📄 সঞ্চয় ও অতিরিক্ত আয়ের প্রয়োজনীয়তা
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, "ওপরের হাত নিচের হাতের তুলনায় উত্তম। ওপরের হাত হলো দাতার হাত। আর নিচের হাত গ্রহীতার হাত।" [৫৬] এর মানে, তিনি দানখয়রাত করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। দান করতে হলে, আপনাকে ফরজ পরিমাণ প্লাস ভবিষ্যতের সঞ্চয় করে আরও কিছু অতিরিক্ত আয় করতে হবে।
২. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমর ইবনুল আস রা.-কে বলেন, "আমি তোমাকে সম্পদ উপার্জনের নির্দেশ দিচ্ছি। সৎ মানুষের কাছে হালাল সম্পদ থাকা অতি উত্তম। কারণ তা দিয়ে সে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে। " [৫৭]
অর্থাৎ, তাদের আমরা দানখয়রাত করব। আমি যেহেতু দ্বীনকে বুঝেছি। আল্লাহকে ভয় করি, আল্লাহর রাসুলের শরিয়ত অনুযায়ী চলি। সুতরাং আমার কাছে যদি অতিরিক্ত সম্পদ থাকে, তাহলে তা সমাজকল্যাণে ব্যয় হবে। দ্বীনের প্রয়োজনে ব্যয় হবে, মসজিদে-মাদরাসায় ব্যয় হবে। যেহেতু দাতার হাত গ্রহীতার হাতের তুলনায় উত্তম, সুতরাং আমার হাত যেন দাতার হাত হয়, গ্রহীতার হাত না হয়।
প্রাসঙ্গিকভাবে আরেকটি আলাপের অবতারণা করি। একটা দেশে কী পরিমাণ ব্যাংকনোট থাকবে, তা মোটামুটি ফিক্সড। দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার হিসাব করে প্রতিবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ছাপে। এ ছাড়া এখন এই মুহূর্তে পুরো দেশে কী পরিমাণ নোট আছে, তা কমবেশি স্থির। এই নোটগুলোই হাতবদল হয়। আমরা যারা দ্বীনকে বুঝেছি, আলেমদের সাথে সম্পর্ক রাখি, আমরা যদি এই নোটগুলো নিই, তবে দ্বীনের জন্য খরচ হবে। যদি ছেড়ে দিই, তবে বদ লোকেরা এসব খরচ করবে বদ কাজে। এটা আরেকটি বাস্তবতা বললাম। যদিও এটিও তকদিরের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু চেষ্টার আদেশ তো সর্বদা রয়েছেই।
৩. ■ আরেকটা হাদিস, "দারিদ্র্য কুফর বা অকৃতজ্ঞতার অনেক কাছাকাছি অবস্থান করে।" [৫৮] এতে বোঝা গেল, ইচ্ছাকৃতভাবে গরিব হয়ে যাওয়া উচিত হবে না। এটা অনেক সময় কুফরের দিকে পৌঁছে দেয়।
সুতরাং-
প্রথমত, ফরজ পরিমাণ আয়,
দ্বিতীয়ত, নিজের বৃদ্ধ বয়সের জন্য কিছুটা সঞ্চয়,
তৃতীয়ত, আমার মরণের পর পরিবার যেন হাত পাতার অবস্থায় না পড়ে, সেজন্য আরেকটু কিছু।
চতুর্থত, কিছুটা অতিরিক্ত আয়; যাতে করে আমি দান-সদকা করতে পারি; হজে যাওয়ার জন্য কিছু টাকা জমিয়ে রাখতে পারি।
এই পরিমাণ উপার্জন করতে শরিয়ত আমাদের উৎসাহিত করেছে। কিন্তু এই সবকিছু আবর্তিত হবে সাদাসিধে মধ্যপন্থী জীবনকে কেন্দ্র করে।
টিকাঃ
[৫৬] সহিহুল বুখারি : ১৪২৭; সহিহ মুসলিম: ১০৩৩; সুনানুত তিরমিজি: ৬৮০
[৫৭] আল-আদাবুল মুফরাদ: ২৯৯; মুসনাদু আহমাদ: ১৭৭৬৩; আল-মাবসুত লিস-সারাখসি : ৩০/২৫৭; ইমাম মুসলিমের শর্তে হাদিসটি সহিহ
[৫৮] মিশকাতুল মাসাবিহ: ৫০৫১; আল-জামিউস সগির, সুয়ুতি: ৯৬৩৩; হাদিসটির সনদ দুর্বল
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, "ওপরের হাত নিচের হাতের তুলনায় উত্তম। ওপরের হাত হলো দাতার হাত। আর নিচের হাত গ্রহীতার হাত।" [৫৬] এর মানে, তিনি দানখয়রাত করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। দান করতে হলে, আপনাকে ফরজ পরিমাণ প্লাস ভবিষ্যতের সঞ্চয় করে আরও কিছু অতিরিক্ত আয় করতে হবে।
২. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমর ইবনুল আস রা.-কে বলেন, "আমি তোমাকে সম্পদ উপার্জনের নির্দেশ দিচ্ছি। সৎ মানুষের কাছে হালাল সম্পদ থাকা অতি উত্তম। কারণ তা দিয়ে সে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে। " [৫৭]
অর্থাৎ, তাদের আমরা দানখয়রাত করব। আমি যেহেতু দ্বীনকে বুঝেছি। আল্লাহকে ভয় করি, আল্লাহর রাসুলের শরিয়ত অনুযায়ী চলি। সুতরাং আমার কাছে যদি অতিরিক্ত সম্পদ থাকে, তাহলে তা সমাজকল্যাণে ব্যয় হবে। দ্বীনের প্রয়োজনে ব্যয় হবে, মসজিদে-মাদরাসায় ব্যয় হবে। যেহেতু দাতার হাত গ্রহীতার হাতের তুলনায় উত্তম, সুতরাং আমার হাত যেন দাতার হাত হয়, গ্রহীতার হাত না হয়।
প্রাসঙ্গিকভাবে আরেকটি আলাপের অবতারণা করি। একটা দেশে কী পরিমাণ ব্যাংকনোট থাকবে, তা মোটামুটি ফিক্সড। দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার হিসাব করে প্রতিবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ছাপে। এ ছাড়া এখন এই মুহূর্তে পুরো দেশে কী পরিমাণ নোট আছে, তা কমবেশি স্থির। এই নোটগুলোই হাতবদল হয়। আমরা যারা দ্বীনকে বুঝেছি, আলেমদের সাথে সম্পর্ক রাখি, আমরা যদি এই নোটগুলো নিই, তবে দ্বীনের জন্য খরচ হবে। যদি ছেড়ে দিই, তবে বদ লোকেরা এসব খরচ করবে বদ কাজে। এটা আরেকটি বাস্তবতা বললাম। যদিও এটিও তকদিরের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু চেষ্টার আদেশ তো সর্বদা রয়েছেই।
৩. ■ আরেকটা হাদিস, "দারিদ্র্য কুফর বা অকৃতজ্ঞতার অনেক কাছাকাছি অবস্থান করে।" [৫৮] এতে বোঝা গেল, ইচ্ছাকৃতভাবে গরিব হয়ে যাওয়া উচিত হবে না। এটা অনেক সময় কুফরের দিকে পৌঁছে দেয়।
সুতরাং-
প্রথমত, ফরজ পরিমাণ আয়,
দ্বিতীয়ত, নিজের বৃদ্ধ বয়সের জন্য কিছুটা সঞ্চয়,
তৃতীয়ত, আমার মরণের পর পরিবার যেন হাত পাতার অবস্থায় না পড়ে, সেজন্য আরেকটু কিছু।
চতুর্থত, কিছুটা অতিরিক্ত আয়; যাতে করে আমি দান-সদকা করতে পারি; হজে যাওয়ার জন্য কিছু টাকা জমিয়ে রাখতে পারি।
এই পরিমাণ উপার্জন করতে শরিয়ত আমাদের উৎসাহিত করেছে। কিন্তু এই সবকিছু আবর্তিত হবে সাদাসিধে মধ্যপন্থী জীবনকে কেন্দ্র করে।
টিকাঃ
[৫৬] সহিহুল বুখারি : ১৪২৭; সহিহ মুসলিম: ১০৩৩; সুনানুত তিরমিজি: ৬৮০
[৫৭] আল-আদাবুল মুফরাদ: ২৯৯; মুসনাদু আহমাদ: ১৭৭৬৩; আল-মাবসুত লিস-সারাখসি : ৩০/২৫৭; ইমাম মুসলিমের শর্তে হাদিসটি সহিহ
[৫৮] মিশকাতুল মাসাবিহ: ৫০৫১; আল-জামিউস সগির, সুয়ুতি: ৯৬৩৩; হাদিসটির সনদ দুর্বল