📄 পোষাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা
পোষাক আল্লাহ প্রদত্ত নে'মতের অন্যতম (আ'রাফ ৭/২৬), যা সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয় (আ'রাফ ৭/৩১)। ২১৮ পোষাকের ক্ষেত্রে হারাম ও হালাল পোষাক বেছে পরিধান করা মুমিনের জন্য অবশ্য করণীয়। ইসলামে কতিপয় পোষাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেমন- ১. পুরুষের জন্য রেশমী ও স্বর্ণের কারুকার্য খচিত পোষাক। ২১৯ ২. পুরুষের জন্য মহিলাদের পোষাক ২২০ ৩. মহিলাদের জন্য পুরুষদের পোষাক ২২১ ৪. খ্যাতি ও অহংকার প্রকাশক পোষাক ২২২ ৫. অমুসলিমদের ধর্মীয় পোষাক ২২৩ ৬. আঁটসাঁট পোষাক ২২৪ প্রভৃতি।
পোষাক পরিধানের ক্ষেত্রে কিছু কর্তব্য রয়েছে। যা প্রত্যেক মুমিনের পালন করা উচিত। এতে সুন্নাত পালনও হবে এবং ছওয়াবও অর্জিত হবে। যেমন-
ক. ডান দিক থেকে পরিধান করা ও বাম দিক থেকে খোলা : আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا لَبِسَ قَمِيصًا بَدَأَ بميامنه 'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জামা পরিধান কালে ডান দিক থেকে শুরু করতেন'। ২২৫ অপরদিকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, إِذَا لَبِسْتُمْ وَإِذَا تَوَضَّأْتُمْ .فَابْدَءُوا بِأَيَا مِنكُمْ 'তোমরা যখন পোশাক পরিধান করবে এবং যখন ওযু করবে তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে'। ২২৬
কেবল পোষাকই নয় জুতা পরিধানের ক্ষেত্রেও ডান দিক থেকে শুরু করার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, إِذَا انْتَعَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَيْدَاً بِالْيَمِينِ وَإِذَا نَزَعَ فَلْيَبْدَأُ بِالشِّمَالِ، لِتَكُنِ الْيُمْنَى أَوَّلَهُمَا تُنْعَلُ وَآخِرَهُمَا تُنْزَعُ. 'তোমরা যখন জুতা পরিধান করবে তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে এবং যখন খুলবে তখন বাম দিক থেকে শুরু করবে। যাতে ডান পা প্রথমে আবৃত ও শেষে অনাবৃত হয়'। ২২৭
খ. পোষাক পরিধানকালে দো'আ : বিভিন্ন কাজের শুরুতে নির্দিষ্ট দো'আ করতে হয়। তেমনি পোষাক পরিধানকালেও দো'আ করতে হয়। যা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্বীয় উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَجَدَّ ثَوْبًا سَمَّاهُ بِاسْمِهِ إِمَّا قَمِيصًا أَوْ عِمَامَةً ثُمَّ يَقُوْلُ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ كَسَوْتَنِيهِ أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِهِ وَخَيْرِ مَا صُنِعَ لَهُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ مَا صُنِعَ لَهُ.
'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নতুন পোষাক পরিধান করলে তার নাম উল্লেখ করতেন, জামা বা পাগড়ি যাই হোক। অতঃপর বলতেন, 'হে আল্লাহ! আপনারই সকল প্রশংসা, আপনিই আমাকে এই পোষাকটি পরিধান করিয়েছেন। আমি আপনার কাছে এর কল্যাণ ও মঙ্গল প্রার্থনা করছি এবং এর উৎপাদনের মধ্যে যত কল্যাণ ও মঙ্গল রয়েছে তা প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি এর অকল্যাণ থেকে এবং এর উৎপাদনের মধ্যে যা কিছু অকল্যাণকর রয়েছে তা থেকে'। ২২৮
পোষাক পরিধানকালে নিম্নোক্ত দো'আও বর্ণিত হয়েছে الْحَمْدُ لله الذي CIRS كَسَانِي هَذَا وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلَ مِنِّي وَلَا قُوَّة، 'সেই আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাকে বিনা শ্রমে ও শক্তি প্রয়োগ ব্যতীত এই পোষাক পরিধান করিয়েছেন এবং রূযী দান করেছেন'। ২২৯
অন্যকে নতুন পোষাক পরিহিত দেখলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিম্নোক্ত দো'আ করতেন, الْبَسْ جَدِيداً وَعِشْ حَمِيْداً وَمُتْ شَهِيداً وَيَرْزُقُكَ اللَّهُ قُرَّةَ عَيْنٍ فِي CO الدُّنْيَا وَالآخِرَة 'নতুন পোশাক পর, প্রশংসিতভাবে জীবন যাপন কর, শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ কর এবং আল্লাহ তোমাকে দুনিয়াতে ও আখিরাতে পরিপূর্ণ শান্তি ও আনন্দ দান করুন'। ২৩০
**টিকাঃ**
২১৮. মুসলিম হা/৯১; আবুদাউদ হা/৪০৯২; তিরমিযী হা/১৯৯৯; মিশকাত হা/৫১০৮।
২১৯. বুখারী হা/৫৬৩৩, ৫৮৩১; আবুদাউদ হা/৩৭২৩; তিরমিযী হা/১৮৭৩।
২২০. আবুদাউদ হা/৪০৯৮; মিশকাত হা/৪৪৬৯; ছহীহুল জামে' হা/৫০৯৫।
২২১. বুখারী হা/৫৮৮৫; মিশকাত হা/৪৪২৯।
২২২. ইবনু মাজাহ হা/৩৬০৬; মিশকাত হা/৪৩৪৬, সনদ হাসান।
২২৩. মুসলিম হা/২০৭৭; মিশকাত হা/৪৩২৭; ছহীহুল জামে' হা/২২৭৩।
২২৪. মুসনাদ আহমাদ হা/১৯৪৯৪; সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩০১৮।
২২৫. তিরমিযী হা/১৭৬৬; ছহীহুল জামে' হা/৪৭৭৯; মিশকাত হা/৪৩৩০।
২২৬. আবুদাউদ হা/৪১৪১; মিশকাত হা/৪০১, সনদ ছহীহ।
২২৭. বুখারী হা/৫৮৫৫; তিরমিযী হা/১৭৭৯; মিশকাত হা/৪৪১০।
২২৮. আবুদাউদ হা/৪০২০; তিরমিযী হা/১৭৬৭; মিশকাত হা/৪৩৪২, সনদ ছহীহ।
২২৯. আবুদাউদ হা/৪০২৩; মিশকাত হা/৪৩৪৯।
২৩০. ইবনু মাজাহ হা/৩৫৫৮; ছহীহাহ হা/৩৫২।
📄 দুপুরে বিশ্রাম বা কায়লূলা করা
দুপুরে বিশ্রাম করা উত্তম। এতে কর্মক্লান্তি দূর হয়। শরীর ও মনে সতেজতা ফিরে আসে। কায়লুলা করার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ হচ্ছে- قيلوا، فَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَا تَقَيْلُ 'তোমরা কায়লুলা কর, কেননা শয়তান কায়লুলা করে না'। ২৩২
কায়লুলা করার সময় হচ্ছে দুপুরের পর। আনাস (রাঃ) বলেন, كُنَّا تُبَكِّرُ بِالْجُمُعَةِ، وَنَقَيْلُ بَعْدَ الْجُمُعَةِ 'আমরা জুম'আর দিনে আগেভাগে মসজিদে গমন করতাম এবং জুম'আর পরে কায়লুলা করতাম'। ২৩৩ সাহল ইবনে সা'দ (রাঃ) বলেন, مَا كُنَّا نَقِيلُ وَلَا تَتَغَدَّى إِلَّا بَعْدَ الْجُمُعَةِ 'আমরা জুম'আর পরে ব্যতীত দুপুরের খাবার গ্রহণ করতাম না এবং কায়লুলাও করতাম না'। ২৩৪
**টিকাঃ**
২৩১. (এই টীকাটি শিরোনামের সাথে সম্পর্কিত, "কায়লুলা" শব্দের ব্যাখ্যায়) দ্বিপ্রহরে ঘুমানোকে কায়লুলা বলে। দ্রঃ ফহুল বারী ১/৫৩৬; আদ-দীবাজ আলা ছহীহ মুসলিম ৪/১২০।
২৩২. ছহীহুল জামে' হা/৪৪৩১; ছহীহাহ হা/১৬৪৭।
২৩৩. বুখারী হা/৯০৫; মুসলিম হা/৮৫৯; মিশকাত হা/১৪০২।
২৩৪. বুখারী হা/৯৩৯; মুসলিম হা/৮৫৯; মিশকাত হা/১৪০২।
📄 হালাল উপার্জন করা
হালাল জীবিকা অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য আবশ্যক। আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ 'হে মানব জাতি! তোমরা পৃথিবী থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু ভক্ষণ কর এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু' (বাক্বারাহ ২/১৬৮)।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوا لِلَّهِ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ 'হে বিশ্বাসীগণ! আমরা তোমাদের যে রুযী দান করেছি, সেখান থেকে পবিত্র বস্তু সমূহ ভক্ষণ কর। আর আল্লাহ্র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, যদি তোমরা কেবল তাঁরই দাসত্ব করে থাক' (বাক্বারাহ ২/১৭২)। অন্যত্র তিনি বলেন, فَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ حَلَالًاً طَيِّبًا وَاشْكُرُوا لله 3 نِعْمَتَ اللَّهِ إِنْ كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ - দিয়েছেন তার মধ্যে বৈধ ও পবিত্র খাদ্য তোমরা ভক্ষণ কর এবং আল্লাহ্র নে'মতের শুকরিয়া আদায় কর, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদতকারী হয়ে থাক' (নাহল ১৬/১১৪)।
আর হালাল জীবিকা উপার্জনের জন্য মুমিন সাধারণত দিনের বেলায় চেষ্টা করবে। আল্লাহ বলেন, فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ হবে, তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়, আল্লাহ্র অনুগ্রহ (জীবিকা) তালাশ কর এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ'তে পার' (জুম'আ ৬২/১০)।
হালাল উপায়ে জীবিকা উপার্জনের জন্য হাদীছে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, لَنْ تَمُوْتَ نَفْسٌ حَتَّى تَسْتَوْفِيَ رِزْقَهَا، فَاتَّقُوا اللهَ وَأَحْمِلُوْا فِي الطَّلَبِ، وَلَا يَحْمِلَنَّكُمُ اسْتِبْطَاءُ الرِّزْقِ أَنْ تَطْلُبُوهُ بِمَعَاصِي اللَّهِ، فَإِنَّهُ لَا يُدْرَكُ مَا عِنْدَ اللَّهِ إِلَّا بِطَاعَتِهِ -
না সে তার রূযী পূর্ণভাবে প্রাপ্ত হবে। অতএব সাবধান! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সম্পদ উপার্জনে উত্তম (অর্থাৎ বৈধ) পন্থা অবলম্বন কর। প্রাপ্য রিযিক পৌঁছতে দেরী হওয়া যেন তোমাদেরকে তা অন্বেষণে অন্যায় পথ অবলম্বনে প্ররোচিত না করে। কেননা আল্লাহর নিকটে যা রয়েছে, সেটা তাঁর আনুগত্য ব্যতীত লাভ করা যায় না'। ২৩৫
**টিকাঃ**
২৩৫. বায়হাক্বী শু'আবুল ঈমান হা/১০৩৭৬; মিশকাত হা/৫৩০০; ছহীহুল জামে' হা/২০৮৫; ছহীহাহ হা/২৮৬৬।
📄 হাট-বাজারে গমন ও কেনাকাটা
বিক্রেতা তার পণ্য বিক্রি করতে এবং ক্রেতা প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে বাজারে গমন করে। ফলে সেখানে সবাই থাকে ব্যতিব্যস্ত। তাছাড়া বাজার উদাসীনতা, দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ, ঝগড়া-বিবাদ, প্রতারণা, মিথ্যাচার ও খেয়ানতের স্থান। কিন্তু মানুষকে প্রয়োজনে হাট-বাজারে যেতেই হয়। তবে সেটা খুব ভাল জায়গা নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, أَحَبُّ الْبَلَادِ إِلَى الله مَسَاجِدُهَا وَأَبْغَضُ الْبَلَادِ إِلَى اللهِ أَسْوَاقُهَا - প্রিয় জায়গা হ'ল মসজিদ সমূহ এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট জায়গা হ'ল বাজার সমূহ'। ২৩৬ এজন্য সেখানে অনর্থক সময় ব্যয় করা এবং আড্ডা দেওয়ার জন্য অবস্থান করা সমীচীন নয়। সালমান (রাঃ) বলেন, لَا تَكُونَنَّ إِنِ اسْتَطَعْتَ أَوَّلَ مَنْ يَدْخُلُ السُّوْقَ وَلَا آخِرَ مَنْ يَخْرُجُ مِنْهَا فَإِنَّهَا مَعْرَكَةُ الشَّيْطَانِ وَبِهَا يَنْصِبُ رَايَتَهُ 'তুমি যদি পার, তাহ'লে সর্বপ্রথম বাজারে প্রবেশকারী এবং সেখান থেকে সর্বশেষ প্রস্থানকারী হবে না। কারণ বাজার শয়তানের আড্ডাস্থল, সেখানে সে নিজের ঝাণ্ডা গাড়ে'। ২৩৭
بَلَغَنِي أَنَّ الْمَلَكَ يَعْدُو بِرَايَتِهِ مَعَ أَوَّلِ مَنْ يَعْدُو بِرَايَتِهِ مَعَ أَوَّلِ مَنْ يَعْدُو إِلَى الْمَسْجِدِ فَلَا يَزَالُ بِهَا مَعَهُ حَتَّى يَرْجِعَ يَدْخُلُ بِهَا مَنْزِلَهُ وَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَعْدُو مَعَ أَوَّلِ مَنْ يَعْدُو بِرَايَتِهِ إِلَى السُّوْقِ فَلَا يَزَالُ بِهَا حَتَّى يَرْجِعَ فَيُدْخِلَهَا مَنْزِلَهُ 'আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, যে ব্যক্তি সকালে প্রথমে মসজিদে গমন করে একজন ফেরেশতা তার ঝাণ্ডা নিয়ে ঐ ব্যক্তির সাথে থাকে, যতক্ষণ সে বাড়ীতে ফিরে না আসে। আর যে ব্যক্তি তার ঝাণ্ডা নিয়ে সকালে প্রথম বাজারে প্রবেশ করে শয়তান তার সাথে থাকে যতক্ষণ সে বাড়ী ফিরে না আসে'। ২৩৮ তাই বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে কতিপয় আদব মেনে চলা যরূরী। যথা-
১. আল্লাহর যিকর করা। রাসূল (ছাঃ) বলেন, 'যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু وَيُمِيتُ وَهُوَ حَلٌّ لَا يَمُوتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ শাইয়িং কাদীর ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সকল প্রশংসা তাঁর। তিনি জীবিত করেন এবং মৃত্যু দেন। তিনি চিরঞ্জীব, তাঁর মৃত্যু নেই। তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ। তিনি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী)। আল্লাহ তার জন্য দশ লক্ষ নেকী লিখবেন, দশ লক্ষ গোনাহ মোচন করবেন এবং তার দশ লক্ষ মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন'। ২৩৯
২. শোরগোল ও উচ্চবাচ্য পরিহার করা। ২৪০
৩. বাজার পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করা।
৪. ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি সাক্ষী বা লেখার মাধ্যমে সুদৃঢ় করা (বাক্বারাহ ২/২৮২) এবং ওয়াদা পূর্ণ করা (মায়েদাহ ৫/১)।
৫. ক্রয়-বিক্রয়ে উদার ও নম্র হওয়া। ২৪১
৬. সততা বজায় রাখা এবং পণ্যের দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা। ২৪২
৭. ক্রয়-বিক্রয়ে অধিক কসম খাওয়া পরিহার করা। ২৪৩
৮. ধোঁকা-প্রবঞ্চনা, ভেজাল ও অত্যধিক মুনাফা লাভ করা থেকে বিরত থাকা। ২৪৪
৯. ওযন ও পরিমাপে কম না দেওয়া (মুতাফফিফীন ১-৩)।
১০. সূদী কারবার থেকে বিরত থাকা। ২৪৫
১১. বাজারকে হারাম পণ্য ক্রয়-বিক্রয় থেকে পবিত্র রাখার চেষ্টা করা।
১২. চড়া মূল্য চেয়ে ক্রেতাকে প্রতারিত না করা। ২৪৬
১৩. আত্মসাৎকৃত ও চোরাই দ্রব্য ক্রয় থেকে দূরে থাকা (নিসা ৪/২৯)।
১৪. মহিলাদের থেকে চোখ নত রাখা, তাদের সাথে সংমিশ্রণ ও তাদের ভিড় এড়িয়ে চলা (নূর ২৪/৩০-৩১)।
১৫. বেচা-কেনায় লিপ্ত হয়ে আল্লাহ্ যিকর ও ছালাত থেকে দূরে না থাকা (নূর ২৪/৩৭)।
**টিকাঃ**
২৩৬. মুসলিম হা/৬৭১; মিশকাত হা/৬৯৬; ছহীহুল জামে' হা/১৬৭।
২৩৭. মুসলিম হা/২৪৫১।
২৩৮. আবু নু'আইম, মা'রিফাতিছ ছাহাবাহ; ছহীহ আত-তারগীব হা/৪২২, মাওকুফ ছহীহ।
২৩৯. তিরমিযী হা/৩৪২৮-২৯; ইবনু মাজাহ হা/২২৩৫; মিশকাত হা/২৪৩১, সনদ ছহীহ।
২৪০. বুখারী হা/২১২৫; মিশকাত হা/৫৭৫২, ৫৭৭১।
২৪১. বুখারী হা/২০৭৬; ইবনু মাজাহ হা/২২০৩; ছহীহুল জামে' হা/৩৪৯৫।
২৪২. ইবনু মাজাহ হা/২২৪৬; ইরওয়া হা/১৩২১; ছহীহুল জামে' হা/৬৭০৫।
২৪৩. মুসলিম হা/১৬০৭; নাসাঈ হা/৪৪৬০; ইবনু মাজাহ হা/২২০৯; মিশকাত হা/২৮৬০।
২৪৪. মুসলিম হা/১০২; মিশকাত হা/২৮৬০।
২৪৫. আহমাদ হা/৩৭২৫; ছহীহাহ হা/২৩২৬; ছহীহুল জামে' হা/৫০৮৯-৯০।
২৪৬. বুখারী হা/৬৯৬৩; মুসলিম হা/১৫১৬; ইবনু মাজাহ হা/২১৭৩।