📄 হিকমা অবলম্বন করে ব্যবসা
এক্ষেত্রেও হিকমার প্রয়োজন। আপনি যখন ব্যাবসার উদ্দেশ্যে কিছু কিনবেন, বুঝে-শুনে কিনবেন। একই কথা বিক্রির বেলায়ও শিরোধার্য। এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে আমরা হিকমা অর্জন করতে পারি? কীভাবে প্রজ্ঞাবান হতে পারি?
ক. আল্লাহর কাছে চাইতে হবে : যেকোনো কিছুই পেতে হলে সবার আগে চাইতে হবে আল্লাহর কাছে। আপনি যদি সমস্ত আবেগ ঢেলে আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর কাছে চান, অবশ্যই তিনি তা দান করবেন। নবিজি তাঁর চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করেন-হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে হিকমা শিক্ষা দিন।
এমন না যে ইবনে আব্বাস (রা.) ওই সময় জন্মগ্রহণ করেননি বা তিনি ছোটো ছিলেন। তখন তিনি কিশোর। নবিজি সেই অবস্থায় তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করেন, আল্লাহ যেন তাঁকে হিকমা শিক্ষা দেন এবং প্রজ্ঞাবান বানান। ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর কাছে দুআ করেন-'রাব্বি হাবলি হুকমা-হে আল্লাহ! আমাকে হিকমা দান করুন। '
টিকাঃ
৫৬ তাফসিরে তাবারি: ৮/৮৯
৫৭ তাফসির ইবনে কাসির: ২/৩০৯
৫৮ সহিহ বুখারি: ৩৭৫৬
৫৯ সূরা শুআরা: ৮৩
📄 পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে
আপনি দিল খোলা রেখে কোনো কিছুকে একনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করলে সেখান থেকে অনেক কিছু না হোক, কিছু শিখতে পারবেন। আশপাশের সমাজ, পাড়াপড়শি এবং নানান মানুষের কাছ থেকে তাদের কাজের নিরিখ অবলোকন করেও প্রজ্ঞাবান হতে পারবেন। তখন নিজেই বুঝতে পারবেন, প্রজ্ঞার সাথে কোন কাজ কীভাবে করতে হয়। কিন্তু যদি অহংকারী হন, তাহলে আপনাকে দিয়ে হবে না। কোনো কিছুই আপনি শিখতে পারবেন না। আমাদের পূর্ববর্তী আলিমগণ বলতেন, প্রজ্ঞাবান সে, যে অন্যের ভুল দেখে শেখে, অন্যরা তার ভুল দেখে শেখার আগে।
একই ভুল একজন করেছে। আপনি শিখেছেন। ভুল করেননি। কিন্তু আপনিও যদি ওই একই ভুল করেন, তাহলে তো আর প্রজ্ঞাবান হতে পারলেন না। দ্বীনি ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাবান হতে চাইলে প্রজ্ঞাবান আলিমের সাহচর্যে থাকুন। আর ব্যাবসার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাবান হতে চাইলে প্রজ্ঞাবান ব্যবসায়ীর সাথে থাকুন।
📄 ইতিহাস পাঠ
ইতিহাস পড়লে মানবজাতির উত্থান-পতনের বিস্তারিত ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারবেন। বুঝতে পারবেন, কোন কোন কর্মের বদৌলতে একটা জাতি বা বিশেষ কোনো ব্যক্তির পতন হয়েছে। অপর দিকে কীভাবে একটা জাতি সভ্যতার উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছে এবং কোন কোন আদর্শ ব্যক্তিজীবনে লালনের পর বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিরা সফল হয়েছেন। আপনার বাস্তব জীবনে সুফল বয়ে আনা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে ইতিহাস পাঠ সহায়ক হবে। ইতিহাসের গভীর পাঠে মগ্ন হলে বহু ঘটনা অতীতের সাথে বর্তমানের মিল খুঁজে পাবেন। আমাদের ব্যাবহারিক ও বাস্তবিক জীবনে প্রজ্ঞাবান হওয়ার ক্ষেত্রে ইতিহাস পাঠ ব্যাপক ভূমিকা রাখে।