📄 নিয়ম অনুযায়ী ন্যায়সংগত আচরণ
অন্য আরেকটি বিষয় কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। তা হলো- 'মারুফ' বা নিয়মানুগ আচরণ। 'মারুফ' শব্দটির উদ্দেশ্য হলো পুণ্য ও ভালো মানুষদের আচরণ, সুষ্ঠু স্বভাবসুলভ আচরণ এবং উত্তম বিবেক সমর্থিত আচরণ। আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে নিয়মানুগ ন্যায়সংগত আচরণ করো।' নিসা: ১৯
'আর সন্তানের অধিকারী অর্থাৎ পিতার ওপর সে সমস্ত (দুগ্ধপানকারিনী) নারীর খোরপোষের দায়িত্ব প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী।' বাকারা: ২৩৩
'নারীদের তেমনি নিয়মানুগ ন্যায়সংগত অধিকার আছে, যেমনিভাবে তাদের ওপর পুরুষদের অধিকার আছে।' বাকারা: ২২৮
'অতঃপর তারা যখন নির্ধারিত ইদ্দত সমাপ্ত করে নেয়, তখন তোমরা নিয়মানুযায়ী তাদের রেখে দাও অথবা সহানুভূতির সঙ্গে তাদের মুক্ত করে দাও।' বাকারা: ২৩১
'মারুফ' বা সাধারণ নিয়ম হিসেবে বিভিন্ন বিধিবিধান নির্ধারিত হয়। যেমন: ন্যায়সংগত প্রচলন এবং সাধারণ নিয়মানুযায়ী স্ত্রীর আবশ্যকীয় ভরণ-পোষণের খরচের পরিমাণ নির্ধারিত হয়।
স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সদাচরণ নির্ধারিত হবে ন্যায়সংগত প্রচলনের আলোকে। কারণ, সদাচরণের খুঁটিনাটি বিস্তারিত বিবরণ শরিয়তের পক্ষ হতে নির্ধারণ করে দেওয়া যৌক্তিক নয়; বরং যে সকল ন্যায়সংগত আচরণ ঈমানদার নেক মানুষদের নিকট স্বীকৃত এবং সাধারণ মুসলিমদের নিকট সন্তোষজনক, সে সকল উত্তম আচরণ ইসলামি শরিয়তেও সদাচরণ হিসেবে গৃহীত। যেমন: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন- 'মুসলিমগণ যা ভালো মনে করে, তা আল্লাহর নিকটও ভালো। আর মুসলিমগণ যা খারাপ মনে করে, তা আল্লাহর নিকটও খারাপ।'
আল্লাহ তায়ালা বলেন- 'আর তুমি বলে দাও, তোমরা আমল করে যাও, পরবর্তী সময়ে আল্লাহ দেখবেন তোমাদের কাজ এবং দেখবেন রসূল ও মুসলমানগণ।' সূরা তাওবাহ: ১০৫
এখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) আমল দেখার পর মুমিনদের দেখাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেখার পর আসে তাদের গ্রহণ অথবা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টিও।
আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র বলেছেন- 'যারা নিজেদের কাছে আগত কোনো দলিল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের প্রত্যেকজন আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষজনক।' সূরা মুমিন: ৩৫
এখানে আল্লাহর অসন্তোষের পর মুমিনদের অসন্তোষকেও মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এ জন্যই ইলমে ফিকহের জনৈক গবেষক বলেন- 'শরিয়তে প্রচলিত নিয়মকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাই তো এর ওপর ভিত্তি করে কখনো শরয়ি বিধান বর্ণনা করা হয়।'
অতএব, এ দুটো উপাদান তথা আল্লাহ প্রদত্ত শরয়ি বিধান এবং মানবীয় প্রচলিত নিয়মের মাধ্যমেই আমরা সুষ্ঠু পরিবার ব্যবস্থাকে রক্ষা করতে পারি, দাম্পত্য জীবনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারি এবং এ গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বন্ধন অটুট রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারি, যা সমাজের ভিত্তিস্বরূপ।