📄 বিতর ছালাত
বিতর ছালাত সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ। ৩১৯ এশার ফরয ছালাতের পর হ'তে ফজর পর্যন্ত সুন্নাত ও নফল ছালাত সমূহ আদায়ের পরে বিতার আদায় করতে হয়। ৩২০ এ ছালাত অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বাড়ীতে বা সফরে কোন অবস্থায় বিতর ও ফজরের দু'রাক'আত সুন্নাত ছালাত ছাড়তেন না। ৩২১
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, صَلَاةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى، فَإِذَا حَشِيَ أَحَدُكُمُ الصُّبْحَ صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى - 'রাতের নফল ছালাত দুই দুই (রাক'আত)। অতঃপর যখন তোমাদের কেউ ফজর হয়ে যাবার আশংকা করবে, তখন সে যেন এক রাক'আত পড়ে নেয়। যা তার পূর্বেকার সকল নফল ছালাতকে বিতরে পরিণত করবে'। ৩২২ অন্য হাদীছে এসেছে, তিনি বলেন, الْوِتْرُ رَكْعَةٌ مِّنْ آخِرِ اللَّيْلِ 'বিতর রাত্রির শেষে এক রাক'আত মাত্র'। ৩২৩ আয়েশা (রাঃ) বলেন، وَكَانَ يُوتِرُ بِوَاحِدَة 'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এক রাক'আত দ্বারা বিতর করতেন'। ৩২৪
**টিকাঃ**
৩১৯. ফিকহুস সুন্নাহ ১/১৪৩; নাসাঈ হা/১৬৭৬; মির'আত ২/২০৭; ঐ, ৪/২৭৩-৭৪।
৩২০. ফিকহুস সুন্নাহ ১/১৪৪; ছহীহ আত-তারগীব হা/৫৯২-৯৩।
৩২১. ইবনুল ক্বাইয়িম, যা-দুল মা'আ-দ (বৈরূত : মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ২৯ সংস্করণ, ১৪১৬/১৯৯৬) ১/৪৫৬।
৩২২. বুখারী হা/৯৯০ 'বিতর' অধ্যায়; মিশকাত হা/১২৫৪ 'ছালাত' অধ্যায়, 'বিতর' অনুচ্ছেদ।
৩২৩. মুসলিম, মিশকাত হা/১২৫৫।
৩২৪. ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১২৮৫।
📄 রাত্রিকালীন যিকর-আযকার
আল্লাহ্র যিকর করা ইবাদত। যা মুমিনের জন্য অতি উপকারী। আল্লাহ বলেন، وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ 'তুমি যিকর কর, কেননা যিকর মুমিনের উপকার করে' (যারিয়াত ৫১/৫৫)। আল্লাহ আরো বলেন, الَّذِينَ
(الَّذِيْنَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ) যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে' (আলে ইমরান ৩/১৯১)। আর রাত্রিকালে যিকর করার বিশেষ ফযীলত হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। ওবাদা বিন ছামিত (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
مَنْ تَعَارَّ مِنَ اللَّيْلِ فَقَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي أَوْ قَالَ ثُمَّ دَعَا اسْتَجِيْبَ لَهُ فَإِنْ تَوَضَّأَ وَصَلَّى قُبِلَتْ صَلَاتُهُ.
'যে ব্যক্তি রাত্রে জেগে বলে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই জন্য প্রশংসা, তিনি সমস্ত বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান, আমি আল্লাহ্র পবিত্রতা বর্ণনা করছি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই, আল্লাহ অতি মহান, আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত আমার কোন শক্তি ও সামর্থ্য নেই'। অতঃপর বলে, 'হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর। অতঃপর কোন প্রার্থনা করলে, আল্লাহ তার সে প্রার্থনা মঞ্জুর করেন এবং সে যদি ওযু করে ছালাত আদায় করে, আল্লাহ তার সে ছালাত কবুল করেন'। ৩২৫
উল্লেখ্য, আল্লাহ্র যিক্র করতে হবে নীরবে। আল্লাহ বলেন, وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُوْنَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ তোমার প্রভুকে সকাল-সন্ধ্যায় আপন মনে অত্যন্ত বিনীত ও ভীত সন্ত্রস্তভাবে স্মরণ কর, উচ্চ শব্দে নয়' (আরাফ ৭/২০৫)। তিনি আরো বলেন, ۚادْعُوا رَبَّكُمْ - تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً 'তোমাদের প্রভুকে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এবং সংগোপনে ডাক' (আ'রাফ ৭/৫৫)। একদা এক সফরে ছাহাবীগণ আওয়াজ করে তাসবীহ পাঠ করলে রাসূল (ছাঃ) তাদের চুপে চুপে তাসবীহ পাঠের নির্দেশ দিয়ে বলেন 'তোমরা এমন সত্তাকে ডাকছ যিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা'। ৩২৬
**টিকাঃ**
৩২৫. বুখারী হা/১১৫৪; মিশকাত হা/১১৪৫।
৩২৬. বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৩০৩।
📄 রাত্রিকালীন দো’আ ও ইস্তেগফার
রাতে এমন কিছু মুহূর্ত রয়েছে, যখন আল্লাহর দরবারে দো'আ করলে, তা কবুল হয়। এজন্য রাতে জেগে আল্লাহ্র নিকটে দো'আ করা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা যরূরী। আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,
يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِيْنَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ يَقُولُ مَنْ يَدْعُوْنِي فَأَسْتَجِيْبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفَرَ لَهُ -
'আমাদের প্রতিপালক প্রত্যেক রাতেই নিকটবর্তী আকাশে (১ম আকাশে) অবতীর্ণ হন, যখন রাতের শেষ তৃতীয় ভাগ অবশিষ্ট থাকে এবং বলতে থাকেন, কে আছে যে আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে যে আমার নিকট কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দান করব এবং কে আছে যে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব'। ৩২৭
অন্যত্র রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِنَّ فِي اللَّيْلِ لَسَاعَةً، لَا يُوَافِقُهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ يَسْألُ الله تَعَالَى خَيْراً مِّنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ، وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ
'রাত্রের মধ্যে এমন একটি সময় আছে, যদি কোন মুসলমান সে সময় লাভ করতে পারে এবং আল্লাহ্র নিকট ইহকাল ও পরকালের কোন কল্যাণ চায় আল্লাহ তাকে তা দান করেন। আর এই সময়টি প্রত্যেক রাতেই রয়েছে'। ৩২৮
**টিকাঃ**
৩২৭. বুখারী হা/১১৪৫; মুসলিম হা/৭৫৮; মিশকাত হা/১২২৩।
৩২৮. মুসলিম হা/৭৫৭; মিশকাত হা/১২২৪।
📄 রাত্রিকালীন আমলের পরিসমাপ্তি
ফজরের ছালাত আদায়ের মাধ্যমে রাতের আমলের পরিসমাপ্তি ঘটে। ফজর ছালাত আদায় না করলে মানুষ কলুষিত অন্তর নিয়ে জাগ্রত হয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন,
يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلَاثَ عُقَدِ، يَضْرِبُ كُلَّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ الْحَلَّتْ عُقْدَةً، فَإِنْ تَوَضَّأَ الْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ صَلَّى الْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ، وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ
'তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদংশে তিনটি গিঁঠ দেয়। প্রতি গিঁঠে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত। অতএব তুমি শুয়ে থাক। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে তাহ'লে তার একটি গিঁঠ খুলে যায়। পরে ওযু করলে আরেকটি গিঁঠ খুলে যায়। অতঃপর ছালাত আদায় করলে আরেকটি গিঁঠ খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয় প্রফুল্ল মনে ও নির্মল চিত্তে। অন্যথা সে সকালে উঠে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে'। ৩২৯
**টিকাঃ**
৩২৯. বুখারী হা/১১৪২; মুসলিম হা/৭৭৬।