📄 শয়নের আদব বা শিষ্টাচার
আল্লাহ তা'আলা মানুষের বিশ্রামের জন্য রাতকে সৃষ্টি করেছেন এবং নিদ্রাকে করেছেন ক্লান্তি দূরকারী। তিনি বলেন, وَجَعَلْنَا نَوْمَكُمْ سُبَاتًا وَجَعَلْنَا اللَّيْلَ لِبَاسًا - ‘আর আমরা তোমাদের জন্য নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী। আর রাত্রিকে করেছি আবরণ' (নাবা ৭৮/৯-১০)। অন্যত্র তিনি বলেন, وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ اللَّيْلَ لِبَاسًا وَالنَّوْمَ سُبَاتًا وَجَعَلَ النَّهَارَ نُشُورًا - ‘তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য রাত্রিকে করেছেন আবরণ, নিদ্রাকে করেছেন ক্লান্তি দূরকারী এবং দিবসকে করেছেন উত্থান সময়' (ফুরক্বান ২৫/৪৭)। সুতরাং দিনের কর্মক্লান্তি দূর করতে মানুষকে রাত্রে শয্যা গ্রহণ করতে হয়, ঘুমিয়ে বিশ্রাম নিতে হয়। মুমিন বান্দা সুন্নাতী তরীকায় শয্যা গ্রহণ করবে এবং আল্লাহর যিকর করতে করতে ঘুমিয়ে যাবে। তাহ'লে এর মাধ্যমে সে ছওয়াব হাছিল করতে পারবে। নিম্নে শয্যা গ্রহণ ও ঘুমানোর কতিপয় আদব উল্লেখ করা হ'ল।-
১. ডান কাতে শয়ন: সাধারণভাবে এশার ছালাতের পূর্বে ঘুমানো ও এশার পরে (অপ্রয়োজনীয়) কথাবার্তা বলা উচিত নয়। ৩০৩ আর শয়নকালে ডান কাতে শয়ন করা সুন্নাত। ৩০৪
২. দো'আ পাঠ: শয়নকালে দো'আ পাঠ করা যরূরী। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, وَمَنِ اضْطَجَعَ مَضْجَعًا لا يَذْكُرُ اللهَ فِيْهِ كَانَتْ عَلَيْهِ مِنَ اللَّهِ تِرَةً . ‘যে ব্যক্তি কোথাও শয়ন করার পর আল্লাহর নাম নিলো না, তার জন্য আল্লাহ্ পক্ষ থেকে বঞ্চনা নেমে আসবে'। ৩০৫ তাই শয্যা গ্রহণকালে মুমিন বলবে, بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوْتُ وَأَحْيَا 'বিসমিকাল্লা-হুম্মা আমৃতু ওয়া আহ্ইয়া' (হে আল্লাহ! তোমার নামে আমি মরি ও বাঁচি)। অর্থাৎ তোমার নামে আমি শয়ন করছি এবং তোমারই দয়ায় আমি পুনরায় জাগ্রত হব। আর ঘুম থেকে উঠার সময় বলবে, الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ .
'আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী আহইয়া-না বা'দা মা আমা-তানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর' (সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ্ জন্য, যিনি আমাদেরকে মৃত্যু দানের পর জীবিত করলেন এবং কিয়ামতের দিন তাঁর দিকেই হবে আমাদের পুনরুত্থান)। ৩০৬
৩. সূরা ইখলাছ ও নাস-ফালাক্ব তেলাওয়াত : শয়নকালে সূরা ইখলাছ, নাস ও ফালাক্ব তেলাওয়াত করা সুন্নাত। রাসূল (ছাঃ) নিজে এই আমল করতেন এবং এ ব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরামকে নির্দেশ দিতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন,
أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَفَثَ فِيهِمَا فَقَرَأَ فِيهِمَا (قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ) وَ(قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ) وَ(قُل أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ) ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ.
'আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) প্রতি রাতে যখন বিছানায় যেতেন, তখন দু'হাত একত্রিত করে তাতে সূরা ইখলাছ, ফালাকু ও নাস পড়ে ফুঁক দিতেন। অতঃপর মাথা ও চেহারা থেকে শুরু করে যতদূর সম্ভব দেহে তিনবার দু'হাত বুলাতেন'। ৩০৭
অন্য হাদীছে এসেছে, ওকুবা বিন আমের (রাঃ) বলেন, أَمَرَنِي رَسُوْلُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَقْرَأَ بِالْمُعَوَّذَتَيْنِ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةِ، (ছাঃ) আমাকে প্রতি ছালাতের শেষে সূরা ফালাক্ব ও নাস পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন'। ৩০৮
৪. আয়াতুল কুরসী তেলাওয়াত : কুরআনের সর্বাধিক মর্যাদা সম্পন্ন আয়াত হচ্ছে আয়াতুল কুরসী। শয্যা গ্রহণের সময় এটা তেলাওয়াত করলে সকাল পর্যন্ত শয়তান কোন ক্ষতি করতে পারে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন,
إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ آيَةَ الْكُرْسِيِّ مِنْ أَوَّلِهَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ حَتَّى تَخْتِمَ الْآيَةَ فَإِنَّهُ لَنْ يَزَالَ عَلَيْكَ مِنَ اللَّهِ حَافِظُ، وَلَا يَقْرُبُكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ،
'তুমি যখন শয্যা গ্রহণ করবে, তখন 'আয়াতুল কুরসী' পড়বে (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহুয়া ওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম) আয়াতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। তাহ'লে আল্লাহ্ পক্ষ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক থাকবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার নিকটে আসতে পারবে না'। ৩০৯
৫. সূরা বাক্বারার শেষ দু'আয়াত তেলাওয়াত করা : রাতে সূরা বাকুরার শেষ দু'আয়াত তেলাওয়াত করে শয়ন করা উত্তম। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, الآيتان مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ، مَنْ قَرَأَهُمَا لَيْلَةً كَفَتَاهُ - দুই আয়াত যে রাতে পড়বে তার জন্য তা যথেষ্ট হবে'। ৩১০
৬. সূরা মুলক তেলাওয়াত: শয়নকালে সূরা মুলক তেলাওয়াত করা সুন্নাত। জাবির (রাঃ) বলেন, كَانَ لَا يَنَامُ حَتَّى يَقْرَأ الم تَنْزِيلُ وَتَبَارَكَ الَّذِي بيده -الْمُلْكُ 'রাসূল (ছাঃ) সূরা সাজদা ও সূরা মুলক না পড়ে ঘুমাতেন না'। ৩১১
৭. তাসবীহ পাঠ করা: শয়নকালে তাসবীহ পাঠ করা অশেষ ছওয়াব লাভের মাধ্যম। আলী (রাঃ) হ'তে বর্ণিত, ফাতিমা (রাঃ) আটা পেষার কষ্টের কথা জানান। তখন তাঁর নিকটে সংবাদ পৌঁছে যে, আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ)-এর নিকটে কয়েকজন বন্দী আনা হয়েছে। ফাতিমা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে একজন খাদেম চাওয়ার জন্য আসলেন। তিনি রাসূল (ছাঃ)-কে পেলেন না। তখন তিনি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকটে তা উল্লেখ করলেন। অতঃপর নবী করীম (ছাঃ) আসলে আয়েশা (রাঃ) তাঁর নিকটে বিষয়টি বললেন। (রাবী বলেন,) আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) আমাদের নিকটে আসলেন। তখন আমরা শুয়ে পড়েছিলাম। আমরা উঠতে চাইলাম। তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় থাক। আমি তাঁর পায়ের শীতলতা আমার বুকে অনুভব করলাম। তখন তিনি বললেন,
أَلا أَدُلُّكُمَا عَلَى خَيْرٍ مِمَّا سَأَلْتُمَاهُ ، إِذَا أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا فَكَبَّرَا اللَّهَ أَرْبَعًا وَثَلاثِينَ، وَاحْمَدَا ثَلاثًا وَثَلاثِينَ، وَسَبِّحَا ثَلاثًا وَثَلاثِينَ، فَإِنَّ ذَلِكَ خَيْرٌ لَكُمَا مِمَّا سَأَلْتُمَاهُ.
'তোমরা যা চেয়েছ, আমি কি তোমাদের জন্য তার চেয়ে উত্তম জিনিসের সন্ধান দেব না? যখন তোমরা বিছানায় যাবে, তখন চৌত্রিশ বার 'আল্লাহু আকবার', তেত্রিশবার 'আল-হামদুলিল্লাহ' ও তেত্রিশবার 'সুবহানাল্লাহ' বলবে। এটাই তোমাদের জন্য তার চেয়ে উত্তম, যা তোমরা চেয়েছ'। ৩১২
**টিকাঃ**
৩০৩. আবুদাউদ হা/৪৮৪৯; ছহীহুল জামে' হা/৬৯১৫, সনদ ছহীহ।
৩০৪. বুখারী হা/২৪৭, ৬৩১১, ৬৩১৩; মুসলিম হা/২৭১০।
৩০৫. আবুদাউদ হা/৪৮৪৯; মিশকাত হা/২২৭২, সনদ ছহীহ।
৩০৬. বুখারী হা/৬৩১৫, ৬৩২৪; মিশকাত হা/২৩৮২, ২৩৮৪, 'দো'আ সমূহ' অধ্যায়।
৩০৭. বুখারী হা/৫০১৭, মুসলিম, মিশকাত হা/২১৩২।
৩০৮. তিরমিযী হা/২৯০৩; আহমাদ হা/১৭৪৫৩; আবুদাউদ হা/১৫২৩; মিশকাত হা/৯৬৯।
৩০৯. বুখারী হা/৩২৭৫; মুসলিম হা/২৭২১; মিশকাত হা/২১১৩।
৩১০. বুখারী হা/৪০০৮, ৫০৪০; মুসলিম হা/৮০৭; মিশকাত হা/২১২৫।
৩১১. শারহুস সুন্নাহ, মিশকাত হা/২১৫৫, হাদীছ ছহীহ।
৩১২. বুখারী হা/৩১১৩; মুসলিম হা/২৭২৭।
📄 তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ
তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ একই ছালাত। রামাযানে রাতের প্রথমাংশে এই নফল ছালাত আদায় করা হয়, এজন্য একে তারাবীহ বলা হয়। একে হাদীছের পরিভাষায় 'ছালাতুল লায়ল' ও 'কিয়ামুল লায়ল' বলা হয়। আর অন্য ১১ মাসে রাতের এই ছালাতকে 'তাহাজ্জুদ' বলা হয়। সুতরাং তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ পৃথক দু'টি ছালাত নয়। ৩১৩ এ ছালাত আদায় করার জন্য প্রত্যেক মুমিনের সচেষ্ট হওয়া উচিত। আবু উমামা (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,
عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ فَإِنَّهُ دَابُ الصَّالِحِيْنَ قَبْلَكُمْ وَهُوَ قُرْبَةٌ إِلَى رَبِّكُمْ وَمُكَفِّرَةٌ لِلسَّيِّئَاتِ وَمَنْهَاةٌ عَنِ الْإِثْمِ
'তোমাদের জন্য কিয়ামুল লায়ল বা রাতের ছালাত আদায় করা উচিত। রাতে ইবাদত করা হচ্ছে তোমাদের পূর্ববর্তী নেক লোকদের রীতি। তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের নৈকট্য লাভের পন্থা, গোনাহ মাফের উপায় এবং অপরাধ, অশ্লীলতা হ'তে বিরত থাকার মাধ্যম'। ৩১৪
তিনি আরো বলেন,
رَحِمَ اللهُ رَجُلًا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى ثُمَّ أَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَصَلَّتْ فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ وَرَحِمَ اللهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ ثُمَّ أَيْقَظَتْ زَوْجَهَا فَصَلَّى فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ
'আল্লাহ এমন ব্যক্তির প্রতি দয়া করেন যে ব্যক্তি রাতে উঠে ছালাত আদায় করে, স্বীয় স্ত্রীকেও জাগায় এবং সেও ছালাত আদায় করে। আর যদি সে উঠতে অস্বীকার করে তাহ'লে তার মুখের উপর পানি ছিটিয়ে দেয়। অনুরূপ আল্লাহ দয়া করেন সেই স্ত্রী লোকের প্রতি যে রাতে উঠে ছালাত আদায় করে। নিজের স্বামীকেও জাগায় এবং সেও ছালাত আদায় করে। আর যদি সে উঠতে অস্বীকার করে তাহ'লে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়'। ৩১৫
তিনি আরো বলেন,
إِنَّ فِي الْجَنَّةِ غُرَفًا يُرَى ظَاهِرُهَا مِنْ بَاطِنِهَا وَبَاطِنُهَا مِنْ ظَاهِرِهَا أَعَدَّهَا اللَّهُ لِمَنْ أَلَانَ الْكَلَامَ، وَأَطْعَمَ الطَّعَامَ، وَتَابَعَ الصَّيَامَ، وَصَلَّى بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ -
'জান্নাতের মধ্যে এমন মসৃণ প্রাসাদ রয়েছে যার বাইরের জিনিস সমূহ ভিতর হ'তে এবং ভিতরের জিনিস সমূহ বাহির হ'তে দেখা যায়। সেসব প্রাসাদ আল্লাহ এমন ব্যক্তির জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন যে ব্যক্তি মানুষের সাথে নরম কথা বলে, ক্ষুধার্তকে খেতে দেয়, নিয়মিত ছিয়াম পালন করে এবং রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন ছালাত আদায় করে'। ৩১৬ অন্যত্র
إِذَا أَيْقَظَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّيَا أَوْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ جَمِيعًا كُتِبَا فِي الذَّاكِرِينَ وَالذَّاكِرَاتِ -
'যখন কোন ব্যক্তি রাতে স্বীয় স্ত্রীকে জাগায়, অতঃপর উভয়ে পৃথকভাবে অথবা একসাথে দুই রাক'আত ছালাত আদায় করে তখন তারা আল্লাহকে স্মরণকারী ও স্মরণকারিণীদের অন্তর্ভুক্ত হয়'। ৩১৭ রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন, وَاعْلَمْ أَنَّ شَرَفَ الْمُؤْمِنِ قِيَامُهُ بِاللَّيْلِ 'আর জেনে রাখ যে, নিশ্চয়ই মুমিনের মর্যাদা হচ্ছে রাত্রি জাগরণ করা' (রাতে ছালাত আদায় করা)। ৩১৮
**টিকাঃ**
৩১৩. নায়লুল আওত্বার ২/২৯৫ পৃঃ; মির'আতুল মাফাতীহ ২/২২৪ পৃঃ।
৩১৪. তিরমিযী, মিশকাত হা/১২২৭, হাদীছ ছহীহ।
৩১৫. নাসাঈ, মিশকাত হা/১২৩০।
৩১৬. বায়হাক্বী, মিশকাত হা/১২৩২, হাদীছ ছহীহ।
৩১৭. ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১২৩৮, হাদীছ ছহীহ।
৩১৮. ছহীহুল জামে' হা/৭৩; ছহীহাহ হা/৮৩১।
📄 বিতর ছালাত
বিতর ছালাত সুন্নাতে মুওয়াক্কাদাহ। ৩১৯ এশার ফরয ছালাতের পর হ'তে ফজর পর্যন্ত সুন্নাত ও নফল ছালাত সমূহ আদায়ের পরে বিতার আদায় করতে হয়। ৩২০ এ ছালাত অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বাড়ীতে বা সফরে কোন অবস্থায় বিতর ও ফজরের দু'রাক'আত সুন্নাত ছালাত ছাড়তেন না। ৩২১
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, صَلَاةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى، فَإِذَا حَشِيَ أَحَدُكُمُ الصُّبْحَ صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى - 'রাতের নফল ছালাত দুই দুই (রাক'আত)। অতঃপর যখন তোমাদের কেউ ফজর হয়ে যাবার আশংকা করবে, তখন সে যেন এক রাক'আত পড়ে নেয়। যা তার পূর্বেকার সকল নফল ছালাতকে বিতরে পরিণত করবে'। ৩২২ অন্য হাদীছে এসেছে, তিনি বলেন, الْوِتْرُ رَكْعَةٌ مِّنْ آخِرِ اللَّيْلِ 'বিতর রাত্রির শেষে এক রাক'আত মাত্র'। ৩২৩ আয়েশা (রাঃ) বলেন، وَكَانَ يُوتِرُ بِوَاحِدَة 'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এক রাক'আত দ্বারা বিতর করতেন'। ৩২৪
**টিকাঃ**
৩১৯. ফিকহুস সুন্নাহ ১/১৪৩; নাসাঈ হা/১৬৭৬; মির'আত ২/২০৭; ঐ, ৪/২৭৩-৭৪।
৩২০. ফিকহুস সুন্নাহ ১/১৪৪; ছহীহ আত-তারগীব হা/৫৯২-৯৩।
৩২১. ইবনুল ক্বাইয়িম, যা-দুল মা'আ-দ (বৈরূত : মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ, ২৯ সংস্করণ, ১৪১৬/১৯৯৬) ১/৪৫৬।
৩২২. বুখারী হা/৯৯০ 'বিতর' অধ্যায়; মিশকাত হা/১২৫৪ 'ছালাত' অধ্যায়, 'বিতর' অনুচ্ছেদ।
৩২৩. মুসলিম, মিশকাত হা/১২৫৫।
৩২৪. ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১২৮৫।
📄 রাত্রিকালীন যিকর-আযকার
আল্লাহ্র যিকর করা ইবাদত। যা মুমিনের জন্য অতি উপকারী। আল্লাহ বলেন، وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ 'তুমি যিকর কর, কেননা যিকর মুমিনের উপকার করে' (যারিয়াত ৫১/৫৫)। আল্লাহ আরো বলেন, الَّذِينَ
(الَّذِيْنَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ) যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে' (আলে ইমরান ৩/১৯১)। আর রাত্রিকালে যিকর করার বিশেষ ফযীলত হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। ওবাদা বিন ছামিত (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,
مَنْ تَعَارَّ مِنَ اللَّيْلِ فَقَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ ثُمَّ قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي أَوْ قَالَ ثُمَّ دَعَا اسْتَجِيْبَ لَهُ فَإِنْ تَوَضَّأَ وَصَلَّى قُبِلَتْ صَلَاتُهُ.
'যে ব্যক্তি রাত্রে জেগে বলে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই জন্য প্রশংসা, তিনি সমস্ত বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান, আমি আল্লাহ্র পবিত্রতা বর্ণনা করছি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই, আল্লাহ অতি মহান, আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত আমার কোন শক্তি ও সামর্থ্য নেই'। অতঃপর বলে, 'হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর। অতঃপর কোন প্রার্থনা করলে, আল্লাহ তার সে প্রার্থনা মঞ্জুর করেন এবং সে যদি ওযু করে ছালাত আদায় করে, আল্লাহ তার সে ছালাত কবুল করেন'। ৩২৫
উল্লেখ্য, আল্লাহ্র যিক্র করতে হবে নীরবে। আল্লাহ বলেন, وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُوْنَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ তোমার প্রভুকে সকাল-সন্ধ্যায় আপন মনে অত্যন্ত বিনীত ও ভীত সন্ত্রস্তভাবে স্মরণ কর, উচ্চ শব্দে নয়' (আরাফ ৭/২০৫)। তিনি আরো বলেন, ۚادْعُوا رَبَّكُمْ - تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً 'তোমাদের প্রভুকে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এবং সংগোপনে ডাক' (আ'রাফ ৭/৫৫)। একদা এক সফরে ছাহাবীগণ আওয়াজ করে তাসবীহ পাঠ করলে রাসূল (ছাঃ) তাদের চুপে চুপে তাসবীহ পাঠের নির্দেশ দিয়ে বলেন 'তোমরা এমন সত্তাকে ডাকছ যিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা'। ৩২৬
**টিকাঃ**
৩২৫. বুখারী হা/১১৫৪; মিশকাত হা/১১৪৫।
৩২৬. বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২৩০৩।