📘 মুমিনের আখলাক > 📄 অহংকারের পরিণতি নিয়ে ভাবা

📄 অহংকারের পরিণতি নিয়ে ভাবা


আমরা অহংকারের পরিণতি নিয়ে ভাবতে পারলে স্বভাবতই খুব সহজেই বিনয়ী হতে পারব। যখন জানব ইবলিস, ফেরাউন, আবু লাহাবের পরিণতির কারণ ছিল তাদের অহংকার, তখন আমরা সেই বদ গুণ থেকে দূরে থাকতে পারব। নবিজি বলেন, যে ব্যক্তির অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।২০ অহংকারের ভয়াবহ পরিণতি আমাদের নিরহংকারী হওয়ার উৎসাহ জোগাতে পারে।

টিকাঃ
২০ সহিহ মুসলিম: ১৬৭

📘 মুমিনের আখলাক > 📄 অন্তরকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা

📄 অন্তরকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা


কখনো যদি মনে হয় আপনার অন্তর অহংকারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, অবশ্যই তাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তখন ভাববেন, যে জিনিস নিয়ে অহংকার করছেন, সেটা আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন। আর তখন অহংবোধের সেই গরিমা অন্তরে কাজ করবে না। মনে মনে ভাববেন, আমি এটার যোগ্য না। তারপরও অনুগ্রহ করে আল্লাহ আমাকে তা দান করেছেন।

📘 মুমিনের আখলাক > 📄 গোপন আমল

📄 গোপন আমল


যখন কেউ আপনাকে দেখছে না; একাকী, নির্জনে আছেন-আপনি আমল করুন এবং গোপন আমল বাড়িয়ে দিন। তাহাজ্জুদ পড়ুন, নফল ইবাদত করুন। লুকিয়ে সাদাকা করুন; ডান হাতে দিলে যেন বাম হাত বুঝতে না পারে। মদিনায় যাওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথম যে ভাষণ দেন, সেখানে তিনি গোপন আমলের ব্যাপারে ব্যাপক উৎসাহ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ বলেন, হে মানুষ! তোমরা ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় (তাহাজ্জুদ) নামাজ আদায় করো।

টিকাঃ
২১ জামে আত-তিরমিজি: ২৪৮৫

📘 মুমিনের আখলাক > 📄 কোনো হালাল কাজকে অবজ্ঞা না করা

📄 কোনো হালাল কাজকে অবজ্ঞা না করা


নবিজি নিজের জুতা নিজে সেলাই করতেন। তিনি চাইলে সাহাবিদের মধ্য থেকে একজনকে বলতে পারতেন। তাঁরা কখনোই না করতেন না। বিনা বাক্যে তাঁরা এ কাজ করে দিতেন। অথচ তিনি নিজের কাজটা নিজেই করেছেন। এ থেকে আমরা শিখতে পারি, নিজের কোনো হালাল কাজকে ছোটো করে দেখব না। আবার কাউকে সেটা করতে দেখলে তাকেও খাটো করব না।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তখন খলিফা। একবার তিনি পানির কলসি বহন করছিলেন। উরওয়া ইবনে জুবাইর (রহ.) খলিফাকে এই অবস্থায় দেখে বললেন, হে আমিরুল মুমিনিন! এ কাজ আপনার শোভা পায় না। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বললেন, যখন প্রতিনিধিদল আনুগত্যের দৃষ্টান্ত দেখিয়ে আমার কাছে আসে, আমার মনে একধরনের বড়োত্ব অনুভব হয়। তাই এই বড়োত্বকে ভেঙে ফেলা আমি জরুরি বলে মনে করছি।
গত শতাব্দীর একজন বড়ো আলিম ছিলেন আমার শিক্ষক। একবার সবাই দেখল সেই আলিম মসজিদের টয়লেট পরিষ্কার করছেন। তারা অবাক হলো। তাঁর ছেলে বলল-আব্বা, এসব কী করছেন? এসব করার জন্য তো লোক রাখা আছে। তিনি একই কথা বললেন, যে কথা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছিলেন, আমি আমার মনে একধরনের বড়োত্ব অনুভব করেছি। তাই এই বড়োত্বকে ভেঙে ফেলা আমি জরুরি বলে মনে করছি। নবিজি, সাহাবি এবং বড়ো বড়ো আলিমগণ এমন ছোটোখাটো কাজকে তুচ্ছজ্ঞান করতেন না।

টিকাঃ
২২ ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম, মাদারিজুস সালিকিন: ২/৩৩০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00