📘 মুমিন জীবনে সময় > 📄 সময় থেকে উপকৃত হওয়া

📄 সময় থেকে উপকৃত হওয়া


মুসলমানের প্রথম কথা হলো সময়কে সংরক্ষণ করা। প্রিয় সম্পদকে যেভাবে আগলে রাখা হয়, তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে সময়কে আগলে রাখা জরুরি। সময়ের সবটুকু ব্যবহার করে উপকৃত হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা দরকার। দুনিয়ার অপচয় থেকে পরকালীন যেকোনো উপকারী সবব্যবহার করতে হবে। এমন কিছু করা দরকার যা জাতিকে কল্যাণ, সৌভাগ্য এবং আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে।
আমাদের সালাফরা সবচেয়ে বেশি কৃপণ ছিলেন সময়ের ব্যাপারে। সময়ের মূল্য উপলব্ধির ক্ষেত্রে সর্বাধিক মুনাফাভোগী ব্যবসায়ীর মতো তারা ছিলেন।
হাসান বসরি বলেছেন- 'আমি বেশ কিছু জাতির সঙ্গে মেলামেশা করেছি। তোমরা তোমাদের দিরহাম-দিনারের প্রতি যতটুকু মনোযোগী, তারা তাদের সময়ের প্রতি তার চেয়েও বেশি মনোযোগী।'
তাদের সর্বোতকরণে প্রচেষ্টা ছিল নিয়মতান্ত্রিক কর্মের মাধ্যমে নিজেদের সময়কে নির্মাণ করার। কিঞ্চিত পরিমাণ সময়ও যাতে অবান্তরজনক কাজে ব্যয় না হয়। উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেন- 'রাত ও দিন তোমার মাঝে কাজ করে। তুমিও তাদের মাঝে কাজ করো।'
তারা বলতেন, সময়ের অপচয় করা অস্থিরতার আলামত। তারা আরও বলতেন- 'সময় একটি ধারালো তরবারি। যদি তুমি তাকে কাটতে না পারো, তাহলে সে তোমাকে কেটে ফেলবে।'

📘 মুমিন জীবনে সময় > 📄 সময় কাটানো

📄 সময় কাটানো


তারা সারাদিন নিজেদের ভবিষ্যৎকে বর্তমানের চেয়ে উন্নত করার জন্য কাজ করতেন। আজকের দিন যেন গতকালের চেয়ে উন্নত হয়, সেই প্রচেষ্টা চালাতেন। আর আগামী দিনকে করতে চাইতেন আজকের চেয়ে উন্নত। কোনো এক সালাফের অন্তর্বাণী ছিল এ রকম-
'যার আজকের দিন গতকালের মতো হলো, সে বোকা। আর যার আজকের দিন গতকালের চেয়ে খারাপ গেল, সে অভিশপ্ত।'
তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন- তাদের কোনো একটা দিন, দিনের কোনো একটা অংশ অথবা ক্ষুদ্র মুহূর্তও যেন বিফলে চলে না যায়; যা থেকে তারা উপকারী জ্ঞান, সৎ কাজে আদিষ্ট হওয়া কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির উপকার করতে সমর্থ না হন কিংবা জীবনের কোনো একটা সময় নিরর্থক কেটে যায়। তারা চাইতেন, উপলব্ধি শক্তি দিয়ে হলেও সামান্য কিছু সময় অপচয় না হোক কিংবা স্রোতে ভেসে না যাক।
নিজেদের কিংবা আশেপাশের কারও জ্ঞানত, জিজ্ঞাসিত কিংবা সৎ কর্মের উন্নতির কাজে ছাড়া অন্য কোনো একটি দিন কেটে যাওয়াকে তারা আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের নাফরমানি মনে করতেন। মনে করতেন, তারা বুঝি সময়ের বুকে খঞ্জর চালিয়ে দিয়েছেন।
ইবনে মাসউদ বলেন- 'সাধারণত আমি কোনো ব্যাপারে আফসোস করতাম না। আমার আফসোস ছিল একটা জায়গায় আর তা হলো- একটি দিনের সূর্য অস্ত চলে গেল, নির্ধারিত সময় কমে গেল, কিন্তু আমার কর্মে কিছু যোগ হলো না।'
অন্য একজন বলেছেন- 'যে দিনটি আমাকে অতিক্রম করল, কিন্তু আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আমার জ্ঞানকে বাড়িয়ে দিলো না, সে দিনের সূর্যোদয় আমার ওপর কোনো বরকত নিয়ে এলো না।'
অনেকে এটি রাসূলের হাদিস বলেছেন। ইবনে তাইমিয়ার মতে- এটি রাসূলের হাদিস নয়। তিনি মিনহাজুস সুন্নাহ গ্রন্থে বলেছেন, এটিকে সাহাবি বা তাবেয়ির কথা বলাই যথেষ্ট।
একজন কবি বলেছেন- اذا مر بي يوم ولم اقتبس هدى
ولم استفد علما فما ذاك من عمري
'একটি দিন গেল চলে, সত্যের কিছুই ধরা দিলো না।
এ কেমন জীবন বলো, কী হবে আমার তাহলে?'
হাকিম (রহ.) বলেন- 'যার জীবন থেকে একটি দিন চলে গেল, আর কোনো কর্তব্য সম্পাদন করতে পারল না, কোনো ফরজ আদায় করতে পারল না, আপন মর্যাদায় কিছু যোগ করতে পারল না, কোনো প্রশংসা অর্জন করতে পারল না, কল্যাণকর কিছু প্রতিষ্ঠা করতে পারল না, কোনো জ্ঞানও অর্জন করতে পারল না, সে তার দিনটির বুকে ছুরি চালাল এবং নিজের ওপর জুলুম করল।'

📘 মুমিন জীবনে সময় > 📄 অবসরের গনিমত

📄 অবসরের গনিমত


এই গনিমত সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই অসচেতন। তার মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ। তার শোকর যথাযথভাবে আদায় করে না। এই গনিমতের নাম 'অবসর'।
ইমাম বুখারি ইবনে আব্বাসের সূত্রে রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন- 'আল্লাহর দুটো নেয়ামতের সাথে বহু মানুষ ধোঁকাবাজের মতো আচরণ করে। নেয়ামত দুটো হলো সুস্থতা ও অবসর।' বুখারি : ৬৪১২
এখানে অবসর বলতে পরকালীন মুক্তির কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য সকল প্রকার দুনিয়াবি ব্যস্ততা এবং প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত থাকাকে বোঝানো হয়েছে। অনেক হাদিসে উপার্জন এবং রিজিক সন্ধানের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই হাদিসটি সেগুলোর বিরোধী নয়, যতক্ষণ না এটি তাকে জীবন ও দুনিয়ার তাগিদে অলসতার ব্যস্ততায় ডুবিয়ে দেয় কিংবা আল্লাহর হক আদায়ে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
ধোঁকাবাজি মূলত বেচাকেনা ও ব্যবসার ক্ষেত্রে হয়। আল্লামা মানাবিরা মতো অনেকে মুকাল্লিফকে ব্যবসায়ীর সঙ্গে তুলনা করেছেন সুস্থতা ও অবসরকে মূলধনের সঙ্গে। কারণ, এটা মুনাফার উপকরণ ও সাফল্যের আরও। সুতরাং যে আল্লাহর সাথে তার আদেশ অনুযায়ী আচরণ করবে, সে মুনাফা পাবে। আর যে শয়তানের অনুসরণ করবে, সে মূলধন হারাবে।
আরেকটি হাদিসে এসেছে, পাঁচটি জিনিসের পূর্বে পাঁচটি জিনিসকে গনিমত হিসেবে গ্রহণ করো। তার মধ্যে একটি হলো-ব্যস্ততার পূর্বে অবসর।
অবসর সব সময় অবসর থাকে না। তাকে ভালো অথবা মন্দ যেকোনো একটি দিয়ে পূর্ণ করতে হয়। যে তার নাফসকে সত্যমুখী কাজে লাগায় না, তার নফস তাকে ন্যায়ভ্রষ্ট কাজে জড়িয়ে ফেলে। সুতরাং সেই ব্যক্তি সৌভাগ্যবান, যে তার নফসকে কল্যাণ ও উপকারী কাজে নিয়োজিত করে। আর ধ্বংস তার জন্য, যাকে তার নফস মন্দ এবং বিশৃঙ্খলার কাজে লিপ্ত করেছে।
সালাফদের মধ্যে অনেকে বলতেন- 'নিরবচ্ছিন্ন অবসর সময়টুকু এক মহান নেয়ামত। আল্লাহর যে বান্দা নফসের ওপর প্রবৃত্তির দরজি উন্মুক্ত করে দিয়ে এ নেয়ামত কাজে লাগায় না এবং বাসনার তৃপ্তি মেটাতে শেষ করে দেয়, আল্লাহ তার হৃদয়ে নেয়ামতকে (চিত্তের প্রশান্তি) বিক্ষিপ্ত করে দেন। তার অন্তরের নিষ্ফলতায় ছিন্ন হয়।'
আবুকার হিকাম বলেন- 'তুমি পিছনে পড়লে; যদি তুমি কোনো কাজকে পেশা হিসেবে গ্রহণ না করো কিংবা গ্রহণ করার পর তার প্রতি মনোযোগী না হও। তোমার বিপদগুলো বেড়ে যাবে, আর তুমি মহিমান্বিত অভিভাবকের দিকে ফিরে যেতে পারবে না।'
সালাফে সালেহিনরা কোনো লোককে দ্বীনি কিংবা দুনিয়াবি কাজ ছেড়ে অলসভাবে বসে থাকাকে খুবই অপছন্দ করতেন। কারণ, অবসর তার সঙ্গীর ওপর প্রতিশোধক নেয়। এটা পুরুষ ও মহিলা সবার জন্যই প্রযোজ্য। কথায় আছে, পুরুষের অবসর অকর্মণ্যতার আর নারীর অবসর কামনার। অর্থাৎ সহজাত কামনা জাগ্রতকারী এবং বাসনার চিন্তায় মশগুলকারী। আজিজের স্ত্রীর ইউসুফের সাথে সম্পর্ক, তার প্রতি আসক্তি, তার জন্য ফাঁদ পাতা এবং তাকে ফাঁসানো-সবকিছুর পেছনেই ছিল তার অবসর জীবন পদ্ধতি।
অবসরের ভয়াবহতা ঠিক তখন বৃদ্ধি পায়, যখন তার সাথে যৌবন যুক্ত হয়। স্বভাবত যৌবন বাসনা ও প্রাচুর্যের কারণে মানুষ বিশেষ বৈশিষ্ট্যের দিকে ধাবিত হয়। আর্থিক সক্ষমতার মাধ্যমে সে তার চাহিদা পূরণ করতে পারে। এ প্রসঙ্গে আবুল আতাহিয়াহ তার আরজুজাতিহ গ্রন্থে বলেন- ان الشباب والفراغ والجده
مفسدة للمرء اي مفسده
'যৌবন, অবসর ও প্রাচুর্য-এই তিনটি যখন একসাথে হয়, তখন তা হয় খুবই ভয়ংকর।'
আরেক কবি বলেন- لقد هاج الفراغ عليه شغلا
واسباب البلاء من الفراغ
'ব্যস্ততার আগমনে অবসরে পৌঁছে পালিয়েছে,
দুশ্চিন্তার অন্তরালে সেই অবসরে পৌঁছে হারিয়েছি।'
অর্থাৎ অবসরে মানসিক যন্ত্রণা, কামনা কিংবা দিবাস্বপ্নে বিভোর মনের জন্য দিয়েছে। আর দ্বারা হতগঞ্জ কিংবা পর্যাপ্ত কোনো বেদনা ছাড়া কোনো ফল আশা করা যায় না।

এই গনিমত সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই অসচেতন। তার মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ। তার শোকর যথাযথভাবে আদায় করে না। এই গনিমতের নাম 'অবসর'।
ইমাম বুখারি ইবনে আব্বাসের সূত্রে রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন- 'আল্লাহর দুটো নেয়ামতের সাথে বহু মানুষ ধোঁকাবাজের মতো আচরণ করে। নেয়ামত দুটো হলো সুস্থতা ও অবসর।' বুখারি : ৬৪১২
এখানে অবসর বলতে পরকালীন মুক্তির কাজে লিপ্ত হওয়ার জন্য সকল প্রকার দুনিয়াবি ব্যস্ততা এবং প্রতিবন্ধকতা থেকে মুক্ত থাকাকে বোঝানো হয়েছে। অনেক হাদিসে উপার্জন এবং রিজিক সন্ধানের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই হাদিসটি সেগুলোর বিরোধী নয়, যতক্ষণ না এটি তাকে জীবন ও দুনিয়ার তাগিদে অলসতার ব্যস্ততায় ডুবিয়ে দেয় কিংবা আল্লাহর হক আদায়ে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
ধোঁকাবাজি মূলত বেচাকেনা ও ব্যবসার ক্ষেত্রে হয়। আল্লামা মানাবিরা মতো অনেকে মুকাল্লিফকে ব্যবসায়ীর সঙ্গে তুলনা করেছেন সুস্থতা ও অবসরকে মূলধনের সঙ্গে। কারণ, এটা মুনাফার উপকরণ ও সাফল্যের আরও। সুতরাং যে আল্লাহর সাথে তার আদেশ অনুযায়ী আচরণ করবে, সে মুনাফা পাবে। আর যে শয়তানের অনুসরণ করবে, সে মূলধন হারাবে।
আরেকটি হাদিসে এসেছে, পাঁচটি জিনিসের পূর্বে পাঁচটি জিনিসকে গনিমত হিসেবে গ্রহণ করো। তার মধ্যে একটি হলো-ব্যস্ততার পূর্বে অবসর।
অবসর সব সময় অবসর থাকে না। তাকে ভালো অথবা মন্দ যেকোনো একটি দিয়ে পূর্ণ করতে হয়। যে তার নাফসকে সত্যমুখী কাজে লাগায় না, তার নফস তাকে ন্যায়ভ্রষ্ট কাজে জড়িয়ে ফেলে। সুতরাং সেই ব্যক্তি সৌভাগ্যবান, যে তার নফসকে কল্যাণ ও উপকারী কাজে নিয়োজিত করে। আর ধ্বংস তার জন্য, যাকে তার নফস মন্দ এবং বিশৃঙ্খলার কাজে লিপ্ত করেছে।
সালাফদের মধ্যে অনেকে বলতেন- 'নিরবচ্ছিন্ন অবসর সময়টুকু এক মহান নেয়ামত। আল্লাহর যে বান্দা নফসের ওপর প্রবৃত্তির দরজি উন্মুক্ত করে দিয়ে এ নেয়ামত কাজে লাগায় না এবং বাসনার তৃপ্তি মেটাতে শেষ করে দেয়, আল্লাহ তার হৃদয়ে নেয়ামতকে (চিত্তের প্রশান্তি) বিক্ষিপ্ত করে দেন। তার অন্তরের নিষ্ফলতায় ছিন্ন হয়।'
আবুকার হিকাম বলেন- 'তুমি পিছনে পড়লে; যদি তুমি কোনো কাজকে পেশা হিসেবে গ্রহণ না করো কিংবা গ্রহণ করার পর তার প্রতি মনোযোগী না হও। তোমার বিপদগুলো বেড়ে যাবে, আর তুমি মহিমান্বিত অভিভাবকের দিকে ফিরে যেতে পারবে না।'
সালাফে সালেহিনরা কোনো লোককে দ্বীনি কিংবা দুনিয়াবি কাজ ছেড়ে অলসভাবে বসে থাকাকে খুবই অপছন্দ করতেন। কারণ, অবসর তার সঙ্গীর ওপর প্রতিশোধক নেয়। এটা পুরুষ ও মহিলা সবার জন্যই প্রযোজ্য। কথায় আছে, পুরুষের অবসর অকর্মণ্যতার আর নারীর অবসর কামনার। অর্থাৎ সহজাত কামনা জাগ্রতকারী এবং বাসনার চিন্তায় মশগুলকারী। আজিজের স্ত্রীর ইউসুফের সাথে সম্পর্ক, তার প্রতি আসক্তি, তার জন্য ফাঁদ পাতা এবং তাকে ফাঁসানো-সবকিছুর পেছনেই ছিল তার অবসর জীবন পদ্ধতি।
অবসরের ভয়াবহতা ঠিক তখন বৃদ্ধি পায়, যখন তার সাথে যৌবন যুক্ত হয়। স্বভাবত যৌবন বাসনা ও প্রাচুর্যের কারণে মানুষ বিশেষ বৈশিষ্ট্যের দিকে ধাবিত হয়। আর্থিক সক্ষমতার মাধ্যমে সে তার চাহিদা পূরণ করতে পারে। এ প্রসঙ্গে আবুল আতাহিয়াহ তার আরজুজাতিহ গ্রন্থে বলেন- ان الشباب والفراغ والجده
مفسدة للمرء اي مفسده
'যৌবন, অবসর ও প্রাচুর্য-এই তিনটি যখন একসাথে হয়, তখন তা হয় খুবই ভয়ংকর।'
আরেক কবি বলেন- لقد هاج الفراغ عليه شغلا
واسباب البلاء من الفراغ
'ব্যস্ততার আগমনে অবসরে পৌঁছে পালিয়েছে,
দুশ্চিন্তার অন্তরালে সেই অবসরে পৌঁছে হারিয়েছি।'
অর্থাৎ অবসরে মানসিক যন্ত্রণা, কামনা কিংবা দিবাস্বপ্নে বিভোর মনের জন্য দিয়েছে। আর দ্বারা হতগঞ্জ কিংবা পর্যাপ্ত কোনো বেদনা ছাড়া কোনো ফল আশা করা যায় না।

📘 মুমিন জীবনে সময় > 📄 কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতা

📄 কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতা


সময়ের মূল্য উপলব্ধিারী সকল মুমিনের উচিত হবে নিজেকে যথাসম্ভব কল্যাণের কাজে ডুবিয়ে রাখা। খুঁটি ধরে কিংবা অলসতার আবরণে কল্যাণের কাজে সাড়া দেওয়া যথেষ্ট নয়। কিছু কাজ করে বাকিটা দিনের জন্য রেখে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর যে দুর্বলতা কিংবা অপারগতা যে কারণেই হোক না কেন। কবি বলেন- ولا تؤخر شغل اليوم عن كسل
الى غد ان يوم العاجزين غد
'অলসতা রেখে দিতে পারে না আমার কাজকে আগামীকালের জন্য
আগামীকাল তো তাদেরই যারা অক্ষম আর অকর্মণ্য।'
নবি করিম ﷺ উম্মাহকে সকাল-সন্ধ্যা জপার জন্য কিছু দুআ-জিকির শিক্ষা দিয়েছেন। তার একটি হলো- اللهم إني أعوذ بك من الهم والحزن وأعوذ بك من العجز والكسل وأعوذ بك من الجبن والبخل وأعوذ بك من غلبة الدين وقهر الرجال.
'হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, আপনার কাছে আশ্রয় চাই ভীরুতা ও কার্পণ্য হতে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের রোষানল হতে।' আবু দাউদ : ১৫৫৫
কুরআনে কোনো ব্যস্ততা কিংবা প্রতিবন্ধকতা আসার করার আগে কল্যাণের কাজে অগ্রবর্তী ও প্রতিযোগী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'প্রত্যেকেরই (প্রত্যেক জাতি-গোষ্ঠীর) একটি দিক (কিবলা) আছে, যে দিকে সে ফিরে (প্রার্থনা করে)। সুতরাং সকল কল্যাণকর কাজে এগিয়ে যাও। যেখানেই তোমরা থাকো না কেন, আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের সবাইকে एकत्र করবেন।' সূরা বাকারা : ১৪৮
আহলে কিতাব এবং তাদের ওপর নাজিলকৃত কল্যাণের বিষয়ে বলেছেন- 'আল্লাহ চাইলে তোমাদের সবাইকে একটি উম্মতই বানাতে পারতেন।' কিন্তু তিনি তোমাদের প্রদত্ত কল্যাণের ভিত্তিতে পরীক্ষা করতে চান। সুতরাং তোমরা কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করো। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে।' সূরা মায়েদা : ৪৮
জান্নাত এবং তার নেয়ামতের প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন- 'তোমরা দৌড়ে এসো তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা মহাকাশ এবং পৃথিবীর মতো। তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য।' সূরা আলে ইমরান : ১৩৩
অন্য আয়াতে এসেছে- 'তোমরা প্রতিযোগিতা করে দৌড়ে এসো তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে আর সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের প্রশস্ততার মতো। এই জান্নাত প্রস্তুত রাখা হয়েছে তাদের জন্য, যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি এবং রাসূলদের প্রতি। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আল্লাহ অতীব অনুগ্রহপরায়ণ।' সূরা হাদিদ : ২১
আল্লাহ তাআলা জান্নাত ও মাগফিরাতের দিকে দ্রুততার সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দৌড়ানোর আদেশ দিয়েছেন। জান্নাত ও মাগফিরাতের দিকে দৌড়ানো অর্থ সেটি লাভের উপকারী দিকে দৌড়ানো। আর সেটি হলো ঈমান, তাকওয়া ও উত্তম আমল। এখানে প্রতিযোগিতা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রদর্শনীই নয়; বরং বড়-ছোট বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।' সূরা মুতাফফিফিন : ২৬
আল্লাহ তাআআ ইবরাহিমত্ন প্রথমে কয়েকজন নবির প্রশংসা করেছেন- 'ফলে আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়েছি এবং তার জন্য দান করেছি ইয়াহইয়াকে। আর তার জন্য স্ত্রীকে করে দিয়েছি (সন্তান ধারণের) যোগ্য। এরা সবাই কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতাকারী। তারা আমাকে ডাকত আশা ও ভয় নিয়ে এবং তারা ছিল আমার প্রতি বিনয়ী।' সূরা আম্বিয়া : ৯০
আহলে কিতাবের সৎকর্মশীল লোকদের প্রশংসা করেছেন- 'তারা ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং তারা ভালো কাজের আদেশ করে, মন্দ কাজ থেকে বারণ করে এবং মানব কল্যাণের ওপর তৎপর থাকে। এরা সালেহ লোকদের অন্তর্ভুক্ত।' সূরা আলে ইমরান : ১১৪
মুনাফিকদের নিন্দাবাদের সময় কুরআনের ভাষা ছিল- 'তারা যখন সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ায়, তখন তারা অলসতার সাথে দাঁড়ায়।' সূরা নিসা : ১৪২
তিনি আরও বলেন- 'তারা নামাজে আসে অলসতার সাথে, আর ব্যয় করে সংকুচিত মনে।' সূরা তাওবা : ৫৪
'তাদের অর্থ-সাহায্য গ্রহণ করতে নিষেধ করার কারণ হলো, তারা কুফরি করেছে আল্লাহর প্রতি, তার রাসূলের প্রতি এবং অলসেমি ছাড়া তারা সালাতে আসে না, আর অনিচ্ছাকৃত ছাড়া তারা দান করে না।' সূরা তাওবা : ৫৪
নবি করিম ﷺ কোনো প্রতিবন্ধকতা কিংবা বিপদ আসার আগে ঝটপট কিছু কাজ সেরে রাখার পরামর্শ দিতেন। তিনি বলেন- 'তোমরা কার্য সম্পাদনে সাতটি বিষয়ের অগ্রগামী হও। তোমরা কি এমন দারিদ্র্যের অপেক্ষায় আছ, যা আল্লাহকে ভুলিয়ে দেয় অথবা এমন ধনবান হওয়ার, যা আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার লিপ্ত করে দেয় অথবা এমন রোগের, যা স্বাস্থ্যকে ধ্বংস করে দেয় অথবা নির্বাচিত বার্ধক্যের অথবা এমন মৃত্যুর যা হঠাৎ করেই এসে যায় অথবা অপেক্ষা করছ দাজ্জালের অদৃশ্য অমঙ্গলের অথবা কিয়ামতের? আর কিয়ামত তো আরও বিভীষিকাময়, আরও তিক্ত।'
তিনি আরও বলেন- 'যে লোক ভয় পায়, সে ভোর রাতেই যাত্রী শুরু করে, আর ভোর রাতেই যে লোক যাত্রা শুরু করে, সে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারে। জেনে রেখ, আল্লাহ তায়ালার পণ্য খুবই দাবি। জেনে রেখ, আল্লাহ তায়ালার পণ্য হলো জান্নাত।' তিরমিজি

সময়ের মূল্য উপলব্ধিারী সকল মুমিনের উচিত হবে নিজেকে যথাসম্ভব কল্যাণের কাজে ডুবিয়ে রাখা। খুঁটি ধরে কিংবা অলসতার আবরণে কল্যাণের কাজে সাড়া দেওয়া যথেষ্ট নয়। কিছু কাজ করে বাকিটা দিনের জন্য রেখে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর যে দুর্বলতা কিংবা অপারগতা যে কারণেই হোক না কেন। কবি বলেন- ولا تؤخر شغل اليوم عن كسل
الى غد ان يوم العاجزين غد
'অলসতা রেখে দিতে পারে না আমার কাজকে আগামীকালের জন্য
আগামীকাল তো তাদেরই যারা অক্ষম আর অকর্মণ্য।'
নবি করিম ﷺ উম্মাহকে সকাল-সন্ধ্যা জপার জন্য কিছু দুআ-জিকির শিক্ষা দিয়েছেন। তার একটি হলো- اللهم إني أعوذ بك من الهم والحزن وأعوذ بك من العجز والكسل وأعوذ بك من الجبن والبخل وأعوذ بك من غلبة الدين وقهر الرجال.
'হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, আপনার কাছে আশ্রয় চাই ভীরুতা ও কার্পণ্য হতে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের রোষানল হতে।' আবু দাউদ : ১৫৫৫
কুরআনে কোনো ব্যস্ততা কিংবা প্রতিবন্ধকতা আসার করার আগে কল্যাণের কাজে অগ্রবর্তী ও প্রতিযোগী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'প্রত্যেকেরই (প্রত্যেক জাতি-গোষ্ঠীর) একটি দিক (কিবলা) আছে, যে দিকে সে ফিরে (প্রার্থনা করে)। সুতরাং সকল কল্যাণকর কাজে এগিয়ে যাও। যেখানেই তোমরা থাকো না কেন, আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের সবাইকে एकत्र করবেন।' সূরা বাকারা : ১৪৮
আহলে কিতাব এবং তাদের ওপর নাজিলকৃত কল্যাণের বিষয়ে বলেছেন- 'আল্লাহ চাইলে তোমাদের সবাইকে একটি উম্মতই বানাতে পারতেন।' কিন্তু তিনি তোমাদের প্রদত্ত কল্যাণের ভিত্তিতে পরীক্ষা করতে চান। সুতরাং তোমরা কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করো। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে।' সূরা মায়েদা : ৪৮
জান্নাত এবং তার নেয়ামতের প্রতি উৎসাহিত করে বলেছেন- 'তোমরা দৌড়ে এসো তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা মহাকাশ এবং পৃথিবীর মতো। তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য।' সূরা আলে ইমরান : ১৩৩
অন্য আয়াতে এসেছে- 'তোমরা প্রতিযোগিতা করে দৌড়ে এসো তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে আর সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের প্রশস্ততার মতো। এই জান্নাত প্রস্তুত রাখা হয়েছে তাদের জন্য, যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি এবং রাসূলদের প্রতি। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আল্লাহ অতীব অনুগ্রহপরায়ণ।' সূরা হাদিদ : ২১
আল্লাহ তাআলা জান্নাত ও মাগফিরাতের দিকে দ্রুততার সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দৌড়ানোর আদেশ দিয়েছেন। জান্নাত ও মাগফিরাতের দিকে দৌড়ানো অর্থ সেটি লাভের উপকারী দিকে দৌড়ানো। আর সেটি হলো ঈমান, তাকওয়া ও উত্তম আমল। এখানে প্রতিযোগিতা কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু প্রদর্শনীই নয়; বরং বড়-ছোট বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।' সূরা মুতাফফিফিন : ২৬
আল্লাহ তাআআ ইবরাহিমত্ন প্রথমে কয়েকজন নবির প্রশংসা করেছেন- 'ফলে আমরা তার ডাকে সাড়া দিয়েছি এবং তার জন্য দান করেছি ইয়াহইয়াকে। আর তার জন্য স্ত্রীকে করে দিয়েছি (সন্তান ধারণের) যোগ্য। এরা সবাই কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতাকারী। তারা আমাকে ডাকত আশা ও ভয় নিয়ে এবং তারা ছিল আমার প্রতি বিনয়ী।' সূরা আম্বিয়া : ৯০
আহলে কিতাবের সৎকর্মশীল লোকদের প্রশংসা করেছেন- 'তারা ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং তারা ভালো কাজের আদেশ করে, মন্দ কাজ থেকে বারণ করে এবং মানব কল্যাণের ওপর তৎপর থাকে। এরা সালেহ লোকদের অন্তর্ভুক্ত।' সূরা আলে ইমরান : ১১৪
মুনাফিকদের নিন্দাবাদের সময় কুরআনের ভাষা ছিল- 'তারা যখন সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়ায়, তখন তারা অলসতার সাথে দাঁড়ায়।' সূরা নিসা : ১৪২
তিনি আরও বলেন- 'তারা নামাজে আসে অলসতার সাথে, আর ব্যয় করে সংকুচিত মনে।' সূরা তাওবা : ৫৪
'তাদের অর্থ-সাহায্য গ্রহণ করতে নিষেধ করার কারণ হলো, তারা কুফরি করেছে আল্লাহর প্রতি, তার রাসূলের প্রতি এবং অলসেমি ছাড়া তারা সালাতে আসে না, আর অনিচ্ছাকৃত ছাড়া তারা দান করে না।' সূরা তাওবা : ৫৪
নবি করিম ﷺ কোনো প্রতিবন্ধকতা কিংবা বিপদ আসার আগে ঝটপট কিছু কাজ সেরে রাখার পরামর্শ দিতেন। তিনি বলেন- 'তোমরা কার্য সম্পাদনে সাতটি বিষয়ের অগ্রগামী হও। তোমরা কি এমন দারিদ্র্যের অপেক্ষায় আছ, যা আল্লাহকে ভুলিয়ে দেয় অথবা এমন ধনবান হওয়ার, যা আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার লিপ্ত করে দেয় অথবা এমন রোগের, যা স্বাস্থ্যকে ধ্বংস করে দেয় অথবা নির্বাচিত বার্ধক্যের অথবা এমন মৃত্যুর যা হঠাৎ করেই এসে যায় অথবা অপেক্ষা করছ দাজ্জালের অদৃশ্য অমঙ্গলের অথবা কিয়ামতের? আর কিয়ামত তো আরও বিভীষিকাময়, আরও তিক্ত।'
তিনি আরও বলেন- 'যে লোক ভয় পায়, সে ভোর রাতেই যাত্রী শুরু করে, আর ভোর রাতেই যে লোক যাত্রা শুরু করে, সে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারে। জেনে রেখ, আল্লাহ তায়ালার পণ্য খুবই দাবি। জেনে রেখ, আল্লাহ তায়ালার পণ্য হলো জান্নাত।' তিরমিজি

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00