📘 মুমিনের কবর জীবন 📄 মৃতের উপর আসমান ও জমিনের ক্রন্দনের বর্ণনা

📄 মৃতের উপর আসমান ও জমিনের ক্রন্দনের বর্ণনা


১। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, প্রত্যেক মানুষের জন্য আসমানে দুটি দরজা আছে। এক দরজা দিয়ে তার আমল উর্ধ্ব গমন করে এবং অপর দরজা দিয়ে তার রিযিক অবতরণ করে। যখন মু'মিন বান্দা মৃত্যুবরণ করে তখন উভয় দরজা তার জন্য ক্রন্দন করে।

২। হযরত আলী বিন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় মু'মিন যখন মৃত্যুবরণ করে জমিনে তার নামাজের স্থান তার জন্য ক্রন্দন করে এবং আকাশে তার আমল উর্ধ্ব গমনের স্থানও (ক্রন্দন করে)।

৩। হযরত খুরাসানী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে কোন বান্দা জমিনের যে কোন ভূখণ্ডে আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করলে তা (ভূখণ্ড) কিয়ামতের দিন তার জন্য সাক্ষী দেবে এবং যে দিন সে মারা যাবে তার জন্য ক্রন্দন করবে।

৪। হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মু'মিন মারা গেলে তার মৃত্যুর কারণে কবরস্থান সজ্জিত হয়। তার প্রতিটি অংশই আশা করবে তাকে সেখানে দাফন করা হোক।

টিকাঃ
১. তিরমিযী: আস্ সুনান, ১১/৫৪; আবু ইয়ালা ইবনে আবুদ দুনিয়া;
২. ইবনে আবুদ দুনিয়া:;
৩. আবু নাঈম হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/২৫৩;
১. ইবনে আদি: কামিল, ৩/৩০২; ইবনে মুন্দা.... ইবনে আসাফীর: তারিখে দামেশক, ৬৫/২৭৭;

📘 মুমিনের কবর জীবন 📄 মু‘মিনের উপর কবরের আযাব হালকা হওয়ার বর্ণনা

📄 মু‘মিনের উপর কবরের আযাব হালকা হওয়ার বর্ণনা


১। হযরত সায়ীদ বিন মুসায়্যিব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় হযরত আয়শা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা বলেন, এয়া রাসূলাল্লাহ! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চয় আপনি যখন থেকে আমাকে মুনকার ও নাকিরের ধ্বনি ও কবরের আজাবের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তখন থেকে কোন জিনিসই আমার উপকার করছে না। তিনি বলেন, হে আয়শা! মু'মিনদের শ্রবণেন্দ্রিয়ের মধ্যে মুনকার ও নকিরের ধ্বনি চোখে ইসমদ সুরমা দেয়ার মত। মু'মিনের উপর কবর আযাব যেন দয়াময় মায়ের কাছে তার সন্তান মাথা ব্যথার অভিযোগ করছে। অতঃপর সে তার মাথা হালকাভাবে চিবিয়ে দেয়। তবে হে আয়শা! আল্লাহ তাআলাকে নিয়ে যারা সন্দেহ করেছে তাদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য, তাদের কবরে নিধারুণভাবে আযাব দেয়া হবে যেভাবে ডিমের উপর পাথর দিয়ে আঘাত করা।

২। হযরত তাইমী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কথিত আছে যে, কবর আজাবের মূল হচ্ছে নিশ্চয় তা তাদের মূল ভিত্তি। তা থেকে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, দীর্ঘ দিন তারা তা থেকে দূরে ছিলো। যখন তাদের কাছে তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে দেয়া হয় তা তাদের আলিঙ্গন করে, যেভাবে দয়াবান মা তার অনুপস্থিত সন্তানকে আলিঙ্গন করে যখন সে তার কাছে ফিরে আসে। যে আল্লাহ তাআলার অনুগত করল তাকে কোমল ও নরমভাবে আলিঙ্গন করে আর যে আল্লাহ তাআলার অবাধ্য তাকে ভীষণভাবে আলিঙ্গন করবে, তার প্রতি অসন্তুষ্টির কারণে।

টিকাঃ
১. বায়হাকী: শু'আবুল ঈমান; ইবনে মুন্দাহ:;
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া:

📘 মুমিনের কবর জীবন 📄 মু‘মিনকে কবরে সম্ভাষণ দেয়ার বর্ণনা

📄 মু‘মিনকে কবরে সম্ভাষণ দেয়ার বর্ণনা


১। হযরত আবূ সাঈদ খুদ্রী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যখন মু'মিন বান্দাকে দাফন করা হবে তাকে কবর বলবে, স্বাগতম, আহলাল! আমার উপর যারা চলাচল করেছে তাদের মধ্যে তুমি আমার কাছে খুবই প্রিয় ছিলে। আজ আমি তোমার উপর কর্তৃত্ব পেয়েছি তুমি আমার কাছে এসেছ। অচিরেই তোমার প্রতি আমার ব্যবহার তুমি দেখবে। অতঃপর তার জন্য দৃষ্টি সীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেয়া হবে। তার জন্য বেহেশতের দরজা খুলে দেয়া হবে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, কবর বেহেশতের বাগান অথবা জাহান্নামের একটি গর্ত।

টিকাঃ
* তিরমিযী: আস সুনান, ৪/৫০০:

📘 মুমিনের কবর জীবন 📄 মুনকার নকিরের প্রশ্নের সময় মু‘মিনকে যে সুসংবাদ দেয়া হয় তার বর্ণনা

📄 মুনকার নকিরের প্রশ্নের সময় মু‘মিনকে যে সুসংবাদ দেয়া হয় তার বর্ণনা


১। হযরত কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, নিশ্চয় বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হবে, তার বন্ধু মহল প্রস্থান করবে এবং সে তাদের জুতোর আওয়াজ শুনবে। তিনি বলেন, তার কাছে দু'জন ফেরেশতা আসবেন। তাঁরা তাকে বসাবেন ও বলবেন, তুমি এ ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলবে? জবাবে মু'মিন বলবেন- আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর সম্মানিত বান্দা ও তাঁর রাসূল। তারা বলবেন, জাহান্নামে তোমার ঠিকানা দেখ অথচ আল্লাহ তাআলা উহার বিনিময়ে তোমার জন্য বেহেশতের ঠিকান পরিবর্তন করেছেন। সে উভয়টা দেখবে। কাতাদাহ বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য উল্লেখ করেছেন, নিশ্চয় তার জন্য কবরে সত্তর গজ প্রশস্ত করা হবে এবং তা সবুজে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।

২। হযরত আনস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর হাদীস থেকে অনুরূপ বর্ণিত। তিনি তার শেষে বৃদ্ধি করেন, অতঃপর সে বলবে, তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি আমার পরিবারে গিয়ে এ সুসংবাদ দিই, তাকে বলা হবে তুমি থাম।

৩। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন মৃতকে কবর দেয়া হবে, তার কাছে দুজন কালো ও নীল বর্ণের ফেরেশতা আসবেন। তাঁদের একজনকে মুনকার, অপরজনকে নকির বলা হয়। তাঁরা তাকে বলবেন, তুমি এ ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলতে? সে বলবে, তিনি আল্লাহর সম্মানিত বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর প্রিয় বান্দা ও রাসূল। তাঁরা উভয় বলবেন, আমরা জানতাম যে তুমি এরূপ বলবে। অতঃপর তার কবর ৭০ বর্গগজ প্রশস্ত করা হবে। অতঃপর তার জন্য তেলাওয়াত করবে। সে বলবে, তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও। আমি আমার পরিবারের কাছে প্রত্যাবর্তন করব এবং তাদেরকে অবহিত করব। তাঁরা বলবেন, ঘুমিয়ে পড় বরের মত, তাকে তার প্রিয়জন ব্যতীত কেউ জাগ্রত করবেনা। অবশেষে ঐ শয়নস্থল থেকে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে উঠাবেন।

৪। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ঐ সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন, নিশ্চয় মৃতকে যখন তার কবরে রাখা হবে সে তাদের জুতার ধ্বনি শুনতে পাবে যখন তারা তার থেকে প্রস্থান করবে। যদি সে মু'মিন হয় নামাজ তারা মাথার কাছে আসবে। যাকাত তার ডানে আসবে, রোজা তার বামে আসবে। ভালকর্মসমূহ সদাচরণ, মানুষের প্রতি সদ্ব্যবহার তার পদযুগলের দিকে আসবে। তাকে (ফেরেশতা) তার মাথার দিকে আনা হবে। অতঃপর নামায বলবে, আমার পথে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাকে তার ডান দিকে আনা হবে তখন যাকাত বলবে, আমার দিকে যাওয়ার কোন পথ নেই। অতঃপর তার বাম দিকে আনা হবে তখন রোজা বলবে, আমর দিকে যাওয়ার কোন পথ নেই। তার পদযুগলের দিকে আনা হবে ভালকর্মসমূহ তার সমজাতীয় সদাচরণ ও মানুষের প্রতি সদ্ব্যবহার বলবে, আমার দিকে যাওয়ার কোন পথ নেই। অতঃপর তাকে বলা হবে, তুমি বস, সে বসবে যে অবস্থায় তার কাছে সূর্যকে ডুবন্ত অবস্থায় উপস্থাপন করা হবে। তাকে বলা হবে, আমাদেরকে অবহিত কর যে সম্পর্কে যা আমরা আপনাকে প্রশ্ন করব। সে বলবে, তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি নামাজ পড়ব। তারা বলবেন, তুমি ব্যস্ত, আমরা তোমাকে যে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি তার উত্তর দাও। সে বলবে, কী সম্পর্কে আপনারা আমাকে প্রশ্ন করবেন? তাকে বলা হবে, এ ব্যক্তি সম্পর্কে কি বলছ যিনি তোমাদের মধ্যে ছিলেন? অতঃপর সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর রাসূল, যিনি আমাদের কাছে আমাদের রবের পক্ষ থেকে মু'জিযাসমূহ নিয়ে এসেছেন। আমরা বিশ্বাস করেছি এবং অনুসরণ করেছি। তাকে বলা হবে, তুমি সত্য বলেছ। এর উপর তুমি জীবন-যাপন করেছ, এর উপর তুমি মৃতবরণ করেছ। আল্লাহ তাআলার মর্জি হলে এ বিশ্বাসের উপর তোমাকে উঠানো হবে বিশ্ববাসীদের দলভুক্ত করে। তার জন্য তার কবরে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত উন্মুক্ত করা হবে এবং বলা হবে, তার জন্য দোযখের দরজা খুলে দাও। অতঃপর খুলে দেওয়া হবে এবং তাকে বলা হবে, এটি তোমার স্থান যদি তুমি আল্লাহ তাআলার অবাধ্য করতে, এতে তার ঈর্ষা ও আনন্দ বৃদ্ধি পাবে এবং বলা হবে তার জন্য বেহেশতের দিকে দরজা খুলে দাও। অতঃপর তা খুলে দেয়া হবে এবং তাকে বলা হবে, এটি তোমার স্থান। আল্লাহ তাআলা যা ব্যবস্থা করেছেন সবগুলো তোমার জন্য; এতে তার ঈর্ষা ও আনন্দ বৃদ্ধি পাবে। অতঃপর দেহকে তার মূল মাটির দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে এবং তার রূহকে মৃদু পবিত্র সতেজ বাতাসে রাখা হবে আর তা হলো এমন সবুজ পাখি যাকে বেহেশতের বৃক্ষে ঝুলিয়ে রাখা হবে।

৫। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মৃতকে তার কবরে রাখা হবে তার বিশুদ্ধ কর্মসমূহ আসবে এবং তাকে ঘিরে ফেলবে। যদি তার কাছে ফেরেশতা মাথার দিক থেকে আসে কুরআন তিলাওয়াত আসবে। আর যদি তা তার পদযুগলের দিক থেকে আসে, তবে রাত জাগা ইবাদত আসবে। যদি তা তার উভয় হাতের দিকে থেকে আসে তবে উভয় হাত বলবে, আল্লাহর শপথ! সে দোয়ার জন্য আমাদেরকে প্রসারিত করতো। ছদকা বলবে, তার কাছে তোমাদের কোন পথ নেই। যদি তা তার মুখের দিক দিয়ে আসে তবে তার জিকির ও রোজা আসবে। অনুরূপ নামাজ। বর্ণনাকারী বলেন, ধৈর্য্য একদিকে থাকবে। অতঃপর সে বলবে, আমি যদি কোন ফাক-ফোকর দেখি তা হলে তার সঙ্গী হয়ে যাব। তার পক্ষে তার সৎকর্মসমূহ যুদ্ধ করবে যেভাবে মানুষ তার ভাই, বন্ধু, পরিবার, ছেলেমেয়েদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ করে। ঐ সময় তাকে বলা হবে, তুমি নিদ্রা যাও। আল্লাহ তাআলা যেন তোমার জন্য তোমার শয়নস্থলে বরকত দেন। তোমার অবস্থা কতইনা উত্তম। তোমার বন্ধুরা কতইনা উত্তম বন্ধু।

৬। হযরত আসমা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মানুষ নিজ কবরে প্রবেশ করবে যদি সে মু'মিন হয় তখন তার আমল নামাজ ও রোজা তাকে পরিবেষ্টন করে রাখবে। অতঃপর ফেরেশতা তার কাছে নামাজের দিকে আসবেন নামাজ তাকে প্রতিহত করবে। রোজার দিকে আসলে তা তাকে বিতাড়িত করবে। অতঃপর তার কাছে আসবেন এবং তাকে আহবান করবেন, বস, সে বসবে। তিনি বলবেন, এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কি বলতে? সে বলবে, কোন ব্যক্তি? তিনি মুহাম্মদ। সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি তিনি আল্লাহর সম্মানিত রাসূল। তিনি বলবেন, তুমি কিভাবে অবগত হলে? সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয় তিনি আল্লাহর রাসূল। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (ফেরেশতা) বলবেন, এ বিশ্বাসের উপর তুমি জীবন যাপন করেছ। এর উপর তুমি মৃতুবরণ করেছ। এর উপর তোমাকে কেয়ামতের দিন উঠানো হবে।

৭। হযরত বাহার বিন নসর আস্-সায়িগ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা জানাযার নামাজের প্রতি অত্যধিক উৎসাহি ছিলেন। তিনি বলেন, হে বৎস! আমি একদিন একটি জানাযায় উপস্থিত হলাম। যখন তারা জানাযা নিয়ে গেলে ও তা দাফন করল দু'জন লোক কবরে অবতরণ করল, অতঃপর একজন বেরিয়ে আসলো অপরজন রয়ে গেল। মানুষেরা মাটি ভরাট করতে লাগল। আমি বললাম, হে সম্প্রদায়! জীবিতকে মৃতের সাথে দাফন করা হচ্ছে। তারা বলল, সেখানে কেউ নেই। আমি বসলাম, সম্ভবত তা আমার জন্য সাদৃশ্যময় হলো। আমি পুনরায় গেলাম ও বললাম, আমি দু'জনই দেখলাম। একজন বেরিয়ে এলো অপরজন রয়ে গেল। আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, আমি স্থান ত্যাগ করব না, যতক্ষণ না আল্লাহ আমি যা দেখিছি তার জট খুলে দেবেন। অতঃপর আমি উক্ত কবরের নিকটে গেলাম এবং দশবার সুরা ইয়াসিন ও তাবারাকাল মুলক পড়লাম ও ক্রন্দন করলাম, অতঃপর বললাম, হে রব! আমি যা দেখেছি তার রহস্য খুলে দিন। আমি আমার বিবেক ও ধর্মের উপর আশংকা করছি। এরপর কবর ফেটে গেল এবং তার থেকে একজন লোক বের হলেন এবং দ্রুত প্রস্থান করতে লাগলেন। আমি বললাম, হে অমুক! তোমার মা'বুদের শপথ, আপনি আমার জন্য অপেক্ষা করবেন আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করব। তিনি আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করল না। তাকে দ্বিতীয়বার ও তৃতীয়বার বললাম। অতঃপর দৃষ্টিপাত করল এবং বললেন, আপনি কি নসর আস্-সায়িগ? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বললেন, আপনি কি আমাকে চেনেন না? আমি বললাম, না। তিনি বললেন! রহমতের ফেরেশতাদের থেকে আমরা দু'জন ফেরেশতা, আমরা আহলে সুন্নাত (সুন্নীদের)'র জন্য নিয়োজিত। যখন তাদের কবরে রাখা হবে আমরা অবতরণ করি। অবশেষে আমরা তাদের তালকীন করি। এই বলে তিনি আমার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

৮। হযরত শাকীক বলখী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কবরের আলো চাইলাম আর তা রাতের নামাজে পেলাম। মুনকার ও নকিরের উত্তর অন্বেষণ করলাম তা কুরআন তিলাওয়াত পেলাম। পুলসিরাত অতিক্রম তালাশ করলাম তা রোজা ও সদকার মধ্যে পেলাম। কিয়ামতের দিনে ছায়া চাইলাম তা নির্জনতায় পেলাম।

৯। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে সব মুসলমান নর-নারী জুমাবার রাত অথবা দিনে মারা যাবে সে কবর আযাব ও কবরের পরীক্ষা থেকে বাঁচতে পারবে। কোন হিসাব ছাড়াই আল্লাহর সাক্ষ্য লাভ করবে। কেয়ামতের দিন উপস্থিত হবে তার সাথে থাকবে কতগুলো সাক্ষী, যারা তার সাক্ষী দেবেন। অনেক হাদিসে বর্ণিত আছে এবং জ্ঞানীদের অভিমত আছে যে, কতগুলো লোক প্রশ্ন থেকে রক্ষা পাবেন তাঁরা হলেন- শহিদগণ, সিদ্দিকগণ, সীমান্ত পাহারাদার, আনুগত্য লোক, প্রণিধানযোগ্য অভিমত অনুসারে শিশুরাও।

টিকাঃ
১. বোখারী: আস্ সহীহ, ৫/১৬৫; মুসলিম: আস্ সহীহ, ১৪/৩১;
* আহমদ: মসনদ-ই আহমদ, ২৯/৬৯; আবূ দাউদ: আস সুনান, ১২/৩৬৭;
১. তিরমিযী: আস্ সুনান, ৪/২৩৭; বায়হাকী শু'আবুল ঈমান; ইবনে আবুদ দুনিয়া;
১. ইবনে আবু শায়বা: মুসান্নাফ, তারবানী: মু'জামুল আওসাত: ইবনে হব্বান: সহীহ: হাকেম: আল মুসতাদরাক;
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া:; আহমদ: মসনদ, ৫৪/৪১০;
১. আবুল কাশেম আল লালকায়ী: সুন্নাহ;
*. ইয়াফী: রাওযাতুর রাইয়াহীন;

ফন্ট সাইজ
15px
17px