📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 আরও কিছু গর্হিত বিষয়

📄 আরও কিছু গর্হিত বিষয়


ইতিপূর্বে উল্লিখিত গর্হিত বিষয়গুলো ছাড়াও উপন্যাসে আরও অনেক গর্হিত বিষয় রয়েছে। সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু এখানে তুলে ধরা হলো। যথা-
১. উপন্যাসগুলোতে এত বেশি মদ্যপানের কথা বর্ণনা করা হয় যে, কম্পেয়ার করলে পানি পান করার চেয়ে মদ পান করার মাত্রাই বেশি হবে।
২. প্রকাশ্যে ব্যভিচার ও নোংরামির দিকে আহ্বান করা হয়।
৩. নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা এবং উভয়ের মাঝখান থেকে অন্তরায় উৎখাত করার প্রচারণা চালানো হয়।
৪. বাস্তবতার বিবর্তন। অনেক ঘটনা এমন রয়েছে, যেগুলোতে অপরাধীর প্রতি করুণাভাব প্রদর্শন করা হয় এবং পরিশেষে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন কোনো ভালো মানুষকে সাহায্য করা হচ্ছে।
৫. অক্ষম, দুর্বল, বিকলাঙ্গ মানুষদের প্রতি উপহাস ও বিদ্রূপ করা হয়।
৬. জাদু ও জাদুকর সম্মান প্রদর্শন করা হয়। যেমনটি হ্যারিপটারের ঘটনাগুলোতে করা হয়েছে। সেখানে এই চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে, একজন সভ্য ছোট জাদুকর অসভ্য বড় জাদুকরের সাথে যুদ্ধ করে।
কিন্তু আমাদের শরিয়ত নির্দেশ দিয়েছে জাদুকরদের হত্যা করতে। সেখানে ভালো ও খারাপ জাদুকরের মাঝে ব্যবধান করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, যা প্রমাণ করে যে, প্রত্যেক জাদুকরই খারাপ। যদি আমরা আমাদের শিশুদেরকে শেখাই যে, (জাদুকর হওয়ায় শরয়ি দৃষ্টিতে) হ্যারিপটারের মৃত্যুদণ্ডের উপযুক্ত, তাহলে লোকজন সবাই এর প্রচণ্ড বিরোধিতা করবে।
এই ধরনের উপন্যাসগুলো আমাদের সমাজে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। আর এ কারণে 'হ্যারিপটার' উপন্যাসটির লেখিকা এতবেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে যে, যদি এই বই থেকে উপার্জিত অর্থগুলো প্রতিটি শব্দের ওপর ভাগ করে দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিটি শব্দের বিপরীতে আড়াই হাজার ডলার অর্থাৎ প্রায় দুই লাখ দশ হাজার টাকা করে আসে। এই শিরোনাম ও গল্প দিয়ে যে ছোট ফিল্ম তৈরি করা হয়েছে, তার নায়ক লাভের অর্থগুলোর জন্য অসিয়ত করে গেছে। শুধু তার একার লভ্যাংশের ভাগেই এসেছিল দশ মিলিয়ন ডলার। যদিও সে পরে (বেশিদিন) বেঁচে থাকেনি।
৭. কোনো কোনো গল্প-উপন্যাসের দ্বারা কোনোরকম উপকারই হয়নি। যেমন, ওই সমস্ত ঘটনা, যেগুলোতে ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অনেক মানুষকে দেখা যায়, তারা ডিজিটাল প্রযুক্তির অস্তিত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে দ্বন্দ্বযুদ্ধে লিপ্ত হয়। উদ্দেশ্য, এ প্রযুক্তিজগৎ যেন ধ্বংস না হয়ে যায়! অথচ এ জগৎ পুরোটাই তো অলীক কল্পনা, যার স্থায়িত্ব বা অস্থায়িত্বের কারণে কোনো কিছু যায় আসে না।
অনেক সময় পাঠকেরও ভুল হয়। যেমন, এই ধরনের উপন্যাস পড়তে গিয়ে সুদীর্ঘ সময় নষ্ট করা। অনেকে তো উপন্যাসের আকর্ষণের কারণে সালাত পর্যন্ত কাজা করে ফেলে।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 বিপদজনক পদস্খলন

📄 বিপদজনক পদস্খলন


এই উপন্যাস ও গল্পগুলোর সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, লেখক ও পাঠকের মাঝে অলিখিত একটি ঐকমত্য সৃষ্টি হয়। এ ঐকমত্যের সারকথা হলো, 'লেখক যেন বলছে, আমাকে সুযোগ দাও আমি ধোঁকা দেবো, আর পাঠক (যেন) বলছে, আমাকে ছেড়ে দাও আমি ধোঁকা খাব।'
অর্থাৎ লেখক এ কথা খুব ভালোভাবে জানে যে, আমি যা লিখছি তা অবশ্যই ভুয়া। এমনিভাবে পাঠকও জানে যে, আমি যা কিছু পাঠ করছি তা নিশ্চিতভাবেই ভুল ও কাল্পনিক। কিন্তু লেখক ও পাঠক এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, লেখক যা কিছু লিখবে, পাঠক তার সবটুকুকেই সত্যায়ন করবে।
এই ঐকমত্যের লাভ হলো, এই উপন্যাস থেকে সে লাভবান হতে পারবে। যেমন : কোনো গল্পের মাঝে পড়ছিল যে, অপরাধী কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করার জন্য তার কাছে পৌঁছে যায়। লেখক এখানে আপনার ভেতর এই কামনা ও অনুভূতি জাগানোর চেষ্টা করবে যে, অপরাধী সেই লোকটিকে যেন হত্যা করতে না পারে। যদি এই অনুভূতি জাগ্রত না হয়, তাহলে পাঠকের লাভ হবে না, কারণ তার অনুভূতি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এরপরও পাঠকের সেই গল্প শেষ পর্যন্ত পাঠ করা মূলত এই চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া, লোকটির নিহত হওয়া উচিত না হলেও আমি তার হত্যাকে সমর্থন করলাম। এটা কি ধোঁকা নয়? উপরন্তু সে জানে, এখানে কেউ হত্যাও করবে না, কেউ নিহতও হবে না। তারপরও মন থেকে হত্যা হওয়া বা না হওয়ার প্রত্যাশা করার হেতুটা কী? নিশ্চয় অলীক কল্পনা এবং সত্যের সাথে প্রবঞ্চনা।
এখানে পদস্খলনের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। যেমন: যখন আপনি গল্পের নায়ককে দেখবেন, তার সাথে ক্রুস রয়েছে। এদিকে ভ্যাম্পায়াররা নায়কের ওপর আক্রমণ করার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আক্রমণ করে বসেছে। ঠিক এই সময় আপনার মাঝে একটি কল্পনা, একটি অনুভূতি এবং একটি আবেগ ও কাল্পনিক পরামর্শ কাজ করবে, যদি সে ক্রশের সাহায্য গ্রহণ করত তাহলে তাকে প্রতিরোধ করতে পারত!
তো এই কল্পনাটি ভয়ংকর ও বিপজ্জনক পদস্খলন। একজন মুসলিম কীভাবে ক্রুসকে সাহায্যকারী ভাবতে পারে; অথচ তা খ্রিষ্টানরা আবিষ্কার করেছে? একজন মুসলিম কীভাবে মানতে পারে যে, ক্রুশ ভ্যাম্পায়ারকে প্রতিরোধ করতে পারবে? উপরন্তু এই উপমায় কল্যাণ ও অনিষ্টতার মাঝে রয়েছে মহাযুদ্ধ, যেমনটি লেখক চিত্রায়ণ করেছে। আর এখানে বলা হয়েছে, কল্যাণ হলো ক্রুশ, যা বিশ্বাস করলে ইমান থাকবে না। আল্লাহ তাআলা এসব কুফরি থেকে আমাদের হিফাজত করুন।
সাধারণ মানুষ তো আছেই, বর্তমান যুগের তালিবুল ইলম ও দ্বীনের দাঈরা পর্যন্ত এই বিপজ্জনক পদস্খলনের শিকার। তারা এই উপন্যাসগুলোর ভুল বের করার জন্য এগুলো পাঠ করে। তবুও অনেক সময় দেখা যায়, কিছু লেখকের জাদুকরী ভাষা ও উপস্থাপনার কাছে সে লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তার হৃদয়ে ক্রুসধারী নায়ককে সাহায্য করার মানসিকতা সৃষ্টি হয়েছে; যদিও সেই নায়ক শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে অপরাধী।
অতএব, হে মুসলিম ভাই, এই বিপজ্জনক পদস্খলন থেকে সতর্ক থাকুন!

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 পরিশিষ্ট

📄 পরিশিষ্ট


বিনোদন ভয়ংকর এক শিল্প, যা তার সীমারেখা ও মূলনীতি লঙ্ঘন করেছে। পাশ্চাত্য ও প্রাচ্য সকলেই এর ওপর হামলে পড়েছে। বর্তমানে তো থিয়েটার বিনোদন বহুরকম অবৈধ বিষয়ের বিস্তার ঘটিয়েছে।
মুসলিমদের এই সর্বনাশা তুফানের সামনে দুর্ভেদ্য প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে একে প্রতিহত করতে হবে। খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে এবং মনে রাখতে হবে, তাদের সন্তানদের অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি; বরং তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এক আল্লাহ তাআলার ইবাদত করার জন্য এবং পৃথিবীকে কল্যাণে ভরিয়ে দেওয়ার জন্য।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

📄 গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা


এখানে আমি এমন কিছু নির্দেশনা উল্লেখ করব, বিনোদনের জন্য যদি আমাদের যুবক-যুবতীরা কোনো গল্প ও উপন্যাসের বই নির্বাচন করার সময় সেগুলোর প্রতি যত্নবান হয়, তাহলে ইনশাআল্লাহ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশেই কমে যাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00