📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ না ঘটা

📄 নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ না ঘটা


বিনোদনের অনেক শাখা-প্রশাখায়—তা ইলেক্ট্রিক্যাল হোক বা অন্য কোনো প্রকারের হোক—নারী-পুরুষ নিজের প্রকৃত অবয়ব গোপন রেখে ম্যাকাপ করে ভিন্ন অবয়ব প্রকাশ করে থাকে। এগুলো ফিতনা ও বিপর্যয়ের মারাত্মক আশঙ্কা সৃষ্টিকারী এবং নারী ও পুরুষের মাঝের ব্যবধান বিলোপকারী যা নারী ও পুরুষকে পরস্পরকে ভয়ঙ্করভাবে আকর্ষিত করে ইসলামি আদর্শকে ভূলুণ্ঠিত করতে উস্কে দেয় এবং আল্লাহ তাআলার নির্দেশ থেকে উদাস করে দেয়। যেমন: কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে—
وَ قَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلوةَ وَاتِينَ الزَّكُوةَ وَأَطِعْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرَّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا .
তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে, বর্বর যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করবে না। সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করবে। হে নবিপরিবারের সদস্যবর্গ, আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতাকে দূর করতে এবং তোমাদের পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে। [সুরা আল-আহজাব : ৩৩]

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 পর্দায় থাকা, উত্পলগ্না পরিহার করা

📄 পর্দায় থাকা, উত্পলগ্না পরিহার করা


সুইমিং স্পট, কারাতের ফিল্ড, দৌড়ের মাঠ, রেসলিং স্কয়ার, কুস্তিযুদ্ধের মঞ্চ, নর্তকীদের নাচের মঞ্চ এবং ব্যাটমিন্টন থেকে আরম্ভ করে অধিকাংশ খেলাধুলার স্থানে নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনার যে সয়লাব চলছে, তা নিশ্চিতভাবেই নারী-পুরুষের সংমিশ্রণের কারণেই হচ্ছে। কারণ, এগুলোতে কোনোভাবে একজন নারী দিনের অধিকাংশ সময় হিজাব পরিধান করে, মাথা ও শরীর আবৃত করে থাকতে পারবে না। এই কারণ দেখিয়ে শয়তান নারীকে উলঙ্গপনা ও বেহায়াপনার প্রতি উস্কে দেয়। ফলে তারা উলঙ্গ বা অর্ধউলঙ্গ হয়ে বিনোদন স্পটগুলোতে নিজেদের উপস্থাপন করছে।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 বিনোদন যেন মুসলিমকে কাফিররাষ্ট্রে যেতে বাধ্য না করে

📄 বিনোদন যেন মুসলিমকে কাফিররাষ্ট্রে যেতে বাধ্য না করে


এমন কোনো খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা যাবে না, যা কোনো মুসলিমকে কাফিরদের রাষ্ট্রে যেতে বাধ্য করে। কেননা, এতে বহু রকম ফিতনা ও অনিষ্টতায় জড়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন: কাফিরদের সাথে মাত্রাতিরিক্ত মেলামেশা এবং অনেক প্রকার হারাম কাজের মাঝ দিয়ে অতিক্রম করা, যা মুসলিমের অন্তরে চরমভাবে খারাপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞ উলামায়ে কিরাম একেবারে সীমিত পরিসরে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে কাফিররাষ্ট্রে সফর করার অনুমতি প্রদান করেছেন। যথা-
ক. এমন কঠিন কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়া, যার চিকিৎসা কোনো মুসলিম রাষ্ট্রে নেই। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনের চাহিদায় কাফিররাষ্ট্রে সফর করার অনুমতি রয়েছে।
খ. এমন ব্যবসার খাতিরে কাFIRরাষ্ট্রে সফর করা, মুসলিম রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য যা অপরিহার্য।
গ. এমন জ্ঞান শিক্ষার জন্য কাফিররাষ্ট্র সফর করা, মুসলিম রাষ্ট্রের যার ব্যবস্থাপনা নেই; অথচ তা মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ঘ. আল্লাহর দ্বীনের দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং ইসলামের প্রচার-প্রসারের জন্য কাফিররাষ্ট্র সফর করা।
তবে এখানে শর্ত হলো, সফরকারী ব্যক্তির মাঝে এই শক্তি ও প্রতিভা থাকতে হবে, যেন সে তার দ্বীন প্রচারে সক্ষম হয়, নিজের দ্বীনের ওপর এত বেশি মজবুত হয় যে, নিজের আকিদা-বিশ্বাস থেকে পদস্খলিত হওয়ার কোনো আশঙ্কা না থাকে, সর্বপ্রকার ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকে। কেবল বিনোদন ও আনন্দের জন্য কাফিররাষ্ট্রে সফর করা হারাম।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 আল্লাহর জিকির ও তার বিধি-নিষেধ থেকে গাফিল না হওয়া

📄 আল্লাহর জিকির ও তার বিধি-নিষেধ থেকে গাফিল না হওয়া


যেমন : সালাত আদায় করা, পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করা ইত্যাদি। বিনোদনকেন্দ্রিক শরিয়ত-গর্হিত যত অপরাধ সংঘটিত হয়, তার মধ্যে নামাজের প্রতি অবহেলা ও পিতা-মাতার প্রতি অবজ্ঞাই বেশি মারাত্মক। বরং অধিকাংশ বিনোদনই তো এমন যে, সেগুলোর কারণে মুসতাহাব, সুন্নাত, ওয়াজিব ও ফরজ বিভিন্ন শ্রেণির আল্লাহর বিধানের প্রতি অবজ্ঞাভাব সৃষ্টি হয়। বিনোদনকেন্দ্রিক নানাপ্রকার আকাশ- কুসুম চিন্তার মাঝে। নামাজের মধ্যে একনিষ্ঠতার প্রত্যাশাই তো তিরোহিত হয়ে যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00