📄 কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতা
সময়ের মূল্য উপলব্ধিারী সকল মুমিনের উচিত হবে নিজেকে যথাসম্ভব কল্যাণের কাজে ডুবিয়ে রাখা। খুঁটি ধরে কিংবা অলসতার আবরণে কল্যাণের কাজে সাড়া দেওয়া যথেষ্ট নয়। কিছু কাজ করে বাকিটা দিনের জন্য রেখে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর যে দুর্বলতা কিংবা অপারগতা যে কারণেই হোক না কেন। কবি বলেন- ولا تؤخر شغل اليوم عن كسل
الى غد ان يوم العاجزين غد
'অলসতা রেখে দিতে পারে না আমার কাজকে আগামীকালের জন্য
আগামীকাল তো তাদেরই যারা অক্ষম আর অকর্মণ্য।'
নবি করিম ﷺ উম্মাহকে সকাল-সন্ধ্যা জপার জন্য কিছু দুআ-জিকির শিক্ষা দিয়েছেন। তার একটি হলো- اللهم إني أعوذ بك من الهم والحزن وأعوذ بك من العجز والكسل وأعوذ بك من الجبن والبخل وأعوذ بك من غلبة الدين وقهر الرجال.
'হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, আপনার কাছে আশ্রয় চাই ভীরুতা ও কার্পণ্য হতে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের রোষানল হতে।' আবু দাউদ : ১৫৫৫
কুরআনে কোনো ব্যস্ততা কিংবা প্রতিবন্ধকতা আসার করার আগে কল্যাণের কাজে অগ্রবর্তী ও প্রতিযোগী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'প্রত্যেকেরই (প্রত্যেক জাতি-গোষ্ঠীর) একটি দিক (কিবলা) আছে, যে দিকে সে ফিরে (প্রার্থনা করে)। সুতরাং সকল কল্যাণকর কাজে এগিয়ে যাও। যেখানেই তোমরা থাকো না কেন, আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের সবাইকে एकत्र করবেন।' সূরা বাকারা : ১৪৮
আহলে কিতাব এবং তাদের ওপর নাজিলকৃত কল্যাণের বিষয়ে বলেছেন- 'আল্লাহ চাইলে তোমাদের সবাইকে একটি উম্মতই বানাতে পারতেন।' কিন্তু তিনি তোমাদের প্রদত্ত কল্যাণের ভিত্তিতে পরীক্ষা করতে চান। সুতরাং তোমরা কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করো। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে।' সূরা মায়েদা : ৪৮
জান্নাত এবং তার নেয়ামতের প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন- 'তোমরা দৌড়ে এসো তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা মহাকাশ এবং পৃথিবীর মতো। তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য।' সূরা আলে ইমরান : ১৩৩
অন্য আয়াতে এসেছে- 'তোমরা প্রতিযোগিতা করে দৌড়ে এসো তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে আর সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের প্রশস্ততার মতো। এই জান্নাত প্রস্তুত রাখা হয়েছে তাদের জন্য, যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি এবং রাসূলদের প্রতি। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আল্লাহ অতীব অনুগ্রহপরায়ণ।' সূরা হাদিদ : ২১
আল্লাহ তাআলা জান্নাত ও মাগফিরাতের দিকে দ্রুততার সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দৌড়ানোর আদেশ দিয়েছেন। জান্নাত ও মাগফিরাতের দিকে দৌড়ানো অর্থ সেটি লাভের উপকারী দিকে দৌড়ানো। আর সেটি হলো ঈমান, তাকওয়া ও উত্তম আমল। এখানে প্রতিযোগিতা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রদর্শনীই নয়; বরং বড়-ছোট বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।' সূরা মুতাফফিফিন : ২৬
আল্লাহ তাআআ ইবরাহিমত্ন প্রথমে কয়েকজন নবির প্রশংসা করেছেন- 'ফলে আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়েছি এবং তার জন্য দান করেছি ইয়াহইয়াকে। আর তার জন্য স্ত্রীকে করে দিয়েছি (সন্তান ধারণের) যোগ্য। এরা সবাই কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতাকারী। তারা আমাকে ডাকত আশা ও ভয় নিয়ে এবং তারা ছিল আমার প্রতি বিনয়ী।' সূরা আম্বিয়া : ৯০
আহলে কিতাবের সৎকর্মশীল লোকদের প্রশংসা করেছেন- 'তারা ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং তারা ভালো কাজের আদেশ করে, মন্দ কাজ থেকে বারণ করে এবং মানব কল্যাণের ওপর তৎপর থাকে। এরা সালেহ লোকদের অন্তর্ভুক্ত।' সূরা আলে ইমরান : ১১৪
মুনাফিকদের নিন্দাবাদের সময় কুরআনের ভাষা ছিল- 'তারা যখন সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ায়, তখন তারা অলসতার সাথে দাঁড়ায়।' সূরা নিসা : ১৪২
তিনি আরও বলেন- 'তারা নামাজে আসে অলসতার সাথে, আর ব্যয় করে সংকুচিত মনে।' সূরা তাওবা : ৫৪
'তাদের অর্থ-সাহায্য গ্রহণ করতে নিষেধ করার কারণ হলো, তারা কুফরি করেছে আল্লাহর প্রতি, তার রাসূলের প্রতি এবং অলসেমি ছাড়া তারা সালাতে আসে না, আর অনিচ্ছাকৃত ছাড়া তারা দান করে না।' সূরা তাওবা : ৫৪
নবি করিম ﷺ কোনো প্রতিবন্ধকতা কিংবা বিপদ আসার আগে ঝটপট কিছু কাজ সেরে রাখার পরামর্শ দিতেন। তিনি বলেন- 'তোমরা কার্য সম্পাদনে সাতটি বিষয়ের অগ্রগামী হও। তোমরা কি এমন দারিদ্র্যের অপেক্ষায় আছ, যা আল্লাহকে ভুলিয়ে দেয় অথবা এমন ধনবান হওয়ার, যা আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার লিপ্ত করে দেয় অথবা এমন রোগের, যা স্বাস্থ্যকে ধ্বংস করে দেয় অথবা নির্বাচিত বার্ধক্যের অথবা এমন মৃত্যুর যা হঠাৎ করেই এসে যায় অথবা অপেক্ষা করছ দাজ্জালের অদৃশ্য অমঙ্গলের অথবা কিয়ামতের? আর কিয়ামত তো আরও বিভীষিকাময়, আরও তিক্ত।'
তিনি আরও বলেন- 'যে লোক ভয় পায়, সে ভোর রাতেই যাত্রী শুরু করে, আর ভোর রাতেই যে লোক যাত্রা শুরু করে, সে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারে। জেনে রেখ, আল্লাহ তায়ালার পণ্য খুবই দাবি। জেনে রেখ, আল্লাহ তায়ালার পণ্য হলো জান্নাত।' তিরমিজি
সময়ের মূল্য উপলব্ধিারী সকল মুমিনের উচিত হবে নিজেকে যথাসম্ভব কল্যাণের কাজে ডুবিয়ে রাখা। খুঁটি ধরে কিংবা অলসতার আবরণে কল্যাণের কাজে সাড়া দেওয়া যথেষ্ট নয়। কিছু কাজ করে বাকিটা দিনের জন্য রেখে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর যে দুর্বলতা কিংবা অপারগতা যে কারণেই হোক না কেন। কবি বলেন- ولا تؤخر شغل اليوم عن كسل
الى غد ان يوم العاجزين غد
'অলসতা রেখে দিতে পারে না আমার কাজকে আগামীকালের জন্য
আগামীকাল তো তাদেরই যারা অক্ষম আর অকর্মণ্য।'
নবি করিম ﷺ উম্মাহকে সকাল-সন্ধ্যা জপার জন্য কিছু দুআ-জিকির শিক্ষা দিয়েছেন। তার একটি হলো- اللهم إني أعوذ بك من الهم والحزن وأعوذ بك من العجز والكسل وأعوذ بك من الجبن والبخل وأعوذ بك من غلبة الدين وقهر الرجال.
'হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, আপনার কাছে আশ্রয় চাই ভীরুতা ও কার্পণ্য হতে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের রোষানল হতে।' আবু দাউদ : ১৫৫৫
কুরআনে কোনো ব্যস্ততা কিংবা প্রতিবন্ধকতা আসার করার আগে কল্যাণের কাজে অগ্রবর্তী ও প্রতিযোগী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'প্রত্যেকেরই (প্রত্যেক জাতি-গোষ্ঠীর) একটি দিক (কিবলা) আছে, যে দিকে সে ফিরে (প্রার্থনা করে)। সুতরাং সকল কল্যাণকর কাজে এগিয়ে যাও। যেখানেই তোমরা থাকো না কেন, আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের সবাইকে एकत्र করবেন।' সূরা বাকারা : ১৪৮
আহলে কিতাব এবং তাদের ওপর নাজিলকৃত কল্যাণের বিষয়ে বলেছেন- 'আল্লাহ চাইলে তোমাদের সবাইকে একটি উম্মতই বানাতে পারতেন।' কিন্তু তিনি তোমাদের প্রদত্ত কল্যাণের ভিত্তিতে পরীক্ষা করতে চান। সুতরাং তোমরা কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করো। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে।' সূরা মায়েদা : ৪৮
জান্নাত এবং তার নেয়ামতের প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন- 'তোমরা দৌড়ে এসো তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা মহাকাশ এবং পৃথিবীর মতো। তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য।' সূরা আলে ইমরান : ১৩৩
অন্য আয়াতে এসেছে- 'তোমরা প্রতিযোগিতা করে দৌড়ে এসো তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে আর সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের প্রশস্ততার মতো। এই জান্নাত প্রস্তুত রাখা হয়েছে তাদের জন্য, যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি এবং রাসূলদের প্রতি। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আল্লাহ অতীব অনুগ্রহপরায়ণ।' সূরা হাদিদ : ২১
আল্লাহ তাআলা জান্নাত ও মাগফিরাতের দিকে দ্রুততার সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দৌড়ানোর আদেশ দিয়েছেন। জান্নাত ও মাগফিরাতের দিকে দৌড়ানো অর্থ সেটি লাভের উপকারী দিকে দৌড়ানো। আর সেটি হলো ঈমান, তাকওয়া ও উত্তম আমল। এখানে প্রতিযোগিতা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রদর্শনীই নয়; বরং বড়-ছোট বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।' সূরা মুতাফফিফিন : ২৬
আল্লাহ তাআআ ইবরাহিমত্ন প্রথমে কয়েকজন নবির প্রশংসা করেছেন- 'ফলে আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়েছি এবং তার জন্য দান করেছি ইয়াহইয়াকে। আর তার জন্য স্ত্রীকে করে দিয়েছি (সন্তান ধারণের) যোগ্য। এরা সবাই কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতাকারী। তারা আমাকে ডাকত আশা ও ভয় নিয়ে এবং তারা ছিল আমার প্রতি বিনয়ী।' সূরা আম্বিয়া : ৯০
আহলে কিতাবের সৎকর্মশীল লোকদের প্রশংসা করেছেন- 'তারা ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং তারা ভালো কাজের আদেশ করে, মন্দ কাজ থেকে বারণ করে এবং মানব কল্যাণের ওপর তৎপর থাকে। এরা সালেহ লোকদের অন্তর্ভুক্ত।' সূরা আলে ইমরান : ১১৪
মুনাফিকদের নিন্দাবাদের সময় কুরআনের ভাষা ছিল- 'তারা যখন সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ায়, তখন তারা অলসতার সাথে দাঁড়ায়।' সূরা নিসা : ১৪২
তিনি আরও বলেন- 'তারা নামাজে আসে অলসতার সাথে, আর ব্যয় করে সংকুচিত মনে।' সূরা তাওবা : ৫৪
'তাদের অর্থ-সাহায্য গ্রহণ করতে নিষেধ করার কারণ হলো, তারা কুফরি করেছে আল্লাহর প্রতি, তার রাসূলের প্রতি এবং অলসেমি ছাড়া তারা সালাতে আসে না, আর অনিচ্ছাকৃত ছাড়া তারা দান করে না।' সূরা তাওবা : ৫৪
নবি করিম ﷺ কোনো প্রতিবন্ধকতা কিংবা বিপদ আসার আগে ঝটপট কিছু কাজ সেরে রাখার পরামর্শ দিতেন। তিনি বলেন- 'তোমরা কার্য সম্পাদনে সাতটি বিষয়ের অগ্রগামী হও। তোমরা কি এমন দারিদ্র্যের অপেক্ষায় আছ, যা আল্লাহকে ভুলিয়ে দেয় অথবা এমন ধনবান হওয়ার, যা আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার লিপ্ত করে দেয় অথবা এমন রোগের, যা স্বাস্থ্যকে ধ্বংস করে দেয় অথবা নির্বাচিত বার্ধক্যের অথবা এমন মৃত্যুর যা হঠাৎ করেই এসে যায় অথবা অপেক্ষা করছ দাজ্জালের অদৃশ্য অমঙ্গলের অথবা কিয়ামতের? আর কিয়ামত তো আরও বিভীষিকাময়, আরও তিক্ত।'
তিনি আরও বলেন- 'যে লোক ভয় পায়, সে ভোর রাতেই যাত্রী শুরু করে, আর ভোর রাতেই যে লোক যাত্রা শুরু করে, সে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারে। জেনে রেখ, আল্লাহ তায়ালার পণ্য খুবই দাবি। জেনে রেখ, আল্লাহ তায়ালার পণ্য হলো জান্নাত।' তিরমিজি
📄 দিবা-রাত্রির বিবর্তন থেকে শিক্ষা
একজন মুমিনের প্রত্যেক দিন এবং রাত থেকে কিছু শিক্ষা সংগ্রহ করতে হবে। কারণ, প্রতিটি দিন ও রাত নতুনকে জীর্ণ করে তোলে। দূরের জিনিসকে কাছে নিয়ে আসে। জীবনকে ভাঁজ করে গুটিয়ে ফেলতে থাকে। ছোটকে বাড়িয়ে তোলে। বড়কে জীবন সংক্ষিপ্তে পৌঁছে দেয়। যেমনটা কবি বলেছেন- اشاب الصغير وافنى الكبير * كر الغداة ومر العشي
اذا ليلة اهرمت يومها * أتى بعد ذلك يوم فتي
'প্রত্যুষের আগমনে সাঁঝের প্রস্থানে ঘটেছে, যুবকের করেছে বৃদ্ধ, বৃদ্ধকে ফেলেছে কবরে।
দিনকে বৃদ্ধ করেছে রাতের আগমনে, আবারও যুবক দিন এসে হাজির, তার প্রস্থানে।'
সময় আপন গতিতে চলবে। দিবা-রাত্রির পরিবর্তনও অব্যাহত থাকবে তার আপন গতিতে। আর একজন মুমিন তা থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করবে না, তা নিয়ে কোনো চিন্তা করবে না-এটা এমনটা হতে পারে না। চলে যাওয়া প্রত্যেকটি দিন, গত হওয়া প্রত্যেকটি ঘণ্টা এবং কেটে যাওয়া প্রত্যেকটি ক্ষণে জীবন ও দুনিয়ার বহু কিছু ঘটে যায়। তার কিছু দেখা যায়, আবার কিছু দেখা যায় না; কিছু জানা যায় না; কিছু জমি আবাদি হয়। বীজ অঙ্কুরিত হয়ে গাছ জন্মায়। গাছে ফুল আসে। ফুল থেকে ফল-ফসল হয়। ফল-ফসল ঘরে তোলা হয়। শস্য শুকিয়ে খড়কুটো হয়ে পড়ে, বাতাস তাকে উড়িয়ে নেয়। একটা ভ্রূণ বেড়ে উঠে আর তার শরীর গঠিত হয়। শিশু জন্ম হয়। সে বেড়ে ওঠে। যুবক মধ্য বয়সে এসে দাঁড়ায়। মধ্যবয়সী বৃদ্ধদের কাতারে চলে যায়। আর বৃদ্ধ দুনিয়া থেকে বিদায় হয়।
ওপরের আসমান এবং নিচের জমিন তথা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যার সাথে মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রাচুর্য-দারিদ্র্য, সুস্থতা-রোগ-বালাই, খুশি-বেদনা, কষ্ট-আরাম, সুখ-দুর্দশা ঘুরতে থাকে। আর এই সবকিছুতেই জ্ঞানীর জন্য রয়েছে নিদর্শন। হৃদয়বানের জন্য রয়েছে উপদেশ। চক্ষুষ্মানদের জন্য রয়েছে শিক্ষা। যে জ্ঞানীর মতো চিন্তা, চিন্তাবানের মতো উপলব্ধি এবং চক্ষুষ্মানদের দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে, দিন-রাতের আসা-যাওয়া তার কোনো উপকার করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন- 'নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য।' সূরা আলে ইমরান : ১৯০
তিনি আরও বলেন- 'আল্লাহ দিন ও রাতের পরিবর্তন ঘটান। এতে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য চিন্তার উপকরণ রয়েছে।' সূরা নূর : ৪৪
একজন মুমিনের প্রত্যেক দিন এবং রাত থেকে কিছু শিক্ষা সংগ্রহ করতে হবে। কারণ, প্রতিটি দিন ও রাত নতুনকে জীর্ণ করে তোলে। দূরের জিনিসকে কাছে নিয়ে আসে। জীবনকে ভাঁজ করে গুটিয়ে ফেলতে থাকে। ছোটকে বাড়িয়ে তোলে। বড়কে জীবন সংক্ষিপ্তে পৌঁছে দেয়। যেমনটা কবি বলেছেন- اشاب الصغير وافنى الكبير * كر الغداة ومر العشي
اذا ليلة اهرمت يومها * أتى بعد ذلك يوم فتي
'প্রত্যুষের আগমনে সাঁঝের প্রস্থানে ঘটেছে, যুবকের করেছে বৃদ্ধ, বৃদ্ধকে ফেলেছে কবরে।
দিনকে বৃদ্ধ করেছে রাতের আগমনে, আবারও যুবক দিন এসে হাজির, তার প্রস্থানে।'
সময় আপন গতিতে চলবে। দিবা-রাত্রির পরিবর্তনও অব্যাহত থাকবে তার আপন গতিতে। আর একজন মুমিন তা থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করবে না, তা নিয়ে কোনো চিন্তা করবে না-এটা এমনটা হতে পারে না। চলে যাওয়া প্রত্যেকটি দিন, গত হওয়া প্রত্যেকটি ঘণ্টা এবং কেটে যাওয়া প্রত্যেকটি ক্ষণে জীবন ও দুনিয়ার বহু কিছু ঘটে যায়। তার কিছু দেখা যায়, আবার কিছু দেখা যায় না; কিছু জানা যায় না; কিছু জমি আবাদি হয়। বীজ অঙ্কুরিত হয়ে গাছ জন্মায়। গাছে ফুল আসে। ফুল থেকে ফল-ফসল হয়। ফল-ফসল ঘরে তোলা হয়। শস্য শুকিয়ে খড়কুটো হয়ে পড়ে, বাতাস তাকে উড়িয়ে নেয়। একটা ভ্রূণ বেড়ে উঠে আর তার শরীর গঠিত হয়। শিশু জন্ম হয়। সে বেড়ে ওঠে। যুবক মধ্য বয়সে এসে দাঁড়ায়। মধ্যবয়সী বৃদ্ধদের কাতারে চলে যায়। আর বৃদ্ধ দুনিয়া থেকে বিদায় হয়।
ওপরের আসমান এবং নিচের জমিন তথা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যার সাথে মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রাচুর্য-দারিদ্র্য, সুস্থতা-রোগ-বালাই, খুশি-বেদনা, কষ্ট-আরাম, সুখ-দুর্দশা ঘুরতে থাকে। আর এই সবকিছুতেই জ্ঞানীর জন্য রয়েছে নিদর্শন। হৃদয়বানের জন্য রয়েছে উপদেশ। চক্ষুষ্মানদের জন্য রয়েছে শিক্ষা। যে জ্ঞানীর মতো চিন্তা, চিন্তাবানের মতো উপলব্ধি এবং চক্ষুষ্মানদের দৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়েছে, দিন-রাতের আসা-যাওয়া তার কোনো উপকার করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন- 'নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বোধসম্পন্ন লোকদের জন্য।' সূরা আলে ইমরান : ১৯০
তিনি আরও বলেন- 'আল্লাহ দিন ও রাতের পরিবর্তন ঘটান। এতে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য চিন্তার উপকরণ রয়েছে।' সূরা নূর : ৪৪
📄 সময় বিন্যাস
একজন মুমিন-মুসলমানকে তার দুনিয়াবি ও দ্বীনি কাজের অভ্যাসকে এবং আরও অন্যান্য যেসব কাজ করতে হয়, তার আলোকে সময়কে গুছিয়ে পরিকল্পনা করতে হয়; যেন একটি অনুভূতির ওপর অন্যটির প্রাধান্য না পায়। গুরুত্বপূর্ণ কাজের ওপর তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রাধান্য না পায় কিংবা সাধারণ কাজের কিছু অধিক গুরুত্বপূর্ণ কিছুর ওপর প্রাধান্য না পায়। সময়ের মাঝে শেষ করতে হবে-এমন কিছু বাধ্যতামূলক কাজের ওপর ঐচ্ছিক কাজের প্রাধান্য না পায়। যে কাজটি তাৎক্ষণিক করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, অন্য কাজ বাদ দিয়ে তাৎক্ষণিক সেই কাজ করতে হবে। আর যে কাজের একটি নির্দিষ্ট সময় আছে, সে কাজ যথাসময়ে করতে হবে।
নবিজি ﷺ ইবরাহিম (আ.)-এর সহিফা থেকে বর্ণনা করে বলেন- 'একজন বিবেকবানের ৪টি সময় থাকবে (যতক্ষণ সে প্রকৃতি বিবেকের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে না)।
একটি সময় সে তার রবের কাছে চাওয়া-পাওয়ার কথা বলবে।
একটি সময় সে নিজেকে মূল্যায়ন করবে।
একটা সময় আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ভাববে।
আর একটা সময় তার খাবার-পানীয়ের জন্য খালি রাখবে।¹⁸
মানুষের মধ্যে যারা অধিকতর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন; যাদের নিয়মিত ব্যস্ততা আছে, তারা সময় ভাগ করে নেওয়া এবং বিন্যাসের অধিকতর মুখাপেক্ষী। কারণ, তাদের দায়িত্বের গণ্ডি সাধারণের চেয়ে ব্যাপক। তারা ভালো করেই উপলব্ধি করেন, সময়ের চেয়ে দায়িত্বের ভার অনেক বেশি।
'সময়' বিন্যাসের সময় একটা অংশ বিশ্রাম এবং একটা অংশ বিনোদনের জন্য রাখতে হবে। কারণ, লম্বা সময় ধরে একনাগাড়ে কাজ করার পর আত্মা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শরীরের মতো অন্তরেরও ক্লান্তি আসে। তাই যে সুযোগ পাবে, সে হালাল বিনোদনের সুযোগগুলো গ্রহণ করবে। এ ব্যাপারে আলি বলেছেন- 'নিয়মিত বিরতিতে তোমাদের হৃদয়-মনের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করো। কারণ, মনের ওপর জবরদস্তি হলে সে অন্ধ (দিশেহারা) হয়ে পড়ে।'
একজন মুসলিম ব্যক্তির উচিত হবে না নফসের ওপর বাড়াবাড়ি রকমের চাপ নেওয়া। এই বাড়তি চাপ মানসিক শক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে; যা স্বাভাবিক গতিকে পরিবর্তন করে দেবে। তার নিজের, পরিবার ও সমাজের অধিকার গোপনে করে দেবে। এই বাড়াবাড়ি আল্লাহ ইবাদত তথা সিয়াম, তাহাজ্জুদ কিংবা দুনিয়াবিমুখতা অথবা ত্যাগঃ যেকোনো ক্ষেত্রেই হওয়া উচিত নয়!
এ জন্যই নবি ﷺ যখন দেখলেন, সাহাবিরা তার পেছনে রাতের নামাজে দীর্ঘ সময় ব্যয় করছে, তখন তিনি তাদের বললেন- 'তোমরা তোমাদের সাধ্যের আলোকে নেক কাজ করো। কারণ, আল্লাহ তাতে বিরক্ত হবেন না। আর আল্লাহর দরবারে সর্বোত্তম নেক কাজ হলো যা নিয়মিত করা হয়, তা পরিমাণে কম হলেও।' বুখারি ও মুসলিম
অন্য এক জায়গায় তিনি বলেছেন- 'নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। দ্বীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে, দ্বীন তার ওপর জয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো এবং (মধ্যমপন্থার) নিকটবর্তী থাকো। আশান্বিত থাকো এবং সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদত সহযোগে) সাহায্য চাও।' বুখারি ও নাসায়ি
আর যারা কুরআন তিলাওয়াত, রাতের সালাত এবং সিয়ামে বাড়াবাড়ি করেন, তাদের তিনি মধ্যপন্থা ও ন্যায়নিষ্ঠার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন- 'তোমার ওপর তোমার শরীরের কিছু অধিকার রয়েছে। তোমার পরিবারের কিছু অধিকার রয়েছে। তোমার স্ত্রীর কিছু অধিকার রয়েছে।' বুখারি, মুসলিম
আনুগত্য এবং তাপস্যাকারী একটি দলকে উদ্দেশ্য করে রাসূল ﷺ বলেন- 'আমি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু এবং মুত্তাকি। কিন্তু আমি রাতে সালাতে দাঁড়াই আবার ঘুমাই। সাওম পালন করি আবার সাওম ভঙ্গ করি। আমি নারীদের বিবাহ করেছি। যে আমার চলার পথ (সুন্নাহ) থেকে বিমুখ হলো, সে আমার দলভুক্ত নয়।' বুখারি : ৫০৬৩, মুসলিম : ১৪০১
এটাই নবির সুন্নাহ। এটাই নবি করিম ﷺ -এর চলার পথ। এই পথ আধ্যাত্মিকতা ও বস্তুর মাঝে সমন্বয় তৈরি করে। আর এটাই হলো আত্মা ও আত্মার প্রশান্তি এবং প্রতিপালকের অধিকারের ভারসাম্য তৈরির পথ।
এখন থেকে বোঝা গেল, সময়ের একটা অংশ বৈধ বিনোদনের কাজে ব্যয় করা দূষণীয় নয়। তা সকল প্রকার বৈধ প্রাকৃতিক, আকর্ষণ, উপভোগ্য কিছু অথবা খেলাধুলা হতে পারে। আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর সাহাবি হানজালা নিজের ওপর মুনাফিকের অপরাধ দিলেন। ঘর-সংসার, সন্তান-সন্ততি এবং রাসূলের সাথে নিজ সম্পর্কের তুলনা করে তার এরূপ মনে হয়েছিল। রাসূল ﷺ তাকে বললেন- 'হানজালা! যদি তোমরা আমার সাথে যে অবস্থার ওপর অটল থাকো, তবে ফেরেশতারা পদে পদে তোমাদের সাথে মুসাফাহা করবে। কিন্তু হানজালা, সেটা ঘণ্টায় ঘণ্টায়।' মুসলিম
এখানে 'ঘণ্টায় ঘণ্টায়' অর্থ-এক ঘণ্টা তার রবের জন্য। আরেক ঘণ্টা তার নিজের জন্য। এটাই মুসলমানের চরিত্র। এর সমর্থনে একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা রয়েছে।
আছমায়ি বর্ণনা করেন- 'তিনি একটি উপত্যকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এক মহিলাকে দেখলেন, তার হাতে তসবিহ জমামালা। তিনি সেটিতে কারুকার্য করছেন। তাতে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করছেন। তিনি তাকে বললেন, আমি তাকে বললাম- "কোথায় এই কাজ আর কোথায় সেই কাজ?" অর্থাৎ এই সৌন্দর্য কিংবা বিনোদনমূলক কাজ তোমাকে ইবাদত এবং তসবিহ পাঠ থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে। তখন মহিলা একটি শ্লোক শোনালেন- ولله مني جانب لا أضيعه
وللهو مني والبطالة جانب
"একগুচ্ছ সময় আল্লাহর জন্য কোনো খেলা করি না তাতে আর একগুচ্ছ সময় রেখেছি বিনোদন ও নৈপুণ্য প্রদর্শনে"'
আছমায়ি বলেন, আমি বুঝলাম তিনি একজন সৎকর্মশীল মহিলা। তিনি তার স্বামীর জন্য কিছু উপকারী কাজ করছেন।'
একজন মুমিন-মুসলমানকে তার দুনিয়াবি ও দ্বীনি কাজের অভ্যাসকে এবং আরও অন্যান্য যেসব কাজ করতে হয়, তার আলোকে সময়কে গুছিয়ে পরিকল্পনা করতে হয়; যেন একটি অনুভূতির ওপর অন্যটির প্রাধান্য না পায়। গুরুত্বপূর্ণ কাজের ওপর তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রাধান্য না পায় কিংবা সাধারণ কাজের কিছু অধিক গুরুত্বপূর্ণ কিছুর ওপর প্রাধান্য না পায়। সময়ের মাঝে শেষ করতে হবে-এমন কিছু বাধ্যতামূলক কাজের ওপর ঐচ্ছিক কাজের প্রাধান্য না পায়। যে কাজটি তাৎক্ষণিক করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, অন্য কাজ বাদ দিয়ে তাৎক্ষণিক সেই কাজ করতে হবে। আর যে কাজের একটি নির্দিষ্ট সময় আছে, সে কাজ যথাসময়ে করতে হবে।
নবিজি ﷺ ইবরাহিম (আ.)-এর সহিফা থেকে বর্ণনা করে বলেন- 'একজন বিবেকবানের ৪টি সময় থাকবে (যতক্ষণ সে প্রকৃতি বিবেকের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারে না)।
একটি সময় সে তার রবের কাছে চাওয়া-পাওয়ার কথা বলবে।
একটি সময় সে নিজেকে মূল্যায়ন করবে।
একটা সময় আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে ভাববে।
আর একটা সময় তার খাবার-পানীয়ের জন্য খালি রাখবে।¹⁸
মানুষের মধ্যে যারা অধিকতর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন; যাদের নিয়মিত ব্যস্ততা আছে, তারা সময় ভাগ করে নেওয়া এবং বিন্যাসের অধিকতর মুখাপেক্ষী। কারণ, তাদের দায়িত্বের গণ্ডি সাধারণের চেয়ে ব্যাপক। তারা ভালো করেই উপলব্ধি করেন, সময়ের চেয়ে দায়িত্বের ভার অনেক বেশি।
'সময়' বিন্যাসের সময় একটা অংশ বিশ্রাম এবং একটা অংশ বিনোদনের জন্য রাখতে হবে। কারণ, লম্বা সময় ধরে একনাগাড়ে কাজ করার পর আত্মা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। শরীরের মতো অন্তরেরও ক্লান্তি আসে। তাই যে সুযোগ পাবে, সে হালাল বিনোদনের সুযোগগুলো গ্রহণ করবে। এ ব্যাপারে আলি বলেছেন- 'নিয়মিত বিরতিতে তোমাদের হৃদয়-মনের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করো। কারণ, মনের ওপর জবরদস্তি হলে সে অন্ধ (দিশেহারা) হয়ে পড়ে।'
একজন মুসলিম ব্যক্তির উচিত হবে না নফসের ওপর বাড়াবাড়ি রকমের চাপ নেওয়া। এই বাড়তি চাপ মানসিক শক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে; যা স্বাভাবিক গতিকে পরিবর্তন করে দেবে। তার নিজের, পরিবার ও সমাজের অধিকার গোপনে করে দেবে। এই বাড়াবাড়ি আল্লাহ ইবাদত তথা সিয়াম, তাহাজ্জুদ কিংবা দুনিয়াবিমুখতা অথবা ত্যাগঃ যেকোনো ক্ষেত্রেই হওয়া উচিত নয়!
এ জন্যই নবি ﷺ যখন দেখলেন, সাহাবিরা তার পেছনে রাতের নামাজে দীর্ঘ সময় ব্যয় করছে, তখন তিনি তাদের বললেন- 'তোমরা তোমাদের সাধ্যের আলোকে নেক কাজ করো। কারণ, আল্লাহ তাতে বিরক্ত হবেন না। আর আল্লাহর দরবারে সর্বোত্তম নেক কাজ হলো যা নিয়মিত করা হয়, তা পরিমাণে কম হলেও।' বুখারি ও মুসলিম
অন্য এক জায়গায় তিনি বলেছেন- 'নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। দ্বীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে, দ্বীন তার ওপর জয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো এবং (মধ্যমপন্থার) নিকটবর্তী থাকো। আশান্বিত থাকো এবং সকাল-সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদত সহযোগে) সাহায্য চাও।' বুখারি ও নাসায়ি
আর যারা কুরআন তিলাওয়াত, রাতের সালাত এবং সিয়ামে বাড়াবাড়ি করেন, তাদের তিনি মধ্যপন্থা ও ন্যায়নিষ্ঠার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন- 'তোমার ওপর তোমার শরীরের কিছু অধিকার রয়েছে। তোমার পরিবারের কিছু অধিকার রয়েছে। তোমার স্ত্রীর কিছু অধিকার রয়েছে।' বুখারি, মুসলিম
আনুগত্য এবং তাপস্যাকারী একটি দলকে উদ্দেশ্য করে রাসূল ﷺ বলেন- 'আমি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু এবং মুত্তাকি। কিন্তু আমি রাতে সালাতে দাঁড়াই আবার ঘুমাই। সাওম পালন করি আবার সাওম ভঙ্গ করি। আমি নারীদের বিবাহ করেছি। যে আমার চলার পথ (সুন্নাহ) থেকে বিমুখ হলো, সে আমার দলভুক্ত নয়।' বুখারি : ৫০৬৩, মুসলিম : ১৪০১
এটাই নবির সুন্নাহ। এটাই নবি করিম ﷺ -এর চলার পথ। এই পথ আধ্যাত্মিকতা ও বস্তুর মাঝে সমন্বয় তৈরি করে। আর এটাই হলো আত্মা ও আত্মার প্রশান্তি এবং প্রতিপালকের অধিকারের ভারসাম্য তৈরির পথ।
এখন থেকে বোঝা গেল, সময়ের একটা অংশ বৈধ বিনোদনের কাজে ব্যয় করা দূষণীয় নয়। তা সকল প্রকার বৈধ প্রাকৃতিক, আকর্ষণ, উপভোগ্য কিছু অথবা খেলাধুলা হতে পারে। আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর সাহাবি হানজালা নিজের ওপর মুনাফিকের অপরাধ দিলেন। ঘর-সংসার, সন্তান-সন্ততি এবং রাসূলের সাথে নিজ সম্পর্কের তুলনা করে তার এরূপ মনে হয়েছিল। রাসূল ﷺ তাকে বললেন- 'হানজালা! যদি তোমরা আমার সাথে যে অবস্থার ওপর অটল থাকো, তবে ফেরেশতারা পদে পদে তোমাদের সাথে মুসাফাহা করবে। কিন্তু হানজালা, সেটা ঘণ্টায় ঘণ্টায়।' মুসলিম
এখানে 'ঘণ্টায় ঘণ্টায়' অর্থ-এক ঘণ্টা তার রবের জন্য। আরেক ঘণ্টা তার নিজের জন্য। এটাই মুসলমানের চরিত্র। এর সমর্থনে একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা রয়েছে।
আছমায়ি বর্ণনা করেন- 'তিনি একটি উপত্যকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এক মহিলাকে দেখলেন, তার হাতে তসবিহ জমামালা। তিনি সেটিতে কারুকার্য করছেন। তাতে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করছেন। তিনি তাকে বললেন, আমি তাকে বললাম- "কোথায় এই কাজ আর কোথায় সেই কাজ?" অর্থাৎ এই সৌন্দর্য কিংবা বিনোদনমূলক কাজ তোমাকে ইবাদত এবং তসবিহ পাঠ থেকে দূরে সরিয়ে রাখবে। তখন মহিলা একটি শ্লোক শোনালেন- ولله مني جانب لا أضيعه
وللهو مني والبطالة جانب
"একগুচ্ছ সময় আল্লাহর জন্য কোনো খেলা করি না তাতে আর একগুচ্ছ সময় রেখেছি বিনোদন ও নৈপুণ্য প্রদর্শনে"'
আছমায়ি বলেন, আমি বুঝলাম তিনি একজন সৎকর্মশীল মহিলা। তিনি তার স্বামীর জন্য কিছু উপকারী কাজ করছেন।'
📄 উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কাজ
সকল মুসলিমকে জানতে হবে-সময় তার মন, জবান, শরীর কিংবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাছে কোন কাজটি দাবি করছে। তাকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কাজে মনোনিবেশ করতে হবে এবং বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, যেন গুরুত্ব এবং আয়োজনভেদে সবকিছু যথাস্থানে রাখতে পারে। আর তা আল্লাহর দরবারে যথাযথভাবে কবুল হয়।
আবু বকর উমর -কে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার সময় উপদেশ দিয়ে বলেছেন- 'শোনো! দিনে আল্লাহর কিছু কাজ রয়েছে, যা রাতে কবুল হবে না। আর রাতের কিছু কাজ রয়েছে, যা দিনে কবুল হবে না।'
স্থান-কাল-পাত্র চিন্তা না করে কাজ হাতে পেলেই করে ফেলা-এটা ঠিক নয়। সঠিক পদ্ধতি হলো, প্রতিটি কাজ উপযুক্ত সময়ে করা। এর জন্যই আল্লাহ তাআলা অনেক ইবাদত এবং ফরজ কাজের সময়কে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যা সময়ের আগেও জায়েজ নয় আবার পরেও সুযোগ নেই। তিনি এর দ্বারা আমাদের বুঝিয়েছেন, কোনো কাজ তার নির্দিষ্ট সময়ের আগেও করা হবে না, পরেও না। আল্লাহ তাআলা সালাত সম্পর্কে বলেন- 'নিশ্চয় নামাজ মুসলমানদের ওপর ফরজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।' সূরা নিসা : ১০৩
সওম সম্পর্কে বলেন- 'কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসে রোজা রাখবে।' সূরা বাকারা : ১৮৫
হজ সম্পর্কে বলেন- 'হজে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত।' সূরা বাকারা : ১৯৮
জাকাত সম্পর্কে বলেন- 'তার অংশ ফসল সংগ্রহের দিন পরিশোধ করে দাও।' সূরা আনআম : ১৪১
অন্তরের কর্মও জীবনের কর্মের মতো। এটাও নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্টকালে করতে হয়।
জ্ঞানীগণ বলেন, বান্দার সময় চার ধরনের হবে, যাতে পঞ্চম বলে কিছু নেই।
নিয়ামত
বিপদ
আনুগত্য
অবাধ্যতা।
এগুলোর প্রত্যেকটিতেই আল্লাহর দাসত্বের সুযোগ রয়েছে। রব হিসেবে তার যে অধিকার, সেই দাবি এগুলোর প্রত্যেকটিতেই রয়েছে।
যার সময় আনুগত্যের মাঝে চলে, তার পক্ষে রবের অধিকার আদায়ের পথ হচ্ছে, তার ওপর বর্ষিত আল্লাহর দয়া ও করুণার সাক্ষ্য দেওয়া। কারণ, আল্লাহ তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন। তার ওপর অবিচল থাকার সুযোগ দিয়েছেন।
যার সময় নেয়ামতের মধ্য দিয়ে চলে, তার পথ হচ্ছে শোকর আদায় করা এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। যার সময় অবাধ্যতায় চলে, তার পথ হচ্ছে তওবা এবং ক্ষমা প্রার্থনা।
যার সময় বিপদের মধ্য দিয়ে চলে, তার ওপর রবের অধিকার হচ্ছে সন্তুষ্টি ও সবর। এখানে সন্তুষ্টির অর্থ-আল্লাহর আরোপিত সকল অবস্থায় সন্তুষ্ট থাকা। আর সবরের অর্থ-আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে হৃদয়ে অবিচলতা ধরে রাখা। জ্ঞানী ব্যক্তির এই কথাটি কুরআন-হাদিসের কথাই সমর্থক।
আনুগত্যের জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন- 'হে নবি! বলো, এটি (কুরআন) এসেছে আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তার দয়ায়। সুতরাং এর জন্য তারা উৎফুল্ল ও আনন্দিত হোক। তারা যা জমা করে, এটি তার চাইতে উত্তম।' সূরা ইউনুস : ৫৮
নিয়ামতের জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন- 'তাদের (সাবা নগরবাসীদের) বলা হয়েছিল, তোমরা তোমাদের রবের দেওয়া জীবিকা ভোগ করো আর তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। কত উত্তম নগরী এটি এবং ক্ষমাশীল (এ নগরীর) প্রভু।' সূরা সাবা : ১৫
অবাধ্যতার জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন- 'হে নবি! লোকদেরকে আমার এ কথা বলে দাওঃ হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের প্রতি জুলুম-অবিচার করেছ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ সমস্ত পাপই ক্ষমা করে দেবেন। কারণ, তিনি তো পরম ক্ষমাশীল এবং অতীব দয়াবান।' সূরা জুমার : ৫৩
বিপদের জায়গায় আল্লাহ বলেন- 'আর অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা নেব ভয়-ভীতি দিয়ে, ক্ষুধা- অনাহার দিয়ে এবং অর্থ-সম্পদ, জান-প্রাণ ও ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি দিয়ে। তবে সুসংবাদ দাও সবর অবলম্বনকারীদের।
বিপদ-মসিবতে আক্রান্ত হলে বলে- 'নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই তাঁরই কাছে ফিরে যাব।' সূরা বাকারা : ১৫৫-১৫৬
সহিহ মুসলিমে নবি ﷺ থেকে এসেছে- 'মুসলমানের ধর্ম আসলেই বিস্ময়কর! ভালো-মন্দ সব অবস্থায় নিজ কল্যাণের সুযোগ রয়েছে। মুসলিম ভিন্ন অন্য কারও এ সুযোগটি নেই। যখন তার মাঝে এ সুযোগটি আসে, আর সে শোকর আদায় করে, এটা তাকে কল্যাণের দিকে নিয়ে যায়। আবার যখন তাকে দুঃখ-কষ্ট গ্রাস করে, তখন সে সবরের পথ গ্রহণ করে। এখানেও নিশ্চিত কল্যাণ।'
সকল মুসলিমকে জানতে হবে-সময় তার মন, জবান, শরীর কিংবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাছে কোন কাজটি দাবি করছে। তাকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কাজে মনোনিবেশ করতে হবে এবং বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, যেন গুরুত্ব এবং আয়োজনভেদে সবকিছু যথাস্থানে রাখতে পারে। আর তা আল্লাহর দরবারে যথাযথভাবে কবুল হয়।
আবু বকর উমর -কে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার সময় উপদেশ দিয়ে বলেছেন- 'শোনো! দিনে আল্লাহর কিছু কাজ রয়েছে, যা রাতে কবুল হবে না। আর রাতের কিছু কাজ রয়েছে, যা দিনে কবুল হবে না।'
স্থান-কাল-পাত্র চিন্তা না করে কাজ হাতে পেলেই করে ফেলা-এটা ঠিক নয়। সঠিক পদ্ধতি হলো, প্রতিটি কাজ উপযুক্ত সময়ে করা। এর জন্যই আল্লাহ তাআলা অনেক ইবাদত এবং ফরজ কাজের সময়কে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, যা সময়ের আগেও জায়েজ নয় আবার পরেও সুযোগ নেই। তিনি এর দ্বারা আমাদের বুঝিয়েছেন, কোনো কাজ তার নির্দিষ্ট সময়ের আগেও করা হবে না, পরেও না। আল্লাহ তাআলা সালাত সম্পর্কে বলেন- 'নিশ্চয় নামাজ মুসলমানদের ওপর ফরজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।' সূরা নিসা : ১০৩
সওম সম্পর্কে বলেন- 'কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসে রোজা রাখবে।' সূরা বাকারা : ১৮৫
হজ সম্পর্কে বলেন- 'হজে কয়েকটি মাস আছে সুবিদিত।' সূরা বাকারা : ১৯৮
জাকাত সম্পর্কে বলেন- 'তার অংশ ফসল সংগ্রহের দিন পরিশোধ করে দাও।' সূরা আনআম : ১৪১
অন্তরের কর্মও জীবনের কর্মের মতো। এটাও নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্টকালে করতে হয়।
জ্ঞানীগণ বলেন, বান্দার সময় চার ধরনের হবে, যাতে পঞ্চম বলে কিছু নেই।
নিয়ামত
বিপদ
আনুগত্য
অবাধ্যতা।
এগুলোর প্রত্যেকটিতেই আল্লাহর দাসত্বের সুযোগ রয়েছে। রব হিসেবে তার যে অধিকার, সেই দাবি এগুলোর প্রত্যেকটিতেই রয়েছে।
যার সময় আনুগত্যের মাঝে চলে, তার পক্ষে রবের অধিকার আদায়ের পথ হচ্ছে, তার ওপর বর্ষিত আল্লাহর দয়া ও করুণার সাক্ষ্য দেওয়া। কারণ, আল্লাহ তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন। তার ওপর অবিচল থাকার সুযোগ দিয়েছেন।
যার সময় নেয়ামতের মধ্য দিয়ে চলে, তার পথ হচ্ছে শোকর আদায় করা এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। যার সময় অবাধ্যতায় চলে, তার পথ হচ্ছে তওবা এবং ক্ষমা প্রার্থনা।
যার সময় বিপদের মধ্য দিয়ে চলে, তার ওপর রবের অধিকার হচ্ছে সন্তুষ্টি ও সবর। এখানে সন্তুষ্টির অর্থ-আল্লাহর আরোপিত সকল অবস্থায় সন্তুষ্ট থাকা। আর সবরের অর্থ-আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে হৃদয়ে অবিচলতা ধরে রাখা। জ্ঞানী ব্যক্তির এই কথাটি কুরআন-হাদিসের কথাই সমর্থক।
আনুগত্যের জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন- 'হে নবি! বলো, এটি (কুরআন) এসেছে আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তার দয়ায়। সুতরাং এর জন্য তারা উৎফুল্ল ও আনন্দিত হোক। তারা যা জমা করে, এটি তার চাইতে উত্তম।' সূরা ইউনুস : ৫৮
নিয়ামতের জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন- 'তাদের (সাবা নগরবাসীদের) বলা হয়েছিল, তোমরা তোমাদের রবের দেওয়া জীবিকা ভোগ করো আর তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। কত উত্তম নগরী এটি এবং ক্ষমাশীল (এ নগরীর) প্রভু।' সূরা সাবা : ১৫
অবাধ্যতার জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন- 'হে নবি! লোকদেরকে আমার এ কথা বলে দাওঃ হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের প্রতি জুলুম-অবিচার করেছ, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ সমস্ত পাপই ক্ষমা করে দেবেন। কারণ, তিনি তো পরম ক্ষমাশীল এবং অতীব দয়াবান।' সূরা জুমার : ৫৩
বিপদের জায়গায় আল্লাহ বলেন- 'আর অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা নেব ভয়-ভীতি দিয়ে, ক্ষুধা- অনাহার দিয়ে এবং অর্থ-সম্পদ, জান-প্রাণ ও ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি দিয়ে। তবে সুসংবাদ দাও সবর অবলম্বনকারীদের।
বিপদ-মসিবতে আক্রান্ত হলে বলে- 'নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই তাঁরই কাছে ফিরে যাব।' সূরা বাকারা : ১৫৫-১৫৬
সহিহ মুসলিমে নবি ﷺ থেকে এসেছে- 'মুসলমানের ধর্ম আসলেই বিস্ময়কর! ভালো-মন্দ সব অবস্থায় নিজ কল্যাণের সুযোগ রয়েছে। মুসলিম ভিন্ন অন্য কারও এ সুযোগটি নেই। যখন তার মাঝে এ সুযোগটি আসে, আর সে শোকর আদায় করে, এটা তাকে কল্যাণের দিকে নিয়ে যায়। আবার যখন তাকে দুঃখ-কষ্ট গ্রাস করে, তখন সে সবরের পথ গ্রহণ করে। এখানেও নিশ্চিত কল্যাণ।'