📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 টেলিভিশনে ফুটবল ম্যাচ দেখা

📄 টেলিভিশনে ফুটবল ম্যাচ দেখা


জিজ্ঞাসা : স্থানীয় হোক বা বাইরের হোক টেলিভিশনে ফুটবল ম্যাচ দেখা হারাম না কি হালাল?
জবাব : যে ফুটবল ম্যাচ কোনো প্রকার বিনিময়ের ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত হবে তা হারাম। কেননা, তা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। কেবল এমন বিষয়ের বিনিময়েই অর্থ গ্রহণ করা জায়িজ, শরিয়ত যার অনুমোদন দিয়েছে। যেমন: ঘোড়দৌড়, উটদৌড় ও তিরন্দাজি। এ পরিপ্রেক্ষিতেই বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি জানে, অর্থের বিনিময়ে খেলা হচ্ছে, তাদের জন্য এ ধরনের ফুটবল ম্যাচে উপস্থিত হওয়া এবং দেখাও হারাম। কারণ, এই ধরনের খেলা দেখা এবং সেখানে উপস্থিত থাকা মূলত জুয়াকে সমর্থন করার নামান্তর।
তবে যে ফুটবল ম্যাচে বিনিময় থাকবে না, থাকবে না শরিয়ত-গর্হিত কাজ-আচরণ- বিচরণ এবং যা কোনো সালাত, সাওম ইত্যাদি ফরজ থেকে বিমুখ করবে না, সতর অনাবৃত হবে না, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা হবে না এবং হারাম মিউজিক ইত্যাদি থাকবে না; এমন ফুটবল ম্যাচ দেখা এবং সেখানে উপস্থিত থাকাতে কোনো সমস্যা নেই।
আল্লাহর কাছেই তাওফিক চাচ্ছি সমস্ত হারাম বিষয় থেকে দূরে থাকার জন্য। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তার পরিবার-পরিজন এবং তার সকল সাহাবির প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমিন।[৫৯]
শাইখ ইবনে উসাইমিন রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, হাফপ্যান্ট পরিধান করে কোনো ক্রীড়ানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা এবং তাদের দেখার বিধান কী?
তিনি জবাব দিয়েছিলেন, কোনো ক্রীড়ানুষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক রাখা কেবল তখনই জায়িজ, যখন কোনো ওয়াজিব বিধান লঙ্ঘিত হবে না। আর যদি কোনো ওয়াজিব বিধান লঙ্ঘিত হয়, তাহলে তা হারাম। তবে যদি কোনো মানুষ এমন পর্যায়ে না যায়, সময় নষ্ট না করে এবং খুব কমই খেলাধুলায় মগ্ন হয়, তাহলে তার জন্য জায়িজ আছে।
কিন্তু যখন কোনো ক্রীড়ামোদি কেবল হাফপ্যান্টই পরিধান করে, যার কারণে তার উরু বা ঊরুর অধিকাংশই উন্মুক্ত থাকে, তাহলে কোনোক্রমেই তা জায়িজ হবে না। কেননা, বিশুদ্ধ অভিমত হলো, যুবকদের জন্য তাদের উরু খোলা রাখা হারাম ও আবৃত রাখা ওয়াজিব। ঠিক তেমনিভাবে এমন খেলোয়ারদের খেলা দেখাও হারাম, যারা উরু খোলা রেখে খেলায় অংশগ্রহণ করে।
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে-
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ .
মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য হলো, সে অনর্থক বিষয় পরিহার করবে।[৬০]
শাইখ আলবানি রহ. হাদিসটি সহিহ বলেছেন।[৬১]

টিকাঃ
[৫৯] ফাতাওয়াল লাজনাতিদ দায়িমা: ১৫/২৩৯
[৬০] সুনানুত তিরমিজি: ৮/২৯৪
[৬১] সহিহ জইফ তিরমিজি: ৫/৩১৭

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 কাল্পনিক উপন্যাস পড়া

📄 কাল্পনিক উপন্যাস পড়া


জিজ্ঞাসা: এমন কাল্পনিক উপন্যাস পাঠ করা কি জায়িজ আছে, যেগুলোতে মানবজগৎ সৃষ্টি, প্রাণী ও মানুষের বিবর্তনের কথা বলা হয়?
জবাব : যদি সেই উপন্যাস ও গল্পগুলোর মাঝে মিথ্যা, শরয়ি মূলনীতির পরিবর্তন- পরিবর্ধন, অভিজ্ঞতালব্ধ ও পরীক্ষিত ইলমি বিষয়ের বিকৃতি বিদ্যমান থাকে; যেমন : ডারউইনের বিবর্তনবাদ ইত্যাদি, তাহলে এ ধরনের উপন্যাস ও গল্প এড়িয়ে চলা প্রতিটি মুসলিমের জন্য একান্ত অপরিহার্য। এগুলো না পড়ে উপকারী কোনো বিষয়ে আত্মনিয়োগ করবে। যেমন: শরিয়ত-অনুমোদিত কোনো জ্ঞান অর্জন, নেক কাজ করা, বাস্তবানুগ ঘটনাসমূহ পড়া, ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য ঘটনাবলি পাঠ করা ইত্যাদি।
অনেক ফিল্ম ও উপন্যাস এমন রয়েছে, যেগুলো খিয়ালি ইলম বা 'কল্পবিজ্ঞান' বলে। এগুলোর মাঝে অনেক কুফরি বিষয় থাকে। যেমন: জীবন ও মরণের ক্ষমতা মানুষের হাতে থাকা, অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে নিয়ে আসার সক্ষমতা রাখা এবং বিশ্বাস করা যে, বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে যেকোনো অনস্তিত্বকে অস্তিত্ব দান করতে পারে, জীবনকে কোনো জড় বস্তু বা মৃত ডিমের অন্দরে হাজার হাজার বছর যাবৎ সংরক্ষণ করে রাখতে পারে, ভবিষ্যৎসময়ের মাঝে প্রবেশ করতে পারে, আবার অতীতের মাঝে ফিরে আসতে পারে ইত্যাদি। তো এসব কাজ নিঃসন্দেহে অসম্ভব, কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। কেননা, অদৃশ্যের বিষয় আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানে না।
কিছু ফিল্ম ও উপন্যাস এমনও রয়েছে, যেগুলো পরস্পরে সাংঘর্ষিক। কিছু আছে মানব সৃষ্টির ইতিহাস ও পৃথিবীতে তাদের জীবন সৃষ্টির ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত স্পষ্ট এনার ঐতিহাসিক বাস্তবতার পরিপন্থি।
অতএব, মুসলিমরা এমন উপন্যাস পাঠে কেন জড়াবে, যা তাদের আকিদাকে বিনষ্ট করবে, কিংবা কমপক্ষে সময় নষ্ট করবে এবং তাকে এমন কাজে মগ্ন করবে, যাতে তার কোনো উপকার নেই।
যদি কেউ বলে, এগুলো আনন্দ-উল্লাস ও বিনোদনের জন্য পাঠ করি, তাহলে তাকে বলব, হারাম জিনিস দ্বারা বিনোদন গ্রহণ করা হারাম। আর মুসলিমজীবনের প্রতিটি মুহূর্ত এই অধিকার সংরক্ষণ করে যে, তার একটি কণাও নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। যেমন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ .
মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য হলো, সে অনর্থক বিষয় পরিহার করবে।[৬২]

টিকাঃ
[৬২] সুনানুত তিরমিজি : ৮/২৯৪

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 শরিয়তের দৃষ্টিকোণে গল্প শুধু গল্পই নয়

📄 শরিয়তের দৃষ্টিকোণে গল্প শুধু গল্পই নয়


আল্লাহ তাআলা তাঁর নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন জাতির কাছে প্রেরণ করেছেন, যাদের বিশেষ কোনো ব্যবসা, কারিগরি, রাজনীতি কিংবা কৃষির মাধ্যমে বিশেষত্ব প্রদান করেননি; বরং তাদের বিশেষত্ব দান করেছেন সাহিত্যনির্ভর অলংকারপূর্ণ ভাষায়।
যেহেতু আল্লাহ তাআলার নীতি হলো, নবিদের তিনি এমন মুজিজা দিয়ে তার জাতির নিকট প্রেরণ করেন, যে বিষয়ে তাদের জাতি শীর্ষস্থান দখল করে থাকে; ঠিক সেই নীতি অনুসারেই নবিজি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মুজিজা হিসেবে এমন একটি গ্রন্থ দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যা তার সাহিত্যের মাধ্যমে আরবের সাহিত্যিকদের হতভম্ব করে দিয়েছে এবং ভাষা অলংকারের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করে তাদের অলংকার শাস্ত্রবিদদের করে দিয়েছে লা-জবাব।
গ্রন্থটি অলংকারশাস্ত্রের প্রতিটি প্রকার ও অভিধানশাস্ত্রের প্রতিটি শাখায় শীর্ষস্থানে অধিষ্ঠিত। ইশারা-ইঙ্গিত, মৌলিক-রূপক, সুদীর্ঘ-অদীর্ঘ, উপমাসমৃদ্ধ এবং উপমাহীন ইত্যাদি প্রতিটি বিষয় এতে শত ভাগ প্রাসঙ্গিকতাসহ উল্লিখিত হয়েছে।
এই গ্রন্থটি নিজের মাঝে যতগুলো বিষয় পরিব্যাপ্ত করে রেখেছে 'কুরআনের কাহিনি' তন্মধ্যে অন্যতম। যেগুলো তার সাহিত্যমান, শব্দচয়ন, শব্দবিন্যাস, অর্থ সঞ্চালন ও লক্ষ্য নির্ধারণে আরবের সাহিত্যিকদের অক্ষম প্রমাণিত করেছে।
কুরআনি গল্পগুলো এমন অলীক কোনো কাহিনি নয় যে, তার দ্বারা কেবল বিনোদন ও সময় কাটানোই উদ্দেশ্য; বরং সেগুলো সত্যের পথে দাওয়াত এবং সত্য-দীক্ষার মাধ্যম হবে। অতএব, সেগুলো উপদেশসমৃদ্ধ ও শিক্ষণীয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে ইরশাদ করেছেন—
لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ .
তাদের কাহিনিতে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে শিক্ষণীয় বিষয়। [সুরা ইউসুফ : ১১১]
এই কাহিনিগুলো হয় দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার বলিষ্ঠ মাধ্যম; যেমন : কুরআনে কারিমের অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
وَكُلًّا نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ .
আর আমি রাসুলগণের সব বৃত্তান্তই আপনাকে বলছি, যদ্বারা আপনার অন্তরকে মজবুত করছি। [সুরা হুদ : ১২০]
এগুলো এমন ঘটনা, যার মাঝে মিথ্যা ও বানোয়াটির কোনো লেশ নেই। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا .
আল্লাহর চেয়ে বেশি সত্যবাদী কে আছে? [সুরা আন-নিসা : ৮৭]
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে—
مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَى وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ .
এটা কোনো বানানো রচনা নয়; বরং এটা আগের গ্রন্থে যা আছে তার সত্যায়ন ও বিশদ বিবরণ, আর মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য নির্দেশনা ও অনুগ্রহ। [সুরা ইউসুফ: ১১১]
এখানেই শেষ নয়; বরং কুরআনে কারিমে বর্ণিত ঘটনাবলিই সবচেয়ে সুন্দর কাহিনি। ইরশাদ হয়েছে—
نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ، وَإِنْ كُنْتَ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَافِلِينَ
অহির মাধ্যমে এ কুরআন অবতীর্ণ করে আমি আপনার কাছে সেরা ঘটনা বর্ণনা করেছি। যদিও এর আগে আপনি অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। [সুরা ইউসুফ: ৩]
যেহেতু কুরআনে কারিমে বর্ণিত গল্পগুলোর মাঝে অনেক উপকার রয়েছে, তাই তিনি স্বীয় নবিকে এই ঘটনাগুলো মানুষের সামনে বর্ণনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে—
فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ .
অতএব, আপনি বর্ণনা করুন এসব কাহিনি, যাতে তারা চিন্তা করে। [সুরা আল-আরাফ : ১৭৬]

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 মুসলিম জনপদে গল্প ও উপন্যাসের আবির্ভাব

📄 মুসলিম জনপদে গল্প ও উপন্যাসের আবির্ভাব


ইসলামি শাসনের মধ্যযুগে এসে বিভিন্ন স্থানের কাহিনি নিয়ে আরবি সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। যেমন: মাকামাতে হামদানি, মাকামাতে হারিরি, রিসালাতুল গুফরান ইত্যাদি এই সময়েই রচিত হয়।
সাথে সাথে মানুষ আরবি সাহিত্য ছাড়াও কিছু গল্প-দাস্তানের সাথে পরিচিত হয়। যেমন : কালিলা ওয়া দিমনা, আলফু লাইলা, লাইলা ইত্যাদি। তবে এ ধরনের গল্পগুচ্ছকে আমি নিয়মতান্ত্রিক বিষয়ভিত্তিক গল্প বলতে পারব না। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ও বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে আরববিশ্বে এমন কিছু সাহিত্যিকের আবির্ভাব ঘটে, যারা গল্প ও উপন্যাসের প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন। সুতরাং তারা এ বিষয়ে বিশেষ প্রকৃতির গ্রন্থ রচনা করেন এবং অনারব সাহিত্যের কিছু উপন্যাস তারা আরবিতে অনুবাদ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় মানফালুতি ফ্রান্স সাহিত্যের একটি উপন্যাসের আরবি অনুবাদ করেন, যার নামকরণ করেন 'আল-ফাজিলা'। এমন আরও কিছু উপন্যাস তিনি আরবিতে অনুবাদ করেন। হাফিজ ইবরাহিম হেক্টোর হিগো-রচিত 'আল-বুয়াসা' গ্রন্থের অনুবাদ করেন।
সে সময়ে কোনো কোনো সাহিত্যিক উপন্যাস ও গল্পগুচ্ছের মধ্য দিয়ে ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয়ের প্রচারণা করতে সমর্থ হন। অর্থাৎ তারা ওই উপন্যাস ও গল্পগুচ্ছের মাধ্যমে ইসলামের কিছু মৌলিক বিষয় প্রমাণ করে সেগুলো প্রচার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এ কাজ করতে গিয়ে তারা নিজস্ব বা অনূদিত গল্পগুলোর মাধ্যমে কিছু ভালো কাজের সাথে অপ্রত্যাশিতভাবে শরিয়ত-গর্হিত কিছু ভয়ংকর কাজে জাড়িয়ে পড়েন।
মানফালুতি ও হাফিজ ইবরাহিমের সমসাময়িক আলি আহমাদ বাকসির রচিত ইসলামি কাহিনির গ্রন্থটি প্রথম স্তরের গ্রন্থ। তার গল্পসমগ্র ও উপন্যাসের মাঝে ইসলামি আকিদাকেও শক্তভাব ধারণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। যাতে করে সেগুলো পাঠকদের হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়ে যায়। তার নিয়ন্ত্রিত ইসলামি থিয়েটারগুলোতেও এর বিশেষ প্রভাব রয়েছে।
এই শ্রেণিতে ইরাকের ইসলামি কলামিস্ট দাউদ বিন সুলাইমান আবিদিও রয়েছেন, যিনি খুব সুন্দর অনেক ঘটনা সংকলন করেছেন। যেমন, 'জাবালুত তাওবাহ' বা তাওবার পাহাড়। তিনি এই গ্রন্থে এমন একজন হত্যাকারীর ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যে নববি যুগেই ১০০টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। গ্রন্থটিতে জাজিরাতুল আরবের জনৈক যুবতীর ঘটনাও বর্ণিত হয়েছে। এটা হলো, নবিজির যুগে সংঘটিত জনৈক জাদুকর গোলামের ঘটনা। ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে চারটি অংশে। প্রতিটি অংশকেই পৃথক-পৃথকভাবে চমৎকার গল্প মনে করা হয়। 'আলকারার', 'শহরজাদ' ও 'হাদিসুশশাইখ' ইত্যাদি গ্রন্থগুলো তারই রচনা।
ইসলামি সাহিত্যিক ও লেখকদের মাঝে অন্যতম হলেন আবদুর রহমান রাফাত পাশা, যিনি 'সুয়ারুম মিন হায়াতিস সাহাবাহ' ও 'সুয়ারুম মিন হায়াতিত তাবিইন' গ্রন্থ দুটির রচয়িতা। তাদের রচিত গ্রন্থগুলো স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ও ইমান জাগানিয়া উপাখ্যানে সজ্জিত। এ জন্য আমি যুবক-যুবতীদের এ ধরনের গল্পগুলো পড়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি।
এ ছাড়া ইসলামি আলোচনা সংবলিত অনেক গ্রন্থ আছে। যেমন : আবদুল আজিজ জাবরিন রচিত 'কিসসাতুর রাজুলিল মাহজুম' বা পরাজিত লোকটির গল্প। এটা বনি ইসরাইলের এমন এক নারীর গল্প, যাকে তার ভাইয়েরা জনৈক পাদরির কাছে রেখে গিয়েছিল। শয়তান পাদরিকে প্ররোচিত করার কারণে ওই নারীর ওপর পৈশাচিক অত্যাচার চালায়।
আল-আরিনি বিরচিত 'দিফউল লায়ালিশ শাতিয়াতি' বা শীতল রাতের উষ্ণতা গ্রন্থটি সর্বোচ্চ প্রচারিত ছিল এবং বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের চাহিদাও ছিল তুঙ্গে। এ ছাড়া রয়েছে আবদুল মালিক আল-কাসিম রচিত 'মুহাওয়ালাতুন ফিজ জামানিল কাদিম বা ভবিষ্যৎ সময়ের সাধনা। [৬৭] এখানে কিছু ঘটনা এমনও রয়েছে, যেগুলো নির্ধারিত ব্যক্তির অভিপ্রায়ে লেখা হয়েছে তার ব্যক্তিগত জীবনচরিত থেকে। যেমন: মালিক আর-রাহবি তার 'রিহলাতুহু ইলানুর বা জ্যোতির পথে ভ্রমণ গ্রন্থে লিখেছেন।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, অনেক ইসলামি লেখক মূল ঘটনার ওপর কিছু অতিরঞ্জিত কথা ও ব্যাখ্যা লেখেন, যা মূল ঘটনার অংশ নয়। অতএব, পাঠকের দায়িত্ব হবে, সাহিত্যবোদ্ধার ন্যায় বিশুদ্ধ ও অশুদ্ধ বিষয়ের মাঝে ব্যবধান নিশ্চিত করার চেষ্টা করা।
অনেক ইসলামি উপন্যাস এমন পাওয়া যাবে, যেগুলোতে অনেক গর্হিত কাজের সমর্থন রয়েছে। যেমন : এমন ঘটনা পাওয়া যাবে, যেখানে নারী-পুরুষের মাঝে অবাধ মেলামেশা ছিল, আবার এমন ঘটনাও পাওয়া যাবে, যেখানে একজন মহিলা ইসলামের সেবা করার জন্য একাকী পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ভ্রমণ করেছে ইত্যাদি। অথচ ইসলামি শরিয়তে এগুলোর অনুমোদন নেই; যদিও শুনতে বা পড়তে খুবই দারুণ মনে হয়।

টিকাঃ
[৬৭] এ বইটি 'স্বাগতম তোমায় আলোর ভুবনে' নামে বাংলায় অনূদিত হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00