📄 দুআ করা
দুজন সাহাবি নবিজির সামনে রাগান্বিত হলেন। একপর্যায়ে তারা একজন আরেকজনকে কটু কথা বলতে লাগলেন। রাগের আতিশয্যে একজনের চেহারা তো টগবগে লালই হয়ে গিয়েছিল, চেহারার রগগুলো ফুলে উঠেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন-আমি এমন একটা দুআ জানি, যেটা পড়লে রাগ দূর হয়ে যাবে। উপস্থিত সাহাবিরা জানতে চাইল, দুআটি কী? উত্তরে নবিজি বললেন, আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বয়ান।
টিকাঃ
৬৭ সহিহ বুখারি: ৩২৮২
📄 অজু করা
নবিজি বলেন, রাগ আসে শয়তান থেকে। শয়তানকে আগুন থেকে তৈরি করা হয়েছে। অতএব, তোমাদের কারও রাগ হলে সে যেন অজু করে নেয়।
টিকাঃ
৬৮ সুনানে আবু দাউদ: ৪৭৮৪
📄 কাজ কমিয়ে দেওয়া
নবিজি বলেন, তোমাদের কেউ যদি দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হয়, সে যেন বসে পড়ে। এতে যদি তার রাগ কমে, তাহলে তো ভালো; অন্যথায় সে যেন শুয়ে পড়ে।
টিকাঃ
৬৯ সুনানে আবু দাউদ: ৪৭৮২
📄 নীরবতা অবলম্বন
নবিজি বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ রাগান্বিত হলে, সে যেন নীরবতা অবলম্বন করে।
সুন্নাহর আলোকে রাগ নিয়ন্ত্রণের এই চারটি পদ্ধতি পাওয়া যায়। সাইকোলজিস্টরা এর সঙ্গে যুক্ত করে আরেকটি পদ্ধতির কথা বলেন। সেটা হলো, কোন কাজটির ফলে আপনি রেগে যান, তা চিহ্নিত ও উপলব্ধি করা। অতঃপর ওই কাজটি করা থেকে বিরত থাকা। অভ্যাস থাকলে এর বিপরীতে অভ্যস্ত হওয়া। তাতেও নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
মনে করুন, ফেসবুকে কারও লেখা পড়লে আপনার রাগ ওঠে। যতবার তার লেখা চোখের সামনে আসে, ততবার আপনি রাগে ফোঁস ফোঁস করেন। এক্ষেত্রে আপনার কাজ হলো সেই ব্যক্তিকে 'আনফলো' করা। আপনি রাগান্বিত হলে কিছুক্ষণ কথা বলা বা কারও ম্যাসেজের উত্তর দেওয়া বন্ধ রাখুন। মন শান্ত হলে রাগ কমবে। আর তখন কথা বলুন কিংবা ফেসবুকে কমেন্ট-ম্যাসেজের উত্তর দিন।
রাগ আমাদের শারীরিক সমস্যারও কারণ বটে। যেমন: উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ হলো রাগ। কেউ আপনাকে কিছু বলতে থাকলে তার মুখ বন্ধ করতে পারবেন না। কিন্তু তার ওপর রাগ করবেন নাকি ক্ষমা করে দেবেন, সেটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আপনার কাছে।
সাইকোলজিস্টরা বলেন, বেশির ভাগ রাগের অন্যতম কারণ হলো আমাদের ইগো। আপনি রাগ করেন কেন? কারণ, আপনি মনে করেন-আপনার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এমন কোনো কথা বলা কিংবা কোনো কাজ করা হয়েছে। আপনি যদি নিজেকে ছোটো করে দেখেন, বিনয়ী হন, উদারতা দেখান; দেখবেন রাগ করার মতো অসংখ্য কারণ কমে আসবে। তখন নিজেকে সংযত রাখতে পারবেন।
একবার এক ভরা মজলিসে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, আপনিই কি শাফেয়ি? ইমাম শাফেয়ি রহিমাহুল্লাহ হ্যাঁ-সূচক উত্তর দিলে লোকটি বলে উঠল, তুমি একজন নিকৃষ্ট পাপী। ইমাম শাফেয়ি তৎক্ষণাৎ দুআ করলেন, ইয়া আল্লাহ! লোকটি যা বলল তা যদি সত্যি হয়, তাহলে আমাকে ক্ষমা করুন। আর যা বলল তা যদি মিথ্যে হয়, তাহলে মিথ্যে বলার জন্য তাকেও ক্ষমা করুন।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, যদি কোনো মানুষকে যাচাই করতে হয়, সে যখন শান্ত থাকে তখন যাচাই করো না; বরং সে যখন রাগান্বিত হয়, তখন তাকে যাচাই করো।
একজন রাগান্বিত মানুষের আচরণই বলে দেয়-সে কেমন মানুষ, তার মধ্যে নীতি-নৈতিকতাবোধ কেমন। ঠান্ডা মাথায় আপনি নীতি-নৈতিকতা, আদব-আখলাক শিখলেন। কিন্তু এগুলো যখন প্রয়োগ করার সময় আসে, তখন যদি আপনি উত্তেজিত হয়ে অনৈতিক কাজ করে ফেলেন, বেয়াদবিমূলক কাজ করেন, তাহলে মুখস্থ নীতি-নৈতিকতা শিখে আপনার কোনোই লাভ হলো না!
টিকাঃ
৭০ ইমাম বুখারি, আদাবুল মুফরাদ: ২৪৪