📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 মানুষ গল্প ও উপন্যাস কেন পড়ে?

📄 মানুষ গল্প ও উপন্যাস কেন পড়ে?


ইসলামের দাঈ ও ঔপন্যাসিকদের অবশ্যই এই তথ্য জানতে হবে যে, মানুষ কেন গল্প ও উপন্যাস পড়ে? গল্প ও উপন্যাস থেকে তারা কী অর্জন করতে চায়?
যদি আমরা এগুলো থেকে তাদের লক্ষ্য ও টার্গেট সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে আমাদের সামনে দাওয়াতের পথ উন্মুক্ত ও প্রশস্ত হবে। আমি এখানে সেই লক্ষ্যগুলোই আলোচনা করার চেষ্টা করব, মানুষ গল্প ও উপন্যাস পাঠ করে যা পেতে চায়।
প্রথম লক্ষ্য : গল্প পড়ে তৃপ্ত হওয়া, গল্প তৈরির পদ্ধতি রপ্ত করা এবং সেগুলোতে উপস্থাপিত চিন্তা-চেতনা ধারণ করা।
অতএব, লেখকদের জন্য জরুরি হলো মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য নিজ লেখার মাধ্যমে মানুষকে ফুরফুরে মেজাজে সিক্ত করার চেষ্টা করবে। নতুন চিন্তা-চেতনা পুশ-ইন করবে এবং সাহিত্যের নতুন কোনো ছোঁয়া দিয়ে তাদের সেবা করবে।
দ্বিতীয় লক্ষ্য : কিছু মানুষ কেবল এজন্য গল্প পড়ে যে, সে তার আভিধানিক জ্ঞানকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করবে, নিজের মাঝের সাহিত্যশক্তিকে পরিপূর্ণ করবে এবং ব্যাকরণ ও অলংকারগত বিষয়কে খুব ভালোভাবে রপ্ত করবে।
অতএব, লেখকদের জন্য আবশ্যক হলো, মানুষের হৃদয়ের এই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে এমন অলংকারপূর্ণ গল্প ও উপন্যাস লিখবে, যা তাদের চাহিদা খুব ভালোভাবে পূরণ করতে পারে এবং তাদের সম্মানিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। কেননা, অলংকারপূর্ণ ভাষা-সাহিত্য হলে তা অন্য সব সাধারণ লেখার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে থাকে। পাশাপাশি সাধ্যের মাঝে নিজ নিজ গল্প ও উপন্যাসে এমন অভিনবত্ব নিয়ে আসার চেষ্টা করবে, যা পাঠককে করবে বিমোহিত, তাদের মাঝে সৃষ্টি করবে নতুনকে গ্রহণ করার উচ্ছ্বাস এবং গল্প ও উপন্যাসের মাঝে তুলে ধরা চিন্তা-চেতনা গ্রহণ করার সুপ্ত লোভ।
তৃতীয় লক্ষ্য: অনেক সময় রোগীর সেবা করতে অপেক্ষারত ব্যক্তি সময় কাটানোর জন্য গল্প বা উপন্যাস পাঠ করে। তার মনের ভাব থাকে এমন, গল্পের কোনো বই পেলে পড়তে পড়তে দীর্ঘ সময়টি কেটে যাবে।
অতএব, এমনভাবে ছোট ছোট গল্প তৈরি করা, যেগুলোর মাঝে সুন্দর চরিত্র গঠনের জন্য কিছু টিপস থাকবে, লক্ষ্য অর্জনের জন্য কিছু নির্দেশনা থাকবে। এতে বিভিন্ন অপেক্ষাকেন্দ্র—যথা: হাসপাতাল, অফিস-আদালত ইত্যাদি স্থানে এর প্রভাবও শীঘ্রই দেখা যাবে; বিশেষত যখন ওইসব ঘটনার বিন্যাস সুন্দর ও চমৎকার হবে।
চতুর্থ লক্ষ্য : মানুষ অনেক সময় এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়, যখন তার মাঝে বড় বড় বই পড়ার স্পৃহা জাগ্রত হয়। বিশেষ করে যদি ইতিপূর্বে এই ধরনের কোনো বই পড়ে না থাকে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষ সাধারণত মানসিক টেনশন দূর করার জন্য বড় বড় গ্রন্থ অধ্যয়ন করতে চায়। অনেক অভিভাবক সন্তানদের পড়ায় অভ্যস্ত করতে এমন গ্রন্থ অধ্যয়ন করার ব্যবস্থা করেন।
এই লক্ষ্যগুলো বিচার করে ইসলামি লেখকগণ সুদীর্ঘ ও লম্বা-লম্বা এমন উপন্যাস রচনা করবেন, যাতে থাকবে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায় এবং পাশাপাশি দ্বীনি উপকার। লক্ষ রাখতে হবে, যেন কঠিন কোনো বাক্য এখানে অনুপ্রবেশ না করে এবং অভিধানগত কোনো প্যাঁচ-কোঁচও যেন না থাকে। কেননা, এই পরিস্থিতিতে পাঠক সহজবোধ্য বিষয়গুলোর প্রতি অত্যধিক আকর্ষণ অনুভব করে।
পঞ্চম লক্ষ্য: যে ব্যক্তি জীবন চলার পথে কঠিন পথ পাড়ি দিতে থাকে, সেই কঠিন জীবনের তিক্ততা থেকে সে মুক্তি পেতে উদগ্রীব থাকে। তখন সে গল্প ও উপন্যাস পড়ে দগ্ধ হৃদয়ে শান্তির পরশ অনুভব করতে চায়। এই গল্প ও উপন্যাসগুলো তখন পাঠককে শান্ত করে তার জীবনের অর্থ ও লক্ষ্য বোঝানোর চেষ্টা করে এবং তার মন থেকে হতাশা ও টেনশনের কালো মেঘ ধীরে ধীরে কেটে যায়।
অতএব, এই ধরনের লোকদের জন্য নির্মাণ করতে হবে এমন সব গল্প ও উন্নিবেশ, যেখানে ফুটিয়ে তুলতে হবে, কল্যাণ সর্বদা অনিষ্টতার ওপর বিজয়ী হয়। এখন মুমিন সমাহার সেখানে হবে, কোনো মানুষ বিপৎসংকুল সময় পার করছিল, বড় বিপদে আক্রান্ত ছিল সে, মুক্তির কোনো পথ তার সামনে খোলা ছিল না, ঠিক এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আল্লাহ তাআলা তার সহায় হয়েছেন, তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। কারণ, বিপদগ্রস্ত লোকটি ধৈর্যহারা হয়নি, আল্লাহর প্রতি তার বিশ্বাস ছিল মজবুত পাহাড়ের মতো অবিচল এবং সে দ্বীনের ওপর ছিল অনঢ়।
ষষ্ঠ লক্ষ্য: সিরাতে মুসতাকিমের ওপর প্রতিষ্ঠিত কিছু নেককার যুবক অনেক সময় এমন গল্প পাঠ করতে চায়, যা তাদের হৃদয়ে ইমানকে আরও মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে, তাকে নেককাজের প্রতি উৎসাহিত করবে ও তার মনোবল প্রকৃত উদ্দেশ্যে পৌঁছতে আন্দোলিত করবে এবং সাহায্য করবে সর্বপ্রকার প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে চলতে।
সপ্তম লক্ষ্য : প্রবৃত্তিগত পশুবৃত্তিক চাহিদা ও লক্ষ্য। কিছু মানুষ এমন সব গল্প ও উপন্যাসই পাঠ করে, যেগুলোতে থাকে যৌন সুড়সুড়ি ও হারাম চাহিদার উসকানি। যেগুলো পাঠককে কখনও দ্রুত আবার কখনও ধীরে ধীরে অন্ধকার জগতের দিকে ঠেলে দেয়।
এদের জন্য কেবল এমন গল্প ও উপন্যাসই লিখতে হবে, যাতে থাকবে মৃত্যুর কথা, জাহান্নামের ভয়ংকর শাস্তির কথা। বলা হবে, এভাবে পাপাচারের অন্ধকার পথে চলতে থাকলে যদি আল্লাহ তাআলা তাদের ক্ষমা না করেন, তাহলে নিক্ষিপ্ত হতে হবে জাহান্নামে।
ইসলামের নামে এমন কোনো গল্প বা উপন্যাস নির্মাণ করা সমীচীন নয়, যেগুলোতে যৌন সুড়সুড়ি বা রোমান্সের অনুভূতি থাকবে। এমন গল্প ও উপন্যাসের সাথে ইসলাম শব্দটি যোগ করা নেহায়েত অন্যায় ও গর্হিত কাজ। যেমন: অনেক গল্পকার ও ঔপন্যাসিক গোটা গল্প ও উপন্যাসকে যৌনতা ও নোংরামির জীবাণু দিয়ে সাজিয়ে শেষে এসে বলে যে, পাপাচারে লিপ্ত লোকটি তাওবা করে ভালো হয়ে গেছে। এমন উপন্যাসকে ইসলামি উপন্যাস বলা যাবে না। তাওবার দিকে আহ্বান করার জন্য মানুষকে পাপের দিকে উৎসাহিত করা কি কোনোভাবে বৈধ হতে পারে?
সেই গল্পকার ও ঔপন্যাসিক কি জানেন যে, পাঠক শেষ পর্যন্ত বইটি পড়বে? এটা কি কোনো যৌক্তিক বা সম্ভবপর বিষয় যে, একটি লোক শত শত পৃষ্ঠা পাঠ করে উত্তেজিত হওয়ার পর হঠাৎ করে দু এক পৃষ্ঠা পাঠ করে সেই মানসিকতা পাল্টিয়ে শীতল হয়ে যাবে? এমন হওয়াটা স্বাভাবিক নয়।
ইন্টারনেটে এমন অগণিত ঘটনা ও উপন্যাস রয়েছে, যেগুলোকে ইসলামি বলে দাবি করা হয়। ইসলামি শিরোনাম দিয়ে বৈধতার দাবি করা হয়। ভূমিকাও সেভাবেই সাজানো হয়। আবার শেষে গিয়ে অপরাধীর তাওবা করার বিষয়টি তুলে ধরা হয় বা বলা হয় যে, অপরাধী তাওবা করার পূর্বেই মারা গেছে। এমন অনেক ঘটনা রয়েছে।
যদি অশ্লীলতা ও ফাসাদ প্রচারের আশঙ্কা না থাকত, তাহলে এখানে উপমাস্বরূপ দু'একটি ঘটনা তুলে ধরতাম। কিন্তু সেই ঘটনাগুলোতে পাপাচার ও ফাসাদের প্রচারণা হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই এমন করা থেকে বিরত থাকলাম।
অতএব, হে ইসলামের দাঈগণ, আল্লাহকে ভয় করুন। জেনে রাখুন, ইসলামের দাঈ হওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে ইসলামের বিধি-নিষেধ সম্পর্কে বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ হতে হবে।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 উপন্যাসের প্রকারভেদ

📄 উপন্যাসের প্রকারভেদ


আমরা আগের পৃষ্ঠাগুলোতে ওই সমস্ত উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করেছি, যেগুলোর লেখকেরা আল্লাহর সত্তা নিয়ে সমালোচনা করেছে, ইসলাম ও তার সংবিধান নিয়ে আপত্তি তুলেছে এবং ভ্রষ্ট চরিত্রের দিকে আহ্বান করেছে। বস্তুত তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আধুনিক ও সামাজিক উপন্যাসগুলোর ওপর ভরসা করে লিখেছে।
সমস্ত লেখক শুরুতেই কিন্তু নাস্তিকতা ও পাপাচার প্রচারের উদ্দেশ্যে লেখেনি; বরং তারা প্রাথমিক পর্যায়ে জৈবিক চাহিদা পূরণ করার জন্য কিংবা সাহিত্যিক আবেদনে তৃপ্ত হওয়ার জন্য লিখেছে। আর এভাবে চলতে গিয়েই তারা মারাত্মক কিছু ভুলের শিকার হয়েছে।
সামাজিক ও আধুনিক উপন্যাস ছাড়াও উপন্যাসের অনেক প্রকার রয়েছে। এই অধ্যায়টির পূর্ণতার জন্য সেই প্রকারগুলো নিয়েও আলোকপাত করব ইনশাআল্লাহ।
উপন্যাসের অনেক আকৃতি-প্রকৃতি ও ভাব-ধরন রয়েছে। প্রত্যেক প্রকারের জন্য পৃথক পৃথক লেখক ও পাঠক রয়েছে। বিষয়টি কেবল সামাজিক উপন্যাসের মাঝেই সীমিত নয়; বরং এখানে গোয়েন্দা উপন্যাস, অ্যাকশন উপন্যাস, ভৌতিক উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস এবং ভালোবাসা ও রোমান্স উপন্যাস প্রভৃতি। এগুলোর মধ্য থেকে কিছু প্রকার এবং সেগুলোর উদ্দেশ্য ও ইশতেহার নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 ঐতিহাসিক গল্প-উপন্যাস

📄 ঐতিহাসিক গল্প-উপন্যাস


মানুষের মাঝে বহুলপ্রচলিত আরেকটি গল্প-উপন্যাসের প্রকার হলো ভীতিকর গল্প-উপন্যাস। এই ধরনের গল্প ও উপন্যাসের প্রধান লক্ষ্য থাকে পাঠকের মন-মগজে ভীতি সৃষ্টি করা। ভৌতিক উপন্যাসের জগতে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো পাশ্চাত্য লেখক লাভক্রাফট।
এই ধরনের গল্প-উপন্যাসের পাঠক ও ফিল্মের দর্শকদের মন-মগজে এর ভয়ংকর প্রভাব পড়ে। যেমন:
১. মানসিকভাবে তার মাঝে সেই ভয়টি প্রবল হয়ে ওঠে। এই ধরনের উপন্যাসের পরিষ্কার লক্ষণ হলো, তার মাঝে হিংস্রতা বৃদ্ধি পায়। কেননা, এই ধরনের উপন্যাস, গল্প ও সিনেমায় রক্তের নদী বয়ে যায় এবং শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়।
এই উপন্যাসগুলো আমাদের শিশুদের হৃদয়ে এমন আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে, তারা বেঁচে থাকার মনোবল হারিয়ে ফেলে। শিশুদের মানসপটে এমন দৃশ্য ভেসে ওঠে যে, সেখানে মানুষের রক্তপিপাসু কোনো হায়েনা অবস্থান করে। যারা দেখতে ঠিক মানুষের ন্যায়, কিন্তু তারা মানুষ নয়। তারা প্রথমে মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে, এরপর তাদের সাথে বাড়িতে গিয়ে রাতের আঁধারে তাদের রক্ত পান করে। এই শিশুটি কেবল এই চিন্তায় কাতর হয়ে থাকে, কখন যেন সে এই ধরনের প্রাণীর শিকারে পরিণত হয়! সমাজের ব্যাপারে তার চিন্তা-ভাবনাতেও ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এজন্যই তো অনেক সময় দেখা যায়, প্রতিবেশী বা নিজের বন্ধুকে দেখিয়ে শিশু হঠাৎ বলে উঠছে, এরা কি রক্তচোষা? এরা কি রাক্ষস?
ভীতিকর কোনো কোনো গল্পের কারণে শিশুর মনে সর্বদা এই সংশয় দানা বেঁধে থাকে, যেকোনো সময় তাকে অকারণে হত্যা করা হতে পারে। বিশেষকরে এমন সিরিয়াল কিলারদের হাতে সে যেকোনো মুহূর্তে মারা পড়তে পারে, যারা শুধু এ কারণে শিশুদের হত্যা করে যে, তারা নীলচোখা বা প্রখর মেধাবী। নিহতদের সাথে সামান্য কথাবার্তার সম্পর্ক ছাড়া তাদের এসব হত্যার পেছনে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য থাকে না।
এই অনিষ্টতা ও অপকারিতা শুধু বহিরাগত উপন্যাসগুলোর মাঝে কিংবা কেবল সাম্প্রতিক লেখকদের লেখার মাঝেই সীমিত নয়; বরং প্রাচীনকাল থেকেই এমন কল্পকাহিনি প্রচলিত আছে। যেমন: ভূত-প্রেতের গল্প, দৈত্যের গল্প, শয়তানের গল্প ইত্যাদি। এগুলোও উপরে বর্ণিত অনিষ্টতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই গল্প, উপন্যাস ও ফিল্ম আমাদের মাঝে বীর-বাহাদুর সন্তান সৃষ্টির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এগুলোর সাথে সম্পৃক্ত শিশুরা কাপুরুষ, ভীত, লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়েই বেঁচে থাকার পথ খুঁজবে। একটি শিশু যখন তার পড়ালেখার মাঝেই এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে বেড়ে উঠবে, এগুলো তার মাঝে বড় ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করবে।
আমাদের শিশুদের যখন তার মা এই বলে ভয় দেখাবে যে, এটা করো, ওটা করো, কথা না শুনলে কিন্তু ভূতে ধরবে, ওই যে কূপের পাশে ভূত আছে, তো এই শিশু কি কোনোদিন একাকী কূপ থেকে পানি উঠাতে যেতে সাহস করবে?
২. ভীতিকর ঘটনা, উপন্যাস ও ফিল্মগুলোতে অনেক সময় তাওহিদ তথা আল্লাহ তাআলার একত্ববাদবিরোধী কথাও থাকে। যেমন: জনগণের মাঝে বহুলপ্রচলিত ড্রাকুলার গল্প। যেটি পশ্চিমা ফিল্মগুলোর প্রতিপাদ্য বিষয় হয়ে গেছে। এগুলোর মাঝে শরিয়ত-গর্হিত অনেক বাজে আকিদা ও ভ্রষ্ট চিন্তা-চেতনার বীজ রয়েছে। যেমন:
ক. রক্তচোষারা কখনও ধ্বংস হবে না, তারা মারা যাবে না।
খ. ড্রাকুলা মৃতকে কবর থেকে জীবিত করতে পারে।
গ. সাধারণত সেই গল্পগুলোতে এই ধ্যান-ধারণাও প্রচার করা হয় যে, ক্রুস ড্রাকুলার আক্রমণ ও অনিষ্টতা থেকে রক্ষা করতে পারে, যার মাঝে ক্রুসের প্রতি অপরিসীম সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এমনকি আমাদের অনেক মুসলিম শিশুদের বাহুতে ক্রুস ঝুলানোর কথা শুনেছি, যারা ড্রাকুলার গল্প ও উপন্যাস পড়ে এবং এ ধরনের সিনেমা দেখে।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের সন্তানসস্তুতি ও সমস্ত মুসলিমকে এই ধরনের বিনোদনগত ফিতনা থেকে হিফাজত করেন। আমিন।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 অলীক উপন্যাস

📄 অলীক উপন্যাস


অলীক উপন্যাস বলতে যেসব উপন্যাসে এমন বিষয় উপস্থাপন করা হয়, যার সাথে সাধারণ পৃথিবীর কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন, 'আজব দেশে অ্যালিসের অভিযাত্রা' নামক উপন্যাস। এতে এমন একটি মেয়ের কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে, যে অচিন কোনো গ্রহে ঘুরতে গেছে।
এগুলো নিয়ে এমন এমন উপন্যাস তৈরি করা হয়েছে, যাতে অলীক জগতের অলীক সব বিষয়কে চিত্রায়িত করা হয়েছে। যেমন: 'আংটিসমূহের রাজা' নামক উপন্যাস। এতে এমন কিছু মানুষের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, যারা অন্য একজগতের বাসিন্দা এবং তারা বিভিন্ন ধরনের অলৌকিক কাজের ক্ষমতা রাখে। এই জাতীয় আরেকটি উপন্যাসের নাম হলো 'হ্যারি পটার', যা সারাবিশ্বেই প্রসিদ্ধি অর্জন করেছে।
অলীক গল্পগুলোতে আপনি দেখতে পাবেন যে, অধিকাংশ বইয়েই চাঁদের রাতে নেকড়ে বাঘে রূপান্তরিত মানুষ, ভ্যাম্পায়ার (রক্তচোষা) ও জম্বি (জীবন্ত লাশ) ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আরবে এমন কিছু লেখকও আত্মপ্রকাশ করেছে, যারা বিনোদন হিসেবে নিজেদের লেখায় এই ধরনের গল্প যুক্ত করেছে। যেমন: আহমাদ খালিদ তাওফিক। সে 'অলীক গল্প' নামে একটি সিরিয়াল রচনা করেছে। অনেকের মতে গত এক দশকে আরববিশ্বের যুবকদের মাঝে এই ধরনের গল্প খুব বেশি প্রভাব সৃষ্টি করেছে।
এ ধরনের গল্প-উপন্যাসের চরিত্র বিভিন্ন রকমের হওয়ায় তার ভয় ও ভীতির ধরনও নানারকমের হয়ে থাকে। যেমন: জম্বির গল্প। জম্বি বলা হয়, জীবন্ত লাশকে। অর্থাৎ মারা যাওয়ার মৃত লাশ জীবন্ত হয়ে ওঠে। ইসলাম এটাকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না। কেননা, মৃত মানুষের প্রাণ এই পৃথিবীতে আর কখনও ফিরে আসতে পারে না।
ইসা আলাইহিস সালামের হাতে মৃত মানুষের জীবিত হয়ে ওঠার যে ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, সেটা ছিল তাঁর মুজিজা। এমনিভাবে উজাইর আলাইহিস সালাম বিলীন হয়ে যাওয়া এক জনপদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করাকালে উট জীবিত হওয়ার যে ঘটনা আছে, সেটাও আল্লাহর পক্ষ থেকে নবিদের বিশেষ মুজিজা ছিল। এ ধরনের দাবি না অন্য কারও জন্য করার বৈধতা আছে, আর না কোনো মানুষের জন্য এমন ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার সুযোগ আছে।
এমনিভাবে আনকা বা ফিনিক্স পাখির গল্প। এটি একটি রূপকথার পাখি। পৌরাণিক কাহিনিতে বলা আছে, সে মরে ছাইয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। মারা যাওয়ার পর বিশেষ কিছু ঘটনা ঘটলে সে আবার প্রাণ ফিরে পাবে।[৮০]
এখানে অভিশপ্ত ফিরআউনের একটি গল্পও প্রচলিত আছে। বলা হয়ে থাকে, ফেরাউনের জাদুর এমন পাওয়ার রয়েছে যে, সে নিজের ওপর আসা অভিশাপ সমস্ত রাজার কবরে প্রেরণ করতে পারে। এমনকি যারা তাদের কবরগুলোকে নষ্ট করতে চায়, তাদের ওপরও এই মরণঅভিশাপ আক্রমণ করে থাকে।
এসব ভ্যাম্পায়ার, জম্বি ও নেকড়ে বাঘে রূপান্তরিত মানুষের গল্প-উপন্যাসে মূল প্রতিপাদ্য বিষয় থাকে ক্রুসকে সম্মান করা। এসব বইয়ে এ বিশ্বাস চর্চা করা হয় যে, ক্রুশের মর্যাদা দান করলেই কেবল মানুষ এসব ভয়ংকর প্রাণী থেকে রক্ষা পেতে পারে। এসব গল্প-উপন্যাসে এ ধরনের আরও অনেক ইসলাম পরিপন্থি বিষয় পাওয়া যায়।

টিকাঃ
[৮۰] পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে (যার কোনো শরয়ি বা ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই) পবিত্র অনল প্রভা থেকে ফিনিক্স পাখির সৃষ্টি। ফিনিসীয় পুরাণ, চাইনিজ পুরাণ, গ্রিক পুরাণ ও প্রাচীন মিসরীয়দের বর্ণনায়ও ফিনিক্স পাখির উল্লেখ পাওয়া গেছে। প্রাচীন গ্রিক পুরাণ অনুসারে ফিনিক্স হলো এক পবিত্র 'অগ্নিপাখি'। আর এটি এমনই একটি পবিত্র আগুনের পাখি, যার জীবনচক্র আবর্তিত হয় হাজার বছর ধরে। (উইকিপিডিয়া- ঈষৎ পরিমার্জিত) -সম্পাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00