📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 খ্যাতি অর্জনের পদ্ধতি

📄 খ্যাতি অর্জনের পদ্ধতি


বর্তমান যুগে নোংরামি ও নাস্তিকতাপূর্ণ গল্প ও উপন্যাসগুলো প্রসিদ্ধি অর্জনের সস্তা মাধ্যম হয়ে গেছে। সাথে যোগ হয়েছে কিছু গণ্ডগোল, যা এই সমস্ত উপন্যাসকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। কখনও কখনও কিছু দাঈ ও ভালো মানুষও এই প্যাঁচে পড়ে যায়। যার কারণে এ নিয়ে কোনো কথা বলা যায় না। আর যদি কখনও কোনো সালিশের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে সেখানে এই নোংরা উপন্যাসগুলোর আলোচনাই ফুটে ওঠে। সেগুলোর নাম, লেখকের নাম, প্রকাশকের নাম ও ভুলত্রুটি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হতে থাকে। যার কারণে সেই উপন্যাসগুলো সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রসিদ্ধি লাভ করে।
অসাধু মিডিয়াগুলো এই পদ্ধতির সদ্ব্যবহার করেছে পুরোদস্তুর। তারা সেই উপন্যাসকে উপস্থাপন করে বলে, 'অমুক উপন্যাসটি বহুলপ্রচলিত, বিখ্যাত ও বাজেয়াপ্ত।' এই দরজা দিয়েই উপন্যাসগুলো খ্যাতির আকাশে কড়া নাড়তে আরম্ভ করে।
বরং আরও কঠিন বিপদ হলো, সাধারণ জনগণ উপন্যাসটি পড়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়ে এবং কাঙ্ক্ষিত কপি সংগ্রহের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে থাকে।
জনৈক পুস্তকবিক্রেতা বলেছেন, 'প্রায় ৭০ বছর বয়সী একলোক আমার কাছে এসে বলল, আমি একটি নিষিদ্ধ কিতাব নিতে চাচ্ছি। আমি বললাম, কোন কিতাব সেটি? নিষিদ্ধ কিতাব তো অনেক আছে! সে বলল, আমি অমুক নিষিদ্ধ কিতাবটি চাচ্ছি।
এভাবেই বিষয়টি সামনে অগ্রসর হতে থাকে। মানুষ নিষিদ্ধ বইগুলো খুব বেশি পড়তে চায়। কেননা, নিষিদ্ধতার মাঝে স্বতন্ত্র একটি আকর্ষণ থাকে! যার কারণে মানুষ সেগুলোই ক্রয় করতে চায়।
এরপর অপরাধীকে হিরো বানানোর জন্য মিডিয়াগুলো এই সুযোগটা লুফে নেয়। সুতরাং এর ওপর রং চড়িয়ে, প্রিন্ট-মিডিয়ায় ফুলপেজ সাক্ষাৎকার ছেপে এবং ইলেকট্রিক মিডিয়াগুলো দীর্ঘ ইন্টারভিউ ফলাও করে প্রচার করে। সাথে সাথে ভাইরাল করার চেষ্টা করে যে, অমুক উপন্যাসের রচয়িতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লেখক। আর যাবেন কোথায়! যুবক-যুবতীরা হন্যে হয়ে তাদের পিছে ছুটতে থাকে।
আমাদের সমাজ খ্যাতি ও প্রসিদ্ধির খেলাকে খুব সুন্দরভাবে দ্রুতই গ্রহণ করে ফেলে। এরপর আপনি মাহফিল, মিলনমেলা, ভার্চুয়ালজগৎ, সাহিত্যসাময়িকিসহ নানা জায়গায় তাদের সদর্প ও সরব পদাচরণা দেখতে পাবেন। পত্রিকার পাতা, সাহিত্য স্টাডিজ ও মোবাইল ফোনের স্ক্রিন তাদের ও তাদের রচিত উপন্যাসকে নিয়েই অস্থির হয়ে আছে। এভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে সেগুলোর প্রচারণা চলতে থাকে।
প্রিয় ভাই, অতএব আপনি সেসকল লোকের সাথে থাকবেন না, যারা তাদের নাম প্রকাশ করে এবং তাদের উপন্যাসগুলোর শিরোনাম বলে তাদের প্রতিরোধ করার অভিনয় করে। এভাবে আমরা সাধ্যের মাঝে ওই লেখকদের নাম এবং তাদের লিখিত উপন্যাসের নাম ও পরিচিতি গোপন রাখার চেষ্টা করতে পারি। কারণ, প্রতিরোধের এই আন্দোলনে যোগ দিলেই তার প্রসিদ্ধি বহুগুণ বেড়ে যাবে। তাই যে উপন্যাসগুলো প্রসিদ্ধ হয়েই গেছে এবং (সমালোচনার সময়) সেগুলোর নাম প্রচারে বিশেষ কোনো ক্ষতির আশঙ্কা আমরা অনুভব করিনি, সেগুলো প্রয়োজন হলে নামসহ তুলে ধরা হয়েছে। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলাই সাহায্যকারী।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 আমাদের ও তাদের কর্মপদ্ধতি

📄 আমাদের ও তাদের কর্মপদ্ধতি


ধর্মদ্রোহীদের কর্মধারা: যারা পৃথিবীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের ব্যাপারে জানেন, তারা দেখেছেন, এই ধর্মদ্রোহীরা মুসলিম উম্মাহকে পশ্চিমা ধ্যান-ধারণায় রূপান্তরিত করতে মরিয়া হয়ে আছে। এ বিষয়ে তারা সম্ভাব্য এমন কোনো পথ ও পদ্ধতি অবশিষ্ট রাখেনি, যা ব্যবহার করে এই উদ্দেশ্যে সফল হওয়া যেতে পারে। নানা প্রকার বাহনে আরোহী হয়ে বিভিন্ন দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ছে এবং অনেকাংশে সফলতাও পাচ্ছে।
এই উদ্দেশ্যে তারা সাহিত্যের জগতে নোংরা লেখকদের নিয়োগ করেছে। তাদের চিন্তা- চেতনা ও কর্মপদ্ধতি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নতজানুমূলক কর্মনীতি ও সাহিত্যের বিভিন্ন প্রকার কাজে লাগিয়েছে। সুতরাং আমরা দেখছি যে, তাদের ছড়া-ছন্দ থেকে নষ্টামি টপকে পড়ছে এবং নিত্যনতুন কবিতার পঙতি থেকে কুফরি ও নাস্তিকতা উপচে পড়ছে।
যেভাবে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে গল্প বানিয়ে এই অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পথটি পূর্ণরূপে কাজে লাগিয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে কুফরি, ধর্মনিরপেক্ষতা, নাস্তিকতা ও বিদআতসহ নানা প্রকার অপরাধ ছড়িয়ে দেওয়ার সুবিধাও গ্রহণ করছে। যেগুলোর মাঝে রয়েছে মুসলিম উম্মাহর জন্য কঠিন বিপদের অশনি সংকেত।
কারণ, তারা এই গল্প-উপন্যাসের মাধ্যমে নিজেদের চিন্তা-চেতনা ও মতাদর্শ প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। এই পথেই তারা মুসলিম উম্মাহর সদস্যদের করতে পারবে পথহারা, তাদের শুনাতে পারবে নিকৃষ্ট ও বাজে কথা এবং পথভ্রষ্টতামূলক এমন পরিষ্কার আলোচনাও তাদের কর্ণকুহরে পৌঁছাতে পারবে, যেগুলো অন্য কোনো পথে পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করা ও প্রচার করা সম্ভব নয়।
তো এই লোকগুলো কারা, যারা প্রকাশ্যে নাস্তিকতা প্রচার করার এবং তার সাথে সম্পর্ক রাখার দুঃসাহস দেখায়? তারা কারা, যারা নোংরা ও পাপাচারপূর্ণ গল্প ও নিজেদের ভ্রষ্ট মতাদর্শ দিবালোকে প্রচার করার দুঃসাহস দেখায়? এগুলো খুঁজে বের করে তাদের প্রতিকার করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
তাদের লিখিত উপন্যাসগুলো একদিক থেকে যেমন মুসলিম উম্মাহর আকিদা-বিশ্বাসকে মূলোৎপাটন করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সুন্দর চরিত্রকে সেকেলে বলে উপস্থাপন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। একদিক থেকে আমাদের ইমানহারা করার ষড়যন্ত্র করছে, অন্যদিকে অসচ্চরিত্রে লিপ্ত করার পাঁয়তারা চলছে। অথচ এগুলোর নাম দিচ্ছে মানবতার সংস্কৃতি বলে। তাদের এই চক্রান্তের মৌলিক সূত্রটির ব্যাপারে কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে—
وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُوْنَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُوْنُوْنَ سَوَاءٌ .
‘তারা চায়, তারা যেমন কাফির তোমরাও তেমনই কাফির হয়ে যাও। [সুরা আন-নিসা : ৮৯]
وَ يُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُوْنَ الشَّهَوَاتِ أَنْ تَمِيلُوْا مَيْلًا عَظِيمًا .
আর যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তারা চায় তোমাদের বড় রকম লক্ষ্যচ্যুতি ঘটুক। [সুরা আন-নিসা : ২৭]
এ কারনেই তাদের গল্পগুলো অধিকাংশ সময় বিকৃত চিন্তার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। মুসলিম নারী-পুরুষ সকাল-সন্ধ্যা লাইব্রেরিসমূহে সেগুলো দেখত ও পড়ত।
বিষয়টি কেবল লাইব্রেরি পর্যন্ত সীমিত থাকেনি; বরং সেখান থেকে আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটগুলোতে ও ভার্চুয়াল জগতে ছড়িয়ে পড়েছে। সাহিত্যের নামের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি স্থানে পৌঁছে গেছে। এমন নিকৃষ্ট ও হীন কোনো পদ্ধতি নেই, এগুলোর প্রসারে যে পদ্ধতি তারা গ্রহণ করেনি।
আমাদের করণীয়
আমাদের কাজ হলো ভেবে-চিন্তে শরয়িভাবে কার্যকরি পদ্ধতিতে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা। আল্লাহর দ্বীনকে প্রচার-প্রসার করার জন্য সাহিত্য, উপন্যাস ও গল্পকে ব্যবহার করা এবং শরিয়তসম্মত পদ্ধতিগুলো কাজে লাগানো। শর্ত হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে ইসলামি বিধি-নিষেধ এবং বিধেয় বিষয়গুলোর প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইসলামি উপন্যাসের ভূমিকা

📄 প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইসলামি উপন্যাসের ভূমিকা


এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইসলামি উপন্যাসের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও অপরিহার্য কর্তব্য; যেন আমাদের যুবক-যুবতীদের সামনে বিকল্প কিছু পেশ করা যায়। আমরা যে যুগে অবস্থান করছি, সেখানে উপন্যাসের জয়জয়কার চলছে। সেগুলো হোক ধর্মনিরপেক্ষতার ছায়ায়, হোক কুফরির পতাকাতলে, অথবা হোক সেগুলো রোমাঞ্চকর, কাল্পনিক, ডিজিটাল ও অ্যাকশনধর্মী অন্য কোনো বিষয় নিয়ে।
অতএব, ইসলামি উপন্যাস সম্পর্কেও আমাদের সম্যক ধারণা থাকতে হবে। যেন লাইব্রেরি, ওয়েবসাইটসহ ভার্চুয়ালজগতের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামি উপন্যাস উপস্থিত থাকে। কোনো একটি স্থানও যেন এমন খালি পড়ে না থাকে, যেখানে ইসলামি উপন্যাস থাকবে না।
মুসলিম উম্মাহ বহু রকম প্রতিভার আধার। সত্যিকারের ইসলামি গল্প ও উপন্যাস লেখার পূর্ণ যোগ্যতা তাদের মাঝে আছে। প্রয়োজন শুধু নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজে লাগানোর।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 গল্পচ্ছলে ইসলামের দাওয়াত

📄 গল্পচ্ছলে ইসলামের দাওয়াত


কোনো গল্প যখন সুন্দরভাবে সাজানো হয়, উপন্যাসকে যখন হৃদয়গ্রাহী করে উপস্থাপন করা হয়, এর মধ্য দিয়েই সুকৌশলে এত সুন্দরভাবে বড় একটি সমাজকে ইসলামের দিকে আহ্বান করা সম্ভব, গতানুগতিক খুতবা, ওয়াজ কিংবা দারসের মাধ্যমে যে পর্যন্ত পৌঁছা সম্ভব নয়।
গল্পের প্রতিক্রিয়া ও প্রভাবকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এর মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্পৃহা, আকর্ষণ ও বৈধ সম্ভোগের ভাব সৃষ্টি করা যায়। আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
إِنَّ مِنَ الْبَيَانِ لَسِحْرًا .
[৭৭] নিশ্চয় কথার মাঝে রয়েছে জাদু।
সুতরাং গল্প হতে পারে আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়ার বড় একটি অস্ত্র ও আকর্ষণীয় মাধ্যম, যার মাধ্যমে মানুষকে বিষণ্ণতা, বিরক্তি ও গতানুগতিক একঘেয়েমি থেকে বের করে আনা সম্ভব হবে এবং যৌক্তিক ও হৃদয়গ্রাহী বর্ণনাধারার মাধ্যমে তাদের মানসিকভাবে দ্বীনের পথে আকৃষ্ট করা সহজ হবে।
জাদুর তো সত্তাগতভাবেই মজবুত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আপনি দেখবেন, পাঠক তার অস্তিত্ব ও অনুভূতি নিয়ে কীভাবে গল্পের সাথে মিশে যায়, কীভাবে প্রভাবিত হতে থাকে! গল্প পড়ে কখনও কাঁদে, কখনও হাসে, কখনও আনন্দিত হয়, কখনও আবার চিন্তার সাগরে ভাসে। গল্পের তালে তালে এমনভাবে আলোড়িত হতে থাকে, ঠিক যেমন নৌকারোহী নদীর মৃদু তরঙ্গের সাথে দোল খেতে থাকে।
যেহেতু গল্পের মাঝে উপকার আছে, আছে সাহিত্যিক ঢং, মিষ্টতা ও তরঙ্গময়তা, যেহে: তাতে রয়েছে হৃদয়ে প্রভাব সৃষ্টিকারী অপার শক্তি! অতএব, যার মাঝে আল্লাহ তাআলা, হৃদয়গ্রাহীভাবে, আকর্ষণীয় রূপে, অন্তরে প্রভাবসৃষ্টিকারী গল্প লেখার প্রতিভা ও দক্ষতা দান করেছেন, তার জন্য অপরিহার্য কর্তব্য হলো, ইসলামের প্রচার-প্রসারে দাওয়াত ইলাল্লাহর জন্য সাধ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে মনের মাধুরি মিশিয়ে কলম চালানো ও গল্প-উপন্যাস লিখতে থাকা।

টিকাঃ
[৭৭] সহিহুল বুখারি: ৪৭৪৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00