📄 দ্বিতীয় ঘটনা
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, জনৈক ব্যক্তি একটি কুকুরকে পিপাসার তাড়নায় তড়পাতে দেখে নিজের পায়ের মোজা খুলে কূপ থেকে পানি তুলে কুকুরকে পান করাল। একপর্যায়ে তাকে সুস্থ দেখে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করল। এই কাজের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাত দান করেছেন। [৬৪]
টিকাঃ
[৬৪] সহিহুল বুখারি : ১/২৯৯, হাদিস : ১৬৮
📄 তৃতীয় ঘটনা
জনৈক মহিলা গির্জায় [৬৫] ইবাদতরত তার ছেলেকে ডাকলেন— জুরাইজ, জুরাইজ বললেন, মা আমি সালাত পড়ছি। (এখন আসতে পারব না) তখন তার মা বললেন, হে আল্লাহ, জুরাইজ যেন কোনো পতিতার চেহারা দেখার পূর্বে মারা না যায়। পরবর্তী সময়ে জনৈক পতিতা তার গির্জায় গিয়ে জুরাইজের অজ্ঞাতে ছাগলের রাখালের সাথে কুকর্ম করে। এর ফলে উক্ত পতিতা যখন সন্তান প্রসব করল, তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, সন্তানটি কার? পতিতা জবাব দিল, জুরাইজের। জুরাইজ জিজ্ঞেস করলেন, সে মহিলাটি কোথায়, যে বলছে, তার সন্তানটি না কি আমার? এরপর সেই সন্তানকে জুরাইজ জিজ্ঞেস করলেন, বাবু, বলো, তোমার পিতা কে? সন্তান বলল, অমুক রাখাল আমার পিতা। [৬৬]
এগুলো নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র জবানে বর্ণিত ঘটনা। যদি কোনো ব্যক্তি কেবল কুরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত ঘটনাগুলো খুঁজে খুঁজে লিখতে চায়, তাহলে বিশালাকারের গ্রন্থ হয়ে যাবে। যদি তার সাথে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনচরিত যোগ করতে চায়, তাহলে তাতে শত ভাগ সফল হতে তার জীবনের সবটুকু সময়ও কম হয়ে যাবে। আর যদি সাহাবায়ে কিরাম, তাবিয়িন, তাবি তাবিয়িন ও সালাফে সালিহিন থেকে যেগুলো বর্ণিত আছে, সেগুলো লিখতে চায়, তাহলে তো জীবনের ব্যস্ততম সুদীর্ঘ কয়েক যুগ লেগে যাবে।
এটাই আমাদের মহান শরিয়ত, যা স্বভাবজাতভাবে গল্প ও কাহিনি শোনানোর জন্য সুন্দর ব্যবস্থা করেছে। মানবজীবনে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহের বিশাল দাস্তান উপহার দিয়েছে। তবে এগুলো শুধুই রূপকথার মতো বর্ণিত হয়নি; বরং কুরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত প্রতিটি ঘটনার মাঝে রয়েছে শিক্ষা, দীক্ষা এবং উপদেশের ন্যায় অগণিত উপকার। সেই সাথে এগুলোর মাঝে সমাজ সংস্কারের ন্যায় গতিময় চেতনারও বীজ বপন করা হয়েছে বারেবার।
টিকাঃ
[৬৫] খ্রিষ্টানদের উপাসনালয়কে গির্জা বলা হয়। ইসলাম আসার পূর্বে খ্রিষ্টধর্মই ছিল সঠিক ধর্ম। ইসলাম আসার পর এ ধর্মের কার্যকারিতা ও বিধিবিধান রহিত হয়ে গেছে। -সম্পাদক
[৬৬] সহিহুল বুখারি : ৪/৪০৪