📄 বিপদজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ খেলার অনুশীলন
জিজ্ঞাসা : ঝুঁকিপূর্ণ খেলাধুলা অনুশীলনের বিধান কী? যেমন: অনেক উঁচুতে রশির ওপর দিয়ে চলা, অনেক উঁচু থেকে লাফ দেওয়া এবং সাপের সাথে একই খাঁচায় অবস্থান করা ইত্যাদি, এগুলোর বিধান কী?
জবাব : শরিয়ত মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছে, তুমি তোমার দ্বীন আঁকড়ে ধরো এবং তা অনুশাসন মেনে চলার ওপর অবিচল থাকো। এমনিভাবে দ্বীনের ক্ষতি করে এ প্রতিটি আচার-আচরণ ও কাজ শরিয়ত হারাম করেছে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرار .
(দ্বীনের ব্যাপারে নিজে) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও যাবে না, আবার (অন্যের) ক্ষতিও করা যাবে না।[৫২]
শাইখ নাসিরুদ্দিন আলবানি রহ. হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।[৫৩]
ঝুঁকিপূর্ণ খেলার ব্যাপারে আলিমদের অভিমত
ফিকহে হানাফিয়্যাতে আদ্দুররুল মুখতার প্রণেতা বলেন, 'এমনিভাবে প্রত্যেক ঝুঁকিপূর্ণ খেলা কেবল এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তির জন্যই জায়িজ, যে নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রবল আস্থা রাখে। যেমন: তিরের সামনে নিজেকে নিক্ষেপ করা এবং সাপ শিকার করা। এগুলো দেখে আনন্দ উপভোগ করাও জায়িজ হবে।' [৫৪]
জায়িজ হওয়ার শর্তসমূহ
প্রথম শর্ত: বিজ্ঞতা, অভিজ্ঞতা এবং এ ধরনের খেলার জন্য পূর্ণ প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এগুলো তখনই সম্ভব, যখন অধিকহারে অনুশীলন করা হবে, বারবার খেলা হবে এবং কোনো প্রশিক্ষকের নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হবে, যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, সে আসলেই এ বিষয়ে বিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ স্তরে উত্তীর্ণ হয়েছে।
তবে যদি এই প্রশিক্ষণের মাঝে কোনো ফরজে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়, কিংবা কোনো সুন্নাত-মুসতাহাব বাদ পড়ে, তাহলে এই প্রশিক্ষণ হারাম বলে সাব্যস্ত হবে। [৫৫] আর যদি এমন কোনো সমস্যা সৃষ্টি হওয়া ছাড়াই প্রশিক্ষণ কমপ্লিট হয় এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, তাহলে তা জায়িজ এবং এর মাধ্যমে আনন্দ উপভোগ করাও জায়িজ।
দ্বিতীয় শর্ত: নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে খেলোয়ারকে প্রবল বিশ্বাসী হতে হবে। যদি নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে তার বিশ্বাসে দুর্বলতা থাকে, তাহলে এমন বিপজ্জনক খেলা তার জন্য হারাম বলে বিবেচিত হবে। কেননা, সে এর মাধ্যমে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ আমাদের এমন কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে—
وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ .
নিজেদের জীবন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ো না। [সুরা আল-বাকারা : ১৯৫]
তৃতীয় শর্ত: অর্থের বিনিময়ে খেলা যাবে না। এ ধরনের বাহুল্য ও অর্থহীন খেলার বিনিময় গ্রহণ করা হারাম। যদি কেউ এমন অনর্থক খেলার বিনিময় গ্রহণ করে, তাহলে অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভোগকারী হিসেবে গণ্য হবে। [৫৬]
আমি এ শর্তগুলোর সাথে আরেকটি শর্ত যোগ করব, তা হলো সবসময় খেলা যাবে না; বরং আনন্দের সময়গুলোতে খেলা যাবে। আমার এ কথার সমর্থনে হাদিসের কিছু বর্ণনাও পাওয়া যায়। যেমন: মসজিদে নববির আঙিনায় হাবশি গোলামরা ইদের দিনে খেলাধুলা করত। এর সাথে আনন্দঘন অন্যান্য সময়গুলোকেও যোগ করা যেতে পারে।
টিকাঃ
[৫২] সুনানু ইবনি মাজাহ : ২৪৩০
[৫৩] সহিহ জইফ ইবনি মাজাহ: ৫/৩৪০
[৫৪] আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৭২৪
[৫৫] ফরজ ছুটে গেলে বা তা আদায়ে বিঘ্ন ঘটলে হারাম হওয়ার বিষয়টি ঠিক আছে। অনুরূপ ওয়াজিবের ক্ষেত্রেও একই বিধানপ্রায়। কিন্তু সুন্নাত বা মুসতাহাব ছুটে গেলে সেটা হারাম হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই; বরং এ ক্ষেত্রে ছুটে যাওয়া বিধানের স্তর অনুযায়ী অপরাধের মাত্রা নির্ধারিত হবে। সুতরাং সুন্নাতে মুআক্কাদা ছুটলে মাকরুহে তাহরিমি, আর মুসতাহাব ছুটলে মাকরুহে তানজিহি হবে। -সম্পাদক
[৫৬] বাগিয়্যাতুল মুশতাক ফি হুকনিল-লাহবি ওয়াল লা'বি ওয়াস সাবাক : ১৫৬-১৫৭
📄 যুক্তিপূর্ণ খেলার ব্যাপারে আলিমদের অভিমত
ফিকহে হানাফিয়্যাতে আদ্দুররুল মুখতার প্রণেতা বলেন, 'এমনিভাবে প্রত্যেক ঝুঁকিপূর্ণ খেলা কেবল এমন অভিজ্ঞ ব্যক্তির জন্যই জায়িজ, যে নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রবল আস্থা রাখে। যেমন: তিরের সামনে নিজেকে নিক্ষেপ করা এবং সাপ শিকার করা। এগুলো দেখে আনন্দ উপভোগ করাও জায়িজ হবে।' [৫৪]
টিকাঃ
[৫৪] আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৭২৪
📄 জায়িজ হওয়ার শর্তসমূহ
প্রথম শর্ত: বিজ্ঞতা, অভিজ্ঞতা এবং এ ধরনের খেলার জন্য পূর্ণ প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এগুলো তখনই সম্ভব, যখন অধিকহারে অনুশীলন করা হবে, বারবার খেলা হবে এবং কোনো প্রশিক্ষকের নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা হবে, যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, সে আসলেই এ বিষয়ে বিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞতার সর্বোচ্চ স্তরে উত্তীর্ণ হয়েছে।
তবে যদি এই প্রশিক্ষণের মাঝে কোনো ফরজে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয়, কিংবা কোনো সুন্নাত-মুসতাহাব বাদ পড়ে, তাহলে এই প্রশিক্ষণ হারাম বলে সাব্যস্ত হবে। [৫৫] আর যদি এমন কোনো সমস্যা সৃষ্টি হওয়া ছাড়াই প্রশিক্ষণ কমপ্লিট হয় এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, তাহলে তা জায়িজ এবং এর মাধ্যমে আনন্দ উপভোগ করাও জায়িজ।
দ্বিতীয় শর্ত: নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে খেলোয়ারকে প্রবল বিশ্বাসী হতে হবে। যদি নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে তার বিশ্বাসে দুর্বলতা থাকে, তাহলে এমন বিপজ্জনক খেলা তার জন্য হারাম বলে বিবেচিত হবে। কেননা, সে এর মাধ্যমে নিজেকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ আমাদের এমন কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে—
وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ .
নিজেদের জীবন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ো না। [সুরা আল-বাকারা : ১৯৫]
তৃতীয় শর্ত: অর্থের বিনিময়ে খেলা যাবে না। এ ধরনের বাহুল্য ও অর্থহীন খেলার বিনিময় গ্রহণ করা হারাম। যদি কেউ এমন অনর্থক খেলার বিনিময় গ্রহণ করে, তাহলে অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভোগকারী হিসেবে গণ্য হবে। [৫৬]
আমি এ শর্তগুলোর সাথে আরেকটি শর্ত যোগ করব, তা হলো সবসময় খেলা যাবে না; বরং আনন্দের সময়গুলোতে খেলা যাবে। আমার এ কথার সমর্থনে হাদিসের কিছু বর্ণনাও পাওয়া যায়। যেমন: মসজিদে নববির আঙিনায় হাবশি গোলামরা ইদের দিনে খেলাধুলা করত। এর সাথে আনন্দঘন অন্যান্য সময়গুলোকেও যোগ করা যেতে পারে।
এমনিভাবে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা না থাকার শর্তটিও প্রযোজ্য হবে। খেলোয়াড়দের সতর অনাবৃত না হওয়ার বিষয়টিও অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
টিকাঃ
[৫৫] ফরজ ছুটে গেলে বা তা আদায়ে বিঘ্ন ঘটলে হারাম হওয়ার বিষয়টি ঠিক আছে। অনুরূপ ওয়াজিবের ক্ষেত্রেও একই বিধানপ্রায়। কিন্তু সুন্নাত বা মুসতাহাব ছুটে গেলে সেটা হারাম হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই; বরং এ ক্ষেত্রে ছুটে যাওয়া বিধানের স্তর অনুযায়ী অপরাধের মাত্রা নির্ধারিত হবে। সুতরাং সুন্নাতে মুআক্কাদা ছুটলে মাকরুহে তাহরিমি, আর মুসতাহাব ছুটলে মাকরুহে তানজিহি হবে। -সম্পাদক
[৫৬] বাগিয়্যাতুল মুশতাক فی হুকনিল-লাহবি ওয়াল লা'বি ওয়াস সাবাক : ১৫৬-১৫৭
📄 চিত্তবিনোদন ভ্রমণ
জিজ্ঞাসা: আল্লাহর সৃষ্টি বিভিন্ন শ্রেণির প্রাণী ও তাদের নানা প্রকার দৃশ্য দেখে উপকৃত হওয়ার উদ্দেশ্যে চিড়িয়াখানা ভ্রমণ করার বিধান কী?
জবাব : এই মাসআলার মূল ভিত্তি অন্য আরেকটি মাসআলার ওপর। তা হলো, আল্লাহর এই সৃষ্টিগুলোকে খাঁচায় বন্দি করে রাখা জায়িজ আছে কি না? সে বিষয়ে এখানে বিস্তর আলোচনার অবকাশ নেই। তবে সাধারণত বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে চিড়িয়াখানা দেখতে যাওয়া, সেখান থেকে বিভিন্নভাবে উপকৃত হওয়া জায়িজ আছে।
এমনকি যদি বলি, এমন উদ্দেশ্য নিয়ে চিড়িয়াখান ভ্রমণ করা মুসতাহাব, তাহলে খুব বাড়িয়ে বলা হবে না। কেননা, চিড়িয়াখানা ভ্রমণ করার উদ্দেশ্য হবে আল্লাহর সৃষ্টি ও সৃষ্টিরহস্য নিয়ে গবেষণা করা, সেগুলোর জীবনযাত্রা এবং স্বভাবগত বিষয়ে অবহিত হওয়া, যা নিঃসন্দেহে মৌলিকভাবে তার হৃদয়ে রবের প্রতি এবং রবের সুমহান গুণাবলির প্রতি ইমানের গভীরে প্রশংসনীয় ভাব সৃষ্টি করবে। যেমন : আল্লাহর ক্ষমতা, বড়ত্ব, প্রজ্ঞা ইত্যাদি বিষয়ে ঈর্ষণীয় ভাব সৃষ্টি হবে।
চিড়িয়াখানা ভ্রমণ করার মাধ্যমে যখন তার হৃদয়ে মহান প্রতিপালক ও তাঁর গুণাবলির ব্যাপারে এমন ভাব সৃষ্টি হবে, তখন তাঁর দিকে এবং তাঁর দ্বীনের প্রতি দাওয়াত দেওয়ার মাঝে স্বতন্ত্র ও আলোকিত আবেগময় ভাব সৃষ্টি হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ .
তারা কি আসমান ও জমিনের কর্তৃত্ব সম্পর্কে এবং আল্লাহ যেসব জিনিস সৃষ্টি করেছেন সে সম্পর্কে চিন্তা করেনি? [সুরা আল-আরাফ : ১৮৫]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
تفكروا في آلاء الله ولا تفكروا في الله عز وجل .
আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে গবেষণা করো, কিন্তু আল্লাহর সত্তা নিয়ে গবেষণা করো না।[৫৭]
হাদিসটি শাইখ আলবানি রহ. সহিহ বলেছেন। [৫৮]
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না, তা হলো চিড়িয়াখানায় শরিয়ত-গর্হিত অনেক কাজ হয়, সেগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। যেমন: নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, যুবক-যুবতীরা তাদের বিশেষ দিনের সাক্ষাতের সময়গুলো চিড়িয়াখানাতেই কাটায়। অনেক সময় মেয়েদের চিড়িয়াখানায় এমন পোশাকেও দেখা যায়, যেগুলো একজন মেয়ের সামনে আরেকজন মেয়েরও পরিধান করা জায়িজ নয়। তাহলে পুরুষের সামনে এমন পোশাক পরিধান করা কীভাবে জায়িজ হতে পারে?
বাকি থাকল, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে বারণ করা। তো এমন স্থানগুলোতে এটা সম্ভব নয়। কারণ, শরিয়তের ব্যাপারে মানুষের মাঝে শিথিলতা যে মাত্রায় বাড়ছে, শরিয়ত-গর্হিত কাজের মাত্রার চেয়ে তা কোনো অংশে কম নয়। যদি শহরের স্বাভাবিক অবস্থার সাথে চিড়িয়াখানার তুলনা করা হয়, তাহলে সেখানে মানুষের সংশোধনের জন্য নেককাজের প্রতি দাওয়াতের কোনো পরিবেশই নেই।
এদিকে একজন মুসলিমের প্রধান দায়িত্ব হলো, সময় সঞ্চয় করে সেগুলো নিজের সন্তানদের পিছে ব্যয় করা। যদি এমন পরিস্থিতি না থাকে, তাহলে যথাসম্ভব ফাসাদের স্থান থেকে দূরে অবস্থান করে নিজেকে বাঁচাবে এবং সন্তানদের এমন কিছু দেখা থেকে বিরত রাখবে, যা তাদের দ্বীনের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। শহরে বা চিড়িয়াখানায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ ও পরিবেশ সে কীভাবে পাবে?
টিকাঃ
[৫৭] শুআবুল ইমান, বাইহাকি: ১/১৩১
[৫৮] সর্বাসিদাতুস সহিহা: ৪/২৮৭