📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 অনুকরণপ্রিয়তা

📄 অনুকরণপ্রিয়তা


অনুকরণকারী তার এই কাজে উৎসাহিত ও বাধ্য হওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো, নিজের মাঝে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভাকে নষ্ট করা, ভ্রষ্টতা ও মূর্খতার নগ্ন আক্রমণে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে সেই আঘাতকে বুকে ধারণ করে চলতে থাকা।
পাশ্চাত্যজগত এটা খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে যে, বিনোদনের বিষয়গুলোই কেবল এমন মজবুত মাধ্যম, যার মাধ্যমে তারা আমাদের মুসলিমদের দ্বীন-ইসলাম ক্রয় করতে পারবে, মুসলিম উম্মাহর মনোবল ও সুপ্ত প্রতিভা অকেজো করে দিতে পারবে। সুতরাং তারা আমাদের মাঝে সেগুলোর প্রচার-প্রসারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং বাস্তবে তার প্রয়োগও করেছে। আর এর মাধ্যমেই তাদের ভ্রান্ত ও নোংরা আকিদাগুলো মুসলিমদের হৃদয়ে পুশ-ইন করছে।
যার ফলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা নিজেদের শরীরে ক্রুসের ছবি অঙ্কন করছে, মদ পান করছে এবং নিজেদের আকিদা-বিশ্বাস নষ্ট করে ফেলছে। কিন্তু এগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করার মতো শক্তি-সাহস তাদের হচ্ছে না; বরং উল্টো প্রতিটি বিষয়ে অবলীলায় তারা পাশ্চাত্যের অনুকরণ করছে।
এখানেই শেষ নয়; বরং পশ্চিমাদের অনুকরণ করে সিয়োনের রাষ্ট্রচালকদের প্রোটোকল পর্যন্ত তুলে নেওয়া হয়েছে।[৩১] বিদেশি সভ্যতা আমদানি ও প্রচারের নীতিমালারও তোয়াক্কা করা হচ্ছে না কোনোভাবেই।
এমনকি তারা সিংহভাগ মুসলিম জনগণের হৃদয় থেকে রাজনৈতিক মানসিকতা বের করার জন্য; বরং রাজনৈতির কর্ণধারদের প্রজনন শক্তিহীন খাসির মতো বানিয়ে ফেলার জন্য এবৎ রাজনৈতিক বিষয়টি মুসলিম সমাজে গুরুত্বহীন করে ফেলার জন্য পশ্চিমারা মুসলিম সমাজে নানা রকম বেহুদা কাজকর্মের আয়োজন করেছে। যার মধ্যে বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলা, সিনেমা, থিয়েটার, কৌতুক, ম্যাজিকসহ এমনসব আবেদনময়ী বিষয়ের অবতারণা করেছে, যেগুলো মানুষকে বাস্তবতা থেকে ফিরিয়ে কেবল খেয়ালিপনায় অভ্যস্ত করে তোলে। কঠিন থেকে কঠিন বিপদের মুহূর্তে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করে কেবল এই খেয়ালেই গা ভাসিয়ে দেয় যে, দেখা যাক কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়! যার কারণে তারা জ্যোতিষী, গণক, কবিরাজ ও মনোবিজ্ঞানীদের কথার ওপর ভরসা করে তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজেকে কালের স্রোতে ভাসিয়ে দিচ্ছে।
সংস্কৃতি ও বিনোদনের নামে এসব বেহুদা কাজ একদিকে মানুষকে যেমন অকর্মণ্য করে ফেলে, অন্যদিকে তাদের মন-মস্তিষ্ককে করে ফেলে বিকারগ্রস্ত। নতুন কিছু তারা ভাবতে পারে না, সৃজনশীল কোনো সিদ্ধান্ত তারা গ্রহণ করতে পারে না। কেবল অলৌকিক কিছু হয়ে যাওয়ার আশায় বুক বেঁধে থাকে। যার কারণে মৌখিক বা লিখিত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। জাতীয় পর্যায়ে বা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কিছু করার ব্যাপারটি তারা আর কল্পনা করতে চায় না, কল্পনা করতেও পারে না।
এভাবেই তারা চতুর্মুখী প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আমাদের যুবকদের বিবেক-বুদ্ধি নিষ্ক্রিয় করে ফেলার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে পশ্চিমাদের যেকোনো চক্রান্ত প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যেতে চলেছে।

টিকাঃ
[৩১] সিয়োনের ত্রিয়োদশ শাসকের প্রোটোকল তুলে নেওয়া হয়েছিল। মাউন্ট সিয়োন মূলত একটি পর্বতের নাম ছিল, যেখানে এখন জেবুসাইট দুর্গটি দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু নামটি পরে দুর্গটির উত্তরে শুধু টেম্পল মাউন্টে প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা 'মাউন্ট মরিয়া' নামেও পরিচিত। মূলত 'সিয়োন কন্যা' অর্থাৎ, সিয়োন পাহাড়ের একটি প্রসারক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক পরে দ্বিতীয় মন্দির যুগে নামটি শুধু একটি প্রাচীরের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি পাহাড়ে প্রয়োগ করা হয়েছিল। পরবর্তী এই পর্বতটি এখনো 'সিয়োন মাউন্ট' হিসেবে পরিচিত। ব্যাবিলনীয় নির্বাসন-এর দৃষ্টিকোণ থেকে সিয়োন সমগ্র জেরুসালেম শহরটির সমর্থক হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। [উইকিপিডিয়া, সামান্য পরিমার্জিত] • সম্পাদক

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 মুসলিমদের সম্পদগুলো বিনষ্ট করা

📄 মুসলিমদের সম্পদগুলো বিনষ্ট করা


আল্লাহ তাআলা নানা প্রকার নিয়ামত ও সম্পদ দিয়ে মুসলিমদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন, যেগুলো তাদের ভূখণ্ড নিজ গর্ভে সংরক্ষণ করে রেখেছে। কাফিররা যেকোনোভাবেই হোক অবিরত সেগুলো দখল করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু তারা বহুবার যুদ্ধের ময়দানে পরাজিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরমভাবে। তাই তারা মুসলিমদের এই সম্পদগুলো দখল করার জন্য ভিন্ন পথে দাবার গুটি চালছে; এর প্রধান ও প্রথম গুটি হলো, মুসলিম জনপদগুলোকে এমনসব বেহুদা কাজে আটকে দেওয়া, যার অণুপরিমাণ প্রয়োজনও কোনো মুসলিম এবং তাদের জনপদগুলোর নেই।
এই পথে তারা অতীতের যুদ্ধগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সফল হয়েছে। ফলে তারা বাহারি রূপে সাজিয়ে আমাদের সামনে কল্যাণ ও অকল্যাণের এমন বহু দরজা খুলে দিয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে তারা আমাদের ওই সম্পদগুলো কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যেই সম্পদগুলো আমরা জীবন দিয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছিলাম শতাব্দীর পর শতাব্দী।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 চারিত্রিক অবকটামোয় দুর্বলতা বৃদ্ধি করা

📄 চারিত্রিক অবকটামোয় দুর্বলতা বৃদ্ধি করা


পশ্চিমারা সর্বানাশা বিষ হিসেবে যেই জীবানুগুলো সর্বাগ্রে উপস্থাপন করেছে তা হলো, থিয়েটার, টিভিচ্যানেল, গান-বাজনা ও এমন সব বিনোদনমূলক ও ফুর্তিবাহক যন্ত্র, যেগুলো একদিকে তো চারিত্রিক অবক্ষয়ের দিকে ডাকে, অন্যদিকে আহ্বান করে আকিদা ও বিশ্বাসগত বিকৃতি ও পদস্খলনের দিকে।
অধিকাংশ ফিল্ম ও মুভি, যেগুলোর মাধ্যমে এই অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে, সেগুলোর নির্মাতা ও স্বত্বাধিকারী হলো ইহুদি সম্প্রদায়। এই নোংরা শিল্পের মাধ্যমে তাদের বড় টার্গেট, মুসলিমদের আখলাক নষ্ট করা এবং চারিত্রিক অবক্ষয় নিশ্চিত করা।

📘 মুমিনের বিনোদন > 📄 খেলাধুলার মাধ্যমে মুক্তি ও দায়িত্বশীলতার বিশ্বাস চুরমার করা

📄 খেলাধুলার মাধ্যমে মুক্তি ও দায়িত্বশীলতার বিশ্বাস চুরমার করা


খুব ভালোভাবে বুঝতে হবে ও মনে রাখতে হবে যে, বিনোদনমূলক খেলাধুলার মাধ্যমে তারা যে অপপ্রয়াস চালাচ্ছে, এগুলো মুসলিমদের গুনাহমুক্ত থাকার ও দায়িত্বশীলতার চাবিকাঠি ইমান-আকিদা নষ্ট করার মূল নীলনকশার একটি রেখামাত্র।
মি. ওয়ালবার্ট স্মিথ বলেন, 'খেলাধুলা এটা প্রমাণ করেছে যে, তা দর্শনগতভাবে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর গোঁড়া দুটি দলকে কাছাকাছি নিয়ে আসতে এবং পরস্পরকে একে অপরের প্রতি দুর্বল করতে সহযোগী হয়। ১৯৫৯ সালে ইহুদিদের ইংরেজি পত্রিকার সংবাদের ভিত্তিতে আরবরা যখন সাধারণভাবে কুদস (বাইতুল মুকাদ্দাস) উদ্ধারের ঘোষণা দিল, ঠিক সেই সময় 'জামইয়্যাতুশ শুব্বানিল মাসিহিয়্যা' প্রতিষ্ঠিত হয়। যার এজেন্ডা ছিল আরব ও ইহুদিদের পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ করা; এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে উভয়ের মাঝে টেনিস খেলার আয়োজন করা হয়।
যেই খেলায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়ারদের মাঝে মুসলিম ও ইহুদি উভয় জাতিই ছিল। খেলা উপভোগ করার জন্য সেখানে মাজলুম ফিলিস্তিনিরাও দর্শকদের কাতারে ছিল। শুধু কি তাই? না; বরং ফিলিস্তিনিরা ইংরেজ, আমেরিকান, আলমেনীয় ও রিয়াদের কর্ণধারদের সাথে কাঁধ মিলিয়ে খেলা দেখেছে। খেলোয়াররা যখনই কোনো ভালো খেলা উপহার দিচ্ছিল, ইহুদিরা চিৎকার করে আরবদের সাধুবাদ জানাচ্ছিল। আবার ইহুদি খেলোয়াররা যখন ভালো কোনো খেলা উপহার দিচ্ছিল, আরবরা চিৎকার করে তাদের সাধুবাদ জানাচ্ছিল। এভাবে একসময় চা চক্রও চলেছিল। যেখানে প্রায় ৫০জন ফিলিস্তিনি, ইংরেজ ও সিয়োনিয়ান অংশগ্রহণ করেছিল।

টিকাঃ
[৩২] এ ধরনের খেলার আয়োজন দ্বারা বাইতুল মুকাদ্দাস উদ্ধারের আন্দোলন পুরোই চাপা পড়ে যায়, যার কারণে স্বয়ং ফিলিস্তিনিরাও আপন লক্ষ্যের কথা বিস্মৃত হয়ে যায়। -সম্পাদক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00