📄 ইয়াতিম শিশু প্রতিপালনের অধিকার
দুর্ভাগ্যক্রমে কোনো শিশু যদি বালেগ হওয়ার পূর্বে পিতার মৃত্যুর কারণে পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়, তবে তাকে ইয়াতিম বলা হয়। তখন তার লালন-পালনের দায়িত্ব মুসলিম সমাজের ওপর বর্তায়। যদি সে দরিদ্র হয়, তবে তার ব্যয়ভার আত্মীয়স্বজন বহন করবে। আর যদি সে যদি ধনী হয়, তবে উত্তম উপায়ে তার সম্পদ বিনিয়োগ করবে।
যদি তার জিম্মাদারি নেওয়ার মতো আত্মীয়স্বজন না থাকে, তবে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সমাজকে তার লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে হবে। মুসলিমদের অভিভাবক নবি ﷺ বলেছেন- 'আমি প্রত্যেক মুসলিমের সত্তার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী, যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যাবে, তা হবে তার উত্তরাধিকারদের জন্য। আর যে ব্যক্তি কোনো ঋণ বা দরিদ্র ছোটো সন্তান রেখে যায়, তার দায়িত্ব আমার ওপর।'
এ কারণেই কুরআন কারিমে গনিমতের মালে ইয়াতিমের হক রাখা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রাসূলের, তাঁর আত্মীয়স্বজনের, ইয়াতিমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্য।' সূরা আল-হাশর : ৭
তিনি আরও বলেন- 'আর এ কথাও জেনে রেখ যে, কোনো বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনিমত হিসেবে পাবে, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর ও রাসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্মীয়স্বজনের জন্য এবং ইয়াতিম-অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য।' সূরা আনফাল : ৪১
ইসলামে ইয়াতিমের লালন-পালনকে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য হাসিলের জন্য অন্যতম মহান নেক আমল হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রাসূল ﷺ বলেন- 'আমি ও ইয়াতিমের প্রতিপালনকারী জান্নাতে এভাবে (পাশাপাশি) থাকব, এ কথা বলে তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙুলের প্রতি ইশারা করেন এবং এ দুটির মাঝে (সামান্য) ফাঁকা রাখেন।'
ইসলাম ইয়াতিমের ব্যাপারে মুসলিম সমাজের কাছে দুটো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দাবি করে-
• ইয়াতিমের সম্পদ থাকলে তা সংরক্ষণ করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'তোমরা প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত ইয়াতিমদের ধন-সম্পদের ধারে কাছেও যেয়ো না; তবে উত্তম পন্থায় যেতে পারো।' সূরা আনআম: ১৫২
যারা অন্যায়ভাবে ইয়াতিমদের সম্পদ ভক্ষণ করে, তাদের ব্যাপারে কঠিন হুমকি দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'যারা ইয়াতিমদের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে খায়, তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভর্তি করেছে এবং শীঘ্রই তারা আগুনে প্রবেশ করবে।' সূরা আন-নিসা: ১০
• এটি প্রথমটির চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো, ইয়াতিমের ব্যক্তিত্বের প্রতি খেয়াল রাখা; তাকে ধমক না দেওয়া, কঠোর কথা না বলা এবং হেয় না করা। যেমনিভাবে আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'সুতরাং আপনি ইয়াতিমের প্রতি কঠোর হবেন না।' সূরা আদ-দুহা: ৯
অন্যত্র বলেন- 'আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে বিচারদিবসকে মিথ্যা বলে? সে তো সেই ব্যক্তি, যে ইয়াতিমকে গলা ধাক্কা দেয়।' সূরা মাউন: ১-২
এভাবে ইয়াতিম শিশু কোনো সমস্যা ও মানসিক যন্ত্রণা ছাড়াই শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব নিয়ে সুষ্ঠুভাবে বেড়ে উঠতে পারবে। সে নিজেকে সমাজের অংশীদার মনে করতে শিখবে এবং নিজেকে হীন বা তুচ্ছ ভাবা থেকে বিরত থাকতে পারবে; বরং সে অনুভব করবে, সমাজ তার প্রতি খেয়াল রাখছে, তার হক আদায়ের জিম্মাদারি নিয়েছে এবং তার মর্যাদা সংরক্ষিত রয়েছে। বড়োরা তার সঙ্গে নিজ ছেলের মতো এবং ছোটোরা আপন ভাইয়ের মতো আচরণ করছে।
📄 পিতৃত্বের দাবি ত্যাগ
এমন অনেক পিতা রয়েছে, যারা জীবিত অবস্থায় স্বেচ্ছায় পিতৃত্বের দাবি ত্যাগ করে। পিতৃত্ব পরিত্যাগ করা জায়েজ নেই। কারণ, পিতার ওপর সন্তানদের অধিকার রয়েছে। পিতা কেন তার পিতৃত্ব ত্যাগ করবে? হতে পারে তিনি নিজের প্রবৃত্তি ও লালসা নিয়ে ব্যস্ত অথবা ধন-সম্পদ অর্জন ও সঞ্চয়ে মত্ত। সন্তানকে মায়ের কাছে ছেড়ে দিয়ে সম্পদের দুনিয়ায় অঙ্ক কষতে মগ্ন। আর ওদিকে মা একই সঙ্গে বাবা-মা দুজনের দায়িত্ব পালনে গলদঘর্ম হয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের পিতা যেন জীবিত থেকেও মৃত, উপস্থিত থেকেও অনুপস্থিত; বরং এ ধরনের পিতা জীবিত থাকার চেয়ে মৃত্যুই সন্তানের জন্য অধিক কল্যাণকর। কারণ, মানুষ পিতৃহারা ইয়াতিমের প্রতি অনুগ্রহ করে, কিন্তু পিতার অবহেলিত সন্তানের প্রতি অনুগ্রহ করে না।
এমন দুর্ভাগা পিতা হয়তো লাখ লাখ কিংবা মিলিয়ন বিলিয়ন অর্থ সঞ্চয় করতে পারে, কিন্তু এ সম্পদ অর্জন করতে গিয়ে হারিয়ে ফেলে নিজের আদরের সন্তানকে, যা স্পষ্টভাবে বড়ো ধরনের ক্ষতি। কারণ, সেই পিতা উত্তম জিনিসের বিনিময়ে ঠুনকো জিনিস গ্রহণ করছে।
এমন পিতাগণ নিজ সন্তানের ওপর জুলুম করছে। অনুরূপভাবে স্ত্রীর ওপর সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দিয়ে তার ওপরও জুলুম করেছে। অনেক সময় নারী চাকরিজীবী হয়। দিনের অধিকাংশ সময় তাকে কর্মক্ষেত্রে থাকতে হয়। অতঃপর ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরে আবার ঘর সামলাতে হয়, সন্তানের যত্ন নিতে হয়। সন্তানের খাবার-দাবার, পোশাকাদি, পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ সবকিছুর খেয়াল রাখতে হয়। স্কুলে যাওয়ার জন্য সন্তানকে ভোরবেলায় ঘুম থেকে ডেকে তুলতে হয়। তাদের জন্য খাবার তৈরি করতে হয়। পড়ার কক্ষ, ঘুমের কক্ষ ইত্যাদি প্রস্তুত করতে হয়। ফলে সে নারী একাধারে মা, বাবা, চাকরানী, বাবুর্চি, সন্তান পালনকারিণী ও শিক্ষিকা! অথচ এসব দায়িত্বের ব্যাপারে বাবা একেবারই উদাসীন!
এটি স্পষ্ট জুলুম, যা অনেক পুরুষই করে থাকে। এটি স্ত্রীর ওপর জুলুম, সন্তানের ওপরও জুলুম। অথচ আল্লাহ তায়ালা জালিমদের পছন্দ করেন না।
📄 পিতা-মাতার স্নেহ বঞ্চিত সন্তান
উপর্যুক্ত অবস্থার চেয়ে আরও মারাত্মক অবস্থা হলো- পিতা-মাতা উভয়ে ব্যস্ততার কারণে আপন সন্তানের ব্যাপারে উদাসীন থাকা, তার কল্যাণের চিন্তা না করা, তাকে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় সম্পর্কে শিক্ষা না দেওয়া এবং কোনটা প্রয়োজন আর কোনটা অপ্রয়োজন তা না শেখানো।
তারা দুজনেই ব্যস্ত, বাবা ব্যস্ত ব্যবসা বা সম্পদ অর্জনের কাজে। মা ব্যস্ত নিজের রূপচর্চা : গালের রং, ঠোটের রং ও চুলের রঙে বৈচিত্র আনয়নে কিংবা টেলিফোন, বান্ধবী, পার্টি ইত্যাদি নিয়ে। ফলে সন্তান হয়ে উঠে বাবা-মাহারা। অথচ পিতা-মাতা উভয়ে জীবিত; তারা জমিনে দিব্যি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে! এমনকী তারা সব কাজেই ভুমিকা রাখছে; কেবল পিতৃত্ব আর মাতৃত্বেই গাফলতি।
এমন সন্তানই প্রকৃত ইয়াতিম। যার ব্যাপারে কবিসম্রাট আহমদ শাওকী বলেছিলেন- 'সে ইয়াতিম নয়- যার পিতা-মাতা তাকে অসহায় রেখে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে। অতঃপর সে দুনিয়াতে তাদের বিকল্প পেয়ে সুন্দর শিক্ষা-দীক্ষা লাভ করেছে; বরং প্রকৃত ইয়াতিম তো সে-ই, যার মা তাকে ত্যাগ করেছে এবং বাবা ব্যস্ত রয়েছে।'
📄 সন্তানের উত্তম প্রতিপালনে পারস্পরিক দায়িত্ব
সন্তান প্রতিপালনে বাবা-মায়ের সম্পূরক দায়িত্ব হলো-
• আত্মিকভাবে তার মনে ঈমান ও ইবাদতের বীজ বপন করা।
• মানসিকভাবে তার মাঝে উত্তম জ্ঞান ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো।
• চারিত্রিকভাবে উত্তম শিষ্টাচার ও আখলাক শিক্ষা দেওয়া।
• সামাজিকভাবে কল্যাণকর কাজ ও জনসেবার মানসিকতা গড়ে তোলা।
• রাজনৈতিক দিক থেকে স্বজাতি ও নিজ ধর্মের প্রতি বিশ্বস্ত হতে শেখানো।
• শিল্প-সংস্কৃতির জন্য তার মাঝে জগতের পারিপার্শ্বিক সৌন্দর্যের অনুভূতি সৃষ্ট করা।
• ভাষাগত দিক থেকে স্বজাতির ভাষার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা, যেন সে ভাষা ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং মনের অনুভূতি উত্তমভাবে প্রকাশ করতে পারে।
সন্তানের এ ধরনের প্রতিপালন কঠিন দায়িত্ব। এ ব্যাপারে পিতা-মাতা দুজনই জিজ্ঞাসিত হবেন। যেমনিভাবে মহানবি ﷺ বলেছেন- 'তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব ইমাম; যিনি জনগণের দায়িত্বশীল, তিনি তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। পুরুষ গৃহকর্তা তার পরিবারের দায়িত্বশীল, সে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। নারী তার স্বামীর ঘরে পরিবার, সন্তান-সন্ততির ওপর দায়িত্বশীল, সে এসব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।' বুখারি: ৮৯৩
এ দায়বদ্ধতা আল্লাহর কাছে, বিবেকের কাছে এবং সমাজের কাছে।
সন্তানের শৈশবে মায়ের দায়িত্ব বাবার চেয়ে বেশি। কারণ, তিনি সন্তানের কাছে বাবার চেয়ে বেশি সময় কাটান এবং সরাসরি দেখাশোনা করেন। এ জন্যই জ্ঞানী-গুণী, বিশেষজ্ঞ, সাহিত্যিক ও কবিগণ মায়ের দায়িত্বের ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন। তারা সন্তানের শিক্ষা-দীক্ষার জন্য মাতৃক্রোড়কে সর্বপ্রথম বিদ্যাপীঠ হিসেবে অভিহিত করেছেন। নীলনদের কবি হাফেজ ইবরাহিম তাই বলেছেন- 'মা এমন এক বিদ্যাপীঠ, যাকে যথাযথভাবে প্রস্তুত করার মানে হলো উত্তম চরিত্রের একটি জাতি প্রস্তুত করা।'
সন্তান যত বড়ো হতে থাকে, পিতার দায়িত্বও তত বাড়তে থাকে। আস্তে আস্তে বাবার দায়িত্ব মায়ের চেয়ে বেশি হতে থাকে। কারণ, তখন সন্তানের জন্য দিক-নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানের প্রয়োজন পড়ে। প্রয়োজন পড়ে তার আচার-আচরণের প্রতি নিবিড় পর্যবেক্ষণের। এসব দায়িত্ব প্রধানত পিতার ওপরই বর্তায়।
কোনো কোনো পিতা মনে করেন, তার দায়িত্ব কেবল সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যন্ত। অতঃপর সন্তানের কথা ভুলে যায়, কিছুই জানে না। এমনও অনেক পিতা রয়েছে, যারা জানেই না তার সন্তান কোন বিদ্যালয়ে পড়ে? কোন ক্লাসে পড়ে? সে পাশ করেছে, নাকি ফেল করেছে? সে বন্ধু-বান্ধব ছাড়া অন্তর্মুখী জীবনযাপন করছে, নাকি বন্ধু-বান্ধবে মত্ত? তার বন্ধুগণ খারাপ নাকি ভালো, অসুস্থ নাকি বিপথগামী?
এ ধরনের পিতাকে সন্তানের বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশে ডাকা হলে কখনো উপস্থিত হয় না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সন্তানের আচার-আচরণের ব্যাপারে পত্র পাঠানো হলেও তার উত্তর প্রদান করে না। এমনকী পড়েও দেখে না। সন্তান কী সঠিক পথে চলল নাকি বিগড়ে গেল। পড়াশোনা করছে নাকি অবহেলা করছে- এসব ব্যাপারেও তার কোনো মাথাব্যথা নেই।
কোনো কোনো পিতা মনে করে, তার দায়িত্ব কেবল সন্তানের বস্তুগত চাহিদা মেটানোর মাঝেই সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ তার জন্য ভালো খাবার, উত্তম পোশাক, সুন্দর বাড়ি ও গাড়ির ব্যবস্থা করা এবং এসবের বিলাসবহুল আয়োজন করাই কেবল পিতার দায়িত্ব! সন্তান যত অর্থ চায়, তা-ই দিয়ে দেয়। কোনো দাবি-ই অপূর্ণ রাখে না। ছোটো-বড়ো সব আবদারই পূরণ করে। অথচ এসবের মাধ্যমে তাকে মূলত অন্যায়ের প্রতি-ই উৎসাহিত করা হয়। যেমনিভাবে কবি আবুল আতাহিয়া বলেন- 'যৌবন, অবসর ও সম্পদের সুলভ্যতা একজন মানুষের নষ্ট হওয়ার জন্য অনেক বড়ো কারণ।'
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ ধরনের পিতা সন্তানের সব মনোবাসনা পূরণ করে মনে করে- সন্তানের প্রতি সকল কর্তব্য পালন করা হয়েছে। অথচ আল্লাহ তায়ালা স্বামী ও বাবাদের লক্ষ করে বলেন- 'হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।' সূরা তাহরিম : ৬
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ যাদের ব্যাপারে মানুষকে জিজ্ঞেস করবেন, সন্তান-সন্ততি তার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা পিতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তারা নিজেদের এবং পরিবারকে জাহান্নাম হতে রক্ষা করে। তারা যেন কেবল খাওয়া, পরিধান এবং অন্যান্য বস্তুগত চাহিদা পূরণ করাকেই যথেষ্ট মনে না করে।
এ জন্য এ আয়াতের তাফসিরে হজরত আলি বলেন- 'তাদের কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দান করো।' জাদুল মাসির
রাসূল ﷺ হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন- 'সন্তানের জন্য পিতার পক্ষ হতে সুন্দর শিষ্টাচারের চেয়ে উত্তম দান আর কিছু হতে পারে না।' তিরমিজি ও হাকিম
যে পিতা তার সন্তানদের ভালোবাসে, স্নেহ করে, তার কর্তব্য হলো তাদের জাহান্নাম হতে রক্ষা করা। জাহান্নাম হতে রক্ষা করার অর্থ হলো- তাদের জাহান্নামে যেতে বাধা দেওয়া। বাধা দেওয়ার পদ্ধতি হলো- নাফরমানি, বড়ো গুনাহ, নিষিদ্ধ কাজ এবং ফরজ তরক করা হতে রক্ষা করা। অনুরূপভাবে তাদের ছোটোবেলা থেকে আল্লাহ তায়ালা, পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, পূর্ণ সমাজ ও নিজের প্রতি দায়িত্ব পালনে অভ্যস্ত করে গড়ে তোলা। এই শিক্ষা তাদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবে এবং জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'তারপর যাকে দোজখ থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে সফল হবে।' সূরা আলে ইমরান : ১৮৫