📄 পারস্পরিক উপযুক্ততা
তৃতীয় বিষয় হলো- অর্থ, মানসিকতা, চিন্তা-চেতনা, বয়স ও সামাজিক অবস্থানের দিক থেকে নিজের উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী খুঁজে নেওয়া। যাতে এগুলোর কোনোটির অনুপস্থিতি বৈবাহিক জীবনে অস্থিরতা বা বিচ্ছিন্নতার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়। অতএব, দরিদ্র ব্যক্তির জন্য এমন ধনী নারী খোঁজা উচিত নয়, (যার ব্যয়ভার সে বহন করতে পারবে না। উলটো) স্ত্রীর সম্পদে তাকে চলতে হয়। কারণ, মূলনীতি হলো- পুরুষ হবে নারীর ওপর কতৃত্বশীল, সে নারীর ব্যয়ভার বহন করবে। এখন স্ত্রী যদি তার ব্যয়ভার বহন করে, তবে পুরুষ আর স্ত্রীর ওপর পূর্ণ কতৃত্বশীল হতে পারবে না।
অনুরূপভাবে মূর্খ বা অর্ধ-মূর্খ পুরুষের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদপ্রাপ্ত উচ্চ শিক্ষিত নারী বিবাহ করা উচিত নয়। অন্যদিকে এর বিপরীতে মূর্খ নারীর জন্যেও উচ্চ শিক্ষিত পুরুষকে বিবাহ করা উচিত নয়। কারণ, দুজনের মাঝে জ্ঞানের বিস্তর তফাত থাকে। ফলে দেখা যাবে, তারা কেবল খাবার-দাবার ও যৌন সম্ভোগেই একে অপরের অংশীদার হবে; অন্য কিছুতে নয়।
এমনিভাবে, যুবকের উচিত নয় বৃদ্ধা নারীকে বিবাহ করা এবং যুবতী নারীরও উচিত নয় বৃদ্ধ পুরুষকে বিবাহ করা। কারণ, এ সকল ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় আর্থিক কারণে বিবাহ ঘটে! এতে বিবাহের মৌলিক উদ্দেশ্য নষ্ট হয় এবং নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়।
এ জন্যই আনসারি যুবক সাহাবি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ যখন নবি ﷺ-কে নিজের বিবাহের সংবাদ দিলেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন- 'সে কি কুমারী, না বিবাহিতা?' তিনি বললেন, 'বিবাহিতা'। তখন নবি বললেন- 'কুমারী বিবাহ করলে না কেন, তাহলে একে অপরের সঙ্গে খেলাধুলা ও হাসি-রসিকতা করতে পারতে?' আল লু'লু' ওয়াল মারজান: ৯৩০
তখন জাবির জানালেন, তার পিতা শাহাদাত বরণ করেছেন এবং তাঁর অনেকগুলো ছোটো বোন রয়েছে। তাদের লালন-পালনের জন্য অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নারীর প্রয়োজন (কারণ, তাদের মা ছিল না)। এজন্য যদি তাদের বয়সি কুমারী মেয়ে বিবাহ করেন, তবে হয়তো তাদের সুষ্ঠু লালন-পালন সম্ভব হবে না। তাই তিনি ছোটো বোনদের দিকে লক্ষ করে কুমারী নারী বিবাহ না করে বিবাহিত নারী বিবাহ করেছেন; যেন তাদের মায়ের মতো লালন-পালন করতে পারে।
এতে আমরা বুঝতে পারি, কখনো কখনো বাহ্যিক উপযুক্ততাকে তার চেয়ে বড়ো কোনো কারণে উপেক্ষা করা হয়। তাই কখনো দেখা যায়, কোনো পুরুষ তার চেয়ে বয়সে বড়ো নারীকে বিবাহ করে। আবার কোনো কোনো নারী তার চেয়ে বয়সে ছোটো পুরুষকে বিবাহ করে এমন শক্তিশালী কারণে, যাতে উভয়েই আন্তরিকভাবে পরিতুষ্ট থাকে। ফলে তাদের বৈবাহিক জীবনেও মজবুত ভিত্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।