📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 ইসলামি গল্প ও উপন্যাসের জন্য জরুরি বিষয়

📄 ইসলামি গল্প ও উপন্যাসের জন্য জরুরি বিষয়


ইসলামি লেখক ও ঔপন্যাসিকগণ, যারা গল্প লেখেন, উপন্যাস লেখেন, তাদের জন্য নিজেদের লেখায় এবং উপন্যাসের মাঝে নিচের বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখা খুব জরুরি-
১. লেখায় যেন এমন ঔদ্ধত্য ও উদ্ভট খেয়াল বা মন্তব্য না থাকে, যা পাঠকের বোধশক্তির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
২. এমন কোনো বিষয় লেখায় স্থান দেওয়া যাবে না, যেগুলো মানুষের স্বভাবজাত আবেদনের পরিপন্থি।
৩. লেখা যেন অবশ্যই ব্যাকরণগত দিক থেকে নির্ভুল হয়, ভাষার নিয়মাবলিতে কোনো অসঙ্গতি না থাকে, অলংকারশাস্ত্রের প্রতি সজাগ দৃষ্টি থাকে এবং আকর্ষণীয় শব্দ চয়নের দিকে গভীর নজর থাকে, যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে অনৈসলামি লেখকদের চ্যালেঞ্জ করে বিজয়ী হওয়া যায়। যদি এই বিষয়গুলোতে ইসলামি গল্প ও উপন্যাসগুলো উত্তীর্ণ হতে পারে, তাহলে অন্যান্য ছোটখাট বিষয় অন্তরালে চলে যাবে। সেগুলো নিয়ে এই লেখার ওপর উল্টো প্রতিক্রিয়া, ক্রোধ বা ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ার অবকাশ থাকবে না।
৪. কুরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত ঘটনাগুলোর প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। যেমন : নবিদের ঘটনা, মুজিজা, দাওয়াতের স্তর বর্ণনা করা এবং গোঁড়া লোকদের অবস্থানগুলো পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করা, মুমিনদের শেষ ফলাফল কী, সেগুলোও আলোচনা করা।
উদাহরণত, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ঘটনা, মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনা, হারুন আলাইহিস সালামের ঘটনা, ইসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালামের ঘটনা এবং আমাদের প্রিয়নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ঘটনা ইত্যাদি।
অতীত উম্মাহার ঘটনাও আলোচনায় স্থান পেতে পারে। যেমন: ওই সকল মানুষের কাহিনি, যাদের তাদের আবাস্থল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল; অথচ তাদের সংখ্যা ছিল হাজার হাজার। অনুরূপ তালুত ও জালিম জালুতের ঘটনা, আদম আলাইহিস সালামের পুত্রদ্বয় হাবিল ও কাবিলের ঘটনা, আসহাবে কাহফের ঘটনা, জুলকারনাইনের ঘটনা, কৃপণ কারুনের ঘটনা, আসহাবুস সাত্ত তথা দাউদ আলাইহিস সালামের নাফরমান উম্মতের ঘটনা, মারইয়াম আলাইহাস সালামের ঘটনা, আসহাবুর রাকিম ও হস্তিবাহিনীর ঘটনা ইত্যাদি।
ওই সমস্ত সংগ্রাম ও আন্দোলনের ঘটনাগুলোও উপস্থাপন করা যেতে পারে, নবিদের যুগে যেগুলো সংঘটিত হয়েছে। যেমন: গাজওয়ায়ে বদর, গাজওয়ায়ে উহুদ, গাজওয়ায়ে হুনাইন, গাজওয়ায়ে তাবুক, গাজওয়ায়ে খন্দক, হিজরতের ঘটনা, মিরাজের ঘটনা ইত্যাদি।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমেও অতীত উম্মতের ঘটনা পেশ করে আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে—
وَاضْرِبْ لَّهُم مَّثَلًا رَّجُلَيْنِ جَعَلْنَا لِأَحَدِهِمَا جَنَّتَيْنِ مِنْ أَعْنَابٍ وَ حَفَفْتُهُمَا بِنَخْلٍ وَ جَعَلْنَا بَيْنَهُمَا زَرْعًا.
আপনি তাদের কাছে দু'ব্যক্তির উদাহরণ বর্ণনা করুন। আমি তাদের একজনকে দুটি আঙুরের বাগান দিয়েছি। এ দুটিকে খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছি এবং এর মাঝখানে করেছি শস্যক্ষেত্র। [সুরা আল-কাহফ : ৩২]
উলামায়ে কিরামের মাঝে এ বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্য আছে যে, বাস্তবেই এমন ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, না কি সম্ভাব্য সংঘটিতব্য ঘটনা অগ্রিম বর্ণনা করেছেন, কিংবা আমাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য কাল্পনিকভাবে ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ আলিম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বাস্তবে সংঘটিত ঘটনাই বর্ণনা করেছেন। তবে এই বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই যে, সবগুলো ঘটনা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য ওয়াজ ও উপদেশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
উপদেশগুলো এমন কার্যকরি যে, সেগুলো হৃদয়ের গভীরে দাগ কাটে। আল্লাহর একত্ববাদ, নবিদের সত্যায়ন ও বাতিলের মোকাবিলায় প্রমাণ পেশ করার ক্ষেত্রে এগুলো খুবই শক্তিশালী ও অব্যর্থ মাধ্যম।
এটা খুব সুন্দর ও পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে দেয়, সৃষ্টির প্রতি আল্লাহ শত ভাগ ইনসাফ করেছেন। বিশেষভাবে অপরাধীদের প্রতি তিনি অণুপরিমাণও বাড়তি শাস্তি চাপিয়ে দেননি। খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দেয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের সাহায্য করেন এবং তাঁর নবি ও নেককার বান্দাদের ছোট-বড় সর্বপ্রকার বিপদের সময় সান্ত্বনা প্রদান করেন। মমতাভরা কৌশলে হৃদয়স্পর্শীভাবে ইমান ও কল্যাণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেন এবং কুফরি, পাপাচার ও নাফরমানির প্রতি নিরুৎসাহিত করেন।
এতে কাফিরদের জন্যও রয়েছে অলংকারপূর্ণ মমতামাখানো ওয়াজ।
আকিদা-বিশ্বাস, চরিত্র ও ফাজায়িলের ভিত্তি কুরআন-সুন্নাহয় মজবুতভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর কল্যাণকর কাজের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে চিত্তাকর্ষক পদ্ধতিতে।
এমনিভাবে আমরা দেখি, আমাদের কাছে এমন অসংখ্য গল্পের ভান্ডার রয়েছে, যেগুলো হৃদয়গ্রাহী ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা হৃদয়জগতে ভালো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং সহজেই বোধগম্য হয়।
ইতালিয়ান লেখক আলবার্তোম মোরাভিয়া বলেছে, 'মুসলমানদের কুরআনে কারিমে এত ঘটনা বর্ণিত আছে, যেগুলো থেকে তারা এখন পর্যন্ত পূর্ণরূপে উপকৃত হতে পারেনি।'
৫. কুরআন-সুন্নাহ থেকে কোনো ঘটনা বর্ণনা করার সময় সেখানে নিজের পক্ষ থেকে এমন কোনো বিষয় সংযোজন করা জায়িজ নেই, যা প্রকৃতপক্ষে ঘটেনি। এমন কোনো ব্যক্তিকে সেখানে অনুপ্রবেশ করানো যাবে না, যে প্রকৃতপক্ষে মূল ঘটনার মাঝে ছিল না। কেননা, এর মাধ্যমে কুরআন-সুন্নাহর কথাকে এমন ব্যক্তি বা বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত করা হয়, যার সাথে তার আদৌ সম্পর্ক নেই। এটা হবে কুরআন-সুন্নাহর ওপর স্পষ্ট মিথ্যাচার।
৬. পাশ্চাত্যের কিছু কিছু লেখক অন্যান্য ভ্রষ্ট লেখকদের থেকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন, যারা লেখার সময় নিজেদের অকৃপণ উদারতা এবং পক্ষপাতদুষ্টতা থেকে মুক্ত থাকার কারণে সফলতার উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছেন; যা তাদের লেখাগুলো করেছে সম্মানিত, জনপ্রিয় ও সর্বমহলে বরণীয়।
যেমন : প্রাচীন লেখক জুলস ভার্নে যখন 'পৃথিবী থেকে চাঁদে' গল্পটি লিখেছিলেন, তখনও মানববিশ্ব মহাশূন্যে যেতে পারেনি; কিন্তু এই গল্পকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো জ্ঞানগর্ভ আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। যেগুলোর প্রত্যেকটিতে তার গল্পটিকে মূল্যায়ন ও মর্যাদা দান করা হয়।
গল্পটি লেখার ১০০ বছর পর এবং গল্পকারের মৃত্যুর ৬৫ বছর পর আমেরিকা চাঁদে পৌঁছার দাবি করে। অনেক মানুষ তখন জুলস ভার্নের কাল্পনিক গল্প এবং আমেরিকার 'দে ভ্রমণের বাস্তব গল্পের মাঝে অসাধারণ সাদৃশ্য পেয়ে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। স্মিত হওয়াটা অস্বাভাবিক ছিল না। কারণ, গল্পকার নিজেকে পাঠকের স্থানে বিচার করে গল্পের মাধ্যমে মানুষের জ্ঞানকে সম্মান করার চেষ্টা করেছেন। তিনি কেবল অনুমাননির্ভর হয়েই গল্পটি তৈরি করেননি; বরং তিনি বিষয়টির বিভিন্ন দিক নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন, তারপর গল্পটি লিখেছেন।
আমাদের যুগে এসে দ্য ভি ভিঞ্চি কোড বইটির লেখক ড্যান ব্রাউন মানুষের চন্দ্রভ্রমণ সম্পর্কে আরেকটি গল্প লিখেছেন। বইটির ৬০ মিলিয়নের অধিকসংখ্যক কপি বিক্রি হয়েছে। তিনি এই গল্প লেখার উদ্দেশ্যে প্রায় আড়াই বছর খ্রিষ্টধর্ম নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন, যার প্রভাব তার গল্পকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলেছে।
ইসলামি লেখকদের জন্য এগুলো থেকে উপকৃত হওয়া জরুরি। পাঠকদের জ্ঞানকে সম্মান করে এবং ইসলামি ও পাশ্চাত্য লেখনীর প্রতিযোগিতার ময়দানে ইসলামি লেখাকে উত্তীর্ণ করার জন্য পশ্চিমা এই লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা খুব ভালোভাবে অধ্যয়ন করতে হবে।
গল্প-উপন্যাস লেখার পূর্বে পর্যাপ্ত অনুসন্ধান করলে আরও দুটি উপকার হয়। যথা :
ক. গল্প-উপন্যাসের মাধ্যমে সমাজকে শিক্ষিত ও সভ্য করে তোলা যায়। কারণ, এসব গল্প-উপন্যাসের মাধ্যমে তাদেরকে ইতিহাস, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিষয়ক সঠিক ধারণা দেওয়া সম্ভব।
খ. দ্বীনি বিধি-নিষেধের ক্ষেত্রে ভুলের আশঙ্কা থাকে না; যেমনটি অনেক লেখনীতে দেখা যায়। কারণ, সাধারণত নিজের দ্বীনের নলেজের ওপর ভিত্তি করেই গল্প-উপন্যাস লেখা হয়। আর দেখা যায়, লেখক এ দ্বীনি নলেজ অর্জন করেছেন কোনো স্যাটেলাইট চ্যানেল, ম্যাগাজিন বা পত্রিকা থেকে। কিন্তু শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে সেগুলো সঠিক নয়; যার কারণে লেখক পাঠকদের দ্বীনি বিষয়ে ভুল বার্তা প্রদান করেন।
৭. ভ্রান্ত আকিদায় আঘাত করার জন্য গল্প ও উপন্যাসের সদ্ব্যবহার করা এবং সেই ভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসীদেরকে সুকৌশলে ইসলামি আকিদা ও সহিহ সুন্নাহর দিকে আহ্বান করা।
দ্য ভি ভিঞ্চি কোডের গল্পের মাঝে আমাদের জন্য শিক্ষণীয় উপমা রয়েছে; যদিও তার লেখক একজন কাফির। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে, 'হিকমত মুসলমানের হৃতসম্পদ, যেখানে পাবে সেখান থেকেই উদ্ধার করবে।[৭৮]
এই উপন্যাসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ঔপন্যাসিক লেখক ড্যান ব্রাউন তার চিন্তা-চেতনা প্রতিষ্ঠা করেছে; অথচ তার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে, সে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সংস্থাগুলোর সাথে জড়িত, যা ধর্মীয় ভাবাবেগ থেকে মুক্ত। এজন্য সে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও ধর্মের অনেক আকিদা-বিশ্বাস নিয়ে সমালোচনা করে এবং এমন কিছু সংগঠনেরও সমালোচনা করেছে, যারা তাদের দ্বীনি বিষয়কে বিবৃ করে ফেলেছে। ফলে অন্যান্য যাজকেরা তার চরম বিরোধিতা করেছিল।
তার সে উপন্যাস গোটা আমেরিকান সোসাইটিতে ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। সেখানকার প্রতি ১০জনের একজন সেই উপন্যাসটি পড়েছে। ৫% ভাগ লোক এ কথা বলেছে যে, এই বইটি তাদের আকিদা-বিশ্বাসের বিকৃতি ঘটিয়েছে। এরপর সেই উপন্যাসের আলোকে সিনেমা তৈরি করা হয়েছে। তবে সেখানে খ্রিষ্টধর্মের ওপর থেকে তিরস্কারের পরিমাণ সিনেমায় অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে। এতৎসত্ত্বেও চলচ্চিত্র কুশলীদের অনেক সমালোচনা করা হয়েছে।
এখানে শিক্ষণীয় বিষয় হলো, যদি ভালোবাসার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়, সুন্দর করে সাজানো হয় এবং হৃদয়গ্রাহী করে উপস্থাপনা করা হয়, তাহলে এই প্রকারের উপন্যাসের মাধ্যমে অনেক মানুষের আকিদা-বিশ্বাস বিকৃত করে নষ্ট করে দেওয়া সম্ভব; যেমনটি ড্যান ব্রাউন করেছিল।
আবদুল মুনইম জাদাবি 'কুনতু কুবুরিয়‍্যান' বা আমি কবরস্থ ছিলাম নামে একটি বই লিখেছেন, যা অনেকটা উপন্যাসধর্মী বই। বইটিতে সুফিবাদের কেলেঙ্কারিগুলো বর্ণনা করা হয়েছে এবং হৃদয়গ্রাহী ও জাদুকরী ঢঙে তাদের প্রতিবাদ ও তিরস্কার করা হয়েছে।
এটার মাধ্যমে দ্য ভি ভিঞ্চি কোডের প্রচারণা করা উদ্দেশ্য নয় যে, লোকজন তার থেকে নিরাপদ থাকবে। কেননা, এই উপন্যাস তো তাদের ভ্রান্ত আকিদার বিশাল সমুদ্রের কয়েক বিন্দু মাত্র।
ড্যান ব্রাউন তো প্রতিমাপূজার দাওয়াত দেয়। সে এই বিশ্বাসও লালন করে যে, মহিলারা ঐশী দ্বীনগুলোর আলোকে প্রভুত্বের বাস্তবতাকে যখন অস্বীকার করেছে তখন তাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। এই দাবিও করেছে, প্রতিমাপূজার ধর্মে মহিলারা অধিক সম্মানিত ছিল। কেননা, তারা সেখানে দেবীর আসনে অধিষ্ঠিত ছিল। তাই ড্যান ব্রাউনরা এখন মহিলাদের সাহায্য করে তাদের প্রভুত্ব ও দেবিত্ব ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছে!

টিকাঃ
[৭৮] আমাদের সমাজে অনেকে এটাকে হাদিস বলে প্রচার করে, কিন্তু এটা রাসুলের হাদিস হিসেবে প্রমাণিত নয়। তাই আমাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। অবশ্য এটা হাদিস না হলেও অর্থগত দিক থেকে এতে কোনো অসুবিধা নেই। তাই হাদিস মনে না করে সাধারণ নসিহত হিসেবে এটা বলা যাবে। -সম্পাদক

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 মানুষ গল্প ও উপন্যাস কেন পড়ে?

📄 মানুষ গল্প ও উপন্যাস কেন পড়ে?


ইসলামের দাঈ ও ঔপন্যাসিকদের অবশ্যই এই তথ্য জানতে হবে যে, মানুষ কেন গল্প ও উপন্যাস পড়ে? গল্প ও উপন্যাস থেকে তারা কী অর্জন করতে চায়?
যদি আমরা এগুলো থেকে তাদের লক্ষ্য ও টার্গেট সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে আমাদের সামনে দাওয়াতের পথ উন্মুক্ত ও প্রশস্ত হবে। আমি এখানে সেই লক্ষ্যগুলোই আলোচনা করার চেষ্টা করব, মানুষ গল্প ও উপন্যাস পাঠ করে যা পেতে চায়।
প্রথম লক্ষ্য : গল্প পড়ে তৃপ্ত হওয়া, গল্প তৈরির পদ্ধতি রপ্ত করা এবং সেগুলোতে উপস্থাপিত চিন্তা-চেতনা ধারণ করা।
অতএব, লেখকদের জন্য জরুরি হলো মানুষকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য নিজ লেখার মাধ্যমে মানুষকে ফুরফুরে মেজাজে সিক্ত করার চেষ্টা করবে। নতুন চিন্তা-চেতনা পুশ-ইন করবে এবং সাহিত্যের নতুন কোনো ছোঁয়া দিয়ে তাদের সেবা করবে।
দ্বিতীয় লক্ষ্য : কিছু মানুষ কেবল এজন্য গল্প পড়ে যে, সে তার আভিধানিক জ্ঞানকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করবে, নিজের মাঝের সাহিত্যশক্তিকে পরিপূর্ণ করবে এবং ব্যাকরণ ও অলংকারগত বিষয়কে খুব ভালোভাবে রপ্ত করবে।
অতএব, লেখকদের জন্য আবশ্যক হলো, মানুষের হৃদয়ের এই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে এমন অলংকারপূর্ণ গল্প ও উপন্যাস লিখবে, যা তাদের চাহিদা খুব ভালোভাবে পূরণ করতে পারে এবং তাদের সম্মানিত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। কেননা, অলংকারপূর্ণ ভাষা-সাহিত্য হলে তা অন্য সব সাধারণ লেখার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে থাকে। পাশাপাশি সাধ্যের মাঝে নিজ নিজ গল্প ও উপন্যাসে এমন অভিনবত্ব নিয়ে আসার চেষ্টা করবে, যা পাঠককে করবে বিমোহিত, তাদের মাঝে সৃষ্টি করবে নতুনকে গ্রহণ করার উচ্ছ্বাস এবং গল্প ও উপন্যাসের মাঝে তুলে ধরা চিন্তা-চেতনা গ্রহণ করার সুপ্ত লোভ।
তৃতীয় লক্ষ্য: অনেক সময় রোগীর সেবা করতে অপেক্ষারত ব্যক্তি সময় কাটানোর জন্য গল্প বা উপন্যাস পাঠ করে। তার মনের ভাব থাকে এমন, গল্পের কোনো বই পেলে পড়তে পড়তে দীর্ঘ সময়টি কেটে যাবে।
অতএব, এমনভাবে ছোট ছোট গল্প তৈরি করা, যেগুলোর মাঝে সুন্দর চরিত্র গঠনের জন্য কিছু টিপস থাকবে, লক্ষ্য অর্জনের জন্য কিছু নির্দেশনা থাকবে। এতে বিভিন্ন অপেক্ষাকেন্দ্র—যথা: হাসপাতাল, অফিস-আদালত ইত্যাদি স্থানে এর প্রভাবও শীঘ্রই দেখা যাবে; বিশেষত যখন ওইসব ঘটনার বিন্যাস সুন্দর ও চমৎকার হবে।
চতুর্থ লক্ষ্য : মানুষ অনেক সময় এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়, যখন তার মাঝে বড় বড় বই পড়ার স্পৃহা জাগ্রত হয়। বিশেষ করে যদি ইতিপূর্বে এই ধরনের কোনো বই পড়ে না থাকে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষ সাধারণত মানসিক টেনশন দূর করার জন্য বড় বড় গ্রন্থ অধ্যয়ন করতে চায়। অনেক অভিভাবক সন্তানদের পড়ায় অভ্যস্ত করতে এমন গ্রন্থ অধ্যয়ন করার ব্যবস্থা করেন।
এই লক্ষ্যগুলো বিচার করে ইসলামি লেখকগণ সুদীর্ঘ ও লম্বা-লম্বা এমন উপন্যাস রচনা করবেন, যাতে থাকবে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায় এবং পাশাপাশি দ্বীনি উপকার। লক্ষ রাখতে হবে, যেন কঠিন কোনো বাক্য এখানে অনুপ্রবেশ না করে এবং অভিধানগত কোনো প্যাঁচ-কোঁচও যেন না থাকে। কেননা, এই পরিস্থিতিতে পাঠক সহজবোধ্য বিষয়গুলোর প্রতি অত্যধিক আকর্ষণ অনুভব করে।
পঞ্চম লক্ষ্য: যে ব্যক্তি জীবন চলার পথে কঠিন পথ পাড়ি দিতে থাকে, সেই কঠিন জীবনের তিক্ততা থেকে সে মুক্তি পেতে উদগ্রীব থাকে। তখন সে গল্প ও উপন্যাস পড়ে দগ্ধ হৃদয়ে শান্তির পরশ অনুভব করতে চায়। এই গল্প ও উপন্যাসগুলো তখন পাঠককে শান্ত করে তার জীবনের অর্থ ও লক্ষ্য বোঝানোর চেষ্টা করে এবং তার মন থেকে হতাশা ও টেনশনের কালো মেঘ ধীরে ধীরে কেটে যায়।
অতএব, এই ধরনের লোকদের জন্য নির্মাণ করতে হবে এমন সব গল্প ও উন্নিবেশ, যেখানে ফুটিয়ে তুলতে হবে, কল্যাণ সর্বদা অনিষ্টতার ওপর বিজয়ী হয়। এখন মুমিন সমাহার সেখানে হবে, কোনো মানুষ বিপৎসংকুল সময় পার করছিল, বড় বিপদে আক্রান্ত ছিল সে, মুক্তির কোনো পথ তার সামনে খোলা ছিল না, ঠিক এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আল্লাহ তাআলা তার সহায় হয়েছেন, তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। কারণ, বিপদগ্রস্ত লোকটি ধৈর্যহারা হয়নি, আল্লাহর প্রতি তার বিশ্বাস ছিল মজবুত পাহাড়ের মতো অবিচল এবং সে দ্বীনের ওপর ছিল অনঢ়।
ষষ্ঠ লক্ষ্য: সিরাতে মুসতাকিমের ওপর প্রতিষ্ঠিত কিছু নেককার যুবক অনেক সময় এমন গল্প পাঠ করতে চায়, যা তাদের হৃদয়ে ইমানকে আরও মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে, তাকে নেককাজের প্রতি উৎসাহিত করবে ও তার মনোবল প্রকৃত উদ্দেশ্যে পৌঁছতে আন্দোলিত করবে এবং সাহায্য করবে সর্বপ্রকার প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে চলতে।
সপ্তম লক্ষ্য : প্রবৃত্তিগত পশুবৃত্তিক চাহিদা ও লক্ষ্য। কিছু মানুষ এমন সব গল্প ও উপন্যাসই পাঠ করে, যেগুলোতে থাকে যৌন সুড়সুড়ি ও হারাম চাহিদার উসকানি। যেগুলো পাঠককে কখনও দ্রুত আবার কখনও ধীরে ধীরে অন্ধকার জগতের দিকে ঠেলে দেয়।
এদের জন্য কেবল এমন গল্প ও উপন্যাসই লিখতে হবে, যাতে থাকবে মৃত্যুর কথা, জাহান্নামের ভয়ংকর শাস্তির কথা। বলা হবে, এভাবে পাপাচারের অন্ধকার পথে চলতে থাকলে যদি আল্লাহ তাআলা তাদের ক্ষমা না করেন, তাহলে নিক্ষিপ্ত হতে হবে জাহান্নামে।
ইসলামের নামে এমন কোনো গল্প বা উপন্যাস নির্মাণ করা সমীচীন নয়, যেগুলোতে যৌন সুড়সুড়ি বা রোমান্সের অনুভূতি থাকবে। এমন গল্প ও উপন্যাসের সাথে ইসলাম শব্দটি যোগ করা নেহায়েত অন্যায় ও গর্হিত কাজ। যেমন: অনেক গল্পকার ও ঔপন্যাসিক গোটা গল্প ও উপন্যাসকে যৌনতা ও নোংরামির জীবাণু দিয়ে সাজিয়ে শেষে এসে বলে যে, পাপাচারে লিপ্ত লোকটি তাওবা করে ভালো হয়ে গেছে। এমন উপন্যাসকে ইসলামি উপন্যাস বলা যাবে না। তাওবার দিকে আহ্বান করার জন্য মানুষকে পাপের দিকে উৎসাহিত করা কি কোনোভাবে বৈধ হতে পারে?
সেই গল্পকার ও ঔপন্যাসিক কি জানেন যে, পাঠক শেষ পর্যন্ত বইটি পড়বে? এটা কি কোনো যৌক্তিক বা সম্ভবপর বিষয় যে, একটি লোক শত শত পৃষ্ঠা পাঠ করে উত্তেজিত হওয়ার পর হঠাৎ করে দু এক পৃষ্ঠা পাঠ করে সেই মানসিকতা পাল্টিয়ে শীতল হয়ে যাবে? এমন হওয়াটা স্বাভাবিক নয়।
ইন্টারনেটে এমন অগণিত ঘটনা ও উপন্যাস রয়েছে, যেগুলোকে ইসলামি বলে দাবি করা হয়। ইসলামি শিরোনাম দিয়ে বৈধতার দাবি করা হয়। ভূমিকাও সেভাবেই সাজানো হয়। আবার শেষে গিয়ে অপরাধীর তাওবা করার বিষয়টি তুলে ধরা হয় বা বলা হয় যে, অপরাধী তাওবা করার পূর্বেই মারা গেছে। এমন অনেক ঘটনা রয়েছে।
যদি অশ্লীলতা ও ফাসাদ প্রচারের আশঙ্কা না থাকত, তাহলে এখানে উপমাস্বরূপ দু'একটি ঘটনা তুলে ধরতাম। কিন্তু সেই ঘটনাগুলোতে পাপাচার ও ফাসাদের প্রচারণা হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই এমন করা থেকে বিরত থাকলাম।
অতএব, হে ইসলামের দাঈগণ, আল্লাহকে ভয় করুন। জেনে রাখুন, ইসলামের দাঈ হওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে ইসলামের বিধি-নিষেধ সম্পর্কে বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ হতে হবে।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 উপন্যাসের প্রকারভেদ

📄 উপন্যাসের প্রকারভেদ


আমরা আগের পৃষ্ঠাগুলোতে ওই সমস্ত উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করেছি, যেগুলোর লেখকেরা আল্লাহর সত্তা নিয়ে সমালোচনা করেছে, ইসলাম ও তার সংবিধান নিয়ে আপত্তি তুলেছে এবং ভ্রষ্ট চরিত্রের দিকে আহ্বান করেছে। বস্তুত তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আধুনিক ও সামাজিক উপন্যাসগুলোর ওপর ভরসা করে লিখেছে।
সমস্ত লেখক শুরুতেই কিন্তু নাস্তিকতা ও পাপাচার প্রচারের উদ্দেশ্যে লেখেনি; বরং তারা প্রাথমিক পর্যায়ে জৈবিক চাহিদা পূরণ করার জন্য কিংবা সাহিত্যিক আবেদনে তৃপ্ত হওয়ার জন্য লিখেছে। আর এভাবে চলতে গিয়েই তারা মারাত্মক কিছু ভুলের শিকার হয়েছে।
সামাজিক ও আধুনিক উপন্যাস ছাড়াও উপন্যাসের অনেক প্রকার রয়েছে। এই অধ্যায়টির পূর্ণতার জন্য সেই প্রকারগুলো নিয়েও আলোকপাত করব ইনশাআল্লাহ।
উপন্যাসের অনেক আকৃতি-প্রকৃতি ও ভাব-ধরন রয়েছে। প্রত্যেক প্রকারের জন্য পৃথক পৃথক লেখক ও পাঠক রয়েছে। বিষয়টি কেবল সামাজিক উপন্যাসের মাঝেই সীমিত নয়; বরং এখানে গোয়েন্দা উপন্যাস, অ্যাকশন উপন্যাস, ভৌতিক উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস এবং ভালোবাসা ও রোমান্স উপন্যাস প্রভৃতি। এগুলোর মধ্য থেকে কিছু প্রকার এবং সেগুলোর উদ্দেশ্য ও ইশতেহার নিয়ে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 ঐতিহাসিক গল্প-উপন্যাস

📄 ঐতিহাসিক গল্প-উপন্যাস


মানুষের মাঝে বহুলপ্রচলিত আরেকটি গল্প-উপন্যাসের প্রকার হলো ভীতিকর গল্প-উপন্যাস। এই ধরনের গল্প ও উপন্যাসের প্রধান লক্ষ্য থাকে পাঠকের মন-মগজে ভীতি সৃষ্টি করা। ভৌতিক উপন্যাসের জগতে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো পাশ্চাত্য লেখক লাভক্রাফট।
এই ধরনের গল্প-উপন্যাসের পাঠক ও ফিল্মের দর্শকদের মন-মগজে এর ভয়ংকর প্রভাব পড়ে। যেমন:
১. মানসিকভাবে তার মাঝে সেই ভয়টি প্রবল হয়ে ওঠে। এই ধরনের উপন্যাসের পরিষ্কার লক্ষণ হলো, তার মাঝে হিংস্রতা বৃদ্ধি পায়। কেননা, এই ধরনের উপন্যাস, গল্প ও সিনেমায় রক্তের নদী বয়ে যায় এবং শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়।
এই উপন্যাসগুলো আমাদের শিশুদের হৃদয়ে এমন আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে, তারা বেঁচে থাকার মনোবল হারিয়ে ফেলে। শিশুদের মানসপটে এমন দৃশ্য ভেসে ওঠে যে, সেখানে মানুষের রক্তপিপাসু কোনো হায়েনা অবস্থান করে। যারা দেখতে ঠিক মানুষের ন্যায়, কিন্তু তারা মানুষ নয়। তারা প্রথমে মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে, এরপর তাদের সাথে বাড়িতে গিয়ে রাতের আঁধারে তাদের রক্ত পান করে। এই শিশুটি কেবল এই চিন্তায় কাতর হয়ে থাকে, কখন যেন সে এই ধরনের প্রাণীর শিকারে পরিণত হয়! সমাজের ব্যাপারে তার চিন্তা-ভাবনাতেও ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এজন্যই তো অনেক সময় দেখা যায়, প্রতিবেশী বা নিজের বন্ধুকে দেখিয়ে শিশু হঠাৎ বলে উঠছে, এরা কি রক্তচোষা? এরা কি রাক্ষস?
ভীতিকর কোনো কোনো গল্পের কারণে শিশুর মনে সর্বদা এই সংশয় দানা বেঁধে থাকে, যেকোনো সময় তাকে অকারণে হত্যা করা হতে পারে। বিশেষকরে এমন সিরিয়াল কিলারদের হাতে সে যেকোনো মুহূর্তে মারা পড়তে পারে, যারা শুধু এ কারণে শিশুদের হত্যা করে যে, তারা নীলচোখা বা প্রখর মেধাবী। নিহতদের সাথে সামান্য কথাবার্তার সম্পর্ক ছাড়া তাদের এসব হত্যার পেছনে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য থাকে না।
এই অনিষ্টতা ও অপকারিতা শুধু বহিরাগত উপন্যাসগুলোর মাঝে কিংবা কেবল সাম্প্রতিক লেখকদের লেখার মাঝেই সীমিত নয়; বরং প্রাচীনকাল থেকেই এমন কল্পকাহিনি প্রচলিত আছে। যেমন: ভূত-প্রেতের গল্প, দৈত্যের গল্প, শয়তানের গল্প ইত্যাদি। এগুলোও উপরে বর্ণিত অনিষ্টতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই গল্প, উপন্যাস ও ফিল্ম আমাদের মাঝে বীর-বাহাদুর সন্তান সৃষ্টির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এগুলোর সাথে সম্পৃক্ত শিশুরা কাপুরুষ, ভীত, লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হয়েই বেঁচে থাকার পথ খুঁজবে। একটি শিশু যখন তার পড়ালেখার মাঝেই এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে বেড়ে উঠবে, এগুলো তার মাঝে বড় ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করবে।
আমাদের শিশুদের যখন তার মা এই বলে ভয় দেখাবে যে, এটা করো, ওটা করো, কথা না শুনলে কিন্তু ভূতে ধরবে, ওই যে কূপের পাশে ভূত আছে, তো এই শিশু কি কোনোদিন একাকী কূপ থেকে পানি উঠাতে যেতে সাহস করবে?
২. ভীতিকর ঘটনা, উপন্যাস ও ফিল্মগুলোতে অনেক সময় তাওহিদ তথা আল্লাহ তাআলার একত্ববাদবিরোধী কথাও থাকে। যেমন: জনগণের মাঝে বহুলপ্রচলিত ড্রাকুলার গল্প। যেটি পশ্চিমা ফিল্মগুলোর প্রতিপাদ্য বিষয় হয়ে গেছে। এগুলোর মাঝে শরিয়ত-গর্হিত অনেক বাজে আকিদা ও ভ্রষ্ট চিন্তা-চেতনার বীজ রয়েছে। যেমন:
ক. রক্তচোষারা কখনও ধ্বংস হবে না, তারা মারা যাবে না।
খ. ড্রাকুলা মৃতকে কবর থেকে জীবিত করতে পারে।
গ. সাধারণত সেই গল্পগুলোতে এই ধ্যান-ধারণাও প্রচার করা হয় যে, ক্রুস ড্রাকুলার আক্রমণ ও অনিষ্টতা থেকে রক্ষা করতে পারে, যার মাঝে ক্রুসের প্রতি অপরিসীম সম্মান প্রদর্শন করা হয়। এমনকি আমাদের অনেক মুসলিম শিশুদের বাহুতে ক্রুস ঝুলানোর কথা শুনেছি, যারা ড্রাকুলার গল্প ও উপন্যাস পড়ে এবং এ ধরনের সিনেমা দেখে।
আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের সন্তানসস্তুতি ও সমস্ত মুসলিমকে এই ধরনের বিনোদনগত ফিতনা থেকে হিফাজত করেন। আমিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00