📘 মুমিনের আখলাক > 📄 দায়িত্বের আমানত

📄 দায়িত্বের আমানত


যখন আপনাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়, অবশ্যই সেটি একটি আমানত। এর দায়িত্ব ঠিকমতো পালনের মাধ্যমে আপনি আমানত রক্ষা করতে পারেন। যত বড়ো দায়িত্ব, আমানতও তত বেশি। ফলে একজন ন্যায়পরায়ণ শাসকের প্রশংসা করা হয়। কারণ, তিনি তার আমানতগুলো যথাযথভাবে রক্ষা করেন।
আপনি যদি চাকরি করেন, সেখানে আপনার বিভিন্ন দায়িত্ব থাকবে। এইসব দায়িত্ব আপনাকে যথাযথভাবে পালন করতে হবে। চাকরিটা কোনো কারণে আপনার কাছে অপছন্দনীয় হলে সেটা ছেড়ে দিতে পারেন। তাই বলে ইচ্ছে করে আপনি ফাঁকিবাজি করতে পারেন না, আমানতের খেয়ানত করতে পারেন না।

📘 মুমিনের আখলাক > 📄 আর্থিক আমানত

📄 আর্থিক আমানত


কেউ যদি আপনার কাছে টাকা জমা রাখে, সেটা আপনার কাছে আমানত। ব্যাংকব্যবস্থার পূর্বে মানুষ মানুষের কাছে টাকা জমা রাখত। কোথাও সফর করার পূর্বে সমস্ত টাকা বা সম্পদ তারা যাকে বিশ্বাস করত, তার কাছে আমানত রাখত।
আপনি কারও কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করলে সময়মতো সেই ঋণ ফিরিয়ে দেওয়া আপনার দায়িত্ব। যদি ঋণ গ্রহণের কথা অস্বীকার করেন, ঋণ ফিরিয়ে না দেন, তাহলে আপনি আমানতের খেয়ানত করলেন।

📘 মুমিনের আখলাক > 📄 জিহ্বার আমানত

📄 জিহ্বার আমানত


আপনি যখন কাউকে কোনো কথা দেবেন, সেই কথা রক্ষা করা আপনার দায়িত্ব; এটাও একপ্রকার আমানত।

📘 মুমিনের আখলাক > 📄 কথার আমানত

📄 কথার আমানত


কেউ যদি আমাদের কোনো কথা বলার পর সেটা গোপন করতে বলে, তাহলে সেটাও একধরনের আমানত। যদি তার গোপন কথাটি কাউকে বলে দিই, তাহলে আমানতের খেয়ানত হবে।
নবিজি বলেন, সকল মজলিস আমানতস্বরূপ। আমরা একসাথে অনেকজন বসি, আড্ডা দিই। সেখানে নানান কথা-কারবার নিয়েই আলোচনা হয়। ওসব আলোচনার কিছু কিছু অংশ আবার অনেকেই ফেসবুকে পোস্ট আকারে লিখতে চায়। তখন লেখার পূর্বে ভেবে নিন কিংবা যার আলোচনার অংশবিশেষ পোস্ট করার কথা ভাবছেন, তাকে জিজ্ঞেস করে নিন। নবিজি বলেন, কোনো ব্যক্তি কোনো কথা বলার পর মুখ ঘোরালে (কেউ শুনছে কিনা তা পুনরায় পরখ করলে) তা আমানতস্বরূপ।
কেউ কোনো কথা বলার পর 'কথাটি গোপন রাখবেন' বলতে হবে কেন? আপনাকে সে বিশ্বাস করেই তো কথাটি বলেছে, সতর্ক করুক বা না করুন। কথার ধরন দেখেই যদি বোঝেন, এটি গোপন কথা; তাহলে অবশ্যই আপনি তা গোপন রাখুন।
মনে করুন, এক মজলিসে একজন আরেকজনের গিবত করল। সে কিন্তু গিবত করে গুনাহ কামিয়েছে। এখন যদি আপনি ওই গিবতের কথা, যাকে নিয়ে গিবত করা হয়েছে তার কানে পৌঁছে দেন, তখন সেটাও গুনাহের কাজ। একে বলা হয় 'নামিমাহ'। গিবত যেমন হারাম, তা অন্যজনকে জানানোও হারাম।

টিকাঃ
৭৯ সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৬৯
৮০ সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৬৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00