্ষা পাবেন তাঁরা হলেন- শহিদগণ, সিদ্দিকগণ, সীমান্ত পাহারাদার, আনুগত্য লোক, প্রণিধানযোগ্য অভিমত অনুসারে শিশুরাও।
টিকাঃ
১. বোখারী: আস্ সহীহ, ৫/১৬৫; মুসলিম: আস্ সহীহ, ১৪/৩১;
* আহমদ: মসনদ-ই আহমদ, ২৯/৬৯; আবূ দাউদ: আস সুনান, ১২/৩৬৭;
১. তিরমিযী: আস্ সুনান, ৪/২৩৭; বায়হাকী শু'আবুল ঈমান; ইবনে আবুদ দুনিয়া;
১. ইবনে আবু শায়বা: মুসান্নাফ, তারবানী: মু'জামুল আওসাত: ইবনে হব্বান: সহীহ: হাকেম: আল মুসতাদরাক;
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া:; আহমদ: মসনদ, ৫৪/৪১০;
১. আবুল কাশেম আল লালকায়ী: সুন্নাহ;
*. ইয়াফী: রাওযাতুর রাইয়াহীন;
📄 মু‘মিন তার কবরে কষ্ট পাওয়ার বর্ণনা
১। হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, কবর বেহেশতের উদ্যানসমূহের একটি উদ্যান অথবা নরকের কূপসমূহের একটি কূপ।
২। হযরত তিরমিযী হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত।
৩। তাবারানী আওসাত (الأوسط) এর মধ্যে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত।
৪। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয় মানুষ যখন তার জন্মস্থান ছাড়া অন্য কোথাও মারা যায় তার জন্য তার জন্মস্থান থেকে deathস্থান পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেয়া হয়।
৫। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি অধিক দয়াবান হবেন যখন তাকে তার কবরে রাখা হবে।
৬। দায়লামী বর্ণনা করেন, মানুষের জন্য তার কবরে প্রশস্ত করা হবে যেরূপ সে তার পরিবার থেকে দুরবর্তীতে কবরস্থ হয়েছে।
৭। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিন তার কবরে সবুজ বাগানের মধ্যে হবে। তার জন্য কবরে ৭০ (সত্তর) গজ প্রশস্ত করা হবে। তার জন্য তার কবরে পূর্ণিমার রাতের মত আলোকিত করা হবে।
৮। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, আশা করা হচ্ছে আল্লাহ তাআলা বান্দার সাথে হবেন যখন তাকে তার কবরে রাখা হবে।
৯। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যখন আলেম মৃত্যুবরণ করেন আল্লাহ তাআলা তার জন্য তার জ্ঞানকে কবরে আকৃতি সম্পন্ন করবেন। তারপর তিনি তা কেয়ামত অবধি বন্ধুরূপে পরিণত করবেন। অতঃপর তিনি কেয়ামত পর্যন্ত তার বন্ধু হবেন। তার থেকে কীটপতঙ্গ প্রতিহত করবেন।
১০। ইমাম আহমদ 'আয যুহদ' (الرهد) এর মধ্যে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা মূসা আলাইহিস সালামকে ওহী করলেন, তুমি জ্ঞান অর্জন কর এবং তা মানুষকে শিক্ষা দাও। কেননা আমি শিক্ষক ও শিক্ষর্থীদের কবর আলোকিত করব। অবশেষে তারা তাদের কবরে ভয় পাবে না।
১১। হযরত ইবনে কাহিল রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মানুষকে কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকে আল্লাহ তাআলার উপর হক হচ্ছে তাকে কবরে আযাব দেয়া থেকে বিরত থাকা।
১২। ইয়াফেয়ী 'রওযাতুর রায়্যাহীন' (روض الرياحين) এ জনৈক বুজুর্গ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর কাছে আবেদন করেছি তিনি যেন আমাকে কবরবাসীদের অবস্থান দেখান। অতঃপর আমি এক রাত কবরসমূহ প্রত্যক্ষ করলাম যেগুলো ফেটে গেছে। দেখলাম সেখানে কতগুলো লোক চৌকিতে ঘুমন্ত। তাদের মধ্যে কেউ ক্রন্দনরত, আর কেউ হাস্যরত। আমি বললাম, হে আমার রব! আপনি যদি চান মর্যাদাগতভাবে তাঁদের সমান করতে পারেন। তখন কবর থেকে একজন আহবানকারী আহবান করলেন, হে অমুক! এগুলো আমলের স্তর বা মর্যাদা। অতঃপর পাতলা রেশমী কাপড় পরিহিতরা হচ্ছেন সচ্চরিত্রবান। অতঃপর রেশমী কাপড় পরিহিতরা হচ্ছেন শহিদগণ। ফুল শয্যায় শায়িতরা হচ্ছেন রোজাদারগণ। আনন্দ উৎফুল্লগণ হচ্ছেন আল্লাহর জন্য যারা পরস্পর ভালবাসতেন। ক্রন্দনরতরা হচ্ছেন পাপীগণ। ইয়াফেয়ী বলেন, মৃতদেরকে ভাল বা মন্দ অবস্থায় দেখা এক প্রকার কাশফ- যা আল্লাহ প্রকাশ করেন সুসংবাদ প্রদানের জন্য অথবা উপদেশ দেয়ার জন্য অথবা মৃতের কল্যাণের জন্য অথবা তার কোন মঙ্গল করার জন্য অথবা কর্জপরিশোধ করার জন্য অথবা অন্যান্য কারণে। অতঃপর এ দেখাটি কখনো নিদ্রার মধ্যে হয় আর তা প্রায়ই হয়ে থাকে, আবার কখনো চেতন বা জাগ্রত অবস্থায় হয়ে থাকে। আর তা হচ্ছে আউলিয়াদের কারামতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি 'কিফায়াতুল মু'তাকাদ' (كفاية المعتقد) এ বলেন, আমাদেরকে একজন বুজুর্গ আর একজন বুজুর্গের সূত্রে বলেছেন, তিনি কোন কোন সময় তাঁর পিতার কবরে আসতেন এবং তাঁর সাথে আলাপ করতেন।
১৩। হযরত ইয়াহইয়া বিন মু'ঈন থেকে বর্ণিত। আমাকে একজন কবর- খননকারী বলেন, এ কবরস্থানে আশ্চর্য আমি যা দেখেছি তা হলো একটি কবর থেকে আমি রোদন বা বিলাপ শুনেছি রোগগ্রস্তের বিলাপের মত এবং একটি কবর থেকে শুনেছি মুয়াজ্জিন আজান দিচ্ছেন কবরবাসী কবর থেকে তার উত্তর দিচ্ছেন।
টিকাঃ
১. তিরমিযী: আস্ সুনান, ১১/৪০০; বায়হাকী: শু'আবুল ঈমান;
*. বায়হাকী: শুয়াবুল ঈমান; ইবনে আবুদ দুনিয়া: আল মানামাত;
*. তিরমিযী: আস্ সুনান, ৮/৫০০;
*. তাবরানী: মু'জামুল আওসাত, ১৮/৪৩৪;
১. আহমদ: মসনদ-ই আহমদ, ১৩/৪০৭; নাসায়ী: আস্ সুনান, ৬/৩৬৭; ইবনে মাজাহ: আস্ সুনান, ৫/১০২:;
১. ইবনে মুন্দাহ: দায়লামী: আল ফেরদাউস;
*. ইবনে মুন্দাহ: ৩/২০১;
*. দায়লামী: আল ফেরদাউস;
১. দায়লামী: আল ফেরদাউস;
*. আহমদ: আয যুহদ, ১/১৮৩;
৩. ইবনে মুন্দাহ:;
১. ইয়াফী: রওযাতুর রায়্যাহীন; লালকামী: আস্ সুন্নাহ:
📄 মৃতগণ নিজেদের কবরে নামাজ পড়ার বর্ণনা
১। হযরত জুবায়র রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আমি সাবিত আল বুনানীকে তাঁর কবরে প্রবেশ করালাম আমার সাথে হামিদ আততাভীলও ছিলেন। আমরা যখন তাঁর কবরের উপর ইট বিন্যস্ত ও সমান করে দিলাম একটি ইট পড়ে গেল। তাঁকে দেখতে পেলাম তিনি কবরে নামায পড়ছেন। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় বলতেন, হে আল্লাহ! আপনি যদি আপনার কোন সৃষ্টিকে কবরে নামাজ পড়ার সুযোগ দেন তা আমাকে দিন। অতঃপর আল্লাহর শান এ নয় যে, তিনি তাঁর দোয়া প্রত্যাখ্যান করবেন।
টিকাঃ
১. আবু নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া..., ১/৩৫৫
📄 মৃতগণ নিজেদের কবরে কুরআন তিলাওয়াত করার বর্ণনা
১। হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সাহাবী যে-কোন একটি কবরের উপর বসলেন, তিনি জানেন না যে তা কবর। সেখানে একজন লোক সূরা মুল্ক পড়ছেন। অবশেষে তা শেষ করেছেন। অতঃপর তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং তাঁকে এ ব্যাপারে খবর দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তা প্রতিহতকারী এবং তা মুক্তিদাতা, যা তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবে। আবুল কাসেম সাদী کتاب الافصاح এর মধ্যে বর্ণিত। এটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে সত্যায়ন যে মৃত নিজ কবরে কুরআন তিলাওয়াত করেন। কেননা আবদুল্লাহ হুযূরকে উক্ত বিষয়ে অবহিত করেছেন। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সত্যায়ন করেছেন।
২। হযরত তালহা বিন ওবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জঙ্গলে আমার সম্পদের উদ্দেশ্যে বের হলাম। পথিমধ্যে আমার রাত হয়ে গেল। আমি আবদুল্লাহ বিন আমর বিন হিরাম-এর কবরের (পার্শ্বে) আশ্রয় নিলাম। উহার চেয়ে কবর থেকে কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণ করি। তার থেকে সুন্দর তিলাওয়াত আমি ইতোপূর্বে শুনি নাই। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গমন করি, আর এ ঘটনা আমি তাঁর কাছে উল্লেখ করি। অতঃপর তিনি বলেন, হে আবদুল্লাহ! তুমি কি জান না, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাদের রূহ কবজ করেন। তারপর তিনি তা জবরজদ ও মুক্তার প্রদীপে রাখেন এবং তা বেহেশতের মধ্যে ঝুলিয়ে রাখেন। যখন রাত আসে তাঁদের দেহে রূহ ফিরিয়ে দেয়া হয়। ফজর হওয়া অবধি রূহসমূহ দেহে বিদ্যমান থাকে। অতঃপর প্রভাত হলে তাঁদের রূহসমূহ যেখানে ছিলো সেখানে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
৩। হযরত ইব্রাহীম বিন আবদুল সামাদ মাহদী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ভোর রাতে যারা দুর্গ অতিক্রম করছিলেন তাঁরা আমাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, আমরা যখন সাবিত বুনানীর কবর অতিক্রম করছিলাম আমরা কুরআন তিলাওয়াত শুনতে পেলাম।
৪। হযরত ইকরামা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনকে (কবরে) কুরআন দেয়া হবে, তিনি তা পাঠ করবেন।
৫। হযরত আসেম সাকতী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বলখ শহরে একটি কবর খনন করেছি, তার কবরে আমরা একটা ছিদ্র পেলাম। উক্ত কবরে কেবলামুখী একজন বৃদ্ধ বিদ্যমান, তাঁর দেহে সবুজ চাদর, তাঁর চতুষ্পার্শ্বে সবুজের সমারোহ, তাঁর কাছে একটি কুরআন আছে, তিনি তা পাঠ করছেন।
৬। কবর খননকারী হযরত আবূ নদর নিশাপুরী থেকে বর্ণিত। তিনি একজন সৎ খোদাভীরু ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বলেন, আমি একটি কবর খনন করেছি। উক্ত কবরে আর একটি কবর বেরিয়ে এলো। অতঃপর আমি দেখলাম সেখানে সুন্দর পোশাক পরিহিত, সুন্দর চেহরার ও সুগন্ধময় এক যুবক চার জানু হয়ে বসে আছেন। তার কাছে সুন্দর অক্ষরে লিপিবদ্ধ একটি গ্রন্থ আছে। ঐ রূপ সুন্দর অক্ষরে লিখিত গ্রন্থ আমি দেখি নাই। তিনি কুরআন পড়ছেন। যুবকটি আমার দিকে তাকালেন ও বললেন, কেয়ামত কী হয়ে গেল? আমি বললাম, না; তিনি বললেন, ইটটি যথা স্থানে রেখে দাও। আমি তা যথাস্থানে রেখে দিলাম।
৭। সুহায়লী দালায়েলুন নবুয়ত এ জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় তিনি এক স্থানে কবর খনন করলে একটি তাক বেরিয়ে আসলো, সেখানে চৌকির উপর একজন লোক, তাঁর সম্মুখে কুরআন, তিনি তা পড়ছেন। তাঁর সম্মুখে আছে সবুজ উদ্যান। এটা ছিলো ওহুদ প্রান্তর। তিনি জানতে পারেন নিশ্চয় তিনি শহীদ। কেননা তিনি তাঁর চেহরায় ক্ষত স্থান দেখতে পান। এ ঘটনাটি ইবনে হাব্বান তার তাফসীর উল্লেখ করেছেন।
৮। ইয়াফেয়ী روض الرياحين এ জনৈক বুজুর্গ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একজন লোকের কবর খনন করলাম এবং তাঁকে কবর দিলাম এবং তাঁর ইট আমি কবরে সমান করে দিলাম। হঠাৎ পার্শ্বের একটি ইট কবরের অভ্যন্তরে পড়ে গেল। অতঃপর আমি দেখলাম যে একজন বৃদ্ধ কবরে উপবিষ্ট, তাঁর দেহে সাদা পোশাক, তাঁর কোলে আছে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত একটি গ্রন্থ। তিনি তা পড়ছেন। তিনি আমার দিকে মাথা তুলে দেখলেন আর বললেন, কিয়ামত কি হয়ে গেছে? আমি বললাম, না। তিনি বলেন, ইটটি যথাস্থানে রেখে দাও। আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুক। অতঃপর আমি তা যথাস্থানে রাখলাম।
৯। ইয়াফেয়ী আরো বলেন, আমরা নির্ভরযোগ্য কবর-খননকারীদের থেকে বর্ণনা করেছি, নিশ্চয় জনৈক ব্যক্তি একটি কবর খনন করে, তিনি সেখানে চৌকির উপর উপবষ্টি লোক দেখতে পায়। তাঁর হাতে আছে কুরআন, তিনি তা পড়ছেন। তার নিচে একটি নদী প্রবাহিত। এতে কবর-খননকারী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাকে কবর থেকে বের করা হলো। তিনি বেহুশ ছিলেন। অবশেষে তিনি তৃতীয় দিন জ্ঞান ফিরে পান।
টিকাঃ
১. তিরমিযী: আস্ সুনান; বায়হাকী শু'আবুল ঈমান;
১. ইবনে মুন্দাহ:;
২. আবু নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া....১/৩৫৬;
১. ইবনে মুন্দাহ:;
১. ইবনে মুন্দাহ:;
২. সুহাইল: দালায়েলুন নবুয়ত;
১. ইযাফী: বাওযুব বায়্যাহীন: পূর্বোক্ত;