📘 মুমিনের কবর জীবন 📄 মৃতের রূহ বের হলে অন্যান্য মৃত রূহ তার সাথে সাক্ষাৎ করা, একত্রিত হওয়া ও জানতে চাওয়া

📄 মৃতের রূহ বের হলে অন্যান্য মৃত রূহ তার সাথে সাক্ষাৎ করা, একত্রিত হওয়া ও জানতে চাওয়া


১। হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মু'মিনের আত্মা যখন কবজ করা হয় আল্লাহর বান্দাদের থেকে রহমতপ্রাপ্তরা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন যেভাবে তারা দুনিয়ার সুসংবাদ প্রদানকারীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এবং তাঁরা বলেন, তোমাদের বন্ধুকে দেখ বিশ্রাম নিচ্ছেন। কেননা তিনি ভীষণ বিপদে ছিলেন। অতঃপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, অমুক কী করেছে? অমুক মহিলা বিবাহ করেছে?

২। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় মু'মিনের মৃত্যু আসলে এবং যা প্রত্যক্ষ করার তা প্রত্যক্ষ করলে তিনি চাইবেন তার রূহ বের হয়ে যাক। এবং আল্লাহ তাআলা তার সাক্ষাৎ ভালবাসেন আর মু'মিনের আত্মা আকাশে আরোহন করেন। অতঃপর তার কাছে মু'মিনদের আত্মাসমূহ আগমন করেন তারা তার কাছে দুনিয়ায় তাদের পরিচিতজনদের বিষয়ে অবহিত হতে চাইবেন।

৩। হযরত আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুজন মু'মিনের রূহ একদিনের পথ অতিক্রম করে পরস্পর মিলিত হন অথচ তাদের একজন অন্যজনকে কখনো দেখেন নি।

৪। হযরত ইবনে লবিবা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন বশর বিন বারা বিন মারূফ মারা যান তার মা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন ও বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বনি সালমা গোত্রের কোন না কোন লোক সর্বদা ওফাত লাভ করছেন। তিনি কী মৃতদের চিনছেন? যাতে আমি বশরের কাছে সালাম পাঠাতে পারি? তিনি বলেন, হ্যা, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, নিশ্চয় তাঁরা পরস্পর চিনছেন যেভাবে বৃক্ষের উপর পাখিরা পরস্পর চিনে। বনি-সালমার কোন লোক মারা গেলেই বশরের মা তার কাছে আসতেন ও বলতেন, হে অমুক! তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তিনি বলেন, তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর তিনি বলেন, বশরকে সালাম জানাবেন।

৫। হযরত সায়ীদ বিন জুবায়র রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন মানুষ মারা গেলে তার সন্তান তাকে শুভেচ্ছা স্বাগতম জানায় যেভাবে অনুপস্থিত ব্যক্তিকে স্বাগতম জানানো হয়।

৬। হযরত সাবিতুল বুনানী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস পৌছলো যে, কোন মানুষ মারা গেলে তাঁর পরিবার-পরিজন ও নিকটস্থ আত্মীয় যাঁরা তাঁর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে ঘিরে ফেলেন, তাঁরা তাকে পেয়ে পরম আনন্দিত হন এবং তিনিও তাঁদের পেয়ে খুব বেশী খুশি হন যেভাবে মুসাফির তার আপনজনের কাছে আসলে আনন্দিত হন।

টিকাঃ
১. তাবরানী: মু'জামুল আওসাত, ১/১৫১;
২. বযযার; আলুসী: তাফসীর-ই আলুসী, ১১/৮০;
১. আহমদ মসনদ-ই আহমদ,
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া: আল মুনামাত, ১/২১;
১. ইবনে আবুদ্ দুনিয়া: আল মুনামাত, ১/২২
২. ইবনে আবুদ্ দুনিয়া:

📘 মুমিনের কবর জীবন 📄 মৃত ব্যক্তি চিনে যে তাকে গোসল দেয় ও কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করে

📄 মৃত ব্যক্তি চিনে যে তাকে গোসল দেয় ও কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করে


১। হযরত আবূ সায়ীদ খুদুরী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মৃত ব্যক্তি চিনে যে তাকে গোসল দেয়, বহন করে, তাকে দাফন করে এবং যে তাকে কবরে প্রবেশ করান।

২। হযরত আমর বিন দিনার রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে কোন ব্যক্তি মারা গেলে তার রূহ একজন ফেরেশতার হাতে থাকে সে তার দেহের প্রতি দৃষ্টি দেয় কীভাবে তাকে গোসল দেয়া হচ্ছে, কীভাবে তাকে কাফন পড়ানো হচ্ছে, কীভাবে তাকে নিয়ে চলছে। আর যখন সে খাটের উপর থাকে তখন বলা হয়, শুন লোকেরা তোমার প্রশংসা করছে।

৩। হযরত সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় মৃতব্যক্তি প্রত্যেক জিনিস চিনেন, এমন কি তিনি গোসলদাতাকে আল্লাহর নামে শপথ দিয়ে বলেন, কেন তুমি আমার গোসল প্রদানে হালকা করেছ? বর্ণনাকারী বলেন এবং তাকে বলা হবে যে অবস্থায় তিনি খাটের উপর, তোমার ব্যাপারে মানুষের প্রশংসা শুন।

৪। হযরত বকর মুজানী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে হাদিস বলা হয়েছে যে, নিশ্চয় মৃত ব্যক্তি আনন্দ লাভ করে তাকে তড়িঘড়ি কবরে নিয়ে গেলে।

৫। হযরত আইয়ুব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তির পরিবারে তার মর্যাদা হলো, তাকে তার কবরে তাড়াতাড়ি নিয়ে যাওয়া।

টিকাঃ
১. আহমদ: মসনদ, ২২/১১৯; তাবরানী : মু'জামুল আওসাত, ১৬/২২৭; ইবনে আবুদ্ দুনিয়া: আল মুনামাত, ১/১০; ইবনে মুন্দাহ:;
২. আবু নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া..., ২/৫৪;
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া: আল ইখওয়ান, ১/১৪০
২. ইবনে আবুদ দুনিয়া:
৩. ইবনে আবুদ দুনিয়া:

📘 মুমিনের কবর জীবন 📄 মৃতের উপর আসমান ও জমিনের ক্রন্দনের বর্ণনা

📄 মৃতের উপর আসমান ও জমিনের ক্রন্দনের বর্ণনা


১। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, প্রত্যেক মানুষের জন্য আসমানে দুটি দরজা আছে। এক দরজা দিয়ে তার আমল উর্ধ্ব গমন করে এবং অপর দরজা দিয়ে তার রিযিক অবতরণ করে। যখন মু'মিন বান্দা মৃত্যুবরণ করে তখন উভয় দরজা তার জন্য ক্রন্দন করে।

২। হযরত আলী বিন আবূ তালিব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় মু'মিন যখন মৃত্যুবরণ করে জমিনে তার নামাজের স্থান তার জন্য ক্রন্দন করে এবং আকাশে তার আমল উর্ধ্ব গমনের স্থানও (ক্রন্দন করে)।

৩। হযরত খুরাসানী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে কোন বান্দা জমিনের যে কোন ভূখণ্ডে আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করলে তা (ভূখণ্ড) কিয়ামতের দিন তার জন্য সাক্ষী দেবে এবং যে দিন সে মারা যাবে তার জন্য ক্রন্দন করবে।

৪। হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মু'মিন মারা গেলে তার মৃত্যুর কারণে কবরস্থান সজ্জিত হয়। তার প্রতিটি অংশই আশা করবে তাকে সেখানে দাফন করা হোক।

টিকাঃ
১. তিরমিযী: আস্ সুনান, ১১/৫৪; আবু ইয়ালা ইবনে আবুদ দুনিয়া;
২. ইবনে আবুদ দুনিয়া:;
৩. আবু নাঈম হিলইয়াতুল আউলিয়া, ২/২৫৩;
১. ইবনে আদি: কামিল, ৩/৩০২; ইবনে মুন্দা.... ইবনে আসাফীর: তারিখে দামেশক, ৬৫/২৭৭;

📘 মুমিনের কবর জীবন 📄 মু‘মিনের উপর কবরের আযাব হালকা হওয়ার বর্ণনা

📄 মু‘মিনের উপর কবরের আযাব হালকা হওয়ার বর্ণনা


১। হযরত সায়ীদ বিন মুসায়্যিব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় হযরত আয়শা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা বলেন, এয়া রাসূলাল্লাহ! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিশ্চয় আপনি যখন থেকে আমাকে মুনকার ও নাকিরের ধ্বনি ও কবরের আজাবের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তখন থেকে কোন জিনিসই আমার উপকার করছে না। তিনি বলেন, হে আয়শা! মু'মিনদের শ্রবণেন্দ্রিয়ের মধ্যে মুনকার ও নকিরের ধ্বনি চোখে ইসমদ সুরমা দেয়ার মত। মু'মিনের উপর কবর আযাব যেন দয়াময় মায়ের কাছে তার সন্তান মাথা ব্যথার অভিযোগ করছে। অতঃপর সে তার মাথা হালকাভাবে চিবিয়ে দেয়। তবে হে আয়শা! আল্লাহ তাআলাকে নিয়ে যারা সন্দেহ করেছে তাদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য, তাদের কবরে নিধারুণভাবে আযাব দেয়া হবে যেভাবে ডিমের উপর পাথর দিয়ে আঘাত করা।

২। হযরত তাইমী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কথিত আছে যে, কবর আজাবের মূল হচ্ছে নিশ্চয় তা তাদের মূল ভিত্তি। তা থেকে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে, দীর্ঘ দিন তারা তা থেকে দূরে ছিলো। যখন তাদের কাছে তাদের সন্তানদের ফিরিয়ে দেয়া হয় তা তাদের আলিঙ্গন করে, যেভাবে দয়াবান মা তার অনুপস্থিত সন্তানকে আলিঙ্গন করে যখন সে তার কাছে ফিরে আসে। যে আল্লাহ তাআলার অনুগত করল তাকে কোমল ও নরমভাবে আলিঙ্গন করে আর যে আল্লাহ তাআলার অবাধ্য তাকে ভীষণভাবে আলিঙ্গন করবে, তার প্রতি অসন্তুষ্টির কারণে।

টিকাঃ
১. বায়হাকী: শু'আবুল ঈমান; ইবনে মুন্দাহ:;
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া:

ফন্ট সাইজ
15px
17px