📄 আপনার প্রশংসা করা হলে আপনি অস্বস্তিবোধ করবেন
যদি আশা করেন মানুষ আপনার প্রশংসা করবে, প্রশংসা না করলে রাগ করেন, বুঝতে হবে আপনার মধ্যে নম্রতা নেই। হ্যাঁ, বিশেষভাবে নির্দিষ্ট কোনো গুণের জন্য মানুষ আপনাকে প্রশংসা করতে পারে। তখন আপনি আল্লাহর প্রশংসা করে সেটার কৃতিত্ব আল্লাহকে দেবেন। কিন্তু মনে মনে ভাবতে হবে, আপনি এমন প্রশংসা লাভের যোগ্য নন।
📄 ভুল হলে সংশোধনের মানসিকতা রাখা
আপনি বিনয়ী নাকি অহংকারী সেটা বুঝতে পারবেন কেউ যখন আপনার ভুল ধরিয়ে দেবে। ইবাদতের ক্ষেত্রে ভুল হলে তাওবা করবেন। মানুষের সাথে কোনো ভুল করলে তার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন। যদি এমন হয়, আপনি একটি ভুল করেছেন। আর তা একজন ধরিয়ে বা মনে করিয়ে দিলো, কিন্তু প্রচণ্ড রাগ হলো আপনার। তখন কিন্তু আপনার মনে অহমিকা ভাব চলে এসেছে। তা ছাড়া আপনি জানেন, ভুল আপনারই ছিল; কিন্তু আপনি ভুল স্বীকার করলেন না, নত হলেন না। বুঝতে হবে আপনার মধ্যে অহংকার জন্ম নিয়েছে। নবিজি অহংকারের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, প্রকৃতপক্ষে অহংকার হচ্ছে দম্ভভরে সত্য ও ন্যায় অস্বীকার করা এবং মানুষকে ঘৃণা করা।১৫ অহংকার করে সত্য অস্বীকার করা হলো শয়তানের কাজ। শয়তানের এই কাজকে আল্লাহ 'কুফর' হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন-
'সে অস্বীকার করল এবং অহংকার করল। অতঃপর সে হলো কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত। '
আল্লাহর কাছে বিনয়ের বিপরীত হলো কুফর! আল্লাহকে স্বীকার করা কিংবা অহংকারবশত অস্বীকার করা।
টিকাঃ
১৫ সহিহ মুসলিম: ১৬৬
১৬ সূরা বাকারা: ৩৪
📄 অহংকারের পরিণতি নিয়ে ভাবা
আমরা অহংকারের পরিণতি নিয়ে ভাবতে পারলে স্বভাবতই খুব সহজেই বিনয়ী হতে পারব। যখন জানব ইবলিস, ফেরাউন, আবু লাহাবের পরিণতির কারণ ছিল তাদের অহংকার, তখন আমরা সেই বদ গুণ থেকে দূরে থাকতে পারব। নবিজি বলেন, যে ব্যক্তির অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।২০ অহংকারের ভয়াবহ পরিণতি আমাদের নিরহংকারী হওয়ার উৎসাহ জোগাতে পারে।
টিকাঃ
২০ সহিহ মুসলিম: ১৬৭
📄 অন্তরকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
কখনো যদি মনে হয় আপনার অন্তর অহংকারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, অবশ্যই তাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তখন ভাববেন, যে জিনিস নিয়ে অহংকার করছেন, সেটা আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন। আর তখন অহংবোধের সেই গরিমা অন্তরে কাজ করবে না। মনে মনে ভাববেন, আমি এটার যোগ্য না। তারপরও অনুগ্রহ করে আল্লাহ আমাকে তা দান করেছেন।