📄 পরিশিষ্ট
বিনোদন ভয়ংকর এক শিল্প, যা তার সীমারেখা ও মূলনীতি লঙ্ঘন করেছে। পাশ্চাত্য ও প্রাচ্য সকলেই এর ওপর হামলে পড়েছে। বর্তমানে তো থিয়েটার বিনোদন বহুরকম অবৈধ বিষয়ের বিস্তার ঘটিয়েছে।
মুসলিমদের এই সর্বনাশা তুফানের সামনে দুর্ভেদ্য প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে একে প্রতিহত করতে হবে। খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে এবং মনে রাখতে হবে, তাদের সন্তানদের অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি; বরং তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এক আল্লাহ তাআলার ইবাদত করার জন্য এবং পৃথিবীকে কল্যাণে ভরিয়ে দেওয়ার জন্য।
📄 গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
এখানে আমি এমন কিছু নির্দেশনা উল্লেখ করব, বিনোদনের জন্য যদি আমাদের যুবক-যুবতীরা কোনো গল্প ও উপন্যাসের বই নির্বাচন করার সময় সেগুলোর প্রতি যত্নবান হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশেই কমে যাবে।
📄 বই নির্বাচন করার সময়
প্রথম নির্দেশনা: বিজ্ঞ কোনো আলিমকে জিজ্ঞেস করা এবং এমন অভিজ্ঞ লোকদের জিজ্ঞেস করা, যারা উপন্যাসের গোপন তথ্য সম্পর্কে খুব ভালোভাবে অবহিত এবং উপন্যাসের যাবতীয় প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার বিষয়গুলো তাদের নখদর্পণে রয়েছে।
দ্বিতীয় নির্দেশনা: এমন গল্প-উপন্যাস পড়া বন্ধ করে দেওয়া ও দূরে থাকা, যেগুলো আমাদের অবিচলতা ও স্থিতিশীলতাকে লক্ষ্য বানিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে, শরিয়তের বিধান নিয়ে তিরস্কার করে এবং যেগুলো প্রবৃত্তিকে উত্তেজিত করে। কেননা, আমাদের অন্তরসমূহ দুর্বল; অথচ এর বিপরীতে সংশয়গুলো প্রকট। অনেক সময় এমন প্রকট সংশয়গুলো পড়া হয়, কিন্তু সেগুলো প্রতিহত করা যায় না, যা ইমানের মাঝে ক্ষত সৃষ্টি করে।
তৃতীয় নির্দেশনা: কোনো প্রকার প্রচারণার পিছে না দৌড়ানো। প্রচারিত বিষয়টি আপনার লক্ষ্য হোক বা না হোক। খুব ভালোভাবে জানতে হবে, ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইটে প্রচারিত উপন্যাসগুলো নির্ভেজাল হয় না বললেই চলে। কেননা, মুসলিমবিদ্বেষী অসাধু চক্র সাধারণত উপন্যাসের ওপর ইমানবিধ্বংসী রং লাগানোর অপপ্রয়াস চালায় এবং সেগুলো ভার্চুয়াল জগতে প্রচার-প্রসার করতে থাকে।
চতুর্থ নির্দেশনা : ওই কিতাবগুলো অধ্যয়নের তালিকায় সর্বাগ্রে রাখা, যেগুলো আমাদের পূর্বসূরি আলিমরা রচনা করেছেন এবং যেসব গ্রন্থে উলামায়ে কিরাম ও নেককার মানুষদের জীবনচরিত বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন: হাফিজুল হাদিস জাহাবি রহ. বিরচিত সিয়ারু আলামিন-নুবালা, তাজকিরাতুল হুফফাজ, ইমাম তাবারি রহ. রচিত তারিখুল উমাম ওয়ালা মুলুক, ইমাম ইবনে কাসির রহ. রচিত আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, এভাবে তারিখে ইবনে খালদুন ও তারিখুল জাবরাতি ইত্যাদি।
📄 উপন্যাস পাঠ করার সময়
প্রথম নির্দেশনা: শরয়ি ইলমের মাধ্যমে নিজের আকিদার চারিদিকে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা।
দ্বিতীয় নির্দেশনা: উপন্যাসকে পরখ করার যোগ্যতা লাভ করা, উপন্যাস রচয়িতার বায়োডাটা সম্পর্কে অনুসন্ধান করা এবং আত্মসমর্পণকারী পাঠক না হওয়া; যদিও এই মানসিকতা আপনাকে উপন্যাস পাঠ থেকে উপকৃত করতে না পারে।
তৃতীয় নির্দেশনা: উপন্যাস পড়াকে এমন স্তরে রাখা যে, তার দ্বারা পড়ার যোগ্যতা তৈরি হবে। এরপর ইলমি, ঐতিহাসিক ও শরয়ি অন্যান্য বিষয়াদি অধ্যয়নের দিকে মনোনিবেশ করা। সব সময় মনে রাখতে হবে, এই উপন্যাসগুলো পড়া বা না-পড়া কোনোটিই আমার প্রকৃত লক্ষ্য নয়।
চতুর্থ নির্দেশনা: দ্বীনি ওয়াজিব ও জরুরি বিষয়গুলো উপেক্ষা করে উপন্যাসের প্রতি আসক্ত না হয়ে পড়া। অনেক মানুষ তো সারা রাত জেগে জেগে দীর্ঘ উপন্যাস পাঠ করে, যার কারণে ফজরের সালাত কাজা হয়ে যায় এবং নামাজের সময়ের প্রতি যত্নবান হতে পারে না।