📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 সময়ের হিফাজত

📄 সময়ের হিফাজত


সময় যেন অধিকাংশই বিনোদনের পেছনে ব্যয় না হয়, সেদিকে খুব ভালোভাবে লক্ষ রাখতে হবে। কেননা, বিনোদনের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক অনেক সময় মানুষকে ওয়াজিব আমল, জাগতিক প্রয়োজনীয় কাজ ইত্যাদির প্রতি অমনোযোগী করে তোলে। যেমন: জীবিকা উপার্জন করা, ইলম অন্বেষণ করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ইত্যাদি।
ইমাম শাওকানি রহ. বলেছেন, 'হামামকে (কবুতরকে) হামাম করে নামকরণের কারণ হলো শয়তানি করা। কেননা, কবুতর শয়তানের ভূমিকা পালন করে। কারণ, মানুষ তার সেবার পিছে, তার রূপ-লাবণ্যে ও তার গান শুনতে আল্লাহর বিধান হতে উদাস হয়ে যায়।” [৩৫]

টিকাঃ
[৩৫] নাইলুল আওতার: ৮/১৭৩

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 বিনোদনমূলক কাজে ব্যয় সংকোচন করা

📄 বিনোদনমূলক কাজে ব্যয় সংকোচন করা


শরিয়তের নির্দেশ ও যুক্তির দাবি এমনই। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
'অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।' [সুরা আল-আনআম : ১৪১]
আরও ইরশাদ হয়েছে-
إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيْطِيْنِ وَكَانَ الشَّيْطَنُ لِرَبِّهِ كَفُوْرًا .
নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।[সুরা বনি ইসরাইল : ২৭]
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে-
يَقُولُ إِنَّ اللهَ كَرِهَ لَكُمْ ثَلَاثًا قِيلَ وَقَالَ وَإِضَاعَةَ الْمَالِ وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ .
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের তিনটি কাজ অপছন্দ করেন—বেশি প্রশ্নোত্তর করা, সম্পদ অপচয় করা ও অধিকহারে চাওয়া। [৩৬]

টিকাঃ
[৩৬] সহিহুল বুখারি: ১৩৮৩

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 অন্যকে কষ্ট না দেওয়া

📄 অন্যকে কষ্ট না দেওয়া


বাহ্যিকভাবেও অন্যকে কষ্ট না দেওয়া, মৌনভাবেও অন্যকে কষ্ট না দেওয়া। আঘাতও করবে না এবং আঘাতের জবাবও দেবে না। অন্যকে কষ্ট দেওয়ার অনেক রূপ হতে পারে। যেমন-
ক. উপহাস করা ও বিদ্রূপাত্মক উপাধিতে ডাকা। আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন বান্দাদের সম্বোধন করে বলেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّنْ قَوْمٍ عَسَى أَنْ يَكُوْنُوْا خَيْرًا مِّنْهُمْ وَ لَا نِسَاءٌ مِّنْ نِّسَاءٍ عَسَى أَنْ يَكُنَّ خَيْرًا مِّنْهُنَّ ، وَ لَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ وَ مَنْ لَّمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّلِمُوْنَ .
হে মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। কোনো নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাকে মন্দ নামে ডাকা গুনাহ। যারা এহেন কাজ থেকে তাওবা করে না তারাই জালিম। [সুরা আল-হুজুরাত : ১১]
খ. খেলার মাধ্যমে প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া, তাদেরকে বিরক্ত করা বা বিকট শব্দে তাদের তিক্ত করা।
গ. চতুষ্পদ জন্তুকে কষ্ট দেওয়া ও সেগুলোর মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। যেমন: ভেড়ার যুদ্ধ বা মোরগযুদ্ধ ইত্যাদি, যা প্রাণীকে কষ্ট দেয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00