📄 উপন্যাসের নায়কের অনুকরণের অনুপ্রেরণা সৃষ্টি
কিশোররা সাধারণত যাকে ভালোবাসে তার অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এই বিষয়টি কোনো কোনো সময় ভয়ংকর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন: কিশোররা যেই নায়কদের অনুকরণ করার চেষ্টা করে, সেই নায়কেরা অপছন্দনীয় লোকগুলোকে হত্যা করে ফেলে, কারও প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি হলে তার ওপর আক্রমণ করে বসে। কিশোররা এগুলো দেখে ভালোবাসার নায়কের মতো মনে মনে নিজেকে বীরপুরুষ ভেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে সেই শিশুকে হত্যা করতে অনুপ্রাণিত হয়, যে তার সাথে ঠাট্টা-মশকরা করে। অথবা এমন কোনো কৌশল সে কল্পনা করে, যার দ্বারা দায়িত্বরত ও শাসনকারী শিক্ষকদের কষ্ট দেওয়া যায়।
অনৈসলামি সমাজে এগুলো তো প্রাচীনকাল থেকেই আছে, আমাদের ইসলামি সমাজেও ইদানীং এসব দেখা যাচ্ছে। এমন অনেক কিশোরের ব্যাপারে শুনেছি যে, পিস্তল নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে সে অনেক ছাত্র ও শিক্ষককে হত্যা করেছে।
আরও এমন অনেক বিষয়েই আমাদের কিশোররা উপন্যাসের নায়কদের অনুকরণ করে, যা হত্যার চেয়ে কম ক্ষতিকারক হলেও ইসলামি শরিয়তের স্পষ্ট লঙ্ঘন। যেমন : তাদের চাল-চলন, কথাবার্তা ও পোশাক-পরিচ্ছদের অনুকরণ ইত্যাদি।
এমন অনেক কিশোরকে আমরা দেখেছি, যারা রসের ক্যানে মুখ লাগিয়ে চুমুক দিয়ে ঠিক এমনভাবে পান করে, যেভাবে পাপাচারী ইসলামবিদ্বেষীরা বোতল বা পেয়ালায় মুখ লাগিয়ে মদ পান করে।
📄 দৈহিক শক্তির উত্তাপ সৃষ্টি
অ্যাকশনধর্মী উপন্যাসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, তা মানুষের অন্তরে দ্বীন ও শিক্ষার শক্তির চেয়ে দৈহিক শক্তিকে অনেক বড় করে উপস্থাপন করে, যার কারণে মানুষের হৃদয়ে দৈহিক শক্তির উত্তাপ সৃষ্টি হয়। সুতরাং আমরা দেখি যে, ওই গল্প ও উপন্যাসের নায়করা কেবল দৈহিক শক্তির বিষয়টিকেই গণনার মধ্যে নেয়, শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বদা নিজের দৈহিক শক্তির হিসাবটাই কষে। যার কারণে অধিকাংশ সময় তারা প্রতিরোধমূলক কোনো অস্ত্র ছাড়াই ঘোরাফেরা করে। এমনকি এই ধরনের উপন্যাস পাঠ করে এবং সিনেমা দেখে কারাতে সেন্টার ও জিমগুলোতে প্রশিক্ষণের জন্য যাতায়াত করে।
তো কারাতে প্রশিক্ষণ বা শারীরিক শক্তি অর্জন করা বড় কোনো বিষয় নয়, বড় বিষয় হলো যুবকের চিন্তা-চেতনা ও সার্বক্ষণিক পরিকল্পনা, যা তার দ্বীন ও দুনিয়া উভয় জগতের কাজগুলোকে সহজ করে দেবে।