📘 মুমিন জীবনে পরিবার 📄 সমকামিতার প্রচলন

📄 সমকামিতার প্রচলন


ব্যভিচারের অশ্লীলতার চেয়ে মারাত্মক বিপদ হলো সমকামিতার অশ্লীলতা, যা সকল ধর্মেই নিষিদ্ধ। অতীত ইতিহাসে একমাত্র 'কওমে লুত' ব্যতীত আর কোথাও এটি দেখা যায়নি। সর্বপ্রথম তারাই এ অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়েছিল।

তাদের পূর্বে বিশ্বে আর কেউ এটা করেনি। তাদের মাঝে এ অভ্যাস নেশার পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল।

এমনকী তারা কোনো লজ্জা ছাড়াই লুত (আ.)-এর মেহমানদের সাথেও এই অশ্লীল কাজে লিপ্ত হতে ওত পেতে ছিল! অথচ লুত (আ.) তাদের এ বলে নিষেধ করেছিলেন- 'সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরুষদের সাথে কুকর্ম করো? তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন করো? তোমরা তো সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।' সূরা শুআরা: ১৬৫, ১৬৬

অন্য সূরাতে এসেছে, তিনি তাদেরকে বলেছেন- 'তোমরা তো এক বর্বর সম্প্রদায়।' সূরা নামল: ৫৫

আরও বলেছেন- 'বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করছ।' সূরা আ'রাফ: ৮১

আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'সে বলল, হে আমার পালনকর্তা, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো।' সূরা আনকাবুত : ৩০

তিনি আরও বলেন- 'আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে এমনিভাবে শাস্তি দিয়ে থাকি।' সূরা আহকাফ : ২৫

এভাবে আমরা দেখছি- আল্লাহ তায়ালা তাদের সীমালঙ্ঘনকারী, বর্বর, অপরাধী ও দুষ্কৃতকারী বলে অভিহিত করেছেন। কারণ, তারা আল্লাহর দেওয়া মানবীয় সুষ্ঠু স্বভাব পরিবর্তন করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'উত্তরে তাঁর কওম শুধু এ কথাটিই বলল, লূত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক, যারা শুধু পাক-পবিত্র সাজতে চায়।' সূরা আন-নামল: ৫৬

এমনকী অশ্লীলতা হতে বিরত থাকাকে তারা এমন অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করল, যার দরুন ভালো লোকদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা আবশ্যক মনে করেছিল! তখন নিষিদ্ধ বিধানকে তুচ্ছ প্রতিপন্নকারী এ সকল অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালার কুদরতি হস্তক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ল। তাদের দুই ধরনের আসমানি শাস্তি দেওয়া হলো। একটি হলো তাদের জনপদকে উলটিয়ে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেওয়া। অন্যটি হলো পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'এবং তার ওপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম, যার প্রতিটি তোমার পালনকর্তার নিকট চিহ্নিত ছিল। আর সেটি পাপীষ্ঠদের থেকে খুব দূরেও নয়।' সূরা হুদ : ৮২-৮৩

এ অপরাধ সম্পর্কে কুরআনের বিভিন্ন সূরায় বর্ণনা এসেছে। তাওরাতেও সামুদ জনপদের দুষ্কৃতির আলোচনায় এ ব্যাপারে বর্ণনা এসেছে- যখন তাদের অন্যায় ও অশ্লীলতা প্রসারতা লাভ করেছে, তখন তাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার আজাব নেমে এসেছে এবং সেই জনপদ পরিপূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। Book of Exodus : 1-30/19

এ অপরাধ সম্পর্কে খ্রিষ্টানদের পবিত্র গ্রন্থেও সতর্ক করা হয়েছে। পল বলেন- 'পুরুষ পুরুষের সাথে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ার ফলে তারা নিজেদের ভ্রান্তির ন্যায্য শাস্তির উপযুক্ত হয়েছে।' রোমের উদ্দেশ্যে পলের চিঠি : ২৭/১

অথচ আজ সব ধরনের প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে এই অশ্লীল কাজের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। মানুষের মাঝে প্রসার ঘটানো হচ্ছে। এর পক্ষে আওয়াজ তোলা হচ্ছে। সরকারি সংস্থা গড়ে উঠছে। বিভিন্ন দেশের সংসদে এর পক্ষে ওকালতি করা হচ্ছে। এমনকী সমকামীদের সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেলও রয়েছে।

তারা প্রকাশ্যে, একই লিঙ্গের দুই পুরুষ বা দুই নারীর পরিবার গঠনের জন্য অর্থাৎ পুরুষ পুরুষকে এবং নারী নারীকে বিবাহ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে! আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিবাহ সংগঠিত হবে এবং তা সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যায়িত হবে! এই ঘৃণ্য কাজকে আবার কোনো কোনো আধুনিকতাবাদী উচ্চবিলাসী পাদরি আশীর্বাদ করছে। নেতৃত্ব ধরে রাখতে বা ক্ষমতার পতন ঘটাতে সমকামীদের প্রভাব রয়েছে বলে কোনো কোনো পশ্চিমা সরকার তাদের তোষামোদ করার জন্য সমকামী বিবাহ স্বীকৃতি দিয়েছে!

এ বছরের (২০০৪ সালে) গ্রীষ্মকালে জায়োনবাদী ইহুদি লবির নেতৃত্বে আমার বিরুদ্ধে লন্ডনে যে সকল অভিযোগ উত্থাপন করা হয়, তার মধ্যে একটি ছিল- আমি সমকামিতা ও সমকামীদের বিরোধিতা করি এবং তাদের ব্যাপারে আমার ভূমিকা আক্রমনাত্মক!

আমার সাথে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম তথা সংবাদপত্র, রেডিও ও টিভির প্রতিনিধিগণ সাক্ষাৎ করেন। আমাকে প্রশ্ন করেন, সমকামিতা ও সমকামীদের ব্যাপারে আপনার স্পষ্ট মতামত কী? তাদের বললাম, সত্যি বলতে এ বিষয়ে আমার বিশেষ কোনো মতামত নেই। আমার মতামত তা-ই, যা সকল আসমানি ধর্ম তথা ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ যা তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে এসেছে। আমার মত তা-ই, যা ভ্যাটিকানের পোপ বলেছেন, অন্যান্য খ্রিষ্টান পাদরিগণ বলেছেন, ইহুদি ধর্মগুরুগণ বলেছেন এবং সর্বত্র চারিত্রিক মূল্যবোধের প্রবক্তাগণ বলেছেন।

এ মারাত্মক চারিত্রিক বিকৃতির বিরোধিতায় ধর্ম মান্যকারী কোনো ব্যক্তির অবস্থান লুত (আ.)-এর চেয়ে ব্যতিক্রম হতে পারে না। কারণ, সমকামিতায় লিপ্ত বিকৃত রুচির লোকগণ আল্লাহর দেওয়া সুষ্ঠু স্বভাবকে পরিবর্তন করে, নারীর স্থলে পুরুষকে গ্রহণ করে নারীর চাহিদা পূরণকে অবহেলা করে।

মানবজাতি যদি সেসব বিকৃত চরিত্রের লোকদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের এ অন্যায় চিন্তা মেনে নেয়, তবে এক প্রজন্ম পরেই মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটবে। কারণ, নারী-পুরুষের সম্পর্ক ব্যতীত বংশ বৃদ্ধি সম্ভব নয়। আর এ জন্যই আল্লাহ তায়ালা নারী ও পুরুষের মধ্যে বিবাহের বিধান করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px