📄 উপন্যাসের মাঝে নতুন সমীকরণ
এরপর ধীরে ধীরে আমাদের যুগে এসে মুসলিম উম্মাহকে তাদের দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের লেখনীর মাঝে জোরেসোরে এজেন্ডা বানিয়ে নতুন সমীকরণ আরম্ভ হয়েছে। এই সমীকরণের মাঝে তারা সূক্ষ্ম উপস্থাপনা, তত্ত্ব-উপাত্তের মারপ্যাঁচ, গোপনীয়তা ও ধোঁকাবাজির আশ্রয় গ্রহণ করছে।
এই সমীকরণ বাস্তবায়ন করার জন্য কিছু নতুন লেখক আত্মপ্রকাশ করেছে, যাদের লেখনীর মাঝে অনেক গল্প ও কাহিনি সংযোজন করা হয়েছে। মুসলিমদের প্রকাশনাগুলোতে তাদের জন্য পৃথক অবস্থানও তৈরি করা হয়েছে। এমনকি তাদের নামে ওয়েবসাইটও খোলা হয়েছে।
তাদের এই নতুন সমীকরণের যাবতীয় কার্যক্রম কুফরি ও ধর্মদ্রোহিতায় তো ভরপুর আছেই, উপরন্তু লেখকদের মাঝে না আছে ভাষাগত দক্ষতা, আর না আছে চিন্তার গভীরতা ও পোক্ততা। সমীকরণে অংশগ্রহণকারী লেখকদের মাঝে প্রশংসা পাওয়ার মতো কোনো প্রতিভা বা যোগ্যতার লেশমাত্র নেই। এত কিছুর পরও আমাদের স্বজাতীয় সাহিত্যিকরা তাদের ব্যাপারে বলছে, 'বিদগ্ধ ও প্রতিভাবান সাহিত্যিক'। আমরা অতিসত্বর এই নতুন সমীকরণের অসারতা ও তুচ্ছতার ব্যাপারে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
📄 পাশ্চাত্য দর্শনে আধুনিক গল্পকার হওয়ার উপায়
প্রথম পদক্ষেপ: আপনি এমন চিন্তা করুন, যা কোনো ব্যক্তিকে চিন্তিত করতে পারে না। যেন আপনার সেই চিন্তার জগৎ মানবজগৎ ছাড়া অন্যকিছু নিয়ে হয়। যেমন : দুই চড়ুই পাখির মাঝে গান, মিষ্টির টুকরো বহন করতে গিয়ে পিঁপড়ার মৃত্যু, পতনোন্মুখ গাছের পাতা ইত্যাদি।
দ্বিতীয় পদক্ষেপ : আপনার সামনে ঘটে যাওয়া কোনো দৃশ্য সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলুন। যেমন : আমার সম্মুখ দিয়ে সুন্দর একটি লাল পিঁপড়া চলছিল। তখন তার পিঠে সুস্বাদু মিষ্টির একটি টুকরো ছিল। হঠাৎই সেখানে কুৎসিত কালো কুশ্রী একটি পিঁপড়া এসে লাল পিঁপড়াকে হত্যা করে মিষ্টির টুকরো ছিনতাই করে নিয়ে গেল। এ ঘটনায় আমার খুবই কষ্ট হয়েছে।
তৃতীয় পদক্ষেপ : কোনো কিছুকে নির্দিষ্ট করতে পারে এমন নামগুলো এড়িয়ে চলুন। যেমন : আমার সম্মুখ দিয়ে সুন্দর একটি লাল প্রাণী চলছিল। তখন তার পিঠে সুস্বাদু মিষ্টির একটি টুকরো ছিল। হঠাৎই সেখানে কুৎসিত কালো কুশ্রী একটি প্রাণী এসে লাল প্রাণীকে হত্যা করে মিষ্টির টুকরো ছিনতাই করে নিয়ে গেল। এ ঘটনায় আমার খুবই কষ্ট হয়েছে।
দেখুন, এখানে কিন্তু পিঁপড়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
চতুর্থ পদক্ষেপ: এমন প্রতিটি বিষয় এড়িয়ে চলুন, যার দ্বারা পাঠক মূল ঘটনা বুঝতে পারে। যেমন : আমার সামনে চলছিল। কুশ্রীটি তাকে আক্রমণ করে তার প্রাণবধ করল। এ নিয়ে আমার খুব কষ্ট হয়েছে।
লক্ষ করুন, শুধু এই আলোচনাটুকুর মাধ্যমে মূল ঘটনার কিছুই বোঝা যায় না।
পঞ্চম পদক্ষেপ : ক্রিয়ার কর্তাকে অজ্ঞাত রেখে ঘটনা তুলে ধরুন। এটি একটি মৌলিক বিষয়। যেমন: তাকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া হলো। তার সাথে প্রতারণা করা হলো। তার জীবননাশ করা হলো। এ চিন্তা আমাকে নিস্তব্ধ করে দিয়েছে।
বুঝতে চেষ্টা করুন, এখানে বস্তুকে নির্ধারণ করে কথা বলা হয়নি।
ষষ্ঠ পদক্ষেপ : জাতিগত বৈশিষ্ট্য যুক্ত করুন। যেমন : সে উন্মুক্ত হয়ে মৃত্যুর দিকে ছুটল। মৃত্যু তার বক্ষে আঘাত করল, তার সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ার পূর্বেই। এ চিন্তা আমাকে আঘাতে জর্জরিত করেছে।
সপ্তম পদক্ষেপ : যা লিখেছেন তা পড়ুন। যদি নিজের লেখা নিজে বুঝতে পারেন, তাহলে আবার লেখার চেষ্টা করুন। কারণ, লেখাটি প্রকাশের উপযোগী হয়নি। আর যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে চিন্তিত হবেন না। কেননা, লেখাটি প্রকাশের উপযোগী হয়েছে।
অর্থাৎ আপনার কথা যদি বোধগম্য হয়, তাহলে তা প্রকাশের উপযোগী হয়নি। আর যদি বোধগম্য না হয়, তাহলে এই উদ্ভূত বিষয় প্রকাশের উপযোগী হয়েছে।
তারা সাতটি ধারার কথা উল্লেখ করেছে, তাতে এ কথা দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার হয়েছে যে, তাদের প্রথম উদ্দেশ্য হলো সত্যকে গোপন করা। আর দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো, মর্ম, মাকসাদ ও অর্থহীন এমন কথা বলা ও প্রচার করা, যেগুলোর মর্ম, মাকসাদ ও অর্থ উদ্ধারের পেছনেই পাঠকের অনেক সময় নষ্ট হয়ে যাবে। অর্থোদ্ধারে সৃষ্টি হবে মতবিরোধ, যাতে কেটে যাবে সময়ের আরও বড় একটি অংশ। তাদের এই প্রবঞ্চনাপূর্ণ কাজগুলো সাহিত্য, ভাষা ও শরিয়ত—সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকেই গর্হিত ও পরিত্যাজ্য।
📄 আন্তর্জাতিক ফিতনার বহিরাগত সমর্থন
পেছন থেকে ইহুদিরা এ জাতীয় লেখকদের সারা পৃথিবীর সভ্য দেশগুলোতে নিজেদের সাহিত্যগত এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহার করছে। তাদের সাহিত্যগত এজেন্ডা ও প্রক্রিয়া কিছু কিছু মুসলিমের মাঝে এমন শক্তিশালী প্রভাব সৃষ্টি করছে যে, তাদেরকে নাস্তিকতা ও ধর্মদ্রোহিতায় বাধ্য করছে। যেমন-
নভেল এজেন্ডা : ইহুদিদের বড় একটি দল এটি নিয়ন্ত্রণ করছে। যার মৌলিক সরঞ্জামই হলো নাজিব মাহফুজ কর্তৃক সংকলিত বাতিল ও প্রত্যাখ্যাত উপন্যাসগুলো। এই নাজিব মাহফুজ আমাদের সন্তান হয়ে আমাদের পেরেশান করে রেখেছে। তারা অন্য সব উপন্যাস বাদ দিয়ে এমন উপন্যাস কেন গ্রহণ করে, যা দ্বীনকে নিয়ে উপহাস করে?
তারা কেবল এমন লোককেই কেন নির্বাচন করে, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে?
বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এই নাজিব মাহফুজ একবার বলেছে যে, 'এই এজেন্ডার পেছনে রাজনৈতিক পদক্ষেপ রয়েছে। আমি এখনই সেগুলো ব্যক্ত করলে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাবে।' চিন্তার বিষয় হলো, তাদের এজেন্ডায় এমন কী কী বিষয় রয়েছে, যেগুলো প্রকাশ হলে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাবে? আবার সেগুলো গ্রহণ করার জন্য সাধারণের মাঝে আহ্বান করা হয়েছে! আবার দৃঢ়ভাবে এগুলো সফল হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে!
ঔপন্যাসিক নাওয়াল সাদাবি বলেন, 'এই নভেল এজেন্ডা মূলত রাজনৈতিক এজেন্ডা। এই এজেন্ডাগুলোর অধিকাংশই চিন্তাগত।' তারপরও দেখি, কিছু মানুষ এই নভেলগুলোর প্রতি চরমভাবে আকৃষ্ট।
আমাদের পেরেশানকারী যেই নাজিবকে এই এজেন্ডা দেওয়া হয়েছে, সে 'নিটো' নামের পাশ্চাত্যের এমন একজন লেখকের অনুকরণ করছে, যে মানুষকে 'প্রভু মারা গেছেন' মতাদর্শের দিকে আহ্বান করছে। (নাউজুবিল্লাহি মিন জালিকা)
তো এই ঔপন্যাসিক নাজিব মাহফুজ নিজে তো আল্লাহ ও নবি-রাসুলগণ সম্পর্কে কটূক্তি করছেই, উপরন্তু নিজের সন্তানদের এমন সব সূক্ষ্ম তথ্য উদঘাটন করার জন্য দাঁড় করিয়েছে, যা কেবল পেরেশানিই সৃষ্টি করবে। তারা আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে তুর পাহাড়সংক্রান্ত ইতিহাস নিয়ে মিথ্যা তথ্য উদঘাটন ও তৈরিকরণে লিপ্ত। আল্লাহ তাআলা তাদের এমন বানোয়াট কথার অনেক ঊর্ধ্বে এবং এগুলো থেকে পবিত্র।
তারা তুর পাহাড়কে বানিয়েছে মুসা আলাইহিস সালামের গোপন তথ্য এবং সাপসংক্রান্ত মুজিজার সূত্রও নির্ধারণ করেছে এই পাহাড়কেই। রিফাইকে বানিয়েছে ইসা আলাইহিস সালামের গোপন তথ্য এবং গণ্য করেছে সুযোগসন্ধানীদের মধ্যে। কাসিমকে বানিয়েছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোপন তথ্য। তারা কাসিম শব্দের মাধ্যমে এমন ব্যক্তিকে বোঝায়, যে রক্তের হোলি খেলে, মাদকে লিপ্ত থাকে এবং নানাপ্রকার পাপাচারিতায় জড়িয়ে পড়ে।
পাহাড়সংশ্লিষ্ট উপন্যাসগুলোর প্রায় সবই আল্লাহ, তাঁর নবি ও রাসুলগণের সাথে উপহাসে ভরা। এমনকি তার উপন্যাসের সমাপ্তি টানা হয় (তাদের ভাষায়) আল্লাহর মৃত্যুসংক্রান্ত গল্পের মাধ্যমে। (নাউজুবিল্লাহি মিন জালিকা)
সুইডেনীয় ভাষায় তার এই উপন্যাসের অনুবাদ করা হয়েছে 'প্রভুর মৃত্যু' নামে। সুইডেনের একাডেমিক এজেন্ডার একটি নিবন্ধে প্রকাশিত হয়েছে, নাজিব মাহফুজ সেখানে 'প্রভুর মৃত্যু' সংক্রান্ত একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে উত্তরদাতার পদে আমন্ত্রিত ছিল। যা এ কথা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে, তার উপন্যাসগুলোর সাথে পাশ্চাত্যের যোগসূত্র রয়েছে।
গনকোর্ট এজেন্ডা : এটা মূলত ফ্রান্সীয় এজেন্ডা। এটা কেবল সেসব গল্পকর্মের জন্য বাজেট করা হয়, এডমন্ড গনকোর্ট বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে যেগুলোর অনুমোদন দেয়। আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর পূর্বে এই এজেন্ডার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। যার প্রথম অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিল পাশ্চাত্যবাদী নাস্তিক 'ইবনে জালুন'। এই পরিপ্রেক্ষিতে এমন সব উপন্যাস লেখা হয়েছিল, যা কঠিন কুফরি ও ধর্মদ্রোহিতার মূল উৎস ছিল।
পদ্ম এজেন্ডা: এশিয়া ও আফ্রিকার লেখকরা এর সাংগঠনিক অনুমোদন দিয়েছিল। এটা মূলত আন্তঃচিন্তীয় সেবার কাজে নিয়োজিত। এ কাজে আরবের কিছু লেখককেও তারা সহকর্মী হিসেবে পেয়ে যায়। মার্ভে, ফিলিস্তিনসহ আরও কয়েকটি মুসলিমদেশের কিছু লেখককে তারা নিজেদের জালে ফাঁসাতে সফল হয়।
প্রাচ্যীয় ও পাশ্চাত্যীয় নাস্তিকরা তাদের সন্তানদের হৃদয় থেকে ইসলাম ছিনিয়ে নেওয়ার কুচিন্তায় বিভোর ছিল। সুতরাং তারা আরবের পচা মানুষগুলোকে নিজেদের বিষাক্ত থাবা অব্যর্থ করার কাজে সহযোগী হিসেবে নির্বাচন করেছিল। এমন কিছু লোককেও তারা বাছাই করে, যারা বাহ্যিকভাবে ইসলামি অনুশাসন মেনে চললেও প্রকৃত ইসলামপ্রিয় ছিল না। এদের মাধ্যমেই পাশ্চাত্যবাদীরা ইসলাম ধ্বংসে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার ষড়যন্ত্রের লিপ্ত ছিল। এ কাজে সহযোগী হিসেবে তারা নিজেদের তৈরি গল্প ও উপন্যাস ব্যবহার করত।
এই নোংরা পদ্ধতিতে তারা খুব সহজভাবে শরিয়তের বিধিবদ্ধ বিষয়গুলোকে রুদ্ধ করার এবং একত্ববাদবিরোধী, চরিত্রবিনাশী, সুসভ্যতা ধ্বংসকারী ও যাবতীয় উপকারী বিষয়বিরোধী নোংরামি প্রচার-প্রসার করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
📄 অপরাধের কিছু হালাল বাহানা
আরবের অনেক ধর্মদ্রোহী ও পাপাচারী তাদের ভ্রষ্ট চিন্তাকে মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য এই বাজে উপন্যাসগুলোকে বাহন হিসেবে গ্রহণ করেছে। কেননা, তারা জানে যে, অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের ভ্রান্ত চিন্তাগুলো পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করতে পারবে না। সুতরাং তারা নিজেদের ভ্রষ্ট চিন্তার বাহক ও প্রচারক হিসেবে ওই উপন্যাসগুলো গ্রহণ করেছে।
তাদের আরেকটি নোংরা পদ্ধতি ছিল, নিজেদের কথাগুলো গল্পকারদের নামে গলিয়ে দিত আর বলত, আমরা তো এমন বলিনি; বরং অমুক গল্পকার এভাবে বলেছেন। আমরা তো কেবল তাদের কথাগুলো উদ্ধৃত করছি। আর এই মূলনীতি তো কারও অজানা থাকার কথা নয় যে, কুফরির উদ্ধৃতিকারী কাফির নয়।
এই মূলনীতির মাধ্যমে তারা মূলত আল্লাহ তাআলা এবং মুমিনদের ধোঁকা দিতে চায়। আল্লাহ তাআলা তাদের ধোঁকার জবাবে আগেই বলে রেখেছেন—
يُخْدِعُوْنَ اللَّهَ وَالَّذِيْنَ آمَنُوْا ۚ وَمَا يَخْدَعُوْنَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُوْنَ .
তারা আল্লাহ ও ইমানদারদের ধোঁকা দেয়। বস্তুত তারা কেবল নিজেদেরই ধোঁকা দিয়ে থাকে; যদিও তারা তা অনুভব করতে পারে না। [সুরা আল-বাকারা: ৯]
এদের উপমা দেওয়া যেতে পারে সেই ইঁদুরের সাথে, যে তার গর্তের দুটি মুখ তৈরি করে রাখে। একটা মুখ তৈরি করে আগমন প্রস্থানের জন্য, আরেকটি মুখ তৈরি করে রাখে দ্বিমুখী সংকটের সময় পালানোর জন্য।
আর এই নাস্তিকেরা কুফরি ও পাপাচারে প্রবেশ করে এবং প্রকাশ্যে তার প্রচারণাও চালায়। কিন্তু যখন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়, তখন বলে, 'আমরা তো কুফরির উদ্ধৃতকারী মাত্র, আসলে কাফির নই।
তাদের একজন বলেছে, 'এক কাজের দুদিক-আল্লাহ ও শয়তান।'
এ কথা বলার পর নিজের কুফরির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে, 'আমি কথাটি অমুক ব্যক্তির আলোচনা থেকে উদ্ধৃত করে বলেছি।'
প্রিয় ভাই, একটু ভাবুন তো, কে এই ব্যক্তিকে আবিষ্কার করেছে!? কে কথাগুলো এভাবে লিখে তার প্রচারণা চালাচ্ছে?
আপনি কি ভাবছেন, কথাগুলো আবু জাহাল, আবু লাহাব বা সরাসরি শয়তানের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে? নাকি ওই ব্যক্তিই নিজের পক্ষ থেকে এই ধরনের বাজে কথা বলার পর অন্যের উদ্ধৃতির দোহাই দিচ্ছে?
সে যদি তার দাবি অনুযায়ী অন্যের কথা উদ্ধৃত করার বিষয়টিতে সত্যবাদীই হয়ে থাকে, তাহলে সে এই ভ্রান্ত কথাটি উদ্ধৃত করা পর তার অপনোদন করেছে কি? নাকি তাদের কথার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে মেনে নিয়েছে এবং তার কোনো প্রকার প্রতিবাদ করেনি?
মূলত এই প্রকারের প্রবন্ধ ও নিবন্ধগুলোর মাধ্যমে তারা নিজেদের নাস্তিকতা ও পাপাচারিতার স্বীকারোক্তি প্রদান করে, শরিয়তের মূলনীতি থেকে দূরে চলে যায় এবং দেয়ালের আড়ালে গিয়ে লুকিয়ে তাদের গডফাদারদের কথার উদ্ধৃতিতে আল্লাহর দেওয়া শরিয়ত ও তার পথের দাঈদের প্রতিহত করার অপপ্রয়াস চালায়। যার মূল চালিকাশক্তি হলো, 'কুফরির উদ্ধৃতিকারী কাফির নয়'–এই অসম্পূর্ণ মূলনীতি। তাদের পথিকৃতরাও তাদের পক্ষে যুক্তির আলোকে প্রমাণ পেশ করার চেষ্টা করে।
একজন জ্ঞানবান মুসলিম দাঈ হিসেবে তাদের সংশয়গুলো দমন করার চেষ্টা করতে হবে। সুতরাং যখন কোনো মুনাফিক সুলাইমান আলাইহিস সালামের প্রতি উপহাস করে বলবে, 'অলিমা তো সামুদ্রিক হিংস্র প্রাণীর জন্য'। এরপর এই কপটতাকে আড়াল করার জন্য তারা বলবে, 'উক্ত উপন্যাসের মাঝে নাস্তিকতাসূলভ তোমরা যে কথাগুলো দেখছ, সেটা তো লেখকের কথা নয়; বরং এটা অমুক গল্পকারের কথার উদ্ধৃতি।'
তখন তার জবাবে বলা হবে, 'ভালো তো, কোনো সমস্যা নেই। এবার তোমাদের সামনে এমন গল্প উপস্থাপন করব, যার মাঝে তোমাদের লেখক ও গবেষকদের আমরা গালি দেব। অতঃপর তোমাদের কেউ যখন আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবে, তখন বলব, আমি তো এ কথার প্রবক্তা নই; বরং অমুক গল্পকার বলেছে, আর আমি সে কথাই উদ্ধৃত করেছি।' তখন এই কপট কাফির বাকরুদ্ধ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এটা তো গেল তার্কিক জবাব। এবার শরিয়তের আলোকে দালিলিক জবাব শুনুন! তাদেরকে বলব–
প্রথমত: 'কুফরির উদ্ধৃতকারী কাফির নয়'–মূলনীতিটি এই শর্তে গ্রহণীয় যে, উদ্ধৃতি শ্রবণকারীর সামনে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে যে, আমি এই কথার প্রবক্তা নই' কিন্তু এই মুনাফিকদের পক্ষ থেকে এমন পরিষ্কার ঘোষণা তাদের বইয়ে উল্লেখ নেই।
দ্বিতীয়ত: এই কুফরি ও ফাসাদপূর্ণ কথাগুলো তাদের ভাষায় এমন স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে কুফরিমূলক কথাই বলা হচ্ছিল এবং তারা কুফরির পক্ষেই প্রমাণ পেশ করছিল। সাধারণ পাঠকের সামনেও তা অস্পষ্ট থাকার কথা নয়।
তৃতীয়ত: অধিকাংশ আলোচকরা তাদের আলোচনার ভূমিকাতেই পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছে যে, তারা ব্যক্তিগতভাবেই এই কথাগুলো বলেছে, অথবা এভাবে বলেছে যে, এগুলো তাদের আত্মজীবনী। কিন্তু যখনই তাদের গল্পগুলো বাতিল বলে প্রমাণিত হয়েছে, তখনই নিজেদের সম্পৃক্ততা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
অতএব, আমরা সংশোধিতরূপে আলোচ্য মূলনীতিটির ব্যাপারে বলব, 'কুফরির উদ্ধৃতকারীর কাফির হওয়া জরুরি নয়। তবে যখন কুফরি উদ্ধৃত করে তা স্বীকার করে নেবে, তখন নিশ্চিতভাবে সে কাফির হয়ে যাবে। এরপর সে মেনে নিক বা অস্বীকার করুক, তাতে কিছু আসে যায় না।'