📄 উত্তম চরিত্রে কালিমা লেপন ও নোংরা চরিত্রের আলোকায়ন
এই উপন্যাসগুলোর মাধ্যমে মুসলিম সমাজে তারা বিভিন্নভাবে নোংরামি ছড়ানোর কাজ করে এবং বিষাক্ত বিষবাষ্প ছড়ায়, যা থেকে বিরত থাকা মুসলিম সমাজের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য।
কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, কেউ কেউ কেবল এতটুকু বলেই ক্ষান্ত হচ্ছে যে, 'এগুলো পাপাচারপূর্ণ উপন্যাস'। কেউ তো এই বলেই নিজেকে দায়মুক্ত ভাবছেন যে, এগুলো 'হারাম উপার্জন।' এগুলো কি হারামের ডুব দেওয়ার জন্য এবং নোংরা চরিত্রে গা ভাসিয়ে দেওয়ার দিকে স্পষ্ট আহ্বান নয়?
মুসলিম সমাজে নোংরামি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যতগুলো পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো, মুসলিম সমাজের এমন চিত্রাঙ্কন-ছবি প্রচার করা হচ্ছে, যা গুনাহের নানা প্রকারের কৃষ্ণসাগরে নিমজ্জিত অবস্থায় ধারণ করা হয়েছে। পাপ-পঙ্কিল বিষয়গুলো সেখানে স্বাভাবিক বিষয়ের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর প্রচারণা চালানোর বিপক্ষে কারও পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি। এমনকি নেককার নারী-পুরুষ সবাই এ ব্যাপারে এমন নীরব ভূমিকা পালন করেছে, যেন কোনো মানুষই সেখানে বিদ্যমান ছিল না। মনে হচ্ছে এখানে গুনাহের অভয়ারণ্য সৃষ্টি করা হয়েছে। যার কারণে তাদের উপন্যাসগুলোর পাঠকেরা ভাবছে যে, বিষয়টি সাধারণ অভ্যাসগত। অতএব, যখন তুমি নেশা করতে চাও, ব্যভিচার করতে চাও অথবা অন্য কোনো পাপ কাজ করতে চাও; করতে পারো। এগুলো তো অনুমোদিত বিষয়, নিষিদ্ধ কোনো বিষয় নয়।
এখানে এ কথা বলার কোনো অবকাশ নেই যে, এগুলো তো আমাদের জীবনের বাস্তব ঘটনারই চিত্রায়ণ। কেননা, আমাদের সমাজে অনিষ্টতা ছেয়ে গেছে। আমরা এই লেখাগুলোর মাধ্যমে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য ক্ষতস্থানে হাত বুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিমাত্র।
কিন্তু কয়েকটি কারণে এই বক্তব্য বিশুদ্ধ ও প্রত্যাশিত নয়। যথা-
প্রথম কারণ : এই উপন্যাসগুলো বিশেষ কোনো ঘটনার মূল্যায়ন করে না; বরং তারা সমষ্টিগত বিষয়ের মূল্যায়ন করে দোষগুণ আলোচনা করে। সুতরাং তারা নির্বিচারে বলে দেয়, অমুক নোংরা ও পাপাচারে লিপ্ত, বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য। অথচ বাস্তবতার সাথে তাদের এই কথার কোনো মিল নেই।
দ্বিতীয় কারণ: তারা জনসমাগমে নোংরামি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই কোনো বাজে সংবাদ পরিবেশন করে। তাহির বিন আশুর রহ. বলেন, 'সত্য-মিথ্যা নির্বিচারে সকল নোংরা সংবাদ মুমিনদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া মূলত চারিত্রিক অধঃপতন। কেননা, মানুষকে নোংরা কাজে জড়িয়ে পড়া থেকে যেই বিষয়গুলো বাধা দেয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো সেগুলোর সমালোচনা এবং শ্রুতিকটুতার প্রতিক্রিয়া। এভাবে এই সমালোচনার ভয় মানুষকে এই পাপাচারের আলোচনা এবং সেগুলোতে জড়িয়ে পড়া থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখে। একসময় মন থেকে পাপের চাহিদা ও আকৃতি-প্রকৃতি দূর হয়ে যায়।
কিন্তু যখন সমাজে পাপাচার ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তরে সেগুলোর কল্পনা সৃষ্টি হয়, তখন এসব পাপাচার সংঘটিত হওয়ার সংবাদগুলো আর শ্রুতিকটু ও ভারী মনে হয় না। যার কারণে অন্তরে সেই পাপে লিপ্ত হওয়ার কামনা সৃষ্টি হয়, কানে তার শ্রুতি আর খারাপ লাগে না। ফলে কুপ্রবৃত্তি নফসকে সেদিকে অগ্রসর হতে উদগ্রীব বানিয়ে ফেলে; বরং পাপের সংবাদ যত শোনে, যত বেশি আলোচনা হয়, তার মাঝে পাপে জড়িয়ে পড়ার উদ্দীপনা ততই বৃদ্ধি পায়।[৭৩]
তাহলে উপন্যাসগুলোতে এসব অবৈধ সম্পর্কের বিভিন্ন চরিত্র ও ঘটনা বলার উদ্দেশ্য কী?
প্রথম কারণ : হারামকে মানুষের স্বভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া। ইতিমধ্যেই অনেক হারাম বিষয় মানুষের স্বভাবে পরিণত হয়েছে, যার কারণে তারা সেগুলোকে অপছন্দ করে না, সেগুলো দেখে অবাক হয় না, মানুষের মাঝে এগুলোর অবৈধতা ও হারাম হওয়া সম্পর্কে খুতবা দিতে, আলোচনা করতে এবং তর্কে যোগ দিতে অস্থিরতা দেখা যায় না।
দ্বিতীয় কারণ : আমাদের সমাজে নোংরামি ছড়িয়ে দেওয়া। 'বানাতুর রিয়াজ' বা রিয়াদকন্যা উপন্যাসের লেখিকা বলেছে, 'অন্যান্য শহরের চেয়ে এখানে টেলিফোনসংস্থার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। যেন তারা প্রেমিকযুগলের প্রেমালাপ, তাদের অস্থিরতা, কান্নাকাটি ও চুম্বনসহ বিভিন্ন বিষয় পুরোপুরি সাপ্লাই দিতে পারে।'
এভাবেই অবৈধ সম্পর্কগুলো সমাজে বেগমান করা হচ্ছে এবং তা স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অতঃপর আনন্দচিত্তে প্রতিবেদনাকারে তা উল্লেখও করা হচ্ছে।
লেখিকা তার পুস্তকের প্রারম্ভে লিখেছে, নারীসমাজ মহোদয়া! আপনারা এমন এক যুগসন্ধিক্ষণে আছেন, যখন একদিকে রয়েছে আভ্যন্তরীণ বিশাল লজ্জা বা কেলেঙ্কারির আশঙ্কা, অন্যদিকে রয়েছে নৈশপার্টির তারুণ্যের হইচই। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তি আপনাদের এমন এক জগতের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা আপনাদের প্রত্যেকের কামনা ও চাহিদার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে। এটা এমন এক বাস্তবতা, যা আমরা দেখি, কিন্তু ভোগ করি না। বস্তুত আমরা যতটুকুর অনুমোদন থাকা বিশ্বাস রাখি, ততটুকুতেই বিশ্বাস করি, আর বাকিগুলো অস্বীকার করে থাকি!
তৃতীয় কারণ: মুসলিম সমাজকে এমনভাবে উত্তেজিত করা, যেন সত্যিকারের দ্বীনদার, সচেতন ও নেককার মানুষগুলো অন্যদের উপহাস ও উদাসীনতার বস্তুতে পরিণত হয়।
এখন মুসলিম সমাজের কর্তব্য হলো, এগুলোর অনিষ্টতা প্রকাশ করে দেওয়া। কার উপকারার্থে উপন্যাসগুলো প্রকাশ করা হয়েছে সেগুলো কি ভাবতে হবে না?
এই উপন্যাসের মাধ্যমে আমাদের প্রকৃত সমাজকে ঘৃণিত সমাজ বলে উপস্থাপন করেছে। শহরের নারীদেরকে ওয়ানপিচ কাপড় পরিধান করাচ্ছে। ভাবখানা এমন, যেন তারা সতী নয় এবং তাদের মাঝে নেই সতীত্ব। এদিকে আমাদের শাসকসমাজ রোমান্সের পরিসংখ্যান ও অনৈসলামি কার্যক্রমের পরিসংখ্যান নিয়ে ব্যস্ত যে, কোথায় কী পরিমাণ ক্ষতি হলো; কিন্তু প্রতিকারের কোনো চিন্তা তাদের মাথায় নেই!
একটি উপন্যাসে বলা হয়েছে, 'বর্তমান যুবসমাজ জীবনের শুরুতেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চায় না এবং এ বিষয়ে তারা চাপের সম্মুখীনও হয় না। তারা পৃথিবীর নানা রোমাঞ্চকর স্থানে ভ্রমণ করে এবং বিশ্বসুন্দরী তরুণীদের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ হয়।'
ওহে পশ্চিমাদের পা'চাটা সাহিত্যিক নামের কলঙ্ক! তোমাদের প্রতি আল্লাহর দোহায় লাগে, সত্যি করে বলো তো, আমাদের সমস্ত যুবকদেরই কি এই অবস্থা? না, কখনও না! তারপরও তোমরা কীভাবে এমন লিখলে?
ভার্চুয়াল জগতে এমন নোংরা ও নিকৃষ্ট উপন্যাসের ছড়াছড়ি। যেখানে খুলে খুলে দেহাবয়বের বিবরণ দেওয়া হয়েছে, মানুষের গোপন বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে এবং মেয়েদের কেবল ভোগের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কিছু লেখক নারীদের শরীরের গোপনাংশের বর্ণনা থেকে বিরত থেকেছে, কিন্তু তারা আবার কিশোর-কিশোরীদের প্রতি লিপ্সা সৃষ্টি করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। সামাজিক রীতিনীতি ও চরিত্র ধ্বংস করতে তারা অন্যদের তুলনায় একধাপ এগিয়ে রয়েছে।
এমন গল্পও তারা লিখেছে, যেখানে ভিন্ন প্রজাতির দুই জাতির মাঝে মিলনের কথা বারবার বলা হয়েছে। ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীরা নারীদের সাথে সঙ্গম করে, তাদের শরীরে স্পর্শকাতর অংশগুলোতে মর্দন করে। নিজেদের লেখায় মহিলা সমকামীদের নোংরা বিষয়টিও তারা বাদ দেয়নি।
তাদের একজন ঔপন্যাসিক গল্পের একপর্যায়ের ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছে, সে বিভিন্ন প্রাণীর সাথে যৌন চাহিদা মেটাতে অভ্যস্ত। যেমন: মুরগি, ছাগল, কুকুর ইত্যাদি। সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণও সেখানে পেশ করেছে। এমনকি সে যে সমকামী তাও দ্ব্যর্থহীনভাবে স্বীকার করেছে। এখানেই শেষ নয়, আলোচনার একপর্যায়ের সে নিজের এমন আত্মীয়ের সাথে ব্যভিচার করার কথাও স্বীকার করেছে, যার সাথে শরিয়ত বিবাহ হারাম করেছে। এমনকি সেখানে নিজের মেয়ে ও বোনের সাথে ব্যভিচারের বিষয়টিও বাদ যায়নি। নাউজুবিল্লাহ।
তারা কি এর মাধ্যমে হারামকে হালাল করার পাঁয়তারা করছে না? অথচ এটা এমন হারাম, যার কারণে শরিয়ত প্রস্তরাঘাতে হত্যার ফায়সালা দিয়েছে!
অসভ্য যৌনমিলনের বিষয়গুলো ফলাও করে প্রচার করে, এমন অশ্লীল একটি পত্রিকায় একজন ঔপন্যাসিক লিখেছে, 'এই আলোচনার মাঝে আমি বলব, মানুষ তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে যেকোনো সস্তা পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারবে। আমার বলার উদ্দেশ্য হলো, মানুষ তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সমকামিতায় লিপ্ত হতে পারবে।'
নাউজুবিল্লাহি মিন জালিক! লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া!? এটাও কি কোনো লক্ষ্য হতে পারে??
এই ধরনের যৌন উত্তেজক উপন্যাস কেবল যৌন ক্ষুধাই বৃদ্ধি করবে। আর সেখান থেকে সৃষ্ট যৌন উত্তেজনা পাঠকের সামনে উন্মুক্ত করবে হারামের নানামুখী পথ। এর ফলে যে ব্যক্তি তার জৈবিক চাহিদার নিয়ন্ত্রণ হারাবে, তাকে এমন মাশুল দিতে হবে, যার কোনো প্রতিকার নেই।
শাইখ আলি তানতাভি রহ. বলেন, 'যদি আপনাকে কারুনের মতো সম্পদ, হিরাক্লিয়াসের মতো শরীর, প্রত্যেক রঙের, প্রত্যেক ঢঙের ও প্রত্যেক শ্রেণির ১০ হাজার সুন্দরী রমণীও দেওয়া হয়; আপনি কি ভাববেন যে, আপনার চাহিদা পূর্ণ হয়েছে? না, এমনটি কখনও হবে না; বরং চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। পক্ষান্তরে একটি মাত্র হালাল নারী আপনার চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে কত সুন্দরভাবে।
আমার কাছে প্রমাণ চাবেন না। একটু সচেতন হলেই আপনাদের চারপাশে আপনাদের সমাজে এবং আপনাদের বাস্তব জীবনে আমার এ কথার প্রতিষ্ঠিত প্রমাণ পেয়ে যাবেন।
ব্যভিচার ও নোংরা প্রচারনার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর কী লাভ হবে? পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীলতার গল্প দিয়ে কী উপকার হবে? পাপাচারে ভরা আগ্রাসনের গল্প শুনিয়েই বা কী ফায়দা হবে? মুসলিম যুবকেরা যদি যৌন চাহিদার অভিশপ্ত আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, তাহলে তাদের দ্বারা জাতির কী আশা করা যেতে পারে?
জনৈক কবি বলেছেন—
ফিতনা ও বিপদের স্রোতে, শিশুরা বেড়ে ওঠে নোংরামির মাঝে। বিক্রিত কলম হয় দিগভ্রান্ত, সর্বনাশা বিষ ঢুকে নির্বোধের শরীরে। তারা সীমালঙ্ঘনকারী ধর্মদ্রোহী, শত্রুর সাথে আবদ্ধ হয়েছে ঘৃণ্য চুক্তিতে। শত্রুরা লজ্জায় পড়ে বলেনি, বলেছে বরং খুশিতে বুক চেতিয়ে প্রকাশ্যে; শেষ ইচ্ছা মুসলিম উম্মাহকে রিক্ত করা তার দ্বীন, কল্যাণ ও মহান আদর্শ থেকে।
ইবনুল মুকাফফা রহ. বলেছেন, 'যে ব্যক্তি দ্বীনের মাঝে ঢুকিয়েছে নিজের স্বার্থ, শেষ করেছে তাকে শরীরের জন্য, বিক্রি করেছে তাকে সম্পদের লোভে, লজ্জায় কাপুরুষচিতভাবে তাকে করেছে উপেক্ষা, কখনও তা পালন করেছে জশ-খ্যাতির তরে; মনে রাখতে হবে খুব দ্রুতই তার মান-সম্মান ও প্রভাব-প্রতিপত্তি শেষ হয়ে যাবে! এগুলোর মাঝে সবচেয়ে মারাত্মক হলো নারীর শারীরিক উষ্ণতা প্রাপ্তির ঘৃণ্য প্রত্যাশা।
টিকাঃ
[৭৩] আত-তাহরির ওয়াত-তানবির: ১৮/১৪৮
📄 বড় বিষয়কর কথা!
কোনো মানুষ একজন নারীকে পর্দাবৃত অবস্থায় পোশাকের ওপর দিয়ে দেখবে, তার প্রকৃত সৌন্দর্য অবলোকন করা ছাড়াই অন্তরে তার সৌন্দর্য ও লাবণ্যতার কল্পনা করবে, তাকে না দেখেই নিজের মন-প্রাণ তার জন্য উৎসর্গ করবে, যা পৃথিবীর কেউ জানবে না; এতে কোনো সমস্যা নেই।
কিন্তু সমস্যা পরবর্তী অবস্থা নিয়ে। এরপর অন্তরে নিকৃষ্টতর অনুভূতি লালন করতে শুরু করে, তাকে হৃদয়ের কল্পনায় স্থায়ী করে ফেলে। এ বিষয়ে কোনো ওয়াজ তার মাঝে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না, কোনো উপমা এর সর্বনাশা ফল থেকে তাকে মুক্ত করতে পারে না। সে কেবল একই চিন্তায় মশগুল থাকে। এমনকি সে ভাবতে থাকে যে, পৃথিবীতে এই একটি নারীই তার প্রয়োজন। ওই নারী ছাড়া তার জীবনের সবকিছু অর্থহীন। এটা একান্তই নির্বুদ্ধিতা, হতভাগ্য ও অসভ্যতার চিহ্ন।
যে ব্যক্তি প্রবৃত্তির দাসত্ব করে, সে দুনিয়ার মানুষের দাসে পরিণত হয়। যে ব্যক্তি প্রবৃত্তি ও রিপুর কাছে পরাজিত হলো, সে সকল কল্যাণকর বিষয়ের তাওফিক হতে বঞ্চিত হলো।
📄 ইনসাফপূর্ণ অবস্থান
দ্বীন ইসলাম ইনসাফসহ অবতীর্ণ হয়েছে এবং ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছে। আমরা শরিয়তের পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়েছি যে, গল্প ও উপন্যাসের মাঝে ভ্রান্তির শিকার সকল লেখককে এক পাল্লায় ওজন করব না; বরং তাদের প্রতি ইনসাফভিত্তিক আচরণ করব এবং বলব, এই গল্প ও উপন্যাসগুলোর কিছু কুফরি, ধর্মদ্রোহিতা ও দ্বীন থেকে বের হয়ে আসার প্রতি উসকানি দেয়। আর কিছু উপন্যাস ও গল্প আছে, যেগুলো এই প্রকারের নয়; বরং সেগুলো কেবল পাপাচারিতা ও গুনাহের দিকে আহ্বান করে। তবে উভয়টি গুনাহের কুফলের দিক থেকে সমান না হলেও এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, উভয়টিই গুনাহ এবং আল্লাহর বিধানকে লঙ্ঘন করার নামান্তর।
কিন্তু তাদের গ্রন্থগুলোতে এমন কথাও পাওয়া যায়, যা আমাদের বিস্ময়ে বিমূঢ় করে। কেননা, কিছু লেখক এমন আছে, যারা লেখার সূচনাই করেছেন এই কথার মাধ্যমে যে, 'আল্লাহ তাআলা যেন আমার লেখাকে মিজানের পাল্লায় স্থাপন করেন।' আমি তাদের জিজ্ঞেস করব, তোমাদের এই গ্রন্থগুলো মিজানের পাল্লায় তো স্থান পাবে নিঃসন্দেহে। তবে সমস্যা হলো, মিজানের দুটি পাল্লা রয়েছে, নেক আমলের পাল্লা এবং বদ আমলের পাল্লা। তো তোমার আমলনামাটি কোনো পাল্লায় যাবে?
📄 খ্যাতি অর্জনের পদ্ধতি
বর্তমান যুগে নোংরামি ও নাস্তিকতাপূর্ণ গল্প ও উপন্যাসগুলো প্রসিদ্ধি অর্জনের সস্তা মাধ্যম হয়ে গেছে। সাথে যোগ হয়েছে কিছু গণ্ডগোল, যা এই সমস্ত উপন্যাসকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। কখনও কখনও কিছু দাঈ ও ভালো মানুষও এই প্যাঁচে পড়ে যায়। যার কারণে এ নিয়ে কোনো কথা বলা যায় না। আর যদি কখনও কোনো সালিশের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে সেখানে এই নোংরা উপন্যাসগুলোর আলোচনাই ফুটে ওঠে। সেগুলোর নাম, লেখকের নাম, প্রকাশকের নাম ও ভুলত্রুটি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হতে থাকে। যার কারণে সেই উপন্যাসগুলো সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রসিদ্ধি লাভ করে।
অসাধু মিডিয়াগুলো এই পদ্ধতির সদ্ব্যবহার করেছে পুরোদস্তুর। তারা সেই উপন্যাসকে উপস্থাপন করে বলে, 'অমুক উপন্যাসটি বহুলপ্রচলিত, বিখ্যাত ও বাজেয়াপ্ত।' এই দরজা দিয়েই উপন্যাসগুলো খ্যাতির আকাশে কড়া নাড়তে আরম্ভ করে।
বরং আরও কঠিন বিপদ হলো, সাধারণ জনগণ উপন্যাসটি পড়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়ে এবং কাঙ্ক্ষিত কপি সংগ্রহের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে থাকে।
জনৈক পুস্তকবিক্রেতা বলেছেন, 'প্রায় ৭০ বছর বয়সী একলোক আমার কাছে এসে বলল, আমি একটি নিষিদ্ধ কিতাব নিতে চাচ্ছি। আমি বললাম, কোন কিতাব সেটি? নিষিদ্ধ কিতাব তো অনেক আছে! সে বলল, আমি অমুক নিষিদ্ধ কিতাবটি চাচ্ছি।
এভাবেই বিষয়টি সামনে অগ্রসর হতে থাকে। মানুষ নিষিদ্ধ বইগুলো খুব বেশি পড়তে চায়। কেননা, নিষিদ্ধতার মাঝে স্বতন্ত্র একটি আকর্ষণ থাকে! যার কারণে মানুষ সেগুলোই ক্রয় করতে চায়।
এরপর অপরাধীকে হিরো বানানোর জন্য মিডিয়াগুলো এই সুযোগটা লুফে নেয়। সুতরাং এর ওপর রং চড়িয়ে, প্রিন্ট-মিডিয়ায় ফুলপেজ সাক্ষাৎকার ছেপে এবং ইলেকট্রিক মিডিয়াগুলো দীর্ঘ ইন্টারভিউ ফলাও করে প্রচার করে। সাথে সাথে ভাইরাল করার চেষ্টা করে যে, অমুক উপন্যাসের রচয়িতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লেখক। আর যাবেন কোথায়! যুবক-যুবতীরা হন্যে হয়ে তাদের পিছে ছুটতে থাকে।
আমাদের সমাজ খ্যাতি ও প্রসিদ্ধির খেলাকে খুব সুন্দরভাবে দ্রুতই গ্রহণ করে ফেলে। এরপর আপনি মাহফিল, মিলনমেলা, ভার্চুয়ালজগৎ, সাহিত্যসাময়িকিসহ নানা জায়গায় তাদের সদর্প ও সরব পদাচরণা দেখতে পাবেন। পত্রিকার পাতা, সাহিত্য স্টাডিজ ও মোবাইল ফোনের স্ক্রিন তাদের ও তাদের রচিত উপন্যাসকে নিয়েই অস্থির হয়ে আছে। এভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে সেগুলোর প্রচারণা চলতে থাকে।
প্রিয় ভাই, অতএব আপনি সেসকল লোকের সাথে থাকবেন না, যারা তাদের নাম প্রকাশ করে এবং তাদের উপন্যাসগুলোর শিরোনাম বলে তাদের প্রতিরোধ করার অভিনয় করে। এভাবে আমরা সাধ্যের মাঝে ওই লেখকদের নাম এবং তাদের লিখিত উপন্যাসের নাম ও পরিচিতি গোপন রাখার চেষ্টা করতে পারি। কারণ, প্রতিরোধের এই আন্দোলনে যোগ দিলেই তার প্রসিদ্ধি বহুগুণ বেড়ে যাবে। তাই যে উপন্যাসগুলো প্রসিদ্ধ হয়েই গেছে এবং (সমালোচনার সময়) সেগুলোর নাম প্রচারে বিশেষ কোনো ক্ষতির আশঙ্কা আমরা অনুভব করিনি, সেগুলো প্রয়োজন হলে নামসহ তুলে ধরা হয়েছে। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলাই সাহায্যকারী।