📄 মৃত্যুর ফজিলাত এবং তা জীবন থেকে উত্তম
১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মু'মিনের উপঢৌকন হচ্ছে মৃত্যু।
২. হযরত হুসায়ন বিন আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মৃত্যু মু'মিনের ফুল।
৩. হযরত আয়শা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মৃত্যু মু'মিনের গণিমত (দূর্লভ বস্তু)।
৪. হযরত মাহমুদ বিন লবিদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আদম সন্তান মৃত্যুকে অপছন্দ করেন অথচ তাঁর জন্য মৃত্যু ফিতনা থেকে উত্তম।
৫. হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন- দুনিয়া মু'মিনের জেলখানা ও রীতিনীতি, যখন সে দুনিয়া ত্যাগ করে তখন সে কারাগার ও রীতিনীতি ত্যাগ করে।
৬. হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুনিয়া কাফেরের স্বর্গ এবং মু'মিনের কারাগার। নিশ্চয়ই মু'মিনের উপমা যখন তাঁর প্রাণ বের করা হয় কারাগারে আটক ব্যক্তির মত, যাকে তা থেকে মুক্ত করা হয়েছে। অতঃপর সে জমিনে বিচরণ করছে ও স্বাচ্ছন্দ অবস্থান করছে।
৭. হযরত আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুনিয়া মু'মিনের কারাগার, যখন সে মারা যাবে তার রাস্তা উন্মুক্ত করা হবে, যেখানে ইচ্ছা বিচরণ করবে।
৮. হযরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত্যু প্রত্যেক মুসলমানের উপয়ৌকন।
৯. হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মৃত্যু প্রত্যেক মুসলমানের কাফফারা।
১০. হযরত রবি বিন খাসিম রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিন যে সব অনুপস্থিত বিষয়ের জন্য অপেক্ষা করে তা মৃত্যু থেকে উত্তম নয়।
১১. হযরত মালেক বিন মিগওয়াল রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনের প্রথম আনন্দ মৃত্যু; কেননা সে আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত সম্মান ও পুণ্য দেখতে পান।
১২. হযরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনের জন্য আল্লাহ তাআলার সাক্ষাৎ ব্যতীত কোন আনন্দ নেই।
১৩. হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক মু'মিনের জন্য মৃত্যু উত্তম। প্রত্যেক কাফেরের জন্য মৃত্যু মন্দ। যে আমাকে বিশ্বাস করবেনা তাহলে আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহর কাছে যা যা আছে তা সৎ-লোকদের জন্য উত্তম। আর কাফিরগণ যেন মনে না করে আমি তাদের যে অবকাশ দিচ্ছি তা তাদের জন্য উত্তম।
১৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক নেক্কার এবং বদকারের জন্য মৃত্যু জীবন থেকে উত্তম। যদি সে নেক্কার হয় তাহলে আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহর কাছে যা আছে তা সৎ-লোকদের জন্য মঙ্গল। যদি সে বদকার হয় তাহলে আল্লাহ তাআলা বলেন, কাফেরেরা যেন মনে না করে আমি তাদের যে অবকাশ দিচ্ছি তা তাদের জন্য মঙ্গলময়; তবে আমি তাদের অবকাশ দিচ্ছি তাদের পাপ বৃদ্ধি করার জন্য এবং তাদের জন্য রয়েছে অপমানকর শাস্তি।
১৫. হযরত আবূ মালিক আশয়ারী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আল্লাহ! মৃত্যুকে পছন্দময় করুন ঐ ব্যক্তির কাছে, যে বিশ্বাস করে আমি আপনার রাসূল।
১৬. হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় নবী করীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন, যদি তুমি আমার অসিয়ত স্মরণ রাখ তাহলে মৃত্যুর চাইতে অধিক প্রিয় তোমার কাছে কোন জিনিস হবেনা।
১৭. হযরত আবূ দারদা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে সালামের চাইতে প্রিয় কোন হাদিয়া কোন ভাই প্রেরণ করে না। বান্দার পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর চেয়ে প্রিয় কোন খবর আমার কাছে পৌছে না।
১৮. হযরত ওবাদা বিন সামিত রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার বন্ধুর মৃত্যু তাড়াতাড়ি হওয়া কামনা করি।
১৯. হযরত মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ তায়মী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল আলা তায়মীকে বলা হলো, তুমি নিজের জন্য এবং তোমার পরিবারের প্রিয়জনের জন্য কি কামনা কর? তিনি বলেন, মৃত্যু!
২০. হযরত ইবনে ওবাইদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি মাকহুলকে বলেছেন, তুমি কি বেহেশত ভালবাস? তিনি বলেন, কে বেহেশত ভালবাসে না? তিনি বলেন, তাহলে তুমি মৃত্যুকে ভালবাসো। কেননা তুমি মৃত্যুবরণ করা ছাড়া কখনো বেহেশত দেখবে না।
২১. হযরত হাব্বান ইবনুল আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত্যু একটি সেতু যা বন্ধুকে বন্ধুর কাছে পৌছিয়ে দেয়।
২২. হযরত মাসরুক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনের জন্য কবরের চাইতে মঙ্গলজনক কোন কিছু নেই। অতএব যাকে কবর দেয়া হলো সে দুনিয়ার দুশ্চিন্তা থেকে পরিত্রাণ পেল এবং আল্লাহ তাআলার আযাব থেকে নিরাপত্তা লাভ করল।
২৩। হযরত তাউস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষের ধর্মকে রক্ষা করতে পারে না কিন্তু তার কবরই (রক্ষা করতে পারে)।
২৪। হযরত আতিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষের সবচাইতে বড় নিয়ামত হলো কবরস্থ দেহ, যা আযাব থেকে নিরাপদে রয়েছে।
২৫। হযরত সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত্যুকে বলা হতো ইবাদতকারীদের প্রশান্তি।
২৬। হযরত রবিয়া বিন জুহাইর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুফিয়ান সওরীকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, আপনি কেন মৃত্যু কামনা করছেন? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে বারণ করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে যদি আমার রব জিজ্ঞাসা করেন আমি বলব আপনার উপর আমার নির্ভরতার কারণে ও মানুষের ভয়ের কারণে (মৃত্যু কামনা করছি)। মনে হয় আমি একজনের বিরোধিতা করছি। আমি বললাম, ভাল। তিনি বললেন, মন্দ। আমি আশংকা করছি তিনি আমার রক্তপাত করবেন। খাতাবী বলেন, আমাদের এক বন্ধু মনসুর বিন ইসমাঈল আমাদের কবিতা আবৃতি করে শুনালেন, আমি বলেছি, যখন তারা জীবনের প্রশংসা তখন তোমরা অধিক পরিমাণে মৃত্যুকে স্মরণ করো। মৃত্যুর মধ্যে আছে অচেনা হাজার ফযিলত। তন্মধ্যে মৃত্যুবব্যক্তির জন্য মৃত্যুতে নিরাপত্তা আছে, প্রত্যেক সমাজকে অবর্ণনীয়ভাবে বিদায় দেয়া। খাতাবী বলেন, মানুষেরা জীবনের জন্য বিলাপ করছে অথচ মৃত্যু কামনায় আমার অশ্রুজল শেষ হয়ে গেছে। আমি মৃত্যুবরণ করব, যুগ আমাকে পরাস্ত করার পূর্বে। আমি সতর্ক, মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করব। মৃত্যু সংকীর্ণ জগত থেকে বিশাল জগতে প্রস্থান করার নাম। জ্ঞানীরা বলেন, মৃত্যু অস্তিত্বহীন হওয়া নয়, কেবলমাত্র নশ্বর নয় রবং তা হচ্ছে দেহ থেকে রূহের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, দেহ ও রূহের মধ্যে ব্যবধান ও অন্ত রায় সৃষ্টি হওয়া, অবস্থার পরিবর্তন হওয়া, এক জগত থেকে অন্য জগতে স্থানান্তর হওয়ার নাম।
টিকাঃ
১. ইবনুল মুবারক: আয যুহদ; ইবনে আবু দরদা: যিকরুল মাওত; তাবরনী: আল মু'জামুল কাবীর; হাকিম: আল মুসতাদরাক, ১৮/২৭২; (বায়হাকী: সুয়াবুল ঈমান, ২০/৩৫৩)
*. দায়লামী: মাসনাদুল ফিরদাওস; কাশফুল খিফা: ১/২৯৭; হিন্দী: কানযুল উম্মাল, ১৫/৫১১; আহমদ ইবনে হম্বল: মুসনাদে আহমদ, ৪৮/১১৯; সাঈদ ইবনে মনসুর: আস্ সুনান;
১. ইবনুল মুবারক: আয যুহদ, ২/১২০; তাবরানী আল মু'জামুল কবীর, ১৯/৪৬৯; ইবনুল মুবারক: আয যুহদ, ২/১১৯; ইবনে আবূ শায়বা: আল মুসান্নাফ, ৮/১৮৯;
*. ইবনে আবু শায়বা: আল মুসান্নাফ, ৮/১৫৮; তাবরানী: আল মু'জামুল কবীর, ৮/৬৫;
* আবু নাঈম হিলইয়াতুল আউলিয়া..., ১/৪৪৫; ইবনুল মুবারক: আয যুহদ, ১/২৮৮; ইবনে আবূ শায়বা: আল মুসান্নাফ, ৮/২০৭; ইবনুল মুবারক: আয যুহদ, ২/১২১;
*. আহমদ ইবনে হাম্বল: আয যুহদ, ২/৩৮২; আবদুল্লাহ ইবনে মোবারক: আয যুহদ; ৬/১১৭;
১. সাঈদ বিন মনসুর: আস সুনান, ২/১৫৫। ইবনে জারীর তাবারী, ৭/৪৯৬; আবদুর রাযযাক: তাফসীরুল কুরআন, ১/৪৯৫; ইবনে আবূ শায়বা: আল মুসান্নাফ, ৮/১৬৬: তাবরানী: মু'জামুল কবীর, ৮/৬২: হাকীম: আল মুসতাদরাক;
* তাবরানী: আল মু'জামুল কবীর, ৩/৪৭৮;
১. ইস্পাহানী: আত্ তারগীব; তাবরানী: মু'জামুস সগীর, ২/৪৯৭; আহমদ ইবনে হাম্বল: আয যুহদ, ২/২৮৬; ইবনে আব্দ দুনিয়া; ইবনে আবূ শায়বা: আল মুসান্নাফ, ৮/২০২; ইবনে আবূদ দুনইয়া: ইসলাহুল মাল, ১/৪৩;
১. আবু নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া.... ২/৩৪৩;
২. আবু নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া.... আবদুর রাজ্জাক তাজুল 'আরুস, ১/২৬১৬: কুনুযী: আবযাদুল উলুম ৩/২৬৬; ইবনে আবূ শায়বা: আল মুসান্নাফ, ৮/২১১; আবু নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া.... ১/২৪৭; ইবনে আবূ শায়বা: আল মুসান্নাফ, ৮/২৭২: ইবনুল মুবারক: আয যুহদ, ১/২৯০;
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া: আল মুহতাদিরীন, ১/১৫৩;
১. খাতাবী: আল গাযালাহ; ইবনে 'আদীদ: বাহারুল মাদীদ, ৬/৩১৯;
📄 সংকীর্ণ ঘর থেকে প্রশস্ত ঘরে পদার্পণ
১। হযরত বেলাল বিন সা'দ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় তিনি বলেন, তোমাদেরকে ধ্বংসের জন্য সৃষ্টি করা হয় নাই, নিশ্চয় তোমাদেরকে স্থায়ী ও চিরদিনের জন্য সৃজন করা হয়েছে। তবে তোমাদেরকে এক ঘর থেকে অন্য ঘরের দিকে স্থানান্তর করা হবে। ইবনে কাসেম বলেন, আত্মার চারটি স্তর বা ঘর আছে। প্রত্যেক ঘর তার পূর্ববর্তী ঘর থেকে বড়। প্রথমত: মায়ের উদর, তা হলো সংকীর্ণতা, সীমাবদ্ধতা, দুশ্চিন্তা এ তিনটি অন্ধকারের ঘর। দ্বিতীয়ত: ঐ ঘর যা তুমি তৈরী করেছ তাতে তুমি ভাল-মন্দ কর্ম করেছ। তৃতীয়ত: বরজখের ঘর। তা এ ঘর থেকে প্রশস্ত ও বড়, দুনিয়ার সাথে বরজখের তুলনা হলো দুনিয়ার সাথে মার পেটের তুলনার মত। চতুর্থত: প্রশান্তি ঘর অর্থাৎ বেহেশত অথবা জাহান্নাম। এ ঘরসমূহ থেকে প্রত্যেক ঘরের জন্য আত্মার পৃথক ও স্বতন্ত্র কর্ম ও অবস্থা রয়েছে।
২। হযরত সুলায়মা বিন আমের আল হুব্বারী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, নিশ্চয় মু'মিনের দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে মায়ের পেটের গর্ভস্থিত সন্তানের মত। যখন সে তার মায়ের পেট থেকে বের হয় তখন বের হওয়ার কারণে ক্রন্দন করে; অবশেষে সে যখন আলো দেখে দুধ পান করে সে তার স্থানে প্রত্যাবর্তন করতে চায়না। অনুরূপ মু'মিন মৃত্যুকে ভয় করে আর যখন সে তার রবের কাছে চলে যায় সে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করতে চায় না। যেভাবে গর্ভস্থিত সন্তান তার মায়ের গর্ভে ফিরতে চায় না।
৩। হযরত আমর বিন দীনার রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে, নিশ্চয় জনৈক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ঐ ব্যক্তি দুনিয়া থেকে চলে গেছে। যদি সে সন্তুষ্ট হয় তাহলে দুনিয়াতে ফিরে আসা তাকে আনন্দ দেবেনা যেভাবে তোমাদের কেউ মায়ের পেটে ফিরে যাওয়াতে আনন্দিত করে না।
৪। হযরত আনস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, আদম-সন্তানের দুনিয়া থেকে বের হওয়া (মৃত্যুবরণ করা) কে তুলনা করা হয়েছে শিশু তার মায়ের পেট থেকে বের হওয়ার সাথে। (শিশু) চিন্তা ও অন্ধকার থেকে দুনিয়ার সৌন্দর্যের দিকে বের হয়।
৫। হযরত ওবাদা বিন সামিত রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, জমিনের উপর যে আত্মা মৃত্যুবরণ করে তার জন্য আল্লাহর কাছে মঙ্গল রয়েছে সে তোমাদের কাছে প্রত্যাবর্তন করতে চাইবেনা অথচ দুনিয়াতে তার অনেক ধন-সম্পদ রয়েছে।
টিকাঃ
১. ইবনে আবূ শায়বা: আল মুসান্নাফ; ইবনে আবিদ দুনিয়া: মারাসিল;
২. ইবনে আবিদ দুনিয়া: মারাসিল;
১. হাকীম তিরমিযী: নাওয়াদিরুল উসূল;
২. নাসায়ী: আস্ সুনান, ১০/২২৩
📄 জান কবজের সময় মুমিন যে সম্মান লাভ করেন
১. হযরত বারা বিন আজিব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয় মু'মিন বান্দা দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পরকালে গমনের সময় খুব শুভ্র চেহারার কতগুলো ফেরেশতা তার কাছে অবতরণ করেন। মনে হয় তাঁদের চেহারা যেন সূর্য। তাঁদের সাথে বেহেশতী কাফন ও বেহেশতী সুগন্ধি থাকে। অবশেষে তাঁরা তার কাছে দৃষ্টিসীমা বিস্তৃত হয়ে বসে। অতঃপর মালাকুল মাউত আসবেন তিনি তার মাথার নিকট বসবেন ও বলবেন, হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার রবের ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে এসো। অতঃপর সে বেরিয়ে আসবে যেভাবে কলসী থেকে পানি বেরিয়ে আসে। যদিও তোমরা তার বিপরীত দেখতে পাও। তাঁরা তাকে বের করে আনবেন। যখন তাঁরা তাকে বের করে আনেন তা তাঁর হাতে এক মুহূর্তের জন্য রাখবেন না। তাঁরা তাকে উক্ত কাফন ও সুগন্ধিতে রাখবেন। তার থেকে জমিনের উপর মিশকের চাইতে উন্নত মানের সুঘ্রাণ বের হবে। অতঃপর তাঁরা তাকে নিয়ে ঊর্ধ্বে গমন করবেন। তাঁরা যখনই ফেরেশতাদের অতিক্রম করবেন, তাঁরা বলবেন, এ পবিত্র রূহ কার? তাঁরা বলবেন, অমুকের ছেলে অমুক। দুনিয়াতে তার যে উত্তম নাম দিয়ে তাঁরা তাকে ডাকতো, তা বলবেন। অবশেষে তাঁরা তাকে একের পর এক প্রত্যেক আসমানে নিয়ে যাবেন। সর্বশেষে সে সপ্তম আসমানে পৌছবে তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তোমরা তার আমলনামা ইল্লীয়িনে লিখে রাখ। তাকে জমিনে পুনরায় নিয়ে যাও। এরপর তার দেহে রূহ ফিরিয়ে আনা হবে। অনন্তর তার কাছে দুজন ফেরেশতা আসবেন তারা তাকে বসাবেন ও তাকে বলবেন, তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কি? সে বলবে, আল্লাহ আমার রব, ইসলাম আমার দ্বীন। অতঃপর তাঁরা তাকে বলবেন? ইনি কে যাঁকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে? সে বলবে! তিনি আল্লাহর রাসূল। তাঁরা পুনরায় তাকে বলবেন, তুমি কিভাবে অবগত হয়েছ? সে বলবে, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি। তার প্রতি ঈমান এনেছি, তা বিশ্বাস করেছি। অতঃপর আকাশ থেকে একজন আহবানকারী আহবান করবেন, আমার বান্দা সত্য বলেছেন, তার জন্য বেহেশতের বিছানা বিছিয়ে দাও। তাকে বেহেশতের পোশাক পরিয়ে দাও। তার জন্য বেহেশতের দিকে দরজা খুলে দাও। অতঃপর তার কাছে তা (বেহেশত) থেকে সুঘ্রাণ আসবে। তার কবর দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করে দেয়া হবে। তার কাছে সুন্দর পোশাক পরিহিত সুগন্ধময় একজন লোক আসবে, সে তাকে বলবে, আমি তোমার আনন্দ বার্তার সুসংবাদ দিচ্ছি। এটি ঐ দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাকে দেয়া হতো। সে তাকে বলবে, তুমি কে, তুমি মঙ্গল নিয়ে এসেছ? সে বলবে, আমি তোমার সৎকর্ম। সে বলবে, হে রব! কেয়ামত কায়েম করুন। রব কেয়ামত কায়েম করুন!! যাতে আমি আমার পরিবার ও সম্পদের কাছে প্রত্যাবর্তন করতে পারি।
২। হযরত ইবনে আবিদ দুনিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত। নিশ্চয় মু'মিনের মৃত্যু উপস্থিত হলে এবং আল্লাহ তার জন্য যা ব্যবস্থা ও তৈরী করে রেখেছেন তা দেখলে তার আত্মা বের হয়ে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে থাকবে সেখানে সে আল্লাহর সাথে সহসা মিলতে চান এবং আল্লাহও তার সাথে মিলতে চান। নিশ্চয় কাফেরের মৃত্যু উপস্থিত হলে এবং তিনি তার জন্য যা ব্যবস্থা করেছেন তা দেখলে সে নিজ আত্মা গ্রাস করতে থাকে বের না হওয়ার জন্য। সেখানে সে আল্লাহর সাক্ষাতকে অপছন্দ করে এবং আল্লাহও তার সাক্ষাতকে অপছন্দ করেন।
৩। হযরত জাফর বিন মুহাম্মদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইবনুল খযরজী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি তিনি বলেছেন- এবং তিনি দেখেছেন জনৈক আনসারীর শিয়রে মালাকুল মাউতকে উপবিষ্ট, অতঃপর তিনি বলেন, হে মালাকুল মাউত! আমার সাহাবীর প্রতি কোমল হও, কেননা সে বিশ্বাসী (মু'মিন)। মালাকুল মাউত বলেন, আপনি সন্তুষ্ট হোন, চোখ শীতল করুন এবং আপনি জেনে নিন যে, আমি প্রত্যেক মু'মিনের প্রতি কোমল।
৪। হযরত কা'ব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম মালাকুল মাউতকে বলেছেন, তুমি আমাকে তোমার ঐ আকৃতি দেখাও যা দিয়ে তুমি মু'মিনের রূহ কবজ কর। অতঃপর মালাকুল মাউত তাঁকে তাঁর নিজস্ব জ্যোতি, চাকচিক্য ও সৌন্দর্য দেখান। এরপর তিনি বলেন, মু'মিন তার মৃত্যুর সময় তোমার এ আকৃতি ব্যতীত কোন চোখ জোড়ানোর দৃশ্য ও সম্মান না দেখলেও এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে।
৫। হযরত দাহহাক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনের রূহ যখন কবজ করা হবে তখন তাকে আসমানের তুলে নেয়া হবে। অতঃপর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারা তার সাথে চলবে, অতঃপর তাকে দ্বিতীয় আসমানে তুলে নেয়া হবে, এরপর তৃতীয় আসমানে, এরপর চতুর্থ আসমানে, এরপর পঞ্চম আসমানে, এরপর ষষ্ঠ আসমানে, এরপর সপ্তম আসমানে, অবশেষে তাঁরা তাকে সিদরাতুল মুস্তাহায় নিয়ে যাবে। অতঃপর তাঁরা বলবেন, হে আমাদের রব! আপনার অমুক বান্দা অথচ তিনি তার সম্পর্কে অধিক অবহিত। অতঃপর তার কাছে লিখিত শীল লাগানো আযাব থেকে মুক্তিনামা আসবে। উহার প্রতি আল্লাহর বাণী ইঙ্গিত করছে, হ্যাঁ, হ্যাঁ, নিশ্চয় পুণ্যবানদের লিপি সবচেয়ে উচ্চস্থান (ইল্লিয়্যীন) এ রয়েছে এবং তুমি কি জানো ইল্লিয়্যীন কেমন? ঐ লিপিটা হচ্ছে একটা মোহরকৃত লিপি; নৈকট্যপ্রাপ্তরা যার যিয়ারত করবে।
৬। হযরত আবূ সায়ীদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মু'মিনের পরকালে আগমন ও দুনিয়া থেকে প্রস্থানের সময় আকাশ থেকে কতগুলো ফেরেশতা অবতরণ করবেন, তাঁদের চেহরা যেন সূর্যের মত উজ্জ্বল। তাঁরা বেহেশত থেকে তার জন্য কাফন ও সুগন্ধি নিয়ে আসবেন। অতঃপর তাঁরা এমন স্থানে বসবেন সে (মৃত্যুপথযাত্রা) তাদের দিকে অবলোকন করে। যখন তার রূহ বের হয়ে যায় তার জন্য আসমান ও জমিনের সকল ফেরেশতা মাগফেরাত কামনা করেন।
৭। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যখন মু'মিনের রূহ কবজ করা হয় তখন তার কাছে রহমতের ফেরেশতা সাদা রেশমী কাপড় নিয়ে আগমন করেন, তার থেকে মেশকের চাইতে উন্নত মানের সুঘ্রাণ বের হয় যা তাঁরা পরস্পরকে প্রদান করে। তাঁরা তার সুন্দর নাম প্রদান করেন। অবশেষে তাঁরা তাকে আসমানের দ্বারে নিয়ে যান। তাঁরা বলেন, জমিন থেকে একি সুঘ্রাণ এসেছে। যখনই তাঁরা আসমানে আসেন তারা ঐ রূপ বলেন। অবশেষে তাঁরা তাকে মু'মিনদের রূহের কাছে নিয়ে যান। সাক্ষাতের সময় তাদের থেকে অত্যাধিক আনন্দিত যেমন কেউ হয় না তেমনি তার মত কেউ আগমনও করেন না। তাঁরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, অমুকের ছেলে অমুক কী করেছে? তাঁরা বলবেন, তাকে ছেড়ে দিন যাতে সে বিশ্রাম নিতে পারে, কেননা সে দুনিয়াতে বিষন্নতায় ছিল।
৮। বারা হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- মু'মিনের মৃত্যু অত্যাসন্ন হলে তার কাছে ফেরেশতারা রেশমী কাপড় নিয়ে আসেন তাতে মিশক, আম্বর ও ফুল থাকে। অতঃপর তার রূহ বের করে আনা হয় যেভাবে খামির থেকে চুল বের করে আনা হয়। আর বলা হয়, হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি সন্তুষ্ট চিত্তে বেরিয়ে এসো, তোমার উপর রব খুশি, আল্লাহর রহম ও সম্মানের কাছে। অনন্তর তার রূহ যখন বের হয় তা উক্ত মিশক ও ফুলের উপর রাখা হবে, রেশমী কাপড় তার উপর জড়ানো হবে ও তা ইল্লীয়িনে নিয়ে যাওয়া হবে।
৯। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহ তাআলার বাণী (وَالسَّابِحَاتِ سَبْحًا) এর তাফসীর প্রসঙ্গে বলেন, মু'মিনের আত্মাসমূহ যখন মালাকুল মাউতকে দেখবে, তিনি বলেন, হে প্রশান্তময় আত্মা! তুমি পরমশান্তি, ফুল ও দয়াময় রবের কাছে বেরিয়ে এসো। আনন্দে ও উৎসাহী হয়ে বেহেশতের দিকে সে ডুবুরীর মত পানিতে ডুব দেবে। (فالسابقات سبقا) অর্থ আল্লাহর সম্মানের দিকে চলতে থাকবে।
১০। হযরত ওবাইদুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আল্লাহ বান্দাকে ওফাত দেন তখন আল্লাহ বেহেশতের এক টুকরো কাপড় ও খুশবো নিয়ে দু'জন ফেরেশতা প্রেরণ করেন। তাঁরা উভয়ই বলেন, হে আশ্বস্ত আত্মা! শান্তি, ফুল ও দয়াময় রবের কাছে বেরিয়ে এসো, বেরিয়ে এসো! তোমার আগমন কতইনা উত্তম। মিশকের চেয়ে সুঘ্রাণময় হয়ে তা বেরিয়ে আসবে। তোমাদের যে কেউ তার সুঘ্রাণ পাবে। আকাশে কতগুলো ফেরেশতা বলবেন, সুবহানাল্লাহ, আজকের দিন জমিন থেকে আমাদের কাছে পবিত্র আত্মা এসেছে, সে যে দরজা দিয়ে অতিক্রম করে না কেন তার জন্য উন্মুক্ত হবে। প্রত্যেক ফেরেশতা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন ও বিদায় দেবেন। অবশেষে তাকে তার রবের কাছে আনা হবে। তার পূর্বে ফেরেশতারা সিজদায় পড়ে যাবেন আর বলবেন, হে আমাদের রব! ইনি আপনার বান্দা অমুক। আমরা তাকে ওফাত দিয়েছি। আপনি উক্ত বিষয়ে অবহিত আছেন। তিনি বলবেন, তাকে সিজদা করার নির্দেশ দাও। অতঃপর আত্মা সিজদা করবেন। এরপর মীকাঈলকে আহবান করা হবে ও তাঁকে বলা হবে মু'মিনদের আত্মাসমূহের সাথে এ আত্মাটিও রেখে আসো। অবশেষে আমি তাকে কেয়ামতের দিন প্রশ্ন করব। অতঃপর তার কবর সম্পর্কে নির্দেশ দেয়া হবে। তা প্রশস্ত করা হবে দৈর্ঘ্য সত্তর গজ এবং প্রস্থ সত্তর গজ। তাতে রেশমী কাপড় বিছানো হবে। যদি তার কাছে কুরআনের কিছু অংশ থাকে তা তাকে আলো দেবে নতুবা তাকে সূর্যের ন্যায় আলোকিত করা হবে। অতঃপর তার জন্য বেহেশতের দিকে একটি দরজা খুলে দেয়া হবে। সে সকাল-সন্ধ্যা বেহেশতে তার আসন দেখতে থাকবেন।
১১। হযরত আবু মুসা আশয়ারী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন মু'মিনের আত্মা বের হবে মিশক থেকে অধিক সুঘ্রাণ হবে। তাকে উর্ধ্ব নিয়ে যাবে ঐসব ফেরেশতা যারা তাকে ওফাত দিয়েছেন। আসমানের নিচে ফেরেশতারা তাঁদের সাক্ষাৎ করবেন। অতঃপর বলবেন, আপনাদের সাথে ইনি কে? তাঁরা বলবেন, অমুক, তাঁরা তাকে তার উত্তম আমলসহ স্মরণ করবেন। তারা বলবেন, আল্লাহ আপনাদের দীর্ঘজীবি করুন। আপনাদের সাথে যা আছেন তাদেরও দীর্ঘজীবি করুন। অতঃপর তার জন্য আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে। তারা তাকে ঐ দরজা দিয়ে উর্ধ্ব নিয়ে যাবেন যে দরজা দিয়ে তার আমল নিয়ে যাওয়া হতো। তার চেহরা আলোকিত, করা হবে। অতঃপর সে রবের কাছে যাবে যে অবস্থায় তার চেহারা সূর্যের মত দেদীপ্যমান।
১২। হযরত দাহ্হাক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহর বাণী (وَالتَفَتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ) সম্পর্কে বলেন, মানুষেরা মৃত ব্যক্তিকে দাফনের ব্যবস্থা করেন এবং ফেরেশতারা তার রূহ নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।
১৩। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুসংবাদ প্রত্যক্ষ করা ছাড়া মু'মিনের রূহ কবজ করা হবে না। যখন তার রূহ কবজ করা হবে তিনি আহ্বান করবেন, মানব-দানব ব্যতীত ঘরের ছোট বড় প্রত্যেক প্রাণী তার ধ্বনি শুনতে পাবে। তোমরা আমাকে দয়াময় রবের কাছে তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও। যখন তাকে খাটে রাখা হবে তিনি বলবেন, তোমরা কতইনা ধীর গতিতে চলছ। যখন তাকে তার কবরে প্রবেশ করা হবে তাকে বসানো হবে এবং বেহেশতে তার ঠিকানা দেখানো হবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য যা তৈরী করেছেন তাও দেখানো হবে। তার কবর রহমত, ফুল ও সুঘ্রাণে পরিপূর্ণ করে দেয়া হবে। অতঃপর বলবেন, হে রব! আমাকে অগ্রবর্তী করুন। তাকে বলা হবে, আপনার অনেক ভাই-বোন আছে যারা মিলিত হয় নাই। আপনি চোখ শীত করে ঘুমিয়ে পড়ুন।
১৪। হযরত ইবনে জুরায়জ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়শা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহাকে বললেন, মু'মিন যখন ফেরেশতাদের প্রত্যক্ষ করবেন তারা বলবেন আমরা আপনাকে দুনিয়ায় নিয়ে যাব। তখন বান্দা বললেন, চিন্তা ও বিষন্নতার জগতে? আমাকে আল্লাহর কাছে অগ্রবর্তী করুন।
১৫। হযরত হাসান বিন আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনের রূহ ফুলের মধ্যে বের করা হবে। তারপর তিনি পাঠ করেন, অতঃপর ঐ মৃত্যুবরণকারী যদি নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে রয়েছে আরাম এবং ফুল ও শান্তির বাগান।
১৬। হযরত কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি আল্লাহ তাআলার বাণী (فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ) সম্পর্কে বলেন, মৃত্যুর সময় মু'মিন আরাম (روح) এবং ফুল (رَيْحَانٌ) এর সাথে মিলিত হবেন।
১৭। হযরত বকর বিন ওবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালাকুল মাউতকে মু'মিনের রূহ কবজ করার জন্য যখন হুকুম দেয়া হবে তখন তিনি বেহেশতের ফুল নিয়ে আসবেন। তাকে বলা হবে, তাতে তার রূহ কবজ করুন।
১৮। হযরত আবূ ইমরান জুনী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস পৌছল যে, মু'মিনের মৃত্যু সন্নিকট হলে তার কাছে বেহেশত থেকে ফুলের ঢালি আনা হয়। অতঃপর তাতে তার রূহ রাখা হয়।
১৯। হযরত মুজাহিদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনের রূহ বেহেশতের রেশমী পোশাকে কবজ করা হয়।
২০। হযরত আবুল আলীয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখনই কোন সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ব্যক্তি দুনিয়া ত্যাগ করেন তার কাছে বেহেশতের ফুলের একটি ঢাল আনা হয়, সে তার ঘ্রাণ নেয়। অতঃপর তার রুহ কবজ করা হয়।
২১। হযরত সালমান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মু'মিনকে তার কবরে প্রথম সুসংবাদ দেয়া হবে। তাকে বলা হবে, তুমি আল্লাহর রেজামন্দি ও বেহেশতের সুসংবাদ গ্রহণ কর। তুমি সসম্মানে এসেছ। আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করেছেন তাকে যে তোমাকে কবরে বিদায় দিয়েছে। যে তোমার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে তিনি তাকে সত্যায়ন করেছেন। যে তোমার জন্য ক্ষমা চেয়েছে তিনি তা কবুল করেছেন।
২২। হযরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, যখন আল্লাহ তাআলা মু'মিনের রূহ কবজের ইচ্ছা করেন মালাকুল মাউতকে তিনি নির্দেশ দেন তুমি তাকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পাঠ কর। যখন মালাকুল মাউত তার রূহ কবজ করতে আসেন তাকে বলেন, তোমার রব তোমাকে সালাম পাঠ করছেন।
২৩। হযরত মুহাম্মদ কুরজী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু'মিনের মৃত্যু সন্নিকট হলে মালাকুল মাউত উপস্থিত হয়ে বলেন, হে আল্লাহর বন্ধু! আল্লাহ তাআলা আপনাকে সালাম দিচ্ছেন। অতঃপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করেন- ঐ সব লোক, যাদের প্রাণ বের করেন ফিরিশতাগণ পবিত্র থাকা অবস্থায় একথা বলতে বলতে, শান্তি বর্ষিত হোক তোমাদের উপর।
২৪। হযরত মুজাহিদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় মু'মিনকে তার সন্তানের সততার বিষয়ে সুসংবাদ দেয়া হবে তার মৃত্যুর পর, যাতে তার চোখ শীতল হয়।
২৫। হযরত দাহহাক রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু আল্লাহ তাআলার বাণী- (লَهُمُ البُشْرى في الحَياةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ) সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ পার্থিব জীবনে এবং পরকালে। তিনি বলেন, তিনি জানবেন মৃত্যুর পূর্বে তার অবস্থান কোথায়?
২৬। হযরত মুজাহিদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে আল্লাহ তাআলার বাণী- নিশ্চয় ঐ সব লোক, যারা বলেছে, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর সেটার উপর স্থির রয়েছে। তাদের উপর ফিরিশতা অবতীর্ণ হয় যে, না ভীত হও এবং না দুঃখ কর এবং আনন্দিত হও ওই জান্নাতের উপর যার সম্পর্কে তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তা (এ সুসংবাদ) দেওয়া হবে মৃত্যুর সময়।
২৭। হযরত মুজাহিদ রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এ আয়াত সম্পর্কে বলেন, 'তোমরা ভয় পেয়োনা এবং চিন্তিত হয়োনা রবং বেহেশতের সুসংবাদ গ্রহণ কর।' তোমরা ভয় পেয়োনা মৃত্যুকে, যেদিকে তোমরা অগ্রবর্তী হচ্ছ এবং পরকালের বিষয়েও তোমরা চিন্তিত হওনা পার্থিব ওই বিষয়ে যা তোমরা রেখে যাচ্ছ তার উপর। তা হচ্ছে- ছেলে-মেয়ে, পরিবার ও ঋণ। এ সব বিষয়ে আমি তোমাদের উত্তরসূরী করব।
২৮। হযরত যায়েদ বিন আসলাম রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মৃত্যুর সময় মু'মিনকে আনা হবে তাকে বলা হবে তুমি যেদিকে আগমন করছ তাকে ভয় করো না, এতে তার ভয় চলে যাবে। দুনিয়া ও দুনিয়াবাসীর উপর চিন্তা করো না এবং বেহেশতের সুসংবাদ গ্রহণ কর। এতে তার ভয় চলে যাবে। দুনিয়ার উপর চিন্তা করো না। অতঃপর সে মৃত্যুবরণ করবে আর আল্লাহ তাআলা তার চোখ শীতল করবেন।
২৯। হযরত হাসান রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তাঁকে আল্লাহর বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, হে শান্তিময় প্রাণ। স্বীয় প্রতিপালকের দিকে ফিরে যাও, এমতাবস্থায় যে, তুমি তার উপর সন্তুষ্ট এবং তিনি তোমার উপর সন্তুষ্ট। উত্তরে তিনি বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তার মু'মিন বান্দার যখন রূহ কবজ করতে ইচ্ছা করেন, আত্মা আল্লাহ তাআলার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং আল্লাহও তার প্রতি সন্তুষ্ট হন। বায়হাকী (المشيخة البغدادية) তে বলেন, আমি আবু সায়ীদ ও হাসান বিন আলীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন- আমি আমার পিতা থেকে শুনেছি। তিনি বলছেন, আমি কিছু পুস্তকে দেখেছি, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মালাকুল মাউতের হাতে আলোকিত অক্ষরে (بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) প্রকাশ করবেন। অতঃপর তাঁকে নির্দেশ দেবেন তিনি যেন তার উভয় হাত আরেফের জন্য প্রসারিত করেন তার ওফাতের সময় এবং তাকে উক্ত লিপি যেন দেখান। আরেফের রূহ যখন তা দেখবে চোখের পলকের চাইতেও দ্রুত গতিতে তার কাছে উড়ে আসবে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা যখন মালাকুল মাউতকে আমার উম্মতের পাপীদের থেকে যার জন্য দোযখ ওয়াজিব হয়েছে তার রূহ কবজের জন্য নির্দেশ দেবেন, তখন তিনি বলেন, তাদেরকে বেহেশতের সুসংবাদ দাও, তাদের কর্ম অনুপাতে এরূপ, এরূপ শান্তির পর, তাদের দোযখে আটকিয়ে রাখা হবে। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা অধিক দয়ালু।
টিকাঃ
১. আহমদ। মসনদ-ই আহমদ, ৩/২৫৬, হাকেম আল মুসতাদরাক, ১/১১০: বায়হাকী শুআবুল ঈমান;
* ইবনে আবুদ দুনিয়া;
১. তাবরানী: মু'জামুল কবীর; আবু নাঈম আল- মারিফা; ইবনে মুনিব্বাহ আল- মাফিফা; (রওযাতুল মুহাদ্দীন, ৮/৪৭৫);
২. ইবনে আবুদ দুনিয়া;
১. আবদুর রহমান আল আরানী কিতাবুল ইখলাস;
১. আবু নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া.... ইবনে মুনিবাহ;
১. আহমদ: মসনদ-ই আহমদ; নাসায়ী আস সুনান, ৬/৩৬৯; ইবনে হাব্বান; বায়হাকী শু'আবুল ঈমান; হাকেম: আয যুহদ;
২. তাবরানী: আল মু'জামুল কবীর, ১৯/১৩৪;
১. জুনী:.... (জালাল উদ্দীন সুয়ূতী: দুররুল মানসুর, ১০/১৮৯);
১. হানাদ ইবনুস সারী: কিতাবুয যুহদ; তাবরানী: আল মু'জামুল কবীর;
১. ইবনে আবু শায়বা: মুসান্নাফ, তারবানী: মু'জামুল আওসাত: ইবনে হব্বান: সহীহ: হাকেম: আল মুসতাদরাক;
১. আবু সা'ঈদ তাইলাসী: মসনদ; ইবনে আবী শায়বা: আল মুসানফ, ৩/২৫৭; বায়হাকী: সুনানুল কুবরা; ইবনে আবিদ দুনিয়া; আলুসী: তাফসীর-ই আলুসী: ২১/৪৮৭;
১. ইবনে আবু সাইবা আল মুসান্নাফ, ৮/১৮৬; ইবনে জারীর তাফসীর-ই তাবারী, ১৯/৬৯; ইবনে মুনযির:....;
৩. মিরওয়াজ: আল জানায়িয; (আলুসী: তাফসীর-ই আলুসী, ২০/২৮৮);
১. তাবারী: তাফসীর-ই তাবারী, ২৩/১৬১; ইবনে আবুদ দুনিয়া; জালাল উদ্দীন সুয়ূতী: দুররুল মানসুর, ৯/৪০৫; পূর্বোক্ত; পূর্বোক্ত;
১. ইবনে জাবীর: তাফসীর-ই তাবারী, ২৩/১৬০: ইবনে আবু হাতিম; ইবনে মুনিরবাহ; জালাল উদ্দীন সুয়ূতী: আদ দুররুল মানসুর, ৯/৪০৫;
১. ইবনে আবু শায়বা; হাকেম: আল মুসতাদরাক; বায়হাকী: শু'আবুল ঈমান, ১/৪৭০; ইবনে মুন্দাহ; আবূ নাঈম: হিলইয়াতুল আউলিয়া ....;
২. ইবনে আবু শায়বা: আল মুসান্নাফ, ৮/২৯৩; ইবনে মুন্দাহ;
*. বায়হাকী শু'আবুল ঈমান, ১/৪৬১; ইবনে আবু হাতেম: ....;
*. পূর্বোক্ত
📄 মৃতের রূহ বের হলে অন্যান্য মৃত রূহ তার সাথে সাক্ষাৎ করা, একত্রিত হওয়া ও জানতে চাওয়া
১। হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মু'মিনের আত্মা যখন কবজ করা হয় আল্লাহর বান্দাদের থেকে রহমতপ্রাপ্তরা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন যেভাবে তারা দুনিয়ার সুসংবাদ প্রদানকারীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এবং তাঁরা বলেন, তোমাদের বন্ধুকে দেখ বিশ্রাম নিচ্ছেন। কেননা তিনি ভীষণ বিপদে ছিলেন। অতঃপর তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, অমুক কী করেছে? অমুক মহিলা বিবাহ করেছে?
২। হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় মু'মিনের মৃত্যু আসলে এবং যা প্রত্যক্ষ করার তা প্রত্যক্ষ করলে তিনি চাইবেন তার রূহ বের হয়ে যাক। এবং আল্লাহ তাআলা তার সাক্ষাৎ ভালবাসেন আর মু'মিনের আত্মা আকাশে আরোহন করেন। অতঃপর তার কাছে মু'মিনদের আত্মাসমূহ আগমন করেন তারা তার কাছে দুনিয়ায় তাদের পরিচিতজনদের বিষয়ে অবহিত হতে চাইবেন।
৩। হযরত আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, দুজন মু'মিনের রূহ একদিনের পথ অতিক্রম করে পরস্পর মিলিত হন অথচ তাদের একজন অন্যজনকে কখনো দেখেন নি।
৪। হযরত ইবনে লবিবা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন বশর বিন বারা বিন মারূফ মারা যান তার মা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন ও বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, বনি সালমা গোত্রের কোন না কোন লোক সর্বদা ওফাত লাভ করছেন। তিনি কী মৃতদের চিনছেন? যাতে আমি বশরের কাছে সালাম পাঠাতে পারি? তিনি বলেন, হ্যা, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, নিশ্চয় তাঁরা পরস্পর চিনছেন যেভাবে বৃক্ষের উপর পাখিরা পরস্পর চিনে। বনি-সালমার কোন লোক মারা গেলেই বশরের মা তার কাছে আসতেন ও বলতেন, হে অমুক! তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক! তিনি বলেন, তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর তিনি বলেন, বশরকে সালাম জানাবেন।
৫। হযরত সায়ীদ বিন জুবায়র রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন মানুষ মারা গেলে তার সন্তান তাকে শুভেচ্ছা স্বাগতম জানায় যেভাবে অনুপস্থিত ব্যক্তিকে স্বাগতম জানানো হয়।
৬। হযরত সাবিতুল বুনানী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কাছে হাদীস পৌছলো যে, কোন মানুষ মারা গেলে তাঁর পরিবার-পরিজন ও নিকটস্থ আত্মীয় যাঁরা তাঁর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে ঘিরে ফেলেন, তাঁরা তাকে পেয়ে পরম আনন্দিত হন এবং তিনিও তাঁদের পেয়ে খুব বেশী খুশি হন যেভাবে মুসাফির তার আপনজনের কাছে আসলে আনন্দিত হন।
টিকাঃ
১. তাবরানী: মু'জামুল আওসাত, ১/১৫১;
২. বযযার; আলুসী: তাফসীর-ই আলুসী, ১১/৮০;
১. আহমদ মসনদ-ই আহমদ,
১. ইবনে আবুদ দুনিয়া: আল মুনামাত, ১/২১;
১. ইবনে আবুদ্ দুনিয়া: আল মুনামাত, ১/২২
২. ইবনে আবুদ্ দুনিয়া: