📄 দ্বীনের ব্যাপারে হিকমা
শ্রেষ্ঠ হিকমা হলো দ্বীনের ব্যাপারে হিকমা। এই হিকমা মানে হলো-শরিয়ায় যেভাবে বলা আছে, ঠিক সেভাবে জীবনযাপন করা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, প্রজ্ঞার মূলভিত্তি হলো আল্লাহকে ভয় করা। আপনি যখন বুঝবেন আপনাকে কে সৃষ্টি করছে, তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কী কী করতে হবে, তবে সেটাই হবে শ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন- 'নিশ্চয় তাওবা কবুল করা আল্লাহর জিম্মায় তাদের জন্য, যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে। তারপর শীঘ্রই তাওবা করে। অতঃপর আল্লাহ এদের তাওবা কবুল করবেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।'
টিকাঃ
৫৩ সূরা নাহল: ১২৫
৫৪ ইমাম বায়হাকি, শুআবুল ঈমান: ৭১২
৫৫ সূরা নিসা: ১৭
📄 মানবজাতির সাথে হিকমার সহিত আচরণ
আপনি কারও সাথে কথা বলা এবং লেনদেন করার সময় হিকমার সাথে করবেন। এমনকি শত্রুর সাথেও একই আচরণ করবেন। এর ফলে আপনার সম্পর্ক দারুণভাবে গড়তে পারে। অন্যদিকে এর অভাবে সম্পর্ক ভাঙতেও পারে। কিছু কিছু সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ, নিজ জীবনে হিকমার বাস্তবায়ন না করা। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, অফিসের কর্মকর্তা-মালিকের সম্পর্ক ভেঙে যায় এই হিকমা বা প্রজ্ঞার সহিত কাজ না করার ফলে।
📄 হিকমা অবলম্বন করে ব্যবসা
এক্ষেত্রেও হিকমার প্রয়োজন। আপনি যখন ব্যাবসার উদ্দেশ্যে কিছু কিনবেন, বুঝে-শুনে কিনবেন। একই কথা বিক্রির বেলায়ও শিরোধার্য। এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে আমরা হিকমা অর্জন করতে পারি? কীভাবে প্রজ্ঞাবান হতে পারি?
ক. আল্লাহর কাছে চাইতে হবে : যেকোনো কিছুই পেতে হলে সবার আগে চাইতে হবে আল্লাহর কাছে। আপনি যদি সমস্ত আবেগ ঢেলে আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর কাছে চান, অবশ্যই তিনি তা দান করবেন। নবিজি তাঁর চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করেন-হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে হিকমা শিক্ষা দিন।
এমন না যে ইবনে আব্বাস (রা.) ওই সময় জন্মগ্রহণ করেননি বা তিনি ছোটো ছিলেন। তখন তিনি কিশোর। নবিজি সেই অবস্থায় তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করেন, আল্লাহ যেন তাঁকে হিকমা শিক্ষা দেন এবং প্রজ্ঞাবান বানান। ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর কাছে দুআ করেন-'রাব্বি হাবলি হুকমা-হে আল্লাহ! আমাকে হিকমা দান করুন। '
টিকাঃ
৫৬ তাফসিরে তাবারি: ৮/৮৯
৫৭ তাফসির ইবনে কাসির: ২/৩০৯
৫৮ সহিহ বুখারি: ৩৭৫৬
৫৯ সূরা শুআরা: ৮৩
📄 পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে
আপনি দিল খোলা রেখে কোনো কিছুকে একনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করলে সেখান থেকে অনেক কিছু না হোক, কিছু শিখতে পারবেন। আশপাশের সমাজ, পাড়াপড়শি এবং নানান মানুষের কাছ থেকে তাদের কাজের নিরিখ অবলোকন করেও প্রজ্ঞাবান হতে পারবেন। তখন নিজেই বুঝতে পারবেন, প্রজ্ঞার সাথে কোন কাজ কীভাবে করতে হয়। কিন্তু যদি অহংকারী হন, তাহলে আপনাকে দিয়ে হবে না। কোনো কিছুই আপনি শিখতে পারবেন না। আমাদের পূর্ববর্তী আলিমগণ বলতেন, প্রজ্ঞাবান সে, যে অন্যের ভুল দেখে শেখে, অন্যরা তার ভুল দেখে শেখার আগে।
একই ভুল একজন করেছে। আপনি শিখেছেন। ভুল করেননি। কিন্তু আপনিও যদি ওই একই ভুল করেন, তাহলে তো আর প্রজ্ঞাবান হতে পারলেন না। দ্বীনি ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাবান হতে চাইলে প্রজ্ঞাবান আলিমের সাহচর্যে থাকুন। আর ব্যাবসার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাবান হতে চাইলে প্রজ্ঞাবান ব্যবসায়ীর সাথে থাকুন।