📘 মুমিন জীবনে সময় > 📄 সময়ের বৈশিষ্ট্য

📄 সময়ের বৈশিষ্ট্য


কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সময় অন্য সবকিছু থেকে ব্যতিক্রম। আমাদের সেজন্য উপলব্ধিতে এনে সময়ের সাথে আচরণ করতে হবে। সময়ের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো-
১. ত্বরিত গতিতে চলমান হওয়া : সময় মেঘের গতিতে চলমান, বাতাসের গতিতে ধাবমান। সুখ বা আনন্দ, কিংবা বিষণ্নতা বা দুঃখ-সব ক্ষেত্রেই সময় এই গতি মেনে চলে। যদিও মনে হয়, সুখের দিনগুলো দ্রুত ফুরিয়ে যায়, আর কষ্টের দিনগুলো যেতেই চায় না; কিন্তু বাস্তবে ঘটে এমনটা নয়। যে যেমন করে ভাবে, তার কাছে ঠিক তেমনই মনে হয়। জনৈক কবি বলেছেন- فكأنها * مر سنين بالوصال وبالهنا
تم انثنت أيام هجر بعدها * فكأنها من طولها أعوام
تم انقضت تلك السنون وأهلها * فكأنهم وكأنهم أحلام
'ধারাবাহিক সুখময় একটি সময় কাটিয়েছি, বেশ কিছু বছর ধরে।
মনে হলো যেন কয়েকটি দিন...
এরপর শুরু হলো বিচ্ছেদ আর বেদনাভরা কালো দিন;
ক'দিন-ই বা গেল, উপলব্ধি কিন্তু বহু বছরের।
সুখ-দুঃখ কাটিয়ে নতুন সময়ে পা দিতেই;
এ তো শুধু স্বপ্ন এবং সবকিছু আগের।'
দুনিয়ায় মানুষের বয়স যত বেশিই হোক, বাস্তবে তা নিতান্তই ক্ষুদ্র। মানুষের জীবনে কত কিছু ঘটে! কিন্তু শেষটা ঠিকই মৃত্যু দিয়ে শুরু হয়। আল্লাহ কবির ওপর রহম করুন। তিনি বলেছেন- واذا كان اخر العمر موتا
فسواء قصيره والطويل
'মৃত্যুই যদি হয় জীবনের শেষ সীমান্ত, কি-ই বা পার্থক্য তার, লম্বায় নাকি সংক্ষিপ্ত!'
মৃত্যুর সময় জীবনের মুহূর্ত সংকুচিত হয়ে পড়ে। মনে হয় যেন জীবনিটা যেন আকস্মিক বিদ্যুতের গতিতে ফুরিয়ে যাওয়া কিছু সময় ছিল।
নূহ (আ.)-এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে, মৃত্যুর সময় আজরাইল তার কাছে এসে হাজির হলো। তিনি দুনিয়াতে আগে-পরে মিলিয়ে হাজার বছরের বেশি বেঁচে ছিলেন। আজরাইল তাকে জিজ্ঞাসা করল, 'হে সবচেয়ে দীর্ঘ জীবন প্রাপ্ত নবি! দুনিয়াকে কেমন পেয়েছেন?' তিনি বললেন, 'আমার কাছে দুনিয়াটা যেন একটা ঘর। যার একপাশ দিয়ে প্রবেশ করেছি, আর অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছি।'
ঘটনাটি সঠিক হোক কিংবা বেঠিক! তবুও এই কথাগুলো যেন একটা ধ্রুব সত্য! মৃত্যুর সময় জীবনিশক্তি দুর্বল ও সংকুচিত হয়ে পড়ে। আর এটা ঘটবে কিয়ামতের সময়ও। দুনিয়ায় সে যা ছেড়ে এসেছে এবং যা হারিয়েছে, তার স্বল্পতা বিস্ময়কর ধারণ করে তার সামনে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন- 'যে দিন তারা সে দিনটিকে দেখতে পাবে, তারা অনুভব করবে- পৃথিবীতে তারা কাটিয়েছে একটি সন্ধ্যা কিংবা একটি সকাল মাত্র।' সূরা নাজিয়াত : ৪৬
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন- 'যেদিন তিনি তাদের হাশর করবেন, সেদিন তাদের মনে হবে- (পৃথিবীতে) তারা অবস্থান করেছিল দিনের কিছুক্ষণ মাত্র। তারা পরস্পরকে চিনবে।' সূরা ইউনুছ : ৪৫
২. সময় কখনো ফিরে আসে না : এটা সময়ের আরেকটি বৈশিষ্ট্য। প্রত্যেকটি দিন গত হয়। প্রত্যেকটি ঘণ্টা অতিবাহিত হয়। প্রত্যেকটি মুহূর্ত অতিক্রম করে চলে যায়। তার কোনটিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার কোনো সুযোগ থাকে না। অতিক্রান্ত সময়ের নেই কোনো প্রতিদান কিংবা বিনিময়। হাসান বসরি সবচেয়ে চমৎকার ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে- 'ফজর ভেদ করে আলোকিত আসা প্রতিটি দিন ডেকে বলে, "হে আদম সন্তান! আমি এক নতুন সৃষ্টি। আমি তোমার কাজের ব্যাপারে সাক্ষী। আমার নিকট থেকে রসদ সংগ্রহ করো। কারণ, আমি বিদায় নেওয়ার পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কখনোই ফিরে আসব না।"'
এটি রাসূলের হাদিস নয়। অনেকে এটাকে হাদিস মনে করেন; বস্তুত এটি হাসান বসরির উক্তি। ইমাম জালালুদ্দিন এ ব্যাপারে বলেছেন, আর তাহা নবিদের ভাষার মতোই।
এ কারণেই অনেক কবি-সাহিত্যিককে বার্ধক্য আসার পর যৌবন ফিরে পাওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করতে দেখা যায়, কিন্তু তা নিছক কামনা মাত্র। এই আকাঙ্খা কম-বেশি যাই হোক, তাতে কোনো ফায়দা নেই। তাদের একজনের উক্তি হলো- الا ليت الشباب يعود يوما
فأخبره بما فعل المشيب
'যদি একদিনের জন্যও যৌবনটা ফিরে পেতাম!
বার্ধক্য আমার সাথে যা যা করেছে, শুধু তা জানিয়ে দিতাম।'
অন্য কবির বর্ণনায় ফুটে উঠেছে- জীবন কীভাবে কেটে যায়। কীভাবে দিবারাত্রি চলে যায়, যা আর কখনো ফিরে আসে না। ফিরে পাওয়ার আশাও থাকে না। তিনি বলেন- وما المرء الا راكب ظهر عمره * على سفر يفنيه باليوم والشهر
يبيت ويضحى كل يوم وليلة * بعيدا عن الدنيا قريبا الى القبر
'মানুষ মানেই সওয়ারী।
সে জীবনের পিঠে আরোহন করে আছে।
এমন এক সফরে আছে সে, শেষ হয় যা, দিন ও মাসের হিসাবে।
প্রতিটি দিন আসছে, আলোকিত দিন শেষে রাত্রিও কেটে যাচ্ছে,
দুনিয়া থেকে দূর দূরান্তে মহাকাল; সেই আখিরাতের দিকে।'
৩. সময় মূল্যবান সম্পদ : সময় দ্রুত ফুরিয়ে যায়। আর যখন ফুরিয়ে যায়, তখন তা আর পূরণ হওয়ার জন্য ফিরে আসে না। তার কোনো প্রতিদানও সম্ভব নয়। তাই এটি মানুষের মালিকানায় থাকা সবচেয়ে দামী এবং মূল্যবান জিনিস। সর্বোচ্চ সৃজনশীলতার রক্তক্ষরণ। বাস্তবে এটাই সকল মান্য ও সমাজের আসল মূলধন।
প্রচলিত প্রবাদে সময়কে সোনার সাথে তুলনা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এটি সোনা, জহরত, হিরা কিংবা সকল মূল্যবান মণি-মুক্তো পাথরের চেয়েও মূল্যবান। ইমাম শহিদ হাসান আল বান্না বলেন- 'জীবন! মানুষের জীবন জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত কাটানো সময় ব্যতীত অন্য কিছু নয়।'
একই প্রসঙ্গে হাসান বসরি বলেন- 'হে আদম সন্তান! তুমি মুষ্টিমেয় কিছু দিনের সমষ্টি। এক এক করে দিন যখন চলে যায়, তখন তোমার জীবনের একটা করে অংশ চলে যায়।' হিলয়াতুল আউলিয়া
যে মানুষ এখন সময়ের মূল্য নিয়ে অজ্ঞতায় আছে, তারও এমন একটা সময় আসবে, যখন সে সময়ের মূল্য ও মর্যাদা কাজে লাগানোর গুরুত্ব অনুধাবন করবে। কিন্তু তখন শুধু 'সময়' নামক পরিভাষাটি তার হাতে থাকবে না। এই প্রসঙ্গে কুরআনে দুটো সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; যখন মানুষ সময় অপচয়ের জন্য খুব আফসোস করবে, কিন্তু তার আফসোস আর কোনো কাজে আসবে না।
প্রথম অবস্থা : মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে। যখন মানুষ দুনিয়াকে পেছনে ফেলে আখিরাতে আলিঙ্গন করতে বাধ্য হবে, তখন সে চাইবে-যদি তাকে একটুখানি সময় ভিক্ষা দেওয়া হতো! যদি তার মৃত্যুকে একটু পিছিয়ে দেওয়া হতো! জীবনে সে যা ভুল করেছে, সব ঠিকঠাক করে দিয়ে আসত। যা ছেড়ে এসেছে তা পূর্ণ করে দিত। এ প্রসঙ্গে কুরআন বলে- 'হে ঈমানদার লোকেরা! তোমাদের ধন- মাল এবং সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর জিকির থেকে উদাসীন না করে। যারা সে রকম হবে, তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত। তোমাদের কারও মৃত্যু আসার আগেই তোমাদের আমরা যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো। তা না হলে মৃত্যু এলে বলবে- "আমার প্রভু! আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দাও, যাতে আমি দান করতে পারি এবং পুণ্যবান লোকদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।" সূরা মুনাফিকুন : ৯-১০
তার এই ফাঁকা বাসনার জবাব দেওয়া হবে একটি- 'যখন কারও নির্ধারিত সময় উপস্থিত হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে আর (এক মুহূর্তও) আকাশ দেবেন না। তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে খবর রাখেন।' সূরা মুনাফিকুন : ১১
দ্বিতীয় অবস্থা : আখিরাতে, যখন মানুষ তার সকল কাজের ফলাফল হাতে পেয়ে যাবে। তার সকল অর্জনের প্রতিদান দেওয়া হয়ে যাবে। জান্নাতের অধিবাসী জান্নাতে প্রবেশ করবে। জাহান্নামের অধিবাসী জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। তারা আকাঙ্ক্ষা করবে, যদি তাদের আবারও দুনিয়ার জীবনে পাঠানো হতো! তখন তারা তাদের জীবনকে আমল সালেহ দিয়ে সাজিয়ে নিত। আফসোস! তারা তখন নতুন জীবনের তালাশে ব্যস্ত। অথচ কর্মের সময় শেষ হয়ে প্রতিদানের সময় শুরু হয়ে গেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন- 'আর যারা কুফরি করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে তাদের জন্য মৃত্যুর ফয়সালা দেওয়া হবে না। ফলে তারা আর মরবে না এবং তাদের থেকে আজাবও লাঘব করা হবে না। এভাবেই আমরা শাস্তি দেবো প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে। তারা সেখানে আর্তনাদ করে বলবে- "প্রভু! আমাদের এখন থেকে বের করে নাও। এত দিন আমরা যে আমল করেছি, তার পরিবর্তে আমরা এখন থেকে পুণ্য কাজ করব।" (আল্লাহ বলবেন) "আমরা কি তোমাদের একটা দীর্ঘ জীবন দিইনি, যাতে কেউ সতর্ক হতে চাইলে সতর্ক হতে পারত? তা ছাড়া তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল। সুতরাং এখন আস্বাদন করো আজাব, জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।"' সূরা ফাতির : ৩৬-৩৭
বিদ্রূপাত্মক এক প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের থামিয়ে দেওয়া হবে- 'আমি কি তোমাদের একটা বয়স দিইনি, যাতে চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীর আগমন করেছিল।' সূরা ফাতির : ৩৭
তারা আর কোনো জবাব খুঁজে পাবে না। কারণ, তখন আল্লাহ কৈফিয়ত প্রদানের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি প্রত্যেক মানুষকে নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যে তখন অমনোযোগী হয়েছে, তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। বিশেষ করে যারা ৬০ কিংবা তার চেয়ে বেশি বয়স পেয়েছেন, তাদের জন্য সাবধান হওয়ার এটাই যথেষ্ট সময়। সে যে বয়স পেয়েছে, তা একজন অন্যমনস্কের সতর্ক হওয়া, বিভ্রান্তি থেকে ফিরে আসা কিংবা পাপী ব্যক্তির তওবার জন্য যথেষ্ট। সহিহ হাদিসে এসেছে- 'আল্লাহ কোনো লোককে কোনো সংশোধনের সুযোগ দেন। এমনকী তাকে ৬০ বছর পর্যন্ত অবকাশ দিয়েছেন।' বুখারি : ৬৪১৯

📘 মুমিন জীবনে সময় > 📄 সময়ের সাথে মুসলমানের দায়বদ্ধতা

📄 সময়ের সাথে মুসলমানের দায়বদ্ধতা


সময়ের এত বেশি গুরুত্বের কারণ হলো- প্রকৃতপক্ষে সময়ই জীবন। একজন মুসলিম মানুষের ওপর সময়ের সাথে বেশ কিছু দায়িত্ব চলে আসে। শুধু কিছু দায়িত্ব বললে ঠিক হবে না; বরং তার ওপর একগুচ্ছ দায়িত্ব আসে। তাকে সচেতনভাবে এই দায়িত্বগুলো উপলব্ধি করতে হবে। সর্বদা নিজ চোখের সামনে রাখতে হবে। আর সেটিকে উপলব্ধি ও জানার পর্যায় থেকে বিশ্বাস ও ইচ্ছার পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। আর সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বগুলো বাস্তবায়ন করেও দেখাতে হবে।

📘 মুমিন জীবনে সময় > 📄 সময় থেকে উপকৃত হওয়া

📄 সময় থেকে উপকৃত হওয়া


মুসলমানের প্রথম কথা হলো সময়কে সংরক্ষণ করা। প্রিয় সম্পদকে যেভাবে আগলে রাখা হয়, তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে সময়কে আগলে রাখা জরুরি। সময়ের সবটুকু ব্যবহার করে উপকৃত হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা দরকার। দুনিয়ার অপচয় থেকে পরকালীন যেকোনো উপকারী সবব্যবহার করতে হবে। এমন কিছু করা দরকার যা জাতিকে কল্যাণ, সৌভাগ্য এবং আধ্যাত্মিক ও বস্তুগত উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে।
আমাদের সালাফরা সবচেয়ে বেশি কৃপণ ছিলেন সময়ের ব্যাপারে। সময়ের মূল্য উপলব্ধির ক্ষেত্রে সর্বাধিক মুনাফাভোগী ব্যবসায়ীর মতো তারা ছিলেন।
হাসান বসরি বলেছেন- 'আমি বেশ কিছু জাতির সঙ্গে মেলামেশা করেছি। তোমরা তোমাদের দিরহাম-দিনারের প্রতি যতটুকু মনোযোগী, তারা তাদের সময়ের প্রতি তার চেয়েও বেশি মনোযোগী।'
তাদের সর্বোতকরণে প্রচেষ্টা ছিল নিয়মতান্ত্রিক কর্মের মাধ্যমে নিজেদের সময়কে নির্মাণ করার। কিঞ্চিত পরিমাণ সময়ও যাতে অবান্তরজনক কাজে ব্যয় না হয়। উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেন- 'রাত ও দিন তোমার মাঝে কাজ করে। তুমিও তাদের মাঝে কাজ করো।'
তারা বলতেন, সময়ের অপচয় করা অস্থিরতার আলামত। তারা আরও বলতেন- 'সময় একটি ধারালো তরবারি। যদি তুমি তাকে কাটতে না পারো, তাহলে সে তোমাকে কেটে ফেলবে।'

📘 মুমিন জীবনে সময় > 📄 সময় কাটানো

📄 সময় কাটানো


তারা সারাদিন নিজেদের ভবিষ্যৎকে বর্তমানের চেয়ে উন্নত করার জন্য কাজ করতেন। আজকের দিন যেন গতকালের চেয়ে উন্নত হয়, সেই প্রচেষ্টা চালাতেন। আর আগামী দিনকে করতে চাইতেন আজকের চেয়ে উন্নত। কোনো এক সালাফের অন্তর্বাণী ছিল এ রকম-
'যার আজকের দিন গতকালের মতো হলো, সে বোকা। আর যার আজকের দিন গতকালের চেয়ে খারাপ গেল, সে অভিশপ্ত।'
তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন- তাদের কোনো একটা দিন, দিনের কোনো একটা অংশ অথবা ক্ষুদ্র মুহূর্তও যেন বিফলে চলে না যায়; যা থেকে তারা উপকারী জ্ঞান, সৎ কাজে আদিষ্ট হওয়া কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির উপকার করতে সমর্থ না হন কিংবা জীবনের কোনো একটা সময় নিরর্থক কেটে যায়। তারা চাইতেন, উপলব্ধি শক্তি দিয়ে হলেও সামান্য কিছু সময় অপচয় না হোক কিংবা স্রোতে ভেসে না যাক।
নিজেদের কিংবা আশেপাশের কারও জ্ঞানত, জিজ্ঞাসিত কিংবা সৎ কর্মের উন্নতির কাজে ছাড়া অন্য কোনো একটি দিন কেটে যাওয়াকে তারা আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের নাফরমানি মনে করতেন। মনে করতেন, তারা বুঝি সময়ের বুকে খঞ্জর চালিয়ে দিয়েছেন।
ইবনে মাসউদ বলেন- 'সাধারণত আমি কোনো ব্যাপারে আফসোস করতাম না। আমার আফসোস ছিল একটা জায়গায় আর তা হলো- একটি দিনের সূর্য অস্ত চলে গেল, নির্ধারিত সময় কমে গেল, কিন্তু আমার কর্মে কিছু যোগ হলো না।'
অন্য একজন বলেছেন- 'যে দিনটি আমাকে অতিক্রম করল, কিন্তু আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আমার জ্ঞানকে বাড়িয়ে দিলো না, সে দিনের সূর্যোদয় আমার ওপর কোনো বরকত নিয়ে এলো না।'
অনেকে এটি রাসূলের হাদিস বলেছেন। ইবনে তাইমিয়ার মতে- এটি রাসূলের হাদিস নয়। তিনি মিনহাজুস সুন্নাহ গ্রন্থে বলেছেন, এটিকে সাহাবি বা তাবেয়ির কথা বলাই যথেষ্ট।
একজন কবি বলেছেন- اذا مر بي يوم ولم اقتبس هدى
ولم استفد علما فما ذاك من عمري
'একটি দিন গেল চলে, সত্যের কিছুই ধরা দিলো না।
এ কেমন জীবন বলো, কী হবে আমার তাহলে?'
হাকিম (রহ.) বলেন- 'যার জীবন থেকে একটি দিন চলে গেল, আর কোনো কর্তব্য সম্পাদন করতে পারল না, কোনো ফরজ আদায় করতে পারল না, আপন মর্যাদায় কিছু যোগ করতে পারল না, কোনো প্রশংসা অর্জন করতে পারল না, কল্যাণকর কিছু প্রতিষ্ঠা করতে পারল না, কোনো জ্ঞানও অর্জন করতে পারল না, সে তার দিনটির বুকে ছুরি চালাল এবং নিজের ওপর জুলুম করল।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00