📘 মুমিন জীবনে পরিবার 📄 অবাধ যৌনতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো

📄 অবাধ যৌনতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো


এবার এমন একটি মারাত্মক বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করতে চাই, যা পারিবারিক ব্যবস্থাসহ সমগ্র মানবজাতির জন্য ধ্বংসের কারণ। অথচ তার মোকাবিলায় মানবজাতি দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে পারেনি। আর তা হলো- 'অবাধ যৌনতার জীবনদর্শন', যা সকল আসমানি শিক্ষাবিরোধী এবং জমিনের কুপ্রবৃত্তির অনুগামী দর্শন। ইহুদি, খ্রিষ্টান ও ইসলামসহ সকল ধর্মে এ জীবনদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এটি সকল চারিত্রিক ও নৈতিক দর্শনের এবং উচ্চ আদর্শের বিরোধী; যা অর্জনে মানুষকে আত্মিক সাধনা ও প্রবৃত্তির মোকাবিলা করতে হয়। ফলে মানুষ আত্মিক পরিশুদ্ধি ও উন্নতি লাভ করে।

সকল আসমানি ধর্মে ব্যভিচারকে হারাম করা হয়েছে এবং বড়ো পাপসমূহের মধ্যে অন্যতম পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

তাওরাতের প্রসিদ্ধ দশটি নির্দেশের মধ্যে রয়েছে- 'হত্যা করো না, ব্যভিচার করো না, চুরি করো না।' ইঞ্জিল মথি: ২৭-২৯/৫

হত্যা নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে মানুষের জীবন রক্ষার গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে এবং ব্যভিচার নিষিদ্ধ করে মানুষের সম্মান ও বংশ রক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে চুরি নিষিদ্ধ করে সম্পদ ও মালিকানা রক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঈসা মসিহ (আ.) এতে আরও যোগ করে বলেন- 'তোমরা শুনেছ যে, বলা হয়েছে ব্যভিচার করো না। আর আমি তোমাদের বলছি- যে ব্যক্তি কামনার সাথে কোনো নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করল, সে যেন মনে মনে তার সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হলো! যদি তোমার ডান চোখ তোমার জন্য ফাঁদ হয়ে থাকে, তবে তা উপড়ে ছুড়ে ফেলে দাও। কারণ, তোমার পূর্ণ দেহ জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার চেয়ে দেহের কোনো অঙ্গ হারানো তোমার জন্য অধিক উত্তম।' Book of Exodus: 13-15/20

ইসলাম ব্যভিচারকে আরও কঠিনভাবে হারাম করেছে। এটিকে শুধু নিষেধই করেনি; বরং ব্যভিচারের নিকটবর্তী হতেও বারণ করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'আর তোমরা ব্যভিচারের ধারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটি অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।' সূরা আল-ইসরা : ৩২

এর উদ্দেশ্য হলো সে সকল প্রাথমিক কাজ করতে নিষেধ করা, যা ব্যভিচারের পথ সুগম করতে পারে। যেমন : বিপরীত লিঙ্গের মানুষকে স্পর্শ করা, চুমু দেওয়া, তার সাথে নির্জনে মিলিত হওয়া অথবা কামনার সাথে তার প্রতি দৃষ্টিপাত করা ইত্যাদি।

এসব কাজ নিষেধ করা হয়েছে কারণ, মানবাত্মার ওপরে মানুষের যৌন প্রবৃত্তির প্রভাব রয়েছে। এমনকী ‘ফ্রয়েডের’ মনোবিজ্ঞানে মানুষের পূর্ণ আচরণকে যৌন প্রবৃত্তির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ঈসা (আ.)-এর পক্ষ হতে বর্ণিত কুদৃষ্টি হারামের সাথে মুহাম্মাদ ﷺ-এর শিক্ষার মিল রয়েছে।

এ সম্পর্কে রাসূল ﷺ বলেন- ‘দুচোখ জিনা করে। তার জিনা হয় দৃষ্টির মাধ্যমে। দুই কান জিনা করে। তার জিনা হয় শোনার মাধ্যমে। জবান জিনা করে। তার জিনা হয় কথার মাধ্যমে। হাত জিনায় লিপ্ত হয়। তার জিনা হয় স্পর্শের মাধ্যমে। পায়ের জিনা হয় (ব্যভিচারের পথে) হাঁটার মাধ্যমে। অন্তর জিনার বাসনা ও কামনা করে, আর লজ্জাস্থান তা বাস্তবায়ন করে।’ বুখারি : ৬২৪৩, মুসলিম : ২৬৫৭

অন্য বর্ণনায় এসেছে- ‘মুখও জিনা করে। তার জিনা হচ্ছে চুমু দেওয়া।’ মুসলিম : ২৬৫৭

মানবজাতি সুদীর্ঘকাল পর্যন্ত পবিত্রতা ও সচ্চরিত্রের স্বভাব আঁকড়ে ছিল। কিছু ব্যতিক্রমী সমাজ ছাড়া সর্বত্রই অশ্লীলতা ছিল বিরল ও গোপনীয়। কিন্তু বর্তমানে যে আধুনিক সভ্যতা বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তা নবিদের প্রদর্শিত চারিত্রিক মূল্যবোধকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সকল বন্ধন ছিন্ন করার জন্য সজোরে আহ্বান জানাচ্ছে, যেন মানুষ যেকোনো উপায়ে যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য প্রবৃত্তির পেছনে ছোটে! অথচ এভাবে মানুষ শেষ পর্যন্ত পরিতৃপ্ত হতে পারে না; বরং তারা যতই পান করছে, ততই যেন পিপাসা বেড়ে চলেছে।

এভাবে আমরা দেখছি, মানুষ ধীরে ধীরে শালীন পোশাক ত্যাগ করছে। কেউ কেউ সম্পূর্ণ উলঙ্গতায় উপনীত হয়েছে। উলঙ্গদের সংস্থা ও ক্লাব তৈরি হয়েছে এবং তারা স্পষ্টভাবে উলঙ্গপনার দিকে আহ্বান জানাচ্ছে।

কোনো কোনো সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি এমন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, তারা টিনেজার কোনো মেয়ের সতীত্ব টিকে থাকাকে লজ্জাজনক মনে করে। বিবাহ ছাড়া হাজারো; এমনকী লাখো কুমারী গর্ভবতী হচ্ছে। কোনো ধরনের শর্ত ছাড়া গর্ভপাতের বৈধতা দেওয়ার জন্য দাবি উঠেছে। কোনো কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে তা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এর পক্ষে সাফাই গাওয়া হয়েছে। যেমনটা ১৯৯৪ সালের গ্রীষ্মকালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত 'অধিবাসী সম্মেলনে' আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। এ সম্মেলনে এবং এরপরে আরও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যৌন স্বাধীনতার পথে সকল বাধা উঠিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসলাম ও খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতিনিধিগণ এসব ধ্বংসাত্মক আহ্বানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা সকল নৈতিক ও চারিত্রিক মূল্যবোধের মূলোৎপাটন করতে চায়।

তবে হ্যাঁ, আল আজহার, ভ্যাটিকান, মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিনিধিগণ সেই যৌন স্বাধীনতার মোকাবিলায় অবস্থান নিয়েছে, যা হারাম বা নিষেধ বলতে কোনো কিছু বাকি রাখতে চায় না। এ মতবাদের প্রবক্তাদের ভাষ্য হলো- নিষিদ্ধ হওয়ার যুগ শেষ! এখন আমরা আধুনিক যুগে প্রবেশ করেছি। এ যুগে যৌন চাহিদা পূরণ করার নিমিত্তে যা খুশি করা বৈধ! ইসলামের নবি ﷺ যথার্থই বলেছেন- 'মানুষ পূর্ববর্তী নবিদের যে সকল বাণী পেয়েছে, তার অন্যতম হলো- তোমার লজ্জা না থাকলে তুমি যাচ্ছেতাই করতে পারো।' মুসনাদে আহমাদ: ১৭০৯০

বর্তমানে মানবতা যে ধ্বংসাত্মক বিপদের সম্মুখীন হয়েছে, তা হলো অশ্লীলতা ও অবাধ যৌনাচারের বিপদ। এর ফলে মানবজাতি এমন সব দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে, যার চিকিৎসা আজ অবধি আবিষ্কৃত হয়নি। যেমন: এইডস, যার কারণে লাখো মানুষ মৃত্যু ও সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ ছাড়াও রয়েছে আত্মিক ও চারিত্রিক ব্যাধি, যার কারণে বিশাল জ্ঞান ও সম্পদ অর্জন করেও তারা মানবসমাজ ও পরিবার হতে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে এবং ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে।

কবির ভাষায়- 'সে জাতির স্থাপনাগুলো আবাদময় নয় যাদের চরিত্রগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে।'

এ ব্যাপারেই নবি মুহাম্মাদ ﷺ সতর্ক করে বলেছেন- 'কোনো জাতির মাঝে যদি প্রকাশ্য অশ্লীলতা দেখা দেয়, এমনকী তারা তা প্রকাশ্যে করে বেড়ায়, তবে তাদের মধ্যে এমন সব ব্যাধি ছড়িয়ে পড়বে, যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে ছিল না।' ইবনে মাজাহ: ৪০১৯

তিনি আরও বলেন- 'কোনো জনপদের অধিবাসীদের মাঝে প্রকাশ্যে ব্যভিচার ও সুদ দেখা দিলে তারা নিজেদের ওপর আল্লাহর আজাবকে বৈধ করে নেয়।' মুসতাদরাকে হাকিম: ২৭/২

ব্যাভিচার চারিত্রিক বিপর্যয়ের আর সুদ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ। যখন এ দুটো একত্রিত হয়, তখন ভয়ানক বিপদের আশঙ্কা দেখা দেয়; বিশেষ করে যখন তা প্রকাশ্যে দাম্ভিকতার সঙ্গে করা হয়।

পশ্চিমা সংস্কারপন্থি, চিন্তাশীল সমালোচকগণও অবাধ যৌনতা প্রসারের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, মানবজাতির জন্য অবাধ যৌনতা পরমাণু বোমার চেয়েও মারাত্মক।

📘 মুমিন জীবনে পরিবার 📄 সমকামিতার প্রচলন

📄 সমকামিতার প্রচলন


ব্যভিচারের অশ্লীলতার চেয়ে মারাত্মক বিপদ হলো সমকামিতার অশ্লীলতা, যা সকল ধর্মেই নিষিদ্ধ। অতীত ইতিহাসে একমাত্র 'কওমে লুত' ব্যতীত আর কোথাও এটি দেখা যায়নি। সর্বপ্রথম তারাই এ অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়েছিল।

তাদের পূর্বে বিশ্বে আর কেউ এটা করেনি। তাদের মাঝে এ অভ্যাস নেশার পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল।

এমনকী তারা কোনো লজ্জা ছাড়াই লুত (আ.)-এর মেহমানদের সাথেও এই অশ্লীল কাজে লিপ্ত হতে ওত পেতে ছিল! অথচ লুত (আ.) তাদের এ বলে নিষেধ করেছিলেন- 'সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরুষদের সাথে কুকর্ম করো? তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন করো? তোমরা তো সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।' সূরা শুআরা: ১৬৫, ১৬৬

অন্য সূরাতে এসেছে, তিনি তাদেরকে বলেছেন- 'তোমরা তো এক বর্বর সম্প্রদায়।' সূরা নামল: ৫৫

আরও বলেছেন- 'বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করছ।' সূরা আ'রাফ: ৮১

আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'সে বলল, হে আমার পালনকর্তা, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো।' সূরা আনকাবুত : ৩০

তিনি আরও বলেন- 'আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে এমনিভাবে শাস্তি দিয়ে থাকি।' সূরা আহকাফ : ২৫

এভাবে আমরা দেখছি- আল্লাহ তায়ালা তাদের সীমালঙ্ঘনকারী, বর্বর, অপরাধী ও দুষ্কৃতকারী বলে অভিহিত করেছেন। কারণ, তারা আল্লাহর দেওয়া মানবীয় সুষ্ঠু স্বভাব পরিবর্তন করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'উত্তরে তাঁর কওম শুধু এ কথাটিই বলল, লূত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক, যারা শুধু পাক-পবিত্র সাজতে চায়।' সূরা আন-নামল: ৫৬

এমনকী অশ্লীলতা হতে বিরত থাকাকে তারা এমন অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করল, যার দরুন ভালো লোকদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা আবশ্যক মনে করেছিল! তখন নিষিদ্ধ বিধানকে তুচ্ছ প্রতিপন্নকারী এ সকল অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালার কুদরতি হস্তক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ল। তাদের দুই ধরনের আসমানি শাস্তি দেওয়া হলো। একটি হলো তাদের জনপদকে উলটিয়ে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেওয়া। অন্যটি হলো পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'এবং তার ওপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম, যার প্রতিটি তোমার পালনকর্তার নিকট চিহ্নিত ছিল। আর সেটি পাপীষ্ঠদের থেকে খুব দূরেও নয়।' সূরা হুদ : ৮২-৮৩

এ অপরাধ সম্পর্কে কুরআনের বিভিন্ন সূরায় বর্ণনা এসেছে। তাওরাতেও সামুদ জনপদের দুষ্কৃতির আলোচনায় এ ব্যাপারে বর্ণনা এসেছে- যখন তাদের অন্যায় ও অশ্লীলতা প্রসারতা লাভ করেছে, তখন তাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার আজাব নেমে এসেছে এবং সেই জনপদ পরিপূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। Book of Exodus : 1-30/19

এ অপরাধ সম্পর্কে খ্রিষ্টানদের পবিত্র গ্রন্থেও সতর্ক করা হয়েছে। পল বলেন- 'পুরুষ পুরুষের সাথে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়ার ফলে তারা নিজেদের ভ্রান্তির ন্যায্য শাস্তির উপযুক্ত হয়েছে।' রোমের উদ্দেশ্যে পলের চিঠি : ২৭/১

অথচ আজ সব ধরনের প্রচারমাধ্যম ব্যবহার করে এই অশ্লীল কাজের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। মানুষের মাঝে প্রসার ঘটানো হচ্ছে। এর পক্ষে আওয়াজ তোলা হচ্ছে। সরকারি সংস্থা গড়ে উঠছে। বিভিন্ন দেশের সংসদে এর পক্ষে ওকালতি করা হচ্ছে। এমনকী সমকামীদের সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেলও রয়েছে।

তারা প্রকাশ্যে, একই লিঙ্গের দুই পুরুষ বা দুই নারীর পরিবার গঠনের জন্য অর্থাৎ পুরুষ পুরুষকে এবং নারী নারীকে বিবাহ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে! আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিবাহ সংগঠিত হবে এবং তা সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যায়িত হবে! এই ঘৃণ্য কাজকে আবার কোনো কোনো আধুনিকতাবাদী উচ্চবিলাসী পাদরি আশীর্বাদ করছে। নেতৃত্ব ধরে রাখতে বা ক্ষমতার পতন ঘটাতে সমকামীদের প্রভাব রয়েছে বলে কোনো কোনো পশ্চিমা সরকার তাদের তোষামোদ করার জন্য সমকামী বিবাহ স্বীকৃতি দিয়েছে!

এ বছরের (২০০৪ সালে) গ্রীষ্মকালে জায়োনবাদী ইহুদি লবির নেতৃত্বে আমার বিরুদ্ধে লন্ডনে যে সকল অভিযোগ উত্থাপন করা হয়, তার মধ্যে একটি ছিল- আমি সমকামিতা ও সমকামীদের বিরোধিতা করি এবং তাদের ব্যাপারে আমার ভূমিকা আক্রমনাত্মক!

আমার সাথে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম তথা সংবাদপত্র, রেডিও ও টিভির প্রতিনিধিগণ সাক্ষাৎ করেন। আমাকে প্রশ্ন করেন, সমকামিতা ও সমকামীদের ব্যাপারে আপনার স্পষ্ট মতামত কী? তাদের বললাম, সত্যি বলতে এ বিষয়ে আমার বিশেষ কোনো মতামত নেই। আমার মতামত তা-ই, যা সকল আসমানি ধর্ম তথা ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ যা তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে এসেছে। আমার মত তা-ই, যা ভ্যাটিকানের পোপ বলেছেন, অন্যান্য খ্রিষ্টান পাদরিগণ বলেছেন, ইহুদি ধর্মগুরুগণ বলেছেন এবং সর্বত্র চারিত্রিক মূল্যবোধের প্রবক্তাগণ বলেছেন।

এ মারাত্মক চারিত্রিক বিকৃতির বিরোধিতায় ধর্ম মান্যকারী কোনো ব্যক্তির অবস্থান লুত (আ.)-এর চেয়ে ব্যতিক্রম হতে পারে না। কারণ, সমকামিতায় লিপ্ত বিকৃত রুচির লোকগণ আল্লাহর দেওয়া সুষ্ঠু স্বভাবকে পরিবর্তন করে, নারীর স্থলে পুরুষকে গ্রহণ করে নারীর চাহিদা পূরণকে অবহেলা করে।

মানবজাতি যদি সেসব বিকৃত চরিত্রের লোকদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাদের এ অন্যায় চিন্তা মেনে নেয়, তবে এক প্রজন্ম পরেই মানবজাতির বিলুপ্তি ঘটবে। কারণ, নারী-পুরুষের সম্পর্ক ব্যতীত বংশ বৃদ্ধি সম্ভব নয়। আর এ জন্যই আল্লাহ তায়ালা নারী ও পুরুষের মধ্যে বিবাহের বিধান করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px