📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 অপরাধীদের চিন্তাগত সহযোগিতা

📄 অপরাধীদের চিন্তাগত সহযোগিতা


এই ধরনের গোয়েন্দা উপন্যাস অনেক সময় অপরাধীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ কোর্সের কাজ দেয়। হালে ব্রিটেনে কয়েকটি ভয়ংকর সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর - যার পেছনে কিছু কট্টরপন্থি ও প্রবৃত্তিপরায়ণ লোকের ষড়যন্ত্র রয়েছে- সশস্ত্র অপরাধের চিত্র ও অবকাঠামো তুলে ধরার জন্য ব্রিটেনে 'মেট্রো' নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশি হয়েছে। সেখানে পরিষ্কারভাবে এ কথা বলা হয়েছে যে, অপরাধীরা এই ধরনে গোয়েন্দা উপন্যাস থেকেই অপরাধের কলা-কৌশল রপ্ত করে। এমনকি অনেক ভদ্র ও মার্জিত কিশোর-কিশোরীদেরও এই উপন্যাসগুলো সন্ত্রাসমূলক অপরাধের দিকে ডাইভার্ট করেছে মর্মে গ্রন্থটিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ সেখানে এমন অনেক অপরাধের কথা বলা হয়েছে, যেগুলো সংঘটিত করেছে মার্জিত ও ভদ্র সোসাইটির কিশোররা। গ্রন্থটিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক স্তরের কিশোরীদের অধিকাংশই বড় বড় অপরাধের দিকনির্দেশনা প্রচলিত গোয়েন্দা উপন্যাস থেকে গ্রহণ করে।
আগাথা ক্রিস্টি কর্তৃক ইংরেজিতে রচিত উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করেই অধিকাংশ গোয়েন্দা উপন্যাস তৈরি করা হচ্ছে। এই মহিলা তার ইংরেজি গল্পে পরিষ্কারভাবে লিখেছে, একজন ভদ্র মহিলা খুব সহজে ঠান্ডা মাথায় কাউকে হত্যা করতে পারে। এমন সূক্ষ্ম ও শান্ত প্রক্রিয়ায় হত্যা করা সম্ভব, যা দেখে জনগণ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবে। এই চতুর মহিলা এমন অনেক হত্যার ফিরিস্তি পেশ করেছে, যেখানে সবকিছু সম্পাদন করেছে ভদ্র ও মার্জিত পর্যায়ের মহিলারা। যেগুলো খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে গোয়েন্দা উপন্যাসগুলোতে।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 অপরাধমূলক কাজের চিত্রায়ণ

📄 অপরাধমূলক কাজের চিত্রায়ণ


কোনো কোনো গল্পে ভয়ংকর যে বিষয়টি রয়েছে, তা হলো, সেখানে অপরাধের এমন কৌশল তুলে ধরা হয়েছে, যা সাধারণ মেধার কোনো মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়। সেগুলো সংঘটিত করার জন্য এবং তার দোষ থেকে বাঁচার জন্য, এসংক্রান্ত যাবতীয় পরীক্ষা ও সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রয়োজন তীক্ষ্ণ মেধা ও কূটনৈতিক বুদ্ধিমত্তার। অনেক কিশোর-কিশোরী তো বুদ্ধিমত্তা ও অনুভূতি খুইয়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই থেকে আরম্ভ করে ভয়ংকর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। আবার মনে মনে নিজেদের এই কাজকে সমর্থনও করছে।
আমি এটা বলছি না যে, প্রতিটি গোয়েন্দা উপন্যাসেই এমন অনিষ্টকর দিক রয়েছে; বরং কিছু কিছু উপন্যাসে এমন জটিলতা রয়েছে, তাও আবার সবগুলোতে সমানহারে নয়।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 কিছু অপরাধীকে সম্মাননা দেওয়া হয়

📄 কিছু অপরাধীকে সম্মাননা দেওয়া হয়


অনেক সময় কিছু চোরের আলোচনা এভাবে করা হয়—'মেধাবী চোর, ভদ্র চোর' ইত্যাদি। এমন চোরদের তালিকায় সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো 'আরসিন লুপিন'। সে ধনীদের অর্থ চুরি করে গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিত। অথবা জালিমের কাছ থেকে নিয়ে মাজলুমকে দিয়ে দিত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তার অনুসারীরা প্রকৃত অর্থেই চুরি করতে আরম্ভ করে।
ওই সমস্ত লেখক, যারা আরবিতে এগুলোর অনুবাদ করেছে, তারা এটা বেমালুম ভুলে গেছে যে, চুরি ও চোর যে কোয়ালিটিরই হোক না কেন, শরিয়তে তার বিধান একই। আর সেটা হলো চোরের হাত কেটে দেওয়া। উপরন্তু কোনো মানুষের এই অধিকার নেই যে, সে ব্যক্তিগতভাবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে; বরং এই দায়িত্বটি রাষ্ট্রপ্রধান ও বিচারকদের ওপর বর্তায়। যদি প্রত্যেকেই এভাবে ইনসাফ কায়েম করা আরম্ভ করে, তাহলে মানুষের সম্পদ নষ্ট হতে থাকবে; অথচ না কেউ তার কাছে ইনসাফ কায়েমের বিচার দিয়েছে, আর না কেউ এর প্রতিকার চেয়েছে।
তাহলে এই ধরনের মানুষ কীভাবে অনুসরণীয় ও রোলমডেল হতে পারে!? আল্লাহ তাআলা আমাদের সুমতি দান করুন। আমিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00