📄 মহাশূন্যীয় সৃষ্টির অস্তিত্ব
এই প্রকারটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, পৃথিবী গ্রহের বাইরে বুদ্ধিমান প্রাণী আছে। মানুষের সাথে তাদের সাক্ষাৎ ঘটে। আর (উপন্যাসের চরিত্রে) অধিকাংশ ক্ষেত্রে এতে শুরু হয় রক্তাক্ত এনকাউন্টার, যার ভিত্তিতে সংঘটিত হয় সর্বনাশা ভয়ংকর বিশ্বযুদ্ধ।
কোনো কোনো উপন্যাসে বলা হয়েছে, সেই সৃষ্টিগুলো আমাদের পৃথিবীনামক গ্রহে বিশেষ আকাশযানে করে আগমন করে। এ যানটি 'ইউফো' নামে প্রসিদ্ধি পেয়েছে।
এই বিষয়ে নির্মিত কার্টুন ফিল্মগুলো মুসলিম শিশুদের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করেছে। যেমন : গ্রেন্ডাইজার ও আয়রন ম্যান ইত্যাদি। এগুলোর অনুকরণে আরও অনেক ফিল্ম তৈরি করা হয়েছে।
শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে এ ধরনের উপন্যাসে সবচেয়ে আপত্তিকর দিক হলো, এতে ভিনগ্রহের প্রাণীদের এমন শক্তির আধার মনে করা, যা তাকে কখনও কখনও সৃষ্টিকর্তার পর্যায়ে পৌঁছিয়ে দেয়। যেমন: কোনো কোনো নায়ক যখন যেখানে এবং যেভাবে ইচ্ছে বৃষ্টি বর্ষণ করতে পারে, কেউ বজ্রপাত ঘটাতে পারে, কেউ বাতাস পরিচালনা করতে পারে, কেউ পৃথিবীর ঘূর্ণায়ন তার কক্ষপথে থামিয়ে দিতে পারে এবং কেউ আবার পৃথিবীতে ভূমিকম্পন সৃষ্টি করতে পারে!
অথচ আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে ইরশাদ করেছেন-
أَفَرَعَيْتُمُ الْمَاءَ الَّذِي تَشْرَبُونَ، أَأَنْتُمْ أَنْزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنْزِلُونَ .
তোমরা যে পানি পান করো, সে সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি? তোমরা তা মেঘ থেকে নামিয়ে আনো, না আমি বর্ষণ করি? [সুরা আল-ওয়াকিয়া : ৬৮-৬৯]
অন্যত্র নিজের গুণ বর্ণনা করে বলেছেন—
وَيُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَنْ يَشَاءُ .
তিনি বজ্রপাত ঘটান, অতঃপর যাকে ইচ্ছা তাকে তা দ্বারা আঘাত করেন। [সুরা আর-রা'দ : ১৩]
সুতরাং আল্লাহর এসব গুণ ও বৈশিষ্ট্য কোনো সৃষ্টির জন্য সাব্যস্ত করা নিশ্চিতভাবে সুস্পষ্ট কুফরি।
মুসলিম উম্মাহ কীভাবে এসব উপন্যাস ও ফিল্ম দেখিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎপ্রজন্মকে আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের ওপর দীক্ষিত করবে? কীভাবে তাদের মন-মস্তিস্কে একথা বদ্ধমূল হবে যে, আল্লাহ তাআলাই বৃষ্টি বর্ষণ করেন? যখন তার সামনে (বিভিন্ন ফিল্ম ও কার্টুনে) উপস্থাপন করা হচ্ছে যে, মাখলুকও বৃষ্টি বর্ষণ করতে পারে!
📄 সময়কে অতিক্রম করা
১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে নরওয়ের জনৈক লেখক হারমান ফয়সালের মাথায় আরেক কুচিন্তার বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে যে, সময়কে অতিক্রম করা সম্ভব। এটি এখন সায়েন্স ফিকশনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। ফলে সায়েন্স ফিকশন নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিটি লেখকই সময়কে অতিক্রম করা সম্ভব মর্মে কিছু না-কিছু লিখছে।
এই দর্শনের সারকথা হলো, সময়কে অতিক্রম করে ভবিষ্যতের মাঝে প্রবেশ করা কিংবা অতীতের মাঝে ফিরে যাওয়া সম্ভব।
কিন্তু শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে সময়কে অতিক্রম করা অসম্ভব। এই বিশ্বাসের মাঝে অনেক গর্হিত বিষয় রয়েছে। যেমন: এই উপন্যাসের কোনো কোনো স্থানে অদৃশ্যকে জানার দাবি করে যুক্তি পেশ করা হয়েছে যে, সে ভবিষ্যতের মাঝে প্রবেশ করতে পারে। এমন আরও অনেক গর্হিত কথাই এ ধরনের উপন্যাসে বলা হয়ে থাকে।