📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 আল্লাহর জিকির ও তার বিধি-নিষেধ থেকে গাফিল না হওয়া

📄 আল্লাহর জিকির ও তার বিধি-নিষেধ থেকে গাফিল না হওয়া


যেমন : সালাত আদায় করা, পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করা ইত্যাদি। বিনোদনকেন্দ্রিক শরিয়ত-গর্হিত যত অপরাধ সংঘটিত হয়, তার মধ্যে নামাজের প্রতি অবহেলা ও পিতা-মাতার প্রতি অবজ্ঞাই বেশি মারাত্মক। বরং অধিকাংশ বিনোদনই তো এমন যে, সেগুলোর কারণে মুসতাহাব, সুন্নাত, ওয়াজিব ও ফরজ বিভিন্ন শ্রেণির আল্লাহর বিধানের প্রতি অবজ্ঞাভাব সৃষ্টি হয়। বিনোদনকেন্দ্রিক নানাপ্রকার আকাশ- কুসুম চিন্তার মাঝে। নামাজের মধ্যে একনিষ্ঠতার প্রত্যাশাই তো তিরোহিত হয়ে যায়।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 প্রয়োজন পরিমাণ বিনোদনের প্রতি লক্ষ রাখা

📄 প্রয়োজন পরিমাণ বিনোদনের প্রতি লক্ষ রাখা


বিনোদনের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি না করা। কেবল একজন মানুষের সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুতেই ক্ষান্ত করা। এমন যেন না হয় যে, একজন মানুষ তার জীবনকেই খেলাধুলা ও বিনোদনের মাঝে কাটিয়ে দেবে। কারণ, মানুষকে তো বিনোদনের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি; বরং বিনোদনকে আবিষ্কারই করা হয়েছে শারীরিক সুস্থতা ও প্রাত্যহিক দায়িত্ব পালনের মাঝে সৃষ্টি হওয়া তিক্ততাকে দূর করার জন্য। ঠিক যেমন খাবারের মাঝে লবণ। এরপর মানুষ খুব জোরেশোরে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে নৈমিত্তিক কাজ ও আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত করবে। ইতিপূর্বে যেমন হাদিসের আলোকে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হানজালা রাদিয়াল্লাহু আনহুর উদ্দেশ্যে বললেন—
يَا حَنْظَلَةُ سَاعَةً وَسَاعَةً ثَلَاثَ مَرَّاتٍ .
হে হানজালা, সময়ের ব্যবধান অনস্বীকার্য। কথাটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার বললেন। [৩৪]

টিকাঃ
[৩৪] সহিহ মুসলিম : ৪৯৩৭

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 সময়ের হিফাজত

📄 সময়ের হিফাজত


সময় যেন অধিকাংশই বিনোদনের পেছনে ব্যয় না হয়, সেদিকে খুব ভালোভাবে লক্ষ রাখতে হবে। কেননা, বিনোদনের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক অনেক সময় মানুষকে ওয়াজিব আমল, জাগতিক প্রয়োজনীয় কাজ ইত্যাদির প্রতি অমনোযোগী করে তোলে। যেমন: জীবিকা উপার্জন করা, ইলম অন্বেষণ করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ইত্যাদি।
ইমাম শাওকানি রহ. বলেছেন, 'হামামকে (কবুতরকে) হামাম করে নামকরণের কারণ হলো শয়তানি করা। কেননা, কবুতর শয়তানের ভূমিকা পালন করে। কারণ, মানুষ তার সেবার পিছে, তার রূপ-লাবণ্যে ও তার গান শুনতে আল্লাহর বিধান হতে উদাস হয়ে যায়।” [৩৫]

টিকাঃ
[৩৫] নাইলুল আওতার: ৮/১৭৩

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 বিনোদনমূলক কাজে ব্যয় সংকোচন করা

📄 বিনোদনমূলক কাজে ব্যয় সংকোচন করা


শরিয়তের নির্দেশ ও যুক্তির দাবি এমনই। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—
وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
'অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।' [সুরা আল-আনআম : ১৪১]
আরও ইরশাদ হয়েছে-
إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيْطِيْنِ وَكَانَ الشَّيْطَنُ لِرَبِّهِ كَفُوْرًا .
নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ।[সুরা বনি ইসরাইল : ২৭]
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে-
يَقُولُ إِنَّ اللهَ كَرِهَ لَكُمْ ثَلَاثًا قِيلَ وَقَالَ وَإِضَاعَةَ الْمَالِ وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ .
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের তিনটি কাজ অপছন্দ করেন—বেশি প্রশ্নোত্তর করা, সম্পদ অপচয় করা ও অধিকহারে চাওয়া। [৩৬]

টিকাঃ
[৩৬] সহিহুল বুখারি: ১৩৮৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00