📘 মুমিনের ক্যারিয়ার ভাবনা 📄 পড়তে যেহেতু হচ্ছেই

📄 পড়তে যেহেতু হচ্ছেই


আমার কথা হচ্ছে, যদি আমাকে পড়াশোনা করতেই হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে আমরা ভালো করে পড়াশোনা করব। যেহেতু আমাকে পড়াশোনা করতেই হচ্ছে, আমি মেয়ে হই বা পুরুষ হই, যদি জেনারেল লাইনে আপনাকে পড়াশোনা করতেই হয়, সিরিয়াস হোন, খুব ভালোভাবে করুন।

১. প্রথমত ভার্সিটি কালচার বাদ দিয়ে, ঘাড় গুঁজে ৫-৬ ঘণ্টা লেখাপড়া করুন। ছাত্রজীবনে অযথা সময় নষ্ট করবেন না। ভার্সিটির কালচার বলতে, যে ওপেন কালচার, নারী-পুরুষ ফ্রি-মিক্সিং, এই পার্টি ওই পার্টি, মুক্তমঞ্চ, আড্ডাবাজি, গ্রুপস্টাডি হেনতেন। এই কালচার বাদ দিতে হবে। এমনভাবে পড়বেন, যেন নাজায়েজ জিনিসগুলোর দিকে খেয়ালের সময়টুকু না হয়ে ওঠে।

২. সিজিপিএ-র সাথে কোনো আপস নেই। সিজিপিএ কখনো কমা যাবে না। এটা হচ্ছে, যদি আপনি পড়তে বাধ্য হন, তখন। যদি বাধ্য না হন, তাহলে ছেড়ে দিন। আর বাধ্য হলে, ভালো করে পড়ুন। সিজিপিএ-র সাথে কোনো আপস করবেন না, সর্বোচ্চ সিজিপিএ যেন থাকে। কারণ, আপনি যদি না পড়েন, তাহলে আপনি অন্যান্য ফালতু জিনিসের দিকে মোড় নেবেন।

৩. সাজেশানের বাইরেও পড়ুন। এমনভাবে পড়বেন, যেন স্যার আপনার থেকে শিখতে পারে। কথার কথা, আপনাকে পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে পড়তে হচ্ছে, আপনি গ্রিক নগর-রাষ্ট্র নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তো, আপনাকে যে বইটা দেখিয়ে দেবে, শুধু ওইটাই পড়বেন, তা না। বরং আপনি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে, আরও দশটি ইউটিউবে ভিডিও দেখুন। আরও দশটা আর্টিকেল আপনি খুঁজে বের করে পড়ুন। এবং একটি নোট তৈরি করুন। পরে স্যার যখন জিজ্ঞেস করবেন, বা পরীক্ষায় আসবে, তখন আপনি সেখান থেকে উত্তরটা দেবেন, বা, খাতায় লিখবেন।

৪. নিজ সাবজেক্টের সাথে সম্পর্কিত ইসলামি চিন্তাধারা স্টাডি করুন। আমার ছোটবোন একটা মহিলা কলেজে ইন্টারে পড়ে, তো, ওর পৌরনীতি বইটা আমি নিয়েছিলাম, দেখলাম সেখানে লেখা আছে রোমান সাম্রাজ্যের কিছু দার্শনিক কথাবার্তা, আলোচনা। এরপর চলে গেছে একেবারে ইটালির ম্যাকিয়াভেলি, অর্থাৎ, ১৫০০ শতাব্দীতে। মানে, তিন শতক থেকে ১৫০০ শতক, অর্থাৎ, মাঝখানে ১২০০ বছর পুরো বাদ দিয়ে দিয়েছে। তো, এই ১২০০ বছর সম্পর্কে বলছে, এই মাঝখানে ১২০০ বছরের সময়টাতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে কোনো কাজ হয়নি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে যে কাজগুলো হয়েছে, তা ধর্মের প্রেক্ষিতে হয়েছে, আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান এগুলোকে স্বীকৃতি দেয় না।

আরে নির্বোধের দল! এই যে ১২০০ বছর, ইসলাম আসার পরে এ সময়ে সবচেয়ে সফলতম রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে। সফলতম রাষ্ট্রব্যবস্থা ইসলাম তৈরি করেছে। যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় একজন গরিব মানুষ ছিল না। জাকাত নেওয়ার মতো লোক পাওয়া যায়নি বছরের বছর। যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় একজন মেয়ে ১২০০ কিলোমিটার রাস্তা একা সফর করে আসে, তার দিকে কেউ চোখ তুলে তাকায়নি। যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বয়ং খলিফাকে বাদীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় খলিফা নিজে তার ছেলেকে মদ পান করার কারণে শাস্তি দেয়। এরকম একটি সফলতম রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নিয়ে তারা বলছে, এখানে রাষ্ট্র নিয়ে কোনো কাজ হয়নি!

এরমানে, আপনি যদি রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়েন, তাহলে এই এই সময়টাতে ইসলাম কী কাজ করেছে, এটা আপনার জানা থাকা লাগবে। ইমাম মাওয়ারদির (৩৬৪-৪৫০ হিজরি) আহকামুস সুলতান পড়তে হবে। ইবনে খালদুন (৭৩২- ৮০৮ হিজরি) পড়তে হবে। ইমাম মুহাম্মদ রহিমাহুল্লাহর সিয়ারে কাবির, সিয়ারে সগির পড়তে হবে।

মোটকথা, আপনার নিজ সাবজেক্টের সাথে ইসলামি চিন্তাধারা কী, সেটা আপনি স্টাডি করুন। করে তুলনা করুন। দুটো তুলনা করে, আপনি ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে লেখালেখি করুন। যেমন, আমি ইসলামি আইন পড়েছি, ব্রিটিশ কমন ল পড়েছি। আমি দেখেছি যে, এই বিষয়ে ইসলামি আইনটাই বেশি পারফেক্ট। এগুলো নিয়ে আপনি লেখালেখি করবেন। এটি আপনার দাওয়াহর কাজ। পড়তে যেহেতু হচ্ছেই, ভালো করে পড়ালেখা করুন।

৫. ১ম বর্ষে ‘রিসার্চ মেথডোলজি’ সম্পর্কে জানুন। গবেষণামুখী হোন। রিসার্চ করার একটা মেথড আছে, পশ্চিমারা সেটা তৈরি করেছে। এটার সম্পর্কে আপনারা জানার চেষ্টা করুন। আমাদের ফেসবুকে একটা গ্রুপ আছে, ‘গবেষক হতে চাই’। এই গ্রুপটাতে যদি থাকেন, অনেককিছু জানতে পারবেন। ফার্স্ট ইয়ারে থাকাবস্থায় রিসার্চ মেথডোলজি সম্পর্কে জানুন। এবং এই মেথড অনুসরণ করে নিজেরা ছোট ছোট রিসার্চ করতে থাকুন। আর ইসলামের পক্ষে জ্ঞান তৈরি করুন।

৬. দাওয়াহ করুন। নিজের ক্যাম্পাসে দাওয়াতের কাজ করুন। আপনি ঢাকা ভার্সিটিতে পড়েন। তো, এই যে ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ার যে একটা ট্যাগ, এই ট্যাগকে কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার নিজ এলাকায় মেহনত করুন, নিজের সাবেক ক্যাম্পাসে (স্কুলকলেজে) কাজ করুন। যেমন আমি মেডিকেলে পড়ছি। আমার কাছে তেমন কিছু মনে হয়নি। কিন্তু আমার গ্রামে যখন যাই, সবাই আমাকে ডাক্তার ভাবে। আমি যখন কথা বলব, সে কথাটা তারা নেবে। আপনি পাবলিক ভার্সিটির স্টুডেন্ট, বা, আপনি প্রাইভেট ভার্সিটির স্টুডেন্ট। তো, আপনি যখন একটা হাইস্কুলে গিয়ে কথা বলবেন, তখন ওই হাইস্কুলের স্টুডেন্টদের কাছে, আপনি একজন সেলিব্রিটি। কারণ, সে তো আপনার জায়গায় নিজেকে দেখতে চায়। তো তার কাছে গিয়ে আপনি তাকে ইসলামের কথা বলুন। দাওয়াহ করুন।

৭. আলেমদের সাথে ওঠাবসা করুন। তাদের সাথে ওঠাবসা করলে, আপনি রাস্তা হারাবেন না। আলেমদের সঙ্গে ওঠাবসা করলে, তাদের মজলিসে গেলে-রাস্তা হারাবেন না। কারণ, আমরা হচ্ছি পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ। আর আলেমগণ হচ্ছেন, ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ। সুতরাং তাদের সাথে ওঠাবসা করলে পরে, আমি ঠিক রাস্তায় চলতে পারব। অন্যথায় আমাকে পশ্চিমা দর্শন কোথায় নিয়ে চলে যাবে, ঈমানবিধ্বংসী জায়গায় নিয়ে চলে যাবে-টেরই পাব না।

৮. ঈমানকে মজবুত করুন। ইসলাম ও পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থার সংঘাত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন। যেমন, একটু আগে যে আলাপটা করলাম, এই যে একটা সংঘর্ষ, উভয়টা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা। এটার জন্য কিছু বইপত্র আছে, যেগুলো আপনাকে পড়তে হবে। আসিফ আদনান ভাই ও ইফতেখার সিফাত ভাইয়ের বইগুলো পড়তে হবে। আমার বইগুলোও পড়তে পারেন। রাফান আহমেদ, মুসা আল হাফিজ সাহেবের বইগুলোও পড়া জরুরি। এবং সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদবি রহিমাহুল্লাহর বইগুলো পড়া দরকার। তাহলে, ইসলাম ও পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থার সংঘাত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।

৯. নবিজি ও সাহাবিরা যে দ্বীন পালন করেছেন, সেই দ্বীনের সাথে কোনো আপস নেই। আল্লাহর রাসুল যে দ্বীন পালন করে গেছেন। আমি ওই ইসলামের ওপরই ঈমান এনেছি। ওই ইসলামটাই আমার লাগবে। কোনো মডিফাইড, মডারেট, মডার্ন এ ধরনের কোনো ইসলাম আমরা মানি না।

১০. দ্বীনি কমিউনিটি থেকে দূরে সরে যাবেন না। সবসময় কমিউনিটির মধ্যে থাকবেন। দ্বীনি বোনেরা চার-পাঁচজন মিলে কমিউনিটি তৈরি করে নেবেন। দ্বীনি ভাইয়েরা চার-পাঁচজন, দশজন মিলে কমিউনিটি তৈরি করবেন। দেখেন না কমিউনিটি আছে। তারা একসাথে তালিম করেন, কেউ যদি একদিন না আসেন, তিনজন তাকে আবার খুঁজতে যান। তো এরকম একটা কমিউনিটি তৈরি করুন। চার-পাঁচজন মিলে একসাথে চলুন। একা একা চলবেন না। একা একা চললে পরে, শয়তান নিয়ে যাবে একদিন।

১১. ভোগ কমিয়ে প্রোডাক্টিভ হোন। পেশাগত ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত ভোগ কমাবেন। কিন্তু আয় বেশি করতে হবে। কারণ, আল্লাহর রাসুল বলেছেন যে, নেককার মানুষের কাছে যদি হালাল সম্পদ থাকে, এটা দিয়ে সে দ্বীনের পক্ষে কাজ করে। সুতরাং নিজের ব্যক্তিগত ভোগ কমবে, কিন্তু আয় বাড়াতে হবে। প্রোডাক্টিভ হতে হবে।

শিক্ষকতা

ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত পছন্দ হলো, এক নম্বরে শিক্ষকতা। সেটা যেখানেই হোক। কিন্ডারগার্টেন হতে পারে, হাইস্কুল হতে পারে, প্রাইমারিও হতে পারে, কলেজ হতে পারে। আমি নিজেও মেডিকেল কলেজের শিক্ষক হওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। কারণ, আপনি যখন শিক্ষক হবেন, আপনি দাওয়াহ করার জন্য কিছু ছাত্রছাত্রী পাবেন। যাদেরকে আপনি আপনার মতো করে, ইসলামের পক্ষে শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। শিক্ষকতা পেশা দাওয়াহর বিরাট সুযোগ। মুমিনের ক্যারিয়ার হবে, না টাকার জন্য আর না সম্মানের জন্য। মুমিনের ক্যারিয়ার হবে এক নম্বরে দাওয়াহ, দুই নম্বরে হচ্ছে, সাদাকাহ।

সুতরাং শিক্ষকতা পেশা একটা দাওয়াহ। এজন্য সবসময় চেষ্টা থাকা দরকার যে, আমি যেন শিক্ষকতা পেশায় ঢুকতে পারি। সেটা যেখানেই হোক। কোনো শিক্ষকতাকে ছোট মনে করবেন না। প্রাইমারি স্কুলে বেতন কম বলে ভাবছেন? বেতন তো আল্লাহ তাআলা থেকে আসে। কিন্তু আমাকে খুঁজতে হবে দাওয়াহর কাজ। আমি চল্লিশটা বাচ্চাকে ইসলামের সৈনিক করে বড় করতে পারছি। এটা একটা বিরাট ব্যাপার।

গবেষণা

প্রত্যেকের নিজ নিজ ফিল্ডে গবেষণা করা দরকার। আসুন, আমরা একটি উদাহরণ দিই, গবেষণা কীভাবে ইসলামের পক্ষে কাজ করে: ঢাকা ভার্সিটিতে একজন বামপন্থী প্রফেসর আছেন; মোহাম্মদ আজম। তার গবেষণা হচ্ছে, বাংলা ভাষায় মূলত প্রচুর আরবি, ফারসি শব্দ ছিল। যে শব্দগুলোকে ব্রিটিশরা ইচ্ছাকৃতভাবে, হিন্দুদের মাধ্যমে বের করে দিয়েছে। এর পরিবর্তে সেখানে সংস্কৃত শব্দ ঢুকিয়েছে। অর্থাৎ, আমরা এখন যে বাংলা ব্যবহার করি, সেটা হল সংস্কৃতমেশানো বাংলা, কলকাতায়ি বাংলা। এই বাংলাকে তারা সংস্কৃত দিয়ে মূল ভাষা হিসেবে তৈরি করেছে। অর্গানিক যে বাংলা ভাষা, সেটা এরকম ছিল না। সেখানে প্রচুর আরবি, প্রচুর ফারসি শব্দ ছিল। যে বাংলাটা আমরা শুনলে, হয়তো এখন বুঝতেই পারব না যে, এটা বাংলা। তো, আমরা যারা ইসলামের পক্ষে কাজ করছি। আমরা কি সেই গবেষণাটাকে ব্যবহার করছি না? এটা আমাদের পক্ষে গিয়েছে না? এর মানে, গবেষণা করে এমন জিনিস জানা যায়, যে জিনিসটা ইসলামের পক্ষে আমরা অ্যাক্টিভিস্টরা ব্যবহার করতে পারি। অ্যাকাডেমিশিয়ানরা এমন জিনিসটা গবেষণা করে দেবেন আমাদেরকে, যেন আমরা অ্যাক্টিভিস্টরা সেগুলো নিয়ে অ্যাক্টিভিটি করতে পারি।

যেমন, আরেকজন আছেন, হাসান মাহমুদ ভাই, 'বাঙালি মুসলমান প্রশ্ন' নামে তার একটি বই আছে। ওই বইতে দেখিয়েছেন, হিন্দুরা যেমন দাবি করে যে: আমরা মুসলমানরা নিম্নবর্ণের হিন্দু ছিলাম। সুতরাং আমাদেরকে আবার হিন্দু হতে হবে। তাহলে আমরা আসল বাঙালি হব। তিনি দেখিয়েছেন যে: না! আমরা কখনোই নিম্নবর্ণের হিন্দু ছিলাম না। বরং যারা বাংলাদেশের বাঙালি, তারা হচ্ছে বাইরে থেকে আসা মুসলমান। এবং এই এলাকায় যে-সমস্ত অ-হিন্দু জনগোষ্ঠী কাজ করত, তারা। তার মানে আমরা হিন্দু না। এবং হিন্দু হওয়ার গরজ আমাদের নেই। আর তাদের যে কলকাতায়ি বাঙালি কালচার, সেই কালচার মানার গরজও আমাদের নেই।

বাংলা শব্দটা এসেছে বঙ্গ+আল=বাঙ্গাল থেকে; সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ এই 'বাংলাদেশ'টাকে একত্র করেন আর নিজের উপাধি নেন শাহ-ই-বাঙ্গালাহ। আর বাঙালি শব্দটা এসেছে এই 'বাঙ্গালাহ' থেকে। মুসলমানরা এই 'বঙ্গ' শব্দটিকে 'বাঙ্গালা' বানিয়েছে। 'বাঙালি কালচার'-এর শুরু তো সেখান থেকে, যখন 'বাঙ্গালা' শব্দটা এসেছে। সুতরাং শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ-এর সময় থেকে যেহেতু 'বাঙ্গালা' শব্দের উৎপত্তি, তাহলে বাঙালি কালচার হচ্ছে, সেই সময়কার কালচার। এটা মুসলিম কালচার। বাঙালি কালচারের নামে যদি কেউ আমাদের কলকাতা খাওয়াতে চায়। আমরা সেটা খাব না। কারণ, সেটা হচ্ছে হিন্দুয়ানি কালচার। আমরা কোনোদিন হিন্দু ছিলামও না। এগুলো আমাদের কালচারও না। আমরা আগাগোড়াই মুসলমান এবং নামাজ, দাড়ি, টুপি, বোরকা এগুলোই আমাদের কালচার। তাহলে দেখুন, এই যে একটা জিনিস আমরা ইসলামপন্থীরা ব্যবহার করছি, এটা গবেষণা করে আবিষ্কার করেছেন হাসান মাহমুদ ভাই। তিনি হয়তো দাড়ি রাখেন না। বা তিনি হয়তো ইসলামপন্থীও না, সেক্যুলার। বাকি গবেষণাগুলোকে এভাবে আমরা কাজে লাগাতে পারি। এইজন্যই বেশি বেশি গবেষণা করা দরকার। প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ ফিল্ডে গবেষণা করা দরকার।

যে পেশায় থাকুন না কেন, শ্রেষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করুন

যেমন, আমি যেকোনো ফিল্ডে একজন ইনজিনিয়ার। আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ইনজিনিয়ার ওই ফিল্ডে বাংলাদেশে আর কেউ নেই। আমি হব সবচেয়ে দক্ষ। শ্রেষ্ঠ ইনজিনিয়ার হবে, একজন দাড়িওয়ালা বা পাগড়িওয়ালা মানুষ। এখানে একটা বিরাট ইফেক্ট আছে। যেমন, শ্রেষ্ঠ কার্ডিওথোরাসিক সার্জন হলেন ডাক্তার এস. আর. খান। দাড়ি-টুপি, জুব্বা ও পাগড়িওয়ালা মানুষ। তেমনইভাবে শ্রেষ্ঠ দার্শনিকের স্থানে আপনি হলেন, একজন দাড়ি-টুপি ও পাঞ্জাবিওয়ালা মানুষ। এর একটা বিরাট প্রভাব আছে। শুধু আপনার চেহারাটাও একটা দাওয়াহ।

নিজের পেশায় দক্ষ হওয়ার চেষ্টা করুন। যেন সেক্যুলাররা আপনাকে আপনার শর্ত মেনেই চাকরি দিতে বাধ্য হয়। বেস্ট গ্রাফিক ডিজাইনার কে? অমুক দ্বীনি ভাই। এই এলাকায় বেস্ট টিউটর কে? অমুক দ্বীনি ভাই। বেস্ট ফ্রিল্যান্সার কে? অমুক দ্বীনি ভাই। যেটা করছেন, বেস্ট হোন। আর দশজন ইসলাম-মনাকে স্কিলটা শেখান। আপনার রিজিক থেকে কেউ নেবে না, তার রিজিকটাই সে নেবে।

ডিগ্রির আশায় না থেকে 'ক্যারিয়ার ক্যাপিটাল' তৈরি করুন। ভার্সিটির দীর্ঘসূত্রী পড়াশোনার ফাঁকে সাবজেক্ট রিলেটেড ব্যবহারিক স্কিলগুলো শিখে ফেলুন। যেমন যে বিবিএ পড়ছেন, নিচের জিনিসগুলো নিয়ে অফলাইন-অনলাইন কোর্স করে সার্টিফিকেট নিয়ে ফেলুন:
* ইংলিশ রাইটিং-স্পোকেন
* বেসিক কম্পিউটার প্রোগ্রামিং
* টিম ম্যানেজমেন্ট
* কাস্টমার সার্ভিসের মৌলিক নিয়মকানুন
* সেলিংস্কিল

বিনাবেতনে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে কিছুদিন কাজ করে সার্টিফিকেট নিয়ে নিন। প্রশিক্ষণের সামান্য সুযোগও লুফে নিন। প্রতি ৬ মাসে আপনার সিভিতে যেন একটা স্কিল যোগ হয়, সেই ব্যবস্থা করুন। চাকরির সেক্টর এখন শুধু ডিগ্রি দিয়ে হয় না, অভিজ্ঞতা চায়। আপনার বন্ধুদের সিভিতে যখন শুধু ডিগ্রিটা থাকবে, তখন আপনার সিভিতে থাকবে ডিগ্রির সাথে বহু অভিজ্ঞতার সনদ। আপনার ক্যারিয়ার ক্যাপিটালে থাকবে বহু প্রশিক্ষণ, কোম্পানির সিস্টেমের সাথে ওঠাবসার স্বীকৃতি।

অফিস-প্রধান হওয়ার চেষ্টা থাকবে

আপনার পেশায় যে আপনি বেস্ট, এটাই একটা দাওয়াহ। এবং যেখানেই আপনি চাকরি করবেন, আপনি প্রমোশন পেয়ে পেয়ে অফিসপ্রধান হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ইসলামি নীতি-আদর্শ বিসর্জন না দিয়ে যতটুকু সম্ভব।

কল্পনা করুন, সেক্যুলার কারও চেয়ে শ্রেষ্ঠ জায়গাগুলো আমাদের থাকলে কেমন হতো। আমার কাছে রাজশাহী ভার্সিটির একটা ছেলে এসেছে, এসে বলছে, ভাই, আমাদের যিনি প্রফেসর, তিনি আমাদেরকে ক্লাসের সময় বিভিন্ন নাস্তিকতা ও দর্শনের কথাবার্তা বলেন। এবং নাস্তিকতার দাওয়াত দেন। আমি তখন তাকে বললাম, তুমি একটু কল্পনা করো তো। তুমি যদি প্রফেসরের জায়গায় থাকতে, তাহলে তুমি কী ক্লাস নিতে? সে বলল, হ্যাঁ, ভাইয়া; আমি তখন ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বগুলো ইনিয়ে বিনিয়ে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করতাম। বললাম, তাহলে তুমি আমাকে বলো, কেন ঠিকমতো পড়াশোনা করো না। কেন তুমি ওই প্রফেসরের জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করো না।

অবশ্যই করতে হবে। সুতরাং নিজের পেশায় শ্রেষ্ঠ হতে হবে। এবং অফিসের প্রধান হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কারণ, আপনার অফিসের প্রধান একজন হিন্দু, বা, একজন উগ্র-সেক্যুলার হলে তো সমস্যা হয়ে যাবে। বরং এই জায়গায় যদি আপনি যেতে পারেন। তাহলে পুরো অফিসে ইসলামি পরিবেশ তৈরি করতে পারবেন কিছুটা হলেও। না পারলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, যার সুফল অন্য মুসলিম কর্মচারী ভোগ করবে।

ক্যারিয়ারের ব্যাপারে আলেমগণের পরামর্শ

যেমন, আপনি দুই-তিনটা জায়গায় সিভি জমা দিয়েছেন, একটা বা দুইটা জায়গায় হয়ে গেছে। তো তখন ওইটার ব্যাপারে একজন বয়স্ক আলেমের সাথে পরামর্শ করবেন। যে, আমি এখন কী করব। আলেমদের সাথে থাকলে, দ্বীনি কমিউনিটির সাথে ওঠাবসা করলে আশা করি কখনো পথ হারাবেন না। আপনাকে বাঘে টেনে নেবে না। একেলা বকরিটাকেই বাঘে খায়, আর মানুষের বাঘ হলো শয়তান। [১৪৭]

ইসতেখারা করা

ইসতেখারার মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে ইশারা নিতে হবে : কাজটি আমার জন্য ভালো হবে, নাকি খারাপ হবে। ইসতেখারার দুআটা মুখস্থ করে রোজ ইসতেখারার অভ্যাস করতে হবে।

ইসতেখারার দুআ

اللهمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَاسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ العَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ ولا أَقْدِرُ، وتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلامُ الغيوب اللهمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ - ويسمي الشيء الذي يريده - خَيْرٌ লِي في ديني وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي عَاجِلِهِ وآجِلِهِ فَاقْدره لي ويسره لي، ثم بارك لي فيه، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ লِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي عَاجِلِهِ وآجِلِهِ فَاضْرِفْهُ عَنِّي، وَاضْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِي الخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ

হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কল্যাণ চাই-আপনার ইলমের সাহায্যে। আপনার কাছে শক্তি কামনা করি আপনার কুদরতের সাহায্যে।
আপনার কাছে অনুগ্রহ চাই আপনার মহা অনুগ্রহ থেকে। আপনি সর্বোময় ক্ষমতার অধিকারী - আমার কোন ক্ষমতা নাই আপনি সর্বজ্ঞ - আমি কিছুই জানি না। আপনি সকল গোপন বিষয় পূর্ণ অবগত। পক্ষান্তরে আপনার ইলমে এ কাজ যদি আমার দ্বীন আমার জীবন-জিবীকা ও কর্মফলের দিক থেকে অথবা বলেছিলেন, দুনিয়া ও পরকালের দিক থেকে মন্দ হয় তবে তা আমাকে করার শক্তি দান করুন।
কর্মফলের দিক থেকে তবে আমার ধ্যান-কল্পনা একাজ থেকে ফিরিয়ে নিন। তার খেয়াল আমার অন্তর থেকে দূরীভূত করে দিন।
আর আমার জন্যে যেখানেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে এর ফায়সালা করে দিন এবং আমাকে এরই উপর সন্তুষ্ট করে দিন (বুখারী)

ব্যবসা করা শিখুন ছাত্রবয়সে

ব্যবসা নিয়ে আলাপ আগে করেছি। মুসলিমদের ব্যবসায় আসা জরুরি।

■ দ্বীনি ভাইদেরকে বলব, আপনারা ব্যবসা করুন। ছাত্রবয়সেই ব্যবসায় অভ্যস্ত হোন। বিজনেস-মাইন্ড তৈরি করুন। ছোট ছোট ইনভেস্ট করে লাভ করার চেষ্টা, মানুষের চাহিদা খোঁজা, সস্তায় সেই চাহিদাপূরণের পণ্য/সেবা খোঁজা, কাস্টমার স্যাটিসফেকশনের পলিসি খোঁজা, নিজের মার্কেটিং শেখা।
■ বোনদেরও বলব, আপনারা ব্যবসা করুন আর না করুন, ব্যবসাটা শিখে রাখবেন। কীভাবে ব্যবসা করতে হয়, এটা স্বামীর কাছ থেকে বা ভাইয়ের কাছ থেকে, বা বাবার কাছ থেকে, বা যারা ব্যবসায়ী আছেন, তাদের কাছ থেকে-ব্যবসাটা শিখে নেওয়া জরুরি। আল্লাহ না করুন, একটা সময় এমন হতে পারে যে, আপনার নিজের ইনকাম নিজেকেই করতে হচ্ছে।

টিকাঃ
[১৪৭] মুসনাদে আহমাদ: ২২১০৭, হাসান লিগাইবিতি।

আমার কথা হচ্ছে, যদি আমাকে পড়াশোনা করতেই হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে আমরা ভালো করে পড়াশোনা করব। যেহেতু আমাকে পড়াশোনা করতেই হচ্ছে, আমি মেয়ে হই বা পুরুষ হই, যদি জেনারেল লাইনে আপনাকে পড়াশোনা করতেই হয়, সিরিয়াস হোন, খুব ভালোভাবে করুন।

১. প্রথমত ভার্সিটি কালচার বাদ দিয়ে, ঘাড় গুঁজে ৫-৬ ঘণ্টা লেখাপড়া করুন। ছাত্রজীবনে অযথা সময় নষ্ট করবেন না। ভার্সিটির কালচার বলতে, যে ওপেন কালচার, নারী-পুরুষ ফ্রি-মিক্সিং, এই পার্টি ওই পার্টি, মুক্তমঞ্চ, আড্ডাবাজি, গ্রুপস্টাডি হেনতেন। এই কালচার বাদ দিতে হবে। এমনভাবে পড়বেন, যেন নাজায়েজ জিনিসগুলোর দিকে খেয়ালের সময়টুকু না হয়ে ওঠে।

২. সিজিপিএ-র সাথে কোনো আপস নেই। সিজিপিএ কখনো কমা যাবে না। এটা হচ্ছে, যদি আপনি পড়তে বাধ্য হন, তখন। যদি বাধ্য না হন, তাহলে ছেড়ে দিন। আর বাধ্য হলে, ভালো করে পড়ুন। সিজিপিএ-র সাথে কোনো আপস করবেন না, সর্বোচ্চ সিজিপিএ যেন থাকে। কারণ, আপনি যদি না পড়েন, তাহলে আপনি অন্যান্য ফালতু জিনিসের দিকে মোড় নেবেন।

৩. সাজেশানের বাইরেও পড়ুন। এমনভাবে পড়বেন, যেন স্যার আপনার থেকে শিখতে পারে। কথার কথা, আপনাকে পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে পড়তে হচ্ছে, আপনি গ্রিক নগর-রাষ্ট্র নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তো, আপনাকে যে বইটা দেখিয়ে দেবে, শুধু ওইটাই পড়বেন, তা না। বরং আপনি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে, আরও দশটি ইউটিউবে ভিডিও দেখুন। আরও দশটা আর্টিকেল আপনি খুঁজে বের করে পড়ুন। এবং একটি নোট তৈরি করুন। পরে স্যার যখন জিজ্ঞেস করবেন, বা পরীক্ষায় আসবে, তখন আপনি সেখান থেকে উত্তরটা দেবেন, বা, খাতায় লিখবেন।

৪. নিজ সাবজেক্টের সাথে সম্পর্কিত ইসলামি চিন্তাধারা স্টাডি করুন। আমার ছোটবোন একটা মহিলা কলেজে ইন্টারে পড়ে, তো, ওর পৌরনীতি বইটা আমি নিয়েছিলাম, দেখলাম সেখানে লেখা আছে রোমান সাম্রাজ্যের কিছু দার্শনিক কথাবার্তা, আলোচনা। এরপর চলে গেছে একেবারে ইটালির ম্যাকিয়াভেলি, অর্থাৎ, ১৫০০ শতাব্দীতে। মানে, তিন শতক থেকে ১৫০০ শতক, অর্থাৎ, মাঝখানে ১২০০ বছর পুরো বাদ দিয়ে দিয়েছে। তো, এই ১২০০ বছর সম্পর্কে বলছে, এই মাঝখানে ১২০০ বছরের সময়টাতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে কোনো কাজ হয়নি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে যে কাজগুলো হয়েছে, তা ধর্মের প্রেক্ষিতে হয়েছে, আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান এগুলোকে স্বীকৃতি দেয় না।

আরে নির্বোধের দল! এই যে ১২০০ বছর, ইসলাম আসার পরে এ সময়ে সবচেয়ে সফলতম রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে। সফলতম রাষ্ট্রব্যবস্থা ইসলাম তৈরি করেছে। যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় একজন গরিব মানুষ ছিল না। জাকাত নেওয়ার মতো লোক পাওয়া যায়নি বছরের বছর। যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় একজন মেয়ে ১২০০ কিলোমিটার রাস্তা একা সফর করে আসে, তার দিকে কেউ চোখ তুলে তাকায়নি। যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় স্বয়ং খলিফাকে বাদীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় খলিফা নিজে তার ছেলেকে মদ পান করার কারণে শাস্তি দেয়। এরকম একটি সফলতম রাষ্ট্রব্যবস্থাকে নিয়ে তারা বলছে, এখানে রাষ্ট্র নিয়ে কোনো কাজ হয়নি!

এরমানে, আপনি যদি রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়েন, তাহলে এই এই সময়টাতে ইসলাম কী কাজ করেছে, এটা আপনার জানা থাকা লাগবে। ইমাম মাওয়ারদির (৩৬৪-৪৫০ হিজরি) আহকামুস সুলতান পড়তে হবে। ইবনে খালদুন (৭৩২- ৮০৮ হিজরি) পড়তে হবে। ইমাম মুহাম্মদ রহিমাহুল্লাহর সিয়ারে কাবির, সিয়ারে সগির পড়তে হবে।

মোটকথা, আপনার নিজ সাবজেক্টের সাথে ইসলামি চিন্তাধারা কী, সেটা আপনি স্টাডি করুন। করে তুলনা করুন। দুটো তুলনা করে, আপনি ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে লেখালেখি করুন। যেমন, আমি ইসলামি আইন পড়েছি, ব্রিটিশ কমন ল পড়েছি। আমি দেখেছি যে, এই বিষয়ে ইসলামি আইনটাই বেশি পারফেক্ট। এগুলো নিয়ে আপনি লেখালেখি করবেন। এটি আপনার দাওয়াহর কাজ। পড়তে যেহেতু হচ্ছেই, ভালো করে পড়ালেখা করুন।

৫. ১ম বর্ষে ‘রিসার্চ মেথডোলজি’ সম্পর্কে জানুন। গবেষণামুখী হোন। রিসার্চ করার একটা মেথড আছে, পশ্চিমারা সেটা তৈরি করেছে। এটার সম্পর্কে আপনারা জানার চেষ্টা করুন। আমাদের ফেসবুকে একটা গ্রুপ আছে, ‘গবেষক হতে চাই’। এই গ্রুপটাতে যদি থাকেন, অনেককিছু জানতে পারবেন। ফার্স্ট ইয়ারে থাকাবস্থায় রিসার্চ মেথডোলজি সম্পর্কে জানুন। এবং এই মেথড অনুসরণ করে নিজেরা ছোট ছোট রিসার্চ করতে থাকুন। আর ইসলামের পক্ষে জ্ঞান তৈরি করুন।

৬. দাওয়াহ করুন। নিজের ক্যাম্পাসে দাওয়াতের কাজ করুন। আপনি ঢাকা ভার্সিটিতে পড়েন। তো, এই যে ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ার যে একটা ট্যাগ, এই ট্যাগকে কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার নিজ এলাকায় মেহনত করুন, নিজের সাবেক ক্যাম্পাসে (স্কুলকলেজে) কাজ করুন। যেমন আমি মেডিকেলে পড়ছি। আমার কাছে তেমন কিছু মনে হয়নি। কিন্তু আমার গ্রামে যখন যাই, সবাই আমাকে ডাক্তার ভাবে। আমি যখন কথা বলব, সে কথাটা তারা নেবে। আপনি পাবলিক ভার্সিটির স্টুডেন্ট, বা, আপনি প্রাইভেট ভার্সিটির স্টুডেন্ট। তো, আপনি যখন একটা হাইস্কুলে গিয়ে কথা বলবেন, তখন ওই হাইস্কুলের স্টুডেন্টদের কাছে, আপনি একজন সেলিব্রিটি। কারণ, সে তো আপনার জায়গায় নিজেকে দেখতে চায়। তো তার কাছে গিয়ে আপনি তাকে ইসলামের কথা বলুন। দাওয়াহ করুন।

৭. আলেমদের সাথে ওঠাবসা করুন। তাদের সাথে ওঠাবসা করলে, আপনি রাস্তা হারাবেন না। আলেমদের সঙ্গে ওঠাবসা করলে, তাদের মজলিসে গেলে-রাস্তা হারাবেন না। কারণ, আমরা হচ্ছি পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ। আর আলেমগণ হচ্ছেন, ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ। সুতরাং তাদের সাথে ওঠাবসা করলে পরে, আমি ঠিক রাস্তায় চলতে পারব। অন্যথায় আমাকে পশ্চিমা দর্শন কোথায় নিয়ে চলে যাবে, ঈমানবিধ্বংসী জায়গায় নিয়ে চলে যাবে-টেরই পাব না।

৮. ঈমানকে মজবুত করুন। ইসলাম ও পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থার সংঘাত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন। যেমন, একটু আগে যে আলাপটা করলাম, এই যে একটা সংঘর্ষ, উভয়টা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা। এটার জন্য কিছু বইপত্র আছে, যেগুলো আপনাকে পড়তে হবে। আসিফ আদনান ভাই ও ইফতেখার সিফাত ভাইয়ের বইগুলো পড়তে হবে। আমার বইগুলোও পড়তে পারেন। রাফান আহমেদ, মুসা আল হাফিজ সাহেবের বইগুলোও পড়া জরুরি। এবং সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদবি রহিমাহুল্লাহর বইগুলো পড়া দরকার। তাহলে, ইসলাম ও পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থার সংঘাত সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।

৯. নবিজি ও সাহাবিরা যে দ্বীন পালন করেছেন, সেই দ্বীনের সাথে কোনো আপস নেই। আল্লাহর রাসুল যে দ্বীন পালন করে গেছেন। আমি ওই ইসলামের ওপরই ঈমান এনেছি। ওই ইসলামটাই আমার লাগবে। কোনো মডিফাইড, মডারেট, মডার্ন এ ধরনের কোনো ইসলাম আমরা মানি না।

১০. দ্বীনি কমিউনিটি থেকে দূরে সরে যাবেন না। সবসময় কমিউনিটির মধ্যে থাকবেন। দ্বীনি বোনেরা চার-পাঁচজন মিলে কমিউনিটি তৈরি করে নেবেন। দ্বীনি ভাইয়েরা চার-পাঁচজন, দশজন মিলে কমিউনিটি তৈরি করবেন। দেখেন না কমিউনিটি আছে। তারা একসাথে তালিম করেন, কেউ যদি একদিন না আসেন, তিনজন তাকে আবার খুঁজতে যান। তো এরকম একটা কমিউনিটি তৈরি করুন। চার-পাঁচজন মিলে একসাথে চলুন। একা একা চলবেন না। একা একা চললে পরে, শয়তান নিয়ে যাবে একদিন।

১১. ভোগ কমিয়ে প্রোডাক্টিভ হোন। পেশাগত ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত ভোগ কমাবেন। কিন্তু আয় বেশি করতে হবে। কারণ, আল্লাহর রাসুল বলেছেন যে, নেককার মানুষের কাছে যদি হালাল সম্পদ থাকে, এটা দিয়ে সে দ্বীনের পক্ষে কাজ করে। সুতরাং নিজের ব্যক্তিগত ভোগ কমবে, কিন্তু আয় বাড়াতে হবে। প্রোডাক্টিভ হতে হবে।

শিক্ষকতা

ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত পছন্দ হলো, এক নম্বরে শিক্ষকতা। সেটা যেখানেই হোক। কিন্ডারগার্টেন হতে পারে, হাইস্কুল হতে পারে, প্রাইমারিও হতে পারে, কলেজ হতে পারে। আমি নিজেও মেডিকেল কলেজের শিক্ষক হওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। কারণ, আপনি যখন শিক্ষক হবেন, আপনি দাওয়াহ করার জন্য কিছু ছাত্রছাত্রী পাবেন। যাদেরকে আপনি আপনার মতো করে, ইসলামের পক্ষে শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। শিক্ষকতা পেশা দাওয়াহর বিরাট সুযোগ। মুমিনের ক্যারিয়ার হবে, না টাকার জন্য আর না সম্মানের জন্য। মুমিনের ক্যারিয়ার হবে এক নম্বরে দাওয়াহ, দুই নম্বরে হচ্ছে, সাদাকাহ।

সুতরাং শিক্ষকতা পেশা একটা দাওয়াহ। এজন্য সবসময় চেষ্টা থাকা দরকার যে, আমি যেন শিক্ষকতা পেশায় ঢুকতে পারি। সেটা যেখানেই হোক। কোনো শিক্ষকতাকে ছোট মনে করবেন না। প্রাইমারি স্কুলে বেতন কম বলে ভাবছেন? বেতন তো আল্লাহ তাআলা থেকে আসে। কিন্তু আমাকে খুঁজতে হবে দাওয়াহর কাজ। আমি চল্লিশটা বাচ্চাকে ইসলামের সৈনিক করে বড় করতে পারছি। এটা একটা বিরাট ব্যাপার।

গবেষণা

প্রত্যেকের নিজ নিজ ফিল্ডে গবেষণা করা দরকার। আসুন, আমরা একটি উদাহরণ দিই, গবেষণা কীভাবে ইসলামের পক্ষে কাজ করে: ঢাকা ভার্সিটিতে একজন বামপন্থী প্রফেসর আছেন; মোহাম্মদ আজম। তার গবেষণা হচ্ছে, বাংলা ভাষায় মূলত প্রচুর আরবি, ফারসি শব্দ ছিল। যে শব্দগুলোকে ব্রিটিশরা ইচ্ছাকৃতভাবে, হিন্দুদের মাধ্যমে বের করে দিয়েছে। এর পরিবর্তে সেখানে সংস্কৃত শব্দ ঢুকিয়েছে। অর্থাৎ, আমরা এখন যে বাংলা ব্যবহার করি, সেটা হল সংস্কৃতমেশানো বাংলা, কলকাতায়ি বাংলা। এই বাংলাকে তারা সংস্কৃত দিয়ে মূল ভাষা হিসেবে তৈরি করেছে। অর্গানিক যে বাংলা ভাষা, সেটা এরকম ছিল না। সেখানে প্রচুর আরবি, প্রচুর ফারসি শব্দ ছিল। যে বাংলাটা আমরা শুনলে, হয়তো এখন বুঝতেই পারব না যে, এটা বাংলা। তো, আমরা যারা ইসলামের পক্ষে কাজ করছি। আমরা কি সেই গবেষণাটাকে ব্যবহার করছি না? এটা আমাদের পক্ষে গিয়েছে না? এর মানে, গবেষণা করে এমন জিনিস জানা যায়, যে জিনিসটা ইসলামের পক্ষে আমরা অ্যাক্টিভিস্টরা ব্যবহার করতে পারি। অ্যাকাডেমিশিয়ানরা এমন জিনিসটা গবেষণা করে দেবেন আমাদেরকে, যেন আমরা অ্যাক্টিভিস্টরা সেগুলো নিয়ে অ্যাক্টিভিটি করতে পারি।

যেমন, আরেকজন আছেন, হাসান মাহমুদ ভাই, 'বাঙালি মুসলমান প্রশ্ন' নামে তার একটি বই আছে। ওই বইতে দেখিয়েছেন, হিন্দুরা যেমন দাবি করে যে: আমরা মুসলমানরা নিম্নবর্ণের হিন্দু ছিলাম। সুতরাং আমাদেরকে আবার হিন্দু হতে হবে। তাহলে আমরা আসল বাঙালি হব। তিনি দেখিয়েছেন যে: না! আমরা কখনোই নিম্নবর্ণের হিন্দু ছিলাম না। বরং যারা বাংলাদেশের বাঙালি, তারা হচ্ছে বাইরে থেকে আসা মুসলমান। এবং এই এলাকায় যে-সমস্ত অ-হিন্দু জনগোষ্ঠী কাজ করত, তারা। তার মানে আমরা হিন্দু না। এবং হিন্দু হওয়ার গরজ আমাদের নেই। আর তাদের যে কলকাতায়ি বাঙালি কালচার, সেই কালচার মানার গরজও আমাদের নেই।

বাংলা শব্দটা এসেছে বঙ্গ+আল=বাঙ্গাল থেকে; সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ এই 'বাংলাদেশ'টাকে একত্র করেন আর নিজের উপাধি নেন শাহ-ই-বাঙ্গালাহ। আর বাঙালি শব্দটা এসেছে এই 'বাঙ্গালাহ' থেকে। মুসলমানরা এই 'বঙ্গ' শব্দটিকে 'বাঙ্গালা' বানিয়েছে। 'বাঙালি কালচার'-এর শুরু তো সেখান থেকে, যখন 'বাঙ্গালা' শব্দটা এসেছে। সুতরাং শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ-এর সময় থেকে যেহেতু 'বাঙ্গালা' শব্দের উৎপত্তি, তাহলে বাঙালি কালচার হচ্ছে, সেই সময়কার কালচার। এটা মুসলিম কালচার। বাঙালি কালচারের নামে যদি কেউ আমাদের কলকাতা খাওয়াতে চায়। আমরা সেটা খাব না। কারণ, সেটা হচ্ছে হিন্দুয়ানি কালচার। আমরা কোনোদিন হিন্দু ছিলামও না। এগুলো আমাদের কালচারও না। আমরা আগাগোড়াই মুসলমান এবং নামাজ, দাড়ি, টুপি, বোরকা এগুলোই আমাদের কালচার। তাহলে দেখুন, এই যে একটা জিনিস আমরা ইসলামপন্থীরা ব্যবহার করছি, এটা গবেষণা করে আবিষ্কার করেছেন হাসান মাহমুদ ভাই। তিনি হয়তো দাড়ি রাখেন না। বা তিনি হয়তো ইসলামপন্থীও না, সেক্যুলার। বাকি গবেষণাগুলোকে এভাবে আমরা কাজে লাগাতে পারি। এইজন্যই বেশি বেশি গবেষণা করা দরকার। প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ ফিল্ডে গবেষণা করা দরকার।

যে পেশায় থাকুন না কেন, শ্রেষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করুন

যেমন, আমি যেকোনো ফিল্ডে একজন ইনজিনিয়ার। আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ইনজিনিয়ার ওই ফিল্ডে বাংলাদেশে আর কেউ নেই। আমি হব সবচেয়ে দক্ষ। শ্রেষ্ঠ ইনজিনিয়ার হবে, একজন দাড়িওয়ালা বা পাগড়িওয়ালা মানুষ। এখানে একটা বিরাট ইফেক্ট আছে। যেমন, শ্রেষ্ঠ কার্ডিওথোরাসিক সার্জন হলেন ডাক্তার এস. আর. খান। দাড়ি-টুপি, জুব্বা ও পাগড়িওয়ালা মানুষ। তেমনইভাবে শ্রেষ্ঠ দার্শনিকের স্থানে আপনি হলেন, একজন দাড়ি-টুপি ও পাঞ্জাবিওয়ালা মানুষ। এর একটা বিরাট প্রভাব আছে। শুধু আপনার চেহারাটাও একটা দাওয়াহ।

নিজের পেশায় দক্ষ হওয়ার চেষ্টা করুন। যেন সেক্যুলাররা আপনাকে আপনার শর্ত মেনেই চাকরি দিতে বাধ্য হয়। বেস্ট গ্রাফিক ডিজাইনার কে? অমুক দ্বীনি ভাই। এই এলাকায় বেস্ট টিউটর কে? অমুক দ্বীনি ভাই। বেস্ট ফ্রিল্যান্সার কে? অমুক দ্বীনি ভাই। যেটা করছেন, বেস্ট হোন। আর দশজন ইসলাম-মনাকে স্কিলটা শেখান। আপনার রিজিক থেকে কেউ নেবে না, তার রিজিকটাই সে নেবে।

ডিগ্রির আশায় না থেকে 'ক্যারিয়ার ক্যাপিটাল' তৈরি করুন। ভার্সিটির দীর্ঘসূত্রী পড়াশোনার ফাঁকে সাবজেক্ট রিলেটেড ব্যবহারিক স্কিলগুলো শিখে ফেলুন। যেমন যে বিবিএ পড়ছেন, নিচের জিনিসগুলো নিয়ে অফলাইন-অনলাইন কোর্স করে সার্টিফিকেট নিয়ে ফেলুন:
* ইংলিশ রাইটিং-স্পোকেন
* বেসিক কম্পিউটার প্রোগ্রামিং
* টিম ম্যানেজমেন্ট
* কাস্টমার সার্ভিসের মৌলিক নিয়মকানুন
* সেলিংস্কিল

বিনাবেতনে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে কিছুদিন কাজ করে সার্টিফিকেট নিয়ে নিন। প্রশিক্ষণের সামান্য সুযোগও লুফে নিন। প্রতি ৬ মাসে আপনার সিভিতে যেন একটা স্কিল যোগ হয়, সেই ব্যবস্থা করুন। চাকরির সেক্টর এখন শুধু ডিগ্রি দিয়ে হয় না, অভিজ্ঞতা চায়। আপনার বন্ধুদের সিভিতে যখন শুধু ডিগ্রিটা থাকবে, তখন আপনার সিভিতে থাকবে ডিগ্রির সাথে বহু অভিজ্ঞতার সনদ। আপনার ক্যারিয়ার ক্যাপিটালে থাকবে বহু প্রশিক্ষণ, কোম্পানির সিস্টেমের সাথে ওঠাবসার স্বীকৃতি।

অফিস-প্রধান হওয়ার চেষ্টা থাকবে

আপনার পেশায় যে আপনি বেস্ট, এটাই একটা দাওয়াহ। এবং যেখানেই আপনি চাকরি করবেন, আপনি প্রমোশন পেয়ে পেয়ে অফিসপ্রধান হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ইসলামি নীতি-আদর্শ বিসর্জন না দিয়ে যতটুকু সম্ভব।

কল্পনা করুন, সেক্যুলার কারও চেয়ে শ্রেষ্ঠ জায়গাগুলো আমাদের থাকলে কেমন হতো। আমার কাছে রাজশাহী ভার্সিটির একটা ছেলে এসেছে, এসে বলছে, ভাই, আমাদের যিনি প্রফেসর, তিনি আমাদেরকে ক্লাসের সময় বিভিন্ন নাস্তিকতা ও দর্শনের কথাবার্তা বলেন। এবং নাস্তিকতার দাওয়াত দেন। আমি তখন তাকে বললাম, তুমি একটু কল্পনা করো তো। তুমি যদি প্রফেসরের জায়গায় থাকতে, তাহলে তুমি কী ক্লাস নিতে? সে বলল, হ্যাঁ, ভাইয়া; আমি তখন ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বগুলো ইনিয়ে বিনিয়ে বিভিন্নভাবে বোঝানোর চেষ্টা করতাম। বললাম, তাহলে তুমি আমাকে বলো, কেন ঠিকমতো পড়াশোনা করো না। কেন তুমি ওই প্রফেসরের জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করো না।

অবশ্যই করতে হবে। সুতরাং নিজের পেশায় শ্রেষ্ঠ হতে হবে। এবং অফিসের প্রধান হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কারণ, আপনার অফিসের প্রধান একজন হিন্দু, বা, একজন উগ্র-সেক্যুলার হলে তো সমস্যা হয়ে যাবে। বরং এই জায়গায় যদি আপনি যেতে পারেন। তাহলে পুরো অফিসে ইসলামি পরিবেশ তৈরি করতে পারবেন কিছুটা হলেও। না পারলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, যার সুফল অন্য মুসলিম কর্মচারী ভোগ করবে।

ক্যারিয়ারের ব্যাপারে আলেমগণের পরামর্শ

যেমন, আপনি দুই-তিনটা জায়গায় সিভি জমা দিয়েছেন, একটা বা দুইটা জায়গায় হয়ে গেছে। তো তখন ওইটার ব্যাপারে একজন বয়স্ক আলেমের সাথে পরামর্শ করবেন। যে, আমি এখন কী করব। আলেমদের সাথে থাকলে, দ্বীনি কমিউনিটির সাথে ওঠাবসা করলে আশা করি কখনো পথ হারাবেন না। আপনাকে বাঘে টেনে নেবে না। একেলা বকরিটাকেই বাঘে খায়, আর মানুষের বাঘ হলো শয়তান। [১৪৭]

ইসতেখারা করা

ইসতেখারার মাধ্যমে আল্লাহর কাছ থেকে ইশারা নিতে হবে : কাজটি আমার জন্য ভালো হবে, নাকি খারাপ হবে। ইসতেখারার দুআটা মুখস্থ করে রোজ ইসতেখারার অভ্যাস করতে হবে।

ইসতেখারার দুআ

اللهمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَاسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ العَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ ولا أَقْدِرُ، وتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلامُ الغيوب اللهمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ - ويسمي الشيء الذي يريده - خَيْرٌ লِي في ديني وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي عَاجِلِهِ وآجِلِهِ فَاقْدره لي ويسره لي، ثم بارك لي فيه، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ লِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي عَاجِلِهِ وآجِلِهِ فَاضْرِفْهُ عَنِّي، وَاضْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِي الخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ

হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কল্যাণ চাই-আপনার ইলমের সাহায্যে। আপনার কাছে শক্তি কামনা করি আপনার কুদরতের সাহায্যে।
আপনার কাছে অনুগ্রহ চাই আপনার মহা অনুগ্রহ থেকে। আপনি সর্বোময় ক্ষমতার অধিকারী - আমার কোন ক্ষমতা নাই আপনি সর্বজ্ঞ - আমি কিছুই জানি না। আপনি সকল গোপন বিষয় পূর্ণ অবগত। পক্ষান্তরে আপনার ইলমে এ কাজ যদি আমার দ্বীন আমার জীবন-জিবীকা ও কর্মফলের দিক থেকে অথবা বলেছিলেন, দুনিয়া ও পরকালের দিক থেকে মন্দ হয় তবে তা আমাকে করার শক্তি দান করুন।
কর্মফলের দিক থেকে তবে আমার ধ্যান-কল্পনা একাজ থেকে ফিরিয়ে নিন। তার খেয়াল আমার অন্তর থেকে দূরীভূত করে দিন।
আর আমার জন্যে যেখানেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে এর ফায়সালা করে দিন এবং আমাকে এরই উপর সন্তুষ্ট করে দিন (বুখারী)

ব্যবসা করা শিখুন ছাত্রবয়সে

ব্যবসা নিয়ে আলাপ আগে করেছি। মুসলিমদের ব্যবসায় আসা জরুরি।

■ দ্বীনি ভাইদেরকে বলব, আপনারা ব্যবসা করুন। ছাত্রবয়সেই ব্যবসায় অভ্যস্ত হোন। বিজনেস-মাইন্ড তৈরি করুন। ছোট ছোট ইনভেস্ট করে লাভ করার চেষ্টা, মানুষের চাহিদা খোঁজা, সস্তায় সেই চাহিদাপূরণের পণ্য/সেবা খোঁজা, কাস্টমার স্যাটিসফেকশনের পলিসি খোঁজা, নিজের মার্কেটিং শেখা।
■ বোনদেরও বলব, আপনারা ব্যবসা করুন আর না করুন, ব্যবসাটা শিখে রাখবেন। কীভাবে ব্যবসা করতে হয়, এটা স্বামীর কাছ থেকে বা ভাইয়ের কাছ থেকে, বা বাবার কাছ থেকে, বা যারা ব্যবসায়ী আছেন, তাদের কাছ থেকে-ব্যবসাটা শিখে নেওয়া জরুরি। আল্লাহ না করুন, একটা সময় এমন হতে পারে যে, আপনার নিজের ইনকাম নিজেকেই করতে হচ্ছে।

টিকাঃ
[১৪৭] মুসনাদে আহমাদ: ২২১০৭, হাসান লিগাইবিতি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px