📄 অপরাধের কিছু হালাল বাহানা
আরবের অনেক ধর্মদ্রোহী ও পাপাচারী তাদের ভ্রষ্ট চিন্তাকে মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য এই বাজে উপন্যাসগুলোকে বাহন হিসেবে গ্রহণ করেছে। কেননা, তারা জানে যে, অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের ভ্রান্ত চিন্তাগুলো পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করতে পারবে না। সুতরাং তারা নিজেদের ভ্রষ্ট চিন্তার বাহক ও প্রচারক হিসেবে ওই উপন্যাসগুলো গ্রহণ করেছে।
তাদের আরেকটি নোংরা পদ্ধতি ছিল, নিজেদের কথাগুলো গল্পকারদের নামে গলিয়ে দিত আর বলত, আমরা তো এমন বলিনি; বরং অমুক গল্পকার এভাবে বলেছেন। আমরা তো কেবল তাদের কথাগুলো উদ্ধৃত করছি। আর এই মূলনীতি তো কারও অজানা থাকার কথা নয় যে, কুফরির উদ্ধৃতিকারী কাফির নয়।
এই মূলনীতির মাধ্যমে তারা মূলত আল্লাহ তাআলা এবং মুমিনদের ধোঁকা দিতে চায়। আল্লাহ তাআলা তাদের ধোঁকার জবাবে আগেই বলে রেখেছেন—
يُخْدِعُوْنَ اللَّهَ وَالَّذِيْنَ آمَنُوْا ۚ وَمَا يَخْدَعُوْنَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُوْنَ .
তারা আল্লাহ ও ইমানদারদের ধোঁকা দেয়। বস্তুত তারা কেবল নিজেদেরই ধোঁকা দিয়ে থাকে; যদিও তারা তা অনুভব করতে পারে না। [সুরা আল-বাকারা: ৯]
এদের উপমা দেওয়া যেতে পারে সেই ইঁদুরের সাথে, যে তার গর্তের দুটি মুখ তৈরি করে রাখে। একটা মুখ তৈরি করে আগমন প্রস্থানের জন্য, আরেকটি মুখ তৈরি করে রাখে দ্বিমুখী সংকটের সময় পালানোর জন্য।
আর এই নাস্তিকেরা কুফরি ও পাপাচারে প্রবেশ করে এবং প্রকাশ্যে তার প্রচারণাও চালায়। কিন্তু যখন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়, তখন বলে, 'আমরা তো কুফরির উদ্ধৃতকারী মাত্র, আসলে কাফির নই।
তাদের একজন বলেছে, 'এক কাজের দুদিক-আল্লাহ ও শয়তান।'
এ কথা বলার পর নিজের কুফরির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে, 'আমি কথাটি অমুক ব্যক্তির আলোচনা থেকে উদ্ধৃত করে বলেছি।'
প্রিয় ভাই, একটু ভাবুন তো, কে এই ব্যক্তিকে আবিষ্কার করেছে!? কে কথাগুলো এভাবে লিখে তার প্রচারণা চালাচ্ছে?
আপনি কি ভাবছেন, কথাগুলো আবু জাহাল, আবু লাহাব বা সরাসরি শয়তানের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে? নাকি ওই ব্যক্তিই নিজের পক্ষ থেকে এই ধরনের বাজে কথা বলার পর অন্যের উদ্ধৃতির দোহাই দিচ্ছে?
সে যদি তার দাবি অনুযায়ী অন্যের কথা উদ্ধৃত করার বিষয়টিতে সত্যবাদীই হয়ে থাকে, তাহলে সে এই ভ্রান্ত কথাটি উদ্ধৃত করা পর তার অপনোদন করেছে কি? নাকি তাদের কথার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে মেনে নিয়েছে এবং তার কোনো প্রকার প্রতিবাদ করেনি?
মূলত এই প্রকারের প্রবন্ধ ও নিবন্ধগুলোর মাধ্যমে তারা নিজেদের নাস্তিকতা ও পাপাচারিতার স্বীকারোক্তি প্রদান করে, শরিয়তের মূলনীতি থেকে দূরে চলে যায় এবং দেয়ালের আড়ালে গিয়ে লুকিয়ে তাদের গডফাদারদের কথার উদ্ধৃতিতে আল্লাহর দেওয়া শরিয়ত ও তার পথের দাঈদের প্রতিহত করার অপপ্রয়াস চালায়। যার মূল চালিকাশক্তি হলো, 'কুফরির উদ্ধৃতিকারী কাফির নয়'–এই অসম্পূর্ণ মূলনীতি। তাদের পথিকৃতরাও তাদের পক্ষে যুক্তির আলোকে প্রমাণ পেশ করার চেষ্টা করে।
একজন জ্ঞানবান মুসলিম দাঈ হিসেবে তাদের সংশয়গুলো দমন করার চেষ্টা করতে হবে। সুতরাং যখন কোনো মুনাফিক সুলাইমান আলাইহিস সালামের প্রতি উপহাস করে বলবে, 'অলিমা তো সামুদ্রিক হিংস্র প্রাণীর জন্য'। এরপর এই কপটতাকে আড়াল করার জন্য তারা বলবে, 'উক্ত উপন্যাসের মাঝে নাস্তিকতাসূলভ তোমরা যে কথাগুলো দেখছ, সেটা তো লেখকের কথা নয়; বরং এটা অমুক গল্পকারের কথার উদ্ধৃতি।'
তখন তার জবাবে বলা হবে, 'ভালো তো, কোনো সমস্যা নেই। এবার তোমাদের সামনে এমন গল্প উপস্থাপন করব, যার মাঝে তোমাদের লেখক ও গবেষকদের আমরা গালি দেব। অতঃপর তোমাদের কেউ যখন আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবে, তখন বলব, আমি তো এ কথার প্রবক্তা নই; বরং অমুক গল্পকার বলেছে, আর আমি সে কথাই উদ্ধৃত করেছি।' তখন এই কপট কাফির বাকরুদ্ধ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এটা তো গেল তার্কিক জবাব। এবার শরিয়তের আলোকে দালিলিক জবাব শুনুন! তাদেরকে বলব–
প্রথমত: 'কুফরির উদ্ধৃতকারী কাফির নয়'–মূলনীতিটি এই শর্তে গ্রহণীয় যে, উদ্ধৃতি শ্রবণকারীর সামনে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে যে, আমি এই কথার প্রবক্তা নই' কিন্তু এই মুনাফিকদের পক্ষ থেকে এমন পরিষ্কার ঘোষণা তাদের বইয়ে উল্লেখ নেই।
দ্বিতীয়ত: এই কুফরি ও ফাসাদপূর্ণ কথাগুলো তাদের ভাষায় এমন স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে কুফরিমূলক কথাই বলা হচ্ছিল এবং তারা কুফরির পক্ষেই প্রমাণ পেশ করছিল। সাধারণ পাঠকের সামনেও তা অস্পষ্ট থাকার কথা নয়।
তৃতীয়ত: অধিকাংশ আলোচকরা তাদের আলোচনার ভূমিকাতেই পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছে যে, তারা ব্যক্তিগতভাবেই এই কথাগুলো বলেছে, অথবা এভাবে বলেছে যে, এগুলো তাদের আত্মজীবনী। কিন্তু যখনই তাদের গল্পগুলো বাতিল বলে প্রমাণিত হয়েছে, তখনই নিজেদের সম্পৃক্ততা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
অতএব, আমরা সংশোধিতরূপে আলোচ্য মূলনীতিটির ব্যাপারে বলব, 'কুফরির উদ্ধৃতকারীর কাফির হওয়া জরুরি নয়। তবে যখন কুফরি উদ্ধৃত করে তা স্বীকার করে নেবে, তখন নিশ্চিতভাবে সে কাফির হয়ে যাবে। এরপর সে মেনে নিক বা অস্বীকার করুক, তাতে কিছু আসে যায় না।'
📄 চিন্তা ও মতের স্বাধীনতা
এখানে তারা খুব মজবুতভাবে আরেকটি দাবি করে থাকে যে, চিন্তা ও মতের স্বাধীনতার ব্যানারে তাদের এই নাস্তিকতা ও পাপাচারিতার প্রচারে কোনো সমস্যা নেই। অধিকাংশ নাস্তিক খুব আত্মতৃপ্তি নিয়ে এই পরিভাষাটি ব্যবহার করে। বিপদ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এবং নিজেদের ভ্রষ্টতাকে প্রচার-প্রসার করার জন্য তারা এই পরিভাষাকে কমন ডায়ালগরূপে সিঁড়ি ও পুল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।
যেমন: তারা প্রত্যেক এমন কিতাবের বিপক্ষে এই পরিভাষাটির সদ্ব্যবহার করে, যে কিতাবগুলো তাদের গোপন ভেদ ফাঁস করে দেয়। সুতরাং তারা তাৎক্ষণিকভাবে এই সমস্যাকে আড়াল করে ফেলে এবং মানুষের সামনে তাদের দোষ প্রকাশ হওয়া থেকে বেঁচে গিয়ে একাকিত্বের তিক্ত শ্বাস গ্রহণ করে। সাথে সাথে এটাও প্রমাণ হয়ে যায় যে, লোকজন তাদের কথা গ্রহণ না করে বরং প্রত্যাখ্যান করেছে।
এভাবেই তারা নিজেদের প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যায় এবং প্রাণ বাঁচিয়ে চলে। মূলকথা হলো, তারা লেখনীর স্বাধীনতাকে কেবল আল্লাহর সত্তা, তাঁর দ্বীন ও দ্বীনদারদের পেছনেই ব্যবহার করে থাকে। এসব করছে বিনোদনমূলক সেবার আড়ালে। নিজেদের দোষ ও সমস্যা তুলে ধরে জাতির কল্যাণে তারা কেউ এই স্বাধীনতাকে ব্যবহার করে না।
📄 আকিদা ও চরিত্রে আঘাত
পাশ্চাত্যবাদী এই লেখকরা যে উপন্যাসগুলো রচনা করেছে, মানুষের মাঝে ফিতনা সৃষ্টি করাকে যেভাবে নিজেদের দায়িত্ব মনে করে বসে আছে, যদি কোনো পাঠক সেগুলো দেখে, তাহলে দেখতে পারবে যে, সেগুলোতে দুটি বিষয়ের ওপর আঘাত করা হয়েছে। প্রথমত, আকিদা-বিশ্বাসের ওপর, আর দ্বিতীয়ত উত্তম চরিত্র-আখলাকের ওপর। এই দুটি বিষয়েই আমি বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
📄 তাওহিদের বিরুদ্ধে ও নাস্তিকতার আবিষ্কার
এই গ্রন্থগুলোর অধিকাংশ লেখক সঠিক পথ থেকে পদস্খলিত হয়ে কুফরি ও নাস্তিকতার জলাশয়ে পড়ে গেছে। ফলে তারা শরিয়তের সর্বসম্মত বিষয় এবং দ্বীনের মূলনীতি সম্পর্কে আজে-বাজে কথা বলা আরম্ভ করেছে।
আমরা দেখতে পাই, তাদের লেখাগুলোতে নাস্তিকতার প্রতি দাওয়াত, আল্লাহর সত্তার প্রতি উপহাস ও নিষ্পাপ নবিদের প্রতি ঠাট্টার বিষবাষ্পে ভরপুর। বরং সেই গ্রন্থগুলোর প্রতিটি পরতে পরতে কুফরি, ধর্মদ্রোহিতা, ভ্রষ্টতা ও ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার জীবাণু গিজগিজ করছে।
জনৈক লেখক তার উপন্যাসের নায়কের ভাষায় বলেছে যে, 'এটা তখনই সম্ভব, যখন সেখানে একজন প্রভু থাকবে।' নাউজুবিল্লাহ।
এই কথার মাঝে নাস্তিকতার পরিষ্কার প্রমাণ রয়েছে।
আরেকজন নাস্তিক তার উপন্যাসে লিখেছে, 'হে আল্লাহ, তুমি তো মিসকিন।' নাউজুবিল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা ক্ষমতাধর, পরাক্রমশালী ও পরাক্রান্ত, যিনি আকাশ জমিন সৃষ্টি করেছেন। তিনি তো এমন যে, যখন কিছু করতে চান শুধু বলেন 'হও', আর সাথে সাথে হয়ে যায়। আর এই নাস্তিক সে সত্তাকেই বলছে 'মিসকিন'!
আল্লাহ তাআলা ও তাঁর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্যিই বলেছেন। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে-
قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرَاهُ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى يَشْتِمُنِي ابْنُ آدَمَ وَمَا يَنْبَغِي لَهُ أَنْ يَشْتِمَنِي وَيُكَذِّبُنِي وَمَا يَنْبَغِي لَهُ .
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমাকে আদমসন্তান গালি দেয়, কিন্তু আমাকে তার গালি দেওয়া সমীচীন নয়। সে আমাকে মিথ্যারোপ করে, তবে তার জন্য এই মিথ্যারোপ সমীচীন নয়।[৬৮]
আরেকটি বর্ণনায় আছে—
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى يُؤْذِينِي ابْنُ آدَمَ .
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আদমসন্তান আমাকে কষ্ট দেয়...।[৬৯]
হাদিসগুলো দেখুন, আর এই হতভাগা দোপায়া পশুদের দিকে তাকান! তারা কীভাবে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করছে এবং গালি দিচ্ছে!
ঔপন্যাসিক নাওয়াল সাদাবি এক ছাত্রের কথা বর্ণনা করেছে, যে কথা বলার সময় তোতলামি করত আর এটা দেখে ছাত্ররা হাসাহাসি করত। তখন সে বলল, 'যদি আল্লাহর কাছে ইনসাফ থাকত, তাহলে তিনি আমাকে তোতলা করে বানাতেন না, যার কারণে আমি তোতলামি করে কথা বলছি, আর অন্য সবাই ভালোভাবে কথা বলছে।' নাউজুবিল্লাহ। এটা কি আল্লাহর ইনসাফকে অস্বীকার করা নয়?
কেউ কেউ তো আল্লাহর বিচারেরও বিচার করার জন্য দাঁড়িয়ে গেছে। তার উপন্যাসে বলেছে, 'হে প্রকৃতির প্রতিপালক, তোমার রহমত তো একরকম নয়। তুমি সামের ওপর কেন অনুগ্রহ করলে? হামের ওপর কেন অভিসম্পাত ঢেলে দিলে? আর অমুক কী দোষ করেছিল?
অথচ আল্লাহ তাআলা পরিষ্কার ইরশাদ করেছেন-
لَا يُسْلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْلُوْنَ
আল্লাহ তাআলা তার কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না, কিন্তু তারা তো জিজ্ঞাসিত হবে। [সুরা আল-আম্বিয়া : ২৩]
ঔপন্যাসিক নাওয়াল সাদাবি আরও বলেছে, 'কিয়ামতের সমাবেশে প্রভু আগে পদত্যাগ করবেন।' নাউজুবিল্লাহ।
এ ধরনের ভয়ংকর কথার পরিপ্রেক্ষিতে পবিত্র কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
تَكَادُ السَّمُوتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنْشَقُ الْأَرْضُ وَ تَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًا .
যার কারণে হয়তো আসমানসমূহ ফেটে পড়বে, পৃথিবী খণ্ড-বিখণ্ড হবে এবং পর্বতমালা ভেঙে পড়বে। [সুরা মারয়াম: ৯০]
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-
وَ مَا قَدَرُوا اللهَ حَقَّ قَدْرِهِ، وَ الْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيمَةِ وَ السَّمُوتُ مَطْوِيتُ بِيَمِينِهِ سُبْحَنَهُ وَتَعْلَى عَمَّا يُشْرِكُونَ .
আর তারা আল্লাহকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়নি। অথচ কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবীই থাকবে তার মুষ্টিতে এবং আকাশসমূহ তার ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে। তিনি পবিত্র, আর তারা যাদেরকে শরিক করে তিনি তাদের ঊর্ধ্বে। [সুরা আজ-জুমার: ৬৭]
জামিআ আজহারের ফাতাওয়া থেকে পালাতে গিয়ে নাওয়াল সাদাবি পাশ্চাত্যের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। জামিআ আজহার তাকে হাইলাইট করেছে এবং প্রচারের জন্য টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারও নিয়েছে। তখনই সে এ জঘন্য উক্তি করে যে, 'কিয়ামতের সমাবেশে প্রভু আগে পদত্যাগ করবেন।' নাউজুবিল্লাহ। এখানেই শেষ নয়; বরং সে তো সালাত ও হজকেও অস্বীকার করেছে। সে বলে, 'আমার হজ তো গল্প-উপন্যাসের মাঝে, আর আমার সালাত ও ইবাদতগৃহ রয়েছে লেখনীতে।'
কিছু ঔপন্যাসিক তো পরিষ্কারভাবে এ কথাও বলেছে যে, 'বিজ্ঞানীরা আজ রবের স্থান দখল করে নিয়েছে।' নাউজুবিল্লাহ।
অর্থাৎ তাদের জ্ঞানের সীমানায় দ্বীন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এই লেখক কুরআনে কারিমের নিম্নোক্ত আয়াতের ওপর কখনও বিশ্বাস স্থাপন করে না, যেখানে আল্লাহ বলছেন-
لَوْ كَانَ فِيْهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا.
যদি আসমানে ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া অনেক ইলাহ থাকত, তাহলে উভয়টিই ধ্বংস হয়ে যেত। [সুরা আল-আম্বিয়া : ২২]
কুরআনে কারিমের নিম্নোক্ত আয়াতটিকেও তারা অস্বীকার করে, যেখানে আল্লাহ বলছেন-
إِنَّ اللهَ يُمْسِكُ السَّمَوتِ وَ الْأَرْضَ أَنْ تَزُولًا ، وَ لَبِنْ زَالَتَا إِنْ أَمْسَكَهُمَا مِنْ أَحَدٍ مِّنْ بَعْدِهِ .
নিশ্চয় আল্লাহ, আসমান ও জমিনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায়, তবে তিনি ব্যতীত কে এগুলোকে স্থির রাখবে? [সুরা আল-ফাতির : ৪১]
আল্লাহর কসম, যদি তিনি আকাশকে জমিনের ওপর চাপিয়ে দিতে চান, তাহলে তাদের জ্ঞান ও ধর্মদ্রোহিতা তাদের কোনো উপকারে আসবে না।
নবিরা পর্যন্ত এই ধর্মদ্রোহী নাস্তিকদের বেয়াদবি থেকে মুক্তি পাননি। জনৈক ঔপন্যাসিক তার উপন্যাসের নায়ক হিশামের ভাষায় বলেছে, 'কাবিল নারীর কারণে হাবিলকে হত্যা করেছে। আদম নারীর কারণে জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন এবং নারীর কারণেই অপরাধ করেছেন। সুলাইমান নারীর কারণেই জিনকে বশীভূত করেছেন। দাউদের বাদ্যযন্ত্র নারীর কারণেই এবং লুতের নেশাগ্রস্ততাও এ নারীর কারণেই হয়েছে; যেমনটি তাওরাতে বর্ণিত আছে। এমনকি ইসা মাসিহ ইহুদিদের হদ (শরয়ি শাস্তি) ঝগড়াটে মারইয়ামের কারনেই বাতিল করে দিয়েছেন।'
তাহলে কি সে আমাদের নবির ওপরও অপবাদ দিতে চায়; যেখানে স্বয়ং রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
حُبَّبَ إِلَيَّ مِنَ الدُّنْيَا النِّسَاءُ وَالطَّيبُ وَجُعِلَ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ .
দুনিয়া থেকে তিনটি বস্তু আমার প্রিয় করে দেওয়া হয়েছে: নারী, সুগন্ধি এবং আমার চোখের শীতলতা বানানো হয়েছে সালাতকে।[৭০]
আমি জানি না, সে কি এ হাদিসটির কথা জানত না, নাকি মুসলিম সমাজে অপদস্থ ও লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় জানা থাকলেও উল্লেখ করেনি!
সে যতগুলো কথা বলেছে সবই নবিদের প্রতি মিথ্যা অপবাদ। আদম আলাইহিস সালাম কি নারীর কারণে অপরাধ করেছিলেন? সুলাইমান আলাইহিস সালাম নারীর কারণে জিনকে অনুগত করেছিলেন? লুত আলাইহিস সালাম নিষ্পাপ নবি হয়েও কি নেশাগ্রস্ত হয়েছিলেন? ইসা আলাইহিস সালাম কি আল্লাহর দেওয়া কোনো হদ রহিত করেছিলেন?
তাদের কারও বক্তব্য হলো, 'সমস্ত ধর্ম এই প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে, মানুষ মূলত কী ছিল? কীভাবে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? এ বিষয়ে মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি অলীক কল্পনার ঘূর্ণাবর্তে ঘূর্ণিপাক খাচ্ছে।'
বস্তুত এ কথার মাধ্যমে তারা সমস্ত দ্বীন-ধর্মকে উপহাস করেছে।
তাদের কেউ একজন বলেছে, 'সওয়াব, শান্তি, জান্নাত, জাহান্নাম এবং সাদা ও সবুজ ফেরেশতা বলতে কিছু নেই।'
যা আমাদের প্রতিষ্ঠিত আকিদা-বিশ্বাসের প্রতি স্পষ্ট তিরস্কার। কারণ, ইমানের সাতটি শাখার মাঝে ফেরেশতা ও পরকাল দিবসের প্রতি ইমান রাখা অন্যতম।
একজন বলেছে, 'আমি আত্মহত্যার পথ বেছে নিলাম। কেননা, আমি জাহান্নামকে নিজের জন্য নির্বাচন করেছি।'
জাহান্নামের অস্তিত্বকে অস্বীকারকারী কোনো ব্যক্তি কি জাহান্নামকে নিজের জন্য নির্বাচন করতে পারে! নাকি সে প্রকারান্তরে সেই আয়াতকে অস্বীকার করেছে, যাতে বলা হয়েছে, আত্মহত্যাকারীর প্রতিদান হলো জাহান্নাম?
তাদের একটি উপন্যাসে এর দলিলও রয়েছে। তারা মুসলিমদের সর্বস্বীকৃত আকিদার ওপর প্রশ্ন করে বলে, 'মুসলিমরা কি বলে না যে, কিয়ামতের দিন হিসাব শেষ হওয়ার পর মৃত্যুকে একটি দুম্বার আকারে হাজির করা হবে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝামাঝি স্থানে জবাই করা হবে? তারপর হাসতে হাসতে বলেছে, আমার কাছে এগুলো উদ্ভট কবিতা মনে হলো!'
এরপর বলেছে, 'হে অলিদ, তুমি কি জানো, আমাকে কোন বিষয় খুব বেশি অবাক করেছে? মৃত্যুরও কি মৃত্যু হতে পারে? যে প্রকৃত অর্থে মৃত্যু, তার মৃত্যু কীভাবে সম্ভব? যে মৃত্যু আমাদের মৃত্যু দেবে, সে কীভাবে নিজেই মারা যাবে?'
তারা মূলত এই উপন্যাসের মাধ্যমে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যস্থলে মৃত্যুর জবাইসংক্রান্ত হাদিসের মাঝে সংশয় সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়েছে, উপহাস করেছে এবং হাদিসটিকে উদ্ভট কবিতার সাথে তুলনা করেছে। অথচ হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-
عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَارَ أَهْلُ الْجَنَّةِ إِلَى الْجَنَّةِ وَأَهْلُ النَّارِ إِلَى النَّارِ جِيءَ بِالْمَوْتِ حَتَّى يُجْعَلَ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ ثُمَّ يُذْبَحُ ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ لَا مَوْتَ وَيَا أَهْلَ النَّارِ لَا مَوْتَ فَيَزْدَادُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فَرَحًا إِلَى فَرَحِهِمْ وَيَزْدَادُ أَهْلُ النَّارِ حُزْنًا إِلَى حُزْنِهِمْ .
ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন জান্নাতিরা জান্নাতে এবং জাহান্নামিরা জাহান্নামে চলে যাবে, তখন মৃত্যুকে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝামাঝি স্থানে হাজির করে জবাই করা হবে। তারপর একজন ঘোষক ঘোষণা করবে, হে জান্নাতিরা, আর কোনো মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামিরা, আর কোনো মৃত্যু নেই। এই ঘোষণা শুনে জান্নাতিদের আনন্দ বৃদ্ধি পাবে এবং জাহান্নামিদের বিষাদ বেড়ে যাবে।[৭১]
হাদিসটি যে কেবল বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত হয়েছে এতটুকুই নয়; বরং গোটা উম্মত হাদিসটিকে গ্রহণ করে নিয়েছে এবং প্রতিটি মুমিন এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেই মুমিন হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সর্ববিষয়ে শক্তিমান। তিনি চাইলে কোনো অন্তর্গত বিষয়কে বস্তুনিষ্ঠ এবং কোনো বস্তুনিষ্ঠ বিষয়কে অন্তর্গত বানাতে পারেন। তিনি যেভাবে চান বস্তুর আকৃতি দান করেন।
কিন্তু এই নাস্তিক লেখক উপন্যাসের মাঝে দুজন ব্যক্তির কথোপকথনে কুফরকে সংশয়ের আকারে উপস্থাপন করছে, যেন এটা পড়ে তরুণ প্রজন্ম সন্দেহে নিপতিত হয়।
'বানাতুর রিয়াজ' বা রিয়াদকন্যা উপন্যাসে বলা হয়েছে, 'লামিস নিশ্চিত, তার কোনো বান্ধবীই এ ব্যাপারে কোনো গুরুত্বারোপ করে না যে, ফাতিমা সুন্নি, সুফি, খ্রিষ্টান নাকি ইহুদি হবে; যে পরিমাণ গুরুত্বারোপ করে তাদের মধ্যে থেকে ভিন্ন ও আলাদা কিছু হওয়ার ব্যাপারে।'
ধর্মের বিভিন্নতার কারণে এবং দায়িত্ববোধ ও পাপমুক্ত না থাকার কারণে তাদের মাঝে এই অবজ্ঞাভাব সৃষ্টি হয়েছে।
আরেক ধর্মদ্রোহী মন্তব্য করেছে, 'গোটা মুসলিম সমাজ কপটতায় আক্রান্ত এবং দ্বীনদারির কলঙ্ক।' নাউজবিল্লাহ।
এই উপন্যাসগুলোর মাঝে এমন অবাককরা নানা বিষয় রয়েছে! নিজেরা মুনাফিক হয়ে গোটা মুসলিম সমাজের ওপর সেই অপবাদ চাপিয়ে নিজেদের দোষগুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে। যাকে বলে চোরের মায়ের বড় গলা।
কেউ তো দ্বীনের ইলম নিয়েও বিষোদগার করেছে। হিশাম ও তার বন্ধু আদনানের পারে সে বলেছে, 'তারা দুজন ছিল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। আর কুরআনে কারিম ও জবিদের পাঠ ছাত্রদের কাছে সবচেয়ে দুর্বোধ্য ও অপছন্দনীয়।'
কুরআন নিয়ে এই জ্ঞানপাপী মিথ্যুকের মিথ্যাচারের প্রতি লক্ষ করুন। সে দাবি করেছে যে, মৌলিকভাবে কুরআন কারিম খুব কঠিন। অথচ আল্লাহ তাআলা পরিষ্কার ইরশাদ করেছেন-
وَ لَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُّدَّكِرٍ.
আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, আছে কি কোনো চিন্তাশীল? [সুরা আল-কামার: ১৭]
আল্লাহর বান্দার কাছে কুরআন কারিম মৌলিকভাবে প্রাণের চেয়েও প্রিয়গ্রন্থ। এই ধর্মদ্রোহী নাস্তিকরা কীভাবে আল্লাহর কিতাবকে ভালোবাসবে? আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةً لِّلْمُؤْمِنِينَ * وَلَا يَزِيدُ الظَّلِمِينَ إِلَّا خَسَارًا .
আমি কুরআনে এমন বিষয় নাজিল করি, যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনদের জন্য রহমত। গুনাহগারের তো এতে শুধু ক্ষতিই বৃদ্ধি পায়।' [সুরা বনি ইসরাইল: ৮২]
অতএব, কুরআন কারিম দ্বারা এই জালিম পাপীদের কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তাআলার তাদের কথা ও কাজ থেকে আমাদেরকে হিফাজত করুন। আমিন।
জনৈকা আঞ্চলিক লেখিকা লিখেছে, 'দ্বীনের বিধানগুলো মানবজীবনের চারণভূমিতে দাবার গুটি চালা বৈ কিছু নয়।' নাউজুবিল্লাহ।
এটাকে ধর্মদ্রোহিতা, নাস্তিকতা ও কুফরি ছাড়া আর কীইবা বলা যেতে পারে?
আল্লাহ তাআলা এমন কথার নিন্দা করে ইরশাদ করেছেন-
كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِنْ يَقُوْلُوْنَ إِلَّا كَذِبًا
কত কঠিন তাদের মুখের কথা! তারা যা বলে তা তো সবই মিথ্যা। [সুরা আল-কাহফ : ৫]
অন্যত্র তাদের এমন অপরাধের পরও আল্লাহ ধৈর্যধারণ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন-
وَأُمْلِي لَهُمْ إِنَّ كَيْدِي مَتِينُ
আর আমি তাদের সময় দিই। নিশ্চয় আমার কৌশল মজবুত। [সুরা আল-কলাম : ৪৫]
তারা কি আল্লাহর এই কথাগুলো পড়ে না ও বোঝার চেষ্টা করে না? ইরশাদ হয়েছে—
إِنَّ بَطْشَ رَبَّكَ لَشَدِيدُ .
'নিশ্চয় তোমার পালনকর্তার পাকড়াও অত্যন্ত কঠিন। [সুরা আল-বুরুজ : ১২]
আরও ইরশাদ হয়েছে-
وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ .
আর তিনি প্রচণ্ড প্রতাপশালী।' [সুরা আর-রাদ : ১৩]
আল্লাহকে নিয়ে তারা এমন দুঃসাহসে কেন দেখাচ্ছে? আল্লাহর ফেরেশতাদের নিয়ে তারা এমন দুঃসাহস কেন দেখাচ্ছে? কেন এই দুঃসাহস দেখাচ্ছে আল্লাহর নাইনে নিয়ে? কেন তারা আল্লাহর আজাবকে তুচ্ছ ভাবছে? আল্লাহর তুলনায় সৃষ্টির কী এমন ক্ষমতা আছে?
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
وَ لَا تَحْسَبَنَّ اللهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّلِمُوْنَ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيْهِ الْأَبْصَارُ .
জালিমরা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহকে কখনও বেখবর মনে করো না। তাদের তিনি ওই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিয়ে রেখেছেন, যেদিন চক্ষুসমূহ বিস্ফোরিত হবে। [সুরা ইবরাহিম : ৪২]
আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
إِنَّ اللَّهَ لَيُمْلِي لِلظَّالِمِ حَتَّى إِذَا أَخَذَهُ لَمْ يُفْلِتْهُ قَالَ ثُمَّ قَرَأَ { وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبَّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ إِنَّ أَخْذَهُ أَلِيمٌ شَدِيدٌ }.
আল্লাহ তাআলা জালিমকে অবকাশ দেন। অতঃপর যখন তাকে পাকড়াও করেন, তখন তাকে আর সুযোগ দেন না। তারপর এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন-
আর তোমার রব যখন কোনো পাপপূর্ণ জনপদকে ধরেন, তখন এমনিভাবেই ধরে থাকেন। নিশ্চয় তার পাকড়াও খুবই যন্ত্রণাদায়ক, বড়ই কঠোর।[৭২]
অন্যত্র ইরশাদ করেছেন, যদি তারা তাওবা না করে, তাহলে কাফিরদের বিধানভুক্ত হবে। ইরশাদ হয়েছে-
قُلْ أَبِاللهِ وَ أَيْتِهِ وَ رَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِءُوْنَ، لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيْمَانِكُمْ إِنْ نَّعْفُ عَنْ طَائِفَةٍ مِّنْكُمْ نُعَذِّبْ طَائِفَةٌ بِأَنَّهُمْ كَانُوْا مُجْرِمِينَ
আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তার হুকুম-আহকামের সাথে এবং তার রাসুলের সাথে ঠাট্টা-কৌতুক করছিলে? ছলনা করো। তোমরা যে কাফির হয়ে গেছ ইমান প্রকাশ করার পর! তোমাদের মধ্যে কোনো কোনো লোককে যদি আমি ক্ষমা করে দিইও, তবুও অবশ্যই কিছু লোককে আজাবও দেবো। কারণ, তারা ছিল গুনাহগার। [সুরা আত-তাওবা: ৬৫-৬৬]
টিকাঃ
[৬৮] সহিহুল বুখারি: ১০/৪৬৫, হাদিস: ২৯৫৪
[৬৯] সহিহুল বুখারি: ২৩/১০, হাদিস: ৬৯৩৭, সহিহ মুসলিম: ১১/৩১০, হাদিস: ৪১৬৬
[৭০] নাসায়ি শরিফ: ১২/২৮৮, হাদিস: ৩৮৭৮-হাদিসটিকে শাইখ আলবানি রহ, সহিহ বলেছেন।
[৭১] সহিহুল বুখারি : ৬০৬৬, সহিহ মুসলিম: ৫০৮৯
[৭২] সহিহুল বুখারি: ৪৩১৮