📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 চিত্তবিনোদন ভ্রমণ

📄 চিত্তবিনোদন ভ্রমণ


জিজ্ঞাসা: আল্লাহর সৃষ্টি বিভিন্ন শ্রেণির প্রাণী ও তাদের নানা প্রকার দৃশ্য দেখে উপকৃত হওয়ার উদ্দেশ্যে চিড়িয়াখানা ভ্রমণ করার বিধান কী?
জবাব : এই মাসআলার মূল ভিত্তি অন্য আরেকটি মাসআলার ওপর। তা হলো, আল্লাহর এই সৃষ্টিগুলোকে খাঁচায় বন্দি করে রাখা জায়িজ আছে কি না? সে বিষয়ে এখানে বিস্তর আলোচনার অবকাশ নেই। তবে সাধারণত বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে চিড়িয়াখানা দেখতে যাওয়া, সেখান থেকে বিভিন্নভাবে উপকৃত হওয়া জায়িজ আছে।
এমনকি যদি বলি, এমন উদ্দেশ্য নিয়ে চিড়িয়াখান ভ্রমণ করা মুসতাহাব, তাহলে খুব বাড়িয়ে বলা হবে না। কেননা, চিড়িয়াখানা ভ্রমণ করার উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর সৃষ্টি ও সৃষ্টিরহস্য নিয়ে গবেষণা করা, সেগুলোর জীবনযাত্রা এবং স্বভাবগত বিষয়ে অবহিত হওয়া, যা নিঃসন্দেহে মৌলিকভাবে তার হৃদয়ে রবের প্রতি এবং রবের সুমহান গুণাবলির প্রতি ইমানের গভীরে প্রশংসনীয় ভাব সৃষ্টি করবে। যেমন : আল্লাহর ক্ষমতা, বড়ত্ব, প্রজ্ঞা ইত্যাদি বিষয়ে ঈর্ষণীয় ভাব সৃষ্টি হবে।
চিড়িয়াখানা ভ্রমণ করার মাধ্যমে যখন তার হৃদয়ে মহান প্রতিপালক ও তাঁর গুণাবলির ব্যাপারে এমন ভাব সৃষ্টি হবে, তখন তাঁর দিকে এবং তাঁর দ্বীনের প্রতি দাওয়াত দেওয়ার মাঝে স্বতন্ত্র ও আলোকিত আবেগময় ভাব সৃষ্টি হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ .
তারা কি আসমান ও জমিনের কর্তৃত্ব সম্পর্কে এবং আল্লাহ যেসব জিনিস সৃষ্টি করেছেন সে সম্পর্কে চিন্তা করেনি? [সুরা আল-আরাফ : ১৮৫]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
تفكروا في آلاء الله ولا تفكروا في الله عز وجل .
আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করো, কিন্তু আল্লাহর সত্তা নিয়ে গবেষণা করো না।[৫৭]
হাদিসটি শাইখ আলবানি রহ. সহিহ বলেছেন। [৫৮]
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না, তা হলো চিড়িয়াখানায় শরিয়ত-গর্হিত অনেক কাজ হয়, সেগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন: নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, যুবক-যুবতীরা তাদের বিশেষ দিনের সাক্ষাতের সময়গুলো চিড়িয়াখানাতেই কাটায়। অনেক সময় মেয়েদের চিড়িয়াখানায় এমন পোশাকেও দেখা যায়, যেগুলো একজন মেয়ের সামনে আরেকজন মেয়েরও পরিধান করা জায়িজ নয়। তাহলে পুরুষের সামনে এমন পোশাক পরিধান করা কীভাবে জায়িজ হতে পারে?
বাকি থাকল, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে বারণ করা। তো এমন স্থানগুলোতে এটা সম্ভব নয়। কারণ, শরিয়তের ব্যাপারে মানুষের মাঝে শিথিলতা যে মাত্রায় বাড়ছে, শরিয়ত-গর্হিত কাজের মাত্রার চেয়ে তা কোনো অংশে কম নয়। যদি শহরের স্বাভাবিক অবস্থার সাথে চিড়িয়াখানার তুলনা করা হয়, তাহলে সেখানে মানুষের সংশোধনের জন্য নেককাজের প্রতি দাওয়াতের কোনো পরিবেশই নেই।
এদিকে একজন মুসলিমের প্রধান দায়িত্ব হলো, সময় সঞ্চয় করে সেগুলো নিজের সন্তানদের পিছে ব্যয় করা। যদি এমন পরিস্থিতি না থাকে, তাহলে যথাসম্ভব ফাসাদের স্থান থেকে দূরে অবস্থান করে নিজেকে বাঁচাবে এবং সন্তানদের এমন কিছু দেখা থেকে বিরত রাখবে, যা তাদের দ্বীনের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। শহরে বা চিড়িয়াখানায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ ও পরিবেশ সে কীভাবে পাবে?

টিকাঃ
[৫৭] শুআবুল ইমান, বাইহাকি: ১/১৩১
[৫৮] সর্বাসিদাতুস সহিহা: ৪/২৮৭

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 টেলিভিশনে ফুটবল ম্যাচ দেখা

📄 টেলিভিশনে ফুটবল ম্যাচ দেখা


জিজ্ঞাসা : স্থানীয় হোক বা বাইরের হোক টেলিভিশনে ফুটবল ম্যাচ দেখা হারাম না কি হালাল?
জবাব : যে ফুটবল ম্যাচ কোনো প্রকার বিনিময়ের ওপর ভিত্তি করে অনুষ্ঠিত হবে তা হারাম। কেননা, তা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। কেবল এমন বিষয়ের বিনিময়েই অর্থ গ্রহণ করা জায়িজ, শরিয়ত যার অনুমোদন দিয়েছে। যেমন: ঘোড়দৌড়, উটদৌড় ও তিরন্দাজি। এ পরিপ্রেক্ষিতেই বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি জানে, অর্থের বিনিময়ে খেলা হচ্ছে, তাদের জন্য এ ধরনের ফুটবল ম্যাচে উপস্থিত হওয়া এবং দেখাও হারাম। কারণ, এই ধরনের খেলা দেখা এবং সেখানে উপস্থিত থাকা মূলত জুয়াকে সমর্থন করার নামান্তর।
তবে যে ফুটবল ম্যাচে বিনিময় থাকবে না, থাকবে না শরিয়ত-গর্হিত কাজ-আচরণ- বিচরণ এবং যা কোনো সালাত, সাওম ইত্যাদি ফরজ থেকে বিমুখ করবে না, সতর অনাবৃত হবে না, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা হবে না এবং হারাম মিউজিক ইত্যাদি থাকবে না; এমন ফুটবল ম্যাচ দেখা এবং সেখানে উপস্থিত থাকাতে কোনো সমস্যা নেই।
আল্লাহর কাছেই তাওফিক চাচ্ছি সমস্ত হারাম বিষয় থেকে দূরে থাকার জন্য। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তার পরিবার-পরিজন এবং তার সকল সাহাবির প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমিন।[৫৯]
শাইখ ইবনে উসাইমিন রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, হাফপ্যান্ট পরিধান করে কোনো ক্রীড়ানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা এবং তাদের দেখার বিধান কী?
তিনি জবাব দিয়েছিলেন, কোনো ক্রীড়ানুষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক রাখা কেবল তখনই জায়িজ, যখন কোনো ওয়াজিব বিধান লঙ্ঘিত হবে না। আর যদি কোনো ওয়াজিব বিধান লঙ্ঘিত হয়, তাহলে তা হারাম। তবে যদি কোনো মানুষ এমন পর্যায়ে না যায়, সময় নষ্ট না করে এবং খুব কমই খেলাধুলায় মগ্ন হয়, তাহলে তার জন্য জায়িজ আছে।
কিন্তু যখন কোনো ক্রীড়ামোদি কেবল হাফপ্যান্টই পরিধান করে, যার কারণে তার উরু বা ঊরুর অধিকাংশই উন্মুক্ত থাকে, তাহলে কোনোক্রমেই তা জায়িজ হবে না। কেননা, বিশুদ্ধ অভিমত হলো, যুবকদের জন্য তাদের উরু খোলা রাখা হারাম ও আবৃত রাখা ওয়াজিব। ঠিক তেমনিভাবে এমন খেলোয়ারদের খেলা দেখাও হারাম, যারা উরু খোলা রেখে খেলায় অংশগ্রহণ করে।
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে-
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ .
মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য হলো, সে অনর্থক বিষয় পরিহার করবে।[৬০]
শাইখ আলবানি রহ. হাদিসটি সহিহ বলেছেন।[৬১]

টিকাঃ
[৫৯] ফাতাওয়াল লাজনাতিদ দায়িমা: ১৫/২৩৯
[৬০] সুনানুত তিরমিজি: ৮/২৯৪
[৬১] সহিহ জইফ তিরমিজি: ৫/৩১৭

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 কাল্পনিক উপন্যাস পড়া

📄 কাল্পনিক উপন্যাস পড়া


জিজ্ঞাসা: এমন কাল্পনিক উপন্যাস পাঠ করা কি জায়িজ আছে, যেগুলোতে মানবজগৎ সৃষ্টি, প্রাণী ও মানুষের বিবর্তনের কথা বলা হয়?
জবাব : যদি সেই উপন্যাস ও গল্পগুলোর মাঝে মিথ্যা, শরয়ি মূলনীতির পরিবর্তন- পরিবর্ধন, অভিজ্ঞতালব্ধ ও পরীক্ষিত ইলমি বিষয়ের বিকৃতি বিদ্যমান থাকে; যেমন : ডারউইনের বিবর্তনবাদ ইত্যাদি, তাহলে এ ধরনের উপন্যাস ও গল্প এড়িয়ে চলা প্রতিটি মুসলিমের জন্য একান্ত অপরিহার্য। এগুলো না পড়ে উপকারী কোনো বিষয়ে আত্মনিয়োগ করবে। যেমন: শরিয়ত-অনুমোদিত কোনো জ্ঞান অর্জন, নেক কাজ করা, বাস্তবানুগ ঘটনাসমূহ পড়া, ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য ঘটনাবলি পাঠ করা ইত্যাদি।
অনেক ফিল্ম ও উপন্যাস এমন রয়েছে, যেগুলো খিয়ালি ইলম বা 'কল্পবিজ্ঞান' বলে। এগুলোর মাঝে অনেক কুফরি বিষয় থাকে। যেমন: জীবন ও মরণের ক্ষমতা মানুষের হাতে থাকা, অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে নিয়ে আসার সক্ষমতা রাখা এবং বিশ্বাস করা যে, বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে যেকোনো অনস্তিত্বকে অস্তিত্ব দান করতে পারে, জীবনকে কোনো জড় বস্তু বা মৃত ডিমের অন্দরে হাজার হাজার বছর যাবৎ সংরক্ষণ করে রাখতে পারে, ভবিষ্যৎসময়ের মাঝে প্রবেশ করতে পারে, আবার অতীতের মাঝে ফিরে আসতে পারে ইত্যাদি। তো এসব কাজ নিঃসন্দেহে অসম্ভব, কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। কেননা, অদৃশ্যের বিষয় আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ জানে না।
কিছু ফিল্ম ও উপন্যাস এমনও রয়েছে, যেগুলো পরস্পরে সাংঘর্ষিক। কিছু আছে মানব সৃষ্টির ইতিহাস ও পৃথিবীতে তাদের জীবন সৃষ্টির ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত স্পষ্ট এনার ঐতিহাসিক বাস্তবতার পরিপন্থি।
অতএব, মুসলিমরা এমন উপন্যাস পাঠে কেন জড়াবে, যা তাদের আকিদাকে বিনষ্ট করবে, কিংবা কমপক্ষে সময় নষ্ট করবে এবং তাকে এমন কাজে মগ্ন করবে, যাতে তার কোনো উপকার নেই।
যদি কেউ বলে, এগুলো আনন্দ-উল্লাস ও বিনোদনের জন্য পাঠ করি, তাহলে তাকে বলব, হারাম জিনিস দ্বারা বিনোদন গ্রহণ করা হারাম। আর মুসলিমজীবনের প্রতিটি মুহূর্ত এই অধিকার সংরক্ষণ করে যে, তার একটি কণাও নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। যেমন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ .
মানুষের ইসলামের সৌন্দর্য হলো, সে অনর্থক বিষয় পরিহার করবে।[৬২]

টিকাঃ
[৬২] সুনানুত তিরমিজি : ৮/২৯৪

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 শরিয়তের দৃষ্টিকোণে গল্প শুধু গল্পই নয়

📄 শরিয়তের দৃষ্টিকোণে গল্প শুধু গল্পই নয়


আল্লাহ তাআলা তাঁর নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন জাতির কাছে প্রেরণ করেছেন, যাদের বিশেষ কোনো ব্যবসা, কারিগরি, রাজনীতি কিংবা কৃষির মাধ্যমে বিশেষত্ব প্রদান করেননি; বরং তাদের বিশেষত্ব দান করেছেন সাহিত্যনির্ভর অলংকারপূর্ণ ভাষায়।
যেহেতু আল্লাহ তাআলার নীতি হলো, নবিদের তিনি এমন মুজিজা দিয়ে তার জাতির নিকট প্রেরণ করেন, যে বিষয়ে তাদের জাতি শীর্ষস্থান দখল করে থাকে; ঠিক সেই নীতি অনুসারেই নবিজি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মুজিজা হিসেবে এমন একটি গ্রন্থ দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যা তার সাহিত্যের মাধ্যমে আরবের সাহিত্যিকদের হতভম্ব করে দিয়েছে এবং ভাষা অলংকারের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করে তাদের অলংকার শাস্ত্রবিদদের করে দিয়েছে লা-জবাব।
গ্রন্থটি অলংকারশাস্ত্রের প্রতিটি প্রকার ও অভিধানশাস্ত্রের প্রতিটি শাখায় শীর্ষস্থানে অধিষ্ঠিত। ইশারা-ইঙ্গিত, মৌলিক-রূপক, সুদীর্ঘ-অদীর্ঘ, উপমাসমৃদ্ধ এবং উপমাহীন ইত্যাদি প্রতিটি বিষয় এতে শত ভাগ প্রাসঙ্গিকতাসহ উল্লিখিত হয়েছে।
এই গ্রন্থটি নিজের মাঝে যতগুলো বিষয় পরিব্যাপ্ত করে রেখেছে 'কুরআনের কাহিনি' তন্মধ্যে অন্যতম। যেগুলো তার সাহিত্যমান, শব্দচয়ন, শব্দবিন্যাস, অর্থ সঞ্চালন ও লক্ষ্য নির্ধারণে আরবের সাহিত্যিকদের অক্ষম প্রমাণিত করেছে।
কুরআনি গল্পগুলো এমন অলীক কোনো কাহিনি নয় যে, তার দ্বারা কেবল বিনোদন ও সময় কাটানোই উদ্দেশ্য; বরং সেগুলো সত্যের পথে দাওয়াত এবং সত্য-দীক্ষার মাধ্যম হবে। অতএব, সেগুলো উপদেশসমৃদ্ধ ও শিক্ষণীয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে ইরশাদ করেছেন—
لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ .
তাদের কাহিনিতে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে শিক্ষণীয় বিষয়। [সুরা ইউসুফ : ১১১]
এই কাহিনিগুলো হয় দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার বলিষ্ঠ মাধ্যম; যেমন : কুরআনে কারিমের অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
وَكُلًّا نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهِ فُؤَادَكَ .
আর আমি রাসুলগণের সব বৃত্তান্তই আপনাকে বলছি, যদ্বারা আপনার অন্তরকে মজবুত করছি। [সুরা হুদ : ১২০]
এগুলো এমন ঘটনা, যার মাঝে মিথ্যা ও বানোয়াটির কোনো লেশ নেই। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا .
আল্লাহর চেয়ে বেশি সত্যবাদী কে আছে? [সুরা আন-নিসা : ৮৭]
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে—
مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَى وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ .
এটা কোনো বানানো রচনা নয়; বরং এটা আগের গ্রন্থে যা আছে তার সত্যায়ন ও বিশদ বিবরণ, আর মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য নির্দেশনা ও অনুগ্রহ। [সুরা ইউসুফ: ১১১]
এখানেই শেষ নয়; বরং কুরআনে কারিমে বর্ণিত ঘটনাবলিই সবচেয়ে সুন্দর কাহিনি। ইরশাদ হয়েছে—
نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ، وَإِنْ كُنْتَ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَافِلِينَ
অহির মাধ্যমে এ কুরআন অবতীর্ণ করে আমি আপনার কাছে সেরা ঘটনা বর্ণনা করেছি। যদিও এর আগে আপনি অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। [সুরা ইউসুফ: ৩]
যেহেতু কুরআনে কারিমে বর্ণিত গল্পগুলোর মাঝে অনেক উপকার রয়েছে, তাই তিনি স্বীয় নবিকে এই ঘটনাগুলো মানুষের সামনে বর্ণনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে—
فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ .
অতএব, আপনি বর্ণনা করুন এসব কাহিনি, যাতে তারা চিন্তা করে। [সুরা আল-আরাফ : ১৭৬]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00