📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 বড় বিষয়কর কথা!

📄 বড় বিষয়কর কথা!


কোনো মানুষ একজন নারীকে পর্দাবৃত অবস্থায় পোশাকের ওপর দিয়ে দেখবে, তার প্রকৃত সৌন্দর্য অবলোকন করা ছাড়াই অন্তরে তার সৌন্দর্য ও লাবণ্যতার কল্পনা করবে, তাকে না দেখেই নিজের মন-প্রাণ তার জন্য উৎসর্গ করবে, যা পৃথিবীর কেউ জানবে না; এতে কোনো সমস্যা নেই।
কিন্তু সমস্যা পরবর্তী অবস্থা নিয়ে। এরপর অন্তরে নিকৃষ্টতর অনুভূতি লালন করতে শুরু করে, তাকে হৃদয়ের কল্পনায় স্থায়ী করে ফেলে। এ বিষয়ে কোনো ওয়াজ তার মাঝে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না, কোনো উপমা এর সর্বনাশা ফল থেকে তাকে মুক্ত করতে পারে না। সে কেবল একই চিন্তায় মশগুল থাকে। এমনকি সে ভাবতে থাকে যে, পৃথিবীতে এই একটি নারীই তার প্রয়োজন। ওই নারী ছাড়া তার জীবনের সবকিছু অর্থহীন। এটা একান্তই নির্বুদ্ধিতা, হতভাগ্য ও অসভ্যতার চিহ্ন।
যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির দাসত্ব করে, সে দুনিয়ার মানুষের দাসে পরিণত হয়। যে ব্যক্তি প্রবৃত্তি ও রিপুর কাছে পরাজিত হলো, সে সকল কল্যাণকর বিষয়ের তাওফিক হতে বঞ্চিত হলো।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 ইনসাফপূর্ণ অবস্থান

📄 ইনসাফপূর্ণ অবস্থান


দ্বীন ইসলাম ইনসাফসহ অবতীর্ণ হয়েছে এবং ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছে। আমরা শরিয়তের পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়েছি যে, গল্প ও উপন্যাসের মাঝে ভ্রান্তির শিকার সকল লেখককে এক পাল্লায় ওজন করব না; বরং তাদের প্রতি ইনসাফভিত্তিক আচরণ করব এবং বলব, এই গল্প ও উপন্যাসগুলোর কিছু কুফরি, ধর্মদ্রোহিতা ও দ্বীন থেকে বের হয়ে আসার প্রতি উসকানি দেয়। আর কিছু উপন্যাস ও গল্প আছে, যেগুলো এই প্রকারের নয়; বরং সেগুলো কেবল পাপাচারিতা ও গুনাহের দিকে আহ্বান করে। তবে উভয়টি গুনাহের কুফলের দিক থেকে সমান না হলেও এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, উভয়টিই গুনাহ এবং আল্লাহর বিধানকে লঙ্ঘন করার নামান্তর।
কিন্তু তাদের গ্রন্থগুলোতে এমন কথাও পাওয়া যায়, যা আমাদের বিস্ময়ে বিমূঢ় করে। কেননা, কিছু লেখক এমন আছে, যারা লেখার সূচনাই করেছেন এই কথার মাধ্যমে যে, 'আল্লাহ তাআলা যেন আমার লেখাকে মিজানের পাল্লায় স্থাপন করেন।' আমি তাদের জিজ্ঞেস করব, তোমাদের এই গ্রন্থগুলো মিজানের পাল্লায় তো স্থান পাবে নিঃসন্দেহে। তবে সমস্যা হলো, মিজানের দুটি পাল্লা রয়েছে, নেক আমলের পাল্লা এবং বদ আমলের পাল্লা। তো তোমার আমলনামাটি কোনো পাল্লায় যাবে?

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 খ্যাতি অর্জনের পদ্ধতি

📄 খ্যাতি অর্জনের পদ্ধতি


বর্তমান যুগে নোংরামি ও নাস্তিকতাপূর্ণ গল্প ও উপন্যাসগুলো প্রসিদ্ধি অর্জনের সস্তা মাধ্যম হয়ে গেছে। সাথে যোগ হয়েছে কিছু গণ্ডগোল, যা এই সমস্ত উপন্যাসকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। কখনও কখনও কিছু দাঈ ও ভালো মানুষও এই প্যাঁচে পড়ে যায়। যার কারণে এ নিয়ে কোনো কথা বলা যায় না। আর যদি কখনও কোনো সালিশের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে সেখানে এই নোংরা উপন্যাসগুলোর আলোচনাই ফুটে ওঠে। সেগুলোর নাম, লেখকের নাম, প্রকাশকের নাম ও ভুলত্রুটি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হতে থাকে। যার কারণে সেই উপন্যাসগুলো সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রসিদ্ধি লাভ করে।
অসাধু মিডিয়াগুলো এই পদ্ধতির সদ্ব্যবহার করেছে পুরোদস্তুর। তারা সেই উপন্যাসকে উপস্থাপন করে বলে, 'অমুক উপন্যাসটি বহুলপ্রচলিত, বিখ্যাত ও বাজেয়াপ্ত।' এই দরজা দিয়েই উপন্যাসগুলো খ্যাতির আকাশে কড়া নাড়তে আরম্ভ করে।
বরং আরও কঠিন বিপদ হলো, সাধারণ জনগণ উপন্যাসটি পড়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়ে এবং কাঙ্ক্ষিত কপি সংগ্রহের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে থাকে।
জনৈক পুস্তকবিক্রেতা বলেছেন, 'প্রায় ৭০ বছর বয়সী একলোক আমার কাছে এসে বলল, আমি একটি নিষিদ্ধ কিতাব নিতে চাচ্ছি। আমি বললাম, কোন কিতাব সেটি? নিষিদ্ধ কিতাব তো অনেক আছে! সে বলল, আমি অমুক নিষিদ্ধ কিতাবটি চাচ্ছি।
এভাবেই বিষয়টি সামনে অগ্রসর হতে থাকে। মানুষ নিষিদ্ধ বইগুলো খুব বেশি পড়তে চায়। কেননা, নিষিদ্ধতার মাঝে স্বতন্ত্র একটি আকর্ষণ থাকে! যার কারণে মানুষ সেগুলোই ক্রয় করতে চায়।
এরপর অপরাধীকে হিরো বানানোর জন্য মিডিয়াগুলো এই সুযোগটা লুফে নেয়। সুতরাং এর ওপর রং চড়িয়ে, প্রিন্ট-মিডিয়ায় ফুলপেজ সাক্ষাৎকার ছেপে এবং ইলেকট্রিক মিডিয়াগুলো দীর্ঘ ইন্টারভিউ ফলাও করে প্রচার করে। সাথে সাথে ভাইরাল করার চেষ্টা করে যে, অমুক উপন্যাসের রচয়িতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লেখক। আর যাবেন কোথায়! যুবক-যুবতীরা হন্যে হয়ে তাদের পিছে ছুটতে থাকে।
আমাদের সমাজ খ্যাতি ও প্রসিদ্ধির খেলাকে খুব সুন্দরভাবে দ্রুতই গ্রহণ করে ফেলে। এরপর আপনি মাহফিল, মিলনমেলা, ভার্চুয়ালজগৎ, সাহিত্যসাময়িকিসহ নানা জায়গায় তাদের সদর্প ও সরব পদাচরণা দেখতে পাবেন। পত্রিকার পাতা, সাহিত্য স্টাডিজ ও মোবাইল ফোনের স্ক্রিন তাদের ও তাদের রচিত উপন্যাসকে নিয়েই অস্থির হয়ে আছে। এভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে সেগুলোর প্রচারণা চলতে থাকে।
প্রিয় ভাই, অতএব আপনি সেসকল লোকের সাথে থাকবেন না, যারা তাদের নাম প্রকাশ করে এবং তাদের উপন্যাসগুলোর শিরোনাম বলে তাদের প্রতিরোধ করার অভিনয় করে। এভাবে আমরা সাধ্যের মাঝে ওই লেখকদের নাম এবং তাদের লিখিত উপন্যাসের নাম ও পরিচিতি গোপন রাখার চেষ্টা করতে পারি। কারণ, প্রতিরোধের এই আন্দোলনে যোগ দিলেই তার প্রসিদ্ধি বহুগুণ বেড়ে যাবে। তাই যে উপন্যাসগুলো প্রসিদ্ধ হয়েই গেছে এবং (সমালোচনার সময়) সেগুলোর নাম প্রচারে বিশেষ কোনো ক্ষতির আশঙ্কা আমরা অনুভব করিনি, সেগুলো প্রয়োজন হলে নামসহ তুলে ধরা হয়েছে। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলাই সাহায্যকারী।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 আমাদের ও তাদের কর্মপদ্ধতি

📄 আমাদের ও তাদের কর্মপদ্ধতি


ধর্মদ্রোহীদের কর্মধারা: যারা পৃথিবীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের ব্যাপারে জানেন, তারা দেখেছেন, এই ধর্মদ্রোহীরা মুসলিম উম্মাহকে পশ্চিমা ধ্যান-ধারণায় রূপান্তরিত করতে মরিয়া হয়ে আছে। এ বিষয়ে তারা সম্ভাব্য এমন কোনো পথ ও পদ্ধতি অবশিষ্ট রাখেনি, যা ব্যবহার করে এই উদ্দেশ্যে সফল হওয়া যেতে পারে। নানা প্রকার বাহনে আরোহী হয়ে বিভিন্ন দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ছে এবং অনেকাংশে সফলতাও পাচ্ছে।
এই উদ্দেশ্যে তারা সাহিত্যের জগতে নোংরা লেখকদের নিয়োগ করেছে। তাদের চিন্তা- চেতনা ও কর্মপদ্ধতি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নতজানুমূলক কর্মনীতি ও সাহিত্যের বিভিন্ন প্রকার কাজে লাগিয়েছে। সুতরাং আমরা দেখছি যে, তাদের ছড়া-ছন্দ থেকে নষ্টামি টপকে পড়ছে এবং নিত্যনতুন কবিতার পঙতি থেকে কুফরি ও নাস্তিকতা উপচে পড়ছে।
যেভাবে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে গল্প বানিয়ে এই অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের পথটি পূর্ণরূপে কাজে লাগিয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে কুফরি, ধর্মনিরপেক্ষতা, নাস্তিকতা ও বিদআতসহ নানা প্রকার অপরাধ ছড়িয়ে দেওয়ার সুবিধাও গ্রহণ করছে। যেগুলোর মাঝে রয়েছে মুসলিম উম্মাহর জন্য কঠিন বিপদের অশনি সংকেত।
কারণ, তারা এই গল্প-উপন্যাসের মাধ্যমে নিজেদের চিন্তা-চেতনা ও মতাদর্শ প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। এই পথেই তারা মুসলিম উম্মাহর সদস্যদের করতে পারবে পথহারা, তাদের শুনাতে পারবে নিকৃষ্ট ও বাজে কথা এবং পথভ্রষ্টতামূলক এমন পরিষ্কার আলোচনাও তাদের কর্ণকুহরে পৌঁছাতে পারবে, যেগুলো অন্য কোনো পথে পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করা ও প্রচার করা সম্ভব নয়।
তো এই লোকগুলো কারা, যারা প্রকাশ্যে নাস্তিকতা প্রচার করার এবং তার সাথে সম্পর্ক রাখার দুঃসাহস দেখায়? তারা কারা, যারা নোংরা ও পাপাচারপূর্ণ গল্প ও নিজেদের ভ্রষ্ট মতাদর্শ দিবালোকে প্রচার করার দুঃসাহস দেখায়? এগুলো খুঁজে বের করে তাদের প্রতিকার করা প্রশাসনের দায়িত্ব।
তাদের লিখিত উপন্যাসগুলো একদিক থেকে যেমন মুসলিম উম্মাহর আকিদা-বিশ্বাসকে মূলোৎপাটন করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সুন্দর চরিত্রকে সেকেলে বলে উপস্থাপন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। একদিক থেকে আমাদের ইমানহারা করার ষড়যন্ত্র করছে, অন্যদিকে অসচ্চরিত্রে লিপ্ত করার পাঁয়তারা চলছে। অথচ এগুলোর নাম দিচ্ছে মানবতার সংস্কৃতি বলে। তাদের এই চক্রান্তের মৌলিক সূত্রটির ব্যাপারে কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে—
وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُوْنَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُوْنُوْنَ سَوَاءٌ .
‘তারা চায়, তারা যেমন কাফির তোমরাও তেমনই কাফির হয়ে যাও। [সুরা আন-নিসা : ৮৯]
وَ يُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُوْنَ الشَّهَوَاتِ أَنْ تَمِيلُوْا مَيْلًا عَظِيمًا .
আর যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তারা চায় তোমাদের বড় রকম লক্ষ্যচ্যুতি ঘটুক। [সুরা আন-নিসা : ২৭]
এ কারনেই তাদের গল্পগুলো অধিকাংশ সময় বিকৃত চিন্তার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। মুসলিম নারী-পুরুষ সকাল-সন্ধ্যা লাইব্রেরিসমূহে সেগুলো দেখত ও পড়ত।
বিষয়টি কেবল লাইব্রেরি পর্যন্ত সীমিত থাকেনি; বরং সেখান থেকে আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটগুলোতে ও ভার্চুয়াল জগতে ছড়িয়ে পড়েছে। সাহিত্যের নামের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি স্থানে পৌঁছে গেছে। এমন নিকৃষ্ট ও হীন কোনো পদ্ধতি নেই, এগুলোর প্রসারে যে পদ্ধতি তারা গ্রহণ করেনি।
আমাদের করণীয়
আমাদের কাজ হলো ভেবে-চিন্তে শরয়িভাবে কার্যকরি পদ্ধতিতে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা। আল্লাহর দ্বীনকে প্রচার-প্রসার করার জন্য সাহিত্য, উপন্যাস ও গল্পকে ব্যবহার করা এবং শরিয়তসম্মত পদ্ধতিগুলো কাজে লাগানো। শর্ত হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে ইসলামি বিধি-নিষেধ এবং বিধেয় বিষয়গুলোর প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00